চুলের তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন ট্রেন্ড ‘হেয়ার লংজেভিটি’
নতুন প্রজন্মের মধ্যে শুধু দীর্ঘ জীবন নয়, চুলের সুস্থতা ও তারুণ্য ধরে রাখার বিষয়েও আগ্রহ বাড়ছে। এ প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘হেয়ার লংজেভিটি’। এর লক্ষ্য শুধু চুল পড়া বন্ধ করা নয়, বরং আগে থেকেই চুল ও মাথার ত্বকের যত্ন নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য বজায় রাখা।
সাধারণ চুলের যত্নে অনেক সময় খুশকি, শুষ্ক বা অতিরিক্ত তেলতেলে মাথার ত্বক, চুল ভেঙে যাওয়া কিংবা চুল পড়ার মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণায় সমস্যার অপেক্ষা না করে আগেভাগেই নিয়মিত যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে শুধু শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা সাজসজ্জার দিকে নজর দেওয়া হয় না। বরং মাথার ত্বক, চুলের গোড়া, চুলের গঠন এবং দৈনন্দিন অভ্যাস—সবকিছুকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। লক্ষ্য হলো বয়স বাড়ার সঙ্গে চুলের যে পরিবর্তন আসে, তা যতটা সম্ভব ধীর করা।
চুলের যত্ন নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, চুলের স্বাস্থ্য ধরে রাখা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দ্রুত ফল পাওয়ার জন্য একবারের কোনো চিকিৎসা বা অস্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি কার্যকর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য মাথার ত্বকের যত্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, অতিরিক্ত তেল ও জমে থাকা উপাদান দূর করা এবং চুলের জন্য উপযুক্ত যত্ন নেওয়া চুলের ভালো পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
তবে অতিরিক্ত চুল ধোয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কারণ এতে মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে গিয়ে শুষ্কতা, চুলকানি, চুলের রুক্ষতা বা দ্রুত তেলতেলে হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চুলের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক যত্ন নেওয়া, চুলের দৈর্ঘ্যের চেয়ে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া।
এ ছাড়া অতিরিক্ত তাপ প্রয়োগ, রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং চুলে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এমন অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ এসব কারণে চুলের গঠন দুর্বল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাপন, মানসিক চাপ, বংশগত কারণ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা পুষ্টির ঘাটতির মতো বিষয়ও চুলের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চুলের যত্নের ক্ষেত্রে সামগ্রিক জীবনধারার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বর্তমানে ‘হেয়ার লংজেভিটি’ ধারণা চুলের যত্নের ক্ষেত্রে একটি নতুন প্রবণতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এর মূল ভাবনা হলো, সমস্যা তৈরি হওয়ার পর সমাধান খোঁজার পরিবর্তে আগে থেকেই যত্ন নিয়ে চুলের সুস্থতা দীর্ঘদিন ধরে রাখা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
লাইফস্টাইল
View moreভারতে আর্থিক সংকটে থাকা পরিচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গিয়ে বড় বাড়ি, গাড়ি এবং তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করতে দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন প্রণব ভরদ্বাজ নামের এক ব্যক্তি। তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিদেশে গেলেই কি মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়, নাকি বাড়ি ও গাড়ির আড়ালে থাকে মর্টগেজ, ঋণ এবং জীবনযাত্রার বিপুল খরচ? এই প্রশ্নেই বিভক্ত হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। প্রণব ভরদ্বাজ তাঁর পোস্টে জানান, ভারতে থাকার সময় যেসব পরিচিত মানুষকে আর্থিকভাবে সংগ্রাম করতে দেখেছেন, তাঁদের কয়েকজন বিদেশে যাওয়ার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনযাপন করছেন বলে মনে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাঁদের বড় বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং দৈনন্দিন জীবনে নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এই পরিবর্তন তাঁকে ভাবিয়েছে, একই ব্যক্তি এক দেশে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও অন্য দেশে কীভাবে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জীবন গড়ে তুলতে পারেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পান। তাঁদের মতে, উন্নত দেশগুলোতে কর্মসংস্থান, আয় এবং বিভিন্ন পেশায় কাজের সুযোগের কারণে অনেক অভিবাসী নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারেন। বিশেষ করে যাঁরা নিজ দেশে সীমিত আয়ের কারণে বাড়ি বা গাড়ি কেনার সুযোগ পাননি, তাঁরা বিদেশে গিয়ে নিয়মিত আয়ের ভিত্তিতে এসব সম্পদ অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন। তবে অন্য একদল ব্যবহারকারী এই তুলনার সঙ্গে একমত নন। তাঁদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় বড় বাড়ি কিংবা দামি গাড়ি থাকলেই একজন মানুষ আর্থিকভাবে সচ্ছল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এসব সম্পদ মর্টগেজ ও গাড়ির ঋণের মাধ্যমে কেনা হয়। ফলে বাইরে থেকে স্বচ্ছন্দ জীবন মনে হলেও প্রতি মাসে বড় অঙ্কের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মর্টগেজের পাশাপাশি প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ বহন করতে হয়। একইভাবে গাড়ি কেনার পর মাসিক কিস্তি, অটো ইন্স্যুরেন্স, জ্বালানি ও মেরামতের খরচও রয়েছে। ফলে বাড়ি ও গাড়ির মালিকানা থাকলেও মাস শেষে একজন ব্যক্তির হাতে কত অর্থ অবশিষ্ট থাকে, সেটিই তাঁর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। কানাডার ক্ষেত্রেও আবাসন ব্যয় আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে বাড়ির দাম ও রেন্ট অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটের বড় অংশ দখল করে। এর সঙ্গে দৈনন্দিন খরচ, পরিবহন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় যোগ হয়। ফলে একজন অভিবাসীর আয় তুলনামূলক বেশি হলেও সেই আয়ের কতটা সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে, তা নির্ভর করে তাঁর বসবাসের শহর, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির ওপর। আলোচনায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। ভারতে যে আয় দিয়ে একটি পরিবারের জীবনযাত্রা পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় একই ব্যক্তি ভিন্ন পেশা বা বেশি বেতনের চাকরিতে যুক্ত হয়ে নতুন সুযোগ পেতে পারেন। তবে দুই দেশের আয়ের সরাসরি তুলনা করার সময় স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। শুধু ডলারে আয়ের পরিমাণ বেশি হলেই প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বেশি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে বিদেশে বসবাসের সঙ্গে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরেও বেশ কিছু বিষয় জড়িত। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, চাকরির স্থায়িত্ব, পরিবারের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা বাড়ি, গাড়ি কিংবা জীবনযাত্রার ছবি দিয়ে কারও সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করা কঠিন। প্রণব ভরদ্বাজের পোস্টটি মূলত ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করা। এতে উল্লেখ করা পরিচিত ব্যক্তিদের আয়, ঋণ, সম্পদের মূল্য বা সঞ্চয়ের কোনো তুলনামূলক হিসাব দেওয়া হয়নি। তাই তাঁর অভিজ্ঞতাকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা কিংবা ভারতের সব মানুষের আর্থিক অবস্থার প্রতিনিধিত্বকারী তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে পোস্টটি ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা অভিবাসী জীবনের একটি পরিচিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। বিদেশে বড় বাড়ি ও গাড়ি অর্জন করা যেমন আর্থিক অগ্রগতির লক্ষণ হতে পারে, তেমনি এসব সম্পদের বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণও থাকতে পারে। ফলে প্রবাসজীবনের সাফল্য বিচার করতে শুধু দৃশ্যমান সম্পদ নয়, আয়, ব্যয়, ঋণ এবং সঞ্চয়ের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা, বিলিয়নিয়াররা মিটিয়ে দেবেন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িভাড়া
২৩ বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্স, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তিই দিতে চান স্বামী
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, আগে থেকেই যেসব লক্ষণ চিনবেন অভিভাবকেরা
মেয়ের বিয়ের দিন বাবা হিসেবে তার হাত ধরে হেঁটে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬২ বছর বয়সী জিম জেটজ। কিন্তু অগ্ন্যাশয়ের চতুর্থ পর্যায়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাই ২০১৪ সালের মার্চে নিজের ১১ বছর বয়সী মেয়ে জোসির সঙ্গে আয়োজন করেন বিয়ের আদলে একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান, যাতে বাবার সঙ্গে সেই বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতি মেয়ের কাছে থেকে যায়। জিমের আশঙ্কা ছিল, মেয়ের প্রকৃত বিয়ের দিন পর্যন্ত তিনি হয়তো বেঁচে থাকবেন না। চিকিৎসার পাশাপাশি এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই তিনি চেয়েছিলেন, ভবিষ্যতে জোসি যেন অন্তত বাবার হাত ধরে হেঁটে যাওয়ার একটি স্মৃতি মনে রাখতে পারে। বাবা-মেয়ের এই ইচ্ছার কথা জানতে পারেন আলোকচিত্রী লিন্ডসে ভিলাতোরো। তিনি তাঁদের জন্য বিশেষ একটি স্মৃতি তৈরি করার উদ্যোগ নেন। বন্ধুদের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটির। জোসির ১১তম জন্মদিনে বাড়ির পেছনের উঠান সাজানো হয় ফুল দিয়ে। আনা হয় বিয়ের কেক। সাদা পোশাকে কনের সাজে হাজির হয় জোসি, আর স্যুট পরে প্রস্তুত হন তার বাবা জিম। এরপর বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো করে সাজানো পথ ধরে বাবার হাত ধরে হেঁটে যায় ছোট্ট মেয়েটি। অনুষ্ঠানটি ছিল সম্পূর্ণ প্রতীকী। সেখানে কোনো বর ছিল না, হয়নি কোনো আইনগত বা বাস্তব বিয়েও। বরং বাবা-মেয়ের ভালোবাসা ও তাঁদের সম্পর্কের বন্ধন উদযাপন করতেই এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে একজন যাজক তাঁদের সম্পর্কের জন্য আশীর্বাদ করেন। জিম মেয়েকে একটি আংটিও উপহার দেন, যা দিনটির স্মারক হয়ে থাকার কথা। আলোকচিত্রী লিন্ডসে অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরায় ধারণ করেন। বাবার সঙ্গে কাটানো সেই দিনটি জোসির জন্য হয়ে ওঠে বিশেষ এক স্মৃতি। আর জিমের কাছে এটি ছিল মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর গভীর ভালোবাসা ও উদ্বেগের এক আবেগঘন প্রকাশ। একজন বাবার কাছে মেয়ের বিয়ের দিন তার হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। জিম জানতেন না, জীবনের সেই দিনটি দেখার সুযোগ তাঁর হবে কি না। তাই ভবিষ্যতের অপেক্ষায় না থেকে মেয়ের সঙ্গে সেই মুহূর্তের একটি স্মৃতি আগেভাগেই তৈরি করে রাখেন তিনি। ২০১৪ সালের সেই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল না বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পূরণ করা। বরং অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে মেয়েকে এমন একটি স্মৃতি উপহার দেওয়া, যা ভবিষ্যতে বাবার অনুপস্থিতিতেও তাদের ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দেবে।
ককপিটে ঘুমিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা ৭৭ শতাংশ পাইলটের, ক্লান্তি নিয়েও উড়ছেন অনেকে
মাত্র ১৩ হাজার ডলারে ইতালিতে বাড়ি কিনে ১৮ হাজার ডলারে সংস্কার করলেন মার্কিন দম্পতি
জেরিরিগএভরিথিংয়ের পরীক্ষায় টিকল না আইফোন ডুয়ো, ধুলা ও চাপে বিকল স্ক্রিন
কোম্পানির নির্দেশ মেনে নিজের খরচে বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর চাকরিচ্যুত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন এক কর্মী। রেডিটে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, দূর থেকে কাজ করা কর্মীদের দশ দিনের মধ্যে অফিসে উপস্থিত হতে বলেছিল প্রতিষ্ঠানটি। নির্দেশ মানতে তিনি বাড়তি খরচে বিমানের টিকিট কেনেন। কিন্তু ফেরার অল্প সময়ের মধ্যেই মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানানো হয়। ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কর্মীর প্রায় এক মাস পর দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। হঠাৎ অফিসে ফেরার নির্দেশ আসায় তিনি ইমেইলে যাত্রার খরচ ও আগের পরিকল্পনার বিষয়টি জানান। তাঁর দাবি, নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মানবসম্পদ বিভাগ সতর্ক করে। এরপর তিনি টিকিট কেটে দেশে ফিরে অফিসে যোগ দেন। ওই কর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, চাকরিচ্যুতির বৈঠকে কোম্পানি তাঁর বিরুদ্ধে নীতিমালা না মানার অভিযোগ তোলে এবং পুরোনো কিছু বিষয় সামনে আনে। তিনি প্রায় দশ সপ্তাহের বেতনের সমপরিমাণ চাকরিবিচ্ছেদকালীন অর্থ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তবে তাঁর প্রশ্ন, চাকরি শেষ করার সিদ্ধান্ত দূরবর্তী বৈঠকে জানানো সম্ভব হলে তাঁকে কেন ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক যাত্রা করতে বলা হলো। প্রতিবেদনে কোম্পানির নাম, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরিচয় বা নিয়োগকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে চাকরিচ্যুতির কারণ ও সিদ্ধান্তের সময় সম্পর্কে কর্মীর দাবির বাইরে নিশ্চিত তথ্য নেই। রেডিটের সংশ্লিষ্ট পোস্টটি বর্তমানে প্ল্যাটফর্মের ফিল্টারে সরানো হয়েছে বলে দেখা যাচ্ছে। তবে পোস্ট সরানোর কারণ সেখানে বিস্তারিত জানানো হয়নি, আর সেটি দিয়েও অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা নির্ধারণ করা যায় না।
ব্রণের সমস্যা সারাতে মাসের পর মাস মুখ ধোননি ইনফ্লুয়েন্সার, জমেছে সবুজাভ স্তর
বুর্জ খলিফায় অফিস! প্রযুক্তিতে নেক্সট ইলন মাস্ক খ্যাত ১৪ বছরের জয়নম