শিক্ষা

ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে, নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. লামিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৫:০
ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. লামিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. লামিয়া। ছবি: সংগৃহীত

মহাবিশ্বের অদৃশ্য রহস্য উন্মোচনে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে নাসা। ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট নিয়ে গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা শিগগিরই উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এই উচ্চাভিলাষী বৈজ্ঞানিক মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জ্যোতির্পদার্থবিদ ড. লামিয়া আশরাফ মাওলা, যিনি এর আগে বিশ্বখ্যাত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পের বিজ্ঞানী দলেও কাজ করেছেন। 

 

নাসার তথ্য অনুযায়ী, ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ ৩০ আগস্ট ২০২৬ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে প্রস্তুত। এই টেলিস্কোপের প্রধান লক্ষ্য হবে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের পেছনের রহস্যময় শক্তি ডার্ক এনার্জি, অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটারের প্রভাব এবং হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা। পাশাপাশি এটি বিলিয়ন সংখ্যক গ্যালাক্সির মানচিত্র তৈরি করে মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণা দিতে পারে। 

 

রোমান টেলিস্কোপের বিশেষত্ব হলো, এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বড় আকাশের অংশ একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। ফলে অল্প সময়ে বিশাল পরিমাণ মহাজাগতিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। নাসার বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মিশনের প্রথম পাঁচ বছরেই এটি এক লক্ষের বেশি নতুন গ্রহ, শত শত মিলিয়ন নক্ষত্র এবং বিলিয়ন গ্যালাক্সি সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করবে। 

 

ড. লামিয়া আশরাফ মাওলা এর আগেও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই টেলিস্কোপের মাধ্যমে মানবজাতি মহাবিশ্বের প্রাচীনতম গ্যালাক্সির ছবি এবং মহাকাশ সম্পর্কে অভূতপূর্ব তথ্য পেয়েছে। এবার রোমান টেলিস্কোপ মিশনে তাঁর সম্পৃক্ততা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয়েছে নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে। তাঁকে ‘হাবল স্পেস টেলিস্কোপের জননী’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। নতুন এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

শিক্ষা

View more
ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. লামিয়া। ছবি: সংগৃহীত
ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে, নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. লামিয়া

মহাবিশ্বের অদৃশ্য রহস্য উন্মোচনে নতুন এক যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে নাসা। ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট নিয়ে গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা শিগগিরই উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ। এই উচ্চাভিলাষী বৈজ্ঞানিক মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া জ্যোতির্পদার্থবিদ ড. লামিয়া আশরাফ মাওলা, যিনি এর আগে বিশ্বখ্যাত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পের বিজ্ঞানী দলেও কাজ করেছেন।    নাসার তথ্য অনুযায়ী, ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ ৩০ আগস্ট ২০২৬ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে প্রস্তুত। এই টেলিস্কোপের প্রধান লক্ষ্য হবে মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের পেছনের রহস্যময় শক্তি ডার্ক এনার্জি, অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটারের প্রভাব এবং হাজার হাজার নতুন এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা। পাশাপাশি এটি বিলিয়ন সংখ্যক গ্যালাক্সির মানচিত্র তৈরি করে মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণা দিতে পারে।    রোমান টেলিস্কোপের বিশেষত্ব হলো, এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বড় আকাশের অংশ একসঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। ফলে অল্প সময়ে বিশাল পরিমাণ মহাজাগতিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। নাসার বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মিশনের প্রথম পাঁচ বছরেই এটি এক লক্ষের বেশি নতুন গ্রহ, শত শত মিলিয়ন নক্ষত্র এবং বিলিয়ন গ্যালাক্সি সম্পর্কে নতুন তথ্য সংগ্রহ করবে।    ড. লামিয়া আশরাফ মাওলা এর আগেও জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই টেলিস্কোপের মাধ্যমে মানবজাতি মহাবিশ্বের প্রাচীনতম গ্যালাক্সির ছবি এবং মহাকাশ সম্পর্কে অভূতপূর্ব তথ্য পেয়েছে। এবার রোমান টেলিস্কোপ মিশনে তাঁর সম্পৃক্ততা বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয়েছে নাসার প্রথম প্রধান জ্যোতির্বিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামে। তাঁকে ‘হাবল স্পেস টেলিস্কোপের জননী’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। নতুন এই টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ মহাকাশ গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৫:০
২০২৭ সালের হার্ভার্ড অ্যাকাডেমি স্কলারস প্রোগ্রামের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, মিলবে প্রায় ১ কোটি টাকা

একযোগে হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ডে ভর্তির সুযোগ পেয়ে নজির গড়লেন বাংলাদেশি মিফতাহুল জান্নাত। ছবি: সংগৃহীত

একই সঙ্গে হার্ভার্ড, কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ডে ভর্তির সুযোগ, নজির গড়লেন মিফতাহুল জান্নাত

যুক্তরাষ্ট্রের নাথান থমাস। ছবি:সংগৃহীত

১৮ বছরেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক, ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাথান থমাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাজ্যের সংস্থার উদ্বেগ। ছবি: সংগৃহীত
ঢাবির শিক্ষক বরখাস্তে নতুন মোড়! স্বচ্ছ তদন্তের দাবি যুক্তরাজ্যের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক স্বাধীন নীতি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স সংস্থাটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা অবশ্যই আইনি, স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে তারা।   লন্ডন থেকে গত শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে পলিসিগভ ইউকে।   বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল পাঠদান নয়, বরং জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, বিশ্লেষণী চিন্তা ও গণতান্ত্রিক সংলাপের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। তাই একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতি, যা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বেচ্ছাচারী হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষা দেয় এবং শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ নিশ্চিত করে।   সংস্থাটি বলেছে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অবশ্যই স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অভিযুক্তদের অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্টভাবে অবহিত করার পাশাপাশি তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের অর্থবহ সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো শিক্ষকের পেশাগত জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে, এমন সিদ্ধান্ত যথাযথ শুনানি ছাড়া নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছে তারা।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিষয়ক ব্যবস্থা এমনভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয়, যাতে একাডেমিক স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার, বুদ্ধিবৃত্তিক বৈচিত্র্য কিংবা বৈধ গবেষণা ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয়।   একই সঙ্গে শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি, হুমকি বা সামাজিক চাপ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে পলিসিগভ ইউকে। সংস্থাটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে।   গত শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে পৃথক অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আরও চার শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।   পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ও তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।   এদিকে, পলিসিগভ ইউকের বিবৃতি নতুন করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলাবিষয়ক ব্যবস্থা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ৯:১৩
চুরি ও গবেষণা অনিয়মে প্রত্যাহার ৩২৫ বাংলাদেশি গবেষণাপত্র। ছবি: সংগৃহীত

চুরি ও গবেষণা অনিয়মে প্রত্যাহার ৩২৫ বাংলাদেশি গবেষণাপত্র, প্রশ্নের মুখে গবেষণার মান

উচ্চশিক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি কেন জনপ্রিয়? সম্ভাবনা ও বাস্তবতা

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষে কাজ করতে বিদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষে কাজ করতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য লাগবে ১ লাখ ডলারের ফি

শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি
শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে অস্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটি। ২০২৭ সালের রিসার্চ ট্রেনিং প্রোগ্রাম (আরটিপি) স্কলারশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের যেকোনো দেশের যোগ্য শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।   অস্ট্রেলিয়ান সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এই স্কলারশিপের মাধ্যমে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স (এমফিল) এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে মারডক ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন গবেষণাভিত্তিক বিষয়ে এই বৃত্তির আওতায় আবেদন করা যাবে।   বৃত্তির আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের তত্ত্বাবধানে গবেষণার সুযোগ এবং বৈশ্বিক গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।   মাস্টার্স (গবেষণাভিত্তিক) প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণি অথবা দ্বিতীয় শ্রেণির অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে।   পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য আবেদনকারীদের গবেষণার সক্ষমতার প্রমাণ দেখাতে হবে। সাধারণত প্রথম শ্রেণি বা আপার সেকেন্ড ক্লাস অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি, স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা গবেষণার দক্ষতা প্রমাণ করে এমন সমমানের যোগ্যতা প্রয়োজন হবে।   আবেদন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সম্পূর্ণ আবেদন গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অফিসে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হবে।   আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।   মারডক ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচিত গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পেতে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২৯, ২০২৬ ২:৫৭
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি আবেদনকারীদের জন্য ১৮১টি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে চান? ১৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি ও ভর্তি সম্ভাবনার তথ্য এক তালিকায়

আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটি "লাভেট হল"। ছবি:সংগৃহীত

ভাউচারে হিউস্টনের এসব বেসরকারি স্কুলে পড়া হতে পারে সম্পূর্ণ বিনা টিউশনে

আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান?

আমেরিকায় উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান? যেভাবে প্রস্তুতি নেবেন

0 Comments