মোরগের কণ্ঠে আল্লাহর নাম, এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য
পাবনা প্রতিনিধি
মোরগের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে আল্লাহর নাম। মোরগটি বারবার শুধু আল্লাহ, আল্লাহ বলে ডাকছে। বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হলেও এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আল্লাহর নাম ধরে ডাকা মোরগটিকে দেখতে ভীড় করেছিলেন অনেকেই।
ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড পুন্ডুরিয়া গ্রামে। পরে অবশ্য মোরগটি বিক্রি করে দেন মোরগের মালিক। আর যিনি কিনেছিলেন তিনি মোরগটি জবাই করে খেয়েছেন।
জানা গেছে, দেশী ওই মোরগটি দীর্ঘদিন বাড়িতে পালন করছিলেন পুন্ডুরিয়া গ্রামের রহিম শেখ এর ছেলে সাব্বির শেখ। মোরগটিকে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রান্নার জন্য ধরলে ঠিক তখনই মোরগের কণ্ঠে আকস্মিক শোনা যায় আল্লাহ, আল্লাহ ডাক। মোরগের জিকির করা দেখে অবাক হন স্থানীয়রা।
মোরগটিকে দেখতে ভীড় জমান অনেকেই। পরে স্থানীয় পুন্ডুরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় মোরগটিকে দান করে দেন সাব্বির। মোরগটিকে ৫শ টাকা দরে ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেছেন মাদ্রাসার নৈশপ্রহরী।
মোরগের আল্লাহ ডাকার এই চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। অন্যান্য মোরগ-মুরগীর ডাক স্বাভাবিক থাকলেও এই মোরগটির কণ্ঠস্বর অন্যরকম। ঠিক মানুষের মতোই মোরগটি উচ্চ স্বরে আল্লাহ আল্লাহ করে ডাকছে! বিস্মিত পরিবারের দাবি, এটি সৃষ্টিকর্তার বিশেষ কুদরত।
সাব্বির জানান, জীবনে কত হাঁস, মুরগী, কবুতর পালন করেছেন সবাই। কিন্তু কখনো এমন ডাক শোনেননি। মোরগের কন্ঠে আল্লাহর নাম শুনে অবাক হয়েছেন সবাই। আমি জবাই করা বাদ দিয়ে অনেকটা ভয়ে পুন্ডুরিয়া মাদ্রাসায় দান করে দিয়ে এসেছি, তারা কি করেছে আমার জানা নাই।
পুন্ডুরিয়া দ্রাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল ওয়াদুত জানান, সাব্বির নামের ঐ ছেলেটা একটি মোরগ দান করে দিয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। মোরগটিকে আমাদের নাইডগার্ড আব্দুল করিম প্রামানিক ৫শত টাকা দাম ধরে ক্রয় করে নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেছে। তবে সে জানতো না যে মোরগটি আল্লাহ, আল্লাহ বলে ডাকে। আমরা পরে ভিডিওতে দেখলাম। এ বিষয়ে ইসলাম ধর্মে কোন হাদিস আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে পাঁচুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন বেলালী বলেন, ইসলাম ধর্ম মতে কেয়ামতের যেসব আলামত রয়েছে তাদের মধ্যে একটি হলো কিয়ামতের পূর্ব মূহুর্তে প্রাণী এবং জড় পদার্থ মানুষের সঙ্গে কথা বলবে। আল্লাহ রাব্বুল আল-আমিন মানুষকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। তিনি চাইলে অন্যান্য সৃষ্টি জীবকেও কথা বলার ক্ষমতা দিতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশ
View moreবিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগলে প্রায় চার বছর কাজের পর এবার মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আল নাসিরুল্লাহ সিদ্দিকী সোহান। ২৬ আগস্ট নিজের ফেসবুক পোস্টে মাইক্রোসফটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। সোহান ডোমার পৌর শহরের পল্টনপাড়া এলাকার হামিদার রহমান ও উম্মে আয়েশা সিদ্দিকার ছেলে। নিজের পোস্টে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার আনন্দের কথা জানিয়ে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। শিক্ষাজীবনে সোহান ২০১১ সালে ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৩ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ থেকে ২০১৮ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক শেষ করে দেশে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন সোহান। অরবিটেকস বাংলাদেশে প্রায় ১১ মাস এবং স্যামসাংয়ে প্রায় এক বছর কাজ করার পর ২০২০ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান। সেখানে টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডর্টমুন্ডে ডেটা সায়েন্সে স্নাতকোত্তর পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করতে থাকেন। এরপর গুগলের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সফল হন তিনি। ২০২২ সালের শেষ দিকে গুগলের পোল্যান্ড অফিসে সাইট রিলায়েবিলিটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। প্রায় তিন বছর নয় মাস গুগলে কাজ করার পর ২৪ আগস্ট মাইক্রোসফটে সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রযুক্তি খাতে সোহানের এই অগ্রযাত্রায় বড় ভাই শাহেদ শাহরিয়ারের দিকনির্দেশনার কথাও উঠে এসেছে। শাহেদ নিজেও গুগলের ডাবলিন অফিসে কর্মরত বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন সোহানের নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার খবরে আনন্দ প্রকাশ করে তাকে বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার সাফল্যে পরিবার, নিজ এলাকা এবং সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সূএ: এন টিভি
ফ্যামিলি কার্ডে নতুন হিসাব: ৪১ লাখ কার্ড বানাতেই ব্যয় ২৪৬ কোটি টাকা!
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের পর কীভাবে নিশ্চিত হয় নাগরিকত্ব আর নেই
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সিদ্ধান্ত একান্তই বাংলাদেশের: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে ঢাকায় নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস। আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এর কার্যক্রম শুরু হবে। দূতাবাস জানিয়েছে, নতুন কেন্দ্র চালুর পর সাধারণ ভিসার আবেদন জমা দেওয়া এবং পাসপোর্ট সংগ্রহের সব কার্যক্রম কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ফলে এসব সেবার জন্য আবেদনকারীদের আর সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে যেতে হবে না। নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্রটির ঠিকানা ২ এফ, বি অ্যান্ড টি নেহালিয়া টাওয়ার, প্লট ৮০, ব্লক বি, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, ঢাকা ১২১৩। সাধারণ ভিসার আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার তারিখ, পদ্ধতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ২৭ আগস্ট পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে দূতাবাস। তবে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল ভিসার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। এসব ভিসার আবেদন, পাসপোর্ট সংগ্রহ এবং ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম আগের মতোই কূটনৈতিক নোটের ভিত্তিতে সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস থেকে পরিচালিত হবে। এ ছাড়া নোটারাইজেশন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটসংক্রান্ত সেবাও আগের নিয়মে দূতাবাস থেকেই দেওয়া হবে। নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রমের সময়সূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভিসা ফি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে। আবেদনকারীদের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের আশা, নতুন কেন্দ্র চালুর ফলে ভিসা আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমবে এবং আবেদন জমা ও পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে।
দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস
শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না: সারজিস
চেয়ারে বসা নিয়ে রাবির দুই বিভাগের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ৪
পুলিশে পদায়ন নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করার পর খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সেখানে সংযুক্ত করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে সংযুক্ত করার কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এরপর নিজের ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রেজাউল করিম। তিনি লেখেন, “আমি সংযুক্ত: আমার কাজ আর বাংলাদেশ পুলিশের প্রয়োজন নেই।” দীর্ঘ ১৫ বছরের চাকরিজীবনে নয় বছর ‘ডাম্পিং পোস্টিংয়ে’ ছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, সততা, স্বচ্ছতা ও নিয়ম মেনে কাজ করেও এমন পরিণতি হলে তার আর কিছু বলার নেই। পোস্টে পুলিশ বিভাগের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। রেজাউল করিমের ভাষ্য, উচিত কথা বলা, সাহস নিয়ে সত্য বলা এবং নিয়ম মেনে কাজ করা কর্মকর্তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করার সক্ষমতা বিভাগটির নেই। তিনি লেখেন, “এই ডিপার্টমেন্ট আমার জন্য নয়।” পোস্টের একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য অংশে সংযুক্ত করার কারণ সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন রেজাউল করিম। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তিনি সেটি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করেন এবং তিনি তার জবাব দেন। পরে শেয়ার করা সংবাদটি মুছে ফেললেও তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, সংবাদটি শেয়ার করার পর পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি কনফিডেনশিয়াল মো. কামরুল আহসান তাকে বকাঝকা করেন। এরপরই তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে তার দাবি। তবে এ বিষয়ে কামরুল আহসান তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মো. রেজাউল করিম ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। ২০১১ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়ার পর সারদার প্রশিক্ষণ শেষে তার প্রথম পোস্টিং হয় মুক্তাগাছা এপিবিএনে। পরে ট্যুরিস্ট পুলিশ, এপিবিএন, এভসেক, ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার ও কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন। তার সংযুক্তির আদেশ এবং ফেসবুক পোস্ট ঘিরে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পদায়ন ও মতপ্রকাশের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তাকে সংযুক্ত করার আনুষ্ঠানিক কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বছরে পারিশ্রমিক ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা
১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও অন্তসত্ত্বার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক, হুমকির মুখেও তদন্তে চিকিৎসক