সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ক্যানসার

ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর ক্যানসার নিশ্চিত করল ভ্যাটিকান
ফুসফুসের অস্ত্রোপচারের পর পোপ লিওর ক্যানসার নিশ্চিত করল ভ্যাটিকান

ভ্যাটিকান মঙ্গলবার নিশ্চিত করেছে যে, পোপ চতুর্দশ লিও ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর ডান ফুসফুসের নিচের অংশ বা 'লোয়ার লোব' অপসারণের জন্য একটি সফল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকরা এই রোগের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। ভ্যাটিকানের প্রকাশিত একটি মেডিকেল বুলেটিনে জানানো হয়, অস্ত্রোপচারের আগে করা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেই তাঁর ক্যানসারের সন্দেহ করা হয়েছিল এবং অস্ত্রোপচার চলাকালীন তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়।   অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্যে রোমের জেমেলি হাসপাতালে পৌঁছালে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী পোপকে উষ্ণ স্বাগত জানান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই অস্ত্রোপচারের ফলাফল বিশ্লেষণ করেই নির্ধারণ করা হবে যে তাঁর আক্রান্ত কোষগুলো ম্যালিগন্যান্ট বা ক্ষতিকারক কি না এবং ভবিষ্যতে কেমোথেরাপি বা অন্য কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হবে কি না।   জেমেলি হাসপাতালের প্রধান থোরাসিক সার্জন ডা. স্টেফানো মার্গারিটোরার নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। অস্ত্রোপচার চলাকালে হাসপাতালের চ্যাপেলে রোমের ভিকার কার্ডিনাল বালদাসারে রেইনার নেতৃত্বে চিকিৎসা কর্মীরা পোপ ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের আরোগ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করেন।   ১৭ মাস আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর ৭১ বছর বয়সী পোপ তাঁর এই গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যাটির বিষয়ে শুরু থেকেই ব্যাপক স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন। গত রবিবার দুপুরের প্রার্থনার সময় তিনি নিজেই তাঁর ফুসফুসে একটি ছোট 'নোডিউল' বা মাংসপিণ্ড ধরা পড়ার কথা জানান এবং সেটি অপসারণের ঘোষণা দেন। ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নোডিউলটি ক্যানসারযুক্ত হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে তা অপসারণ করা গেলে পোপের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল।   সাধারণ অ্যানেসথেশিয়ার মাধ্যমে করা এই অস্ত্রোপচারের পর পোপকে অন্তত এক সপ্তাহ হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। এই কারণে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁর পূর্বনির্ধারিত সব কর্মসূচি বাতিল করেছে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ। যেহেতু পোপদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জেমেলি হাসপাতালের বিশেষ কক্ষটিতে বর্তমানে সংস্কার কাজ চলছে, তাই পোপ লিও আপাতত এর কাছাকাছি অন্য একটি কক্ষে অবস্থান করবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
লিউকেমিয়া শনাক্তের পর দুই চিকিৎসক বোনের ভিডিও ভাইরাল
পরিবারে তৃতীয় ক্যানসারের আঘাত, লিউকেমিয়া শনাক্তের পর দুই চিকিৎসক বোনের ভিডিও ভাইরাল

ভারতের কেরালায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ৩৩ বছর বয়সী চিকিৎসক ডা. থারা কালারিক্কালের রক্তের ক্যানসার লিউকেমিয়া শনাক্ত হওয়ার পর তাঁর ছোট বোন ডা. চিত্রা কালারিক্কালের সঙ্গে ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কঠিন রোগের খবর জানালেও দুই বোনের হাসিমুখ ও দৃঢ় মনোভাব অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ, মনোরমা অনলাইন ও মধ্যমমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার পর ডা. থারার লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়। পরিবারের সদস্যদের আগে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা থাকলেও নতুন করে এই রোগের খবর তাঁদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   দুই বোনের ভিডিওতে ‘চেস্ট নম্বর ৩’ কথাটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। এর মাধ্যমে তাঁরা পরিবারে তৃতীয় সদস্যের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। রোগের খবরটি তাঁরা যেভাবে স্বাভাবিক ও দৃঢ় ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।   ডা. থারা ও ডা. চিত্রার পরিবারের ক্যানসারের অভিজ্ঞতা বহুদিনের। তাঁদের নানি ও মা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরে তাঁদের বড় বোন ডা. সূর্য কালারিক্কাল স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তবে চিকিৎসার পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং বর্তমানে ক্যানসারজয়ী হিসেবে পরিচিত।   পরিবারের এই অভিজ্ঞতার কারণে ক্যানসার চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপ, রোগীর মানসিক চাপ এবং স্বজনদের উদ্বেগ সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যক্ষ ধারণা রয়েছে। মায়ের চিকিৎসার সময় তাঁরা হাসপাতালে অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। বড় বোনের চিকিৎসার সময়ও পরিবারের সদস্য হিসেবে পাশে ছিলেন।এবার ডা. থারার রোগ শনাক্ত হওয়ার পর সেই পুরোনো অভিজ্ঞতাগুলো আবার সামনে এসেছে। তবে দুই বোনের বক্তব্যে হতাশার পরিবর্তে রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।   মনোরমা অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষায় কিছু অস্বাভাবিকতা দেখা যাওয়ার পর ডা. থারার আরও পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার সূত্র ধরেই লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়।রোগের খবর প্রথমে তাঁদেরও উদ্বিগ্ন করেছিল। ডা. চিত্রা জানিয়েছেন, পরীক্ষার ফলাফল আসার অপেক্ষার সময় উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে একের পর এক পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাটা কঠিন ছিল।   প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁরা অস্থিমজ্জার পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন। বিস্তারিত পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তাঁরা।তবে ডা. থারার লিউকেমিয়ার নির্দিষ্ট ধরন, রোগের পর্যায় এবং চিকিৎসার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁর চিকিৎসার ফলাফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   ডা. চিত্রার বক্তব্যে উঠে এসেছে, ক্যানসার শনাক্ত হলে স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তা তৈরি হয়। কিন্তু শুধু ভয় ও হতাশার মধ্যে আটকে না থেকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই গুরুত্বপূর্ণ।তাঁদের পরিবারে আগে ক্যানসারের অভিজ্ঞতা থাকায় রোগটির কঠিন দিকগুলো তাঁরা জানেন।   একই সঙ্গে তাঁরা মনে করেন, ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই জীবনের সব সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়। রোগের ধরন ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার সুযোগ থাকে।তাঁরা ক্যানসারকে তুচ্ছ করে দেখানোর চেষ্টা করছেন না। বরং রোগের গুরুত্ব স্বীকার করেই মানসিকভাবে শক্ত থাকা এবং চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের খবর সাধারণত উদ্বেগ ও শোকের সঙ্গে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ডা. থারা ও ডা. চিত্রা তাঁদের ভিডিওতে হাসিমুখে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। এই ভিন্নধর্মী উপস্থাপন দর্শকদের আকৃষ্ট করেছে।   মনোরমা অনলাইনকে দেওয়া বক্তব্যে ডা. চিত্রা জানান, ভিডিওটি প্রকাশের একটি উদ্দেশ্য ছিল ক্যানসার নিয়ে মানুষের ভয় ও সামাজিক সংকোচ কমানো। অনেকেই ভয় বা অস্বস্তির কারণে রোগের কথা প্রকাশ করতে চান না। অথচ সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তাঁদের ভিডিও দেখার পর কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা জানিয়েছেন বলেও ডা. চিত্রা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাজে এসেছে—এমন প্রতিক্রিয়া পেয়ে তাঁরা আনন্দিত।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হাঞ্জানি
ব্রিটেনে ক্যানসার গবেষণার নেতৃত্বে মুসলিম অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হাঞ্জানি

ব্রিটেনের ক্যানসার গবেষণাবিষয়ক দাতব্য সংস্থা ক্যানসার রিসার্চ ইউকের নতুন প্রধান ক্লিনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হাঞ্জানি। ৬ অক্টোবর তিনি দায়িত্ব শুরু করেন। ২০১৭ সাল থেকে পদটিতে থাকা অধ্যাপক চার্লস সোয়ানটনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি।    সংস্থাটির চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন অধ্যাপক মারিয়াম। রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় নির্ধারণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং গবেষণার ফল চিকিৎসায় কাজে লাগানোর উদ্যোগে ভূমিকা থাকবে তাঁর। চিকিৎসা গবেষণায় নতুন কর্মী তৈরির পাশাপাশি ব্রিটেন ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনেও সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।    অধ্যাপক মারিয়াম ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ক্যানসার ইনস্টিটিউটে ক্যানসার জিনোমিকস ও মেটাস্ট্যাসিসের অধ্যাপক। তিনি বক্ষসংক্রান্ত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ। ক্যানসার সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলায়, শরীরের অন্য অংশে ছড়ায় এবং চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তা তাঁর গবেষণার প্রধান বিষয়।    ফুসফুসের ক্যানসারের পরিবর্তন নিয়ে বৃহৎ গবেষণা প্রকল্প ট্রেসারএক্সে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রকল্পটিতে টিউমারের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা এবং রোগ শনাক্তের পর থেকে রোগীদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ক্যানসারের বিকাশ বোঝার চেষ্টা চলছে। এর লক্ষ্য রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসার সুযোগ শনাক্ত করা এবং রোগীভেদে আরও উপযোগী চিকিৎসা নির্ধারণে সহায়তা করা।    ক্যানসার রিসার্চ ইউকের প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল বলেছেন, রোগীর অসুস্থতার বিভিন্ন পর্যায়ে টিউমার পর্যবেক্ষণ করে অধ্যাপক মারিয়াম ও তাঁর সহকর্মীরা ক্যানসারের পরিবর্তনশীল আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিয়েছেন। গবেষণায় অবদানের জন্য অধ্যাপক মারিয়াম একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। ক্যানসারের বিবর্তন নিয়ে গবেষণায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ইউরোর ইউরোপীয় অনুদান পাওয়া একটি আন্তর্জাতিক দলেও তিনি যুক্ত ছিলেন।    নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে অধ্যাপক মারিয়াম বলেছেন, ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএস গবেষণার ফল রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি করে। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারকে উন্নত ক্যানসার চিকিৎসায় রূপ দেওয়ার কাজ আরও এগিয়ে নিতে চান তিনি।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৪:০
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের ইঙ্গিত পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
পাকা চুলের সঙ্গে ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত যোগসূত্র খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

চুলে পাক ধরা সাধারণত বয়স বাড়ার স্বাভাবিক একটি লক্ষণ হিসেবেই দেখা হয়। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, চুলের রং হারানোর পেছনে শরীরের এমন একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে, যা ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।   গবেষণাটি ইঁদুরের ওপর চালানো হয়েছে। এতে বিজ্ঞানীরা চুলের ফলিকলের ভেতরে থাকা বিশেষ ধরনের স্টেম সেল বা মূল কোষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই কোষগুলোকে বলা হয় মেলানোসাইট স্টেম সেল। এগুলো থেকেই চুল ও ত্বকের রং তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় রঞ্জক কোষ তৈরি হয়।   স্বাভাবিক অবস্থায় মেলানোসাইট স্টেম সেল বারবার পুনরুৎপাদিত হয়ে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরি করে। এর ফলে চুলে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক রং বজায় থাকে। কিন্তু শরীরের কোষগুলো প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। অতিবেগুনি রশ্মি, কিছু রাসায়নিক পদার্থ এবং কোষের স্বাভাবিক বিপাকীয় প্রক্রিয়াও ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে।   গবেষণায় দেখা গেছে, মেলানোসাইট স্টেম সেলের ডিএনএতে বিশেষ ধরনের গুরুতর ক্ষতি হলে কোষগুলো একটি প্রতিরক্ষামূলক পথে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় স্টেম সেলগুলো দ্রুত পরিণত রঞ্জক কোষে রূপান্তরিত হয় এবং পরে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে হারিয়ে যায়। ফলে নতুন রঞ্জক কোষ তৈরির ক্ষমতা কমে যায় এবং ধীরে ধীরে চুলে পাকা রং দেখা দিতে পারে।   বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য সুবিধা হলো—ডিএনএতে ক্ষতি হওয়া কোষগুলোকে স্টেম সেল হিসেবে টিকে থেকে বারবার বিভাজিত হওয়ার সুযোগ না দেওয়া। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দীর্ঘদিন বেঁচে থেকে বিভাজিত হতে থাকলে সেখানে জিনগত পরিবর্তন জমা হতে পারে, যা ভবিষ্যতে অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।   অর্থাৎ, চুলের রং হারানোর এই প্রক্রিয়াকে শরীরের এক ধরনের ‘ত্যাগ’ হিসেবে দেখা যেতে পারে। একটি ক্ষতিগ্রস্ত কোষকে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে শরীর সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কোষের বিস্তার ঠেকানোর চেষ্টা করে।   তবে গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। সব ধরনের ডিএনএ ক্ষতির ক্ষেত্রে মেলানোসাইট স্টেম সেল একইভাবে আচরণ করে না।   গবেষকরা ইঁদুরের কোষকে ক্যানসার সৃষ্টিকারী কিছু রাসায়নিক এবং অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আনেন। তখন দেখা যায়, কিছু পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেম সেল স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়ায় না গিয়ে নিজেদের পুনরুৎপাদন করতে থাকে। অর্থাৎ, ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত থাকা সত্ত্বেও তারা টিকে থাকে এবং বিভাজিত হতে থাকে।   এ ধরনের পরিস্থিতি মেলানোমা বা ত্বকের এক ধরনের ক্যানসার তৈরির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আশপাশের কোষ ও টিস্যু থেকে পাওয়া রাসায়নিক সংকেতও এই আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে।   গবেষকদের ভাষায়, একই স্টেম সেল পরিস্থিতি অনুযায়ী দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে যেতে পারে। একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ দ্রুত পরিণত হয়ে স্টেম সেলের ভাণ্ডার থেকে সরে গেলে চুল পেকে যেতে পারে। অন্যদিকে, কিছু পরিবেশে সেই ক্ষতিগ্রস্ত কোষ টিকে গিয়ে বিভাজিত হতে থাকলে ক্যানসার তৈরির সম্ভাব্য পথ তৈরি হতে পারে।   এখানেই পাকা চুল ও ক্যানসারের মধ্যে গবেষণায় পাওয়া অপ্রত্যাশিত সম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে পাকা চুল নিজেই ক্যানসার প্রতিরোধ করে। বরং একই কোষীয় প্রতিক্রিয়ার দুটি ভিন্ন ফলাফল হিসেবে চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে বলে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।   গবেষণাটি বয়স বাড়ার সঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বাড়ে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের কোষে ডিএনএ ক্ষতি ও অন্যান্য পরিবর্তন জমতে থাকে। একই সময়ে কোষের পুনর্গঠন ও ক্ষতিগ্রস্ত কোষ নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ব্যবস্থাও বদলে যেতে পারে।   তবে এই গবেষণার ফলাফল মানুষের ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না। গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো ইঁদুরের ওপর পরিচালিত হয়েছে। মানুষের শরীর, জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং জীবনযাপনের সঙ্গে ইঁদুরের পার্থক্য রয়েছে। তাই মানুষের চুল পাকা এবং ক্যানসারের ঝুঁকির মধ্যে একই ধরনের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।   বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, মেলানোসাইট স্টেম সেল কীভাবে ক্ষতির প্রতিক্রিয়া জানায় এবং কোন সংকেত তাদের নিরাপদ পথে বা ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিচালিত করে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা গেলে ভবিষ্যতে ক্যানসার ও বয়সজনিত কোষীয় পরিবর্তন নিয়ে নতুন গবেষণার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   অর্থাৎ, মাথার পাকা চুলকে শুধু বয়সের দৃশ্যমান চিহ্ন হিসেবে দেখার বাইরে গিয়ে এখন বিজ্ঞানীরা এর পেছনে থাকা কোষীয় প্রক্রিয়াকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তবে এই গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
বুকের দুধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, সন্তান জন্মের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে
বুকের দুধে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা, সন্তান জন্মের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে

সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো দীর্ঘমেয়াদে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সন্তান জন্মের পর কয়েক বছর এই রোগের ঝুঁকি সাময়িকভাবে বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, এই দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী নয়। সন্তান জন্ম ও স্তন্যদানের প্রভাব সময়ের সঙ্গে বদলায়।    সন্তান জন্মের পর ঝুঁকি কতটা বাড়বে এবং কত দিন থাকবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় মায়ের বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ক্যানসারের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় এতে ভূমিকা রাখে।   ২০১৮ সালে প্রকাশিত ১৫টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার সম্মিলিত বিশ্লেষণে দেখা যায়, সন্তান জন্ম দেওয়া নারীদের স্তন ক্যানসারের আপেক্ষিক ঝুঁকি সন্তান জন্ম না দেওয়া নারীদের তুলনায় প্রসবের প্রায় পাঁচ বছর পর সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই গবেষণায় ৫৫ বছরের কম বয়সী নারীদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। প্রথম সন্তান জন্মের সময় বয়স বেশি হলে এবং স্তন ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকির বৃদ্ধি বেশি দেখা গেছে। এই ফল কোনো ব্যক্তির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।    অন্যদিকে, বুকের দুধ খাওয়ানোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্তন্যদানের সময় মাসিক চক্রের সংখ্যা কমে যাওয়ায় শরীরের নিজস্ব কিছু হরমোনের সংস্পর্শও কমে। এটি সুরক্ষামূলক প্রভাবের একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা। তবে বুকের দুধ খাওয়ালেই স্তন ক্যানসার হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই।    গর্ভাবস্থায় স্তন ক্যানসার বিরল। কিন্তু গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানের সময় স্তন বড় হওয়া, ভারী লাগা বা টিস্যুর পরিবর্তনের কারণে সন্দেহজনক গুটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি জানিয়েছে, এসব স্বাভাবিক পরিবর্তনের আড়ালে রোগ শনাক্তে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।   তাই স্তনে বা বগলে নতুন গুটি, স্থায়ী শক্ত অংশ, ত্বকে টোল পড়া, স্তনবৃন্তের অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিংবা বুকের দুধ ছাড়া অন্য ধরনের নিঃসরণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অধিকাংশ স্তনের পরিবর্তন ক্যানসার নয়। তবু কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে শুধু গর্ভাবস্থা বা দুধ জমার ফল ধরে নিয়ে উপেক্ষা করা উচিত নয়।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
ভুল পা কাটার অভিযোগে ওহাইওর নারীর হাসপাতালের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন
ডান পা কাটার কথা ছিল, কেটে ফেলা হলো বাঁ পা; হাসপাতালের বিরুদ্ধে মা ম লা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত এক নারীর অস্ত্রোপচারে ভুল পা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল, চিকিৎসক ও অস্ত্রোপচার দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মা ম লা করেছেন ওই নারী ও তার স্বামী।   শ্যারন জ্যাকস নামের ৭৪ বছর বয়সী ওই নারী ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মারিয়েটার সেলবি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। তার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কেটে ফেলার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফেরার সময় তিনি দেখতে পান, তার বাঁ পা কেটে ফেলা হয়েছে বলে মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে।   মা ম লার নথি অনুযায়ী, জ্যাকসের ডান পায়ে ক্যানসারজনিত সমস্যার কারণে ওই পা কাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে চিকিৎসকরা ভুল করে বাঁ পায়ে অস্ত্রোপচার করেন। পরে ক্যানসারে আক্রান্ত ডান পাটিও অন্য একটি হাসপাতালে কেটে ফেলতে হয়। ফলে জ্যাকস এখন দুই পা হারিয়েছেন।   জ্যাকসের আইনজীবী ব্র্যাড লেইনের দাবি, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসক সঠিক পা চিহ্নিত করেছিলেন। এমনকি ভুল পা কেটে ফেলার পরও সঠিক পায়ে অস্ত্রোপচারের চিহ্নটি ছিল বলে চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে।   মা ম লায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসা দল দুবার ‘টাইম-আউট’ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিল। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর পরিচয়, কোন অস্ত্রোপচার হবে এবং শরীরের কোন অংশে অস্ত্রোপচার করা হবে—এসব নিশ্চিত করার কথা। এরপরও কীভাবে ভুল পায়ে অস্ত্রোপচার হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জ্যাকসের আইনজীবী।   আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারে থাকা চিকিৎসক, নার্স, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব ছিল অস্ত্রোপচারের স্থান সঠিকভাবে নিশ্চিত করা। কিন্তু মা ম লায় অভিযোগ করা হয়েছে, একাধিকবার যাচাইয়ের সুযোগ থাকার পরও ভুলটি শনাক্ত করা হয়নি।   এ ধরনের ভুল অস্ত্রোপচার চিকিৎসাক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুতর ও প্রতিরোধযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। মা ম লায় ঘটনাটিকে এমন একটি গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে এড়ানো সম্ভব ছিল।   মা ম লায় জ্যাকসের শারীরিক ও মানসিক কষ্ট, স্থায়ী অক্ষমতা, আগের ও ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারানোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে সেলবি জেনারেল হাসপাতালও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সেখানে একটি গুরুতর অস্ত্রোপচারজনিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। নিজেদের পর্যালোচনায় তারা নিশ্চিত হয়েছে যে ঘটনাটি এড়ানো সম্ভব ছিল এবং নির্ধারিত অপারেশন থিয়েটার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।   হাসপাতাল জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হয়েছে এবং তারা আর ওই পদে কর্মরত নেই। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে অস্ত্রোপচার দলের কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সংশোধনমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   হাসপাতাল আরও জানিয়েছে, তারা ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব হেলথের পর্যালোচনায় পূর্ণ সহযোগিতা করেছে। একই সঙ্গে রোগী ও তার পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।   মা ম লাটি এখন আদালতে চলমান। অভিযোগগুলো মা ম লায় উত্থাপিত দাবি হিসেবে রয়েছে এবং এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
হাড়ে ক্যানসার! এক্সরেতে দেখতে হুবহু সূর্যরশ্মির মতো চিহ্ন
হাড়ে ক্যানসার! এক্সরেতে দেখতে হুবহু সূর্যরশ্মির মতো চিহ্ন

অস্টিওসারকোমা হাড়ের এক ধরনের বিরল ক্যানসার। এটি সাধারণত হাত ও পায়ের লম্বা হাড়ে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তদের অর্ধেকের বেশি ক্ষেত্রে টিউমারটি হাঁটুর কাছের হাড়ে পাওয়া যায়।   কখনো কখনো এক্সরেতে টিউমার থেকে বাইরের দিকে ছড়িয়ে থাকা সরু রেখার মতো নতুন হাড় দেখা যায়। সূর্যের রশ্মির মতো দেখতে এই চিহ্নকে চিকিৎসকেরা ‘সানবার্স্ট’ বলে থাকেন। তবে অস্টিওসারকোমার সব এক্সরেতে এমন চিহ্ন দেখা যায় না।   হাড় বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা এবং আক্রান্ত স্থানে ফোলা এ রোগের সম্ভাব্য লক্ষণ। একই লক্ষণ অন্য কারণেও হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ বা এক্সরের চিহ্ন দেখে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না।   চিকিৎসকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরীক্ষা করেন। টিউমারের নমুনা পরীক্ষা বা বায়োপসি রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে হাড়ে ব্যথা বা ফোলা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ
দুবাইয়ে ক্যানসার আক্রান্ত ২ বছরের শিশুর চিকিৎসায় এক সপ্তাহে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম সংগ্রহ

জন্মের আগে থেকেই জীবনযুদ্ধে লড়ছে দুই বছর বয়সী শিশু আয়ান। একাধিক শারীরিক জটিলতার পাশাপাশি লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুটির অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনের (বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট) জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন ছিল বিপুল অর্থের। এমন কঠিন সময়ে আশার আলো হয়ে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।   'হোপ আমেল' (Hope Amel) নামক একটি ইনস্টাগ্রাম পেজের মাধ্যমে অপরিচিত মানুষের ভালোবাসায় মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময়ে আয়ানের চিকিৎসার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহাম।   আয়ানের বাবা বশির আহমাদ পাকিস্তানি এবং মা রাহমাওয়াতি বিন কার্তাহ ইন্দোনেশীয় নাগরিক। বশির দুবাইয়ের একটি গাড়ি ভাড়ার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, যার মাসিক আয় ৫ হাজার দিরহামের চেয়েও কম। সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তিনি নিজের জমানো সব অর্থ খরচ করার পাশাপাশি পাকিস্তানে থাকা বসতবাড়িটিও বিক্রি করে দেন।   এরপরও যখন চিকিৎসার জন্য আরও অর্থের প্রয়োজন হয়, তখন বশিরের পরিচিত এক স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন 'হোপ আমেল'-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যাবি কাদোম। গত ১০ সেপ্টেম্বর তিনি আয়ানের গল্পটি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করে সরাসরি হাসপাতালে অর্থ পাঠানোর আহ্বান জানান।   মাত্র তিন দিনের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার ৩ লাখ ৯০ হাজার দিরহাম উঠে আসে। এক সপ্তাহের মধ্যে মোট ১০০টিরও বেশি ব্যক্তিগত স্থানান্তরের মাধ্যমে অনুদান পৌঁছায় ৪ লাখ ৫ হাজার দিরহামে। এর মধ্যে এক বেনামি দাতা একাই ২ লাখ ২ হাজার ৫৩০ দিরহাম দান করেন।   এই অপ্রত্যাশিত সহায়তায় আবেগাপ্লুত অ্যাবি বলেন, দুবাইয়ের মতো শহরে যেখানে অনেকেই পরিবার থেকে দূরে থাকেন, সেখানে অপরিচিত মানুষরাই যেন একটি পরিবারের মতো পাশে দাঁড়িয়েছে। ওই বেনামি দাতাকে তিনি ছদ্মবেশী এক দেবদূত হিসেবে আখ্যায়িত করেন।   বর্তমানে আয়ান দুবাইয়ের আল জলিলা চিলড্রেনস হাসপাতালে নিবিড় কেমোথেরাপি নিচ্ছে। এরপর তাকে আবুধাবির বুর্জিল মেডিকেল সিটিতে স্থানান্তর করে অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন করা হবে। অনুদানের অর্থে ট্রান্সপ্লান্ট ও পরবর্তী ১০০ দিনের চিকিৎসার খরচ মিটে গেলেও, আয়ানের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও ওষুধের জন্য বশিরের লড়াই এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি।   তবে দেশ-বিদেশের অপরিচিত মানুষদের এই অভূতপূর্ব সহায়তায় আয়ানের পরিবার এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে এবং সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে ৮১ বছরেও দিনে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন ডন
ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে ৮১ বছরেও দিনে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন ডন

ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ সামলাতে ৮১ বছর বয়সেও হারিয়ে যাওয়া ও বিলম্বিত লাগেজ মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছিলেন টেক্সাসের ডন জনসন। কখনো টানা ১৪ ঘণ্টা কাজ, কখনো শত শত মাইল গাড়ি চালানো—গত তিন বছর ধরে এভাবেই চলছিল তার জীবন। কিন্তু একটি হারানো স্যুটকেস পৌঁছে দিতে গিয়ে অপরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা হওয়ার পর বদলে গেছে তার জীবনের গল্প। এখন হাজারো মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।   ডন থাকেন টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওর্থ এলাকার দ্য কলোনিতে। তিনি স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে বিমানবন্দরে হারিয়ে যাওয়া বা দেরিতে পৌঁছানো লাগেজ যাত্রীদের বাড়িতে পৌঁছে দেন। ডন জানিয়েছেন, এই কাজটি করার অন্যতম কারণ হলো ৮১ বছর বয়সে অন্য কোথাও কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। তার ভাষায়, এটিই ছিল তাকে নিয়োগ দিতে রাজি হওয়া কাজ।   ডনের স্ত্রী জোসেফিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। তাদের দাম্পত্য জীবনের বয়স ৫৭ বছর। ডন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিমা চিকিৎসার কিছু ব্যয় বহন করলেও পুরো খরচ মেটে না। চিকিৎসা, ওষুধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সংসারের বাড়তি ব্যয় সামলাতেই এই বয়সেও কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছিল তাকে।   কাজটিও ছিল শারীরিকভাবে কঠিন। ডন কখনো দিনে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতেন। লাগেজ পৌঁছে দিতে গাড়ি চালাতে হতো দীর্ঘ পথ। গোফান্ডমির তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে এই কাজ করতে গিয়ে নিজের গাড়িতে ২ লাখ মাইলের বেশি চালিয়েছেন তিনি। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে গাড়িটিতেও বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছে।   এর মধ্যেই ডনের জীবনে আসেন দ্য কলোনির বাসিন্দা এরিন হাওয়েল। সম্প্রতি ভ্রমণের সময় হারিয়ে যাওয়া তার লাগেজ পৌঁছে দিতে ডন তার বাড়িতে যান। দরজার ক্যামেরায় এরিন দেখতে পান, ৮১ বছর বয়সী মানুষটি ভারী স্যুটকেস নিয়ে খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে কষ্ট করছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি বাইরে এসে ডনকে সাহায্য করেন।   কথা বলতে গিয়ে এরিন জানতে পারেন ডনের জীবনের পেছনের গল্প। স্ত্রী ক্যানসারে আক্রান্ত, চিকিৎসা ও জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে এই বয়সেও ভারী লাগেজ বহন করছেন তিনি। ডনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এত শারীরিক পরিশ্রমের কাজ কেন করছেন। তিনি জানান, অন্য কোথাও তাকে কাজ দেওয়া হচ্ছিল না।   ডনের গল্প জানার পর তাকে কাজ থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দিতে ‘হেল্প ডন রিটায়ার’ নামে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলেন এরিন। ২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তহবিলটির উদ্দেশ্য ছিল জোসেফিনের চিকিৎসা ব্যয়, দম্পতির দৈনন্দিন খরচ এবং ডনকে আর ভারী কাজ করতে না হওয়ার মতো আর্থিক সহায়তা দেওয়া।   এরপর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই অভাবনীয় সাড়া আসে। বুধবার সকালে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট যখন খবরটি প্রকাশ করে, তখন তহবিল ছিল মাত্র ৮৭ হাজার ডলার। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্লোবাল নিউজ জানায়, অঙ্কটি বেড়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে।   আর আজ, ২৫ সেপ্টেম্বর, গোফান্ডমির লাইভ পেজে দেখা যাচ্ছে—তহবিল ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৪ হাজার ২১২ ডলারে পৌঁছেছে। অনুদান দিয়েছেন ১২ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ। তহবিলের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ ডলার। অনুদান চলমান থাকায় অঙ্কটি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।   মানুষের এমন সাড়া দেখে আবেগাপ্লুত ডন বলেছেন, এরিন যা করেছেন তা তার কাছে ‘অলৌকিক’ ঘটনার মতো। তারা কারও কাছে সাহায্য চাননি, কিন্তু মানুষের এই সহযোগিতা তাদের অনেক সাহায্য করছে। তিনি আরও বলেছেন, ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে যেভাবে মানুষ তাকে সাহায্য করেছে, তিনিও অন্যদের সেভাবে সাহায্য করতে চান। মানুষের এমন উদারতা তার মানুষের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন ডন।   জোসেফিনও মানুষের প্রতিক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘ ৫৭ বছরের দাম্পত্য জীবনে স্বামীর পাশে থাকার গল্প এখন হাজারো অপরিচিত মানুষের কাছেও পৌঁছে গেছে। আর যে মানুষটি কয়েক দিন আগেও ভারী স্যুটকেস নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছিলেন, মানুষের সহায়তায় তার সামনে এখন কাজ কমিয়ে অসুস্থ স্ত্রীর পাশে আরও বেশি সময় থাকার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
তরুণদের মধ্যে বাড়ছে কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর উদ্বেগ
তরুণদের কোলন ক্যানসারে মৃত্যুর হার বাড়ছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা

একসময় কোলন ও রেক্টামের ক্যানসারকে মূলত বয়স্কদের রোগ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৫০ বছরের কম বয়সী মানুষের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার এখন ক্যানসারজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এই মৃত্যুহার সব মানুষের মধ্যে সমানভাবে বাড়েনি।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষকেরা ১৯৯৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী কোলন ও রেক্টাল ক্যানসারে মারা যাওয়া এক লাখ এক হাজারের বেশি মানুষের সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, এই ৩০ বছরে ওই বয়সী মানুষের কোলোরেক্টাল ক্যানসারে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৩ জন থেকে বেড়ে প্রায় ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।   তবে তথ্য আরও বিশ্লেষণ করার পর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা যায়। যাদের চার বছরের কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রতি এক লাখে প্রায় ৪ জন থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ জন হয়েছে। অন্যদিকে অন্তত ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে মৃত্যুহার প্রায় ২ দশমিক ৭ জনের কাছাকাছিই স্থির রয়েছে।   গবেষকদের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে আয়, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার ও জীবনযাপনের বিভিন্ন সুযোগের সম্পর্ক রয়েছে। কলেজ ডিগ্রি না থাকা মানুষের একটি বড় অংশ তুলনামূলক কম বেতনের কাজে যুক্ত থাকেন, যেখানে স্বাস্থ্যবিমা বা বেতনসহ ছুটির সুবিধা কম থাকতে পারে। এর ফলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কঠিন হতে পারে।   শিক্ষার সঙ্গে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বোঝার সক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কম শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষের মধ্যে এমন এলাকায় বসবাসের সম্ভাবনা বেশি হতে পারে, যেখানে পরিবেশ দূষণ বেশি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার বা শরীরচর্চার সুযোগ তুলনামূলক কম। ধূমপান ও দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মতো বিষয়ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন।   তবে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে তরুণদের মৃত্যুহার কেন বাড়ছে, তার নির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। গবেষকেরা মনে করছেন, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, চিকিৎসা নিতে দেরি করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অসম প্রবেশাধিকারের মতো একাধিক কারণ এতে ভূমিকা রাখতে পারে।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ ৫৮ হাজারের বেশি নতুন কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত হতে পারে এবং ৫৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এ রোগের নতুন রোগীও এখন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন, কারণ সে সময় রোগটি মূলত বয়স্কদের মধ্যেই বেশি দেখা যেত।   তরুণদের মধ্যে রোগটির ঝুঁকি বাড়তে থাকায় ২০২১ সালে আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের নিয়মিত স্ক্রিনিং শুরুর সুপারিশ করা বয়স ৫০ থেকে কমিয়ে ৪৫ বছর করেছে। চিকিৎসকেরা একই সঙ্গে মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা, মলের সঙ্গে রক্ত এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির মতো উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।   গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সী কোলোরেক্টাল ক্যানসার রোগীদের প্রায় চারজনের মধ্যে তিনজনের ক্ষেত্রে রোগটি উন্নত পর্যায়ে শনাক্ত হয়। এর একটি কারণ হতে পারে, তরুণদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক উপসর্গগুলো অনেক সময় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয় না। তাই বয়স কম হলেও অস্বাভাবিক উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
তামিম চৌধুরী
ক্যানসার তহবিল চুরি করে বিয়ে-হানিমুন, ব্রিটিশ বাংলাদেশির কারাদণ্ড

যুক্তরাজ্যে স্তন ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী দাতব্য প্রতিষ্ঠান ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের প্রায় ৯২ হাজার পাউন্ড আত্মসাতের দায়ে ২৯ বছর বয়সী তামিম চৌধুরীকে দুই বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন লন্ডনের আদালত। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, বিলাসবহুল কেনাকাটা, বিয়ে ও হানিমুনের খরচে ব্যয় করেছিলেন তিনি।   মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে প্রতারণা ও অর্থপাচারের অভিযোগে দোষ স্বীকারের পর তামিমকে এই সাজা দেওয়া হয়। সিটি অব লন্ডন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনিতে বসবাস করতেন এবং ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অর্থ বিভাগে কাজ করতেন।   আদালতে বলা হয়, ২০২৩ সালে রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের কাছ থেকে ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের ৯১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৭২ পাউন্ড ফেরত পাওয়ার কথা ছিল। ওই অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে নেওয়ার পরিকল্পনা করে তামিম ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে রয়্যাল মার্সডেনকে পরিবর্তিত ব্যাংক তথ্য পাঠান। ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অফিসিয়াল প্যাডে দেওয়া ওই ব্যাংক হিসাবটি ছিল তার নিজের।   পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট পুরো অর্থ তার ব্যক্তিগত স্যানটান্ডার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এরপর দ্রুত ওই অর্থ খরচ করতে শুরু করেন তিনি।   তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অর্থ পাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তামিম প্রায় ৪৯ হাজার পাউন্ড খরচ করেন। এর মধ্যে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, কাতারের বিমানের টিকিট, বিলাসবহুল কেনাকাটা, স্বজনদের অর্থ পাঠানো এবং বিয়ে ও হানিমুনের খরচ ছিল। একটি বিলাসবহুল আংটির পেছনেও প্রায় ১৪ হাজার পাউন্ড খরচ করেন তিনি।   পুলিশের তদন্তে তার মোবাইল ফোনের বার্তাতেও আর্থিক সংকটের বিষয়টি উঠে আসে। চুরির আগে তিনি নিজেকে চরম আর্থিক সংকটে থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানায় পুলিশ।   অর্থের অস্বাভাবিক লেনদেন শনাক্ত হওয়ার পর স্যানটান্ডার তার অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে। ওই সময় অ্যাকাউন্টে থাকা ৪২ হাজার ৮৬৬ দশমিক ২৫ পাউন্ড জব্দ করা হয়।   ব্রেস্ট ক্যানসার নাওয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি অব লন্ডন পুলিশের প্রতারণা তদন্তকারী দল তদন্ত শুরু করে। পরে ২০২৫ সালের জুনে তামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।   সিটি অব লন্ডন পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা ইউসুফ মির্জা বলেন, ক্যানসার গবেষণায় অর্থায়নকারী একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগকে তামিম ব্যক্তিগত লাভের জন্য অপব্যবহার করেছেন। দাতাদের অর্থের ওপর মানুষের আস্থার সঙ্গে তার এই কর্মকাণ্ড বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   ব্রেস্ট ক্যানসার নাও জানিয়েছে, পুলিশ তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করেছে এবং ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়াও পর্যালোচনা করা হয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থের পুরোটা উদ্ধার হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শেষ পর্যন্ত কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েনি।   ব্রেস্ট ক্যানসার নাও স্তন ক্যানসার গবেষণা, আক্রান্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে সহায়তা এবং এ রোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থের একটি অংশ রয়্যাল মার্সডেনের মতো গবেষণা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
জিভের ক্যানসারকে সাধারণ ঘা ভেবে ভুল রোগ নির্ণয়, অবশেষে পা কেটে জিভ পুনর্গঠন
জিভের ক্যানসারকে সাধারণ ঘা ভেবে ভুল রোগ নির্ণয়, অবশেষে পা কেটে জিভ পুনর্গঠন

যুক্তরাজ্যের এক নারীর মুখের ক্যানসারকে প্রাথমিকভাবে ‘মাউথ থ্রাশ’ বা সাধারণ ঘা হিসেবে ভুল রোগ নির্ণয় করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ভয়াবহ এই ক্যানসার থেকে বাঁচতে ১৩ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পায়ের একটি অংশ কেটে জিভ পুনর্গঠন করতে হয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী এলেইন সয়্যার নামের ওই নারী বর্তমানে ক্যানসারমুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।   ২০২৩ সালের অক্টোবরে এলেইন প্রথম তার জিভে একটি ছোট ঘা এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তি লক্ষ্য করেন। শুরুতে এক চিকিৎসক এটিকে ‘মাউথ থ্রাশ’ বলে চালিয়ে দিলেও নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের ওপর ভরসা করে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্বিতীয় একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। নতুন চিকিৎসক তাকে কুইন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের একটি বিশেষজ্ঞ ওয়ার্ডে পাঠান।   সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার জিভে স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা বা ক্যানসার ধরা পড়ে, যা ততদিনে তার গলার লিম্ফ গ্ল্যান্ড বা লসিকাগ্রন্থি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।   রোগ নির্ণয়ের পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে এলেইনের জিভের অর্ধেক অংশ কেটে ফেলা হয় এবং পায়ের একটি অংশ দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। পায়ের টিস্যু হওয়ায় অস্ত্রোপচারের পর তার জিভে সামান্য চুলও গজিয়েছিল, যা টানা ছয় সপ্তাহের ‘নির্মম’ রেডিওথেরাপির কারণে পরে ঝরে যায়।   এলেইন জানান, অস্ত্রোপচারের পর পায়ের মাংসপেশি কেটে নেওয়ায় তাকে নতুন করে হাঁটা শিখতে হয়েছিল। কথা বলার জন্য তাকে একটি হোয়াইটবোর্ড দেওয়া হলেও জিভ সচল রাখতে তিনি জোর করেই কথা বলার চেষ্টা করতেন।   গলার লসিকাগ্রন্থিগুলো ফেলে দেওয়ায় এবং জিভের অর্ধেক অংশ পায়ের টিস্যু দিয়ে তৈরি হওয়ায় এখন তার মাংস, সালাদ, মসলাযুক্ত খাবার বা ওয়াইন পানে বেশ কষ্ট হয়।   কেন্ট-এর টুনব্রিজ ওয়েলসের সাবেক এই ক্যাটারিং ব্যবসায়ী জীবনে কখনো ধূমপান বা মদ্যপান করেননি, তাই কেন তার এই ক্যানসার হলো তা নিয়ে চিকিৎসকরাও বিস্মিত। ২০২৫ সালের শরতে প্রকাশিত যুক্তরাজ্যের এনএইচএস-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বছরে মুখের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ২৯৩-এ পৌঁছেছে, যা গত এক দশকে ৩৭ শতাংশ বেশি।   তরুণদের মধ্যে এই ক্যানসারের প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে নিয়মিত ডেন্টিস্টের কাছে না যাওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করেছেন এলেইন। শুরুতে সাধারণ ঘায়ের মতো দেখতে এই মারণব্যাধি সম্পর্কে সবাইকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন

হাইস্কুলের শেষ বছরটি সাধারণত পড়ালেখা, আড্ডা আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কাটে। কিন্তু নিউজার্সির ১৭ বছর বয়সী কিশোরী অ্যালায়না রিওজি-বোডিনের গল্পটি ছিল একেবারেই ভিন্ন।   ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তার শরীরে স্টেজ টু 'হজকিনস লিম্ফোমা' বা এক ধরনের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সাঁতার ও ট্রায়াথলনের মতো কঠোর অ্যাথলেটিক অনুশীলনে থাকা একজন প্রাণবন্ত কিশোরীর জন্য এই খবরটি ছিল চরম হতাশাজনক।   রোগ নির্ণয়ের পর জীবন বাঁচবে কি না, আর কেমোথেরাপির কারণে নিজের প্রিয় চুলগুলো ঝরে যাবে কি না—এই দুই ভয় তাকে সবচেয়ে বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে ভেঙে না পড়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে চুল পড়া রোধে 'কোল্ড ক্যাপ' ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন তিনি।   টানা আটটি কেমোথেরাপি সেশন শেষে অ্যালায়না প্রথমবার ক্যানসারমুক্ত হওয়ার সুখবর পান। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ক্যানসার আবারও ফিরে আসে, এবং এবার তা ছিল আরও আক্রমণাত্মক।   দ্বিতীয়বারের এই লড়াইয়ে কোল্ড ক্যাপ ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাকে মাথার চুল ফেলে দিতে হয়। নতুন করে ইমিউনোথেরাপি ও কেমোথেরাপির পাশাপাশি তাকে একটি জটিল 'স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট' প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   কঠিন এই সময়ে হাসপাতালের নার্সরা তার চিকিৎসা কক্ষটিকে টেলর সুইফটের থিমে সাজিয়ে ট্রান্সপ্লান্টের দিনটিকে রীতিমতো উৎসবমুখর করে তুলেছিলেন। নার্সদের এই অভাবনীয় মানসিক সমর্থন অ্যালায়নার যন্ত্রণাদায়ক সময়কে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।   কঠিন এই লড়াই শেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অ্যালায়না চূড়ান্তভাবে তার চিকিৎসা সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। নিজের অসুস্থতা ও হাসপাতালে কাটানো দিনগুলো তার জীবনের লক্ষ্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।   গত মে মাসে নার্সিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন পেডিয়াট্রিক অনকোলজি নার্স (শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় নিয়োজিত নার্স) হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি চান যে নার্সরা তাকে কঠিন সময়ে ভালোবেসে সুস্থ করে তুলেছেন, ঠিক সেভাবেই তিনি অন্যান্য ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াবেন।   পাশাপাশি, বয়ঃসন্ধিকালীন ক্যানসার রোগীদের সহায়তা ও অনুপ্রেরণা জোগাতে তিনি 'অ্যালায়না জেইন ফাউন্ডেশন' নামে একটি সংস্থাও পরিচালনা করছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে অ্যালায়না এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং তার ভাষায়—তিনি এখন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দারুণভাবে উপভোগ করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
চুইংগাম চিবোলেই কমবে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি, ৯৩% ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার দাবি
চুইংগাম চিবোলেই কমবে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি, ৯৩% ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার দাবি

খুব শিগগিরই হয়তো সাধারণ চুইংগাম চিবানোর মতোই ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব হবে। বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের বিশেষ চুইংগাম তৈরি করেছেন, যা ওরাল বা মুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী তিনটি জীবাণুকে আক্রমণ করতে সক্ষম। এর মধ্যে রয়েছে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা এইচপিভি, যা যৌনবাহিত সবচেয়ে সাধারণ একটি সংক্রমণ। লালারসের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই চুইংগামটি ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ভাইরাস ধ্বংস করতে কার্যকর।   ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া স্কুল অব ডেন্টাল মেডিসিন-এর অধ্যাপক হেনরি ড্যানিয়েলের নেতৃত্বে একদল গবেষক এমন একটি অ্যান্টিভাইরাল বা ভাইরাসরোধী প্রোটিনের সন্ধানে কাজ শুরু করেছিলেন, যা বিভিন্ন ভাইরাসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করতে পারে। গবেষণায় তারা দেখতে পান, হায়াসিন্থ বিন বা ল্যাবলাব বিনে 'এফআরআইএল' (FRIL) নামের এক ধরনের প্রোটিন রয়েছে।   এই প্রোটিন ভাইরাসগুলোকে একত্রে জমাট বাঁধতে বাধ্য করে, যার ফলে এগুলো সুস্থ মানবকোষে প্রবেশ করতে পারে না। শুধু তাই নয়, এই প্রোটিন আগে থেকেই কোষে প্রবেশ করা ভাইরাসগুলোকেও আটকে দিতে পারে, যা সংক্রমণকে আরও ছড়াতে বাধা দেয়। সংবাদমাধ্যমকে অধ্যাপক ড্যানিয়েল জানান, তারা মুখের ভেতরে থাকা অন্তত পাঁচটি ভিন্ন ধরনের ভাইরাস নিস্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছেন।   অধ্যাপক ড্যানিয়েলের মতে, এই চুইংগামে ভাইরাস ধ্বংস করার জন্য ঠিক যতটুকু বিন পাউডার বা শিমের গুঁড়া প্রয়োজন, তা ব্যবহার করা হয়েছে এবং এটি তৈরি করতে মাত্র কয়েক পয়সা খরচ পড়ে। অত্যন্ত সুলভ মূল্যে এটি তৈরি করা সম্ভব হওয়াই এই উদ্ভাবনের সবচেয়ে বড় সুবিধা।   তিনি আরও জানান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য তাদের দলটি এখন মার্কিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদনের পর সরাসরি মানুষের ওপর এই চুইংগামের পরীক্ষা চালানো হবে। এই ট্রায়ালটি চার সপ্তাহ ধরে চলবে, যেখানে রোগীদের দিনে তিনবার চুইংগামটি চিবানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।   প্রাথমিক পর্যায়ে এই চুইংগামটি ক্যানসারের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতি, যেমন রেডিয়েশন থেরাপি ও সার্জারির পাশাপাশি একটি সহায়ক থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ড্যানিয়েলের আশা, ভবিষ্যতে এটি চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই সাধারণ ওষুধের দোকানে পাওয়া যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাদের লক্ষ্য রোগীদের প্রচলিত ও প্রাকৃতিক চিকিৎসার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা নয়; বরং এই প্রাকৃতিক চিকিৎসার উদ্দেশ্য হলো ক্যানসারের পেছনে থাকা জীবাণু বা মাইক্রোবায়োমগুলোকে নির্মূল করা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভুয়া দাবি করে অনুদান সংগ্রহের অভিযোগে গ্রেপ্তার ফ্লোরিডার এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
ক্যানসারের রোগী সেজে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলার হাতিয়ে নিলেন ফ্লোরিডার এক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ভুয়া গল্প সাজিয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষের কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অনুদান হিসেবে পাওয়া এই অর্থ তিনি চিকিৎসার জন্য নয়, ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন।   ফ্লোরিডার কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (CCSO) জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম মারিবেথ এলেন জোনস (৫১)। তিনি বোনিটা স্প্রিংসের বাসিন্দা এবং একটি আবাসিক কমিউনিটিতে কার্যক্রম পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।   তদন্তে জানা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিনি বাসিন্দাদের কাছে দাবি করেন যে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে তিনি নিজের চুল কেটে ফেলেন, যাতে দেখে মনে হয় তিনি কেমোথেরাপির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের শারীরিক অবস্থাও আরও খারাপ হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানুষকে জানাতেন।   তার এই দাবিতে সহানুভূতিশীল হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার জন্য একটি গুফান্ডমি (GoFundMe) তহবিল সংগ্রহ অভিযান চালু করেন। ওই অনলাইন তহবিলের অর্থ সরাসরি তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হতো। এর বাইরে অনেকেই তাকে নগদ অর্থ ও ব্যক্তিগত চেকের মাধ্যমেও আর্থিক সহায়তা দেন।   তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, এটিই প্রথম নয়। এর আগেও ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার একই দাবি করে অন্তত দুটি পৃথক গুফান্ডমি প্রচারণার সুবিধাভোগী ছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের ভাষ্য, চিকিৎসা ব্যয়ের নামে সংগ্রহ করা অর্থের কোনো অংশই ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়নি। বরং তিনি ব্যক্তিগত ঋণ ও অন্যান্য দেনা পরিশোধে সেই অর্থ ব্যয় করেছেন।   কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে নেপলস এলাকার অন্তত ২৩৮ জন বাসিন্দার কাছ থেকে ৪০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।   তদন্ত শেষে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে চলতি সপ্তাহে মারিবেথ এলেন জোনস নিজেই নেপলস জেল সেন্টারে আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুরুতর চুরির (গ্র্যান্ড থেফট) মামলা করা হয়েছে, যা ফ্লোরিডা আইনে দ্বিতীয় ডিগ্রির গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।   তবে তিনি আইনজীবী নিয়োগ করেছেন কি না বা আদালতে তার প্রথম শুনানি কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। কলিয়ার কাউন্টির শেরিফ কেভিন রামবস্ক বলেন, "এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় একটি ঘটনা। কারণ মানুষ আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করেছিল, একজন জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে থাকা মানুষকে তারা সাহায্য করছে। সেই মানবিকতাকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।"   তিনি আরও বলেন, "এ ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক ক্ষতিই করে না, প্রকৃত অসুস্থ মানুষের জন্য পরিচালিত বৈধ তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমের ওপরও মানুষের আস্থা নষ্ট করে।" এদিকে অনলাইন তহবিল সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান গুফান্ডমি জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার কোনো স্থান নেই। মারিবেথ জোনসের নামে পরিচালিত সব তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার নামে কোনো তহবিল সংগ্রহের সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, তাদের 'গিভিং গ্যারান্টি' কর্মসূচির আওতায় অনুদানদাতাদের ৪১ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে।   এ ঘটনার পর অনলাইনে অনুদান দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে কলিয়ার কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, অনুদান দেওয়ার আগে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা, আয়োজকের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, হাসপাতাল বা নিবন্ধিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অর্থ দেওয়াই নিরাপদ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
ইসরাইলের সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য প্রতীকী। ছবি:সংগৃহীত
ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে ইসরায়েলিরা

ত্বক দ্রুত তামাটে বা ট্যান করতে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বোঝাতে ব্যবহৃত ইউভি সূচককেই উল্টো কাজে লাগাচ্ছেন ইসরায়েলের একদল তরুণ। যে সূচক মূলত মানুষকে ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি থেকে সতর্ক করার জন্য তৈরি, সেটিতে মাত্রা ৯, ১০ কিংবা ১১-এর ওপরে উঠলেই কেউ কেউ রোদে বেরিয়ে পড়ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে ত্বকের ক্ষতি ও স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   শনিবার টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে এই প্রবণতার কথা উঠে এসেছে। পশ্চিম গ্যালিলির শাভেই জিয়ন সৈকতে ১৬ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল উলফ জানান, ইউভি সূচক ১০ বা ১১ দেখলে তিনি ভালোভাবে ট্যান হওয়ার জন্য প্রায় ৪০ মিনিট রোদে থাকেন।   ইউভি সূচক তৈরি হয়েছিল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার জন্য। সূচকে ১১ বা তার বেশি মাত্রা অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি নির্দেশ করে। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নতুন প্রবণতায় এই সতর্কতাকেই দ্রুত ট্যান হওয়ার উপযুক্ত সময় বেছে নেওয়ার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।   ক্লালিট হেলথ সার্ভিসেসের সিনিয়র শিশু চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এফরাত বার-ইলান জানিয়েছেন, গত দুই বছরে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে উদ্বেগজনকভাবে এই প্রবণতা বাড়তে দেখেছেন তিনি। অনেকেই ইউভি রশ্মির ক্ষতির কথা জানেন, কিন্তু ভবিষ্যতে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা গুরুতর হতে পারে, সেটিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।   সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ইউভিএ ও ইউভিবি। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের রঞ্জক পদার্থে প্রভাব ফেলে ত্বককে তামাটে করতে পারে। অন্যদিকে ইউভিবি ত্বকের ওপরের স্তরে ক্ষতি ও সানবার্ন ঘটাতে পারে এবং কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য, বলিরেখা, পিগমেন্টেশন এবং স্কিন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।   স্কিন ক্যানসারের মধ্যে বেসাল সেল ও স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় এবং দ্রুত শনাক্ত হলে চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে মেলানোমা বেশি বিপজ্জনক। এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে ছড়িয়ে পড়লে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।   ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ মেলানোমার হার থাকা ৩০টি দেশের তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থান ২৩তম। তবে ওই দেশগুলোর মধ্যে মেলানোমায় মৃত্যুহার ইসরায়েলে সবচেয়ে কম। ইসরায়েল ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৯১ শতাংশ স্কিন ক্যানসার অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত হয়।   সানস্ক্রিন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু দাবিও নাকচ করেছেন ডা. বার-ইলান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত সানস্ক্রিন নির্দেশনা মেনে ব্যবহারে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বিপরীতে অতিরিক্ত ইউভি রশ্মির কারণে ত্বকের অকাল বার্ধক্য ও ক্যানসারের ঝুঁকির বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত।   চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যায় না। তরুণ বয়সে বারবার অতিরিক্ত রোদে থাকার প্রভাব বহু বছর পর গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। ফলে দ্রুত ট্যান হওয়ার জন্য ইউভি সূচকের উচ্চমাত্রাকে ‘সুযোগ’ হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্যঝুঁকির সতর্কসংকেত হিসেবেই নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Unknown আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউ জার্সির এক এলাকায় ক্যানসারের ভয়াল থাবা, আক্রান্ত প্রায় ৪০০ বাসিন্দা
নিউ জার্সির এক এলাকায় ক্যানসারের ভয়াল থাবা, আক্রান্ত প্রায় ৪০০ বাসিন্দা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির কিপোর্ট এলাকায় ক্যানসারের ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দিয়েছে। নিউয়ার্ক থেকে প্রায় ৩০ মাইল দক্ষিণের এই এলাকায় সম্প্রতি প্রায় ৪০০ জন ক্যানসার রোগী শনাক্ত করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছে। ফুসফুস, প্রোস্টেট, মস্তিষ্ক, পাকস্থলী, কোলন, থাইরয়েড, স্তন এবং কিডনিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ।   এই আতঙ্কের শুরু হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে, যখন রাস্টি মরিস নামের এক ব্যক্তি তার মায়ের কাছে এলাকার অনেকের অসুস্থতার খবর শুনে রোগীদের অবস্থান মানচিত্রে চিহ্নিত করতে শুরু করেন। তিনি ফার্স্ট স্ট্রিট নামের একটি মাত্র সড়কেই ২৮ জন ক্যানসার রোগীর সন্ধান পান।   যদিও আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটি দেশটিতে প্রায় এক হাজার ‘ক্যানসার ক্লাস্টার’ বা নির্দিষ্ট এলাকায় অস্বাভাবিক মাত্রায় ক্যানসার সংক্রমণের কথা জানিয়ে থাকে, তবে কিপোর্টকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।   স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য দায়ী নিকটস্থ অ্যারোমেরিন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক নামের একটি পরিত্যক্ত ল্যান্ডফিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে এটি একটি ছোট এয়ারক্রাফট হাব হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ১৯৬২ সালে তা ল্যান্ডফিলে রূপান্তরিত হয়। সে সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম না থাকায় নির্বিচারে সেখানে বিপজ্জনক রাসায়নিক ফেলা হতো। ১৯৭৯ সালে ল্যান্ডফিলটি বন্ধ হয়ে গেলেও তা সঠিকভাবে সিলগালা না করায় পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রায় নয় লাখ ডলারের জরিমানার মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ। ২০১০ সালে নিউ জার্সির স্বাস্থ্য বিভাগের পরীক্ষায় সেখানে প্রচুর পরিমাণে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের উপস্থিতি মিলেছিল। দীর্ঘ ১৬ বছর পর সম্প্রতি করা স্বাধীন ও নতুন পরীক্ষাতেও একই রকম বিষাক্ত রাসায়নিকের সন্ধান পাওয়া গেছে।   সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যারোমেরিন ল্যান্ডফিলের ১৩টি কূপের পানিতে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক, সিসা, অ্যালুমিনিয়াম, কোবাল্ট, লোহা এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি কূপে ক্যানসার সৃষ্টিকারী বেনজিন এবং ভিনাইল ক্লোরাইড পাওয়া গেছে, যা লিউকেমিয়া ও লিম্ফোমার মতো মারাত্মক রোগের কারণ।   অন্যদিকে, মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) হুইসেলব্লোয়ার স্কট স্মিথ ল্যান্ডফিলের বাইরের মাটি পরীক্ষা করে পিসিবি এবং ডাইঅক্সিনের মতো বিষাক্ত উপাদানের সন্ধান পান। ইপিএ-এর নির্ধারিত মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রার চেয়ে এই রাসায়নিকের উপস্থিতি ছিল ৫৪৬ শতাংশ বেশি।   এতসব প্রমাণের পরও নিউ জার্সির স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিভাগ বলছে, ল্যান্ডফিলের বিষাক্ত উপাদান কীভাবে স্থানীয় মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে, তার কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ বা ‘পাথওয়ে’ তারা এখনও পায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা এই দাবির সাথে একমত নন। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক জুডিথ টি. জেলিকফ জানান, এই ধরনের ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান মাটির মাধ্যমে খুব সহজেই ছড়াতে পারে।   এছাড়া এলাকাটি বন্যাপ্রবণ হওয়ায় জলোচ্ছ্বাস ও বৃষ্টির পানির মাধ্যমে এই বিষাক্ত রাসায়নিক মানুষের বাসস্থানে পৌঁছে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সাংবাদিক কারিন প্রাইস মুলার। আগামী সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিভাগ তাদের নিজস্ব পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আপাতত পেসার পার্টনার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান ওই এলাকার উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সেখানে কোনো আবাসিক ভবন নির্মাণের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেল রাশিয়ার ক্যানসার টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’
মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেল রাশিয়ার ক্যানসার টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’

রাশিয়ায় তৈরি ত্বক ক্যানসারের টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’ (Neoncovac) মানবদেহে প্রয়োগের পর অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গের দেওয়া তথ্যমতে, এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সফলভাবে তৈরি হয়েছে। ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে উদ্ভাবিত দুটি ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ বা পার্সোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ্যাডভান্সড মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক (mRNA) ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ অন্যতম।   সেই অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে প্রথমবারের মতো নিওনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগীর ইমিউন রেসপন্স অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করছেন। তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও দশজন রোগীর জন্য কাস্টমাইজড মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।   ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রথাগতভাবে শুধু রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে এই পদ্ধতিটি রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকর ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়।   এই প্রক্রিয়ায় রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কাস্টমাইজড ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পথ ধরে বর্তমানে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশ (সংগৃহীত)
ক্যাটফিশ থেকে ক্যাটফিশে ছড়াচ্ছে জীবন্ত ক্যানসার কোষ, প্রথমবার শনাক্ত করলেন বিজ্ঞানীরা

মিঠাপানির ক্যাটফিশের মধ্যে এক মাছ থেকে আরেক মাছে ছড়াতে সক্ষম বিরল ক্যানসারের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট ও কানাডার কুইবেক সীমান্তজুড়ে থাকা লেক মেমফ্রেমাগগের ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশে এই ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, মিঠাপানির পরিবেশে মাছের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে ছড়াতে সক্ষম ক্যানসার শনাক্তের এটিই প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা।   আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে ২২ জুলাই প্রকাশিত গবেষণায় এই আবিষ্কারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকেরা আক্রান্ত মাছের টিউমার ও স্বাভাবিক টিস্যুর জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, আলাদা মাছের শরীরে পাওয়া ক্যানসার কোষগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ জিনগত মিল রয়েছে। এ থেকে তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, প্রতিটি মাছের শরীরে আলাদাভাবে ক্যানসার তৈরি হচ্ছে না, বরং একটি অভিন্ন ক্যানসার কোষের বংশধারা মাছ থেকে মাছে ছড়িয়ে পড়ছে।   এ ধরনের ক্যানসারকে বলা হয় ট্রান্সমিসিবল ক্যানসার। সাধারণ সংক্রামক রোগের মতো কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে এখানে ক্যানসার সৃষ্টি করছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং জীবন্ত ক্যানসার কোষই একটি মাছের শরীর থেকে অন্য মাছের শরীরে গিয়ে টিউমার তৈরি করছে বলে জিনগত তথ্য ইঙ্গিত করছে।   লেক মেমফ্রেমাগগের ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশের শরীরে অস্বাভাবিক কালো ক্ষত ও টিউমার প্রথম নজরে আসে ২০১২ সালে। পরে সেগুলো পরীক্ষা করে মেলানোমা শনাক্ত করা হয়। কেন একই এলাকার অনেক মাছের শরীরে একই ধরনের ক্যানসার দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন বিজ্ঞানীরা।   তবে ক্যানসার কোষ ঠিক কীভাবে একটি ক্যাটফিশ থেকে আরেকটির শরীরে যাচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গবেষকেরা এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধান করছেন।   বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের কাছেই ক্যাটফিশ পরিচিত খাবার হলেও এই গবেষণা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। গবেষণাটি সব ধরনের ক্যাটফিশ নিয়ে নয়। ক্যানসারটি নির্দিষ্টভাবে ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশে শনাক্ত হয়েছে। চ্যানেল ক্যাটফিশ, ব্লু ক্যাটফিশ বা বাজারে সাধারণভাবে বিক্রি হওয়া অন্যান্য ক্যাটফিশে একই সংক্রামক ক্যানসার রয়েছে, এমন তথ্য গবেষণায় দেওয়া হয়নি।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আক্রান্ত ক্যাটফিশ খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে এই ক্যানসার ছড়াতে পারে, এমন কোনো প্রমাণও গবেষকেরা পাননি। এখন পর্যন্ত ঘটনাটি ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশের মধ্যে ক্যানসার কোষ ছড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।   প্রাণিজগতে এ ধরনের সংক্রামক ক্যানসার অত্যন্ত বিরল। এর আগে কুকুর, তাসমানিয়ান ডেভিল এবং কিছু সামুদ্রিক ঝিনুকজাতীয় প্রাণীর মধ্যে এমন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। মাছের মধ্যে এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।   এখন গবেষকেরা জানার চেষ্টা করছেন, ক্যানসারটি কীভাবে ছড়ায়, কতদিন ধরে এটি ওই জলাশয়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ব্রাউন বুলহেড ক্যাটফিশের সংখ্যা ও মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রে এর কী প্রভাব পড়তে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০
মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী
মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৫৩৭ কোটির সাম্রাজ্য গড়লেন তরুণী

মাত্র ৭ হাজার টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু। একসময় ২২ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা কনিকা টেকরিওয়াল। ‘জেটসেটগো’ (JetSetGo)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে তিনি এখন ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম পরিচিত মুখ।   ২০২১ সালে ভারতের সবচেয়ে ধনী স্বনির্ভর নারীদের তালিকায় স্থান পাওয়া কনিকাকে সম্প্রতি দেখা গেছে জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’র পঞ্চম মৌসুমে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকাতেও জায়গা করে নেন।   মাড়োয়ারি পরিবারে জন্ম নেওয়া কনিকার শৈশব কেটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি একটি সচ্ছল পরিবারে বিয়ে করবেন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী কনিকা ভিন্ন স্বপ্ন দেখতেন। স্নাতক পড়তে ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার পর নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।   ঠিক সেই সময়ই তার জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। মাত্র ২২ বছর বয়সে তার শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা। কনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক চিকিৎসক তাকে খুব অল্প সময় বেঁচে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। পরে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ক্যানসারকে পরাজিত করেন।   এক সাক্ষাৎকারে কনিকা বলেন, ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, জীবন খুবই ছোট। তাই অন্যের প্রত্যাশা নয়, নিজের স্বপ্নকেই অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই তাকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে—বেসরকারি জেট পরিষেবা খাতে।   ২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেটসেটগো’। কনিকার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শুরু করতে তিনি নিজের পকেট থেকে মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে কোম্পানিটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টার বহর পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন শিল্পপতি পুনিত ডালমিয়া এবং সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরাও। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইসহ একাধিক শহরে রয়েছে কোম্পানির কার্যক্রম।   তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। পুরুষ-প্রধান এভিয়েশন শিল্পে কাজ করতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কনিকার ভাষায়, অনেকেই তাকে ব্যবসার বদলে ‘কাপকেক বানানোর’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। আবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে তাকে অহংকারী বলা হতো, যেখানে একই আচরণের জন্য পুরুষ উদ্যোক্তাদের ‘উদ্যমী’ হিসেবে দেখা হতো।   সব বাধা অতিক্রম করেই আজ তিনি ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে কনিকা টেকরিওয়াল হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী এবং অরবিন্দ ফার্মার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি. শরৎ চন্দ্র রেড্ডির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। ২০২৬ সালের মে মাসে তাদের পরিবারে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান।   কনিকার জীবনের গল্প আজ শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার নয়; বরং এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনুপ্রেরণার নাম।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
লি রেডপাথ, যিনি ফেনবেনডাজল সেবনের পর মারা যান। ছবি: সংগৃহীত
সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করে ক্যানসার সারানোর আশায় পশুর কৃমির ওষুধ খেয়ে যুবকের করুণ মৃত্যু

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য বিশ্বাস করে পশুর জন্য ব্যবহৃত একটি কৃমিনাশক ওষুধ সেবনের পর যুক্তরাজ্যের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ক্যানসারের চিকিৎসা বা প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রচারিত ওই ওষুধ মানুষের জন্য অনুমোদিত নয় এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণও নেই বলে চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন।   ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী লি রেডপাথ নামের ওই ব্যক্তি ফেনবেনডাজল (Fenbendazole) নামের একটি অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক বা পরজীবীনাশক ওষুধ টানা কয়েক সপ্তাহ সেবনের পর গুরুতর লিভার বিকল হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে গত বছরের ২৯ এপ্রিল ক্যামব্রিজের অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।   তদন্তে জানা যায়, লি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট দেখে বিশ্বাস করেছিলেন, ফেনবেনডাজল ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় উপকারী হতে পারে। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি ইউক্রেনভিত্তিক এক অনলাইন সরবরাহকারীর কাছ থেকে ওষুধটি সংগ্রহ করেন। ফেনবেনডাজল মূলত পশুর অন্ত্রের বিভিন্ন ধরনের পরজীবী ও কৃমি দূর করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি মানুষের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত নয় এবং ক্যানসারের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা প্রমাণিত নয়।   সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের হান্টিংডনে অনুষ্ঠিত এক করোনারের তদন্তে লির দীর্ঘদিনের সঙ্গী লরেন লল সাক্ষ্য দেন। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য দেখে লি মনে করেছিলেন ওষুধটি নিরাপদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ এটি ব্যবহার করছেন। লরেন বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই লি ওষুধটি সেবন শুরু করেছিলেন। তার মতে, এ ধরনের ওষুধ অনলাইনে সহজলভ্য হওয়ায় অনেক মানুষ পূর্ণ তথ্য না জেনেই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   তিনি আরও জানান, তার ধারণা লি মৃত্যুর আগে হয়তো প্রায় দুই বছর ধরে অনিয়মিতভাবে এই ওষুধ গ্রহণ করছিলেন। তদন্তে অ্যাডেনব্রুকস হাসপাতালের লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. গুইলিম ওয়েব স্পষ্টভাবে জানান, মানুষের ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় ফেনবেনডাজলের কোনো প্রমাণিত উপকারিতা নেই। তিনি বলেন, এ ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।   হাসপাতালের নথি অনুযায়ী, লিকে গত বছরের ১২ এপ্রিল গুরুতর লিভার সমস্যার লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার সময় তিনি চিকিৎসকদের জানান যে, অনলাইনে ক্যানসারবিরোধী গুণের দাবি দেখে তিনি ফেনবেনডাজল কিনে সেবন করছিলেন।   ময়নাতদন্তে দেখা যায়, লিভারের গুরুতর ক্ষতির পাশাপাশি কিডনিও অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, লির আগে থেকেই অ্যালকোহলজনিত লিভার সিরোসিস ছিল। তবে করোনারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেনবেনডাজলজনিত লিভারের বিষক্রিয়াই ছিল তার মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা শেষ পর্যন্ত লিভার ও কিডনি বিকলের দিকে নিয়ে যায়।   ক্যামব্রিজশায়ার ও পিটারবরোর সহকারী করোনার ক্যারোলিন জোনস বলেন, ফেনবেনডাজল অত্যন্ত শক্তিশালী কৃমিনাশক ওষুধ এবং এটি মানুষের জন্য কখনো যে মাত্রায় বা যে সময় পর্যন্ত ব্যবহারের কথা ভাবা হয়নি, লি তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ও দীর্ঘ সময় ধরে এটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, লি নিজের স্বাস্থ্যের উন্নতির উদ্দেশ্যে ওষুধটি গ্রহণ করেছিলেন। তবে সেই সিদ্ধান্তের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিতেই তার মৃত্যু হয়েছে।   লরেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে আনুষ্ঠানিক সতর্কতামূলক প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানালেও করোনার জানান, সে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি পাওয়া যায়নি। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অনলাইনে এ ধরনের ওষুধ সহজে কেনাবেচার বিষয়টি উদ্বেগের। তদন্ত শেষে লির মৃত্যুকে 'মিসঅ্যাডভেঞ্চার' বা অনিচ্ছাকৃত ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ফলে সংঘটিত মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর অনেকগুলোরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকে না। কোনো ওষুধ বা বিকল্প চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।   সূত্র: দ্য সান, যুক্তরাজ্য; করোনারের তদন্তে উপস্থাপিত তথ্য

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০