সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

ব্রাজিলে কারাগার থেকে মুক্তির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুর ধর্ষককে গুলি করে হত্যা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৭, ২০২৬ ৯:৫২
আদালত থেকে আংশিক মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ব্রাজিলে খুন হলেন ২০ বছর কারাভোগ করা জোয়াও ফেরেরা | ছবি: সংগৃহীত
আদালত থেকে আংশিক মুক্তি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ব্রাজিলে খুন হলেন ২০ বছর কারাভোগ করা জোয়াও ফেরেরা | ছবি: সংগৃহীত

ব্রাজিলে এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত এক বন্দি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম জোয়াও ফেরেরা দা সিলভা। এই ঘটনাটি দেশটির স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

স্থানীয় পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জোয়াও ফেরেরা একটি শিশুকে ধর্ষণের অপরাধে আদালত কর্তৃক ৪২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর অত্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে কারাভোগ করার পর সম্প্রতি আদালত তাকে ‘অর্ধ-মুক্ত’ বা আংশিক স্বাধীনতার বিশেষ সুবিধা প্রদান করেন।

 

এই আইনি সুবিধার আওতায় কারাগার থেকে বের হওয়ার ২৪ ঘণ্টাও পার করতে পারেননি জোয়াও। মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় একটি গেস্টহাউস বা পান্থশালার অদূরে ওত পেতে থাকা দুই মুখোশধারী বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছাড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

 

ব্রাজিলের পুলিশ জানিয়েছে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। মুখোশ পরিহিত দুই হামলাকারী জোয়াওয়ের মুক্তির সময় ও তার অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল। গুলি করার পরপরই অপরাধীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

 

এই ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে এটিকে কোনো প্রতিশোধমূলক হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানায়নি। প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যাওয়া এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, তা বের করতে তদন্ত চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
অমিত শাহ ছবি:সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হিন্দু-শিখ-জৈনদের ৬ মাসে নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা অমিত শাহের

বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া এবং ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে আশ্রয় নেওয়া যোগ্য হিন্দু, শিখ ও জৈনদের আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।   শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালি এলাকায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ ঘোষণা দেন। অমিত শাহ বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গের আট জেলার কালেক্টরকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-এর আওতায় আবেদন প্রক্রিয়া ও নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছে।   ভারতের সরকারি নাগরিকত্ব পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, সিএএ-এর আওতায় বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে তাদের ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বা তার আগে ভারতে প্রবেশ করতে হবে এবং আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে।   অর্থাৎ, অমিত শাহের ঘোষণাটি সব বাংলাদেশি হিন্দু, শিখ বা জৈনের জন্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের ঘোষণা নয়। বরং সিএএ-এর যোগ্য আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি হিসেবে এটি এসেছে।   সিএএ-এর আওতায় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নতুন পরিবর্তনও এসেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি সীমান্তবর্তী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এ ধরনের আবেদন গ্রহণ, যাচাই ও নিষ্পত্তির ক্ষমতা দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে মোট আট জেলার কালেক্টরকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।   এদিকে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশের বিষয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন অমিত শাহ। তিনি বলেছেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।   সিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে তিনি সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আনেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত অবকাঠামোর জন্য জমি হস্তান্তরের কাজ দ্রুত এগিয়েছে।   সিএএ বাস্তবায়ন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। অমিত শাহ সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সমালোচনা করে দাবি করেন, আগের সরকার সিএএ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেনি।   বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ সীমান্ত এবং সীমান্তপারের মানুষের চলাচলের কারণে নাগরিকত্ব, অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নিরাপত্তা রাজ্যটির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সিএএ বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া মানুষের নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২২, ২০২৬ ৬:৩
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আল-একরাম এলাহী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়র ভূগোল থেকে স্পেসএক্স-এ যোগ দিলেন হৃদয়

শৈশবে অটিজম ধরা পড়া ফক্স রাইকার

চিকিৎসকেরা বলেছিলেন 'অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ'! অটিজম জয় করে সেই ফক্স নিজেই আজ ডাক্তার

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের মনোবল বাড়াতে পুতিনের ভরসা ৬০০ বছরের পুরোনো সেনাপতির দে হাবশেষ

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের মনোবল বাড়াতে পুতিনের ভরসা ৬০০ বছরের পুরোনো সেনাপতির দে হাবশেষ

‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের
‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের

মুসলিম দেশগুলোর মূল্যবান সম্পদ ও কাঁচামাল লুট করার জন্য শত্রুরা সবসময় তৎপর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আয়োজিত ইরানি ও ইরাকি ব্যবসায়ীদের এক যৌথ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, গালিবাফ তাঁর বক্তব্যে মুসলিম বিশ্বের ওপর চলমান আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, শত্রুদের প্রধান লক্ষ্যই হলো ইসলামী দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক শক্তিকে দুর্বল করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করা।   একই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনায় মুখর হন শীর্ষ এই ইরানি কর্মকর্তা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক বাধাকে ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।   ইরাক ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে এই মার্কিন চাপ মোকাবিলার ওপর জোর দেন তিনি। গালিবাফ মনে করেন, প্রতিবেশী ও মিত্র দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই শত্রুদের সম্পদ লুটের এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এবং নিজেদের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৭:৩৭
কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি, দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন

কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি, দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন

মধ্যপ্রাচ্যে ২৭২ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে দেশে ফিরছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন I ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে ২৭২ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে দেশে ফিরছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

৮ বছরের মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের পর মায়ের উদ্যোগে চালু হলো বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’

৮ বছরের মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের পর মায়ের উদ্যোগে চালু হলো বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’

৫২ বছর বয়সেই চাকরি ছেড়ে অবসর নেওয়া নারী
৫২ বছরেই অবসরের পরিকল্পনা! মাসে ৩ হাজার পাউন্ড আয়ের স্বপ্ন কতটা বাস্তব?

যুক্তরাজ্যে ৫২ বছর বয়সেই চাকরি ছেড়ে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এক নারী। তার লক্ষ্য, নিজের বাড়ি ধরে রেখে পেনশন ও বিনিয়োগ থেকে মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পাউন্ড আয় করা এবং অবসরের কিছুটা সময় ভারতে কাটানো। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা সম্ভব, সেটিই এখন তার সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রশ্ন।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের ‘মানি মেকওভার’ বিভাগে প্রকাশিত আর্থিক পরিকল্পনা বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অল্প বয়সে অবসর নিতে চাইলে শুধু বর্তমান সঞ্চয় বা পেনশনের পরিমাণ দেখলেই হবে না। অবসর-পরবর্তী দীর্ঘ সময়ের জীবনযাত্রার ব্যয়, বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য আয়, মূল্যস্ফীতি এবং বাড়ি সংক্রান্ত খরচও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।   বিশেষ করে ৫২ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার অর্থ হলো প্রচলিত অবসর বয়সের তুলনায় অনেক বেশি সময় চাকরি ছাড়া জীবনযাপন করতে হবে। ফলে পেনশন পাওয়ার বয়স হওয়ার আগের সময়টুকুর খরচ কীভাবে চালানো হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পেনশনের পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে নিয়মিত অর্থ তুলতে হলে সেই বিনিয়োগের মূলধন কতদিন টিকবে, সেটিও হিসাব করতে হবে।   অবসরে মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পাউন্ড খরচের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। কারণ আজকের ২ হাজার পাউন্ডের ক্রয়ক্ষমতা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির কারণে একই থাকবে না। একই সঙ্গে বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়ও প্রতি বছর একই থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।   নিজের বাড়ি ধরে রাখার সিদ্ধান্তও এই অবসর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাড়ির ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করা থাকলে মাসিক ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। তবে গৃহঋণ, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, স্থানীয় কর, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন পরিষেবার বিল এবং অন্যান্য আবাসন ব্যয় থাকলে সেগুলোও অবসরকালীন বাজেটে আলাদাভাবে ধরতে হবে।   ভারতে বছরের একটি অংশ কাটানোর পরিকল্পনা অবসরকালীন ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় দুই দেশে বসবাস করলে যাতায়াত, চিকিৎসা, বিমা এবং করসংক্রান্ত খরচও আগে থেকেই হিসাব করা প্রয়োজন।   আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫২ বছর বয়সে অবসর নেওয়ার লক্ষ্য থাকলে এখন থেকেই পেনশন ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ঋণ কমানো এবং অবসর পর্যন্ত কত অর্থ প্রয়োজন হবে তার একটি বাস্তবসম্মত হিসাব তৈরি করা জরুরি। শুধু মাসে কত টাকা আয় করতে চান তা নির্ধারণ করলেই হবে না, সেই অর্থ কত বছর ধরে প্রয়োজন হবে সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।   তাই ৫২ বছর বয়সে অবসর নেওয়া অসম্ভব নয়। তবে বাড়ি ধরে রাখা, মাসে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার পাউন্ড খরচ করা এবং একই সঙ্গে ভারতের মতো অন্য দেশে নিয়মিত সময় কাটানোর পরিকল্পনা থাকলে পর্যাপ্ত পেনশন ও বিনিয়োগের ভিত্তি তৈরি না করে চাকরি ছেড়ে দেওয়া বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৩:৪৭
হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের ইতিহাস: রাজকীয় বাহিনী থেকে আধুনিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায় I

হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের ইতিহাস: রাজকীয় বাহিনী থেকে আধুনিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়

গ্রেসিয়া গুয়াদালুপে ওরান্তেস মেন্দোজার ছবি:সংগৃহীত

হেভি ফিল্টারের ছবিতে নিখোঁজ নারী, বাস্তব চেহারা মেলাতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ

কুয়েতি পাসপোর্ট ছবি:সংগৃহীত

কুয়েতে ভিসার স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বন্ধ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর

0 Comments