ইরানকে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষে পণাস্ত্র লঞ্চার বিক্রিতে রাজি রাশিয়া, উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র
সামরিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে সম্পর্ক আরও মজবুত করছে রাশিয়া ও ইরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (লঞ্চার) বিক্রিতে সম্মতি জানিয়েছে রাশিয়া।
'এপিইউ-এল' মডেলের এই লঞ্চারগুলো মূলত রাশিয়ার তৈরি এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায় এবং এর মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। রুশ প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নথিতে ক্রেতা হিসেবে সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ না করে সাংকেতিক নাম ‘কে-১০’ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই সমরাস্ত্র ইতোমধ্যে তেহরানের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এই অত্যাধুনিক রুশ প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। জানা গেছে, প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আকাশে ওড়ার সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করে যেকোনো চলমান লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধেও রুশ বাহিনী সাফল্যের সঙ্গে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
শুধু লঞ্চারই নয়, 'সি৪৩০এল' নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন রুশ প্রকৌশলীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাজনিত হুমকি তৈরি করতে পারে।
এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরানের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক 'শাহেদ' ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। এর প্রতিদান হিসেবেই মূলত এখন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে পুতিন প্রশাসন। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরানের সঙ্গে সামরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংঘাতে এখনই সরাসরি জড়াতে চায় না।
বরং যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে একটি কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreসামরিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে সম্পর্ক আরও মজবুত করছে রাশিয়া ও ইরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে ৯০টি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা (লঞ্চার) বিক্রিতে সম্মতি জানিয়েছে রাশিয়া। 'এপিইউ-এল' মডেলের এই লঞ্চারগুলো মূলত রাশিয়ার তৈরি এমআই-২৮ মডেলের আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে স্থাপন করা যায় এবং এর মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা সম্ভব। রুশ প্রতিরক্ষা শিল্পের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নথিতে ক্রেতা হিসেবে সরাসরি ইরানের নাম উল্লেখ না করে সাংকেতিক নাম ‘কে-১০’ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই সমরাস্ত্র ইতোমধ্যে তেহরানের হাতে পৌঁছেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই অত্যাধুনিক রুশ প্রযুক্তি যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। জানা গেছে, প্রতিটি লঞ্চারে দুটি করে ‘এলএমইউআর’ নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আকাশে ওড়ার সময়ও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ পরিবর্তন করে যেকোনো চলমান লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানা সম্ভব। ইউক্রেন যুদ্ধেও রুশ বাহিনী সাফল্যের সঙ্গে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। শুধু লঞ্চারই নয়, 'সি৪৩০এল' নামের একটি গোপন প্রকল্পের আওতায় ইরানের সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ইঞ্জিন ও জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়নেও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন রুশ প্রকৌশলীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সহায়তায় তৈরি এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভবিষ্যতে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তাজনিত হুমকি তৈরি করতে পারে। এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইরানের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক 'শাহেদ' ড্রোন সংগ্রহ করেছিল রাশিয়া। এর প্রতিদান হিসেবেই মূলত এখন ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে পুতিন প্রশাসন। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরানের সঙ্গে সামরিক ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংঘাতে এখনই সরাসরি জড়াতে চায় না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে একটি কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ক্রেমলিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বিরল প্রজাতির ভেবে উদ্ধার, ফের আলোচনায় শরীরে তরকারির ঝোল মাখানো গাঙচিল
২৩ বছরের বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে রোনালদোর অবসর
বোমাতঙ্কে ইউরোপে একাধিক ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ, আতঙ্কে হাজারো যাত্রী
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বাড়ির কাছেই একটি পরিচিত ট্রেইলে হাঁটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া মা ও মেয়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বন বিভাগের ধারণা, মা ও মেয়ে দুজনেই গ্রিজলি ভাল্লুকের মর্মান্তিক হামলার শিকার হয়েছেন। নিহতরা হলেন— ৪৮ বছর বয়সী আর্ট থেরাপিস্ট জেনিফার ব্যালকারাস এবং তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে সেলাহ রিড। ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বেলা কুলা এলাকায় নিজেদের বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বের ‘স্নুকা ওয়েস্ট ট্রেইল’-এ গত শনিবার সাধারণ নৈমিত্তিক হাঁটার উদ্দেশে বেরিয়ে তারা নিখোঁজ হন। চার সন্তানের জননী জেনিফার তার নির্ধারিত একটি অনলাইন মিটিংয়ে উপস্থিত না হলে তার ভাই ম্যাট ব্যালকারাস প্রথম শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সোমবার জেনিফারের এবং ঠিক পরদিন মঙ্গলবার তার মেয়ে সেলাহ রিডের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া কনজারভেশন অফিসার সার্ভিসের কর্মকর্তা জেফ টায়ার জানান, ঘটনাস্থলের আলামত দেখে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে সেখানে গ্রিজলি ভাল্লুকের সম্পৃক্ততা ছিল। তবে হামলায় একাধিক ভাল্লুক জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ওই ভাল্লুকটিকে শনাক্ত ও ধরার চেষ্টা চলছে এবং মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এমন অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেনিফারের আরেক ভাই জশ জানান, মা ও মেয়ে দুজন সবসময় বন্ধুর মতো একসঙ্গেই থাকতেন। তারা শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতি উপভোগ করতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাই পাহাড়ি ওই পথটি তাদের কাছে মোটেও অপরিচিত ছিল না। জীবনের নতুন অধ্যায় ও ক্যারিয়ার শুরু করতে জেনিফার সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ২৬৮ মাইল দূরের এই বেলা কুলা অঞ্চলে চলে এসেছিলেন। হঠাৎ তাদের এমন মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। জেনিফারের বেঁচে থাকা অপর তিন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পাশে দাঁড়াতে এবং অপ্রত্যাশিত খরচ মেটাতে এরই মধ্যে বন্ধুদের উদ্যোগে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) তহবিল গঠন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, বেলা কুলা এলাকায় ভাল্লুকের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এক বছরেরও কম সময় আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই এলাকায় দুটি শাবকসহ একটি ভাল্লুকের হামলায় ১১ জন আহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সেই আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মা ও মেয়ের এমন করুণ মৃত্যু স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে ভীতি তৈরি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ভিসা, সুযোগ পাবে বাংলাদেশিরাও! আবেদন শুরু ১২ নভেম্বর থেকে
লন্ডনে গণেশ উৎসবের পর লেকে প্রতিমা বিসর্জ্জন, আবর্জনায় ক্ষুব্ধ সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে পোস্ট করায় বন্ধুকে হত্যা, কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতেন পাকিস্তানের ২৪ বছর বয়সী মেধাবী তরুণী লাইবা ইজাজ। সেই স্বপ্ন পূরণের আশায় এক ব্যক্তির হাতে বিপুল অর্থ তুলে দিয়েছিল তাঁর পরিবার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কাগজপত্র, স্কলারশিপের চিঠি থেকে শুরু করে বিমানের টিকিট পর্যন্ত সবই ছিল জাল। প্রতারণার বিষয়টি জানার মাত্র তিন দিন পর গত ৯ অক্টোবর ইসলামাবাদে নিজ বাড়ির কাছে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় লাইবাকে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) আল জাজিরার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ঘটনার বিস্তারিত। লাইবা ইসলামাবাদের ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে গোল্ড মেডেল অর্জন করেছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি স্কুলে বিজ্ঞান পড়াতেন এবং শিশুদের প্রাইভেট টিউশন দিতেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা। লাইবার বাবা মুহাম্মদ ইজাজ ইসলামাবাদে একটি দুগ্ধজাত পণ্যের দোকান পরিচালনা করেন। মেয়ের স্বপ্ন পূরণে তিনি নিজের জমি ও পরিবারের গয়না বিক্রি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মুহাম্মদ নোমান নামের এক ব্যক্তি হার্ভার্ডে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে কয়েক ধাপে অর্থ নেন। প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি বাবদ ২২ লাখ পাকিস্তানি রুপি এবং পরে ব্যাংক স্টেটমেন্ট তৈরির কথা বলে ৭২ লাখ রুপি দাবি করেন তিনি। নোমান নিজেকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য তিনি পরিচয়পত্রও দেখান। এরপর লাইবার পরিবারের হাতে হার্ভার্ডের ভর্তির চিঠি, স্কলারশিপের কাগজ, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ডকুমেন্ট এবং বোস্টনগামী বিমানের টিকিট তুলে দেন। অক্টোবরের শুরুতে নোমানের আচরণে সন্দেহ হলে পরিবারটি কাগজপত্র যাচাই করে। একজন ট্রাভেল এজেন্ট ও আইনজীবীর মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, সব নথিই জাল। ৬ অক্টোবর প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন লাইবা। এর তিন দিন পর, ৯ অক্টোবর, বাড়ি থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ময়নাতদন্তের তথ্য আত্মহত্যার সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করলেও পরিবার তা মানতে নারাজ। লাইবার বাবা অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পেছনে নোমানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। ১১ অক্টোবর নোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ২০ অক্টোবর পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, সহযোগীরা তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনারও তদন্ত চলছে। পরে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি লাইবার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং অভিযুক্তের কাছ থেকে উদ্ধার করা ৫০ লাখের বেশি পাকিস্তানি রুপি পরিবারের হাতে তুলে দেন।আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকির ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কোনো এজেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিশ্চয়তা দিতে পারে না। লাইবার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গের ঘটনা নয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে প্রতারণার ঝুঁকিও সামনে এনেছে। মেয়েকে হারিয়ে বাবা মুহাম্মদ ইজাজ এখনো বিচার ও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার অপেক্ষায় রয়েছেন।
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮ স্কুলে সাইবার হামলা, ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ২০ হাজার ফাইল
ব্রিটিশ পাসপোর্ট আবেদন ও নবায়নে পরিচয় নিশ্চিতের দুই বছরের শর্ত, যা জানা জরুরি