লাইফস্টাইল

চুলের তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন ট্রেন্ড ‘হেয়ার লংজেভিটি’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৩:৩৯
চুলের সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন ট্রেন্ড ‘হেয়ার লংজেভিটি’। ছবি: সংগৃহীত
চুলের সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন ট্রেন্ড ‘হেয়ার লংজেভিটি’। ছবি: সংগৃহীত

নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, চুলের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখার বিষয়েও আগ্রহ বাড়ছে। এ প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘হেয়ার লংজেভিটি’। এর লক্ষ্য শুধু চুল পড়া বন্ধ করা নয়, বরং আগে থেকেই চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বজায় রাখা।

 

সাধারণ চুলের যত্নে অনেক সময় খুশকি, শুষ্ক বা অতিরিক্ত তেলতেলে মাথার ত্বক, চুল ভেঙে যাওয়া কিংবা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণায় সমস্যার অপেক্ষা না করে আগেভাগেই নিয়মিত যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

এই পদ্ধতিতে শুধু শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা সাজসজ্জার দিকে নজর দেওয়া হয় না। বরং মাথার ত্বক, চুলের গোড়া, চুলের গঠন এবং দৈনন্দিন অভ্যাস—সবকিছুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। লক্ষ্য হলো বয়স বাড়ার সঙ্গে চুলের যে পরিবর্তন আসে, তা যতটা সম্ভব ধীর করা।

 

চুলের যত্ন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য একবারের কোনো চিকিৎসা বা অস্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য মাথার ত্বকের যত্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত তেল ও জমে থাকা উপাদান দূর করা এবং চুলের জন্য উপযুক্ত যত্ন নেওয়া চুলের ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

 

তবে অতিরিক্ত চুল ধোয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারণ এতে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা, চুলকানি, চুলের রুক্ষতা বা দ্রুত তেলতেলে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

চুলের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক যত্ন নেওয়া, চুলের দৈর্ঘ্যের চেয়ে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া।

 

এ ছাড়া অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং চুলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এমন অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এসব কারণে চুলের গঠন দুর্বল হতে পারে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপন, মানসিক চাপ, বংশগত কারণ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা পুষ্টির ঘাটতির মতো বিষয়ও চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চুলের যত্নের ক্ষেত্রে সামগ্রিক জীবনধারার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

 

বর্তমানে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণা চুলের যত্নের ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এর মূল ভাবনা হলো, সমস্যা তৈরি হওয়ার পর সমাধান খোঁজার পরিবর্তে আগে থেকেই যত্ন নিয়ে চুলের সুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

লাইফস্টাইল

View more
চুলের সুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন ট্রেন্ড ‘হেয়ার লংজেভিটি’। ছবি: সংগৃহীত
চুলের তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন ট্রেন্ড ‘হেয়ার লংজেভিটি’

নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, চুলের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখার বিষয়েও আগ্রহ বাড়ছে। এ প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘হেয়ার লংজেভিটি’। এর লক্ষ্য শুধু চুল পড়া বন্ধ করা নয়, বরং আগে থেকেই চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বজায় রাখা।   সাধারণ চুলের যত্নে অনেক সময় খুশকি, শুষ্ক বা অতিরিক্ত তেলতেলে মাথার ত্বক, চুল ভেঙে যাওয়া কিংবা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণায় সমস্যার অপেক্ষা না করে আগেভাগেই নিয়মিত যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   এই পদ্ধতিতে শুধু শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা সাজসজ্জার দিকে নজর দেওয়া হয় না। বরং মাথার ত্বক, চুলের গোড়া, চুলের গঠন এবং দৈনন্দিন অভ্যাস—সবকিছুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। লক্ষ্য হলো বয়স বাড়ার সঙ্গে চুলের যে পরিবর্তন আসে, তা যতটা সম্ভব ধীর করা।   চুলের যত্ন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য একবারের কোনো চিকিৎসা বা অস্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য মাথার ত্বকের যত্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত তেল ও জমে থাকা উপাদান দূর করা এবং চুলের জন্য উপযুক্ত যত্ন নেওয়া চুলের ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে।   তবে অতিরিক্ত চুল ধোয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারণ এতে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা, চুলকানি, চুলের রুক্ষতা বা দ্রুত তেলতেলে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।   চুলের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক যত্ন নেওয়া, চুলের দৈর্ঘ্যের চেয়ে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া।   এ ছাড়া অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং চুলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এমন অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এসব কারণে চুলের গঠন দুর্বল হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপন, মানসিক চাপ, বংশগত কারণ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা পুষ্টির ঘাটতির মতো বিষয়ও চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চুলের যত্নের ক্ষেত্রে সামগ্রিক জীবনধারার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।   বর্তমানে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণা চুলের যত্নের ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এর মূল ভাবনা হলো, সমস্যা তৈরি হওয়ার পর সমাধান খোঁজার পরিবর্তে আগে থেকেই যত্ন নিয়ে চুলের সুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৩:৩৯
নিউইয়র্কের প্রতি ৫টি সাবওয়ে ট্রেনের ১টি লেট, সমাধান পেতে লাগতে পারে আরও ২৫ বছর

নিউইয়র্কের প্রতি ৫টি সাবওয়ে ট্রেনের ১টি লেট, সমাধান পেতে লাগতে পারে আরও ২৫ বছর

আইশোস্পিড ও তাঁর মা

মা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সফল হয়ে মাকেই প্রতি মাসে ১ লাখ ডলার দিচ্ছেন আইশোস্পিড!

মিস্টার ন্যাচারাল নিরামিষ মেক্সিকান খাবারের জন্য অস্টিনে বিশেষভাবে পরিচিত। ছবি: সংগৃহীত

অস্টিনের স্বাদ ও ইতিহাস ধরে রেখেছে তিন কিংবদন্তি টেক্স-মেক্স রেস্তোরাঁ

মরোক্কান নারীদের সৌন্দর্য রহস্য
প্রাকৃতিক উপাদানেই রূপের যত্ন: মরোক্কান নারীদের সৌন্দর্য রহস্য

বিশ্বজুড়ে সৌন্দর্যচর্চার নানা আধুনিক পদ্ধতি জনপ্রিয় হলেও মরক্কোর নারীরা এখনো আস্থার জায়গা হিসেবে বেছে নেন প্রকৃতিকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা যে উপাদানগুলো ব্যবহার করে আসছেন, তা শুধু রূপচর্চার অংশ নয়—বরং তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই ত্বক ও চুলের যত্ন নেওয়ার এই ধারা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।   মরোক্কান নারীদের রূপচর্চায় সবচেয়ে আলোচিত উপাদানগুলোর একটি হলো আরগান তেল, যা ‘লিকুইড গোল্ড’ নামেও পরিচিত। স্থানীয় আরগান গাছের বাদাম থেকে তৈরি এই তেল ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ। প্রতিদিনের ব্যবহারে এটি ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং বয়সের ছাপ কমাতে ভূমিকা রাখে। অনেকেই ঘুমানোর আগে মুখে এই তেল ব্যবহার করেন, যাতে ত্বক সারারাত পুষ্টি পায়। চুলের যত্নেও এটি সমান কার্যকর—চুলের গোড়া মজবুত করা, উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা এবং আগা ফাটা কমাতে নিয়মিত আরগান তেল ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।   ত্বক পরিষ্কারের ক্ষেত্রে মরক্কোর অ্যাটলাস পর্বতমালা থেকে সংগৃহীত রাসুল ক্লে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই খনিজসমৃদ্ধ মাটি ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামে ভরপুর, যা ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয়। গোলাপ জল বা সাধারণ পানির সঙ্গে মিশিয়ে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। একই সঙ্গে এটি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং খুশকি দূর করতেও কার্যকর।   মরোক্কান স্পা সংস্কৃতি, যা ‘হাম্মাম’ নামে পরিচিত, সেখানে ব্ল্যাক সোপ একটি অপরিহার্য উপাদান। অলিভ ও অলিভ তেল দিয়ে তৈরি এই ঘন সাবান ত্বকে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রাখার পর বিশেষ ধরনের স্ক্রাবিং গ্লাভ দিয়ে ঘষে ত্বকের মৃত কোষ তুলে ফেলা হয়। এতে ত্বক নরম, মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের জমে থাকা ধুলাবালি ও ব্রণজনিত সমস্যা কমতেও সহায়তা করে।   গোলাপ জলও মরোক্কানদের দৈনন্দিন রূপচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশুদ্ধ গোলাপের পাপড়ি থেকে তৈরি এই জল প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে। ত্বক পরিষ্কারের পর এটি ব্যবহার করলে ত্বকের অম্ল-ক্ষার ভারসাম্য ঠিক থাকে এবং ত্বক সতেজ অনুভূত হয়। অনেকেই এটি মুখে স্প্রে করে মেকআপ সেট করতেও ব্যবহার করেন।   অন্যদিকে, আকার ফ্যাসি নামে পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী উপাদানও মরোক্কান নারীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। পপি ফুল ও ডালিমের খোসা শুকিয়ে তৈরি এই প্রাকৃতিক রঙ ঠোঁট ও গালে ব্যবহার করা হয়। এটি ত্বকে স্বাভাবিক লাল আভা এনে দেয়, যা কৃত্রিম প্রসাধনীর তুলনায় নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী বলে মনে করা হয়। সংবেদনশীল ত্বকের জন্যও এটি উপযোগী হওয়ায় এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, মরোক্কান নারীদের রূপচর্চার এই পদ্ধতি আধুনিক প্রসাধনী নির্ভরতার বিপরীতে একটি টেকসই ও স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নির্ভরশীল এই ঐতিহ্য শুধু সৌন্দর্য ধরে রাখে না, বরং ত্বক ও চুলের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতাও নিশ্চিত করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৬:১০
ছবি: সংগৃহীত

শরীরচর্চার আগে ও পরে কী খাবেন? জেনে নিন সকালের কিছু সহজ নাস্তার আইডিয়া

ছবিঃ সংগৃহীত

সম্পর্কের নাম বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নেই মাথাব্যথা, জেন-জিদের নতুন ডেটিং ট্রেন্ড ‘ওয়াইল্ডফ্লাওয়ারিং’

ছবি: সংগৃহীত

ভালো ঘুমের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড: কোনটি কাজের আর কোনটি ক্ষতিকর?

ছবি: সংগৃহীত
অনিয়মিত ঘুমে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি, সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা

পর্যাপ্ত ঘুম কেবল শরীরের ক্লান্তিই দূর করে না, বরং হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে শুধু দৈনিক ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোই যথেষ্ট নয়; ঘুমের সময়সূচিতে অনিয়ম বা ‘স্লিপ ইরেগুলারিটি’ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকসহ অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন আলাদা সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের কার্যকলাপে নীরবে মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।   নিয়মিত ঘুমের সময় পরিবর্তন করলে শরীরের 'সার্কাডিয়ান রিদম' বা প্রাকৃতিক জৈবঘড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ ও হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এই ছন্দপতনের ফলে শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। সাধারণত রাতে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কথা থাকলেও অনিয়মিত ঘুমের কারণে তা বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং হার্ট ও রক্তনালির ওপর চাপ বাড়াতে থাকে। ফলে ঘুমের দৈর্ঘ্য ঠিক থাকলেও ভুল সময়ের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, ক্লান্তি এবং শরীরের প্রদাহ কমছে না।   ব্যস্ত জীবনে রাত জেগে সিরিজ দেখা বা একেক দিন একেক সময়ে ঘুমানো এখন একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। অনেকেই একে সামান্য ব্যাপার মনে করলেও চিকিৎসকেরা একে শরীরের ওপর অত্যাচার করার শামিল বলে অভিহিত করেছেন। সুস্থ হৃদযন্ত্র নিশ্চিত করতে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত গভীর ঘুম নিশ্চিত করা ভীষণ জরুরি বলে তারা পরামর্শ দিয়েছেন।   হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে এবং ঘুমের সময় নির্দিষ্ট করতে চিকিৎসকেরা কিছু কার্যকরী উপায় অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, নিজের কাজের ওপর ভিত্তি করে কখন ঘুমাতে যাবেন এবং কখন উঠবেন তা নির্দিষ্ট করতে হবে। প্রয়োজনে ঘুমানো ও ওঠার জন্য ঘড়িতে রিমাইন্ডার বা অ্যালার্ম ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে ফোনের সংকেত পাওয়া মাত্রই সব কাজ বা ডিভাইস ছেড়ে বিশ্রামের আবহ তৈরি করা যায়।   এ ছাড়া, ভালো ঘুমের জন্য ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে চোখ দূরে রাখার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, কারণ স্ক্রিনের ব্লু-লাইট মেলাটোনিন হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়। একই সাথে সন্ধ্যার পর চা বা কফির মতো ক্যাফিনজাতীয় পানীয় সেবনের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যা দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ১৯, ২০২৬ ২১:২১
ছবি: সংগৃহীত

নিয়মিত ডিম খেলে কমতে পারে আলঝেইমার্স ও স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি

ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীন কাশ্মীরি সৌন্দর্য চর্চার রূপে নতুন আগ্রহ, জাফরান থেকে আখরোট স্ক্রাবে বাড়ছে চাহিদা

ছবি: সংগৃহীত

চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করবে প্রোটিনসমৃদ্ধ ৫টি খাবার

0 Comments