আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে ভয়াবহ শিশু পাচারকারী চক্রের পর্দা ফাঁস, হাসপাতালের মালিকসহ গ্রেফতার ৯

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১২:১৩
ছবি: এনডিটিভি
ছবি: এনডিটিভি

ভারতের রাজধানী শহর দিল্লিতে অভাবী ও অসচ্ছল দম্পতিদের সদ্যজাত শিশুদের চড়া দামে বিক্রি করার একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ও অমানবিক ‘শিশু বাজার’ চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। মাত্র চার থেকে পাঁচ দিন বয়সী নবজাতকদের দরিদ্র পরিবার থেকে নামমাত্র মূল্যে সংগ্রহ করে সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করত এই চক্রটি। মধ্য দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকায় এক নারীর সন্দেহজনক চলাফেরা এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর ছদ্মবেশে এক মহিলা পুলিশ কর্মকর্তার সাঁড়াশি অভিযানে এই বহুল আলোচিত শিশু পাচারকারী সিন্ডিকেটের পর্দা ফাঁস হয়।

 

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি দিল্লিতে রীতিমতো একটি নির্দিষ্ট মূল্যের শিশু বাজার গড়ে তুলেছিল। বাজারে একটি কন্যাসন্তান বা মেয়ে শিশু বিক্রি হতো তিন থেকে চার লাখ টাকায় এবং একটি পুত্রসন্তান বা ছেলে শিশু বিক্রি হতো ছয় থেকে আট লাখ টাকায়। তবে চক্রটি এই শিশুদের রাজস্থান ও গুজরাটের চরম দরিদ্র দম্পতিদের কাছ থেকে মাত্র এক থেকে দুই লাখ টাকায় কিনে আনত বা চুরি করত। পরবর্তীতে মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানার বিত্তশালী কিন্তু সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে এগুলো চড়া দামে হস্তান্তর করা হতো।

 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পশ্চিম দিল্লির রোহিনীর বেগমপুরে অবস্থিত ‘হিরার মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’ ছিল এই পুরো পাচার চক্রের মূল নার্ভ সেন্টার বা প্রধান আস্তানা। ওই হাসপাতালের মালিক ডা. বিবেকী ছিলেন এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি। পাচারকারীরা শিশুদের সংগ্রহ করে ডা. বিবেকীর হাসপাতালেই লুকিয়ে রাখত। ডা. বিবেকী নিজেই ক্রেতা ও পাচারকারীদের মধ্যে মধ্যস্থতা করতেন এবং তার হাসপাতালে জন্ম সনদ, ডেলিভারি ডকুমেন্টসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় সরকারি নথিপত্র জালিয়াতি করে তৈরি করা হতো, যাতে মনে হয় শিশুরা ওই হাসপাতালেই জন্মেছে।

 

চক্রটির প্রতারণার কৌশল এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তারা একবার পুত্রসন্তান প্রত্যাশী এক দম্পতির কাছে একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে শিশুকে সম্পূর্ণ ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে ‘যমজ শিশু’ সাজিয়ে মোট নয় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়। অথচ উদ্ধার হওয়া ওই শিশু দুটি ভিন্ন ভিন্ন রাজ্য থেকে পাচার করে আনা হয়েছিল। গত এক বছরে এই সিন্ডিকেটটি অন্তত ৩০টি নবজাতক পাচার করেছে বলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই হরিয়ানা ও মধ্যপ্রদেশ থেকে অবৈধভাবে শিশু কেনা বেশ কয়েকজন দম্পতিকেও গ্রেফতার করেছে।

 

দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং জানিয়েছেন, এই বহুমাত্রিক অভিযানে এখন পর্যন্ত মূল পরিকল্পনাকারী কমলেশ, প্রতিভা, ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারসহ মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে উদ্ধার হওয়া শিশুদের প্রকৃত বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে। যদি কোনো পরিবার স্বেচ্ছায় বা টাকার লোভে নিজের সন্তানকে পাচারকারীদের হাতে তুলে দিয়ে থাকে, তবে সেই বাবা-মাকেও এই মানবপাচার আইনের মামলায় কঠোরভাবে অভিযুক্ত করা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

 

টানা দুই সপ্তাহের এই বিশেষ নিরবচ্ছিন্ন অভিযানে পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচটি নবজাতক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে, যাদের সবার বয়সই এক মাসেরও কম। উদ্ধার হওয়া এই ভাগ্যাহত শিশুদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি’ (সিডব্লিউসি)-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে শিশুরা সিডব্লিউসি-র বিশেষ পালনা কেন্দ্রে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। এই চক্রটি ভাঙার পেছনে সাব-ইন্সপেক্টর প্রগতি, যামিনী এবং হেড কনস্টেবল সুষমা নামের তিনজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা ছদ্মবেশে অত্যন্ত সাহসী ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

 

সূত্র: এনডিটিভি

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ইউক্রেনে সবজি বিক্রেতাকে লক্ষ্য করে রুশ ড্রোন হামলা
ইউক্রেনে সবজি বিক্রেতাকে লক্ষ্য করে রুশ ড্রোন হামলা, ভিডিও ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি খেরসন শহরের একটি বাজার এলাকায় ঘটে। পরে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি প্রকাশ করলে সেটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম যাচাই করে। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ৫২ বছর বয়সী এক সবজি বিক্রেতা নিজের গাড়ি থেকে সবজি নামানোর সময় একটি রুশ চালকবিহীন উড়োজাহাজ তাকে অনুসরণ করতে থাকে।   প্রাণ বাঁচাতে তিনি গাড়ির চারপাশে দৌড়ানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে উড়োজাহাজটি তার খুব কাছে বিস্ফোরিত হলে তিনি আহত হন।বিস্ফোরণের ধাতব খণ্ড তার পা ও পিঠে বিদ্ধ হয়। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে থাকা তার স্ত্রী অক্ষত ছিলেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ঘটনাকে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। দেশটির প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সাধারণ নাগরিককে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই হামলার সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রাশিয়া এ ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মস্কো বারবার দাবি করে আসছে, তারা সাধারণ নাগরিককে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। অন্যদিকে ইউক্রেন বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে খেরসনসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের ওপর চালকবিহীন উড়োজাহাজের হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ইউক্রেনে সাধারণ মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। এসব হতাহতের বড় একটি অংশ ঘটেছে চালকবিহীন উড়োজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১৯:৫১
মালয়েশিয়ায় শ্রমিক সংকট নিরসনে ১৫ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্দেশ

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক সংকট নিরসনে ১৫ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নির্দেশ

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করছে উত্তর কোরিয়া I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েন করছে উত্তর কোরিয়া, বাড়ছে উদ্বেগ

কুকুর। ছবি:সংগৃহীত

প্রচণ্ড গরম থেকে বাঁচতে কুকুরের মাংস খাওয়ার পরামর্শ উত্তর কোরিয়ায়

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ছবি:সংগৃহীত
ট্রাম্পের নজরদারির মধ্যেই রাশিয়ার প্রভাব কমছে পুতিনের? নতুন বিশ্লেষণ

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে গেলেও, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মস্কোর দীর্ঘদিনের প্রভাববলয় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে—এমন দাবি উঠে এসেছে মার্কিন সাময়িকী নিউজউইক এ প্রকাশিত একটি মতামতধর্মী নিবন্ধে। তবে এটি সংবাদ প্রতিবেদন নয়; লেখকের বিশ্লেষণ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত একটি *Opinion* নিবন্ধ।    নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ার কয়েকটি ঐতিহ্যগত মিত্র ও প্রভাবাধীন অঞ্চলে মস্কোর অবস্থান আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। একই সময়ে অর্থনৈতিক চাপ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ রাশিয়ার বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলে লেখকের দাবি।    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদকালে এসব পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবু বাস্তবে মস্কোর দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে মধ্য এশিয়া, ককেশাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু অংশে আগের মতো প্রভাব বজায় রাখাও মস্কোর জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে লেখকের মূল্যায়ন।    তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, রাশিয়ার বৈশ্বিক প্রভাব কমছে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক জোটগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থানের ওপর এ বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করবে।   নিউজউইকে প্রকাশিত নিবন্ধটি মূলত লেখকের বিশ্লেষণ ও মতামত। তাই এতে উত্থাপিত মূল্যায়নকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য বা সরকারি অবস্থান হিসেবে নয়, বরং চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৭:৩২
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ। ছবি:সংগৃহীত

মোদির ভিডিও সরানো নিয়ে মেটাকে ৩ দিনের আলটিমেটাম, জাকারবার্গের প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি ভারতের

কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক রাতভর হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪ জন আহত। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত অন্তত ১৭, আকাশ প্রতিরক্ষার সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ রেল সংযোগের লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী রেলপথ পুনরায় চালু করছে দক্ষিণ কোরিয়া। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রেল সংযোগের আশায় পুরোনো প্রকল্প ফের চালু করছে দক্ষিণ কোরিয়া

শ্রীলঙ্কায় টানা ভারি বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, বন্ধ পাহাড়ি এলাকার স্কুল

শ্রীলঙ্কায় টানা ভারি বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দেশটির মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, দেশটির চা উৎপাদনকারী পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এই অঞ্চল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।   দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনায় দুটি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।   তিনি আরও জানান, প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   বন্যার পানিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনী কাজ করছে। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম হিরু টিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনাসদস্যরা পানিতে ডুবে যাওয়া সড়ক দিয়ে হেঁটে আটকে পড়া পরিবারগুলোকে উদ্ধার করছেন।   মধ্যাঞ্চলের নুয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লা জেলা পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় বর্ষাকালে দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের স্যাঁতসেঁতে ঢাল ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।   এর আগে ২০২৫ সালের শেষ দিকেও শ্রীলঙ্কা একই ধরনের ভয়াবহ দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহের প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় চা উৎপাদনকারী ওই অঞ্চলে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই সময় দেশজুড়ে স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছিল।   আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর স্কুল কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৩:২০
হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো বিশেষ অধিকার নেই

পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো বিশেষ অধিকার নেই: শাহরিয়ার কবির

রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নি হত ৫

রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নি হত ৫

0 Comments