আন্তর্জাতিক

সেরা তরুণ বিজ্ঞানীর আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পেলেন বাংলাদেশের অনন্যা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১১:৪৪
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা | ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা | ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর প্রথম ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা। কর্মজীবনের শুরুতেই বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখছেন এবং ভবিষ্যতে নিজেদের ক্ষেত্রকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারেন, এমন গবেষকদের নিয়ে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বের শত শত খ্যাতিমান বিজ্ঞানীর মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা অনন্য এই তালিকায় অনন্যাসহ বিশ্বের মাত্র ২৮ জন তরুণ গবেষক স্থান পেয়েছেন, যারা বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা করছেন।

 

মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের সমাধান খোঁজা তনিমা তাসনিম অনন্যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় হচ্ছে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল বা অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর। ঢাকায় বেড়ে ওঠার সময় লোডশেডিংয়ের রাতে আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে থাকার মুগ্ধতা থেকেই মূলত তাঁর মহাবিশ্ব নিয়ে কৌতূহলের জন্ম হয়।

 

অনন্যার বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর মায়ের একটি অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা রয়েছে। তাঁর বয়স যখন মাত্র পাঁচ বা ছয় বছর, তখন বাংলাদেশের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠার সময় তাঁর গৃহিণী মা খবরের কাগজে মঙ্গল গ্রহে মার্স পাথফাইন্ডার মিশনের সফলতার খবর পড়ে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। মায়ের সেই আনন্দ ও আলোচনা ছোট্ট অনন্যার মনে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে এই পৃথিবীর বাইরেও এক বিশাল ও বিস্ময়কর জগৎ রয়েছে। সেই কৌতূহলই পরবর্তীতে তাঁকে কৃষ্ণগহ্বর গবেষণার জগতে নিয়ে আসে।

 

আমাদের মায়াপথ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে থাকা ‘স্যাজিটেরিয়াস এ*’ নামক শান্ত সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলটি অতীতে কতটা সক্রিয় ছিল এবং কীভাবে এটি পুরো ছায়াপথকে প্রভাবিত করে, তা অনন্যার গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয়। যেসব সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল দ্রুতগতিতে পদার্থ গ্রাস করে ‘অ্যাকটিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস’ বা এজিএন সৃষ্টি করে, সেগুলোকে বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি। এই ব্ল্যাকহোলগুলোকে ঘিরে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল বলয় বা ‘টোরাস’ অনেক সময় পর্দার মতো কাজ করে আসল অংশকে আড়াল করে রাখে, যা সরাসরি দেখা কঠিন।

 

জটিল এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে অনন্যা দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত রশ্মি এবং এক্সরে পর্যবেক্ষণ একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, ব্ল্যাকহোলকে আড়াল করে রাখা টোরাসের আকার ও অবস্থান মূলত ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণই নিয়ন্ত্রণ করে। সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে অনন্যা জানান, এই দানবাকার কৃষ্ণগহ্বর এবং তারা যে ছায়াপথে অবস্থান করে, দুটিই সম্ভবত একসঙ্গে বিবর্তিত হয়। তবে এদের এই গভীর সম্পর্কের অনেক দিকই এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যে ঘেরা রয়েছে।

 

সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ছবি:সংগৃহীত
রোহিঙ্গা সংকটে ২৫.২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের নতুন সহায়তা, বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের কারণে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ২৫ দশমিক ২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের নতুন মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই সহায়তা খাদ্য, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আশ্রয় ও সুরক্ষা সেবাকে আরও জোরদার করবে।   সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।   চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং ইউএনএইচসিআর-এর ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসোনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল উপস্থিত ছিলেন।   নতুন অর্থায়নের আওতায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির এবং আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা এবং সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে নারী, শিশু, প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনের প্রতি।   ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এটি একটি বহু-বছর মেয়াদি অর্থায়ন, যার ফলে প্রতি বছর নতুন করে অর্থ বরাদ্দের অনিশ্চয়তা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে মানবিক সেবাগুলো পরিচালনা করা সহজ হবে। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটে টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়, এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের বিষয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে অসাধারণ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে এবং এই দায়িত্ব পালনে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।   অস্ট্রেলিয়া সরকার জানায়, এই সহায়তা দেশটির ঘোষিত ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তিন বছর মেয়াদি বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক সংকটের পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্যও অর্থ বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে।   অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য দেশটি এখন পর্যন্ত ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হলো।   সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার এই ঘোষণা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে তারা মনে করেন, শুধু মানবিক সহায়তা নয়, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   বাংলাদেশ সরকারও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৭:২৩
তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইসরাইল, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪৬.৫ ডিগ্রিতে

তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইসরাইল, তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে ৪৬.৫ ডিগ্রিতে

গ্রিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নি হত ২

গ্রিসে দাবানল নেভাতে গিয়ে আকাশে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ, নি হত ২

মুসলিমদের জালিমের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা

মুসলিমদের জালিমের পক্ষ নেওয়া উচিত নয়, প্রতিবেশী দেশগুলোকে ইরানের বার্তা

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ | ছবি: সংগৃহীত
বেনজীরের তথ্য কেন প্রকাশ করছে না দুবাই পুলিশ

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তির খবর প্রকাশের পর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানতে দুবাই পুলিশকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। দুবাই পুলিশ বলছে, এ ধরনের মামলার তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা তাদের নীতির মধ্যে পড়ে না। রোববার (২ আগস্ট) দুবাই পুলিশ জেনারেল হেডকোয়ার্টার্স এক অনুসন্ধানের জবাবে জানায়, ব্যক্তিগত বা বিচারাধীন মামলার বিষয়ে তারা প্রকাশ্যে কোনো তথ্য দেয় না। যদি এ ধরনের তথ্য প্রয়োজন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকটাত্মীয়কে নির্ধারিত পুলিশ স্টেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করতে হবে। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৭ জুলাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি আদালত বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে ৩০ জুলাই প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে জামিন পেলেও তার ওপর কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না এবং তার পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের মুক্তির বিষয়ে তারা এখনো দুবাই কর্তৃপক্ষ বা ইন্টারপোলের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়নি। তাই সরকারি পর্যায়ে বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, তারাও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি হাতে পায়নি। এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল’ ফার্ম) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আদালতের সার্টিফায়েড আদেশ সংগ্রহের পর জামিন বাতিলের আবেদন করা হবে বলে তিনি জানান। উল্লেখ্য, দুদকের করা দুর্নীতির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছিল। গত ১২ জুন দুবাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে তার আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিল। এরপর প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে শর্তসাপেক্ষে তার জামিন মঞ্জুর করা হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১২:৪৪
মলের ছত্রাকের টাইমল্যাপস ভিডিও বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আলফ্রেড। ছবি: সংগৃহীত

মলের ছত্রাকের ভিডিও বানিয়ে আলোচনায় স্কটল্যান্ডের তরুণ গবেষক

মরক্কো থেকে স্পেনের সিউটায় প্রবেশের পর রাস্তায় ও পার্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো অভিবাসী। ছবি: সংগৃহীত

মরক্কো থেকে সিউটায় ঢল, অনিশ্চয়তায় হাজারো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ

ভুলবশত বসবাসের অনুমতি দেওয়ায় ইইউ নাগরিকদের চিঠি পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস। ছবি: সংগৃহীত

ভুলবশত বসবাসের অধিকার দেওয়া হয়েছিল, হাজারো নাগরিকদের চিঠি পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্যের হোম অফিস!

লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্র্যাজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল। ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে ৪০০টি চাকরির আবেদন করেও কাজ পাননি তরুণ আইটি গ্রেজুয়েট ধ্রুভ নাথালাল!

যুক্তরাজ্যে গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি চাকরির জন্য আবেদন করেও কাজ পাননি এক তরুণ। তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার সিকিউরিটিতে পড়াশোনা শেষ করার পরও চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের বাস্তব চাকরির বাজারের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে পারছে না।   ধ্রুভ নাথালাল নামের ওই তরুণ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে কলেজের দুটি কোর্স সম্পন্ন করার পর গত ১২ মাস ধরে তিনি খুচরা বিক্রয় (রিটেইল), আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) এবং বিভিন্ন এন্ট্রি-লেভেলের চাকরির জন্য ধারাবাহিকভাবে আবেদন করে আসছেন। তবে শত শত আবেদন পাঠিয়েও একটি চাকরির প্রস্তাব পাননি।   ধ্রুভ বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারণ তার বিশ্বাস ছিল না যে শুধুমাত্র একটি ডিগ্রি চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। তার দাবি, তিনি এমন অনেক তরুণকে দেখেছেন, যারা ভালো ফলাফল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জনের পরও দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না।   তার মতে, স্কুল ও কলেজে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা, নিয়োগ প্রক্রিয়া, সিভি তৈরি, সাক্ষাৎকার দক্ষতা এবং চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা দেওয়া হয় না। ফলে পড়াশোনা শেষ করেই অনেক তরুণ বাস্তবতার সঙ্গে বড় ধরনের ব্যবধানের মুখোমুখি হচ্ছেন।   যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস এর সর্বশেষ তথ্যও দেশটির তরুণদের কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জের চিত্র তুলে ধরেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় ১৬ শতাংশ বর্তমানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে শ্রমবাজার, উৎপাদনশীলতা এবং তরুণদের আর্থিক নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।   কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু একাডেমিক যোগ্যতা নয়, বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ ক্ষমতা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রশিক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।   ধ্রুভর অভিজ্ঞতা এখন যুক্তরাজ্যের অনেক তরুণের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। শত শত আবেদন করেও চাকরি না পাওয়ার ঘটনা তরুণদের মধ্যে হতাশা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নীতির কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১০:২৫
গাজার আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ১৫ মাস বয়সী শিশু জায়েদ নোফাল। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধে তিন সন্তানকে হারানোর পর এবারের হামলায় সদ্য জন্ম নেয়া সন্তানকেও হারালেন ফিলিস্তিনি মা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে সিআইএ ও মোসাদের যৌথ অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

মোজতবা খামেনিকে হন্যে হয়ে খুঁজছে সিআইএ ও মোসাদ

রানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান

'দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণই', ইরানিদের বীর আখ্যা পেজেশকিয়ানের

0 Comments