যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনায় স্টপ সাইন অমান্য করে সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছর বয়সী ক্যালি টোলার নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় তার মা কেলি টোলার এবং ৪ বছর বয়সী ছোট ভাই গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত চালকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী জেইমে সান্তিয়াগো করোনা একটি ডজ র্যাম পিকআপ ট্রাক চালিয়ে উচ্চগতিতে একটি স্টপ সাইন অমান্য করেন। এরপর তার গাড়িটি কেলি টোলারের এসইউভির সঙ্গে সজোরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ৬ বছরের ক্যালি। গুরুতর আহত অবস্থায় তার মা ও ছোট ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় করোনার ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল ছিল। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মিসডিমিনর ডেথ বাই ভেহিকেল, বাতিল লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো, স্টপ সাইন অমান্য করা এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করেছে। স্থানীয় ফৌজদারি মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে তাকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হতে পারে। এরপর তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
ঘটনাটি উত্তর ক্যারোলিনাজুড়ে শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং আহত মা ও ছোট ছেলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির ঘোষিত ‘ব্লক বাই ব্লক’ আবাসন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, পরিকল্পনাটির আওতায় অবহেলিত ভাড়ার ভবনগুলো ব্যক্তিমালিকদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়া সংগঠন, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (নন-প্রফিট) এবং কমিউনিটি ল্যান্ড ট্রাস্টের হাতে হস্তান্তরের পথ আরও সহজ করা হচ্ছে। তবে মামদানি প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নয়; বরং দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনায় থাকা ভবনগুলো রক্ষা এবং ভাড়াটিয়াদের নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ। মে মাসে প্রকাশিত ‘ব্লক বাই ব্লক’ পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরে আবাসন খাতে ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর একটি অংশ অবহেলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভাড়ার ভবন সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নতুন মালিকানা ব্যবস্থায় স্থানান্তরের জন্য ব্যয় করার প্রস্তাব রয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর লক্ষ্য নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণ এবং ভবনের মালিকদের অবহেলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে মেয়রের ‘মেয়রস অফিস টু প্রোটেক্ট টেন্যান্টস’-এর পরিচালক সিয়া উইভারের অতীতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে। পুরোনো এক পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত বাড়ির মালিকানাকে ‘শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের হাতিয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এসব মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসসহ বিভিন্ন মহল এর সমালোচনা করেন। পরে উইভার বলেন, অতীতের কিছু মন্তব্যের জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং সেগুলো তার বর্তমান অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না। এদিকে, নিউইয়র্কের আবাসন খাতের বিভিন্ন সংগঠন এবং সম্পত্তি মালিকদের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই পরিকল্পনা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করতে পারে এবং সরকারের হস্তক্ষেপ বাড়াতে পারে। তাদের মতে, করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে ব্যক্তিমালিকানাধীন ভাড়ার ভবন অন্য ব্যবস্থাপনায় স্থানান্তরের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, মামদানি প্রশাসনের বক্তব্য হলো, যেসব ভবনের মালিক বছরের পর বছর রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং ভাড়াটিয়াদের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে পারছেন না, কেবল সেসব ক্ষেত্রেই বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দাবি, নিউইয়র্কে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।
নিউ ইয়র্ক সিটিতে হু হু করে বাড়ি বা ফ্ল্যাটের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে নিজের একটি আবাসন গড়ে তোলা এখন আকাশকুসুম স্বপ্ন। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের নিউ ইয়র্কবাসীদের জন্য মাত্র ১১ হাজার মার্কিন ডলারে সমবায় বা কো-অপ ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার এক বিরল ও অবিশ্বাস্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্রঙ্কসের পেলহাম বে এলাকার ১৭২০ মেফ্লাওয়ার অ্যাভিনিউতে অবস্থিত 'মেফ্লাওয়ার টেরেস' নামের একটি আবাসন প্রকল্পে নতুন করে এই ওয়েটলিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকা উন্মুক্ত করা হয়েছে। এটি মূলত নিউ ইয়র্ক স্টেট হোমস অ্যান্ড কমিউনিটি রিনিউয়ালের অধীনে পরিচালিত একটি বিশেষ আবাসন কর্মসূচি। এর লক্ষ্য হলো সাধারণ রিয়েল এস্টেট বাজারের আকাশচুম্বী দামের তুলনায় অত্যন্ত কম মূল্যে নাগরিকদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়া। এই প্রকল্পে বিভিন্ন আকারের এবং বিভিন্ন বাজেটের ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একক বাসিন্দা থেকে শুরু করে বড় পরিবারের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে অ্যাপার্টমেন্টগুলোর দাম ও মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সুযোগ পেতে হলে আবাসন কর্তৃপক্ষের দেওয়া নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যার নিয়মাবলী পূরণ করতে হবে। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এখানে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের দাম শুরু হচ্ছে মাত্র ১১ হাজার ডলার থেকে, যার মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ প্রায় ৬৯০ ডলার। এছাড়া এক বেডরুমের ফ্ল্যাটের দাম ১৩ হাজার থেকে ১৭ হাজার ৬০০ ডলার এবং দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটের দাম ১৭ হাজার থেকে ২১ হাজার ৫০০ ডলারের মধ্যে রাখা হয়েছে। বড় পরিবারের জন্য তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটগুলো ২০ হাজার ১০০ থেকে ২৩ হাজার ২০০ ডলারের মধ্যে পাওয়া যাবে। এই সাশ্রয়ী ফ্ল্যাটগুলোর জন্য যোগ্যতার সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। স্টুডিও এবং এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের জন্য যথাক্রমে ১ লাখ ৮ হাজার ৭০০ ডলার এবং ১ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ ডলার পর্যন্ত বার্ষিক আয়সম্পন্ন পরিবারগুলো আবেদন করতে পারবেন। অন্যদিকে বড় ফ্ল্যাটগুলোর জন্য সর্বোচ্চ ৬ সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় ১ লাখ ৮০ হাজার ১০০ ডলার পর্যন্ত শিথিলযোগ্য করা হয়েছে। মধ্যম আয়ের নিউ ইয়র্কবাসীরা যাতে অতিরিক্ত দামের কারণে শহর ছেড়ে চলে না যান, মূলত সেই উদ্দেশ্যেই এই আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লোভনীয় সুযোগের ওয়েটলিস্টে নাম লেখাতে আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া নির্দিষ্ট নম্বরে কল করে কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে কাগজের আবেদনপত্র সংগ্রহ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
একসময় ক্যারিয়ারে সফলতার মানদণ্ড ছিল বড় পদ, দ্রুত পদোন্নতি এবং আকর্ষণীয় বেতন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সেই ধারণা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রযুক্তি খাতে ধারাবাহিক কর্মী ছাঁটাই, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং বাড়তে থাকা মানসিক চাপের কারণে এখন অনেক পেশাজীবী নতুন করে প্রশ্ন তুলছেন—কোন ধরনের চাকরি মানুষকে সত্যিকারের সুখী রাখে? যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কর্মক্ষেত্র প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Blink-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শুধু উচ্চ বেতন নয়; কর্মপরিবেশ, কাজের উদ্দেশ্য, সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে কাজের ভারসাম্যই কর্মীদের সুখ নির্ধারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। গবেষণায় বিভিন্ন পেশার কর্মীদের চাকরির সন্তুষ্টি, মানসিক চাপ, কাজের অর্থবহতা এবং কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, যেসব কর্মী নিজেদের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী বলে মনে করেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তুষ্ট এবং দীর্ঘ সময় একই পেশায় থাকতে আগ্রহী। তালিকার শীর্ষে রয়েছে এয়ারলাইন পাইলট ও ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারদের মতো পেশা। এছাড়া মার্কেটিং ম্যানেজার, ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজার, ফার্মাসিস্ট এবং কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়াররাও উচ্চ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এসব পেশায় কর্মরতদের মতে, আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি কাজের প্রতি আগ্রহ এবং কর্মপরিবেশ তাদের মানসিক স্বস্তি বাড়ায়। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত বেতন সব সময় সুখ নিশ্চিত করে না। অনেক কর্মী জানিয়েছেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অবাস্তব লক্ষ্য, অনিশ্চিত চাকরি এবং কর্মক্ষেত্রে স্বীকৃতির অভাব থাকলে ভালো বেতনও চাকরির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে পারে না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের ধরে রাখতে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি নমনীয় কর্মঘণ্টা, দূরবর্তী বা হাইব্রিড কর্মব্যবস্থা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা এবং কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ বাড়িয়েছে। কর্মী ধরে রাখা এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এসব উদ্যোগ কার্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে। মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রের নতুন প্রজন্ম—বিশেষ করে তরুণ পেশাজীবীরা—এখন শুধু অর্থ উপার্জনের জন্য নয়, বরং এমন একটি কর্মপরিবেশ খুঁজছেন যেখানে তারা সম্মান, স্বীকৃতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন। সব মিলিয়ে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে সফলতার সংজ্ঞা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বড় বেতন কিংবা মর্যাদাপূর্ণ পদ এখনও গুরুত্বপূর্ণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদে কর্মীদের সুখ ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে অর্থবহ কাজ, ইতিবাচক কর্মপরিবেশ এবং কাজ-জীবনের ভারসাম্যই হয়ে উঠছে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।