ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলা, গুলি ও স্টান গ্রেনেডে আহত ১০ বছরের শিশুসহ
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন, রামাল্লাহ, বেথলেহেম, জেনিন ও নাবলুসে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের পৃথক অভিযানে অন্তত কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। হেবরনে একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ১০ বছর বয়সী এক শিশু মাথায় আঘাত পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রামাল্লাহর পূর্বে আল-মুঘাইয়ির গ্রামে মোহাম্মদ হামেদ আবু আলিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। এ সময় একজন ফিলিস্তিনি জীবন্ত গুলিতে উরুতে আহত হন এবং আরও দুজন রাবার মোড়ানো ধাতব বুলেটে আহত হন। এছাড়া ১০ বছর বয়সী রায়েদ ওদেহ আবু আলিয়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে মাথায় আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী বেথলেহেমের পশ্চিমে দোহা শহরে অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গ্রেপ্তার বা বাড়িতে তল্লাশির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে জেনিনের দক্ষিণে খাবিরাত মাসউদ এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা তাদের ভেড়ার পাল ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে ছেড়ে দেয়। এতে ফসল ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাবলুসের দক্ষিণে কাবালান এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করছিলেন এমন পৌরসভার কর্মীদেরও হামলার মুখে পড়তে হয়। হামলার কারণে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ ধরনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে তাদের কৃষিজমি ও বসতি থেকে উচ্ছেদের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreমিসরের পশ্চিম মরুভূমির আবু-তারতুর মালভূমির নিচে প্রায় ৭ কোটি বছর আগের এক সমুদ্রজগতের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। সেখানে পাওয়া জীবাশ্ম হাঙরের দাঁত বিশ্লেষণ করে অন্তত পাঁচটি বিলুপ্ত প্রজাতির হাঙরের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানের শুষ্ক মরুভূমি একসময় ছিল উষ্ণ ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি সামুদ্রিক পরিবেশ। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি সম্প্রতি গবেষণাপত্র প্রকাশকারী সাময়িকী ক্রিটেশিয়াস রিসার্চে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা আবু-তারতুর এলাকার ডুই গঠনের ফসফেটসমৃদ্ধ স্তর থেকে হাঙরের জীবাশ্ম দাঁত সংগ্রহ করেন। এসব দাঁতের আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে বিলুপ্ত ল্যামনিফর্ম গোত্রের বিভিন্ন হাঙর শনাক্ত করা হয়। গবেষণায় শনাক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রেটালামনা, স্ক্যাপানোরাইনকাস, সেরাটালামনা ও স্কোয়ালিকোরাক্স গোত্রের হাঙর। গবেষকদের মতে, স্ক্যাপানোরাইনকাসের একটি প্রজাতির জীবাশ্ম দাঁত আফ্রিকায় এ ধরনের প্রথম আবিষ্কার হতে পারে। পাশাপাশি অন্তত দুটি প্রজাতির জীবাশ্ম এর আগে মিসরে নথিভুক্ত হয়নি। হাঙরের দাঁতের বৈচিত্র্যও গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু দাঁত সরু ও সূচালো, আবার কিছু ছিল তুলনামূলক চওড়া ও করাতের মতো ধারযুক্ত। দাঁতের এই পার্থক্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওই প্রাচীন সমুদ্রে বিভিন্ন প্রজাতির হাঙর ভিন্ন ধরনের খাবার ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেঁচে ছিল। কেউ গভীর পানিতে শিকার করত, আবার কেউ অপেক্ষাকৃত অগভীর বা উপকূলীয় এলাকায় বিচরণ করত। গবেষণায় পাওয়া জীবাশ্মগুলো যে স্তর থেকে এসেছে, সেটি ডুই গঠনের অংশ। গবেষকদের মতে, প্রায় ৭ কোটি বছর আগে ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষভাগে ওই অঞ্চল ছিল উষ্ণমণ্ডলীয় সামুদ্রিক পরিবেশ। তখন পৃথিবীর তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল এবং সমুদ্রপৃষ্ঠও আজকের তুলনায় অনেক উঁচু ছিল। ফলে বর্তমানে উত্তর আফ্রিকার যে বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমি, তার কিছু অংশ তখন সমুদ্রের নিচে ছিল। ওই প্রাচীন সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ার পেছনে পানির গভীর স্তর থেকে পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ পানি ওপরে উঠে আসার প্রক্রিয়া বা আপওয়েলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। এতে সমুদ্রের ওপরের স্তরে পুষ্টি বাড়ত এবং ছোট সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেত, যা পুরো খাদ্যশৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করত। আবু-তারতুরের এই আবিষ্কার মিসরের মরুভূমিতে প্রাচীন সামুদ্রিক জীবনের অস্তিত্বের নতুন প্রমাণ যোগ করেছে। এর আগে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন সময় হাঙর, রে মাছ, কুমির এবং প্রাচীন তিমির জীবাশ্মও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ফায়ুম অঞ্চলের ওয়াদি আল-হিতান প্রাচীন তিমির জীবাশ্মের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। নতুন গবেষণার গুরুত্ব শুধু কয়েকটি বিলুপ্ত হাঙরের প্রজাতি শনাক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জীবাশ্মগুলো বিজ্ঞানীদের প্রায় ৭ কোটি বছর আগের উত্তর আফ্রিকার সামুদ্রিক পরিবেশ, খাদ্যশৃঙ্খল এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে কীভাবে সমুদ্র সরে গিয়ে ওই অঞ্চল আজকের শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে, সেই দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও এসব আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামাবাদের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, ১৪ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু
পুলিশকে ফাঁকি দিতে ল্যাব্রাডরকে ফেলে পালালেন, কুকুরই ধরিয়ে দিল মালিককে
৩ দশমিক ৩ টন গাঁজা পুড়িয়ে বিপাকে ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ, ধোঁয়ায় ‘হাই’ বাসিন্দারা
চীনের শানডং প্রদেশের ইয়ানতাই শহরের ১৯ বছর বয়সী তরুণ লু স্যুট-টাই পরে নাইট মার্কেটে ফ্রাইড রাইস বিক্রি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন। ১৭ বছর বয়সে পরিবারের স্টলে কাজ শুরু করা লুর মাসিক বিক্রির পরিমাণ এখন প্রায় ৫০ হাজার চীনা ইউয়ান, যা প্রায় ৭ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলারের সমান। নাইট মার্কেটের অন্য খাবারের দোকানের মতো সাধারণ পোশাকে না এসে লু প্রতিদিন পরিপাটি স্যুট ও টাই পরে রান্না করতে দাঁড়ান। চুল পেছনে আঁচড়ে, কড়াই হাতে দ্রুত ফ্রাইড রাইস রান্না করার এই ব্যতিক্রমী উপস্থাপনাই তাকে ক্রেতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের নজরে এনে দিয়েছে। লু জানিয়েছেন, শুরুতে নিজেকে পরিপাটি দেখাতেই স্যুট পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এই পোশাকই যে একসময় তার ব্যবসার অন্যতম পরিচিতি হয়ে উঠবে, তা তিনি ভাবেননি। পরে তার রান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্টলটির পরিচিতিও বাড়তে থাকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুর স্টল প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলে। ব্যস্ত সময়ে মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে এক প্লেট ফ্রাইড রাইস প্রস্তুত করতে পারেন তিনি। প্রতিটি প্লেটের দাম প্রায় ১০ ইউয়ান, আর প্রতিদিন ২০০টির বেশি প্লেট বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। এই ব্যবসায় লুর বাবা তাকে সহায়তা করেন। তিনি মূলত রান্নার উপকরণ প্রস্তুত করেন। আর লু রান্না ও ক্রেতাদের খাবার পরিবেশনের দায়িত্ব সামলান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সব খরচ বাদ দেওয়ার পর ব্যবসা থেকে লুর মাসিক লাভ প্রায় ২০ হাজার ইউয়ান, যা আনুমানিক ২ হাজার ৯৬০ মার্কিন ডলার। লুর রান্নার ধরনও তার জনপ্রিয়তার বড় কারণ। কড়াই ঘুরিয়ে রান্না করা, দ্রুত উপকরণ যোগ করা এবং পরিবারের সদস্যদের ছোড়া ডিম হাতে ধরে কড়াইয়ে দেওয়ার মতো কৌশল তার রান্নাকে অনেকটা স্ট্রিট পারফরম্যান্সে পরিণত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লুর এই স্টাইলকে জাপানি অ্যানিমে ও মাঙ্গা ‘ওয়ান পিস’-এর জনপ্রিয় রাঁধুনি চরিত্র সাঞ্জির সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে। লুও নিজের ভিডিওতে ‘সাঞ্জি ফ্রাইড রাইস’ নামটি ব্যবহার করছেন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে ৪৬ হাজারের বেশি অনুসারী এবং প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার লাইক রয়েছে বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই পরিবারের সঙ্গে মিলে একটি ছোট খাবারের ব্যবসাকে পরিচিত করে তুলেছেন লু। তার গল্পে যেমন ব্যতিক্রমী পোশাক নজর কেড়েছে, তেমনি আলোচনায় এসেছে সাধারণ একটি স্ট্রিট ফুড ব্যবসাকে আলাদা পরিচিতি দেওয়ার কৌশল।
ইসরায়েলি সেনাদের পাহারায় ফিলিস্তিনি স্মৃতিসৌধ ভাঙলেন উগ্র ডানপন্থী আইনপ্রণেতা
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইরানি সাইবার হা মলা, সামনে আরও ভয়াবহ বিপদের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানকে নিশানা করতে চীনের নতুন হাইপারসনিক ক্ষে পণাস্ত্র
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি এবার ইরানের ইসলামিক রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) শীর্ষ পাঁচ কর্মকর্তার সন্ধানে বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই পাঁচ কমান্ডারের বিষয়ে সঠিক ও কার্যকর তথ্য দিলে ১ কোটি বা ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। শুধু আর্থিক পুরস্কারই নয়, যোগ্য তথ্য প্রদানকারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অন্য স্থানে পুনর্বাসনের সুবিধাও দেওয়া হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া এই পাঁচ শীর্ষ আইআরজিসি কর্মকর্তা হলেন— আইআরজিসির কমান্ডার আহমেদ ওয়াহিদি, খাতামুল আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের প্রধান আলি আব্দুল্লাহি, আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্সের ড্রোন (ইউএভি) কমান্ডার সাঈদ আগাজানি, আইআরজিসি সাইবার-ইলেকট্রনিক কমান্ডের প্রধান হামিদরেজা লশগরিয়ান এবং গোয়েন্দা দপ্তরের কমান্ডার মজিদ খাদেমি। মার্কিন সরকারের দাবি, এই ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন স্বার্থবিরোধী বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, সাইবার হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ও অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনার সাথে সরাসরি জড়িত। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক খবর যাচাই করে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র যে পাঁচজনের তালিকা প্রকাশ করেছে, তাদের মধ্যে অন্তত দুজন— সাঈদ আগাজানি ও মজিদ খাদেমি সম্প্রতি চলমান সংঘাতে নিহত হয়েছেন। বিশেষ করে, গত এপ্রিলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন বলে এর আগে নিশ্চিত করা হয়েছিল। নিহত ব্যক্তিদের বিষয়েও তথ্য চেয়ে পুরস্কার ঘোষণার এই বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মূলত ইরানের অভ্যন্তরে থাকা সাধারণ মানুষ বা সরকার বিরোধীদের কাছ থেকে গোপন তথ্য বের করে আনার একটি কৌশলগত অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র এমন অভিনব প্রস্তাব দিয়েছে।
ইরান ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি চীনের
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কানাডার পাল্টা আ ঘাত, মার্কিন পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ