- প্রচ্ছদ
- Topic
স্বাস্থ্য
চার বছর ধরে শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বুকব্যথা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন যুক্তরাজ্যের দুই সন্তানের জননী অ্যাবিগেইল লুইস। বারবার চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেও তাকে বলা হয়, তিনি উদ্বেগজনিত সমস্যা ও প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন। এমনকি পাঁচ থেকে ছয়বার তাকে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভে গুরুতর ত্রুটি রয়েছে এবং তিনি বিরল জন্মগত হৃদরোগ ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’-তে আক্রান্ত। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বহুবার পারিবারিক চিকিৎসকের কাছে যান। সে সময় তিনি শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, ওজন বৃদ্ধি এবং শরীরচর্চা করতে গিয়ে অস্বাভাবিক দুর্বলতার মতো সমস্যার কথা জানান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তার সমস্যাকে উদ্বেগ ও প্যানিক অ্যাটাকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কর্মস্থলে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে না পেরে এবং তীব্র বুকব্যথা অনুভব করলে তিনি জরুরি বিভাগে যান। সেখানে পরীক্ষায় তার হৃদযন্ত্রে ‘রাইট বান্ডল ব্রাঞ্চ ব্লক (আরবিবিবি)’ নামে একটি বৈদ্যুতিক সংকেতজনিত সমস্যা এবং হার্ট মারমারের সন্দেহ ধরা পড়ে। পরে তাকে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়। ২৪ ঘণ্টার ইসিজি পর্যবেক্ষণ ও ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, তার হৃদযন্ত্রের ট্রাইকাসপিড ভালভ দিয়ে রক্ত ফিরে যাচ্ছে, অর্থাৎ ভালভে লিক রয়েছে। আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য তাকে লন্ডনের রয়্যাল ব্রম্পটন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই নিশ্চিত করা হয় যে তিনি ‘এবস্টেইনের অ্যানোমালি’ নামের একটি বিরল জন্মগত হৃদরোগে আক্রান্ত। এই রোগে ট্রাইকাসপিড ভালভ স্বাভাবিকভাবে গঠিত হয় না। ফলে হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠগুলোর মধ্যে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং রক্ত উল্টো দিকে ফিরে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি অত্যন্ত বিরল। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়, যাদের অধিকাংশই শিশু। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানান, অ্যাবিগেইলের জীবন বাঁচাতে অস্ত্রোপচার জরুরি। তবে অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি কমাতে প্রথমে তাকে প্রায় ১০ কেজি (২২ পাউন্ড) ওজন কমাতে বলা হয়। এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে তার ওপর প্রায় নয় ঘণ্টাব্যাপী ‘কোন প্রক্রিয়া’ নামে একটি জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে চিকিৎসকেরা তার নিজের টিস্যু ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাইকাসপিড ভালভ পুনর্গঠন করেন। অস্ত্রোপচারের পরও তাকে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। বাইপাস অস্ত্রোপচারের পর তার নিউমোনিয়া হয়, দুই ফুসফুস সাময়িকভাবে ভেঙে পড়ে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক বৈদ্যুতিক কার্যক্রমও কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি চিকিৎসকেরা পেসমেকার বসানোর বিষয়টিও বিবেচনা করেছিলেন। তবে দুই সপ্তাহ পর হৃদযন্ত্র আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে। প্রায় চার সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর জুন মাসের মাঝামাঝি তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের নয় সপ্তাহ পর তিনি সুস্থতার পথে রয়েছেন। আগস্টের শেষ দিকে তার ১২ সপ্তাহের কার্ডিয়াক পুনর্বাসন কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। অ্যাবিগেইল জানান, ছোটবেলাতেও তিনি অন্য শিশুদের মতো দৌড়ঝাঁপ করতে পারতেন না। ঠান্ডা না থাকলেও তার ঠোঁট নীলচে হয়ে যেত। তবে এত বছরেও কেউ তার জন্মগত হৃদরোগ শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, "আমি বুঝতেই পারি না কীভাবে ৩৬ বছর বয়স পর্যন্ত এই রোগ ধরা পড়েনি। এমনকি দুটি গর্ভধারণের সময়ও কেউ এটি শনাক্ত করতে পারেনি।" তিনি আরও বলেন, "আমি বারবার চিকিৎসকদের বলেছি, শুধু প্যানিক অ্যাটাক হলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা অসম্ভব হয়ে যায় না। কিন্তু তারা বারবার বলতেন আমার উদ্বেগজনিত সমস্যা রয়েছে। একসময় আমিও সেটাই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম।" অ্যাবিগেইল জানান, যেসব থেরাপিস্টের কাছে তাকে পাঠানো হয়েছিল, তারাও অবাক হয়েছিলেন। তাদের ভাষায়, তার মধ্যে উদ্বেগ বা বিষণ্নতার কোনো লক্ষণই ছিল না। অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, "অস্ত্রোপচারের আগের দিনটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ের। পরে চিকিৎসকেরা জানান, অপারেশন ছয় ঘণ্টা নয়, প্রায় নয় ঘণ্টা লাগবে।" তবে এখন তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, "আমি পুরোপুরি আগের মতো সুস্থ হব কি না জানি না। হয়তো আগের মতো স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাব, হয়তো একটু ধীরগতির জীবন হবে। তবে দুই বছর আগে আমি জানতাম না আদৌ বেঁচে থাকব কি না। তাই এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আশাবাদী।"
ফ্লোরিডায় বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের ম্যারিয়ন কাউন্টির ৬০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দা এই সংক্রমণে মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য এবং ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া সাধারণত উষ্ণ, লবণাক্ত বা অল্প লবণাক্ত উপকূলীয় পানিতে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। শরীরে কোনো কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই পথ দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এটি খুব দ্রুত গুরুতর রূপ নিতে পারে। গত বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মোট ৩৩ জন আক্রান্ত হন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৪টি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের শুরুতে লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি জীবনহানিকর অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ব্যাকটেরিয়াটি ত্বক ও নরম টিস্যু দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেই এটি অনেক সময় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ নামে পরিচিত। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মানুষের মাংস খায় না; বরং গুরুতর সংক্রমণের কারণে টিস্যুর ক্ষয় ঘটায়। এই সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া জেনেভিভ গ্যালাঘার জানান, পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের সময় শরীরে একটি ছোট ক্ষত নিয়ে পানিতে নামার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি অন্যদের সতর্ক করে বলেন, শরীরে যদি সামান্য কাটা বা আঁচড়ও থাকে, এমনকি চুলকানোর কারণে খোলা মশার কামড়ের দাগও থাকে, তাহলে লবণাক্ত পানিতে নামা উচিত নয়। তার ভাষায়, “এটি অত্যন্ত গুরুতর। এমন ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।” সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন গবেষকেরা। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আন্তারপ্রীত জুটলার নেতৃত্বে একটি গবেষক দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নাসার স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে উপকূলীয় পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার আগাম শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, তা আগে থেকেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইয়ের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবেশ সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার পানির নমুনা সংগ্রহ করবে। পরে সেগুলো ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। এতে সম্ভাব্য সংক্রমণ ছড়ানোর আগেই জনগণকে সতর্ক করা এবং প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শরীরে কোনো ধরনের কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা লবণাক্ত পানিতে না নামাই নিরাপদ। পাশাপাশি উপকূলীয় পানি থেকে উঠে ক্ষতস্থান দ্রুত পরিষ্কার করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো জানিয়েছে, ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। শনিবার রাতে ইনস্টাগ্রাম লাইভে নিজের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার সময় তিনি হরমোনের ইনজেকশন নেওয়ার দৃশ্যও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেন। ওকাসিও-কর্টেজ জানান, দীর্ঘ সময় বিষয়টি নিয়ে ভাবার পর তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের ব্যক্তিগত জীবন সাধারণত গোপন রাখলেও নারীদের শরীর ও প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষা ও তথ্যের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি জানান, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাকে হরমোনের ইনজেকশন নিতে হচ্ছে। প্রথমবার ইনজেকশন নেওয়ার অভিজ্ঞতা তেমন খারাপ ছিল না বলেও জানান তিনি। এবিসির একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার আগে আরও কয়েকটি ইনজেকশন নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। নারীদের শরীর সম্পর্কে ছোটবেলা থেকেই পর্যাপ্ত শিক্ষা দেওয়া হয় না বলেও মন্তব্য করেন ওকাসিও-কর্টেজ। বয়ঃসন্ধি, গর্ভাবস্থা, গর্ভধারণের আগের সময় এবং মেনোপজসহ নারীদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে শরীরের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও প্রস্তুতি ও তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিবেশেও নারীদের প্রজননসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা ধরনের চাপ রয়েছে। তাঁর মতে, নারীদের নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। ওকাসিও-কর্টেজ জানান, ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত সবচেয়ে কম বয়সী নারী ছিলেন। রাজনীতিতে প্রবেশের পর ব্যক্তিগত জীবনের অনেক বিষয়ও জনসম্মুখে চলে আসে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নারীদের পরিবার পরিকল্পনা ও বয়স নিয়ে যে ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে তা একইভাবে দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরুষ রাজনীতিক বা চাকরিপ্রার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একই ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় না। ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে জানানোর ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও তিনি বিবেচনা করেছেন। তবে এ কারণে নিজের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ নারীদের ডিম্বাণু সংরক্ষণ এবং সন্তান নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আরও খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, আবার কেউ তাঁর প্রকাশ্যে ইনজেকশন নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন। রোববার এবিসির ‘দিস উইক’ অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জোনাথন কার্লের সঙ্গে আলোচনাতেও নিজের সিদ্ধান্তের কথা বলেন ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি জানান, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এসব প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কথা বলে আসা ওকাসিও-কর্টেজ মনে করেন, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হলে নারীরা নিজেদের শরীর ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারবেন।
বিয়ের দিন নিজেকে সবচেয়ে সুন্দর দেখাতে চান সব নারীই। আর এই বিশেষ দিনে রাজকন্যার মতো সাজার স্বপ্ন ছিল যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজশায়ারের বাসিন্দা ২৬ বছর বয়সী পলি বিবির। পেশায় ইলাস্ট্রেটর এই তরুণী সাধারণত খুব হালকা মেকআপ করতে পছন্দ করলেও, বিয়ের জন্য নিজেকে একটু ভিন্নভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন। আর সেই শখ পূরণ করতে গিয়েই বাঁধে বিপত্তি। চোখের সৌন্দর্য বাড়াতে কৃত্রিম পাপড়ি বা 'ফলস আইল্যাশ' লাগিয়েছিলেন তিনি, যার জেরে মারাত্মক অ্যালার্জির শিকার হয়ে প্রায় অন্ধ হতে বসেছিলেন এই হবু কনে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজ এবং কেনেডি নিউজ অ্যান্ড মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসের শুরুর দিকে বিয়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইল্যাশ এক্সটেনশন বা চোখের কৃত্রিম পাপড়ি লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন পলি। এর জন্য তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৮৮ মার্কিন ডলার। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তাঁর ত্বকে প্যাচ টেস্ট বা সংবেদনশীলতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে কোনো ধরনের অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় তিনি মূল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। শুরুতে নিজের এই নতুন ও আকর্ষণীয় রূপ দেখে বেশ খুশিই হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই আনন্দ খুব বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। পার্লার থেকে ফেরার চার-পাঁচ ঘণ্টা পর তাঁর হবু স্বামী ২৯ বছর বয়সী বেঞ্জামিন মে খেয়াল করেন পলির চোখ কিছুটা লাল হয়ে আছে। চোখ থেকে পানি পড়া এবং ব্যথার উপসর্গগুলোকে পলি প্রথমে সাধারণ অ্যালার্জি বা হে ফিভার ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সন্ধ্যা গড়াতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। চোখ অসম্ভব লাল হয়ে যায়, তীব্র জ্বালা করতে থাকে এবং হলদেটে আঠালো পদার্থ বের হয়ে চোখের পাতা একে অপরের সঙ্গে আটকে যেতে থাকে। নিজের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন পলি। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর চোখের দৃষ্টি ক্রমশ ক্ষীণ হয়ে আসছে এবং তিনি প্রায় কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। উপায় না দেখে দ্রুত একটি জরুরি চিকিৎসাসেবা নম্বরে কল করেন তিনি। সেখান থেকে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর কেমব্রিজের হিঞ্চিংব্রুক হাসপাতালের চক্ষু ইউনিটের নার্সরা তাঁর চোখ পরীক্ষা করে নিশ্চিত করেন যে, আইল্যাশ এক্সটেনশনে ব্যবহৃত আঠা বা রাসায়নিক থেকেই এই মারাত্মক অ্যালার্জির সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসকরা পলিকে অ্যান্টিবায়োটিক এবং অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ দেন। সেই সঙ্গে চোখের ফোলা ভাব কমানোর জন্য কৃত্রিম পাপড়িগুলো খোলার আগে তাঁকে তিন দিন অপেক্ষা করতে বলা হয়। পাপড়িগুলো অপসারণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে পলি জানান, তাঁর মনে হচ্ছিল যেন চোখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়েছে। ব্যথায় তিনি চিৎকার করছিলেন ও কাঁদছিলেন। চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও এখনও তাঁর চোখ লালচে হয়ে আছে, পাতা ফুলে আছে এবং দৃষ্টি কিছুটা ঝাপসা রয়ে গেছে। এই ধরনের প্রসাধনী ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে আমেরিকান একাডেমি অফ অফথালমোলজির ওয়েবসাইটের এক বিবৃতিতে ন্যাশভিলের বোর্ড-সার্টিফাইড চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রেবেকা জে. টেলর সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, চোখের নিরাপত্তার জন্য সব সময় পরিচ্ছন্ন পরিবেশে অভিজ্ঞ রূপসজ্জাকরের মাধ্যমে কৃত্রিম পাপড়ি লাগানো উচিত। এ ছাড়া ত্বকের জন্য নিরাপদ রাসায়নিক ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রক্রিয়ায় চোখের পাতা বা কর্নিয়ায় আঘাত, সংক্রমণ, আঠার কারণে অ্যালার্জি এবং স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে আসল পাপড়ি ঝরে যাওয়ার মতো ঝুঁকি থাকে। অপরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহারের ফলেও চোখে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলেও বিয়ের দিন পর্যন্ত চোখের লালচে ভাব সম্পূর্ণ দূর হবে কি না, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় আছেন পলি। অন্য কনেদের সতর্ক করতে নিজের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। তাঁর মতে, বিয়ের মতো জীবনের সবচেয়ে বড় দিনের এত কাছাকাছি সময়ে নতুন কোনো বিউটি ট্রিটমেন্ট বা রূপচর্চার ঝুঁকি নেওয়া মোটেও উচিত নয়। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, মানুষের মুখে বিয়ের দিন নানা অঘটন ঘটার কথা মজার ছলে শুনলেও, নিজের বেলায় এমন কিছু ঘটবে তা তিনি ভাবতেই পারেননি। কৃত্রিম পাপড়ির বদলে সাধারণ মাশকারা ব্যবহার করাই তাঁর জন্য ভালো ছিল বলে এখন মনে করছেন তিনি।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রোস্টেট ক্যানসার হাড়সহ শরীরের আরও কয়েকটি অংশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তার ছেলে হান্টার বাইডেন। তিনি বলেছেন, রোগটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি তার বাবার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। খবর সিএনবিসি নিউজ ও বিবিসির। বিবিসির ‘নিউজনাইট’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হান্টার বাইডেন ৮৩ বছর বয়সী বাবার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ক্যানসারটি হাড়ে এবং শরীরের আরও কিছু স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে মেটাস্টেসিস বলা হয়, অর্থাৎ মূল স্থান থেকে ক্যানসার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে যাওয়া। হান্টার বলেন, পরিস্থিতি পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তার ভাষায়, এই রোগটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক এবং এটি বিভিন্নভাবে তার বাবাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে এত কিছুর পরও জো বাইডেন এখনো ঘরের বাইরে যাচ্ছেন, নিজের কাজ করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ও বিশ্বাস ধরে রেখেছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে হোয়াইট হাউস ছাড়ার চার মাসেরও কম সময় পর জো বাইডেন প্রকাশ্যে জানান, তিনি আক্রমণাত্মক ধরনের প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। সে সময়ই চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন, রোগটি তার হাড়েও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর তিনি হরমোন থেরাপি ও রেডিয়েশনসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জো বাইডেন। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তার বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়েছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব ছাড়ার পরও বাইডেন জনজীবন থেকে পুরোপুরি সরে যাননি। চলতি বছরের জুনে তিনি শিকাগোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ওবামা প্রশাসনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। একই সাক্ষাৎকারে হান্টার বাইডেন তার বিরুদ্ধে থাকা মামলায় বাবার দেওয়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমা নিয়েও কথা বলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বের শেষ দিকে জো বাইডেন ছেলে হান্টারকে ক্ষমা করেন। এর ফলে অস্ত্র ও করসংক্রান্ত ফেডারেল মামলায় দেওয়া দণ্ডও সেই ক্ষমার আওতায় পড়ে। উল্লেখ্য, এর আগে একাধিকবার জো বাইডেন বলেছিলেন, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে তিনি ছেলের মামলায় হস্তক্ষেপ করবেন না। তবে দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি সেই অবস্থান পরিবর্তন করে ক্ষমার সিদ্ধান্ত নেন। জো বাইডেনের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবারের এই মন্তব্যের পর তার স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার চিকিৎসা পরিকল্পনা বা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যগত অগ্রগতি নিয়ে চিকিৎসক বা পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তি এবং সীমিত আয় ও সম্পদের অধিকারীরা সরকারি সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচির আওতায় মাসিক আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। ২০২৬ সালে এই কর্মসূচিতে একজন যোগ্য ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ মাসিক অর্থের পরিমাণ ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে সবাই সর্বোচ্চ অর্থ পাবেন না; আয়, সম্পদ, বসবাসের ধরন ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী অর্থের পরিমাণ কমতে পারে। সম্পূরক নিরাপত্তা আয় কর্মসূচিটি সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। সীমিত আয় ও সম্পদের অধিকারী ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ, অন্ধ ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে এ সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শারীরিক বা মানসিক সমস্যা কাজ করার সক্ষমতায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে হবে এবং তা অন্তত এক বছর স্থায়ী হওয়ার বা মৃত্যুর কারণ হওয়ার আশঙ্কা থাকতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তালিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ১৪ ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা এবং ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য ১৫ ধরনের স্বাস্থ্যগত সমস্যা উল্লেখ রয়েছে। এসব মিলিয়ে মোট ২৯টি স্বাস্থ্যগত শ্রেণি রয়েছে, যেগুলোর বিভিন্ন উপশ্রেণিতে নির্দিষ্ট রোগ বা শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত মানদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু কোনো একটি রোগের নাম তালিকায় থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয় না; সংশ্লিষ্ট শারীরিক সমস্যার নির্দিষ্ট শর্তও পূরণ করতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের তালিকায় হাড় ও পেশির সমস্যা, দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণসহ বিশেষ ইন্দ্রিয় ও বাক্সংক্রান্ত সমস্যা, শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালির সমস্যা, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যা, মূত্র ও প্রজননতন্ত্রের সমস্যা, রক্তসংক্রান্ত রোগ, ত্বকের সমস্যা এবং হরমোনসংক্রান্ত রোগ রয়েছে। এ ছাড়া জন্মগত সমস্যা, স্নায়ুতন্ত্রের রোগ, মানসিক সমস্যা, ক্যান্সার এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাসংক্রান্ত সমস্যাও তালিকায় রয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রেও হাড় ও পেশির সমস্যা, বিশেষ ইন্দ্রিয় ও বাক্সংক্রান্ত সমস্যা, শ্বাসতন্ত্র, হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালি, পরিপাকতন্ত্র, মূত্র ও প্রজননতন্ত্র, রক্ত, ত্বক, হরমোন, জন্মগত সমস্যা, স্নায়ুতন্ত্র, মানসিক সমস্যা, ক্যান্সার এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাসংক্রান্ত সমস্যাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। শিশুদের জন্য কম ওজন নিয়ে জন্ম এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে না পারার মতো অবস্থাও তালিকায় রয়েছে। প্রতিটি স্বাস্থ্যগত শ্রেণির অধীনে আরও নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, পরিপাকতন্ত্রের সমস্যার মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের রক্তক্ষরণ, দীর্ঘমেয়াদি যকৃতের রোগ ও অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগের মতো অবস্থার উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে হাড় ও পেশিসংক্রান্ত সমস্যার ক্ষেত্রে মেরুদণ্ডের এমন সমস্যা, যার কারণে স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে, বড় জোড়ের অস্বাভাবিকতা এবং বিভিন্ন কারণে অঙ্গচ্ছেদের মতো অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া হয়। ২০২৬ সালে একজন যোগ্য ব্যক্তির জন্য সর্বোচ্চ ফেডারেল অর্থ ৯৯৪ ডলার। যোগ্য দম্পতির জন্য সর্বোচ্চ পরিমাণ ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে এই অর্থ নির্দিষ্ট কোনো রোগের জন্য নির্ধারিত নয়। একজন আবেদনকারী কত অর্থ পাবেন, তা তার গণনাযোগ্য আয়, পারিবারিক পরিস্থিতি, বসবাসের ধরন এবং অন্যান্য যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। কিছু অঙ্গরাজ্য ফেডারেল অর্থের সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থও দেয়। এ ছাড়া সম্পদের সীমাও রয়েছে। ২০২৬ সালে সাধারণভাবে একজন ব্যক্তির গণনাযোগ্য সম্পদের সীমা ২ হাজার ডলার এবং একসঙ্গে বসবাসকারী যোগ্য দম্পতির জন্য ৩ হাজার ডলার। সব ধরনের সম্পদ অবশ্য এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না। আয় ও সম্পদের পাশাপাশি আবেদনকারীর বসবাসের পরিস্থিতিও চূড়ান্ত অর্থের পরিমাণে প্রভাব ফেলতে পারে। সুবিধার জন্য আবেদন করতে আগ্রহীদের প্রথমে নিজেদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও আর্থিক পরিস্থিতি কর্মসূচির যোগ্যতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে বলা হয়। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। আবেদন করার সময় আয়, সম্পদ, পরিচয় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি প্রয়োজন হতে পারে। তাই তালিকাভুক্ত ২৯টি স্বাস্থ্যগত শ্রেণির কোনো একটির সঙ্গে সমস্যা মিলে গেলেই মাসে ১ হাজার ৪৯১ ডলার পাওয়া যাবে—এমন নয়। ১ হাজার ৪৯১ ডলার হলো ২০২৬ সালে যোগ্য দম্পতির জন্য সর্বোচ্চ ফেডারেল মাসিক অর্থের পরিমাণ। একজন যোগ্য ব্যক্তির সর্বোচ্চ ফেডারেল অর্থ ৯৯৪ ডলার এবং প্রকৃত অর্থ ব্যক্তিভেদে কম-বেশি হতে পারে।
নারীদের প্রজননক্ষমতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রাখা যায় কি না, তা নিয়ে নতুন গবেষণা করছেন চীনের বেইজিংয়ে অবস্থিত স্টেট কি ল্যাবরেটরি অব স্টেম সেল অ্যান্ড রিপ্রোডাকটিভ বায়োলজির অধ্যাপক ও পরিচালক ড. হংমেই ওয়াং। তার নেতৃত্বাধীন গবেষণা দল খতিয়ে দেখছে, বছরে প্রায় ১২ বার মাসিক হওয়ার পরিবর্তে যদি তিন মাসে একবার বা বছরে মাত্র চারবার মাসিক হয়, তাহলে ডিম্বাশয়ের ডিম্বাণু (এগ) আরও দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে কি না। তবে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি থেকে কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ড. ওয়াংয়ের গবেষণার ধারণা এসেছে মানুষের বিবর্তন ও অতীত জীবনধারা বিশ্লেষণ থেকে। তার মতে, অতীতে নারীরা ঘন ঘন গর্ভধারণ ও দীর্ঘ সময় সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর কারণে সারা জীবনে গড়ে প্রায় ১০০ বার মাসিক হতো। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় একজন নারী সারা জীবনে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বার মাসিকের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। গবেষকদের ধারণা, এর ফলে ডিম্বাণু তুলনামূলক দ্রুত কমে যেতে পারে এবং সন্তান ধারণের সময়কালও কমে আসতে পারে। স্পেনের সংবাদপত্র *এল পাইস*-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ওয়াং বলেন, ডিম্বস্ফোটন কমানো গেলে আরও বেশি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। কারণ ডিম্বস্ফোটন বন্ধ হলে শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের উৎপাদনও কমে যায়, যা নারীর হাড়, হৃদ্যন্ত্রসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ কারণে গবেষকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি নিরাপদ পদ্ধতি খুঁজে বের করা, যাতে নারীর প্রজননক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হলেও সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণার সঙ্গে চীনের বর্তমান জনসংখ্যাগত সংকটেরও সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে জন্মহার কমে যাওয়া এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় সরকার ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো স্টেম সেল, প্রজনন চিকিৎসা এবং ডিম্বাণু সংরক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা চালাচ্ছে, যাতে মানুষ চাইলে তুলনামূলক বেশি বয়সেও সন্তান নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই গবেষণা এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগে এটি কোনো চিকিৎসা পদ্ধতি বা স্বাস্থ্য পরামর্শ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, চুলের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখার বিষয়েও আগ্রহ বাড়ছে। এ প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘হেয়ার লংজেভিটি’। এর লক্ষ্য শুধু চুল পড়া বন্ধ করা নয়, বরং আগে থেকেই চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বজায় রাখা। সাধারণ চুলের যত্নে অনেক সময় খুশকি, শুষ্ক বা অতিরিক্ত তেলতেলে মাথার ত্বক, চুল ভেঙে যাওয়া কিংবা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণায় সমস্যার অপেক্ষা না করে আগেভাগেই নিয়মিত যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে শুধু শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা সাজসজ্জার দিকে নজর দেওয়া হয় না। বরং মাথার ত্বক, চুলের গোড়া, চুলের গঠন এবং দৈনন্দিন অভ্যাস—সবকিছুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। লক্ষ্য হলো বয়স বাড়ার সঙ্গে চুলের যে পরিবর্তন আসে, তা যতটা সম্ভব ধীর করা। চুলের যত্ন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য একবারের কোনো চিকিৎসা বা অস্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য মাথার ত্বকের যত্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত তেল ও জমে থাকা উপাদান দূর করা এবং চুলের জন্য উপযুক্ত যত্ন নেওয়া চুলের ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে অতিরিক্ত চুল ধোয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারণ এতে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা, চুলকানি, চুলের রুক্ষতা বা দ্রুত তেলতেলে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চুলের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক যত্ন নেওয়া, চুলের দৈর্ঘ্যের চেয়ে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া। এ ছাড়া অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং চুলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এমন অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এসব কারণে চুলের গঠন দুর্বল হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপন, মানসিক চাপ, বংশগত কারণ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা পুষ্টির ঘাটতির মতো বিষয়ও চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চুলের যত্নের ক্ষেত্রে সামগ্রিক জীবনধারার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণা চুলের যত্নের ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এর মূল ভাবনা হলো, সমস্যা তৈরি হওয়ার পর সমাধান খোঁজার পরিবর্তে আগে থেকেই যত্ন নিয়ে চুলের সুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা।
ক্যালোরি কমিয়ে কঠোর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ না করেও দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে নতুন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা পর্যালোচনা। গবেষকদের দাবি, বিশেষ করে যেসব প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না, তাদের ক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা কমানো একই ধরনের বিপাকীয় সুবিধা দিতে পারে, যা আগে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হতো। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৫০টিরও বেশি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পর্যালোচনা প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী Cell Press Blue-এ। এতে দেখা গেছে, খাদ্যতালিকায় প্রোটিন কমানো হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া, কোষের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুষ্টি-সংকেত নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে কোষের ক্ষতি ও দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহও কমতে পারে। গবেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ফাইব্রোব্লাস্ট গ্রোথ ফ্যাক্টর-২১ (FGF21) নামের একটি বিপাকীয় হরমোন। খাদ্যে প্রোটিন কমে গেলে শরীরে এই হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, FGF21 শক্তি ব্যয় বাড়াতে, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে, প্রদাহ কমাতে এবং আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যালোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রোটিনের তিনটি অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড মেথিওনিন, আইসোলিউসিন এবং ভ্যালিন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বার্ধক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জৈবিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে পারে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না, তাদের শরীরে এসব অ্যামিনো অ্যাসিডের অতিরিক্ত উপস্থিতি কোষের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে প্রদাহ, কোষের ক্ষতি এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষণার প্রধান লেখক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন–ম্যাডিসনের গবেষক ডাডলি ল্যামিং বলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করা মানুষের জন্য পেশি গঠন ও পুনর্গঠনে প্রোটিনের উপকারিতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অধিকাংশ মানুষ যেহেতু তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় জীবনযাপন করেন, তাই অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রোটিন গ্রহণ করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গবেষকেরা এও স্পষ্ট করেছেন, এই গবেষণা নতুন কোনো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নয়; বরং পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোর একটি পর্যালোচনা। তাই এটি মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফলাফল সম্পর্ক প্রমাণ করে না। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মানবভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, এসব বিপাকীয় পরিবর্তন সত্যিই মানুষের আয়ু বাড়ায় কি না। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, সবার জন্য একই মাত্রার প্রোটিন উপযুক্ত নয়। তাই এই ফলাফলকে কোনোভাবেই প্রোটিনের ঘাটতিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তি, ক্রীড়াবিদ, গর্ভবতী নারী এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শরীরচর্চার সময় খাদ্য থেকে পাওয়া অ্যামিনো অ্যাসিড পেশি গঠন ও মেরামতের কাজে ব্যবহৃত হয়। আবার বয়স্কদের ক্ষেত্রে বয়সজনিত পেশি ক্ষয় রোধেও পর্যাপ্ত প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে। গবেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্যবিষয়ক খাদ্য নির্দেশিকায় সবার জন্য এক ধরনের প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়ার পরিবর্তে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক কার্যক্রম এবং জীবনযাত্রার ধরন অনুযায়ী প্রোটিনের পরিমাণ নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রের ধনী নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হলেও তাদের আয়ু ইউরোপের কিছু দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর তুলনায় কম হতে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা, বেশি সম্পদ মানেই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন, এই গবেষণার ফলাফলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ৭৩ হাজারের বেশি বয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় ১০ বছর ধরে তাদের বেঁচে থাকার হার ও মৃত্যুর তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, একই অর্থনৈতিক স্তরের মানুষের তুলনা করলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মৃত্যুঝুঁকি ইউরোপের অনেক দেশের মানুষের তুলনায় বেশি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী ২৫ শতাংশ মানুষের বেঁচে থাকার হার উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ২৫ শতাংশ মানুষের কাছাকাছি। গবেষণায় জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের মানুষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সম্পদ স্তরের মানুষের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তুলনা করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, অর্থনৈতিক অবস্থার সঙ্গে সাধারণত ভালো স্বাস্থ্যের সম্পর্ক থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে সেই সুবিধা অনেকাংশে সীমিত হয়ে যাচ্ছে। গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের এই পার্থক্যের পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী রোগের তুলনামূলক বেশি হার, স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ খরচ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং দৈনন্দিন জীবনের বাড়তি চাপ। গবেষকদের মতে, ইউরোপের অনেক দেশে শক্তিশালী সরকারি অবকাঠামো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো থাকায় মানুষের আয় ও আয়ুর পার্থক্য তুলনামূলক কম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সক্ষমতার ভূমিকা বেশি হওয়ায় ধনী ও দরিদ্রের পার্থক্য স্বাস্থ্য ফলাফলেও প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের আয়ু বাড়াতে শুধু ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। এর জন্য প্রয়োজন বৃহত্তর সামাজিক ও নীতিগত পরিবর্তন, যাতে স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার সুযোগ আরও কার্যকরভাবে সবার কাছে পৌঁছানো যায়। গবেষকদের মতে, সম্পদ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারে, তবে দীর্ঘায়ুর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের মিলওয়াকির বাসিন্দা লেক্স ব্যানাক দীর্ঘদিন ধরেই স্বাস্থ্য সচেতন জীবনযাপন করতেন। নিয়মিত ব্যায়াম, নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা এবং ফিটনেসচর্চার মাধ্যমে তিনি আগেও ওজন কমিয়েছিলেন। কিন্তু সবকিছু একইভাবে অনুসরণ করার পরও হঠাৎ করেই তার শরীরের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করে। মাত্র ছয় মাসে তার ওজন বেড়ে যায় প্রায় ৪০ পাউন্ড। কী কারণে এমন হচ্ছে, তা বুঝতে না পেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তার ভাষায়, “মনে হতো আমি যেন পাগল হয়ে যাচ্ছি। একই খাবার খাচ্ছিলাম, একই ব্যায়াম করছিলাম, তবু ওজন বাড়ছিল।” ২৯ বছর বয়সী লেক্স জানান, ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি তিনি সব সময় ক্লান্ত অনুভব করতেন। প্রতিদিন ঘুমাতে হতো, মনোযোগ ধরে রাখতে কষ্ট হতো এবং একধরনের মানসিক ঝাপসাভাব বা ‘ব্রেইন ফগ’-এ ভুগছিলেন। আচরণেও পরিবর্তন আসে। সামান্য বিষয়েও বিরক্ত হয়ে যেতেন এবং খাবারের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতেন। প্রথমদিকে তিনি ধারণা করেছিলেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির কারণে হয়তো ওজন বাড়ছে। সে কারণে ওষুধ বন্ধও করেছিলেন। কিন্তু তাতেও কোনো পরিবর্তন আসেনি। পরবর্তীতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তাকে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে চিকিৎসক সন্দেহ প্রকাশ করেন যে তিনি হয়তো ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ নামের ঘুমজনিত সমস্যায় ভুগছেন। স্লিপ অ্যাপনিয়া এমন একটি অবস্থা, যেখানে ঘুমের সময় বারবার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং আবার শুরু হয়। এতে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। ফলে শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে লেক্সের একটি ‘স্লিপ স্টাডি’ করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, ঘুমের সময় প্রতি আট মিনিট পরপর তার শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। পুরো রাতজুড়ে তিনি ৬৮ বার জেগে উঠেছিলেন, যদিও অধিকাংশ সময় তিনি তা টেরই পাননি। এরপর তার মৃদু মাত্রার স্লিপ অ্যাপনিয়া ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণে শরীরের বিপাকক্রিয়া, হরমোনের ভারসাম্য এবং শক্তির মাত্রা প্রভাবিত হতে পারে। এর ফলে অনেকের ক্ষেত্রেই ওজন বেড়ে যাওয়া বা ওজন কমাতে সমস্যা হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ২০২৩ সালের জুনে লেক্সকে একটি সিপিএপি (CPAP) যন্ত্র ব্যবহার করতে দেওয়া হয়। ঘুমের সময় নাক ও মুখে পরা এই যন্ত্রটি নিরবচ্ছিন্নভাবে বায়ুচাপ সরবরাহ করে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। যন্ত্রটি ব্যবহার শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। এক বছরের মধ্যে তার ওজন ৬০ পাউন্ড কমে যায় এবং ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় করা পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানান, তার স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণ আর নেই। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা শেষ হওয়ায় তাকে সিপিএপি যন্ত্রটি ফেরত দিতে হয়। পরের বছর আবারও স্লিপ অ্যাপনিয়ার উপসর্গ ফিরে আসে এবং তার ওজন প্রায় ২০ পাউন্ড বেড়ে যায়। বর্তমানে স্বাস্থ্যবিমা না থাকায় তিনি নতুন করে সিপিএপি যন্ত্র সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ধ্যান, যোগব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অকারণে ওজন বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, নাক ডাকা, ঘুমের সময় শ্বাস আটকে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব থাকলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রেই এসব লক্ষণের পেছনে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো চিকিৎসাযোগ্য সমস্যা থাকতে পারে।
পরিবারের সবাইকে নিয়ে লেকের ধারে গ্রীষ্মকালীন তাঁবু খাটিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দে হঠাৎ নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও চার সন্তানের জননী ব্রিটেনি মিলার এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়ে অন্তত ১৫টি বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং পরিবারের তৈরি করা একটি অনুদান সংগ্রহের পাতায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত মে মাসের শেষের দিকে কানসাসের উইচিতা শহর থেকে ৩৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত চিনি স্টেট পার্কে ক্যাম্পিংয়ে যায় মিলার পরিবার। রাতের বেলা ক্যাম্পফায়ারের পাশে বসে থাকার সময় হঠাৎ ব্রিটেনি টের পান তার কাপড়ের ভেতর ও পায়ে একাধিক মাকড়সা উঠে এসেছে। মাকড়সার ভয়ে আতকে ওঠার আগেই অন্তত ১৫টি মাকড়সা তার পায়ের দুই পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে দংশন করে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর থেকে ব্রিটেনির ডান পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। সেই ব্যথাকে তিনি তীব্র ছুরিকাঘাতের অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে ৪ জুন তাকে উইচিতার ওয়েসলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, মাকড়সার কামড়ের স্থানে বিষক্রিয়া থেকে তার পায়ের মাংসপেশিতে বিশালাকার রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপিণ্ড তৈরি হয়েছে। জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণ ও সংক্রমিত স্থান পরিষ্কার করতে জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে। তবে অস্ত্রোপচারটি চিকিৎসকদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ব্রিটেনি দীর্ঘদিন ধরে যকৃৎ বা লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন, যা শেষ ধাপে পৌঁছে গিয়েছিল। একই সঙ্গে তার রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত দুটি বিরল শারীরিক জটিলতাও ছিল। ফলে অস্ত্রোপচার করতে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার প্রাণহানির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা দুই সপ্তাহের মাথায় আশা ছেড়ে দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তার হাতে হয়তো আর মাত্র কয়েক দিন থেকে সর্বোচ্চ এক মাসের আয়ু বাকি রয়েছে। চিকিৎসকদের এই পূর্বাভাস সত্ত্বেও ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সী চার সন্তান ও স্বামীর মুখে চেয়ে লড়াই থামাননি ব্রিটেনি। তিনি চিকিৎসকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে পরিবারের জন্য তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন। টানা ১০ দিন মেডিকেল আইসিইউ এবং পরবর্তীতে কার্ডিও আইসিইউতে রেখে তাকে রক্ত, প্লাজমা, অণুচক্রিকা ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। কঠিন চিকিৎসাপদ্ধতি অতিক্রম করে শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও নতুন করে এক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তার অস্ত্রোপচারের স্থানে ব্যাকটেরিয়াজনিত চরম সংক্রমণ দেখা দেয়, যার ফলে সেখানের টিস্যু বা তন্তুর মৃত্যু ঘটতে শুরু করে। পচে যাওয়া চামড়া ও মাংস ফেলে দিতে শয্যাশায়ী অবস্থাতেই তার শরীরে আরও দুটি অস্ত্রোপচার চালাতে হয়। বর্তমানে ব্রিটেনির বেঁচে থাকার জন্য জরুরিভিত্তিতে যকৃৎ প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, তবে সেই বড় অস্ত্রোপচারের জন্য তার শরীর উপযোগী হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানবিক সংকটে পরিবারটিতে আর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। অসুস্থ স্ত্রীর পাশে সারাক্ষণ হাসপাতালে অবস্থান করার কারণে চাকরি হারিয়েছেন তার স্বামী জেইক মিলার। উপার্জন ও স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে চার সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসার খরচ জোগাতে জেইক মিলার সাধারণ মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। চিকিৎসকদের ধারণামতে, তাকে কামড়ানো মাকড়সাগুলো কানসাস অঞ্চলে পাওয়া যাওয়া অত্যন্ত বিষাক্ত 'ব্রাউন রিক্লুস' প্রজাতির হতে পারে। আকারে অত্যন্ত ছোট এই মাকড়সার বিষ মানবদেহে প্রবেশ করলে চামড়ায় পচন এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
স্মার্ট ওয়াচ ও ফিটনেস ব্যান্ডের ভিড়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নতুন ও অভিনব মাধ্যম হিসেবে বাজারে আসছে সেন্সরযুক্ত ‘স্মার্ট টয়লেট সিট’। এই আধুনিক প্রযুক্তি পণ্য বাজারে আনতে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করেছে মার্কিন স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি কাসানা। দৈনন্দিন জীবনের কোনো বাড়তি ঝামেলা ছাড়াই শরীরের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচকগুলো নিয়মিত ট্র্যাক করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে ড. নিকোলাস কন এই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপটি প্রতিষ্ঠা করেন। কাসানার তৈরি এই বিশেষ টয়লেট সিটে উন্নতমানের সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার খুব সহজেই পরিমাপ করা সম্ভব। পরীক্ষার পর এই সমস্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি মোবাইল অ্যাপে যুক্ত হয়ে যায়, যা দেখে ব্যবহারকারী সহজেই নিজের শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনগুলো বুঝতে পারেন। নতুন এই ‘স্মার্ট সিট’-এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৯ ডলার। এটি যেকোনো সাধারণ টয়লেটের মূল সিটের পরিবর্তে খুব সহজেই ইনস্টল করা যায়। ব্যবহারকারী সিটে বসার সঙ্গে সঙ্গেই এর ভেতরে থাকা সেন্সরগুলো তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে এবং রিয়েল-টাইম ডাটা মোবাইল অ্যাপে আপলোড করে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা, যারা বিভিন্ন ফিটনেস ডিভাইস চার্জ দেওয়া বা নিয়মিত ব্যবহার করার ঝামেলা এড়াতে চান, তাদের কথা মাথায় রেখে এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। কোম্পানিটির প্রেসিডেন্ট অস্টিন ম্যাককর্ড জানান, এই পণ্যের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে অতিরিক্ত কোনো নতুন অভ্যাস গড়তে হয় না বা আলাদা করে কিছু মনে রাখতে হয় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার একটি বড় অংশের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে এবং তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হয়। কাসানার এই ডিভাইসটি সেই জটিল প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, এই ডিভাইসে থাকা সেন্সরগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে কাজ করার পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এটি চিকিৎসকের বিকল্প বা কোনো রোগ নির্ণয়কারী যন্ত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক প্রবণতা বুঝতে সাহায্য করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সরাসরি গ্রাহকদের কাছে এটি বিক্রির পরিকল্পনা থাকলেও ভবিষ্যতে নার্সিং হোম ও বয়স্কদের আবাসন প্রকল্পেও এটি সরবরাহের বড় সুযোগ রয়েছে। সূত্র: ফোর্বস
মানুষ সর্বোচ্চ কত বছর বাঁচতে পারে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বহুদিন ধরেই গবেষণা চলছে। এবার একদল বিজ্ঞানী নতুন একটি গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে দেখিয়েছেন, যদি বার্ধক্যের প্রায় সব উল্টানো সম্ভব এমন প্রক্রিয়া একদিন নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তবুও মানুষের সম্ভাব্য আয়ুর একটি জৈবিক সীমা থেকে যেতে পারে। তাদের গবেষণা অনুযায়ী, সেই তাত্ত্বিক গড় সীমা প্রায় ১৫৬ বছর। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক সাময়িকী npj Aging-এ প্রকাশিত হয়েছে। এতে গবেষকরা বার্ধক্যের বিভিন্ন জৈবিক কারণ আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, কোন উপাদানটি মানুষের আয়ু সীমিত করতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। গবেষণার মূল পর্যবেক্ষণ হলো, মানুষের শরীরে সময়ের সঙ্গে জমতে থাকা সোমাটিক মিউটেশন বা দেহকোষের ডিএনএ-তে স্থায়ী পরিবর্তনই দীর্ঘায়ুর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হতে পারে। এ ধরনের ডিএনএ পরিবর্তন জন্মের পর শরীরের সাধারণ কোষে তৈরি হয় এবং এটি পরবর্তী প্রজন্মে বংশগতভাবে ছড়ায় না। বর্তমানে এ ধরনের ক্ষতি সম্পূর্ণভাবে দূর করার কোনো প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা পদ্ধতি নেই। গবেষকরা একটি কাল্পনিক মডেল তৈরি করেন, যেখানে একে একে বার্ধক্যের বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে বাদ দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা যায়, যদি সোমাটিক মিউটেশন ছাড়া বার্ধক্যের অন্য সব কারণ দূর করা যায়, তবুও মানুষের সম্ভাব্য আয়ু ১৪৬ থেকে ১৯৪ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং গাণিতিকভাবে এর মধ্যম মান দাঁড়ায় প্রায় ১৫৬ বছর। গবেষণার সহলেখক ইভজেনি এফিমভ বলেছেন, মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন এবং হৃদ্যন্ত্রের কার্ডিওমায়োসাইট কোষই দীর্ঘায়ুর প্রধান সীমাবদ্ধতা হিসেবে কাজ করে। কারণ এই কোষগুলো সাধারণত বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করতে পারে না। ফলে সময়ের সঙ্গে জমতে থাকা ডিএনএ ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে এসব অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। অন্যদিকে যকৃতের মতো যেসব অঙ্গ নিয়মিত নতুন কোষ তৈরি করতে পারে, সেগুলো দীর্ঘ সময় ধরে ডিএনএ ক্ষতি সামলে নিতে সক্ষম। এ কারণেই বার্ধক্যে ডিমেনশিয়া, হৃদ্রোগ বা হৃদ্যন্ত্রের অকার্যকারিতার মতো রোগ বেশি দেখা যায়, কারণ এসব রোগ এমন অঙ্গকে প্রভাবিত করে, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সহজে প্রতিস্থাপিত হয় না। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি গ্রসম্যান স্কুল অব মেডিসিন–এর সহকারী অধ্যাপক জর্ডান ওয়েইস, যিনি এই গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন, বলেন, গবেষণার ফল বাস্তব পর্যবেক্ষণের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, মানুষের সুস্থ জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয় ঠিক সেই অঙ্গগুলোতে, যেগুলো নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ নতুন করে তৈরি করতে পারে না। গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকরা প্রথমে এমন একটি কাল্পনিক "বার্ধক্যহীন মানুষ"-এর মডেল তৈরি করেন, যার মৃত্যুঝুঁকি বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়ে না। সেই অবস্থায় তাত্ত্বিকভাবে মানুষের গড় আয়ু প্রায় ১ হাজার ৭৫৯ বছর হতে পারত। কিন্তু সোমাটিক মিউটেশনকে আবার মডেলে যুক্ত করার পর সম্ভাব্য আয়ু নেমে আসে প্রায় ১৫৬ বছরে। গবেষকদের মতে, এই ডিএনএ ক্ষতিই তাত্ত্বিক দীর্ঘায়ু ও বাস্তব জীবনের আয়ুর মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি করে। তবে গবেষকরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, এই গবেষণার অর্থ এই নয় যে মানুষ শিগগিরই ১৫৬ বা ১৯০ বছর বাঁচতে পারবে। বরং এটি দেখায়, বার্ধক্যের কোন জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো মানুষের আয়ু সবচেয়ে বেশি কমিয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে কোন ক্ষেত্রগুলোতে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এখন গবেষকরা তাদের মডেলে বার্ধক্যের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ—যেমন মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যক্ষমতা হ্রাস, এপিজেনেটিক পরিবর্তন, টেলোমিয়ার ছোট হয়ে যাওয়া এবং প্রোটিনের গুণগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়া—অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। তাদের লক্ষ্য, এমন একটি পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক কাঠামো তৈরি করা, যা বার্ধক্যের প্রতিটি প্রক্রিয়া মানুষের আয়ু কতটা কমায়, তা পরিমাপ করতে সহায়তা করবে এবং ভবিষ্যতের চিকিৎসা গবেষণার দিকনির্দেশনা দেবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করে পশুর জন্য ব্যবহৃত একটি কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের পর যুক্তরাজ্যের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসা বা প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রচারিত ওই ওষুধ মানুষের জন্য অনুমোদিত নয় এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী লি রেডপাথ নামের ওই ব্যক্তি ফেনবেনডাজল (Fenbendazole) নামের একটি অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক বা পরজীবীনাশক ওষুধ টানা কয়েক সপ্তাহ সেবনের পর গুরুতর লিভার বিকল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে গত বছরের ২৯ এপ্রিল ক্যামব্রিজের অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা যায়, লি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট দেখে বিশ্বাস করেছিলেন, ফেনবেনডাজল ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় উপকারী হতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি ইউক্রেনভিত্তিক এক অনলাইন সরবরাহকারীর কাছ থেকে ওষুধটি সংগ্রহ করেন। ফেনবেনডাজল মূলত পশুর অন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের পরজীবী ও কৃমি দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয় এবং ক্যানসারের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের হান্টিংডনে অনুষ্ঠিত এক করোনারের তদন্তে লির দীর্ঘদিনের সঙ্গী লরেন লল সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য দেখে লি মনে করেছিলেন ওষুধটি নিরাপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। লরেন বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই লি ওষুধটি সেবন শুরু করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের ওষুধ অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় অনেক মানুষ পূর্ণ তথ্য না জেনেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তিনি আরও জানান, তার ধারণা লি মৃত্যুর আগে হয়তো প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিতভাবে এই ওষুধ গ্রহণ করছিলেন। তদন্তে অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. গুইলিম ওয়েব স্পষ্টভাবে জানান, মানুষের ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় ফেনবেনডাজলের কোনো প্রমাণিত উপকারিতা নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়। হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, লিকে গত বছরের ১২ এপ্রিল গুরুতর লিভার সমস্যার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সময় তিনি চিকিৎসকদের জানান যে, অনলাইনে ক্যানসারবিরোধী গুণের দাবি দেখে তিনি ফেনবেনডাজল কিনে সেবন করছিলেন। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, লিভারের গুরুতর ক্ষতির পাশাপাশি কিডনিও অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, লির আগে থেকেই অ্যালকোহলজনিত লিভার সিরোসিস ছিল। তবে করোনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেনবেনডাজলজনিত লিভারের বিষক্রিয়াই ছিল তার মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা শেষ পর্যন্ত লিভার ও কিডনি বিকলের দিকে নিয়ে যায়। ক্যামব্রিজশায়ার ও পিটারবরোর সহকারী করোনার ক্যারোলিন জোনস বলেন, ফেনবেনডাজল অত্যন্ত শক্তিশালী কৃমিনাশক ওষুধ এবং এটি মানুষের জন্য কখনো যে মাত্রায় বা যে সময় পর্যন্ত ব্যবহারের কথা ভাবা হয়নি, লি তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ও দীর্ঘ সময় ধরে এটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, লি নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতির উদ্দেশ্যে ওষুধটি গ্রহণ করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। লরেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আনুষ্ঠানিক সতর্কতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানালেও করোনার জানান, সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অনলাইনে এ ধরনের ওষুধ সহজে কেনাবেচার বিষয়টি উদ্বেগের। তদন্ত শেষে লির মৃত্যুকে 'মিসঅ্যাডভেঞ্চার' বা অনিচ্ছাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ফলে সংঘটিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর অনেকগুলোরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না। কোনো ওষুধ বা বিকল্প চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র: দ্য সান, যুক্তরাজ্য; করোনারের তদন্তে উপস্থাপিত তথ্য
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের একজনের হাতের একাধিক আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং চিকিৎসকেরা তার হাত রক্ষার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটির পর অবৈধ আতশবাজির উৎস খুঁজে বের করতে পুলিশের প্রতি তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট ও সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ জুলাই অরেঞ্জ কাউন্টির অ্যানাহাইমে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের একজনের মা মারিয়া এসকালান্তে জানান, তার যমজ ছেলেদের একজন এবং তার এক বন্ধু রাস্তা থেকে পাওয়া একটি অবৈধ আতশবাজিতে আগুন দিলে সেটি মুহূর্তেই তাদের হাতে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে তার ছেলের ডান হাতের কয়েকটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তার দুই হাতেই ব্যান্ডেজ করা রয়েছে। মারিয়া এসকালান্তে বলেন, তার ছেলে অন্তত দুই মাস হাসপাতালে থাকতে পারে। চিকিৎসকেরা পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাত বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তবে অবশিষ্ট আঙুলগুলোতে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন না থাকলে কিছু আঙুল কেটে ফেলতে হতে পারে বলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। প্রথমে তারা দেখবেন অবশিষ্ট আঙুলে পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন রয়েছে কি না। সেটির ওপরই পরবর্তী চিকিৎসা নির্ভর করবে। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা আহত কিশোরের যমজ ভাই পুরো বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখেছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘটনার পর মারিয়া এসকালান্তে অ্যানাহাইমের সাউথ মাউন্টেন ভিউ অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাস্থলে ফিরে যান। সেখানে তিনি অবৈধ আতশবাজির বিভিন্ন অংশ খুঁজে পান। এরপর তিনি অ্যানাহাইম পুলিশ বিভাগের প্রতি এই অবৈধ আতশবাজি কোথা থেকে বিক্রি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তার দাবি, অন্য আহত কিশোরের মা তাকে জানিয়েছেন যে প্রতি বছর ওই এলাকায় অবৈধ আতশবাজি বিক্রি হয়। তাই এ বিষয়ে পুলিশকে আরও কঠোর তদন্ত চালানো উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে আহত অপর কিশোরের দুই হাতও গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির কারণে প্রতিবছরই বহু দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ-এর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ওই বছর অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৭১৮ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন এবং আরও ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিষিদ্ধ আতশবাজির বড় একটি অংশ পাশের নেভাডা অঙ্গরাজ্য থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত বছরও স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে অবৈধ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আতশবাজি বিস্ফোরণে আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ব্রুক ওয়েস্ট গুরুতর স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় দিন কোমায় থাকার কারণে তিনি নিজের স্কুলের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেননি। তবে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় সুস্থ হয়ে এবার সেই হাসপাতালেই ফিরে গিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে ব্রুক ওয়েস্টকে কোরওয়েল হেলথ বোমন্ট ট্রয় হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত করেন। এ রোগে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে হঠাৎ করে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং রোগীর চলাফেরা, স্মৃতিশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুক জানান, গত ৮ মে স্কুলের সিনিয়র প্রম অনুষ্ঠানের আগে তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েক দিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ওয়াকার ব্যবহার করে প্রম অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না, চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা দেখা দেয় এবং আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। ব্রুকের মা বনি ওয়েস্ট জানান, আইসিইউতে চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য স্পাইনাল ট্যাপ, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ব্রুক খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হয়। ব্রুকের বাবা জেসন ওয়েস্ট বলেন, শুরুতে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন না ঠিক কী রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। এতে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল। ছয় দিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তিনি অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিসে আক্রান্ত। এরপর তার পাঁচ দিন ধরে প্লাজমা এক্সচেঞ্জ থেরাপি করা হয়, যা তার অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ব্রুক নিজের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা তার জন্য বিশেষ আয়োজন করেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের একটি করিডোরজুড়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান চিকিৎসাকর্মীরা। পরে তার স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট হাসপাতালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে স্নাতক সনদ তুলে দেন। ব্রুক বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ছোট একটি অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু হাসপাতালের সবাই যেভাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, সেটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ। যদিও এখনও শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে ফিজিক্যাল ও অকুপেশনাল থেরাপি নিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামী শরৎ মৌসুমে তিনি গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন। ব্রুক বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে করতালি, হাসি আর আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বাগত জানান। হাসপাতালের নার্স ক্যাথি হামামেহ বলেন, ব্রুক তার সবচেয়ে স্মরণীয় রোগীদের একজন। একজন মা হিসেবে তিনি ব্রুকের মায়ের উদ্বেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পেরেছিলেন। তাই ব্রুকের সুস্থ হয়ে ওঠা তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ রোগীর পরবর্তী জীবনের খবর তারা জানতে পারেন না। কিন্তু ব্রুকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তার সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো যাত্রা কাছ থেকে দেখতে পেরেছেন, যা একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ায় র্যাটলস্নেকের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া তিন সন্তানের এক বাবাকে বাঁচাতে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও একটি হাসপাতালের অ্যান্টিভেনম মজুত শেষ হয়ে যায়। পরে তাকে হেলিকপ্টারে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলে ভিন্ন ধরনের অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের মাধ্যমে তার অবস্থার উন্নতি হয়। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইডাহোর বাসিন্দা ক্রিস্টোফার হাওয়ার্থ গত মে মাসে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার লেক অরোভিল এলাকায় বাবা-মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একদিন বাড়ির পেছনের আঙিনায় একটি লিক হওয়া পাইপ পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি অন্ধকারে একটি গাছ ভেবে ভুল করে র্যাটলস্নেকের ওপর পা দেন। সাপটি তাকে দুইবার কামড় দেয়। হাওয়ার্থ জানান, একটি কামড় তুলনামূলক হালকা ছিল, তবে অন্যটি সরাসরি শিরায় লাগে। তার স্ত্রী জেনি হাওয়ার্থ দ্রুত তাকে অরোভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার জিহ্বা অবশ হয়ে যেতে শুরু করে, লিম্ফ নোড ফুলে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসকেরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ শুরু করেন। কিন্তু চিকিৎসার তৃতীয় দিনে তার শরীরে বিরল ধরনের রক্ত জমাট বাঁধার জটিলতা দেখা দেয়, যা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি করে। একই সঙ্গে তার উরু মারাত্মকভাবে ফুলে যায়। চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর জন্য মোট ৫৪ ভায়াল অ্যান্টিভেনম ব্যবহার করেন। তবে পঞ্চম দিনের মাথায় অরোভিল হাসপাতালের অ্যান্টিভেনমের মজুত শেষ হয়ে যায়। হাওয়ার্থ জানান, একপর্যায়ে তিনি ভেবেছিলেন আর হয়তো বাঁচবেন না। সেই আশঙ্কায় তিনি নিজের সন্তানদের উদ্দেশে বিদায়ী চিঠিও লিখেছিলেন, যাতে তাদের কাছে বাবার শেষ বার্তাটি পৌঁছে যায়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে স্ট্যানফোর্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ভিন্ন ধরনের অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। মোট ১২ দিন নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসার পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান এবং বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে আইডাহোতে ফিরে গিয়ে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছেন। পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসাজনিত কারণে হাওয়ার্থ দীর্ঘদিন ধরে কাজে ফিরতে পারেননি এবং কবে ফিরতে পারবেন, সেটিও নিশ্চিত নয়। এ কারণে চিকিৎসা ব্যয় ও পরিবারের খরচ মেটাতে তারা একটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছেন। র্যাটলস্নেকের কামড় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঙ্গরাজ্যে বিরল হলেও গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কামড়ের পর দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ রোগীর জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দীর্ঘায়ু ও বার্ধক্য ঠেকানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসা মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বায়োহ্যাকার ব্রায়ান জনসন জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে একটি বিরল ও নিরাময়হীন অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত। ‘অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস (এআইজি)’ নামে পরিচিত এই রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই পাকস্থলীর আস্তরণে আক্রমণ চালায়। নিজের শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমার পাকস্থলী নিজেই নিজেকে খেয়ে ফেলছে।" ৪৮ বছর বয়সী ব্রায়ান জনসন বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত বায়োহ্যাকারদের একজন। বার্ধক্যের গতি কমানো এবং যতদিন সম্ভব সুস্থভাবে বেঁচে থাকার লক্ষ্য নিয়ে তিনি প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয় করেন। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, এমআরআই, কোলনোস্কপি, কঠোর খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং নানা পরীক্ষামূলক স্বাস্থ্যসেবা তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ২০২৩ সালে প্রকাশিত তার নেটফ্লিক্স তথ্যচিত্র Don't Die: The Man Who Wants to Live Forever তাকে বিশ্বব্যাপী আরও পরিচিত করে তোলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে জনসন জানান, গত মে মাসে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার শরীরে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস ধরা পড়ে। তবে তিনি নিশ্চিত নন, ঠিক কত বছর ধরে তিনি এই রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকেরা জানান, তার দীর্ঘদিনের অস্বাভাবিকভাবে কম ফেরিটিন বা আয়রন সঞ্চয়ের মাত্রার কারণ অনুসন্ধান করতেই রোগটি শনাক্ত হয়। রক্ত পরীক্ষা, এন্ডোস্কোপি এবং পাকস্থলীর বায়োপসির মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিত করা হয়। জনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ বছর ধরে তার ফেরিটিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল। খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, পুষ্টি গ্রহণ এবং বিভিন্ন চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। পরে বিশেষায়িত পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরে অ্যান্টি-প্যারিয়েটাল সেল অ্যান্টিবডির মাত্রা বেড়ে গেছে, যা অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। পাকস্থলীর বায়োপসিতে রোগটির প্রাথমিক পর্যায়ের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। তিনি আরও জানান, ২১ বছর বয়সেই তার হাইপোথাইরয়েডিজম ধরা পড়েছিল এবং প্রায় তিন দশক ধরে ওষুধের মাধ্যমে সেটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের আগে থেকেই অন্য কোনো অটোইমিউন রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিস হওয়ার ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য সংস্থা গাটস ইউকের তথ্য অনুযায়ী, অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদনকারী কোষে আক্রমণ করে। ফলে আয়রন ও ভিটামিন বি-১২ শোষণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এতে রক্তস্বল্পতা, পুষ্টির ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে। রোগটির সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বদহজম, বমি বমি ভাব, অল্প খাওয়াতেই পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি, পেটে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া। তবে অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ সময় কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না, ফলে রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হয়। ব্রায়ান জনসন মনে করেন, শৈশবে অতিরিক্ত ফাস্টফুড, চিনিযুক্ত খাবার ও কোমল পানীয় গ্রহণ এবং পরবর্তী সময়ে ব্যবসায়িক চাপ ও মানসিক অবসাদ তার শরীরে অটোইমিউন সমস্যার সূচনা ঘটাতে পারে। যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবু তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের কোনো অনুমোদিত স্থায়ী চিকিৎসা নেই। সাধারণত চিকিৎসকেরা রোগের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টির ঘাটতি পূরণ এবং সম্ভাব্য জটিলতা পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন। তবে জনসন জানিয়েছেন, তিনি এবং তার চিকিৎসক দল আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জিনভিত্তিক গবেষণা ও উন্নত জীববৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগটির কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, "আজ পর্যন্ত অটোইমিউন গ্যাস্ট্রাইটিসের কোনো অনুমোদিত নিরাময় নেই। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত জীববিজ্ঞান ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির এই যুগে শুধু অতীতে নিরাময় ছিল না বলেই কোনো রোগকে চিরস্থায়ীভাবে নিরাময় অযোগ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়।" একই সঙ্গে তিনি জানান, তার লক্ষ্য এখনো অপরিবর্তিত, যতদিন সম্ভব সুস্থভাবে বেঁচে থাকা এবং নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করা।
আপনার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয় হলো কান। আর সেই কানে যদি ঠিকমতো শুনতে না পান, তবে মহাবিপদ। যদিও অনেক সময় ধীরে ধীরে শ্রবণশক্তি কমতে শুরু করলেও আমরা তা সহজে বুঝতে পারি না। বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন, বধিরতা বা কানে না শোনার সমস্যাটি হঠাৎ করে আসে। বাস্তবে কিন্তু তা নয়; শ্রবণশক্তি পুরোপুরি কমে যাওয়ার আগে কান কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে শুরু করে। সেই লক্ষণগুলোকে সময়মতো চিনতে পারলে দ্রুত চিকিৎসা নিয়ে বড় ধরনের বিপদ এড়ানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রধান ৫টি লক্ষণ নিচে দেওয়া হলো: কানে ভারি ভাব বা চাপ অনুভব করা: কিছু মানুষের কানে সবসময় ভারি ভাব কিংবা চাপ অনুভূত হয়। আবার অনেকের মনে হয় কান যেন বন্ধ বা জ্যাম হয়ে আছে। এ ধরনের সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে থাকলে কানের ভেতরের অংশে কোনো জটিলতা তৈরি হচ্ছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখা ভীষণ জরুরি। কথার আওয়াজ শুনলেও অর্থ বুঝতে না পারা: ফোনে কথা বলার সময় বারবার শব্দ পরিষ্কার না শোনা, শিশু কিংবা নারীর তুলনামূলক উঁচু স্বরের কথা বুঝতে অসুবিধা হওয়া কিংবা কথার শব্দ শুনলেও তার অর্থ বুঝতে সমস্যা হওয়া শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ। বিশেষ করে বাজার, অফিস কিংবা ভিড়ের জায়গায় কারও কথা বুঝতে সমস্যা হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। টিভি বা মোবাইলের ভলিউম বাড়িয়ে দেওয়া: টিভি, মোবাইল কিংবা রেডিওর ভলিউম আগের চেয়ে বেশি রাখতে ইচ্ছা করাও একটি বড় সতর্ক সংকেত। যদি পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে আপনি খুব জোরে শব্দ দিয়ে টিভি বা মোবাইল চালাচ্ছেন, তাহলে দ্রুত শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন আছে। কানের ভেতর অদ্ভুত শব্দ বা ‘টিনিটাস’: এটি সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ। অনেকেই অভিযোগ করেন যে, কানের ভেতর সবসময় ভোঁ ভোঁ, শোঁ শোঁ, বাঁশির মতো বা ঘণ্টাধ্বনির মতো শব্দ হচ্ছে। আশপাশে কোনো শব্দ না থাকলেও মনের ভেতর এই আওয়াজ শোনা যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘টিনিটাস’ বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এটিই শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার প্রথম সংকেত। সবাই আস্তে কথা বলছে মনে হওয়া: অন্যের কথা বারবার জিজ্ঞাসা করা বা ঠিকমতো শুনতে না পাওয়া এর লক্ষণ। অনেক সময় আপনার মনে হতে পারে যে সামনের মানুষটি খুব আস্তে বা অস্পষ্ট করে কথা বলছে, কিন্তু আসলে তা নয়; মূলত আপনার কান শুনতে পাওয়ার ক্ষমতা হারাতে শুরু করেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ: চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বয়স বৃদ্ধি, দীর্ঘ সময় হেডফোনে জোরে গান শোনা, উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করা, কানের সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে। তাই কানে এমন কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে শ্রবণশক্তির আরও অবনতি রোধ করা সম্ভব।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাঁর কাছে ঘুরেছে, তবে তিনি কোনো প্রভাব বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করেননি। শনিবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমত ও মানুষের দোয়ার কারণে তিনি টাকার প্রতি কোনো লোভ করেননি এবং প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ সমর্থন নিয়েই লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন, যা দেশের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। তাঁর ভাষায়, এই ধরনের একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরবে। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু মহল হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তকে অন্যভাবে উপস্থাপন করছে। তবে তিনি দাবি করেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর মতো ঘটনার পর কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া সম্ভব নয় এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সবার সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং সরকারি সেবা গ্রহণে এখন আর ঘুষ দিতে হয় না বলে তিনি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা প্রদানকারী দল ঘরে ঘরে গিয়ে রোগীদের অবস্থা মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে পাঠাবে। তিনি আরও জানান, চীনের সহযোগিতায় ৩ হাজার বেডের দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিশু ও নারীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।