ইরানের মিনাব শহরের 'শাজরেহ তাইয়েবা' বালিকা বিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলায় কোমলমতি ছাত্রীদের নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে বজায় থাকা নীরবতাকে 'অবিশ্বাস্য' ও 'লজ্জাজনক' বলে অভিহিত করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই অমানবিক ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিমুখী আচরণের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে কোনো প্ররোচনা ছাড়াই ইরান বিরোধী "অবৈধ যুদ্ধ" শুরু করে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। সেই সময় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের 'শাজারেহ তায়েবেহ' প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এই বর্বর হামলায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ মোট ১৬৫ জন নিহত হন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাসনিম নিউজের বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, জাখারোভা বিশেষ করে পশ্চিমা গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, যেখানে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরপরাধ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলো, সেখানে তথাকথিত মানবাধিকারের ধ্বজাধারীদের এই চুপ করে থাকা কেবল বিস্ময়কর নয়, বরং অপরাধমূলক।
বিবৃতিতে জাখারোভা আরও উল্লেখ করেন যে, যারা এই জঘন্য হামলার নেপথ্যে রয়েছে এবং যারা তাদের মদদ দিচ্ছে, তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার শোকবার্তা বা সমবেদনা জানানো হয়নি। এমনকি এই মর্মান্তিক ঘটনাকে তারা 'অপরাধ' হিসেবে স্বীকার করতেও নারাজ। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে 'মার্কিন মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ' হিসেবে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর বিচার দাবি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ভারত মহাসাগরে ডুবে যাওয়া একটি ইরানি জাহাজ থেকে ৮০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এয়ার ভাইস মার্শাল সাম্পাথ থুয়্যাকোন্থা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জানিয়েছে BBC Sinhala। তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এখনো কয়েক ডজন ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এর আগে শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র বুধিকা সম্পথ জানান, জাহাজের নথি অনুযায়ী এতে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের নৌবাহিনীর জাহাজ IRIS Dena থেকে বিপদসংকেত পাওয়ার পর ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বুধবার দাবি করেন, ভারত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, যা নিজেকে নিরাপদ মনে করেছিল। ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। ডুবে যাওয়া জাহাজের প্রকৃত কারণ, হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীকে নিজেদের বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ভারত। বুধবার এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এ ধরনের তথ্য সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক উপদেষ্টা ডগলাস ম্যাকগ্রেগর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্ক–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে মার্কিন নৌবাহিনী হয়তো ভারতের বন্দর ব্যবহার করছে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ প্রেক্ষাপটে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, টেলিভিশন নেটওয়ার্কটিতে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারতীয় বন্দর ব্যবহারের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।” এদিকে অভিযোগের সময়কালটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, একই সময়ে ইরান–এর একটি যুদ্ধজাহাজ সাবমেরিন হামলার শিকার হয়ে ডুবে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মহড়া শেষে ফেরার পথে জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় হামলার মুখে পড়ে। ঘটনাটি ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, তারা কোনো বিদেশি সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড বা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। সূত্র: আল জাজিরা
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক পারমাণবিক নিরাপত্তার ওপর ক্রমবর্ধমান হুমকি সৃষ্টি করছে। মঙ্গলবার ব্রুনেই দারুসসালামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ল্যাভরভ উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কৌশল ইরানকে শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্ররোচিত করতে পারে। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ একটি দেশের শান্তিপূর্ণ অধিকার, যা অন্য রাষ্ট্রও ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি এটি ইরান থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে ইরান শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। তিনি সতর্ক করেছেন, বর্তমান সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন করছে। ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রমকে লক্ষ্যবস্তু করার কারণে পুরো অঞ্চল পারমাণবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছে।