আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের উত্তপ্ত সীমান্ত এলাকায় চলমান সশস্ত্র সংঘাতের জেরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ১৮ হাজার মানুষ। সম্প্রতি জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) এক বিবৃতিতে এই ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে চলা দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে কয়েক হাজার পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে এই অঞ্চলগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ইউএনএইচসিআর (UNHCR) সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে যে, চলমান এই সংকটে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার মানুষ এবং পাকিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে আরও ৩ হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি দ্রুত মানবিক সহায়তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিএনএন-এর ডানা ব্যাশকে দেওয়া এক বিশেষ ফোন সাক্ষাৎকারে ইরান এবং কিউবার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সাফল্যের ওপর জোর দেন। প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. কিউবা শাসনের পতন আসন্ন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, "খুব শীঘ্রই কিউবার পতন হতে যাচ্ছে। তারা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে।" তিনি আরও জানান, ইরান পরিস্থিতির সমাধান হওয়ার পর কিউবা নিয়ে কাজ করতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ দায়িত্ব দেবেন। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘ ৫০ বছর পর কিউবা এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং এটি তার প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য হতে যাচ্ছে। ২. ইরানের জন্য শর্তহীন আত্মসমর্পণ: ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "শর্তহীন আত্মসমর্পণ" (Unconditional Surrender) ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা চুক্তি হবে না। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের নেতৃত্ব এখন "নিবীর্য" (neutered) হয়ে পড়েছে। ৩. ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও ধর্মীয় শাসন: ইরানের ভবিষ্যৎ শাসক কে হবেন—সে বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মূল শর্ত হলো এমন এক নেতা যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরবর্তী শাসক যদি কোনো ধর্মীয় নেতাও হন, তাতে তার আপত্তি নেই, যদি সেই নেতা ন্যায়পরায়ণ হন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করেন। ৪. ভেনেজুয়েলা মডেলের অনুকরণ: ইরানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপে পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে কাজ চলছে, ইরানেও অনেকটা সেভাবেই পরিবর্তন আনা হবে। ৫. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটার আইডি আইন: সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কেবল বৈদেশিক নীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) বা কঠোর ভোটার আইডি আইন পাস করা। টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে তার সমর্থনের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কিউবা ও ইরান নিয়ে তার আক্রমণাত্মক নীতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবা মিশনে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের নতুন সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অনলাইন ঝুঁকি মোকাবিলায় এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এখন থেকে দেশটিতে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক ভিডিও বিবৃতিতে ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ ও ডিজিটাল বিষয়ক মন্ত্রী মেউতিয়া হাফিদ এই নতুন সরকারি প্রবিধান স্বাক্ষরের ঘোষণা দেন। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সীরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব, এক্স (সাবেক টুইটার), থ্রেডস, বিগোর মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ‘রোবলক্স’-এ কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে বা ব্যবহার করতে পারবে না। আগামী ২৮ মার্চ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে কার্যকর করা শুরু হবে। মন্ত্রী মেউতিয়া হাফিদ জানান, শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই এই ‘ডিজিটাল জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের শিশুরা পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, অনলাইন প্রতারণা এবং বিশেষ করে অ্যালগরিদম-নির্ভর আসক্তির মতো বাস্তব হুমকির সম্মুখীন। অভিভাবকদের এই অসম লড়াইয়ে সরকার এখন পাশে দাঁড়িয়েছে।” সরকার জানিয়েছে, ২৮ মার্চ থেকে এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে থাকা ১৬ বছরের কম বয়সীদের বিদ্যমান অ্যাকাউন্টগুলো পর্যায়ক্রমে নিষ্ক্রিয় (Deactivate) করা হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সিস্টেমে কঠোরভাবে বয়স যাচাইকরণ প্রক্রিয়া যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মন্ত্রী। অস্ট্রেলিয়া ও স্পেনের পর ইন্দোনেশিয়া তৃতীয় দেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম দেশ হিসেবে এ ধরনের কঠোর আইন কার্যকর করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগকে অনেক অভিভাবক স্বাগত জানালেও অনেকে বাস্তবসম্মত উপায়ে এটি কতটুকু কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই উদ্যোগ শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক সাহসী পদক্ষেপ, তবে এটি সফলভাবে বাস্তবায়নে বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গ্যাসের দাম গত ছয় দিনে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে তার অগ্রাধিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির বাজার দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র–এর লুইজিয়ানা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে জরুরি তেলের বড় মজুত রয়েছে। তবে আপাতত এই মজুত ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ২১ দিন আলোচনা চলে, যা ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী, যার নাম দেওয়া হয় অপারেশন এপিক ফিউরি। একই সময়ে ইসরায়েল অপারেশন রোরিং লায়ন নামে অভিযান শুরু করে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং রয়টার্স তথ্য প্রকাশ করেছে।