২০২৬ বিশ্বকাপ

উইঙ্গার জেরেমি ডোকু l ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের মাঝপথে পরিবারকে বেছে নেওয়া ডোকু, ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্ক

২০২৬ বিশ্বকাপের মাঝপথে বেলজিয়ামের তারকা উইঙ্গার জেরেমি ডোকুর একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথম সন্তানের জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকার জন্য তিনি সাময়িকভাবে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়েছেন, যা নিয়ে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।   বেলজিয়াম ফুটবল ফেডারেশনের অনুমতি নিয়েই ডোকু স্বল্প সময়ের জন্য ক্যাম্প ত্যাগ করেন। ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, খেলোয়াড়ের যাতায়াত ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।   তবে বিষয়টি সামনে আসার পর ইউরোপীয় ক্রীড়ামাধ্যমগুলোতে বিতর্ক শুরু হয়। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, বিশ্বকাপের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে খেলোয়াড়দের পূর্ণ মনোযোগ দলের ওপর থাকা উচিত। তাদের মতে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ক্যাম্প ত্যাগ করা দলীয় প্রস্তুতি ও মনোসংযোগের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   অন্যদিকে ডোকুর সমর্থকেরা বলছেন, সন্তানের জন্ম একজন মানুষের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়িত্বকেও ক্রমশ বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে পরিবারের পাশে থাকার সিদ্ধান্তকে অনেকেই মানবিক ও স্বাভাবিক বলে মনে করছেন।   ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’-এর এক টেলিভিশন আলোচনায় ডোকুর সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা হয়। সেখানে মন্তব্য করা হয়, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। ওই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।   এরপর অসংখ্য ফুটবল সমর্থক ডোকুর পক্ষে অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, একজন খেলোয়াড়ের পেশাদার পরিচয়ের পাশাপাশি তার পারিবারিক দায়িত্বও রয়েছে, যা অস্বীকার করা যায় না।   ডোকু বেলজিয়ামের হয়ে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ছিলেন এবং ৮৬ মিনিট পর্যন্ত খেলেন। তবে পারিবারিক কারণে সাময়িক অনুপস্থিতির ফলে ইরানের বিপক্ষে দলের পরবর্তী ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   ডোকুর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে চলমান আলোচনা বিশ্বকাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে পেশাদার ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক দায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার চাপের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
মেসির জন্য খেলবে আর্জেন্টিনা, অধিনায়কের ভার এবার কাঁধে নেবে নতুন প্রজন্ম
মেসির জন্য খেলবে আর্জেন্টিনা, অধিনায়কের ভার এবার কাঁধে নেবে নতুন প্রজন্ম

প্রায় দুই দশক ধরে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন, আশা আর প্রত্যাশার পুরো ভার ছিল একজন মানুষের কাঁধে।    তিনি লিওনেল মেসি। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে দৃশ্যপট বদলে গেছে। এবার মনে হচ্ছে, আর্জেন্টিনা আর শুধু মেসির ওপর নির্ভর করছে না। বরং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত হয়েছে নিজেদের অধিনায়ককে এগিয়ে নিতে, তাঁর জন্য লড়তে।   লিওনেল মেসি এখনও আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। তাঁর হাতেই থাকবে আর্মব্যান্ড। দলীয় তালিকায় তাঁর নামই থাকবে সবার আগে। মঙ্গলবার কানসাস সিটিতে ম্যাচের আগে ক্যামেরার ফোকাসও থাকবে তাঁর ওপর। কিন্তু এই আর্জেন্টিনা দলে মেসির ভূমিকা এখন কেবল একজন অধিনায়কের সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।   তিনি হয়ে উঠেছেন এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। এমন একজন, যিনি দেখিয়েছেন ব্যর্থতা, হতাশা আর দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কীভাবে শেষ পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করা যায়।   ফুটবলের আবেগ নিয়ে অনেক সময় অতিরঞ্জনের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু আর্জেন্টিনার বাস্তবতা ভিন্ন। দেশটিতে ফুটবল শুধু খেলা নয়, এক ধরনের বিশ্বাস। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলা অনেকের কাছে ধর্মীয় অনুভূতির মতো। প্রতিটি প্রজন্ম বড় হয় নায়ক, বেদনা আর পুনর্জাগরণের গল্প শুনে।   সেই গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছেন মেসি। তিনি আর শুধু একটি চরিত্র নন, তিনি নিজেই হয়ে উঠেছেন পুরো গল্পের প্রতীক।   কানসাস সিটিতে জড়ো হওয়া বর্তমান আর্জেন্টিনা দলের অনেক ফুটবলার ছোটবেলায় মেসির সংগ্রাম দেখেই বড় হয়েছেন। তাঁরা দেখেছেন কোপা আমেরিকার ফাইনালে একের পর এক হার। দেখেছেন সমালোচকদের প্রশ্ন, মেসি সত্যিই কি নিজের দেশকে ভালোবাসেন? দেখেছেন ২৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে তাঁর অবসর ঘোষণা।   আবার তাঁরাই দেখেছেন সেই অবসর ভেঙে ফিরে আসা। দেখেছেন ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ট্রফি হাতে তোলা। এরপর কাতার বিশ্বকাপে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপ জয়। মেসির বর্তমান প্রভাবের উৎস তাঁর গোল, অ্যাসিস্ট বা অসাধারণ প্রতিভা নয়। বরং তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রা।   আজকের আর্জেন্টিনাকে দেখলে মনে হয় না ফুটবলাররা শুধু একজন অধিনায়কের নির্দেশ অনুসরণ করছেন। বরং তাঁরা যেন একটি উত্তরাধিকার রক্ষা করছেন।   হুলিয়ান আলভারেজের নিরলস চাপ, রদ্রিগো ডি পলের প্রতিটি মিডফিল্ড লড়াই কিংবা এমিলিয়ানো মার্তিনেজের অদম্য মানসিকতা কেবল কৌশলগত ফুটবলের ফল নয়। এগুলো সেই মানসিকতার প্রতিফলন, যা তারা মেসির পাশে দাঁড়িয়ে শিখেছে।   অনেক সময় মনে হয়, তারা শুধু আর্জেন্টিনার জন্য খেলছে না। দলের ভেতরে হয়তো এক নীরব অনুভূতিও কাজ করছে। তারা খেলছে সেই মানুষের জন্য, যিনি প্রায় দুই দশক ধরে একাই পুরো জাতির প্রত্যাশা বহন করেছেন।   এই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপ মেসির আগের সব বিশ্বকাপ থেকে আলাদা।   আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ সময় আর্জেন্টিনার সবকিছু ঘুরেছে তাঁকে কেন্দ্র করে। প্রত্যাশা, চাপ, সমালোচনা, আশা, হতাশা সবই এসে পড়ত তাঁর কাঁধে।   এখন এই বিশ্বকাপ চলাকালীন তাঁর বয়স হবে ৩৯। শরীর আগের মতো নেই। ফিটনেস নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। কিন্তু আর্জেন্টিনা এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামছে এমন এক দল নিয়ে, যারা আর মেসির কাছ থেকে সবকিছু চায় না।   তারা চায় মেসির উপস্থিতি। চায় তিনি মাঠে থাকুন। হয়তো কোনো অনুপ্রেরণামূলক মুহূর্তের জন্য। হয়তো মাঠের একপাশ থেকে দেওয়া একটি দৃষ্টির জন্য, যা সবাইকে মনে করিয়ে দেবে কীসের জন্য তারা লড়ছে। কিংবা শুধু এই কারণেই যে তিনি লিওনেল মেসি, এখনও মাঠে আছেন, এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এখনও হাল ছাড়েননি।   সম্ভবত ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সবচেয়ে বড় অবদান কোনো গোল হবে না। কোনো অ্যাসিস্টও নয়। হয়তো তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হবে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামার সেই দৃশ্য।   যে জার্সি একসময় তাঁর কাছে বোঝা মনে হয়েছিল, সেটিই এখন তাঁর সবচেয়ে স্বস্তির ঠিকানা। কারণ কঠিন মুহূর্তে, যখন পা ভারী হয়ে আসে, আত্মবিশ্বাস কমে যায়, গ্যালারি নীরব হয়ে পড়ে, তখন পাশে মেসিকে দেখা দলের জন্য বাড়তি শক্তি হয়ে ওঠে।   তিনি শুধু অধিনায়ক নন। তিনি এমন একজন, যাঁকে দেখে এই প্রজন্মের ফুটবলাররা বড় হয়েছে। যাঁর মতো হওয়ার স্বপ্ন তারা দেখেছে।   বহু বছর আর্জেন্টিনা মেসির ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুন্দর মোড়ে এসে এখন মনে হচ্ছে, মেসিও আর্জেন্টিনার ওপর নির্ভর করতে পারেন। সম্ভবত এটাই তাঁর গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।   এক জীবন অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি এমন এক জায়গায় পৌঁছেছেন, যেখানে তাঁকে আর একা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না।

নীলুফা নিশাত জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী ডিজে সঞ্জয় | ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকছেন বাংলাদেশি শিল্পী সঞ্জয়

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয়। আগামী ১২ জুন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে দেখা যাবে তাকে। শনিবার (৯ মে) ফিফার পক্ষ থেকে এই তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   সঞ্জয়ের জন্ম ঢাকায় হলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠেছেন এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে বেশ পরিচিত। টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সঞ্জয় ছাড়াও মঞ্চ মাতাবেন মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, অ্যালানিস মরিসেট ও আলেসিয়া কারার মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা। আয়োজকরা জানিয়েছেন, সংগীত ও সংস্কৃতির মাধ্যমে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় ফুটিয়ে তোলাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।   ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, টরন্টোর এই অনুষ্ঠানটি কানাডার স্বকীয়তা ও বিশ্বকাপের উন্মাদনার এক অনন্য প্রতিফলন হবে। এটি কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং ফুটবল ও সংস্কৃতির এক শক্তিশালী বন্ধন হিসেবে বিশ্ববাসীকে স্বাগত জানাবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ ট্রফিকেও এক নতুন আঙ্গিকে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।   আগামী ১১ জুন মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠলেও ১২ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে কানাডা। টরন্টোতে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে সেই ম্যাচটি শুরুর আগেই এই জমকালো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। ফুটবল প্রেমীদের জন্য স্টেডিয়ামের গেট ম্যাচ শুরুর চার ঘণ্টা আগেই খুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।50920266105

তাবাস্সুম মে ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে বাদ দিয়ে ইতালিকে নেওয়ার প্রস্তাব ট্রাম্পের, ফিফার নাকচ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে সরিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে অন্তর্ভুক্ত করার এক বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত পাওলো জাম্পোলি। ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনোর কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবে দাবি করা হয়েছে, ফুটবলের ঐতিহ্যের খাতিরেই ইতালির বিশ্বকাপে থাকা জরুরি। উল্লেখ্য, বাছাইপর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ইতালি এবারের বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটি মূলত ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমানোর একটি রাজনৈতিক কৌশল। পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের করা কিছু মন্তব্যে ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ক্ষুব্ধ হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ফিফার অভ্যন্তরে এই প্রস্তাব নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ফুটবল বিশেষজ্ঞ একে ‘নগ্ন রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।   ইরান এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, তারা মাঠের লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জন করেই বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু ম্যাচ মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে। ফিফার ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির এমন চেষ্টার বিরুদ্ধে সরব হয়েছে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোও।   ফিফা প্রেসিডেন্ট জান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য এই প্রস্তাবে সায় দেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান বাছাইপর্ব পেরিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে এবং কোনো দেশের রাজনৈতিক চাপের মুখে তাদের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন প্রস্তাব ফুটবল বিশ্বে অস্থিরতা ও চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেন ফিফা প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তুরস্কে অনুষ্ঠিত ইরান ও কোস্টারিকার প্রীতি ম্যাচ চলাকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। এর আগে নিরাপত্তার অজুহাতে বিশ্বকাপ থেকে ইরানের নাম প্রত্যাহারের গুঞ্জন উঠলেও ইনফান্তিনো যাবতীয় শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে জানান, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।   ফিফা প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, এই বিষয়ে তিনি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছেন এবং হোয়াইট হাউস থেকে ইরানি খেলোয়াড় ও প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা ও অবাধ প্রবেশের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ইরান তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলেও ফিফা তা নাকচ করে দিয়েছিল। ইনফান্তিনো স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, এই বিষয়ে ফিফার কাছে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা বা ‘প্ল্যান বি’ নেই।   কয়েকদিন আগে রাজনৈতিক ইস্যুতে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও ফিফা প্রেসিডেন্টের সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ইনফান্তিনো জানান, ফুটবলের শক্তির মাধ্যমে তারা রাজনৈতিক বাধাগুলো অতিক্রম করতে চান। ফিফা প্রেসিডেন্ট এবং ইরানি দলের খেলোয়াড় ও কোচের মধ্যে আলোচনার পর এখন টুর্নামেন্টে দলটির অংশগ্রহণ নিয়ে সব অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।   সূত্র: আলজাজিরা

তাবাস্সুম মার্চ ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
আমেরিকা

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

নীলুফা নিশাত জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০