আটলান্টার এক স্কুলে ক্লাস শুরুর আগে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের গল্প, তাতেই শিক্ষার্থীদের মারামারি কমল অর্ধেক
ক্লাস শুরুর আগে মাত্র একটি সাধারণ প্রশ্নই যে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার একটি স্কুল। দীর্ঘদিনের চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা শুরুর আগে শিক্ষার্থীদের সাথে সুসম্পর্ক তৈরির এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে 'মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র মিডল স্কুল'। আর এর সুবাদেই গত দুই বছরে স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের অপরাধ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নাটকীয়ভাবে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
আটলান্টা পাবলিক স্কুলসের এই ক্যাম্পাসটি তাদের চমৎকার পরিবেশ ও ইতিবাচক সংস্কৃতির জন্য 'টিচ কাইন্ডনেস' নামক সংস্থা থেকে দেশব্যাপী মাত্র ৩২টি স্কুলের মধ্যে অন্যতম হিসেবে 'ন্যাশনাল কাইন্ডনেস ডেজিগনেশন' বা জাতীয় সদয় সম্মাননা লাভ করেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের কৌশলটি খুবই সহজ—পাঠ্যবই খোলার আগেই শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্ম হওয়া।
স্কুলের প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন প্রতিটি ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষক এবং সহপাঠীদের সাথে একটি সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের মাধ্যমে দিন শুরু করে। স্কুলের প্রিন্সিপাল কিম্বার্লি সেওয়েল সিবিএস নিউজ আটলান্টাকে বলেন, "আমরা আমাদের পুরো শিক্ষণ পদ্ধতিই বদলে ফেলেছি। এখন প্রতিটি ক্লাসে শিক্ষকেরা পড়াশোনার আগে শিক্ষার্থীদের সাথে সংযোগ তৈরি করেন। মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের খুব সাধারণ কিছু জিজ্ঞাসা করি, যেমন—তাদের পছন্দের পিৎজা টপিং কী কিংবা কীসে তারা আনন্দ পায়।"
ক্লাসরুমের বাইরেও স্কুলের সব স্টাফদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যেকোনো ভুল সংশোধনের আগে তারা শিক্ষার্থীদের সাথে হাসিমুখে ইতিবাচক যোগাযোগ তৈরি করেন। দুই বছর আগে এই পদ্ধতি চালুর পর থেকে স্কুলটিতে মারামারি বা বিশৃঙ্খলা অনেক কমে গেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং শিক্ষার্থীরা এখন যেকোনো বিরোধ মারামারি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে শিখছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreগাজায় যুদ্ধ শেষে দেশে ফেরার পর ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি উরিয়েল মোল্তো গেতাহোন নামের ২৪ বছর বয়সী এক মাস্টার সার্জেন্ট (রিজার্ভ) আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার কর্মরত না থাকা অবস্থায় তিনি নিজের জীবন কেড়ে নেন বলে হিব্রু সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট (Ynet) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে। গাজায় অভিযানের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে বলতে গিয়ে নিহত ওই সেনাসদস্যের এক আত্মীয় জানান, সেনারা শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও তাদের মনের ভেতর এমন গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা বাইরের কেউ দেখতে পায় না। এ বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় গঠিত একটি কমিটির প্রাথমিক পর্যালোচনায় ধারণা করা হচ্ছে, গেতাহোনের মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর সামরিক দায়িত্ব পালনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মূলত গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি সেনাসদস্যদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রায় ১৭ জন সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেন, যার মধ্যে ৭ জনই ৭ অক্টোবরের পরের ঘটনা। এরপর ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২১ জনে এবং ২০২৫ সালে তা ২১ থেকে ২২ জনে পৌঁছায়, যা গত প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে বার্ষিক সর্বোচ্চ আত্মহত্যার রেকর্ড। এছাড়া ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শেষভাগ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন সক্রিয় সেনাসদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত মোট ১২৪ জন সক্রিয় সেনা (বাধ্যতামূলক চাকরি, ক্যারিয়ার এবং সক্রিয় রিজার্ভ) আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় লাফ দেখা যায় ২০২৪ সালে, যেখানে আত্মহত্যাকারীদের ৭৮ শতাংশই ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সেনা; পূর্ববর্তী বছরগুলোতে এই হার ছিল মাত্র ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশ। গাজা, লেবানন এবং অন্যান্য ফ্রন্টে দীর্ঘমেয়াদি হামলার জন্য বিপুলসংখ্যক রিজার্ভ সেনাকে তলব করায় আত্মহত্যার ঘটনায় তাদের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি এই পরিসংখ্যানে কেবল কর্মরত সেনাদের তথ্য থাকায় প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। বিভিন্ন পৃথক প্রতিবেদন ও তথ্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, যুদ্ধে অংশ নেওয়া এক ডজনেরও বেশি সাবেক সেনাসদস্য চাকরি ছাড়ার পর মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স
ট্রাম্পকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘প্রয়োজন হলে পা ভেঙে দেব’: ইরানের সেনাপ্রধান
সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নি হত, আ হত ৩৭
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে উচ্চ অগ্নিঝুঁকির মধ্যে বাইরে বারবিকিউ জ্বালিয়ে দাবানল সৃষ্টির অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক ইসরাইলি পর্যটককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ রেথিমনোর সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাতের পর ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হয়। শনিবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার রেথিমনোর আদালতে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে, যেখানে তার আটকের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে পারে রাষ্ট্রপক্ষ। অভিযোগ অনুযায়ী, পর্যটকটি যে ভাড়া করা ভিলায় অবস্থান করছিলেন, সেখানে বাইরে বারবিকিউ করা নিষিদ্ধ ছিল। আগুনের ঝুঁকি সম্পর্কে তাকে সতর্কও করা হয়েছিল। এরপরও তিনি বারবিকিউ জ্বালান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে সেখানকার আশপাশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১০ মিনিটে সেলিয়া গ্রামের কাছে আগুনের সূত্রপাত হয়। এলাকাটি দক্ষিণ রেথিমনোর জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র প্লাকিয়াসের কাছাকাছি। প্রাথমিক প্রতিবেদনে আগুনের বিস্তার বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ জানানো হয়নি। ক্রিটে গ্রীষ্মকালজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক আবহাওয়া ও বাতাসের কারণে ছোট একটি আগুনও দ্রুত বড় আকার নিতে পারে। এ কারণে অগ্নিঝুঁকি বেড়ে গেলে গ্রিসের কর্তৃপক্ষ খোলা জায়গায় আগুন জ্বালানো ও বারবিকিউ ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ক্রিটের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশনাতেও উচ্চ অগ্নিঝুঁকির সময়ে বাইরে যেকোনো ধরনের আগুন ব্যবহার এবং উন্মুক্ত স্থানে বারবিকিউ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় অগ্নিঝুঁকির সময় বন বা শুকনো উদ্ভিদের কাছাকাছি খোলা জায়গায় বারবিকিউ না করার জন্য বাসিন্দা ও পর্যটকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। জুলাইয়ের শেষ দিকেও গ্রিসের সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ ক্রিটসহ কয়েকটি অঞ্চলে ‘অত্যন্ত উচ্চ’ অগ্নিঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছিল। তখন আগুনের সূত্রপাত ঘটাতে পারে এমন কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে বারবিকিউ, খোলা আগুন ও স্পার্ক তৈরি করতে পারে এমন কাজ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় এখন মূলত তদন্ত করা হচ্ছে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এবং অভিযুক্ত পর্যটকের বারবিকিউয়ের সঙ্গে দাবানলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না। গ্রেপ্তার হওয়া ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে হাজিরের পর তার আটকের মেয়াদ, অভিযোগের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। একই সঙ্গে আগুনে পরিবেশ, সম্পদ বা স্থানীয় মানুষের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকলে তার পরিমাণও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। ক্রিটে পর্যটন মৌসুমে দাবানল প্রতিরোধে এমন বিধিনিষেধ নিয়মিতই জারি করা হয়। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সতর্কতার মধ্যেও যদি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আগুন জ্বালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ঘটনাটি শুধু ব্যক্তিগত অসতর্কতার নয়, অগ্নিঝুঁকির সময়ে জননিরাপত্তা বিধি অমান্যের বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ডনকাস্টারে তিন বছরের শিশুর জরুরি ফোনে প্রাণে বাঁচলেন মা
মানব পাচারকারীদের মুখোশ খুলে বিপদে সাংবাদিক, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ছাড়লেন বাড়ি
ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে, জানালেন আলবার্টার প্রিমিয়ার
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র প্রতিদিনই নতুন করে সামনে আসছে। এবার গাজার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনির কঙ্কালসার দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল। শনিবার গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিবৃতিতে জানানো হয়, উদ্ধারকারীরা পূর্ব গাজা সিটির ‘আসকুলা’ এলাকায় একটি বিধ্বস্ত বাড়ির নিচ থেকে ১২ জনের এবং পশ্চিম গাজার ‘কাতিবা’ এলাকার আরেকটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ৯ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকায় মরদেহগুলো সম্পূর্ণ কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। তবে তারা ঠিক কবে হামলার শিকার হয়েছিলেন, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এদিকে, এই উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি আরও একটি ভয়াবহ তথ্য জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স। মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, গাজার জেইতুন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত অপর একটি ভবনের নিচে অন্তত ৪০ জনের মরদেহ দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে আছে বলে তারা নির্ভরযোগ্য তথ্য পেয়েছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানেও অবিলম্বে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। গাজায় টানা সংঘাত ও হামলার কারণে এমন অসংখ্য ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাতারে ৬ মাস ধরে বন্দি ইরানের ৩ সামরিক পাইলট, রেডক্রসের সহায়তা চাইল ইরান
মার্কিন হামলায় ব্যাপক ক্ষতির পরও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘হাঁটু গেড়ে বসাতে’ পেরেছে ইরান: আইআরজিসি