দুবাইয়ে ১৯ হাজার পাউন্ড বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় কারাবন্দী ব্রিটিশ নারী উদ্যোক্তা
বাড়ি ভাড়া বাকি পড়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাবন্দী হয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী উদ্যোক্তা কেরি এনওয়াচুকু। দুইজন বাড়িওয়ালার প্রায় ১৯ হাজার পাউন্ড বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাঁর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি ইউএই ত্যাগ করতে পারছেন না।
লন্ডনের বাসিন্দা কেরি সথবিজ-এর মার্কেটিং ডিরেক্টরের চাকরি ছেড়ে তাঁর ২৫ বছর বয়সী ছেলে জন-কে নিয়ে ২০২২ সালের আগস্টে একটি মার্কেটিং এজেন্সি খোলার উদ্দেশ্যে দুবাই যান। তবে গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ হাজার পাউন্ডের বেশি বকেয়া বিল না পাওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তিনি এই ভাড়া অনাদায়ে পড়েন।
ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিকারী আদালতের (আরডিসি) দুই আইনি প্রক্রিয়ার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে তিনি নিজের ব্যবসায়িক লাইসেন্সও নবায়ন করতে পারেননি। গত ২২ এপ্রিল একটি শপিং মল থেকে তাঁকে আটক করে বার দুবাই পুলিশ স্টেশনে দুই সপ্তাহ রাখা হয় এবং পরবর্তীতে আল আবির সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়।
কারাগারে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে কেরি বলেন, শুরুতে তাঁর কোনো ম্যাট্রেস ছিল না এবং তাঁকে খুনের মামলার আসামি ও মাদক বিক্রেতাদের সাথে একই সেলে রাখা হয়েছিল। টয়লেটের মেঝেতে অন্যের প্রস্রাব এড়াতে তিনি ৩ পাউন্ড খরচ করে এক জোড়া স্লিপার কেনেন।
কেরির ছেলের বারবার আবেদনের পর মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ৩,০০০ পাউন্ড পরিশোধের পর ১৫ মাসের কিস্তি চুক্তিতে তিনি সাময়িক মুক্তি পান। তবে তিন সপ্তাহ পর বিচারক সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো অর্থ পরিশোধের জন্য মাত্র ১৫ দিনের সময় বেঁধে দেন। সেই সময়সীমা পার হওয়ায় তিনি এখন যেকোনো মুহূর্তে আবারও গ্রেপ্তার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, ৪,০০০ পাউন্ড সংগ্রহ করতে পারলে বিচারক হয়তো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করতে পারেন, তবে তাও নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাজ্যে তাঁর বন্ধু ও পরিবার দৈনন্দিন খরচ ও ভাড়ার কিস্তি মেটাতে একটি 'গোফান্ডমি' পেজ চালু করেছে। কিন্তু কেরি জানিয়েছেন, দুবাইয়ে গোফান্ডমি কোনো অনুমোদিত প্ল্যাটফর্ম নয় এবং এটি ব্যবহারের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো সাজা বা নতুন করে কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাজ্যের নিজ বাড়িতে ফেরার আকুল অপেক্ষায় থাকা কেরি দুবাইয়ের চাকচিক্যের পেছনের কঠোর ও বিপজ্জনক আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করেছেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreছোটবেলায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বধির হওয়ায় আলেকজান্দ্রা অ্যাডামসকে বলা হয়েছিল, তাঁর পক্ষে কখনো চিকিৎসক হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে যুক্তরাজ্যের প্রথম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও বধির চিকিৎসক হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি মেডিকেল স্কুলে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সময় নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ব্যবহারিক সমাধান তৈরি করেন আলেকজান্দ্রা। এর মধ্যে অন্যতম ব্লুটুথ স্টেথোস্কোপ, যা রোগীর হৃদ্স্পন্দনের শব্দ সরাসরি তাঁর হিয়ারিং এইডে পৌঁছে দেয়। প্রযুক্তির এই ব্যবহার চিকিৎসাশিক্ষা ও রোগী দেখার ক্ষেত্রে তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হয়ে ওঠে। তবে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের পেছনে রয়েছে আরও গভীর এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। কৈশোরে পাকস্থলীর অস্ত্রোপচারের জটিলতার কারণে তাঁকে টানা ১৭ মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁকে আরও প্রায় ২০টি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। হাসপাতালে রোগী হিসেবে থাকার সময় নিজের কথা অনেকবার যথাযথভাবে শোনা হয়নি বলে অনুভব করেছিলেন আলেকজান্দ্রা। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে চিকিৎসক হওয়ার সিদ্ধান্তে আরও দৃঢ় করে। তিনি উপলব্ধি করেন, প্রতিবন্ধী রোগীদের প্রয়োজন ও অভিজ্ঞতা বুঝতে চিকিৎসাব্যবস্থায় আরও বেশি সংবেদনশীলতা প্রয়োজন। একসময় যে শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে তাঁর স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা হয়েছিল, সেটিকেই নিজের শক্তিতে পরিণত করেছেন আলেকজান্দ্রা। তাঁর এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিয়েছে। আলেকজান্দ্রা প্রমাণ করেছেন—সঠিক সুযোগ, প্রযুক্তির সহায়তা এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
৫ দিন পর থাইল্যান্ড ছেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ‘আব্রাহাম লিংকন’
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ক্যালিফোর্নিয়ার দুই অধ্যাপক
ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত, ছাইয়ে বন্ধ জাকার্তার বিমানবন্দর
ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুরে নাচের ক্লাসে যাওয়ার জন্য খাবার রান্না না করাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ৩৮ বছর বয়সী যামিনী কৃষ্ণলাল যাদব চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী ৪১ বছর বয়সী কৃষ্ণলাল যাদবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঝিংগাবাই টাকলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, কাজ শেষে বাড়ি ফিরে কৃষ্ণলাল স্ত্রী ও দুই সন্তানের জন্য খাবার প্রস্তুত করতে বলেন। এ সময় যামিনী তাদের আবাসিক এলাকায় আয়োজিত নাচের ক্লাসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রান্না না করা নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। পুলিশের অভিযোগ, একপর্যায়ে কৃষ্ণলাল যামিনীর ঘাড় ও পেটে আঘাত করেন। সে সময় তাদের দুই সন্তানও সেখানে ছিল। মারধরের পর যামিনী ঘাড় ও পেটে তীব্র ব্যথার কথা জানান এবং স্বামীকে ওষুধ আনতে বলেন। কৃষ্ণলাল ওষুধ কিনতে গেলেও দোকান বন্ধ থাকায় ফিরে আসেন। এরপর যামিনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রথমে ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়। পরে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ঘাড়ের হাড় ভেঙে যাওয়া এবং অন্ত্রে গুরুতর আঘাতসহ একাধিক ক্ষত ধরা পড়ে। প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে এবং কৃষ্ণলালকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে দোষী বলা যায় না।
যুক্তরাজ্যে মুসলিম ট্যাক্সি চালককে কুকুর দিয়ে হেনস্তা! ভিডিও ভাইরাল
ভারতের উত্তরাখণ্ডে বন্ধ হচ্ছে মাদ্রাসা, ইতোমধ্যে ১৭টি সিলগালা
প্লাস্টিক সার্জারি করিয়ে বিমানবন্দরে আটকা পর্যটকরা, পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারার নেই মিল
ফ্রান্সে জনসমক্ষে হিজাব নিষিদ্ধ করার ডানপন্থী প্রস্তাবের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রচারণা শুরু করেছেন দেশটির একদল নারী। মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা নিজেদের হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ন্যাশনাল র্যালি বা আরএন-এর প্রস্তাব ঘিরে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হচ্ছে, তখনই এই অনলাইন উদ্যোগ সামনে এসেছে। প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের কেউ লিখেছেন, “হিজাব পরা আমাদের সব সহনাগরিকের সমর্থনে।” আবার কেউ জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত আইন পাস হলে সংহতি জানাতে তিনি নিজেও সঙ্গে সঙ্গে হিজাব পরবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই প্রচারণার পেছনে রয়েছে ফ্রান্সের ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির হিজাব নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা। দলটির এমপি জ্যঁ-ফিলিপ তাঙ্গি গত ৩০ আগস্ট এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বলেন, দলটি ক্ষমতায় গেলে জনসমক্ষে হিজাব পরার ক্ষেত্রে জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি জানান, এ বিষয়ে দলের অবস্থান চূড়ান্ত হয়েছে। তবে ন্যাশনাল র্যালির প্রস্তাবটি সরাসরি নির্বাচনের পরদিন কার্যকর করার কথা নয়। দলটির নেতা জর্ডান বারদেলা জানিয়েছেন, ক্ষমতায় গেলে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এটিকে বৃহত্তরভাবে ইসলামপন্থী মতাদর্শ নিয়ে একটি গণভোটের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। প্রস্তাবটি নিয়ে ফ্রান্সে সাংবিধানিক ও আইনগত প্রশ্নও উঠেছে। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে এর সাংবিধানিক বৈধতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরাও জনসমক্ষে হিজাব নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মত দিয়েছেন। ফ্রান্সে বর্তমানে সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনের সময় দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন না। ২০০৪ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষার্থীদের বড় বা স্পষ্ট ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যার আওতায় মুসলিম হিজাবও পড়ে। তবে জনসমক্ষে হিজাব পরার ওপর দেশজুড়ে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা বর্তমানে নেই। ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে হিজাব ইস্যুটি ফ্রান্সের রাজনীতিতে আবারও গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কে পরিণত হয়েছে। ন্যাশনাল র্যালি এটিকে তাদের নির্বাচনী কর্মসূচির অংশ করছে, আর বিরোধীরা বলছেন, প্রস্তাবটি বিশেষভাবে মুসলিম নারীদের লক্ষ্যবস্তু করছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অস্ত্রোপচারের সময় এক নারী রোগীর বায়ুত্যাগের জন্য লেজারে ধরে যায় আগুন, দগ্ধ হয় রোগী নিজেই!
ভারতে রাস্তায় নামাজ পড়ার অভিযোগে নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর