শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, বন্ধ পাহাড়ি এলাকার স্কুল
শ্রীলঙ্কায় টানা ভারি বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দেশটির মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার স্কুলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, দেশটির চা উৎপাদনকারী পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এই অঞ্চল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানান, মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসের ঘটনায় দুটি বাড়ি মাটির নিচে চাপা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া বন্যার পানিতে ডুবে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রবল বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যার পানিতে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও স্থলবাহিনী কাজ করছে। স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম হিরু টিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সেনাসদস্যরা পানিতে ডুবে যাওয়া সড়ক দিয়ে হেঁটে আটকে পড়া পরিবারগুলোকে উদ্ধার করছেন।
মধ্যাঞ্চলের নুয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লা জেলা পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় বর্ষাকালে দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকে। টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের স্যাঁতসেঁতে ঢাল ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের শেষ দিকেও শ্রীলঙ্কা একই ধরনের ভয়াবহ দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় দিতওয়াহের প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় চা উৎপাদনকারী ওই অঞ্চলে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ওই সময় দেশজুড়ে স্কুল ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছিল।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর স্কুল কবে আবার চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreভারতে বিয়ের জন্য ৫০ লাখ রুপি খরচের পরিকল্পনা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে পড়েছেন এক যুবক। তার বাবা-মা বিয়ের আয়োজনের জন্য প্রায় ৪৫ লাখ রুপি ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবকের পরিবার বিয়েতে প্রায় ৫০ লাখ রুপি খরচ করতে চায়। সেই খরচ মেটাতে তাকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে ৪৫ লাখ রুপি ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি বিয়ের আয়োজনের পরিমাণ এবং এত বড় আর্থিক দায় নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। বিয়ের মতো একটি অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা নেওয়ার বিষয়টি নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৪৫ লাখ রুপি ঋণ নিলে শুধু মূল অর্থ নয়, ঋণের সুদও পরিশোধ করতে হবে। ফলে বিয়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে ওই ঋণের কিস্তি বহন করতে হতে পারে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ব্যবহারকারী যুবকটিকে এত বড় ঋণ নেওয়ার আগে আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলেও ঋণের দায় থেকে যায় দীর্ঘদিন। তবে বিয়েতে কত টাকা খরচ করা উচিত, তা পরিবার, আয় এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে। একই সঙ্গে বড় আয়োজনের জন্য ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মাসিক কিস্তি, সুদের হার, আয় এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতে বিয়েকে ঘিরে বড় অঙ্কের ব্যয় নতুন কোনো বিষয় নয়। ভেন্যু, খাবার, পোশাক, গয়না, সাজসজ্জা ও অতিথি আপ্যায়নসহ নানা খাতে খরচ বাড়তে পারে। এর সঙ্গে পারিবারিক প্রত্যাশা যুক্ত হলে অনেকের জন্য বিয়ের বাজেট আরও বড় হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে ঘিরে অনলাইন আলোচনায় তাই শুধু ৫০ লাখ রুপির বিয়ের বাজেট নয়, পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক চাপ এবং বিয়ের পরের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ওই যুবক বিয়ের পরিকল্পনা কীভাবে এগিয়ে নেবেন বা ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন কি না, তা জানা যায়নি।
'আজ টাকা আছে, আগে ছিল না', স্ত্রীর জন্য আইফোন ১৮ প্রো কিনতে স্বর্ণ বিক্রি
দুবাইয়ের সমুদ্রে বিদেশিদের উত্যক্ত, বাংলাদেশি প্রবাসীর ভিডিও ঘিরে সমালোচনা
নারীর পাকস্থলী থেকে বের হলো ১৪ কলম, ৫ কাঠের চামচ ও মোমবাতি
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে বহুল আলোচিত এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, চুক্তির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না, অথচ গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করবে ওয়াশিংটন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিপক্ষ দেশ সেখানে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে বা সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। অন্যদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি প্রকাশ না করলেও জানিয়েছেন, এটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের যৌথ নিরাপত্তাকে আরও সুসংহত করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, চুক্তিটি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে পূর্ণ স্বীকৃতি দেয়। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে দ্বীপটি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যাপারে সরব ছিলেন, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘে হতে যাওয়া এই চুক্তিকে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মাঝে একটি বড় সমঝোতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়
সিমেন্টের বদলে মানুষের মল ব্যবহার, ৪২% বেশি শক্তিশালী কংক্রিট বানালেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা
সৌদি তেল সরবরাহ বন্ধে ইউরোপে নতুন সংকট, বিকল্পের সন্ধানে শোধনাগারগুলো
জার্মানি যাওয়ার পথে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তাঁকে বহনকারী উড়োজাহাজ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) এ তথ্য জানিয়েছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির। বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শেরিং তোবগের জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইউএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান প্রায় ৪৫ মিনিটের হওয়ার কথা। এরপর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁর জার্মানির উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউনও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে একই তথ্য প্রকাশ করেছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই যাত্রাবিরতিকে ঘিরে বাংলাদেশ সরকার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। বাংলাদেশ সরকারের সরকারি গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৭ সেপ্টেম্বর একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে ১৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সফরকালীন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফলে এটি কেবল একটি সাধারণ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ট্রানজিট ছিল না; একজন সরকারপ্রধানের যাত্রাবিরতি হিসেবে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিমানবন্দরে বাংলাদেশের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিও সেই আনুষ্ঠানিকতার অংশ।শেরিং তোবগে ভুটানের একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা এবং বর্তমানে দেশটির প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে। বাংলাদেশ ও ভুটানের সম্পর্কেরও দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসেও ভুটানের বিশেষ অবস্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুটান প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি। সেই সময় থেকে ঢাকা ও থিম্পুর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে। পরবর্তী দশকগুলোতে বাণিজ্য, শিক্ষা, পর্যটন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ বিস্তৃত হয়েছে। দুই দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব রয়েছে। স্থলবেষ্টিত ভুটানের জন্য বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ভুটানের জলবিদ্যুৎ খাতের সম্ভাবনার দিকে নজর রেখে আসছে। আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যের মাধ্যমে ভুটান থেকে পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা বাংলাদেশ-ভুটান সম্পর্কের অন্যতম আলোচিত ক্ষেত্র। শেরিং তোবগের এবারের ঢাকায় অবস্থান অবশ্য পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফর নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সরকারি ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যে বিমানবন্দরে অবস্থানকালে দুই দেশের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা জানানো হয়নি। তাই এই যাত্রাবিরতিকে নতুন কোনো চুক্তি বা রাজনৈতিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার মতো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে অবস্থানের সময় নিয়ে সামান্য পার্থক্যও দেখা যাচ্ছে। ইউএনবি ও যমুনা টেলিভিশন প্রায় ৪৫ মিনিটের যাত্রাবিরতির কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে বাংলা ট্রিবিউন এটিকে প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে ইউএনবি যে তথ্য দিয়েছে, তাতে প্রায় ৪৫ মিনিটের কথাই বলা হয়েছে। আজকের ঘটনাটি আরেকটি কারণেও উল্লেখযোগ্য। সাম্প্রতিক সময়ে ভুটানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঢাকায় এটি দ্বিতীয় যাত্রাবিরতি বলে একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে গত ২৬ আগস্ট ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুক সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছিলেন। সেই যাত্রাবিরতির সময় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে ভুটানের রাজার সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল বলে একুশে টেলিভিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের ঢাকা হয়ে আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাত্রা দুই প্রতিবেশী দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের আরেকটি ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। তবে শুক্রবারের যাত্রাবিরতির ক্ষেত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মূল বিষয় ছিল জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকার বিমানবন্দর ব্যবহার এবং সেখানে স্বল্প সময় অবস্থান। বাংলাদেশ ও ভুটান উভয়ই দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামোর সদস্য। দুই দেশ সার্ক ও বিমসটেকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে একসঙ্গে কাজ করে। জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং জ্বালানি সহযোগিতার মতো ক্ষেত্রেও ঢাকা ও থিম্পুর স্বার্থের মিল রয়েছে। বিশেষ করে ভুটানের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের বিপুল সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার কারণে জ্বালানি সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি স্থলসীমান্ত না থাকায় ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালনের বিষয়টি এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য, তৈরি পোশাক, ওষুধ ও কৃষিপণ্য ভুটানের বাজারে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিপরীতে ভুটান থেকে পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে আসে। যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হলে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। পর্যটনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য যোগাযোগ রয়েছে। পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য ভুটান বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্য। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশের নাগরিক পর্যায়ে যোগাযোগ রয়েছে। এই বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে শেরিং তোবগের শুক্রবারের সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি ছোট ঘটনা হলেও কূটনৈতিকভাবে দৃশ্যমান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো এবং আগের দিন তাঁকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা এর আনুষ্ঠানিক গুরুত্ব তুলে ধরে।
পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদে বো মা হা ম লা, নি হত অন্তত ১৬
পর কীয়ার অভিযোগে প্রেমিক যুগলকে ১০০ বেত্রা ঘাত, ব্যথায় মাটিতে লুটিয়ে নারী