সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আন্তর্জাতিক

বিয়ের জন্য পাত্রী মিলছে না, ভারতের এক জেলায় ৬ মাসে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ৯:৫৫
মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২৯ জন পুরুষ বিয়ের জন্য পাত্রী না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ২৯ জন পুরুষ বিয়ের জন্য পাত্রী না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৩৮৩ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ২৯টি ঘটনায় বিয়ের জন্য পাত্রী না পাওয়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। তবে এসব আত্মহত্যার পেছনে শুধু বিয়ে না হওয়ার বিষয়টিই ছিল না। মাদকাসক্তি, হতাশা, পারিবারিক সমস্যা ও ঋণসহ বিভিন্ন কারণও পুলিশের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

 

মহারাষ্ট্র পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জলগাঁওয়ে পুরুষদের আত্মহত্যার ঘটনাগুলোতে একাধিক কারণ পাওয়া গেছে। ফলে ২৯টি ঘটনায় বিয়ে না হওয়াকে উল্লেখ করা হলেও পুলিশ এটিকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছে না। পরিসংখ্যান প্রকাশের পর অবশ্য জলগাঁওয়ে পুরুষদের বিয়ে না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

বিবিসির প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা, তরুণ, পরিবার ও গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে এই পরিস্থিতির পেছনে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন কারণের কথা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রের চাকরি, নিয়মিত আয়, নিজস্ব বাড়ি, জমি ও আর্থিক স্থিতিশীলতাকে এখন আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে বি ফার্ম ডিগ্রিধারী কৌস্তুভ পোটদারের ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। নিজস্ব বাড়ি ও সরকারি চাকরি না থাকায় একাধিক বিয়ের সম্বন্ধে তিনি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে তার মৃত্যুর পেছনে বিয়ে না হওয়াই একমাত্র কারণ ছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়।

 

২০১৯ থেকে ২০২১ সালের জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ১১ শতাংশ অবিবাহিত ছিলেন। একই বয়সসীমায় পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ একই বয়সসীমায় অবিবাহিত পুরুষের হার নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

 

গ্রামীণ মহারাষ্ট্র নিয়ে গবেষণাকারী ময়ূর কুডুপলে ও জোয়েল কাবালিয়ানের গবেষণাতেও বিয়ের ক্ষেত্রে পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার বিষয়টি উঠে এসেছে। তাদের মতে, আগে গ্রামাঞ্চলে জমির মালিকানাকে বড় যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এখন স্থায়ী চাকরি, নিয়মিত আয় ও শহরে বসবাসের সুযোগকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জাতপাতও বিয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে রয়েছে।

 

লিঙ্গ সমতা প্রশিক্ষক দর্শনা পাওয়ারের মতে, কয়েক দশকের কন্যাভ্রূণ হত্যার প্রভাবেও বিবাহযোগ্য নারী ও পুরুষের অনুপাতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বেকারত্ব, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক প্রত্যাশা এবং নারী-পুরুষের বদলে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গিও যুক্ত হয়েছে।

 

ফলে জলগাঁওয়ের এই পরিসংখ্যানকে শুধু ‘পাত্রী সংকট’ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিয়ে না হওয়ার সঙ্গে সামাজিক চাপ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘদিনের জনমিতিক পরিবর্তনের মতো একাধিক বিষয় জড়িয়ে রয়েছে। পুলিশের তথ্যেও আত্মহত্যার পেছনে বিয়ে ছাড়াও বিভিন্ন কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

সূত্র: বিবিসি


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

বিষয়

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
আর্থিক সংকট দূর করার আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম।
যৌথ পরিবারের জমি বন্ধক রেখে রাশিয়ায়, যুদ্ধক্ষেত্রে মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশী নজরুলের

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় রাশিয়ায় গিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম। বিদেশে কাজ করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাঁর। কিন্তু নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রতিশ্রুতিতে রাশিয়ায় যাওয়ার পর তাঁকে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধান ও পরিবারের বক্তব্যে উঠে এসেছে। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় তাঁর মৃত্যুর খবর পান স্বজনেরা। এখন তাঁর পরিবারের সামনে স্বজন হারানোর শোকের পাশাপাশি রয়েছে ঋণ পরিশোধ, বন্ধক রাখা জমি উদ্ধার এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা।   নজরুলের বয়স ছিল প্রায় ৪০ বছর। তাঁর দুই সংসারে রয়েছে চার সন্তান। প্রথম সংসারের দুই ছেলের বয়স ১৫ ও ১০ বছর। দ্বিতীয় সংসারে রয়েছে সোয়া এক বছরের একটি মেয়ে ও ছয় মাস বয়সী একটি ছেলে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের খোঁজখবর রাখতেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন ছোট দুই সন্তান ও তাঁদের মা।    নজরুলের রাশিয়ায় যাওয়ার পেছনে ছিল পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর চেষ্টা। তাঁর বড় ভাইয়ের সঙ্গে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি তখনো ভাগ হয়নি। সেই যৌথ পরিবারের জমি স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে বন্ধক রেখে বড় ভাই ছোট ভাইকে বিদেশ যাওয়ার জন্য নয় লাখ টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু নজরুলের মৃত্যুর খবর আসার পর সেই জমি উদ্ধারের বিষয়টি নতুন সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ধক রাখা ব্যক্তি টাকা ফেরত দিতে না পারলে সমপরিমাণ জমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। নজরুলের বড় ভাইয়ের নিজের আর্থিক অবস্থাও দুর্বল। একসময় ঢাকায় সবজির ব্যবসা করেছেন, এমনকি রিকশাও চালিয়েছেন। বর্তমানে তাঁর পক্ষে নয় লাখ টাকা জোগাড় করে জমি উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যে বিদেশযাত্রা পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর কথা ছিল, সেটিই এখন তাঁদের জন্য আর্থিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।    নজরুলের ভাতিজা মোহাম্মদ শিহাবের বক্তব্য অনুযায়ী, চাচার সঙ্গে তাঁদের সর্বশেষ কথা হয়েছিল ২৯ জুলাই। তখন নজরুল জানিয়েছিলেন, তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। তিনি নিজের মাকে দেখে রাখার পাশাপাশি সন্তানদের যত্ন নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এরপর রাশিয়ায় তাঁর সঙ্গে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে পরিবার তাঁর মৃত্যুর খবর পায়। তবে তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সরকারি নিশ্চিতকরণের তথ্য প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।    নজরুল একা নন। একই উপজেলার পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলামও রাশিয়ায় কাজের আশায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন বলে তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। পবিত্র চন্দ্র পেশায় কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। রাশিয়ায় যাওয়ার খরচ জোগাতে তিনি স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রি করেন এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নেন। তাঁর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারকে শোকের পাশাপাশি ঋণদাতাদের চাপও সামলাতে হচ্ছে।    গত ১৪ অক্টোবর ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন জানায়, নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁদের নেওয়া হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে। প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জানায় সংস্থাটি।   তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাঁদের প্রতিশ্রুত চাকরিতে নিয়োগ না দিয়ে পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে বলা হয়, এই ৩০ জনের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের ১৭ জন প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় এবং আরও তিনজন পরবর্তী সময়ে মারা যান। দুজন দেশে ফিরেছেন, দুজন রাশিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন তখনো যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলেন বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন নিয়োগকারীকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায় সংস্থাটি।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১০:৪৩
মার্কিন ডাক বিভাগে জাল শিপিং লেবেল জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত ফাহিম আকরামকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তানের সাইবার ক্রাইম সংস্থা। ছবি: সংগৃহীত

ভুয়া শিপিং লেবেল ব্যবহার করে ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি, ফাহিম আকরাম আটক

কেমব্রিজের লাইব্রেরি নির্মাণ নিয়ে আইনি বিরোধে অধ্যাপক সুচিত্রা সেবাস্টিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

কেমব্রিজে নতুন লাইব্রেরির পরিকল্পনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামলেন অধ্যাপক সুচিত্রা

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

‘প্রয়োজনে ধুলো খাব, এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না’, ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ঘোষণা

২০১১ সালের ভয়াবহ সুনামিতে স্ত্রীকে হারানোর ১৫ বছর পরও সাগরে নেমে তাঁর দেহাবশেষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন জাপানের ইয়াসুও তাকামাৎসু। ছবি: সংগৃহীত
সুনামিতে সাগরে ভেসে যাওয়া স্ত্রীর খোঁজে ১৪ বছর ধরে ডুব দিয়ে যাচ্ছেন স্বামী, পেতে চান শেষবারের মতো

জাপানের ভয়াবহ সুনামিতে স্ত্রীকে হারানোর ১৫ বছর পরও তাঁর দেহাবশেষের খোঁজে সাগরে নামছেন ইয়াসুও তাকামাৎসু। ২০১১ সালের ১১ মার্চ মিয়াগি প্রিফেকচারের উপকূলীয় শহর ওনাগাওয়া থেকে নিখোঁজ হন তাঁর স্ত্রী ইউকো তাকামাৎসু। দীর্ঘ অনুসন্ধানেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ইয়াসুওর অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে।    দুর্যোগের সময় ইউকো ওনাগাওয়ার একটি ব্যাংকে কাজ করছিলেন। ভূমিকম্পের পর সুনামির ঢেউ শহরটিতে আঘাত হানে। নিখোঁজ হওয়ার আগে স্বামীকে পাঠানো শেষ বার্তায় তিনি জানতে চেয়েছিলেন, ইয়াসুও ভালো আছেন কি না। একই সঙ্গে জানিয়েছিলেন, তিনি বাড়ি ফিরতে চান। পরে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই বার্তার কথা তুলে ধরেন ইয়াসুও।    স্ত্রীকে খুঁজতে প্রথমে স্থলভাগে অনুসন্ধান করেন তিনি। পরে সাগরের নিচে খোঁজার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য ২০১৩ সালে ডাইভিং শেখা শুরু করেন। প্রশিক্ষণের পর ওনাগাওয়ার উপকূলের পানিতে নিয়মিত নেমে স্ত্রীর কোনো চিহ্ন খুঁজতে থাকেন। অর্থাৎ স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে অনুসন্ধান চললেও সাগরে ডুব দিয়ে খোঁজা শুরু হয় প্রায় দুই বছর পরে।    ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়াসুও তত দিনে ৭৬০ বারের বেশি ডুব দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ‘ডাইভিং ফর ইউকো’ তথ্যচিত্রের জন্য তাঁর একটি অনুসন্ধানও ধারণ করা হয়েছে। এতবার সাগরে নামার পরও স্ত্রীর দেহাবশেষের সন্ধান পাননি তিনি।    ইয়াসুওর এই অনুসন্ধানে সহযোগিতা করেছেন ডাইভিং প্রশিক্ষক মাসায়োশি তাকাহাশি। তাঁর নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবী ডুবুরিরা সুনামিতে নিখোঁজ মানুষদের খোঁজে সাগরের নিচে অনুসন্ধান চালান। স্ত্রীর খোঁজের পাশাপাশি ইয়াসুওও এই বৃহত্তর অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।    দীর্ঘ সময় ধরে সাগরে নামা এখন তাঁর কাছে স্ত্রীকে খোঁজার পাশাপাশি তাঁর কাছাকাছি থাকার একটি উপায়ও। ২০২৬ সালের মার্চে ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা দেপেশে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইয়াসুওর অনুভূতি তুলে ধরে বলা হয়, পানির নিচে গেলে স্ত্রীর শেষ মুহূর্তের ভয় ও কষ্টের কথা মনে হয় তাঁর। তারপরও তিনি সেখানে ইউকোর উপস্থিতি অনুভব করেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৯:২৮
স্লোগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে

ফ্রান্সের ছাত্রবিক্ষোভে ফরাসি-আরবি মিশ্র স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ, এটাই অন্ধকার’

যুক্তরাজ্যে পেনশন বাড়ছে প্রায় ৫০০ পাউন্ড

ট্রিপল লক নীতিতে ২০২৭ সালে বাড়ছে যুক্তরাজ্যের পেনশন, বার্ষিক আয় ছাড়াবে ১৩ হাজার পাউন্ড

এমপি হেলেন হেইন্সের দ্বিতীয় পা-ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলতে হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপির এক পায়ের পর কাটতে হলো দ্বিতীয়টিও

কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করা জ্যাক ওয়েইস
নোবেল কমিটির গবেষণার সহলেখক প্রিন্সটনের পিএইচডিধারী, ২৩০০ আবেদনেও মেলেনি স্থায়ী চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করা জ্যাক ওয়েইস দুই বছরে ২ হাজার ৩০০টির বেশি চাকরিতে আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি। ২০২৪ সালে ডক্টরেট সম্পন্ন করার পর থেকে চাকরি খুঁজছেন তিনি। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গবেষণার পদ থেকে শুরু করে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ও খাবার প্রস্তুতের কাজেও আবেদন করেছেন জ্যাক।      ইউটাহর সল্ট লেক সিটির বাসিন্দা জ্যাক বর্তমানে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকছেন। রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ করে ২০১৮ সালে প্রিন্সটনের পিএইচডি কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরে বিভিন্ন খাতে ও স্থানে আবেদন করেও অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারভিউয়ের সুযোগ পাননি বলে মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    জ্যাকের গবেষণার উল্লেখ রয়েছে ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের বৈজ্ঞানিক পটভূমি ব্যাখ্যা করা নথিতে। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, পানি কীভাবে বরফে পরিণত হয়, তা বুঝতে গবেষক দল মেশিন লার্নিং ব্যবহার করেছিল। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এই প্রযুক্তির প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে কাজটি তুলে ধরা হয়। এটি গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি, জ্যাকের নোবেল পুরস্কার পাওয়া নয়।      চাকরির খোঁজে প্রিন্সটন ও রাইসের সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন জ্যাক। তবে সেই প্রচেষ্টায়ও স্থায়ী কাজের সুযোগ তৈরি হয়নি। পরিচিতদের কেউ কেউ তাঁকে প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো নিয়মিত দেখতে বলেছেন বলে মানিকন্ট্রোল জানিয়েছে।    তবে এই সময়ের পুরোটা তিনি কাজের বাইরে ছিলেন না। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে একটি স্টার্টআপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা প্রশিক্ষণের খণ্ডকালীন কাজ পান। প্রকৌশলসহ নিজের দক্ষতার বিষয়ে কাজটির জন্য ঘণ্টায় ৭০ ডলার পেতেন তিনি। কিন্তু কাজের পরিমাণ অনিয়মিত ছিল। কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ পেলেও অন্য সপ্তাহে তা চার ঘণ্টায় নেমে আসত।      পরে কাজ আরও কমে যায় এবং মার্চের মাঝামাঝি একটি গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে তাঁর চুক্তি শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়। এরপরও চাকরির খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন জ্যাক। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সংকটটি দীর্ঘদিন স্থায়ী চাকরি না পাওয়ার, ডক্টরেটের পর কখনো কোনো কাজ না পাওয়ার নয়। 

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২:৫৭
পার্কে রুশ ড্রোন হামলায় দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন

ইউক্রেনের পার্কে হাঁটার সময় রুশ ড্রোন হামলায় মা ও স্ট্রলারে থাকা শিশুকন্যা নিহত

রেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক রেস কোর্স মসজিদ

মোদির বাসভবনের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদে বিদ্যুৎ-পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদের নির্দেশ

শতাক্ষী দ্বিবেদী নামের এক নারী

বিবাহিত জানার পর চাকরির ইন্টারভিউতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা জানতে চান এইচআর

0 Comments