সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ক্যানসার

তামিম চৌধুরী
ক্যানসার তহবিল চুরি করে বিয়ে-হানিমুন, ব্রিটিশ বাংলাদেশির কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যে স্তন ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড আত্মসাতের দায়ে ২৯ বছর বয়সী তামিম চৌধুরীকে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের আদালত। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, বিলাসবহুল কেনাকাটা, বিয়ে ও হানিমুনের খরচে ব্যয় করেছিলেন তিনি।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর তামিমকে এই সাজা দেওয়া হয়। সিটি অব লন্ডন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে বসবাস করতেন এবং ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অর্থ বিভাগে কাজ করতেন।   আদালতে বলা হয়, ২০২৩ সালে রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কাছ থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের ৯১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৭২ পাউন্ড ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। ওই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তামিম ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে রয়্যাল মার্সডেনকে পরিবর্তিত ব্যাংক তথ্য পাঠান। ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অফিসিয়াল প্যাডে দেওয়া ওই ব্যাংক হিসাবটি ছিল তার নিজের।   পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পুরো অর্থ তার ব্যক্তিগত স্যানটান্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এরপর দ্রুত ওই অর্থ খরচ করতে শুরু করেন তিনি।   তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তামিম প্রায় ৪৯ হাজার পাউন্ড খরচ করেন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, কাতারের বিমানের টিকিট, বিলাসবহুল কেনাকাটা, স্বজনদের অর্থ পাঠানো এবং বিয়ে ও হানিমুনের খরচ ছিল। একটি বিলাসবহুল আংটির পেছনেও প্রায় ১৪ হাজার পাউন্ড খরচ করেন তিনি।   পুলিশের তদন্তে তার মোবাইল ফোনের বার্তাতেও আর্থিক সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। চুরির আগে তিনি নিজেকে চরম আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানায় পুলিশ।   অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর স্যানটান্ডার তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে। ওই সময় অ্যাকাউন্টে থাকা ৪২ হাজার ৮৬৬ দশমিক ২৫ পাউন্ড জব্দ করা হয়।   ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি অব লন্ডন পুলিশের প্রতারণা তদন্তকারী দল তদন্ত শুরু করে। পরে ২০২৫ সালের জুনে তামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।   সিটি অব লন্ডন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগকে তামিম ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহার করেছেন। দাতাদের অর্থের ওপর মানুষের আস্থার সঙ্গে তার এই কর্মকাণ্ড বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   ব্রেস্ট ক্যানসার নাও জানিয়েছে, পুলিশ তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের পুরোটা উদ্ধার হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েনি।   ব্রেস্ট ক্যানসার নাও স্তন ক্যানসার গবেষণা, আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা এবং এ রোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থের একটি অংশ রয়্যাল মার্সডেনের মতো গবেষণা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
জিভের ক্যানসারকে সাধারণ ঘা ভেবে ভুল রোগ নির্ণয়, অবশেষে পা কেটে জিভ পুনর্গঠন
জিভের ক্যানসারকে সাধারণ ঘা ভেবে ভুল রোগ নির্ণয়, অবশেষে পা কেটে জিভ পুনর্গঠন

যুক্তরাজ্যের এক নারীর মুখের ক্যানসারকে প্রাথমিকভাবে ‘মাউথ থ্রাশ’ বা সাধারণ ঘা হিসেবে ভুল রোগ নির্ণয় করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভয়াবহ এই ক্যানসার থেকে বাঁচতে ১৩ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পায়ের একটি অংশ কেটে জিভ পুনর্গঠন করতে হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী এলেইন সয়্যার নামের ওই নারী বর্তমানে ক্যানসারমুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।   ২০২৩ সালের অক্টোবরে এলেইন প্রথম তার জিভে একটি ছোট ঘা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি লক্ষ্য করেন। শুরুতে এক চিকিৎসক এটিকে ‘মাউথ থ্রাশ’ বলে চালিয়ে দিলেও নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের ওপর ভরসা করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্বিতীয় একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। নতুন চিকিৎসক তাকে কুইন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ ওয়ার্ডে পাঠান।   সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার জিভে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা বা ক্যানসার ধরা পড়ে, যা ততদিনে তার গলার লিম্ফ গ্ল্যান্ড বা লসিকাগ্রন্থি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।   রোগ নির্ণয়ের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে এলেইনের জিভের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলা হয় এবং পায়ের একটি অংশ দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। পায়ের টিস্যু হওয়ায় অস্ত্রোপচারের পর তার জিভে সামান্য চুলও গজিয়েছিল, যা টানা ছয় সপ্তাহের ‘নির্মম’ রেডিওথেরাপির কারণে পরে ঝরে যায়।   এলেইন জানান, অস্ত্রোপচারের পর পায়ের মাংসপেশি কেটে নেওয়ায় তাকে নতুন করে হাঁটা শিখতে হয়েছিল। কথা বলার জন্য তাকে একটি হোয়াইটবোর্ড দেওয়া হলেও জিভ সচল রাখতে তিনি জোর করেই কথা বলার চেষ্টা করতেন।   গলার লসিকাগ্রন্থিগুলো ফেলে দেওয়ায় এবং জিভের অর্ধেক অংশ পায়ের টিস্যু দিয়ে তৈরি হওয়ায় এখন তার মাংস, সালাদ, মসলাযুক্ত খাবার বা ওয়াইন পানে বেশ কষ্ট হয়।   কেন্ট-এর টুনব্রিজ ওয়েলসের সাবেক এই ক্যাটারিং ব্যবসায়ী জীবনে কখনো ধূমপান বা মদ্যপান করেননি, তাই কেন তার এই ক্যানসার হলো তা নিয়ে চিকিৎসকরাও বিস্মিত। ২০২৫ সালের শরতে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে মুখের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ২৯৩-এ পৌঁছেছে, যা গত এক দশকে ৩৭ শতাংশ বেশি।   তরুণদের মধ্যে এই ক্যানসারের প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে না যাওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন এলেইন। শুরুতে সাধারণ ঘায়ের মতো দেখতে এই মারণব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন

হাইস্কুলের শেষ বছরটি সাধারণত পড়ালেখা, আড্ডা আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কাটে। কিন্তু নিউজার্সির ১৭ বছর বয়সী কিশোরী অ্যালায়না রিওজি-বোডিনের গল্পটি ছিল একেবারেই ভিন্ন।   ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তার শরীরে স্টেজ টু 'হজকিনস লিম্ফোমা' বা এক ধরনের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সাঁতার ও ট্রায়াথলনের মতো কঠোর অ্যাথলেটিক অনুশীলনে থাকা একজন প্রাণবন্ত কিশোরীর জন্য এই খবরটি ছিল চরম হতাশাজনক।   রোগ নির্ণয়ের পর জীবন বাঁচবে কি না, আর কেমোথেরাপির কারণে নিজের প্রিয় চুলগুলো ঝরে যাবে কি না—এই দুই ভয় তাকে সবচেয়ে বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে ভেঙে না পড়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে চুল পড়া রোধে 'কোল্ড ক্যাপ' ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন তিনি।   টানা আটটি কেমোথেরাপি সেশন শেষে অ্যালায়না প্রথমবার ক্যানসারমুক্ত হওয়ার সুখবর পান। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ক্যানসার আবারও ফিরে আসে, এবং এবার তা ছিল আরও আক্রমণাত্মক।   দ্বিতীয়বারের এই লড়াইয়ে কোল্ড ক্যাপ ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাকে মাথার চুল ফেলে দিতে হয়। নতুন করে ইমিউনোথেরাপি ও কেমোথেরাপির পাশাপাশি তাকে একটি জটিল 'স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট' প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   কঠিন এই সময়ে হাসপাতালের নার্সরা তার চিকিৎসা কক্ষটিকে টেলর সুইফটের থিমে সাজিয়ে ট্রান্সপ্লান্টের দিনটিকে রীতিমতো উৎসবমুখর করে তুলেছিলেন। নার্সদের এই অভাবনীয় মানসিক সমর্থন অ্যালায়নার যন্ত্রণাদায়ক সময়কে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।   কঠিন এই লড়াই শেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অ্যালায়না চূড়ান্তভাবে তার চিকিৎসা সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। নিজের অসুস্থতা ও হাসপাতালে কাটানো দিনগুলো তার জীবনের লক্ষ্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।   গত মে মাসে নার্সিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন পেডিয়াট্রিক অনকোলজি নার্স (শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় নিয়োজিত নার্স) হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি চান যে নার্সরা তাকে কঠিন সময়ে ভালোবেসে সুস্থ করে তুলেছেন, ঠিক সেভাবেই তিনি অন্যান্য ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াবেন।   পাশাপাশি, বয়ঃসন্ধিকালীন ক্যানসার রোগীদের সহায়তা ও অনুপ্রেরণা জোগাতে তিনি 'অ্যালায়না জেইন ফাউন্ডেশন' নামে একটি সংস্থাও পরিচালনা করছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে অ্যালায়না এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং তার ভাষায়—তিনি এখন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দারুণভাবে উপভোগ করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
চুইংগাম চিবোলেই কমবে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি, ৯৩% ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার দাবি
চুইংগাম চিবোলেই কমবে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি, ৯৩% ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার দাবি

খুব শিগগিরই হয়তো সাধারণ চুইংগাম চিবানোর মতোই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের বিশেষ চুইংগাম তৈরি করেছেন, যা ওরাল বা মুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী তিনটি জীবাণুকে আক্রমণ করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি, যা যৌনবাহিত সবচেয়ে সাধারণ একটি সংক্রমণ। লালারসের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই চুইংগামটি ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ভাইরাস ধ্বংস করতে কার্যকর।   ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া স্কুল অব ডেন্টাল মেডিসিন-এর অধ্যাপক হেনরি ড্যানিয়েলের নেতৃত্বে একদল গবেষক এমন একটি অ্যান্টিভাইরাল বা ভাইরাসরোধী প্রোটিনের সন্ধানে কাজ শুরু করেছিলেন, যা বিভিন্ন ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারে। গবেষণায় তারা দেখতে পান, হায়াসিন্থ বিন বা ল্যাবলাব বিনে 'এফআরআইএল' (FRIL) নামের এক ধরনের প্রোটিন রয়েছে।   এই প্রোটিন ভাইরাসগুলোকে একত্রে জমাট বাঁধতে বাধ্য করে, যার ফলে এগুলো সুস্থ মানবকোষে প্রবেশ করতে পারে না। শুধু তাই নয়, এই প্রোটিন আগে থেকেই কোষে প্রবেশ করা ভাইরাসগুলোকেও আটকে দিতে পারে, যা সংক্রমণকে আরও ছড়াতে বাধা দেয়। সংবাদমাধ্যমকে অধ্যাপক ড্যানিয়েল জানান, তারা মুখের ভেতরে থাকা অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছেন।   অধ্যাপক ড্যানিয়েলের মতে, এই চুইংগামে ভাইরাস ধ্বংস করার জন্য ঠিক যতটুকু বিন পাউডার বা শিমের গুঁড়া প্রয়োজন, তা ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি তৈরি করতে মাত্র কয়েক পয়সা খরচ পড়ে। অত্যন্ত সুলভ মূল্যে এটি তৈরি করা সম্ভব হওয়াই এই উদ্ভাবনের সবচেয়ে বড় সুবিধা।   তিনি আরও জানান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য তাদের দলটি এখন মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদনের পর সরাসরি মানুষের ওপর এই চুইংগামের পরীক্ষা চালানো হবে। এই ট্রায়ালটি চার সপ্তাহ ধরে চলবে, যেখানে রোগীদের দিনে তিনবার চুইংগামটি চিবানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।   প্রাথমিক পর্যায়ে এই চুইংগামটি ক্যানসারের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি, যেমন রেডিয়েশন থেরাপি ও সার্জারির পাশাপাশি একটি সহায়ক থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ড্যানিয়েলের আশা, ভবিষ্যতে এটি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সাধারণ ওষুধের দোকানে পাওয়া যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের লক্ষ্য রোগীদের প্রচলিত ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা নয়; বরং এই প্রাকৃতিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো ক্যানসারের পেছনে থাকা জীবাণু বা মাইক্রোবায়োমগুলোকে নির্মূল করা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভুয়া দাবি করে অনুদান সংগ্রহের অভিযোগে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
ক্যানসারের রোগী সেজে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার হাতিয়ে নিলেন ফ্লোরিডার এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভুয়া গল্প সাজিয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অনুদান হিসেবে পাওয়া এই অর্থ তিনি চিকিৎসার জন্য নয়, ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন।   ফ্লোরিডার কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (CCSO) জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম মারিবেথ এলেন জোনস (৫১)। তিনি বোনিটা স্প্রিংসের বাসিন্দা এবং একটি আবাসিক কমিউনিটিতে কার্যক্রম পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।   তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিনি বাসিন্দাদের কাছে দাবি করেন যে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তিনি নিজের চুল কেটে ফেলেন, যাতে দেখে মনে হয় তিনি কেমোথেরাপির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের শারীরিক অবস্থাও আরও খারাপ হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানুষকে জানাতেন।   তার এই দাবিতে সহানুভূতিশীল হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার জন্য একটি গুফান্ডমি (GoFundMe) তহবিল সংগ্রহ অভিযান চালু করেন। ওই অনলাইন তহবিলের অর্থ সরাসরি তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। এর বাইরে অনেকেই তাকে নগদ অর্থ ও ব্যক্তিগত চেকের মাধ্যমেও আর্থিক সহায়তা দেন।   তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার একই দাবি করে অন্তত দুটি পৃথক গুফান্ডমি প্রচারণার সুবিধাভোগী ছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চিকিৎসা ব্যয়ের নামে সংগ্রহ করা অর্থের কোনো অংশই ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়নি। বরং তিনি ব্যক্তিগত ঋণ ও অন্যান্য দেনা পরিশোধে সেই অর্থ ব্যয় করেছেন।   কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে নেপলস এলাকার অন্তত ২৩৮ জন বাসিন্দার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।   তদন্ত শেষে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে চলতি সপ্তাহে মারিবেথ এলেন জোনস নিজেই নেপলস জেল সেন্টারে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুরুতর চুরির (গ্র্যান্ড থেফট) মামলা করা হয়েছে, যা ফ্লোরিডা আইনে দ্বিতীয় ডিগ্রির গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।   তবে তিনি আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা আদালতে তার প্রথম শুনানি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। কলিয়ার কাউন্টির শেরিফ কেভিন রামবস্ক বলেন, "এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা। কারণ মানুষ আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেছিল, একজন জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে থাকা মানুষকে তারা সাহায্য করছে। সেই মানবিকতাকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।"   তিনি আরও বলেন, "এ ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করে না, প্রকৃত অসুস্থ মানুষের জন্য পরিচালিত বৈধ তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমের ওপরও মানুষের আস্থা নষ্ট করে।" এদিকে অনলাইন তহবিল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান গুফান্ডমি জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার কোনো স্থান নেই। মারিবেথ জোনসের নামে পরিচালিত সব তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার নামে কোনো তহবিল সংগ্রহের সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের 'গিভিং গ্যারান্টি' কর্মসূচির আওতায় অনুদানদাতাদের ৪১ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।   এ ঘটনার পর অনলাইনে অনুদান দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুদান দেওয়ার আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা, আয়োজকের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, হাসপাতাল বা নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ দেওয়াই নিরাপদ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ইসরাইলের সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য প্রতীকী। ছবি:সংগৃহীত
ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে ইসরায়েলিরা

ত্বক দ্রুত তামাটে বা ট্যান করতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বোঝাতে ব্যবহৃত ইউভি সূচককেই উল্টো কাজে লাগাচ্ছেন ইসরায়েলের একদল তরুণ। যে সূচক মূলত মানুষকে ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে সতর্ক করার জন্য তৈরি, সেটিতে মাত্রা ৯, ১০ কিংবা ১১-এর ওপরে উঠলেই কেউ কেউ রোদে বেরিয়ে পড়ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি ও স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   শনিবার টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। পশ্চিম গ্যালিলির শাভেই জিয়ন সৈকতে ১৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল উলফ জানান, ইউভি সূচক ১০ বা ১১ দেখলে তিনি ভালোভাবে ট্যান হওয়ার জন্য প্রায় ৪০ মিনিট রোদে থাকেন।   ইউভি সূচক তৈরি হয়েছিল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার জন্য। সূচকে ১১ বা তার বেশি মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন প্রবণতায় এই সতর্কতাকেই দ্রুত ট্যান হওয়ার উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।   ক্লালিট হেলথ সার্ভিসেসের সিনিয়র শিশু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এফরাত বার-ইলান জানিয়েছেন, গত দুই বছরে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগজনকভাবে এই প্রবণতা বাড়তে দেখেছেন তিনি। অনেকেই ইউভি রশ্মির ক্ষতির কথা জানেন, কিন্তু ভবিষ্যতে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা গুরুতর হতে পারে, সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।   সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইউভিএ ও ইউভিবি। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের রঞ্জক পদার্থে প্রভাব ফেলে ত্বককে তামাটে করতে পারে। অন্যদিকে ইউভিবি ত্বকের ওপরের স্তরে ক্ষতি ও সানবার্ন ঘটাতে পারে এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা, পিগমেন্টেশন এবং স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।   স্কিন ক্যানসারের মধ্যে বেসাল সেল ও স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় এবং দ্রুত শনাক্ত হলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে মেলানোমা বেশি বিপজ্জনক। এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।   ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ মেলানোমার হার থাকা ৩০টি দেশের তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান ২৩তম। তবে ওই দেশগুলোর মধ্যে মেলানোমায় মৃত্যুহার ইসরায়েলে সবচেয়ে কম। ইসরায়েল ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৯১ শতাংশ স্কিন ক্যানসার অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত হয়।   সানস্ক্রিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবিও নাকচ করেছেন ডা. বার-ইলান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত সানস্ক্রিন নির্দেশনা মেনে ব্যবহারে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিপরীতে অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির কারণে ত্বকের অকাল বার্ধক্য ও ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত।   চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। তরুণ বয়সে বারবার অতিরিক্ত রোদে থাকার প্রভাব বহু বছর পর গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। ফলে দ্রুত ট্যান হওয়ার জন্য ইউভি সূচকের উচ্চমাত্রাকে ‘সুযোগ’ হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কসংকেত হিসেবেই নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Unknown আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির এক এলাকায় ক্যানসারের ভয়াল থাবা, আক্রান্ত প্রায় ৪০০ বাসিন্দা
নিউ জার্সির এক এলাকায় ক্যানসারের ভয়াল থাবা, আক্রান্ত প্রায় ৪০০ বাসিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির কিপোর্ট এলাকায় ক্যানসারের ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দিয়েছে। নিউয়ার্ক থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণের এই এলাকায় সম্প্রতি প্রায় ৪০০ জন ক্যানসার রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। ফুসফুস, প্রোস্টেট, মস্তিষ্ক, পাকস্থলী, কোলন, থাইরয়েড, স্তন এবং কিডনিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ।   এই আতঙ্কের শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে, যখন রাস্টি মরিস নামের এক ব্যক্তি তার মায়ের কাছে এলাকার অনেকের অসুস্থতার খবর শুনে রোগীদের অবস্থান মানচিত্রে চিহ্নিত করতে শুরু করেন। তিনি ফার্স্ট স্ট্রিট নামের একটি মাত্র সড়কেই ২৮ জন ক্যানসার রোগীর সন্ধান পান।   যদিও আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি দেশটিতে প্রায় এক হাজার ‘ক্যানসার ক্লাস্টার’ বা নির্দিষ্ট এলাকায় অস্বাভাবিক মাত্রায় ক্যানসার সংক্রমণের কথা জানিয়ে থাকে, তবে কিপোর্টকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।   স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী নিকটস্থ অ্যারোমেরিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নামের একটি পরিত্যক্ত ল্যান্ডফিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এটি একটি ছোট এয়ারক্রাফট হাব হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৬২ সালে তা ল্যান্ডফিলে রূপান্তরিত হয়। সে সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় নির্বিচারে সেখানে বিপজ্জনক রাসায়নিক ফেলা হতো। ১৯৭৯ সালে ল্যান্ডফিলটি বন্ধ হয়ে গেলেও তা সঠিকভাবে সিলগালা না করায় পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রায় নয় লাখ ডলারের জরিমানার মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ। ২০১০ সালে নিউ জার্সির স্বাস্থ্য বিভাগের পরীক্ষায় সেখানে প্রচুর পরিমাণে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতি মিলেছিল। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সম্প্রতি করা স্বাধীন ও নতুন পরীক্ষাতেও একই রকম বিষাক্ত রাসায়নিকের সন্ধান পাওয়া গেছে।   সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যারোমেরিন ল্যান্ডফিলের ১৩টি কূপের পানিতে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক, সিসা, অ্যালুমিনিয়াম, কোবাল্ট, লোহা এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি কূপে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বেনজিন এবং ভিনাইল ক্লোরাইড পাওয়া গেছে, যা লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমার মতো মারাত্মক রোগের কারণ।   অন্যদিকে, মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) হুইসেলব্লোয়ার স্কট স্মিথ ল্যান্ডফিলের বাইরের মাটি পরীক্ষা করে পিসিবি এবং ডাইঅক্সিনের মতো বিষাক্ত উপাদানের সন্ধান পান। ইপিএ-এর নির্ধারিত মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রার চেয়ে এই রাসায়নিকের উপস্থিতি ছিল ৫৪৬ শতাংশ বেশি।   এতসব প্রমাণের পরও নিউ জার্সির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিভাগ বলছে, ল্যান্ডফিলের বিষাক্ত উপাদান কীভাবে স্থানীয় মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে, তার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ বা ‘পাথওয়ে’ তারা এখনও পায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা এই দাবির সাথে একমত নন। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক জুডিথ টি. জেলিকফ জানান, এই ধরনের ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান মাটির মাধ্যমে খুব সহজেই ছড়াতে পারে।   এছাড়া এলাকাটি বন্যাপ্রবণ হওয়ায় জলোচ্ছ্বাস ও বৃষ্টির পানির মাধ্যমে এই বিষাক্ত রাসায়নিক মানুষের বাসস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সাংবাদিক কারিন প্রাইস মুলার। আগামী সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিভাগ তাদের নিজস্ব পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত পেসার পার্টনার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান ওই এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সেখানে কোনো আবাসিক ভবন নির্মাণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেল রাশিয়ার ক্যানসার টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’
মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেল রাশিয়ার ক্যানসার টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’

রাশিয়ায় তৈরি ত্বক ক্যানসারের টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’ (Neoncovac) মানবদেহে প্রয়োগের পর অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গের দেওয়া তথ্যমতে, এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সফলভাবে তৈরি হয়েছে। ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে উদ্ভাবিত দুটি ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ বা পার্সোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ্যাডভান্সড মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক (mRNA) ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ অন্যতম।   সেই অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে প্রথমবারের মতো নিওনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগীর ইমিউন রেসপন্স অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করছেন। তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও দশজন রোগীর জন্য কাস্টমাইজড মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।   ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রথাগতভাবে শুধু রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে এই পদ্ধতিটি রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকর ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়।   এই প্রক্রিয়ায় রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কাস্টমাইজড ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পথ ধরে বর্তমানে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশ (সংগৃহীত)
ক্যাটফিশ থেকে ক্যাটফিশে ছড়াচ্ছে জীবন্ত ক্যানসার কোষ, প্রথমবার শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা

মিঠাপানির ক্যাটফিশের মধ্যে এক মাছ থেকে আরেক মাছে ছড়াতে সক্ষম বিরল ক্যানসারের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট ও কানাডার কুইবেক সীমান্তজুড়ে থাকা লেক মেমফ্রেমাগগের ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশে এই ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, মিঠাপানির পরিবেশে মাছের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে ছড়াতে সক্ষম ক্যানসার শনাক্তের এটিই প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা।   আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে ২২ জুলাই প্রকাশিত গবেষণায় এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকেরা আক্রান্ত মাছের টিউমার ও স্বাভাবিক টিস্যুর জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, আলাদা মাছের শরীরে পাওয়া ক্যানসার কোষগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ জিনগত মিল রয়েছে। এ থেকে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, প্রতিটি মাছের শরীরে আলাদাভাবে ক্যানসার তৈরি হচ্ছে না, বরং একটি অভিন্ন ক্যানসার কোষের বংশধারা মাছ থেকে মাছে ছড়িয়ে পড়ছে।   এ ধরনের ক্যানসারকে বলা হয় ট্রান্সমিসিবল ক্যানসার। সাধারণ সংক্রামক রোগের মতো কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে এখানে ক্যানসার সৃষ্টি করছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং জীবন্ত ক্যানসার কোষই একটি মাছের শরীর থেকে অন্য মাছের শরীরে গিয়ে টিউমার তৈরি করছে বলে জিনগত তথ্য ইঙ্গিত করছে।   লেক মেমফ্রেমাগগের ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশের শরীরে অস্বাভাবিক কালো ক্ষত ও টিউমার প্রথম নজরে আসে ২০১২ সালে। পরে সেগুলো পরীক্ষা করে মেলানোমা শনাক্ত করা হয়। কেন একই এলাকার অনেক মাছের শরীরে একই ধরনের ক্যানসার দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা।   তবে ক্যানসার কোষ ঠিক কীভাবে একটি ক্যাটফিশ থেকে আরেকটির শরীরে যাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকেরা এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান করছেন।   বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের কাছেই ক্যাটফিশ পরিচিত খাবার হলেও এই গবেষণা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। গবেষণাটি সব ধরনের ক্যাটফিশ নিয়ে নয়। ক্যানসারটি নির্দিষ্টভাবে ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশে শনাক্ত হয়েছে। চ্যানেল ক্যাটফিশ, ব্লু ক্যাটফিশ বা বাজারে সাধারণভাবে বিক্রি হওয়া অন্যান্য ক্যাটফিশে একই সংক্রামক ক্যানসার রয়েছে, এমন তথ্য গবেষণায় দেওয়া হয়নি।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আক্রান্ত ক্যাটফিশ খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই ক্যানসার ছড়াতে পারে, এমন কোনো প্রমাণও গবেষকেরা পাননি। এখন পর্যন্ত ঘটনাটি ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশের মধ্যে ক্যানসার কোষ ছড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।   প্রাণিজগতে এ ধরনের সংক্রামক ক্যানসার অত্যন্ত বিরল। এর আগে কুকুর, তাসমানিয়ান ডেভিল এবং কিছু সামুদ্রিক ঝিনুকজাতীয় প্রাণীর মধ্যে এমন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। মাছের মধ্যে এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।   এখন গবেষকেরা জানার চেষ্টা করছেন, ক্যানসারটি কীভাবে ছড়ায়, কতদিন ধরে এটি ওই জলাশয়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশের সংখ্যা ও মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রে এর কী প্রভাব পড়তে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী
মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী

মাত্র ৭ হাজার টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু। একসময় ২২ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা কনিকা টেকরিওয়াল। ‘জেটসেটগো’ (JetSetGo)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে তিনি এখন ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম পরিচিত মুখ।   ২০২১ সালে ভারতের সবচেয়ে ধনী স্বনির্ভর নারীদের তালিকায় স্থান পাওয়া কনিকাকে সম্প্রতি দেখা গেছে জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’র পঞ্চম মৌসুমে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকাতেও জায়গা করে নেন।   মাড়োয়ারি পরিবারে জন্ম নেওয়া কনিকার শৈশব কেটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি একটি সচ্ছল পরিবারে বিয়ে করবেন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী কনিকা ভিন্ন স্বপ্ন দেখতেন। স্নাতক পড়তে ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার পর নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।   ঠিক সেই সময়ই তার জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। মাত্র ২২ বছর বয়সে তার শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা। কনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক চিকিৎসক তাকে খুব অল্প সময় বেঁচে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। পরে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ক্যানসারকে পরাজিত করেন।   এক সাক্ষাৎকারে কনিকা বলেন, ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, জীবন খুবই ছোট। তাই অন্যের প্রত্যাশা নয়, নিজের স্বপ্নকেই অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই তাকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে—বেসরকারি জেট পরিষেবা খাতে।   ২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেটসেটগো’। কনিকার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শুরু করতে তিনি নিজের পকেট থেকে মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে কোম্পানিটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টার বহর পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন শিল্পপতি পুনিত ডালমিয়া এবং সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরাও। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইসহ একাধিক শহরে রয়েছে কোম্পানির কার্যক্রম।   তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। পুরুষ-প্রধান এভিয়েশন শিল্পে কাজ করতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কনিকার ভাষায়, অনেকেই তাকে ব্যবসার বদলে ‘কাপকেক বানানোর’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। আবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে তাকে অহংকারী বলা হতো, যেখানে একই আচরণের জন্য পুরুষ উদ্যোক্তাদের ‘উদ্যমী’ হিসেবে দেখা হতো।   সব বাধা অতিক্রম করেই আজ তিনি ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে কনিকা টেকরিওয়াল হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী এবং অরবিন্দ ফার্মার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি. শরৎ চন্দ্র রেড্ডির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। ২০২৬ সালের মে মাসে তাদের পরিবারে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান।   কনিকার জীবনের গল্প আজ শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার নয়; বরং এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনুপ্রেরণার নাম।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
লি রেডপাথ, যিনি ফেনবেনডাজল সেবনের পর মারা যান। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করে ক্যানসার সারানোর আশায় পশুর কৃমির ওষুধ খেয়ে যুবকের করুণ মৃত্যু

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করে পশুর জন্য ব্যবহৃত একটি কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের পর যুক্তরাজ্যের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসা বা প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রচারিত ওই ওষুধ মানুষের জন্য অনুমোদিত নয় এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।   ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী লি রেডপাথ নামের ওই ব্যক্তি ফেনবেনডাজল (Fenbendazole) নামের একটি অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক বা পরজীবীনাশক ওষুধ টানা কয়েক সপ্তাহ সেবনের পর গুরুতর লিভার বিকল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে গত বছরের ২৯ এপ্রিল ক্যামব্রিজের অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   তদন্তে জানা যায়, লি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট দেখে বিশ্বাস করেছিলেন, ফেনবেনডাজল ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় উপকারী হতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি ইউক্রেনভিত্তিক এক অনলাইন সরবরাহকারীর কাছ থেকে ওষুধটি সংগ্রহ করেন। ফেনবেনডাজল মূলত পশুর অন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের পরজীবী ও কৃমি দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয় এবং ক্যানসারের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়।   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের হান্টিংডনে অনুষ্ঠিত এক করোনারের তদন্তে লির দীর্ঘদিনের সঙ্গী লরেন লল সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য দেখে লি মনে করেছিলেন ওষুধটি নিরাপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। লরেন বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই লি ওষুধটি সেবন শুরু করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের ওষুধ অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় অনেক মানুষ পূর্ণ তথ্য না জেনেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   তিনি আরও জানান, তার ধারণা লি মৃত্যুর আগে হয়তো প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিতভাবে এই ওষুধ গ্রহণ করছিলেন। তদন্তে অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. গুইলিম ওয়েব স্পষ্টভাবে জানান, মানুষের ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় ফেনবেনডাজলের কোনো প্রমাণিত উপকারিতা নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।   হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, লিকে গত বছরের ১২ এপ্রিল গুরুতর লিভার সমস্যার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সময় তিনি চিকিৎসকদের জানান যে, অনলাইনে ক্যানসারবিরোধী গুণের দাবি দেখে তিনি ফেনবেনডাজল কিনে সেবন করছিলেন।   ময়নাতদন্তে দেখা যায়, লিভারের গুরুতর ক্ষতির পাশাপাশি কিডনিও অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, লির আগে থেকেই অ্যালকোহলজনিত লিভার সিরোসিস ছিল। তবে করোনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেনবেনডাজলজনিত লিভারের বিষক্রিয়াই ছিল তার মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা শেষ পর্যন্ত লিভার ও কিডনি বিকলের দিকে নিয়ে যায়।   ক্যামব্রিজশায়ার ও পিটারবরোর সহকারী করোনার ক্যারোলিন জোনস বলেন, ফেনবেনডাজল অত্যন্ত শক্তিশালী কৃমিনাশক ওষুধ এবং এটি মানুষের জন্য কখনো যে মাত্রায় বা যে সময় পর্যন্ত ব্যবহারের কথা ভাবা হয়নি, লি তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ও দীর্ঘ সময় ধরে এটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, লি নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতির উদ্দেশ্যে ওষুধটি গ্রহণ করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।   লরেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আনুষ্ঠানিক সতর্কতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানালেও করোনার জানান, সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অনলাইনে এ ধরনের ওষুধ সহজে কেনাবেচার বিষয়টি উদ্বেগের। তদন্ত শেষে লির মৃত্যুকে 'মিসঅ্যাডভেঞ্চার' বা অনিচ্ছাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ফলে সংঘটিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর অনেকগুলোরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না। কোনো ওষুধ বা বিকল্প চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   সূত্র: দ্য সান, যুক্তরাজ্য; করোনারের তদন্তে উপস্থাপিত তথ্য

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু, দুর্ঘটনা থেকে আত্মহত্যা কোন কারণে কত প্রাণ ঝরে?

বিশ্বের অন্যতম উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী জরুরি সেবা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে আট হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এর বেশির ভাগই হৃদরোগ, ক্যানসার, বার্ধক্যজনিত জটিলতা ও অন্যান্য স্বাভাবিক স্বাস্থ্যগত কারণে হলেও প্রতিদিন শত শত মানুষের প্রাণ ঝরে সড়ক দুর্ঘটনা, বন্দুক-সংক্রান্ত সহিংসতা, আত্মহত্যা, মাদকের অতিরিক্ত সেবন এবং অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য কারণে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর প্রকাশিত জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেই হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ জন মানুষের জীবনাবসান ঘটে।   সিডিসির তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ। এরপর রয়েছে ক্যানসার। তবে তৃতীয় সর্বোচ্চ কারণ হলো অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা, যার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা, মাদকের অতিরিক্ত সেবন, বিষক্রিয়া, পড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত। এসব কারণে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক।   বন্দুক-সংক্রান্ত সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় জননিরাপত্তা সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়। বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আত্মহত্যার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে।   আত্মহত্যার সংখ্যাও উদ্বেগজনক। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ১৩০ জনের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, একাকীত্ব, মাদকাসক্তি, আর্থিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।   একইভাবে হত্যাকাণ্ডেও প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এসব ঘটনার বড় অংশেই আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু শহরে হত্যাকাণ্ডের হার কমেছে, তবুও বন্দুক-সংক্রান্ত সহিংসতা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা।   সড়ক দুর্ঘটনাও প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে রয়েছে। ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএইচটিএসএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। অতিরিক্ত গতি, মদ্যপ বা মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং অসতর্ক চালনা এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।   মাদকের অতিরিক্ত সেবনও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সংকট। বিশেষ করে ফেন্টানিলসহ শক্তিশালী কৃত্রিম ওপিওয়েডের কারণে গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের মৃত্যুর হার কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলেছে, তবুও প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন।   পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও দেশটিতে উদ্বেগের বিষয়। যদিও এ ধরনের ঘটনায় প্রতিদিন কতজন মারা যান, সে বিষয়ে আলাদা কোনো জাতীয় দৈনিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না। কারণ এসব মৃত্যু সাধারণত হত্যাকাণ্ড, শিশু নির্যাতন বা অন্যান্য অপরাধের পরিসংখ্যানের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত থাকে। তারপরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো বলছে, প্রতিবছর হাজারো গুরুতর অপরাধ ও প্রাণহানির ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ ভূমিকা রাখে।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিনের এই বিপুল প্রাণহানি কমাতে শুধু উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, বন্দুক-সংক্রান্ত সহিংসতা প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাদের মতে, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা গেলে প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষা করা সম্ভব।   যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল জনসংখ্যার তুলনায় অধিকাংশ মৃত্যুই স্বাভাবিক বা স্বাস্থ্যগত কারণে হলেও প্রতিদিন ঘটে যাওয়া শত শত প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু দেশটির জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু
প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত নেতানিয়াহু, প্রথমবার আনুষ্ঠানিক স্বীকারোক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং গোপনীয়তার সঙ্গে তার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে।   শুক্রবার বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশের সময় ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা নিজেই বিষয়টি সামনে আনেন। এর মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটেছে।   সরকারি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে তার একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। যদিও তখন বিষয়টি প্রকাশ করা হলেও ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল।   সাম্প্রতিক মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় তার প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম আকারের একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়ায় সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।   ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে তার শরীরে ক্যানসারের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সব পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে দাবি করেছেন।   তিনি আরও জানান, প্রোস্টেটের সমস্যাটি ছিল সামান্য এবং তা পুরোপুরি নিরাময় হয়েছে।   তবে স্বাস্থ্য রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্টটি দুই মাস আগেই প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত করা হয়।   এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার অসুস্থতার খবর শত্রু রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে ইরান প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তথ্য প্রকাশে দেরি করা হয়েছে।   বর্তমানে তিনি পূর্ণ কর্মক্ষম রয়েছেন বলে জানানো হলেও, তার এই গোপনীয়তা রক্ষা করার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

নীলুফা নিশাত এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
দ্রুত শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধ, ক্যানসার চিকিৎসায় বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে চীন

বিশ্বজুড়ে ক্যানসার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও আশার আলো দেখাচ্ছে চীন। দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি ক্যানসার মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করছে। সম্প্রতি দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিছুয়ান ক্যানসার হাসপাতালে আয়োজিত ক্যানসার সচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই চিত্র উঠে আসে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান লেই হাইছাও জানান, ক্যানসারকে ভয় না পেয়ে প্রতিরোধের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, অন্তত ৪০ শতাংশ ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি ধূমপান ও মদ্যপান এড়িয়ে সুস্থ জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (স্ক্রিনিং) ওপর জোর দেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে চীনে নারীদের জন্য বিনামূল্যে জরায়ু ও স্তন ক্যানসার পরীক্ষা কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় এ পর্যন্ত ৩০ কোটির বেশি জরায়ু ক্যানসার এবং ২০ কোটির বেশি স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ফলে দেশটিতে ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ সালে ক্যানসার রোগীদের পাঁচ বছর বেঁচে থাকার হার ছিল ৪০.৫ শতাংশ, যা ২০২২ সালে বেড়ে ৪৩.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চীন সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৪৬.৬ শতাংশে উন্নীত করা।  বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুসফুসের ক্যানসার শনাক্ত হলে অস্ত্রোপচারের পর ফিরে আসার ঝুঁকি কমেছে এবং কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে বেঁচে থাকার হার ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার

তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০