ভালোবাসার বাসে অশ্রুসিক্ত বিদায়! ১৮ বছর পর প্রিয় বাসকে চুমু খেয়ে অবসরে কেএসআরটিসি চালক
কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে ১৮ বছর দায়িত্ব পালনের পর অবসরে গেলেন চালক পল কুরিয়ান। দীর্ঘ কর্মজীবনে যে বাসটি বছরের পর বছর চালিয়েছেন, অবসরের শেষ দিনে সেই বাসকেই আবেগঘনভাবে বিদায় জানান তিনি। শেষ যাত্রা শেষে বাসটির স্টিয়ারিংয়ে চুমু দিয়ে এবং বাসটিকে স্যালুট করে নীরবে সেখান থেকে চলে যান পল।
২ সেপ্টেম্বর ইদুক্কির কুমিলি ডিপো থেকে নিজের শেষ যাত্রা শুরু করেন পল কুরিয়ান। দীর্ঘ ১৮ বছরের কর্মজীবনের পর এটিই ছিল তার শেষবারের মতো বাস চালানো। যাত্রা শেষে বাস থেকে নামার সময় প্রিয় বাসটির প্রতি নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন তিনি।
শেষ যাত্রা শেষ হওয়ার পর পল কুরিয়ান বাসটির স্টিয়ারিংয়ের কাছে যান। সেখানে কিছুক্ষণ থাকার পর তিনি স্টিয়ারিংয়ে চুমু দেন। এরপর বাসটির দিকে ফিরে স্যালুট করেন। সবশেষে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই নীরবে বাসটি ছেড়ে চলে যান তিনি।
পল কুরিয়ানের এই আবেগঘন বিদায়ের মুহূর্তটি কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। মুহূর্তটি প্রকাশের পর তা অনলাইনে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দীর্ঘদিন ধরে একই পেশায় থাকা একজন চালকের কর্মজীবনের শেষ মুহূর্তের এই দৃশ্য অনেকের মন ছুঁয়ে যায়।
১৮ বছর ধরে কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনে কাজ করার সময় বাসটি পল কুরিয়ানের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে বাসটি চালানোর পর অবসরের দিনে সেটির প্রতি এমন আবেগঘন বিদায় তার পেশার সঙ্গে তৈরি হওয়া গভীর সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনেছে।
শেষ যাত্রার পর বাসটির স্টিয়ারিংয়ে চুমু দেওয়ার পাশাপাশি পল কুরিয়ান সেটিকে স্যালুটও করেন। এরপর তিনি চুপচাপ সেখান থেকে হেঁটে চলে যান। অল্প সময়ের এই দৃশ্যেই ফুটে ওঠে দীর্ঘ কর্মজীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ।
কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা ছবির ও ভিডিওর মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই পল কুরিয়ানের বিদায়ের আবেগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দীর্ঘদিনের পেশাগত জীবনের সঙ্গী একটি বাসকে অবসরের দিনে এভাবে বিদায় জানানোর দৃশ্যটি মানুষের কাছে বিশেষভাবে আবেগঘন হয়ে উঠেছে।
পল কুরিয়ানের শেষ যাত্রার এই মুহূর্তে কোনো দীর্ঘ বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক বিদায় ছিল না। বরং বাসটির স্টিয়ারিংয়ে চুমু দেওয়া, সেটিকে স্যালুট করা এবং এরপর নীরবে চলে যাওয়ার মধ্য দিয়েই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন তিনি।
১৮ বছর ধরে যে পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, অবসরের দিন সেই পেশার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে এভাবে বিদায় জানান পল কুরিয়ান। তার শেষ যাত্রা এবং বাসটির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মনোযোগ কেড়েছে।
দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে পল কুরিয়ানের এই বিদায় তাই তার পেশার সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্কের একটি আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। কেরালা স্টেট রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশনের কর্মকর্তাদের প্রকাশ করা সেই দৃশ্যেই দেখা যায়, শেষবারের মতো প্রিয় বাসটিকে চুমু দিয়ে ও স্যালুট করে নীরবে বিদায় নিচ্ছেন তিনি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreনেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া চারতলা একটি ভবন থেকে ১০ দিন পর ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার বেত্রাবতী এলাকায় তাকে উদ্ধার করে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। উদ্ধার হওয়া নারীর নাম চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠ। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, চারতলা ভবনের ওপরের তলায় আটকে ছিলেন তিনি। নয় সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল পরিদর্শক সুমন কুমার বিকের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের সময় চান্দিকা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরে হেলিকপ্টারে করে তাকে ত্রিশুলিতে নেপালি সেনাবাহিনীর মৈথিলি ব্যারাকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যার পর ১১তম দিনে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। একই দিনে নেপালের আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকেও ১০ দিন পর এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠকে উদ্ধারের খবরটি প্রথম প্রকাশ করে কাডমান্ডু পোস্ট, যা পরে আরটিভি অনলাইনও প্রকাশ করে।
ভালোবাসার বাসে অশ্রুসিক্ত বিদায়! ১৮ বছর পর প্রিয় বাসকে চুমু খেয়ে অবসরে কেএসআরটিসি চালক
বিয়ের জন্য পাত্রী মিলছে না, ভারতের এক জেলায় ৬ মাসে ২৯ পুরুষের আত্মহত্যা
নিজ হাতে নদী পরিষ্কার করে ভাইরাল ভারতীয় তরুণ পেলেন ডাচ পরিবেশ সংস্থার চাকরি!
অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুরমুস আয়া শহরে একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ির ছাদে উঠে বাসিন্দাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীর বিরুদ্ধে। শুক্রবারের এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ঘটনাটি রামাল্লাহর উত্তর-পূর্বে অবস্থিত তুরমুস আয়া শহরের আবু আওয়াদ পরিবারের বাড়িতে ঘটে। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বাড়ির ছাদে উঠে নিচে থাকা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে হুমকি দিতে দেখা যায়। তার হাতে একটি লাঠি বা ক্লাবসদৃশ বস্তু ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাদে দাঁড়িয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, “এটা আমার দেশ, এটা আমার জমি। ঈশ্বর আমাকে এটা দিয়েছেন।” ভিডিওতে তাকে বাড়িটির মালিকানা নিয়ে ধর্মীয় ও ভূখণ্ডগত দাবি জানাতেও শোনা যায়। তুরমুস আয়া ও আশপাশের এলাকায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলা, বাড়িতে প্রবেশ, সম্পত্তির ক্ষতি এবং কৃষিজমিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও আবু আওয়াদ পরিবারের বাড়িতে বসতিস্থাপনকারীদের হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। জুনেও তুরমুস আয়ার আবু আওয়াদ পরিবারের বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় বসতিস্থাপনকারীদের ক্যারাভান ও শেড স্থাপনের খবর জানিয়েছিল ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা। ওই এলাকায় জমি দখল ও নতুন বসতি সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাটি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোর ওপর চলমান ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতার অভিযোগকে আবারও সামনে এনেছে। তবে ওই নির্দিষ্ট ঘটনায় কোনো গ্রেপ্তার বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
১০ দিন পর নেপালের ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার চীনা নাগরিক ও নারী
জনপ্রিয় ব্রিটিশ ট্রাভেল কোম্পানির সব ছুটি স্থগিত, যাত্রীদের ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশ
'আমরা তোমাদের গোলাম নই': ভারতের টাটা কেমিক্যালসকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে কেনিয়া ছাড়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের আকস্মিক বৈদেশিক সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্তে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে বিগত ১৮ মাসে দেশটিতে কমপক্ষে ১৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার অর্ধেকই অন্তঃসত্ত্বা নারী বা প্রসূতি। এছাড়া এর মধ্যে ৩০টি নবজাতক ও ভ্রূণের মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা ও তহবিলের অভাবে ঘটা এই মৃত্যুগুলো ছিল ১০০ ভাগ প্রতিরোধযোগ্য। গবেষণা প্রতিবেদনে একটি মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার আঞ্চলিক হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট ও সেপসিসে আক্রান্ত এক নবজাতককে ভর্তি করা হয়। শিশুটির নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও, মার্কিন সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্টটি এক মাস আগেই অকেজো হয়ে পড়েছিল। ফলে অক্সিজেনের অভাবে শিশুটি মারা যায়। ইউএসএআইডি-এর (USAID) সাবেক প্রজেক্ট ম্যানেজার ডা. শাহ মোহাম্মদ কাজিজদা জানান, ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রকল্পের অন্তত ১৮০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি কাটছাঁট করতে শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ইউএসএআইডি-এর কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং আফগানিস্তানে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন (১৭০ কোটি) ডলারের সহায়তা আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয়। আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল আফগানিস্তানের প্রসূতি ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা খাত এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শত শত ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নারীদের চিকিৎসা নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিয়ে আঞ্চলিক হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এমনকি পথিমধ্যে বা বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে সন্তান জন্ম দিতে গিয়েও অনেকের মৃত্যু হচ্ছে। ‘রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল’-এর সিনিয়র ফেলো প্রিয়ালি দীপ্তি সুর সারা দেশের প্রায় ৫৫০ জন স্বাস্থ্যকর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। তিনি জানান, তহবিল সংকটে ভেন্টিলেটর ও ইনকিউবেটরগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। চাকরি হারিয়ে উপার্জনহীন হয়ে পড়া অনেক স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষ করে ধাত্রীরা (মিডওয়াইফ) চরম হতাশায় আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছেন। সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্যমতে, আফগানিস্তানে বর্তমানে প্রতি ১০ জন শিশুর একজন তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে এবং প্রায় ৬০০ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হারও এখন বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের খরচ কমানোর দায়িত্বে থাকা ইলন মাস্ক সম্প্রতি সমালোচকদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিলেন, মার্কিন সহায়তা বন্ধের কারণে মারা গেছে এমন একজনের নামও কেউ বলতে পারবে না। এর জবাবে প্রিয়ালি দীপ্তি সুর চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাওয়া এক প্রসূতির কথা উল্লেখ করে বলেন, "তার নাম ছিল হালিমা।"
নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে সিনেমার তারকার বদলে চীনের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি
নেপালে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভূমিধসে নি হত টেক্সাসের ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি