ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার একটি প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫২ জন রিপাবলিকান সিনেটর। ফলে মার্কিন সিনেটে উত্থাপিত ওই প্রস্তাবটি পাস হয়নি। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছিল, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো যাবে না এবং চলমান শত্রুতামূলক কার্যক্রম থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কিন্তু সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে অধিকাংশ রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। তাদের যুক্তি, এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও চলমান সামরিক কৌশলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে ডেমোক্র্যাট ও কিছু সমালোচকের মতে, সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত এবং বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন নেওয়া প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই এই ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলো। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের নানা মত সামনে আসছে। কেউ কেউ মনে করছেন, খামেনি সচেতনভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন যাতে তাঁর মৃত্যু শিয়া সমাজে প্রতিরোধ ও শহিদত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানি–আমেরিকান শিক্ষাবিদ হুশাং আমিরাহমাদি বলেন, খামেনি সম্ভবত ইচ্ছাকৃতভাবেই নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে রেখেছিলেন। তাঁর মতে, খামেনি এমন অবস্থানে থাকতে চেয়েছিলেন, যাতে মৃত্যুর পর তিনি ইরানের ইতিহাসে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকেন। আমিরাহমাদি আরও বলেন, খামেনি চাইলে অধিক নিরাপদ স্থানে থাকতে পারতেন। তবে তিনি খোলা কমপ্লেক্সে অবস্থান করতেন, যা তাঁর সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকের মতে, খামেনির মৃত্যু তাঁকে শহিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বার্তা বহন করতে পারে। অন্যদিকে সাবেক মার্কিন নৌ গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শক স্কট রিটার ভিন্ন মত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইরানে হামলার প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করে। ইউটিউবে ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ জর্জ গ্যালাওয়ের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিটার বলেন, খামেনির মৃত্যুর ঘটনা ইরানের জনগণের মধ্যে তাঁর প্রতি সমর্থন আরও বাড়াতে পারে। তাঁর মতে, যুদ্ধের ফল নির্ধারণে এই সামাজিক ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রিটার আরও বলেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে খামেনিকে নজরদারিতে রাখার কথা বলেছিলেন এবং হত্যার হুমকির বিষয়েও মন্তব্য করেছিলেন। তবে তিনি শিয়া ধর্মীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রভাব বুঝতে পারেননি বলে মত দেন এই বিশ্লেষক। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিয়া মুসলিম সমাজে তাঁর অবস্থান প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার একনায়কদের বিদায় সচরাচর সসম্মানে হয় না। গাদ্দাফিকে পাওয়া গিয়েছিল নর্দমায়, সাদ্দাম হোসেনকে গর্ত থেকে টেনে বের করেছিল মার্কিন বাহিনী। এমনকি হামাস নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের শেষ মুহূর্তের সঙ্গী ছিল ধুলোবালি আর একটি ভাঙা লাঠি। কিন্তু দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা থাকার পর আয়াতোল্লা আলি খামেনির প্রস্থান কি কেবলই ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সাফল্য, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে খামেনির নিজস্ব কোনো মাস্টারস্ট্রোক? বাঙ্কার প্রত্যাখ্যান ও শাহাদতের পরিকল্পনা সূত্র বলছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন তেহরানে তাঁর বাসভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হয়, তখন উপদেষ্টারা তাঁকে সুরক্ষিত বাঙ্কারে যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু খামেনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। পরিবারসহ নিজের সাধারণ বাসভবনেই অবস্থান করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং ছিল পরিকল্পিত। মৃত্যুর ১২ দিন আগে দেওয়া তাঁর শেষ ভাষণে তিনি কারবালার যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, "আমার মতো কেউ ইয়াজিদের আনুগত্য স্বীকার করবে না।" অর্থাৎ, তিনি আগেই নিজের মৃত্যুর ধরন ঠিক করে নিয়েছিলেন। মৃতপ্রায় আন্দোলনে নতুন প্রাণের সঞ্চার খামেনি জানতেন, বাঙ্কারে লুকিয়ে মারা যাওয়া মানে পরাজয়। আর প্রকাশ্য হামলায় মৃত্যুবরণ করলে তা হবে ‘শাহাদত’। ঠিক তা-ই হয়েছে। যে ইরানে কিছুদিন আগেও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ হচ্ছিল, খামেনির মৃত্যুর পর সেখানে এখন শোকের ঢল। ঝিমিয়ে পড়া ইসলামি বিপ্লবী আন্দোলন যেন নতুন সঞ্জীবনী মন্ত্র খুঁজে পেয়েছে। ক্ষমতার রদবদল ও কট্টরপন্থীদের উত্থান খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপন্থীদের সরিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে শুরু করেছে কট্টরপন্থীরা। অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে আলিরেজা আরাফির নাম উঠে আসার পাশাপাশি খামেনির পুত্র মোজতবা খামেনির পরবর্তী সুপ্রিম লিডার হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। এমনকি খামেনির নিজের জারি করা ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ’ সংক্রান্ত ফতোয়াটিও এখন বাতিলের পথে, যা ইরানকে পুরোদস্তুর পারমাণবিক শক্তিতে রূপান্তরের পথ প্রশস্ত করতে পারে। অস্থিতিশীল পশ্চিম এশিয়া খামেনির এই ‘পরিকল্পিত’ প্রস্থান শিয়া বিশ্বকে উস্কে দিয়েছে। পাকিস্তান থেকে ইরাক—সর্বত্র মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থে আঘাত হানছে বিক্ষোভকারীরা। হিজবুল্লাহ এবং হাউথিরা নতুন করে হামলা শুরু করেছে। সব মিলিয়ে, নিজের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ইরানের নড়বড়ে শাসনব্যবস্থাকে আরও কয়েক দশকের অক্সিজেন দিয়ে গেলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনি। তিনি বাঙ্কারে বসে মর্যাদাহীন মৃত্যু নয়, বরং নিজের আদর্শকে টিকিয়ে রাখতে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার যে চিত্রনাট্য লিখেছিলেন, তা বর্তমানে সফল বলেই মনে হচ্ছে।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় দেশটির প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ইরান। সৌদি আরবে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে জানান, "আমরা সৌদি আরবের বারবার দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করি। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সৌদি আরবের আকাশসীমা, জলসীমা বা কোনো ভূখণ্ড ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না।" মূলত যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। সৌদি আরব শুরু থেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের কোনো সামরিক অভিযানে তাদের ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে রিয়াদের এই অবস্থানকে তেহরান একটি ইতিবাচক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।