বোমাতঙ্কে ইউরোপে একাধিক ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ, আতঙ্কে হাজারো যাত্রী
বোমাতঙ্কের জেরে গত বৃহস্পতিবার ইউরোপের আকাশপথে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। একের পর এক ফ্লাইটে বোমার হুমকি আসায় একাধিক ফ্লাইট তাদের নির্ধারিত গন্তব্যের বদলে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। ইউরোপজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ফিনিশ ব্রডকাস্টার 'উলে' (Yle) জানিয়েছে, ফিনায়ারের হেলসিংকি থেকে রোমগামী ফ্লাইট ১৭৬১-তে বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ইতালির রাজধানীতে নিরাপদে অবতরণের পর তল্লাশি চালিয়ে বিমানটিতে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বুলগেরিয়ার সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের তিনটি ফ্লাইটও একই কারণে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়।
ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এবং স্পেনের মাদ্রিদ থেকে আসা দুটি ফ্লাইট নিরাপদে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে লন্ডনের স্ট্যানস্টেড থেকে আসা তৃতীয় ফ্লাইটটিকে ঘুরিয়ে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর প্লোভডিভের বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
এর পাশাপাশি, আয়ারল্যান্ড থেকে ইতালির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আরও একটি ফ্লাইট বোমাতঙ্কের কারণে ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের ইভরেক্সের একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, ওই ফ্লাইটের ১৫১ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু নিরাপদে রয়েছেন এবং সামরিক বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বিমানটিতে তল্লাশি চালিয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যার লিঙ্গাসের ডাবলিন-রোম ফ্লাইটটি প্যারিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই গতিপথ পরিবর্তন করে ইভরেক্সের দিকে ঘুরে যায়।
ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় ফ্লাইটে এমন ভুয়া বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তন, তল্লাশি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইতালীয় বিমান বাহিনীর পাহারায় অবতরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এলওটি (LOT), স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স, উইজ এয়ার এবং রায়ানএয়ারের মতো প্রথম সারির এয়ারলাইন্সগুলোও এসব হুমকির শিকার হয়েছে।
এর ঠিক এক দিন আগেই বুলগেরিয়াগামী অপর একটি বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় বোমার হুমকি পাওয়ার পর হাঙ্গেরিতে অবতরণ করানো হয়েছিল। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, ইউরোপজুড়ে ড্রোন অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য রহস্যময় নাশকতার সতর্কতার মাঝে এমন ভুয়া বোমাতঙ্ক জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আন্তর্জাতিক
View moreবোমাতঙ্কের জেরে গত বৃহস্পতিবার ইউরোপের আকাশপথে চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। একের পর এক ফ্লাইটে বোমার হুমকি আসায় একাধিক ফ্লাইট তাদের নির্ধারিত গন্তব্যের বদলে জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। ইউরোপজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ফিনিশ ব্রডকাস্টার 'উলে' (Yle) জানিয়েছে, ফিনায়ারের হেলসিংকি থেকে রোমগামী ফ্লাইট ১৭৬১-তে বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে ইতালির রাজধানীতে নিরাপদে অবতরণের পর তল্লাশি চালিয়ে বিমানটিতে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বুলগেরিয়ার সোফিয়াগামী রায়ানএয়ারের তিনটি ফ্লাইটও একই কারণে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এবং স্পেনের মাদ্রিদ থেকে আসা দুটি ফ্লাইট নিরাপদে সোফিয়ার ভাসিল লেভস্কি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে লন্ডনের স্ট্যানস্টেড থেকে আসা তৃতীয় ফ্লাইটটিকে ঘুরিয়ে বুলগেরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর প্লোভডিভের বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। এর পাশাপাশি, আয়ারল্যান্ড থেকে ইতালির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আরও একটি ফ্লাইট বোমাতঙ্কের কারণে ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের ইভরেক্সের একটি সামরিক বিমান ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করে। ফরাসি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, ওই ফ্লাইটের ১৫১ জন যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু নিরাপদে রয়েছেন এবং সামরিক বাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বিমানটিতে তল্লাশি চালিয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অ্যার লিঙ্গাসের ডাবলিন-রোম ফ্লাইটটি প্যারিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই গতিপথ পরিবর্তন করে ইভরেক্সের দিকে ঘুরে যায়। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের মতে, চলতি সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় ফ্লাইটে এমন ভুয়া বোমার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ফ্লাইটগুলোর গতিপথ পরিবর্তন, তল্লাশি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইতালীয় বিমান বাহিনীর পাহারায় অবতরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এলওটি (LOT), স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এয়ারলাইন্স, উইজ এয়ার এবং রায়ানএয়ারের মতো প্রথম সারির এয়ারলাইন্সগুলোও এসব হুমকির শিকার হয়েছে। এর ঠিক এক দিন আগেই বুলগেরিয়াগামী অপর একটি বিমান আকাশে থাকা অবস্থায় বোমার হুমকি পাওয়ার পর হাঙ্গেরিতে অবতরণ করানো হয়েছিল। এসব ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও, ইউরোপজুড়ে ড্রোন অনুপ্রবেশ ও অন্যান্য রহস্যময় নাশকতার সতর্কতার মাঝে এমন ভুয়া বোমাতঙ্ক জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন এক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
কানাডায় বাড়ির কাছে হাঁটতে গিয়ে ভাল্লুকের হা মলায় মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃ ত্যু
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন ভিসা, সুযোগ পাবে বাংলাদেশিরাও! আবেদন শুরু ১২ নভেম্বর থেকে
লন্ডনে গণেশ উৎসবের পর লেকে প্রতিমা বিসর্জ্জন, আবর্জনায় ক্ষুব্ধ সিটি অব লন্ডন কর্পোরেশন
কুয়েতে স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশ এবং বারবার অনুরোধের পরও তা সরিয়ে না নেওয়ায় বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত তাঁকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন। কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশনের বরাতে বুধবার (৪ নভেম্বর) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। আদালতের শুনানিতে উঠে এসেছে, স্ত্রীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেই বিরোধ গড়ায় হত্যাকাণ্ডে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশির বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই কয়েকটি ব্যক্তিগত ছবি তোলেন ওই বন্ধু। পরে ছবিগুলো ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ছবি প্রকাশের পর ওই নারীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য আসতে শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দেয়। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি জানান, তিনি বন্ধুকে একাধিকবার ছবিগুলো মুছে ফেলার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বন্ধু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করেন। এমনকি আগের ছবিগুলো সরিয়ে না নিয়ে আরও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এতে তাঁদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন ওই বাংলাদেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি ছুরি নিয়ে কর্মস্থলের একটি স্থানের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। বন্ধু সেখানে রয়েছেন নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁর বের হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। পরে বন্ধু বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁর ওপর হামলা চালান তিনি। মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আঘাতে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আদালতের শুনানিতে হত্যার দায় স্বীকার করেন অভিযুক্ত বাংলাদেশি। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির সঙ্গে আগে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু স্ত্রীর ছবি প্রকাশ এবং সেগুলো সরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই বিরোধ থেকেই প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কুয়েতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরব টাইমস জানিয়েছে, বিচারক নাসের আল বদরের নেতৃত্বাধীন আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। তদন্তের পর দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছিলেন। মামলার তথ্যপ্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তি বিবেচনায় আদালত হত্যাকাণ্ডটিকে ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত বলে রায় দেন। পরে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ও নিহত ব্যক্তির পরিচয়, হত্যাকাণ্ডের নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: গালফ নিউজ, আরব টাইমস, দ্য ডেইলি স্টার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন বন্ধু। বারবার অনুরোধের পরও ছবি মুছে না ফেলায় তৈরি হয় বিরোধ। শেষ পর্যন্ত সেই বন্ধুকেই ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। এবার কুয়েতের আদালত তাঁকে দিলেন মৃত্যুদণ্ড। #Kuwait #BangladeshiExpat #DeathSentence #KuwaitNews #CrimeNews #BangladeshNews #Facebook #MiddleEastNews
হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্নই হলো কাল, প্রতারিত হয়ে সত্য জানার পর ২৪ বছরের লাইবার রহস্যজনক মৃত্যু
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল শহরের ৮৮ স্কুলে সাইবার হামলা, ডার্ক ওয়েবে ৩ লাখ ২০ হাজার ফাইল
ব্রিটিশ পাসপোর্ট আবেদন ও নবায়নে পরিচয় নিশ্চিতের দুই বছরের শর্ত, যা জানা জরুরি
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে সামরিক প্রশিক্ষণ চলাকালে এক মার্কিন নৌ সেনার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ক্যাম্প শোয়াবে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (৪ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের তৃতীয় মেরিন ডিভিশন এক বিবৃতিতে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কীভাবে ওই সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। মার্কিন সামরিক সংবাদপত্র স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ক্যাম্প শোয়াবে নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে প্রশিক্ষণটি কী ধরনের ছিল, সেখানে অস্ত্র বা সামরিক যান ব্যবহার করা হচ্ছিল কি না এবং ঠিক কোন পরিস্থিতিতে সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি মেরিন কোর। তৃতীয় মেরিন ডিভিশনের বিবৃতিতে নিহত সেনাসদস্যের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর খবর জানানোর অন্তত ২৪ ঘণ্টা পর নিহতের পরিচয় প্রকাশ করা হবে। এ কারণে এখনো ওই সেনাসদস্যের নাম, বয়স, পদবি কিংবা তিনি কোন সামরিক ইউনিটে কর্মরত ছিলেন, সে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তৃতীয় মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্সের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট টাইলার থমাস এবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ক্যাম্প শোয়াবেই ঘটেছে। তবে সেনাসদস্যটি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন, নাকি আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় অন্য কোনো সেনাসদস্য আহত হয়েছেন কি না, সে সম্পর্কেও তথ্য দেওয়া হয়নি। জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ক্যাম্প শোয়াব অন্যতম। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলের নাগো শহরের কাছে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে মার্কিন মেরিন সেনারা নিয়মিত যুদ্ধপ্রস্তুতি ও সামরিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। এখানে তৃতীয় মেরিন ডিভিশনের অধীন চতুর্থ মেরিন রেজিমেন্ট ও তৃতীয় রিকনেসান্স ব্যাটালিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম রয়েছে। তৃতীয় মেরিন ডিভিশনের প্রধান কার্যালয়ও ওকিনাওয়ার ক্যাম্প কোর্টনিতে অবস্থিত। এই ডিভিশন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলযুদ্ধ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। বিশেষ করে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখতে এই বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় জাপানে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনাসদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তাঁদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ওকিনাওয়ায় অবস্থান করেন। অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়। এদিকে সামরিক প্রশিক্ষণে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তকারীরা দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছেন। প্রশিক্ষণের সময় নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও তদন্তে তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। তবে তদন্তের অগ্রগতি কিংবা প্রাথমিক কোনো ফল এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলেও ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতি বদলাবে না: মোজতবা খামেনি
জাপানে কান্নার জন্য ভাড়া করা যায় সুদর্শন তরুণ, চোখের পানিও মুছে দেন তাঁরা