সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৭:৩৭
‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের
‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের

মুসলিম দেশগুলোর মূল্যবান সম্পদ ও কাঁচামাল লুট করার জন্য শত্রুরা সবসময় তৎপর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আয়োজিত ইরানি ও ইরাকি ব্যবসায়ীদের এক যৌথ বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, গালিবাফ তাঁর বক্তব্যে মুসলিম বিশ্বের ওপর চলমান আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, শত্রুদের প্রধান লক্ষ্যই হলো ইসলামী দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক শক্তিকে দুর্বল করে নিজেদের ফায়দা হাসিল করা।

 

একই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনায় মুখর হন শীর্ষ এই ইরানি কর্মকর্তা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিভিন্ন অর্থনৈতিক বাধাকে ‘অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দ্রুত সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

 

ইরাক ও ইরানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে এই মার্কিন চাপ মোকাবিলার ওপর জোর দেন তিনি। গালিবাফ মনে করেন, প্রতিবেশী ও মিত্র দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই শত্রুদের সম্পদ লুটের এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া এবং নিজেদের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
শৈশবে অটিজম ধরা পড়া ফক্স রাইকার
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন 'অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ'! অটিজম জয় করে সেই ফক্স নিজেই আজ ডাক্তার

শৈশবে অটিজম ধরা পড়েছিল ফক্স রাইকারের। চার বছর বয়স পর্যন্ত তিনি কথা বলতে পারতেন না। চিকিৎসকেরাও তখন নিশ্চিত ছিলেন না, ভবিষ্যতে তিনি নিজে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না। কয়েক বছর পর সেই ফক্সই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করে জরুরি চিকিৎসাসেবায় কাজ করেছেন এবং এখন নিজেই চিকিৎসক হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।   শিশুকালে ফক্সের মাঝারি মাত্রার অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার শনাক্ত হয়। চার বছর বয়স পর্যন্ত তিনি মৌখিকভাবে কথা বলতেন না। শৈশবে তাকে একাধিক স্কুলে পড়তে হয়েছে এবং প্রায় এক দশক বিভিন্ন ধরনের থেরাপি নিতে হয়েছে।   তবে এসব চ্যালেঞ্জ তার পড়াশোনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চ সম্মান নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পড়াশোনায় অসাধারণ ফলাফলের জন্য তিনি একাধিক একাডেমিক সম্মাননা সংগঠনের সদস্যও হন।   বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর চিকিৎসাক্ষেত্রে কাজ শুরু করেন ফক্স। প্রায় চার বছর তিনি জরুরি চিকিৎসা সহকারী এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন।   পাওলি হাসপাতালের চিকিৎসক স্টুয়ার্ট ব্রিলান্ট ফক্সকে পরিশ্রমী ও সহানুভূতিশীল কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ফক্সের মেডিকেল স্কুলের আবেদনের তথ্য পড়ার আগে তিনি তার অটিজমের বিষয়টি জানতেন না বলেও জানিয়েছেন।   এরপর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ফক্স ভর্তি হন ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনে। ২০২৭ সালের ডিও প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী হিসেবে বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তিনি।   নিজের অভিজ্ঞতাকেও তিনি অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন। কলেজের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিউরোডাইভার্সিটি বিষয়ক উদ্যোগে অটিজম নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। মেডিকেল কলেজের একটি সম্মানসূচক সংগঠনের সদস্যও হয়েছেন তিনি।   সাদা কোট পরার অনুষ্ঠানে নিজের ব্যাচের পক্ষ থেকে কলেজের মিশন বিবৃতি পাঠ করার দায়িত্বও পেয়েছিলেন ফক্স। পাশাপাশি থমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটির নিউরোলজিক্যাল সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণাতেও যুক্ত হয়েছেন।   একসময় যাকে নিয়ে চিকিৎসকেরা তার ভবিষ্যৎ স্বাধীন জীবনযাপন নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন, সেই ফক্স রাইকার এখন চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। তার গল্পটি দেখাচ্ছে, শৈশবে কোনো শিশুর সক্ষমতা সম্পর্কে করা প্রাথমিক ধারণা ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে সবসময় নির্ধারণ করে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৮:৪৫
ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের মনোবল বাড়াতে পুতিনের ভরসা ৬০০ বছরের পুরোনো সেনাপতির দে হাবশেষ

ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ সেনাদের মনোবল বাড়াতে পুতিনের ভরসা ৬০০ বছরের পুরোনো সেনাপতির দে হাবশেষ

‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের

‘মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ লুট করতে চায় শত্রুরা’, হুঁশিয়ারি ইরানের স্পিকার গালিবাফের

কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি, দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন

কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি, দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন

মধ্যপ্রাচ্যে ২৭২ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে দেশে ফিরছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন I ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭২ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে দেশে ফিরছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৯ মাসের সামরিক অভিযান শেষে অবশেষে দেশের পথে রওনা হয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রু নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রণতরিটি যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।   এই দীর্ঘ সময়ে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এটি। বর্তমানে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে অপর মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার রণতরিটির বিদায়বেলায় এক বার্তায় নাবিকদের শুভযাত্রা কামনা করে শিগগিরই তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।   গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘ ২৭২ দিনের এই মিশনে রণতরিটি মাত্র দুবার সমুদ্রে বিরতি নেয়। এর মধ্যে ডিসেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়ামে স্বল্প সময়ের জন্য এবং পরবর্তীতে রসদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওমানে নোঙর করেছিল এটি।   টানা সমুদ্রযাত্রায় থাকা নাবিকদের জন্য বিশ্রামের কোনো নির্ধারিত ছুটির দিন ছিল না। এখন প্রায় ১৩ হাজার মাইল দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরতে তাদের আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।   ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আব্রাহাম লিংকনকে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে মিশন চলাকালে রণতরিতে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান এবং আনুষঙ্গিক নানা সংকট নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিবেদন সামনে আসে।   প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইরানের হামলায় বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মিশন চালিয়ে নিতে হয়েছে রণতরিটির হাজারো ক্রুকে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৫:১১
৮ বছরের মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের পর মায়ের উদ্যোগে চালু হলো বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’

৮ বছরের মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের পর মায়ের উদ্যোগে চালু হলো বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’

৫২ বছর বয়সেই চাকরি ছেড়ে অবসর নেওয়া নারী

৫২ বছরেই অবসরের পরিকল্পনা! মাসে ৩ হাজার পাউন্ড আয়ের স্বপ্ন কতটা বাস্তব?

হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের ইতিহাস: রাজকীয় বাহিনী থেকে আধুনিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায় I

হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের ইতিহাস: রাজকীয় বাহিনী থেকে আধুনিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়

গ্রেসিয়া গুয়াদালুপে ওরান্তেস মেন্দোজার ছবি:সংগৃহীত
হেভি ফিল্টারের ছবিতে নিখোঁজ নারী, বাস্তব চেহারা মেলাতে গিয়ে বিপাকে পুলিশ

মেক্সিকোর চিয়াপাসে নিখোঁজ এক নারীকে খুঁজতে প্রকাশ করা পোস্টারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া অতিরিক্ত ফিল্টারযুক্ত ছবি ব্যবহারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৩০ বছর বয়সী গ্রেসিয়া গুয়াদালুপে ওরান্তেস মেন্দোসার ওই ছবিতে এত বেশি ডিজিটাল পরিবর্তন ছিল যে, বাস্তবে তার চেহারার সঙ্গে ছবিটির মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   গ্রেসিয়া গত ১২ এপ্রিল চিয়াপাসের ওকোসোকোয়াউতলা দে এস্পিনোসা এলাকায় নিখোঁজ হন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজের খবর জানানোর পর কর্তৃপক্ষ দ্রুত অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। তার সন্ধানে দেশটির নিখোঁজ নারীদের খুঁজে বের করার জন্য ব্যবহৃত আলবা প্রোটোকলের আওতায় অনুসন্ধান চালানো হয়। সরকারি অনুসন্ধান নথিতেও তার বয়স ৩০ বছর এবং নিখোঁজের তারিখ ১২ এপ্রিল উল্লেখ করা হয়েছে।   অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গ্রেসিয়ার ছবি দিয়ে পোস্টার ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়। তবে ব্যবহৃত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া ছিল এবং তাতে বিভিন্ন ফিল্টার ও ডিজিটাল সম্পাদনা করা হয়েছিল। ফলে ছবিতে তার মুখের বৈশিষ্ট্য ও চেহারায় বাস্তবের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায় বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।   নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে ছবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, এমন ছবি ব্যবহার করে কীভাবে সাধারণ মানুষ বা অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তারা নিখোঁজ ব্যক্তিকে সহজে শনাক্ত করবেন। বিশেষ করে ফিল্টারের কারণে মুখের গঠন, ত্বকের রং ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বদলে গেলে বাস্তব চেহারার সঙ্গে ছবি মেলানো আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।   তবে ঘটনাটির শেষ পরিণতি ছিল স্বস্তির। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর গ্রেসিয়াকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তাকে চিয়াপাসের ভ্যালেস অঞ্চলের একটি সড়কে নিরাপদ অবস্থায় পাওয়া যায়। সরকারি কর্তৃপক্ষও তার সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং অনুসন্ধানে সহায়তার জন্য নাগরিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে।   সরকারি অনুসন্ধান নথিতে গ্রেসিয়ার শারীরিক বৈশিষ্ট্যও উল্লেখ করা হয়েছিল, যার মধ্যে উচ্চতা, গায়ের রং, চুলের ধরন এবং গালে থাকা ফ্রেকলসের তথ্য ছিল। এ ধরনের বর্ণনা নিখোঁজ ব্যক্তিকে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি থাকলে অনুসন্ধান আরও কার্যকর হতে পারে।   গ্রেসিয়াকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি ফিরলেও ঘটনাটি নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি ব্যবহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ফিল্টারযুক্ত ছবি স্বাভাবিক হলেও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে এমন ছবি ব্যবহার করা হলে তা যেন তার প্রকৃত চেহারা শনাক্ত করার কাজে বাধা না দেয়, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।   নিখোঁজ ব্যক্তির ক্ষেত্রে দ্রুত ও নির্ভুল শনাক্তকরণ অনেক সময় অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ছবি নেওয়ার ক্ষেত্রে ছবিটির সাম্প্রতিকতা এবং বাস্তব চেহারার সঙ্গে মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা অনুসন্ধান কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে পারে।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:১২
কুয়েতি পাসপোর্ট ছবি:সংগৃহীত

কুয়েতে ভিসার স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বন্ধ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর

সারা আল-খাওয়াস ছবি:সংগৃহীত

পশ্চিম সাসেক্সের সাগরে ব্রিটিশ ফিলিস্তিনি কিশোরী ও তার পরিবারের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রতীকী ছবি:সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডে নতুন নিয়ম, ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ভারতীয়দের যা জানা জরুরি

0 Comments