আমেরিকা

৪০ হাজার থেকে আড়াই লাখ ডলারের আয়, ক্যারিয়ার পরিবর্তনে বদলে গেল এক বাংলাদেশি অভিবাসীর জীবন

Unknown প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১২:৪৭
ছবি: এ আই
ছবি: এ আই

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করা অনেক অভিবাসীর মতোই রেহমানের (ছদ্মনাম) যাত্রাও সহজ ছিল না। উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ২০১২ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। দেশে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেও নতুন দেশে এসে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পাওয়া তার জন্য সহজ ছিল না।

 

প্রথম দিকে তিনি একটি স্বল্প বেতনের চাকরিতে যোগ দেন। বার্ষিক আয় ছিল ৪০ হাজার ডলারেরও কম। সেই আয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করাই ছিল কঠিন। অন্যদিকে বাংলাদেশে থাকা স্বজনদের আর্থিক সহায়তা করার সুযোগও ছিল সীমিত। প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধের মধ্যেই তিনি উপলব্ধি করেন, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও পেশাগত উন্নতির জন্য নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন।

 

এরপর তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেন। বিভিন্ন সম্ভাবনাময় পেশা নিয়ে গবেষণা করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে নিজের ক্যারিয়ারের নতুন গন্তব্য হিসেবে বেছে নেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তিনি একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কয়েক মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত পড়াশোনা ও অনুশীলনের মাধ্যমে নতুন দক্ষতা অর্জনে মনোযোগ দেন।

 

পরিশ্রমের ফল আসতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ২০১৬ সালে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স (কিউএ) অ্যানালিস্ট-২ পদে চাকরির সুযোগ পান। এটিই ছিল তার পেশাজীবনের বড় মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত।

 

নতুন খাতে প্রবেশের পর তিনি ধারাবাহিকভাবে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন বিষয় শিখেছেন, পেশাগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং কর্মক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে তিনি একাধিক স্বনামধন্য ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পান। কর্মজীবনে ধারাবাহিক উন্নতি এবং কৌশলগতভাবে নতুন সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি নেতৃত্ব পর্যায়ে পৌঁছে যান।

 

বর্তমানে তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তার বার্ষিক আয় এখন প্রায় আড়াই লাখ ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে তার কর্মজীবনের শুরুর সময়কার আয়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।

 

তবে রেহমানের সাফল্যের গল্প শুধু আর্থিক উন্নতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি তিনি এখন কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে নতুন বাংলাদেশি অভিবাসীদের দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত প্রস্তুতি এবং মূলধারার কর্মসংস্থানে প্রবেশের বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে থাকেন।

 

অভিবাসী জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে তার এই পথচলা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষতাভিত্তিক পেশাগুলোর চাহিদা বাড়ছে। ফলে পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ, নতুন দক্ষতা অর্জন এবং ধারাবাহিক চেষ্টা অব্যাহত রাখলে অভিবাসীদের জন্য মূলধারার পেশায় সফলতা অর্জনের সুযোগ এখনও রয়েছে।

 

রেহমানের গল্প সেই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে আসে, যেখানে সীমিত আয়ের একটি চাকরি থেকে শুরু করে অধ্যবসায়, দক্ষতা এবং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একজন অভিবাসী নিজের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে সক্ষম হয়েছেন।


বি.দ্র.: প্রতিবেদনটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুরোধে তার প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। গোপনীয়তা রক্ষার্থে প্রতিবেদনে ‘রেহমান’ নামে একটি ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
অফিসে একজন কর্মী।ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাংলাদেশিদের জন্য কোন শহরে কাজ পাওয়া সহজ? প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন শুরু করতে গেলে অনেক অভিবাসীর প্রথম প্রশ্ন থাকে, কোন শহরে থাকলে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে? চাকরি, বাসা, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, হালাল খাবার এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ এসব বিষয়ই নতুনদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নতুন বাংলাদেশিদের জন্য কোন শহর সবচেয়ে উপযোগী, তা নিয়ে প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের প্রায় ৪৪ শতাংশই নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। এ ছাড়া নিউ জার্সি, মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ফ্লোরিডাতেও উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউইয়র্ক সিটিতে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে, আর নিউ জার্সির প্যাটারসনও বাংলাদেশিদের অন্যতম পরিচিত আবাসস্থল।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। কারণ এসব এলাকায় সাধারণত মসজিদ, হালাল রেস্টুরেন্ট, দেশি গ্রোসারি, কমিউনিটি সংগঠন এবং নতুনদের সহযোগিতার জন্য পরিচিত মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে।   তবে কোনো শহরই সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, চাকরির সুযোগ, গণপরিবহন, নিরাপত্তা এবং পারিবারিক প্রয়োজন, এসব বিষয় শহরভেদে ভিন্ন। ফলে একজনের জন্য আদর্শ কোনো শহর অন্যজনের জন্য একই রকম উপযোগী নাও হতে পারে।   এ কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই নতুন অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের মতে, কোনো শহরে যাওয়ার আগে সেখানে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা জানা, স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও শহরের সরকারি তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় নতুন জীবন শুরু করা সবচেয়ে সহজ, এর নির্দিষ্ট কোনো একক উত্তর নেই। তবে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি, প্রয়োজনীয় ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ, এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় রাখলে নতুন অভিবাসীদের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে।

বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৭:২
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ছবি:সংগৃহীত

শেখ হাসিনার পতনের পেছনে ‘গ্যাং অব ফোর’? কী বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

আমেরিকার পাবলিক স্কুল।ছবি:সংগৃহীত

আমেরিকার পাবলিক স্কুলে সন্তানের জন্য ৮টি ফ্রি সুবিধা, যা অনেক বাংলাদেশি অভিভাবক জানেন না

গ্যাং হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নিউইয়র্কের মাউন্ট ভার্নন পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি:সংগৃহীত

নিউইয়র্কে আদালতের বাইরে গ্যাং হামলার চেষ্টার অভিযোগে জড়ালেন

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেও শেয়ারবাজারে বড় ধাক্কা খেল স্পেসএক্স। ছবি: সংগৃহীত
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেও শেয়ারবাজারে ধাক্কা খেল স্পেসএক্স

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে লেনদেন-পরবর্তী সময়ে কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে।    স্পেসএক্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় হয়েছে ৭৮১ কোটি ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ৬৯৩ কোটি ডলার। একই সময়ে কোম্পানির প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে ৯ সেন্ট, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ২৬ সেন্ট লোকসানের। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার কোম্পানির আয় বেড়েছে ৯২ শতাংশ।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের নিট লোকসান হয়েছে ৫৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির লোকসান ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার। আয় বাড়লেও এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে।    কোম্পানির সবচেয়ে শক্তিশালী আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্টারলিংকের গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। পাশাপাশি স্পেসএক্সের এআই বিভাগ থেকেও আয় এসেছে। কোম্পানির তিনটি প্রধান বিভাগ—মহাকাশ কার্যক্রম, সংযোগ সেবা এবং এআই বিভাগ—থেকে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।   তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের মূলধনী ব্যয় বেড়ে প্রায় ১৮৩৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এআই অবকাঠামো তৈরিতে। এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ কমে যায়।    স্পেসএক্স জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এআই সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্টারলিংক সেবা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এআই, মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে বড় বিনিয়োগের বিপরীতে দ্রুত মুনাফা দেখাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ২:৪৩
একা আসা প্রায় ২৪ হাজার অভিবাসী শিশুর আইনি প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পেয়েছে বার্ক ল’ গ্রুপ। ছবি: সংগৃহীত

২৪ হাজার অভিবাসী শিশুর আইনি দায়িত্ব পেল ২৬ কর্মীর একটি আইন প্রতিষ্ঠান

দেউলিয়া হয়ে ৫ আগস্ট থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে সালাদ অ্যান্ড গো'র সব শাখা। ছবি: সংগৃহীত

দেউলিয়া হয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্ধ হচ্ছে সালাদ অ্যান্ড গো'র সব শাখা

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্ধারিত সফরের আগেই তার গলফ ক্লাবে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন আটক। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের গলফ ক্লাবে অস্ত্রসহ সন্দেহভাজন আটক, মিলল রাইফেল ও গুলি

প্রতারণা ঠেকাতে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে নিষিদ্ধ করা হলো সব ক্রিপ্টো এটিএম। ছবি: সংগৃহীত
প্রতারণা ঠেকাতে মিনেসোটায় বন্ধ করা হলো ক্রিপ্টো এটিএম

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আজ (১ আগস্ট) থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি এটিএম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় অঙ্গরাজ্যজুড়ে থাকা সব ক্রিপ্টো এটিএম আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে।   সাধারণ এটিএমের মতো দেখতে হলেও এসব মেশিনে নগদ অর্থ জমা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনা যেত। ব্যবহারকারীরা নগদ অর্থ, ডেবিট কার্ড বা ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারতেন।   অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ক্রিপ্টো এটিএম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে এসব মেশিনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলেও প্রতারণা কমেনি।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মিনেসোটায় ক্রিপ্টো এটিএম-সংক্রান্ত ১৩৪টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে শুধু ২০২৫ সালেই প্রায় ৭০টি প্রতারণার ঘটনায় প্রায় সাড়ে চার লাখ ডলার হারান ক্ষতিগ্রস্তরা।   আইনপ্রণেতাদের শুনানিতে পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক প্রতারণার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে এসব ক্রিপ্টো এটিএম। বিশেষ করে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই প্রতারকরা এসব মেশিন ব্যবহার করছে।   কর্তৃপক্ষের মতে, ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন খুব দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং একবার অর্থ স্থানান্তর হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা বা আটকে দেওয়া অত্যন্ত কঠিন। এ কারণেই প্রতারণা কমাতে অঙ্গরাজ্যজুড়ে ক্রিপ্টো এটিএম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১:৩৪
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান অনুযায়ী নির্মাণ ও খনি খাতের কর্মীদের মধ্যম বার্ষিক আয় ৭৬ হাজার ৭৬০ ডলার। ছবি: সংগৃহীত

ভালো আয়ের খোঁজে কারিগরি পেশা বেছে নিচ্ছেন মার্কিন জেন জেড তরুণরা

যোগ্য পরিবারগুলোর জন্য পুষ্টি কর্মসূচির অধীনে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে দুধ ও শিশু খাদ্যসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় ১০টি জিনিস একেবারে ফ্রি, তবু না জেনে টাকা খরচ করছেন অনেক বাংলাদেশি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী হেলিকপ্টারের নিরাপত্তা প্রোটোকল নিয়ে তদন্ত। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পকে বহনকারী মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টার নিয়ে তদন্তে মার্কিন বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ

0 Comments