আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে এসে মোদীর মুখে নোয়াখালীর দাঙ্গা ও বাংলাদেশ সীমান্ত প্রসঙ্গ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২০, ২০২৬ ১২:৫৪
নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত
নরেন্দ্র মোদী ও শুভেন্দু অধিকারী | ছবি: সংগৃহীত

ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং দেশভাগের পূর্বে অবিভক্ত বাংলার নোয়াখালীর দাঙ্গার প্রসঙ্গ টেনে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে এক মহাসমাবেশে বক্তব্য দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দিনের এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় সফরে শনিবার (২০ জুন) পশ্চিমবঙ্গে আসেন তিনি। মূলত পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে তার এই গুরুত্বপূর্ণ সফর। সফরের প্রথম দিনে তারকেশ্বরে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি এই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক বক্তব্য প্রদান করেন।

 

তারকেশ্বরের ওই জনসভা থেকে ঐতিহাসিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, পরাধীন থাকার সময় ভারতের এই বাংলা অঞ্চল কী পরিমাণ অত্যাচার ও রক্তপাত সহ্য করেছে, তা ইতিহাস সাক্ষী। দেশভাগের আগে ১৯৪৬ সালে কলকাতায় যে ভয়াবহ সহিংসতা হয়েছিল এবং বাংলাদেশের নোয়াখালীতে যে দাঙ্গা হয়েছিল, তাতে কত শত নির্দোষ বাঙালিকে নির্মমভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে। বাংলা নিজের মানুষকে হারিয়েছে এবং নিজের মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছে, কিন্তু নিজের সংস্কৃতি ও পরিচয়কে কখনো নষ্ট হতে দেয়নি।

 

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী মোদী পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে আরও বলেন, অতীতে পুরো বাংলা অঞ্চলকে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করার জন্য একটি সুগভীর আন্তর্জাতিক চক্রান্ত করা হচ্ছিল। তবে তৎকালীন সময়ে ভারতের অংশ হিসেবে আলাদা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৈরি করার মাধ্যমে সেই চক্রান্তকে সফল হতে দেওয়া হয়নি। হাজার বছরের পুরোনো বাঙালি সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং এখানকার মূল আস্থা ও পরম্পরা অনেক লড়াই-আন্দোলনের পর অবশেষে রক্ষা পেয়েছে।

 

এরপর ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন নরেন্দ্র মোদী। তিনি পূর্ববর্তী রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ আগের রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখেছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরপরই সেই জটিলতা কেটে গেছে এবং সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য দ্রুত জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়ে গেছে।

 

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি নিশানা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, যারা বছরের পর বছর ধরে আপনাদের শোষণ ও অত্যাচার করেছে, তারা নিজেরাই এখন এসে আপনাদের কাছ থেকে লুটে নেওয়া জনগণের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছে। রাজ্যের বড় বড় দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের একের পর এক জেলে পাঠানো হচ্ছে। যারা একসময় সিন্ডিকেট রাজ চালাত, তারা এখন জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে এবং অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করা গুন্ডারা ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

 

সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ রোববার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী রেড রোডে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’-এর মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন নরেন্দ্র মোদী। তবে তার এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, যানজটের অজুহাত দেখিয়ে কলকাতার এই রেড রোডে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদের নামাজের জন্য মাত্র কয়েক ঘণ্টার অনুমতি দেয়নি বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ সেই একই রেড রোড আটকে এবার টানা ৭ দিন ধরে যোগ দিবস পালনের আয়োজন করছেন প্রধানমন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ। ছবি:সংগৃহীত
মোদির ভিডিও সরানো নিয়ে মেটাকে ৩ দিনের আলটিমেটাম, জাকারবার্গের প্রকাশ্যে ক্ষমা দাবি ভারতের

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ভিডিও ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে দেশটির সংসদের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।    বিজেপি সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবের নেতৃত্বাধীন কমিটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাকারবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার ‘সেফ হারবার’ আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হতে পারে। ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ ধারার অধীনে থাকা এই সুরক্ষা বাতিল হলে ব্যবহারকারীদের পোস্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মেটাকে সরাসরি আইনি দায়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে।    ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুতে তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া একটি ভিডিও ফেসবুকে সাময়িকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর। সমালোচনার মুখে ভিডিওটি দ্রুত পুনরায় চালু করা হলেও মেটা জানায়, এটি একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে হয়েছিল এবং পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ও সংসদীয় কমিটি সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি।    সংসদীয় কমিটি ঘটনাটিকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত ভুল নয়, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেছে। কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি দেশের নির্বাচিত নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই এ ধরনের ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।    একই বৈঠকে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত অনলাইন কনটেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর কনটেন্ট নিয়েও মেটা, গুগল, ইউটিউব, এক্স ও স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সতর্ক করা হয়। আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৬:৪৫
কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে রাশিয়ার ব্যাপক রাতভর হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪ জন আহত। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভে নিহত অন্তত ১৭, আকাশ প্রতিরক্ষার সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ রেল সংযোগের লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী রেলপথ পুনরায় চালু করছে দক্ষিণ কোরিয়া। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রেল সংযোগের আশায় পুরোনো প্রকল্প ফের চালু করছে দক্ষিণ কোরিয়া

শ্রীলঙ্কায় টানা ভারি বর্ষণের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত সাতজনের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত

শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে ৭ জনের মৃত্যু, বন্ধ পাহাড়ি এলাকার স্কুল

হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা ছাড়বে না ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

হামাস অস্ত্র না ছাড়লে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তিনি বলেন, হামাস পুরোপুরি অস্ত্র ত্যাগ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা থেকে সরে যাবে না।   নেতানিয়াহুর এই বক্তব্যে গাজা যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেখানে হামাসের অস্ত্র ত্যাগ এবং ইসরায়েলের হামলা বন্ধের পাশাপাশি গাজার নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ছিল।   প্রস্তাবিত ওই চুক্তি অনুযায়ী, হামাস অস্ত্র ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করা গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করবে। এই প্রস্তাবটি একটি আগের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল, যা বড় ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করেছিল এবং গাজায় আটক থাকা জিম্মিদের মুক্তির পথ তৈরি করেছিল।   তবে নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো খসড়া প্রস্তাবে ইসরায়েল সম্মতি দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ইসরায়েল নিজেদের মতামত জানিয়েছে এবং হামাস অস্ত্র না ছাড়লে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হবে না।   এদিকে গাজায় ২০২৩ সালের একটি ভয়াবহ হামলায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের পর মঙ্গলবার একটি গণ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের ওই হামলায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। যুদ্ধের কারণে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা অনেক মরদেহ এতদিন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।   গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪০ জন শিশু রয়েছে। আরও ১৫৭ জনের মরদেহ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।   চলমান যুদ্ধবিরতির কারণে গাজার বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মরদেহ উদ্ধারের কাজ কিছুটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে অঞ্চলটিতে এখনো প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বহু মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছে।   ইসরায়েল বলছে, তাদের হামলা হামাসের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে হামাস দাবি করছে, ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করতে হবে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ২:৫৬
পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো বিশেষ অধিকার নেই

পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনার কোনো বিশেষ অধিকার নেই: শাহরিয়ার কবির

রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নি হত ৫

রাশিয়ার বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নি হত ৫

মানহীন হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

মানহীন হওয়ায় ভারতের সাড়ে ১১ হাজার টন চাল ফেরত পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ সংকটে কিউবার পাশে চীন, উপহার দিল ৫,০০০ সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম
বিদ্যুৎ সংকটে কিউবার পাশে চীন, উপহার দিল ৫,০০০ সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম

কিউবার বাড়িঘর ও জরুরি সেবাকেন্দ্রগুলোর জন্য ৫,০০০টি ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম অনুদান দিয়েছে বেইজিং। পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি নতুন সোলার পার্ক নির্মাণের জন্যও দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। কিউবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সরকারি মুখপত্র 'গ্রানমা'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট নাগাদ এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর কাজ ও প্যানেল স্থাপনের প্রক্রিয়া পুরোদমে এগিয়ে চলছে।   তীব্র লোডশেডিং বা ব্ল্যাকআউট এবং জ্বালানি তেলের চরম সংকটে ধুঁকতে থাকা কিউবার জন্য এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীনের দেওয়া এই ২ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেমগুলো মূলত দেশের পলিক্লিনিক, নার্সিং হোম, প্রসূতি সদন এবং প্রত্যন্ত বা বিচ্ছিন্ন অঞ্চলগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্থাপন করা হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর থেকে যেমন চাপ কমছে, তেমনি দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে পারছে। বিশেষ করে যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে জ্বালানি পৌঁছানো কঠিন বা আগে কখনোই বিদ্যুৎ সুবিধা ছিল না, সেখানে এই সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেমগুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে।   চীনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় কিউবার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে প্রায় ১ গিগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। এছাড়া ২০২৮ সালের মধ্যে দেশটিতে আরও ৯২টি নতুন সোলার পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে এই সক্ষমতা ২ গিগাওয়াটে উন্নীত করার বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে সৌর খাতে এত বড় অগ্রগতি সত্ত্বেও কিউবার চরম বিদ্যুৎ ঘাটতি রাতারাতি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে দেশটির মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ১০ শতাংশ আসছে সৌরশক্তি থেকে। জাতীয় গ্রিডের পুরোনো অবকাঠামো এবং ব্যাটারি স্টোরেজের অভাবের মতো নানাবিধ সীমাবদ্ধতা থাকলেও, চীনের এই সৌর সহায়তা কিউবার চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় একটি অত্যন্ত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৩:২২
যুক্তরাষ্ট্রের ধনী নাগরিকদের আয়ু ইউরোপের কিছু দেশের দরিদ্রদের চেয়েও কম হতে পারে বলে গবেষণায় প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ধনী হয়েও ইউরোপের দরিদ্রদের চেয়ে কম বাঁচেন অনেক মার্কিন নাগরিক

স্থানীয় ভাষার সঠিক উচ্চারণ রক্ষায় দেশের নাম পরিবর্তন করল দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু। ছবি: সংগৃহীত

ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে দেশের নাম পরিবর্তন করল নাউরু

মালয়েশিয়ার নেগেরি সেম্বিলান রাজ্যে সহকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিন বাংলাদেশি নিহত। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় সহকর্মীদের সংঘর্ষে তিন বাংলাদেশি নিহত, গ্রেপ্তার একজন

0 Comments