- প্রচ্ছদ
- Latest news
Today latest news
20 News
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব হস্তান্তর করা হবে না। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে “স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ” দেবে। ফলে চুক্তির প্রকৃত পরিধি নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড শুক্রবার জানিয়েছে, তারা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে সেখানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থাও থাকবে। তবে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির পরিমাণ কত হবে, এবং বৈদেশিক নীতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ওয়াশিংটন কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা পাবে কি না—এসব বিষয় স্পষ্ট নয়। চুক্তিটি আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের “স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ” থাকবে। তিনি আরও বলেছেন, ওয়াশিংটনের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সেখানে সামরিক ঘাঁটি, সামরিক উপস্থিতি বা কিছু সংবেদনশীল বিনিয়োগ করতে পারবে না। অন্যদিকে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেয়। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেনও বলেছেন, চুক্তিটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিকের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ডেনমার্কের নির্ধারিত সীমারেখা বজায় রাখবে। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে কয়েক মাস ধরে কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছিল। ট্রাম্প এর আগে দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলেছিলেন, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ন্যাটোও চুক্তিটিকে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তবে চুক্তির পূর্ণ নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কতটা বাড়বে বা ওয়াশিংটনের বাস্তব ক্ষমতার পরিধি কতটুকু হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই আপাতত নিশ্চিত বিষয় হলো—গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা বা সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের ঘোষণা হয়নি; বরং নতুন চুক্তিতে নিরাপত্তা ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। Source: রয়টার্স
গাজায় যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও স্বজন হারানোর অভিজ্ঞতা এবার মঞ্চনাটকে তুলে ধরছেন সেখানকার অভিনেতারা। ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নামের এই নাটকে অভিনয় করা শিল্পীদের অনেকেই নিজেরাই যুদ্ধের ক্ষত, ঘর হারানো ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে মঞ্চে তারা যে গল্প বলছেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরা যুদ্ধের আগে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন। যুদ্ধের সময় তার উত্তর গাজার আল-তাওয়াম এলাকার বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের নিচে একটি কক্ষে থাকেন তিনি। প্রতিদিন পরিবারের জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করে রান্নার ব্যবস্থা করার পর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে মহড়ায় যেতে হয় তাকে। নাটকে কাদ্দুরা এমন এক চিকিৎসকের চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি যুদ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন এবং অ্যানেসথেশিয়া ছাড়াই নিজের সন্তানের পা কেটে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। দৃশ্যটি একজন বাস্তব গাজাবাসী বাবার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিজের সন্তানদের কথা মনে পড়ায় দৃশ্যটি অভিনয় করতে গিয়ে কাদ্দুরা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মহড়ার মাঝেই কান্নায় ভেঙে পড়লেও পরে আবার মঞ্চে ফিরে একই দৃশ্য অভিনয় করেন। নাটকটির পরিচালক আলি আবু ইয়াসিন গাজায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। যুদ্ধের কারণে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক বা শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি স্থাপনাও রয়েছে। ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ প্রকল্পটির শুরু ২০২৬ সালের এপ্রিলে নাট্যরচনা কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার কারণে শেষ পর্যন্ত আটজন এতে যুক্ত থাকতে পারেন। পরে তারাই নাটকটি মঞ্চস্থ করার সিদ্ধান্ত নেন শুরুতে তাদের কোনো স্থায়ী মঞ্চ ছিল না। তাঁবু টাঙিয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের গাড়ি রাখার জায়গায় মহড়া চলেছে। পরে গোলাগুলির কারণে স্থান পরিবর্তন করে একটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাফের ছোট কক্ষে মহড়া করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল না। কাঠের সংকট থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠ দিয়ে শিল্পীরাই মঞ্চের সেট তৈরি করেন। ২৫ বছর বয়সী অভিনেত্রী ইমান ওদাও নিজের জীবনের ভয়কে চরিত্রের মধ্যে খুঁজে পান। এক মহড়ার সময় কাছাকাছি বিস্ফোরণ হলে অভিনেতারা মহড়া বন্ধ করে পরিবারের খোঁজ নিতে ফোন করেন। নিজের বাবার মৃত্যুর স্মৃতিও নাটকের একটি চরিত্রের নামের সঙ্গে জড়িয়ে তার আবেগকে আরও তীব্র করে তোলে। অভিনেতা তামের নাজমের গল্পও নাটকের সঙ্গে মিশে গেছে। যুদ্ধের আগে তিনি গাজা সিটির নাসের এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য বহু বছর সঞ্চয় করেছিলেন। সেই বাড়ি ধ্বংস হওয়ার পর গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন বাড়ি, ফুটপাত ও তাঁবুতে আশ্রয় নিতে হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়। নাটকে তিনি এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করছেন, যিনি পরিবার ও সন্তানকে হারানোর আশঙ্কায় থাকেন। অবশেষে গাজা সিটির আল-ওয়াহদা স্ট্রিটের এ.এম. কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির প্রথম মঞ্চায়ন হয় ১৯ জুলাই। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়। পরে জুলাইয়ের শেষ থেকে আগস্ট পর্যন্ত গাজার দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে নাটকটির প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি প্রদর্শনীতে ৫০০ জনের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন। গাজার এই শিল্পীদের কাছে নাটকটি শুধু বিনোদন নয়; নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ ও যুদ্ধের বাস্তবতা নথিবদ্ধ করার একটি মাধ্যম। যুদ্ধের মধ্যেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা এমন গল্প বলছেন, যেগুলোর অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবন থেকে উঠে এসেছে। আর অভিনয় শেষ হওয়ার পরও তাদের যুদ্ধ থেমে থাকে না—মঞ্চ থেকে ফিরে আবার শুরু হয় খাবার, আশ্রয় ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব লড়াই। Source: আল জাজিরা
ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখায় হুথি যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর স্বাভাবিক জীবন অনেকটাই থেমে গেছে। দোকানপাট বন্ধ, স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই এবং নিরাপত্তার আশঙ্কায় বহু পরিবার ঘর থেকে বের হচ্ছে না। গত সপ্তাহে হুথিরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শহরের বাসিন্দাদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে মোখা ছেড়ে পালিয়েছে। অনেকেই দক্ষিণের সরকারি নিয়ন্ত্রিত শহর এডেনের দিকে যাচ্ছেন। তবে অর্থের সংকটে বহু পরিবার শহরেই আটকে আছে। এডেনে যাওয়ার বাসভাড়াও বেড়ে যাওয়ায় তাদের জন্য শহর ছাড়ার সিদ্ধান্ত আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। মোখার বাসিন্দা মাহমুদ জানান, তিনি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কাজে যেতে পারেননি। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। আগে সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা থাকা দোকানগুলো এখন অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শহরে বিদ্যুৎ থাকলেও রাত ৮টার দিকে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। শিক্ষা কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক অভিভাবক নিরাপত্তার কারণে সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। স্থানীয় এক শিক্ষক জানান, মোখায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও স্থায়ী আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। শিশুদের ওপর হুথিদের প্রভাব বিস্তার বা নিয়োগের আশঙ্কাও কিছু পরিবারের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে বলে স্থানীয় বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন। মোখা ছেড়ে পালানো মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ দক্ষিণের দিকে সরে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক লড়াইয়ে দেশটিতে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। মোখার গুরুত্ব শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়। লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত শহরটি বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি। এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালিত হয়। ফলে মোখা ও আশপাশের এলাকায় হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য নিয়েও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মোখায় এখন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট নিরাপত্তাহীনতা, চলাচলে বাধা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার স্থবিরতা। শহর ছেড়ে পালানোর সামর্থ্য যাদের নেই, তাদের অনেকেই ঘরেই অবস্থান করছেন। একই সময়ে ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকায়ও সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতি বাড়তে থাকায় দেশটির দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। Source: আরব নিউজ, রয়টার্স
মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ-এর পর অভিবাসী পরিবারের মধ্যে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে স্কুলগুলোতেও। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অভিবাসী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৭০০ কমেছে। গত শীতকালে মিনেসোটায় হাজার হাজার ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করে অপারেশন মেট্রো সার্জ চালানো হয়। অভিযানের সময় আইসিই ও অন্যান্য ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি স্কুলের আশপাশেও দেখা যায়। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় বলে শিক্ষক ও স্কুল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের নতুন প্রতিবেদনে শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, অভিযানের সময় কিছু শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যায়, কেউ কেউ ক্লাসে মনোযোগ হারায় এবং কয়েকটি পরিবার সন্তানদের নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। একজন শিক্ষক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে বলেছেন, ‘শিশুরা আক্ষরিক অর্থেই অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।’ এটি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতার বর্ণনা, সরকারি পরিসংখ্যান নয়। সাহান জার্নালের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইংরেজি শেখা শিক্ষার্থীর হার বেশি এমন ২৯টি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও চার্টার স্কুলে মার্চ ২০২৬-এ আগের অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কম ছিল। তুলনায়, একই প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থী কমেছিল ৮০ জনেরও কম। শিক্ষকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, অনুপস্থিতি ও মানসিক চাপের প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং পরীক্ষার ফলাফলেও দেখা যেতে পারে। আগামী স্টেট স্ট্যান্ডার্ডাইজড পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগে শিক্ষকরা বলছেন, শুধু নম্বর দিয়ে ওই সময়ের শিক্ষাগত পরিস্থিতি বিচার করলে অভিযানের কারণে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আসবে না। মিনেসোটা সরকারের সেপ্টেম্বরের একটি প্রতিবেদনে ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার স্কুল-নেতাদের জরিপের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে রাজ্যের ৮০ শতাংশ পাবলিক স্কুল নেতা বলেছেন, অপারেশন মেট্রো সার্জ শিক্ষার্থীদের শেখার সক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। টুইন সিটিজ মেট্রো এলাকায় এই হার ছিল ৯৫ শতাংশ। অভিবাসন অভিযানের প্রভাব শুধু স্কুলে উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আইসিইর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মিনেসোটা রিফর্মার ও এমপিআর নিউজের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অপারেশন মেট্রো সার্জ চলাকালে আটক হওয়া ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ পরে বহিষ্কৃত হন বা যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যান। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মোট ৩ হাজার ৭০০-এর বেশি গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে এবং আটক ব্যক্তিদের বড় একটি অংশের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। এদিকে অপারেশন মেট্রো সার্জ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পরও এর বৈধতা ও প্রভাব নিয়ে মামলা চলছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য, মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলায় অভিযানকে বেআইনি ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শুনানিতে বিচারক এখনো মামলাটি খারিজ করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান অবশ্য ভিন্ন। ডিএইচএস বলেছে, এজেন্টদের উদ্দেশ্য স্কুলে শিশুদের গ্রেপ্তার করা নয়; বরং আইন প্রয়োগ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফলে অভিযানের প্রভাব নিয়ে শিক্ষক, পরিবার ও প্রশাসনের বক্তব্যের পাশাপাশি ফেডারেল সরকারের অবস্থানও বিবেচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, মিনেসোটার স্কুলগুলোতে অপারেশন মেট্রো সার্জের প্রভাব নিয়ে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে শিক্ষার্থী উপস্থিতি, স্কুল পরিবর্তন, মানসিক চাপ ও পড়াশোনায় ব্যাঘাত—সবগুলো বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। তবে ১ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পুরো কারণ শুধু অভিবাসন অভিযান - এমন সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক ওই পরিসংখ্যান একা প্রমাণ করে না। Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
মিশিগানে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকের পরিবারকে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া ‘আরএক্স কিডস’ কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা কর্মসূচিটির অর্থব্যবহার, যোগ্যতার শর্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিয়ে কঠোর তদারকির দাবি তুলেছেন। মিশিগান হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জে ডিবোয়ার দাবি করেছেন, গ্যারান্টিড ইনকাম ধরনের কর্মসূচি কার্যকর নয় এবং এগুলো মূলত সম্পদ পুনর্বণ্টনের ব্যবস্থা। তার নেতৃত্বে একদল রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা আরএক্স কিডসের অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছেন। আরএক্স কিডসের বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী এলাকায় গর্ভবতী নারীরা গর্ভাবস্থায় এককালীন ১ হাজার ৫০০ ডলার পান। এরপর শিশুর জন্মের পর অধিকাংশ এলাকায় প্রতি মাসে ৫০০ ডলার করে সর্বোচ্চ ছয় মাস দেওয়া হয়। কিছু এলাকায় এই মাসিক সহায়তা শিশুর প্রথম বছর পর্যন্ত চলতে পারে। আয় বা চাকরির শর্ত নেই; তবে নির্দিষ্ট অংশগ্রহণকারী এলাকায় বসবাস, গর্ভাবস্থা বা শিশুর অভিভাবকত্বের মতো যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। কর্মসূচিটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মিশিগানের ফ্লিন্টে শুরু হয়। পরে এটি মিশিগান ও ওহাইওর ৬০টির বেশি কমিউনিটিতে সম্প্রসারিত হয়েছে। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি কর্মসূচিটির নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং গিভডাইরেক্টলি এর নগদ অর্থ বিতরণ পরিচালনা করছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের প্রধান আপত্তির একটি হলো, পরিবারগুলো এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করবে, তার ওপর নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ নেই। তারা আরও প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের সরকারি ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে কর্মসূচি পরিচালনার প্রয়োজন কেন হচ্ছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল স্বাধীনভাবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। অন্যদিকে কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক মাসে পরিবারের আর্থিক চাপ কমানোই এর উদ্দেশ্য। মিশিগান সরকারের একটি স্বাস্থ্যসেবা নথিতেও আরএক্স কিডসকে গর্ভবতী নারী, শিশু ও পরিবারকে শর্তহীন নগদ সহায়তা দেওয়ার একটি কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আরএক্স কিডসের পরিচালক ড. মোনা হানা অবশ্য এটিকে প্রচলিত গ্যারান্টিড ইনকাম বা ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম কর্মসূচি হিসেবে দেখেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি মূলত গর্ভাবস্থা ও শিশুর জীবনের শুরুর সময়কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ও পারিবারিক প্রয়োজন মোকাবিলার কর্মসূচি। তবে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগের নথিতে আরএক্স কিডসকে গ্যারান্টিড ইনকাম কর্মসূচির উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—যা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মিশিগানের এই বিতর্ক এখন মূলত দুটি প্রশ্নকে ঘিরে—করদাতাদের অর্থে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়া কতটা কার্যকর এবং এমন কর্মসূচির অর্থব্যবহার ও ফলাফল কীভাবে পরিমাপ করা হবে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা আরও তদারকি চান, আর কর্মসূচির সমর্থকেরা বলছেন, শিশু ও পরিবারকে আর্থিক স্থিতিশীলতা দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য। ফলে আরএক্স কিডস নিয়ে বিতর্কটি এখন শুধু একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়, বরং সরকারি নগদ সহায়তার ভূমিকা নিয়েও বৃহত্তর নীতিগত আলোচনায় পরিণত হয়েছে। Source: ফক্স নিউজ, মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস,
নিউইয়র্ক সিটির ইমার্জেন্সি স্নো শোভেলারদের ঘণ্টাপ্রতি বেতন বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়মে তারা ঘণ্টায় ৩০ ডলার পাবেন, আর সপ্তাহে প্রথম ৪০ ঘণ্টা কাজের পর ঘণ্টাপ্রতি পারিশ্রমিক বেড়ে হবে ৪৫ ডলার। গত শীত মৌসুমে এই হার ছিল যথাক্রমে ১৯ দশমিক ১৪ ও ২৮ দশমিক ৭১ ডলার। নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি ও স্যানিটেশন কমিশনার গ্রেগরি অ্যান্ডারসন। শীতের তুষারপাত শুরু হওয়ার আগেই কর্মী প্রস্তুত রাখতে এবার শরৎকালেই নিবন্ধন শুরু করা হচ্ছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করা কর্মীরা ডিসেম্বরে চার ঘণ্টার একটি পেইড ওরিয়েন্টেশন করার সুযোগ পাবেন। গত শীতে রেকর্ডসংখ্যক ৭ হাজার ৮০০-এর বেশি নিউইয়র্কবাসী এই অস্থায়ী কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিলেন। তীব্র তুষারপাত ও তুষারঝড়ের পর সিটি স্যানিটেশন কর্মীদের সঙ্গে তারা ১ লাখ ৩৫ হাজার ক্রসওয়াক, ৩৪ হাজার বাসস্টপ এবং ২৯ হাজার ফায়ার হাইড্র্যান্ট পরিষ্কারে কাজ করেন। এই কর্মীদের কাজ শুধু রাস্তা থেকে তুষার সরানো নয়। ভারী তুষারপাতের পর বাসস্টপ, ক্রসওয়াক, ফায়ার হাইড্র্যান্ট ও বিভিন্ন জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দ্রুত পরিষ্কার করাও তাদের দায়িত্বের অংশ। বিশেষ করে ফায়ার হাইড্র্যান্টের আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিস সহজে সেগুলো ব্যবহার করতে পারে। এবার কর্মীদের দ্রুত মাঠে নামাতে নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে অনেক সময় তুষারপাত শুরু হওয়ার পর কর্মী সংগ্রহ করা হতো। এবার আগেই নিবন্ধন সম্পন্ন করা হবে। নিবন্ধনের পর কাজ করলে বেতন পাওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত করা হবে; সিটির লক্ষ্য কাজের দুই সপ্তাহের মধ্যে পেমেন্ট দেওয়ার। ইমার্জেন্সি স্নো শোভেলার হতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজের অনুমতি থাকতে হবে এবং প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারের মধ্যে শারীরিকভাবে কঠিন কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির জন্য এই কর্মসূচির গুরুত্ব গত শীতের তীব্র আবহাওয়ার সময় আরও স্পষ্ট হয়েছিল। ফেব্রুয়ারির বড় তুষারঝড়ের সময় সিটি জরুরি ভিত্তিতে বিপুলসংখ্যক স্নো শোভেলার নিয়োগ করেছিল এবং তাদের পারিশ্রমিক সাময়িকভাবে ঘণ্টায় ৩০ ডলারে বাড়ানো হয়েছিল। এবার সেই বাড়তি হারকেই শীত মৌসুমের নিয়মিত পারিশ্রমিক কাঠামোয় নেওয়া হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর ফলে নিউইয়র্কে শীতকালীন এই অস্থায়ী কাজটি এখন আগের তুলনায় বেশি পারিশ্রমিকের সুযোগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে সিটি প্রশাসন বলছে, আগেভাগে কর্মী প্রস্তুত রাখার লক্ষ্য হলো তুষারঝড়ের পর গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের চলাচলের জায়গাগুলো দ্রুত পরিষ্কার করা এবং শহরের জরুরি পরিষেবা সচল রাখা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে নতুন একটি ‘এআই ফোর্স’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি তার প্রথম মেয়াদে গঠিত স্পেস ফোর্সের আদলে কাজ করবে। একই সঙ্গে এআই কার্যক্রমের জন্য একজন নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগ দেওয়ার কথাও বলেছেন। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, নতুন এআই ফোর্সের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশের ওপর নজর রাখা হবে। তবে নতুন বাহিনীটি ঠিক কোন দপ্তরের অধীনে থাকবে, এর বাজেট কত হবে বা এর সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। ট্রাম্প নতুন এআই ‘জার’ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন। এর আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্স ট্রাম্প প্রশাসনের এআই ও ক্রিপ্টো ‘জার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরে তিনি প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যুক্ত হন। নতুন উদ্যোগের ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক বাড়ছে। ট্রাম্প কয়েক দিন আগে এআই নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগকে ‘হোক্স’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের কিছু নেতা উন্নত এআইয়ের নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। ট্রাম্পের ঘোষণায় এআইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এআইকে বাধাগ্রস্ত না করে এর বিকাশে সহায়তা করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে এ ক্ষেত্রে চীন ও বিশ্বের অন্য দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে রাখতে চান। জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। জুনে হোয়াইট হাউস জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উন্নত এআই দ্রুত ব্যবহারের জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে এবং সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন ‘এআই ফোর্স’ ঘোষণার পরও এর বাস্তব কাঠামো এখনো পরিষ্কার নয়। এটি স্পেস ফোর্সের মতো একটি স্বতন্ত্র সামরিক শাখা হবে, নাকি প্রশাসনের অধীনে একটি নতুন সমন্বয়কারী বা তদারকি কাঠামো হবে—এ বিষয়ে ট্রাম্প এখনো বিস্তারিত জানাননি। ফলে ঘোষণাটি আপাতত একটি নতুন ফেডারেল উদ্যোগের পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে। এদিকে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতাও এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। ট্রাম্প বলেছেন, এআইয়ের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব ধরে রাখা তার প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য। নতুন ‘এআই ফোর্স’ ও এআই ‘জার’ নিয়োগের মাধ্যমে সেই নীতিকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবন্দরে ভারতগামী ফ্লাইটের আগে হুইলচেয়ারে বসা যাত্রীদের দীর্ঘ সারির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি ঘিরে হুইলচেয়ার সহায়তা প্রকৃত প্রয়োজন নাকি সুবিধা নেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে—এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ছবিটি ভ্রমণবিষয়ক মন্তব্যকারী প্রিয়েশ শর্মা এক্সে শেয়ার করেন। এতে বিমানবন্দরের একটি গেটের কাছে একাধিক যাত্রীকে হুইলচেয়ারে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাদের অনেকেই বয়স্ক হলেও কয়েকজনকে তুলনামূলক কম বয়সী মনে হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে, সবাই কি সত্যিই হুইলচেয়ার সহায়তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেন? ছবিটি প্রকাশের পর অনেকে অভিযোগ করেন, কেউ কেউ দীর্ঘ পথ হাঁটা এড়ানো, বিমানবন্দরে সহজে চলাচল কিংবা দ্রুত বোর্ডিংয়ের সুবিধার জন্য হুইলচেয়ার চাইতে পারেন। সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, এ ধরনের ব্যবহার বাড়লে সীমিত সহায়তা-সেবা প্রকৃতভাবে প্রয়োজন এমন যাত্রীদের জন্য কম পাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে, ছবিটি দেখে কোনো যাত্রীর প্রকৃত প্রয়োজন বিচার করা সম্ভব নয় বলে পাল্টা মতও এসেছে। সব ধরনের শারীরিক সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা বাইরে থেকে দেখা যায় না। বিশেষ করে বয়স্ক যাত্রীদের দীর্ঘ টার্মিনাল, গেট পরিবর্তন, নিরাপত্তা তল্লাশি ও সংযোগ ফ্লাইট সামলাতে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। বিমানবন্দরের জটিলতা ও ভাষাগত সমস্যার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ না করা যাত্রীদের জন্য টার্মিনাল পরিবর্তন, গেট বদল, দেরি, সংযোগ ফ্লাইট ও পুনরায় বুকিংয়ের মতো বিষয় সামলানো কঠিন হতে পারে। ফলে কোনো কোনো যাত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধকতা না থাকলেও বিমানবন্দরে চলাচলের সহায়তা চাইতে পারেন—এমন মতও এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরে সহায়তা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। মার্কিন পরিবহন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী হুইলচেয়ার, মোটরচালিত কার্ট, গেট পরিবর্তনের সময় সহায়তা এবং বিমান ওঠা-নামার ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে হয়। ফলে ভাইরাল ছবিটি মূলত বিমানবন্দরের হুইলচেয়ার সহায়তা ব্যবস্থাকে ঘিরে একটি পুরোনো প্রশ্নকে আবার সামনে এনেছে—সুবিধার জন্য সেবার ব্যবহার আর প্রকৃত প্রয়োজনের মধ্যে সীমারেখা কোথায়? তবে শুধু কোনো যাত্রীর বয়স বা চেহারা দেখে তার হুইলচেয়ার প্রয়োজনীয় নয়—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। Source: ইন্ডিয়া টুডে, হিন্দুস্তান টাইমস
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য কোনো দেশে দ্রুত পাঠানোর নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বাধা এসেছে। বোস্টনভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছে, কোনো অভিবাসীকে এমন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে তাকে কার্যকরভাবে জানাতে হবে এবং সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠানোর নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশকে বেআইনি বলে বহাল রেখেছে। মামলাটি মূলত এমন অভিবাসীদের নিয়ে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত আদেশ রয়েছে, কিন্তু সরকার তাদের সেই আদেশে উল্লেখ করা হয়নি এমন দেশে পাঠাতে চায়। সহজভাবে বললে, কোনো ব্যক্তিকে তার নিজের দেশে পাঠানো সম্ভব না হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তাকে গ্রহণে রাজি অন্য দেশে পাঠাতে পারে। এটিই সাধারণভাবে ‘তৃতীয় দেশে পাঠানো’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু নতুন রায়ের মূল প্রশ্ন হচ্ছে—সেই ব্যক্তিকে কোথায় পাঠানো হবে তা আগে না জানিয়ে এবং সম্ভাব্য বিপদের কথা জানানোর যথেষ্ট সুযোগ না দিয়ে সরকার দ্রুত তাকে পাঠিয়ে দিতে পারবে কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা থাকতে হবে। মামলাটি ২০২৫ সালের মার্চে চারজন অ-নাগরিকের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের নতুন নীতিতে চূড়ান্ত অপসারণ আদেশ থাকা ব্যক্তিদের এমন দেশে পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছে, যেসব দেশের নাম তাদের আগের অপসারণ আদেশে ছিল না। একই সঙ্গে সেই দেশে গেলে নিপীড়ন বা নির্যাতনের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা তুলে ধরার যথেষ্ট সুযোগও দেওয়া হচ্ছিল না বলে তারা অভিযোগ করেন। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ তৃতীয় দেশে পাঠানো নিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, কোনো গ্রহণকারী দেশ কূটনৈতিকভাবে নিশ্চয়তা দিলে যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিদের সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতন করা হবে না, সেই নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করার সুযোগ ছিল ওই নীতিতে। পরবর্তী সময়ে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আরও একটি নির্দেশনা দিয়ে নীতিটির প্রয়োগ স্পষ্ট করে। কিন্তু অভিবাসীদের আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, একটি দেশের সাধারণ কূটনৈতিক নিশ্চয়তা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করে না। কারণ একজন ব্যক্তির জাতিগত পরিচয়, ধর্ম, জাতীয়তা, রাজনৈতিক মতামত কিংবা নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে কোনো দেশে আলাদা ঝুঁকি থাকতে পারে। একইভাবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে নির্যাতনের ব্যক্তিগত আশঙ্কাও থাকতে পারে। মার্কিন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এমন দেশে কাউকে পাঠানোর ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, যেখানে তার জীবন বা স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের অধীনেও নির্যাতনের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে এমন দেশে কাউকে পাঠানো নিয়ে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের নথিতে এই দুই ধরনের আশঙ্কার ভিত্তিতে করা দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আপিল আদালতের বিচারক সেথ আফ্রামে রায়ের ব্যাখ্যায় মূল সমস্যাটি তুলে ধরেছেন। আদালতের বক্তব্যের সারমর্ম হলো, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হবে তা আগে জানানো না হলে সেই দেশে নিপীড়নের আশঙ্কার ভিত্তিতে অপসারণের বিরোধিতা করার অধিকার বাস্তবে খুব কমই কার্যকর থাকে। তাই গন্তব্য সম্পর্কে আগাম কার্যকর নোটিশ এবং সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার বাস্তব সুযোগ প্রয়োজন। এর আগে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল জেলা আদালতও সরকারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। সেই আদালত বলেছিল, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে লিখিতভাবে গন্তব্য জানাতে হবে এবং সেই দেশে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে তা জানানোর অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। পরে বিষয়টি আপিল আদালতে যায়। মামলাটি এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্তও পৌঁছেছিল। আগের একটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ আদালত জেলা আদালতের প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছিল। এরপর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জেলা আদালত সরকারের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাকে বেআইনি ঘোষণা করে। সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরকার প্রথম সার্কিট আপিল আদালতে যায়। ১৮ সেপ্টেম্বরের রায়ে আপিল আদালত জেলা আদালতের সব যুক্তি অবশ্য বহাল রাখেনি। তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে সরকারকে প্রথমে অভিবাসীর মনোনীত দেশ বা নাগরিকত্বের দেশে পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে—এ সংক্রান্ত জেলা আদালতের দুটি ঘোষণামূলক সিদ্ধান্ত মামলাকারীদের আইনি অবস্থানসংক্রান্ত কারণে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ কার্যকর নোটিশ এবং নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কার ভিত্তিতে আপত্তি জানানোর অর্থবহ সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বহাল রেখেছে আপিল আদালত। আদালত স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের ২০২৫ সালের মার্চ ও জুলাইয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাও প্রশাসনিক কার্যপ্রণালি আইনের অধীনে বেআইনি হিসেবে বাতিল করার জেলা আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। অর্থাৎ সরকার তৃতীয় দেশে পাঠানোর ক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি; বরং ওই ক্ষমতা প্রয়োগের সময় নির্দিষ্ট আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস বন্ধ এবং ভবিষ্যতে ভবনটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে এর চারপাশে মানববন্ধন করেছেন শত শত মানুষ। ‘হ্যান্ডস অফ দ্য আর্টস’ আয়োজিত ‘হ্যান্ডস অ্যারাউন্ড দ্য কেনেডি সেন্টার’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষ হাত ধরে ভবনটির চারপাশ ঘিরে দাঁড়ান। আয়োজকদের দাবি, ৪২টি অঙ্গরাজ্য ও বিদেশ থেকে ১ হাজারের বেশি মানুষ এতে অংশ নেওয়ার জন্য নাম নিবন্ধন করেছিলেন। সূর্যাস্তের সময় বিক্ষোভকারীরা ‘হ্যান্ডস অফ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। ওয়াশিংটনের গে মেনস কোরাসও সেখানে গান পরিবেশন করে। ওয়ার্ল্ড প্রাইডের সময় কেনেডি সেন্টারে তাদের একটি পরিবেশনা বাতিল হওয়ার পর এটিই ছিল কেন্দ্রটির বাইরে তাদের প্রথম পরিবেশনা। মানববন্ধনটি কেন্দ্রের আশপাশ থেকে প্রায় ওয়াটারগেট হোটেল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। কেনেডি সেন্টারকে ঘিরে এই প্রতিবাদের পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের রাজনৈতিক ও আইনি বিরোধ। ট্রাম্পের নিয়োগ করা বোর্ড মঙ্গলবার কেন্দ্রটি মেরামত ও সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার ভবনের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগে বাধা দেন এবং বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি মেমোরিয়ালের নাম পরিবর্তন করা যাবে না। এরপর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, ভবনটি মেরামত না হলে শেষ পর্যন্ত এটি ভেঙে ফেলতে হতে পারে। বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা অবস্থায় তাকে এমন একটি প্ল্যাকার্ড দেখতে দেখা যায়, যাতে ‘কেনেডি সেন্টার ডেমোলিশড’ লেখা ছিল। ছবিটি এএফপির আলোকচিত্রী ধারণ করেন; তবে প্ল্যাকার্ডটি কোনো আনুষ্ঠানিক ধ্বংস পরিকল্পনার প্রমাণ কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত হয়নি। বিতর্কের মধ্যে বৃহস্পতিবার বিচারক কুপার নির্দেশ দেন, কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের কোনো শারীরিক পরিবর্তন—ধ্বংসের মতো কাজসহ—করার আগে অন্তত ৩০ দিনের নোটিশ দিতে হবে। কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবনের কিছু অংশে কাঠামোগত ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির সংস্কার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও, নাম সংক্রান্ত আদালতের আদেশ এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে মামলা এখনো চলমান। এদিকে কেন্দ্রটি কর্মীসংকটে পড়েছে। শুক্রবার আরও প্রায় এক ডজন কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ন্যাশনাল সিম্ফনি অর্কেস্ট্রা ও ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও কেন্দ্রটির বন্ধ থাকার কারণে প্রভাবিত হচ্ছে। ফলে শুক্রবারের মানববন্ধন শুধু একটি ভবন বন্ধের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকেনি; কেনেডি সেন্টারের ভবিষ্যৎ, সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার জায়গা এবং প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক-আইনি বিরোধেরও প্রকাশ ঘটেছে। আদালতের আদেশ বহাল থাকা অবস্থায় ভবনটির বড় কোনো পরিবর্তনের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশের পরিবর্তে আফ্রিকার দেশে বহিষ্কারের পর আইনি অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসী। তাদের কয়েকজনের দাবি, গন্তব্য দেশ সম্পর্কে তাদের আগে জানানো হয়নি এবং সেখানে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও তাদের হাতে ছিল না। এ অবস্থাকে একজন অভিবাসী বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবার ৩২ বছর বয়সী ইয়াসমানি মোরেনো দে আরমাস প্রায় ১০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। মিয়ামিতে পরিবারের সঙ্গে বসবাসের পাশাপাশি তিনি একটি মাংস প্রক্রিয়াজাত কারখানায় কাজ করছিলেন। অ্যাসাইলামের মাধ্যমে বৈধ অবস্থান পাওয়ার চেষ্টা চলার মধ্যেই গত মে মাসে তাকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরে বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর তাকে লুইজিয়ানার একটি কেন্দ্র থেকে বিমানে তোলা হয়। মোরেনোর ভাষ্য, বিমানে ওঠার প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জানতে পারেন, তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো হচ্ছে। প্রথমে তিনি বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারেননি। তার মতো আরও কয়েকজন লাতিন আমেরিকান অভিবাসীকেও একইভাবে সেখানে পাঠানো হয়েছে। এই ধরনের বহিষ্কারকে ‘থার্ড-কান্ট্রি ডিপোর্টেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ কোনো অভিবাসীকে তার নিজ দেশের পরিবর্তে এমন একটি তৃতীয় দেশে পাঠানো, যার সঙ্গে তার নাগরিকত্ব বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এ ধরনের তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে। আফ্রিকার দেশ হিসেবে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ছাড়াও লাইবেরিয়া, ঘানা ও সিয়েরা লিওনের মতো দেশকে তৃতীয় দেশের গন্তব্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের সুযোগ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়ার পরিধি বাড়ানো এবং অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের নোটিশে অভিবাসীদের পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে পাঠানো আরেক কিউবান অভিবাসী অ্যারিস্টিদেস ফার্নান্দেজ গার্সিয়া জানান, তাদের কাছে সেখানে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা বা কাগজপত্র নেই। তার দাবি, তারা দেশটির বাইরে যেতে পারছেন না। নিজের পরিস্থিতি বোঝাতে তিনি বলেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে আমাকে অপহরণ করা হয়েছে।’ এটি তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস বলেছে, মোরেনো ও এবিসি নিউজের সঙ্গে কথা বলা অন্য অভিবাসীদের একটি নিরাপদ দেশে পাঠানো হয়েছে এবং সরকার আইন অনুযায়ী কাজ করছে। ফলে অভিবাসীদের অভিযোগ এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্ত এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ফার্স্ট সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের তিন বিচারকের প্যানেল রায় দেয়, কোনো অভিবাসীকে তার সঙ্গে সম্পর্কহীন তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে পর্যাপ্ত নোটিশ দিতে হবে এবং সেখানে নিপীড়নের আশঙ্কা থাকলে তা চ্যালেঞ্জ করার অর্থবহ সুযোগ দিতে হবে। আদালত ডিএইচএসের দ্রুত তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের নীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। আদালতের মতে, কোনো ব্যক্তিকে কোন দেশে পাঠানো হচ্ছে তা না জানিয়ে তাকে আপত্তি জানানোর সুযোগ না দিলে সেই ব্যক্তির নিপীড়নের আশঙ্কা তুলে ধরার আইনি অধিকার কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। তবে ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নীতি অব্যাহত রয়েছে এবং আদালতের রায়টি আরও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারে। তৃতীয় দেশে বহিষ্কার নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আফ্রিকার মতো তৃতীয় দেশে পাঠানো অভিবাসীদের ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশ সম্পর্কে আগাম নোটিশ, নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ এবং সেখানে পৌঁছানোর পর আইনি অবস্থান—এই তিনটি বিষয় সামনে এসেছে।
যুক্তরাজ্যে সন্তান অপরাধে জড়ালে তার মা-বাবার ওপর আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রস্তাবিত যুব অপরাধবিচার সংস্কারের আওতায় কোনো অভিভাবক সন্তানের আচরণ নিয়ন্ত্রণ বা পুনর্বাসনে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হলে ভাতা কমানো বা বন্ধ করা, জরিমানা এমনকি চরম ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তবে কারাদণ্ড স্বয়ংক্রিয় হবে না; বিষয়টি আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাজ্যের যুব বিচারবিষয়ক মন্ত্রী জেক রিচার্ডস বলেছেন, সন্তানকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা উচিত এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এর ভিত্তি হলো সরকারের ‘ইয়ুথ জাস্টিস হোয়াইট পেপার’, যা মে ২০২৬-এ প্রকাশ করা হয়। এতে শিশু অপরাধীদের জন্য আগে থেকেই সহায়তা, স্থানীয় পর্যায়ে হস্তক্ষেপ এবং অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’ শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’-এর মাধ্যমে আদালত কোনো অভিভাবককে সন্তানের আচরণ নিয়ে কাউন্সেলিং বা নির্দেশনামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। সেই আদেশ অমান্য করা ফৌজদারি অপরাধ এবং বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ হাজার পাউন্ড জরিমানার বিধান রয়েছে। সরকার এই ব্যবস্থায় আরও কার্যকর শাস্তির সুযোগ তৈরি করতে চায়। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাদের সন্তানকে পুনর্বাসনে যুক্ত করার ওপরও জোর দেওয়া হবে। নতুন ব্যবস্থায় ‘ইয়ুথ ইন্টারভেনশন কোর্ট’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে বিচারিক প্রক্রিয়ার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অপরাধের পেছনের কারণগুলো মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু বিশেষজ্ঞ এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের আশঙ্কা, অভিভাবকদের জরিমানা বা ভাতা কমানো হলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো আরও আর্থিক চাপে পড়তে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’-এর ব্যবহার গত এক দশকের বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে—২০০৯-১০ সালে যেখানে এক হাজারের বেশি আদেশ দেওয়া হয়েছিল, ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে মাত্র ৩৩টিতে দাঁড়ায়। সরকার এখন এই ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করে যুব অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে চায়। এদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বর্তমানে অপরাধের জন্য দায়ী হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১০ বছর। শিশুদের অপরাধের বয়সসীমা বাড়িয়ে ১৪ করার দাবি থাকলেও যুব বিচারমন্ত্রী রিচার্ডস জানিয়েছেন, সরকার আপাতত এ পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। অর্থাৎ, এটি এখনো প্রস্তাবিত যুব বিচার সংস্কার, নতুন কোনো কার্যকর আইন নয়। সরকার অভিভাবকদের দায়িত্ব বাড়াতে চাইছে, আর সেই ব্যবস্থায় আদালতের নির্দেশ অমান্যের ক্ষেত্রে আর্থিক ও অন্যান্য শাস্তির পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তিনটি শর্ত জানিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই বলেছেন, কাতারের মাধ্যমে এসব শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার জন্য কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের কাছেও আলোচনায় বসার জন্য তেহরানের শর্তগুলো জানানো হয়েছে। ইরানের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে হামলা বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। তেহরানের পক্ষ থেকে এসব শর্ত পূরণকেই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। রেজাই বলেন, ইরানের শর্ত মেনে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থেই হবে। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের হুমকি দিয়ে কোনো ফল পাওয়া যাবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান দীর্ঘস্থায়ী বা চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের এই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতাগুলো তেহরানের জানা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন বিমান হামলা মোকাবিলার জন্য ইরান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি প্রস্তুত। সাক্ষাৎকারে রেজাই সাম্প্রতিক একটি সামরিক পরীক্ষার কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর কাছে ইরান জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পরীক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি ইরানের সামরিক সক্ষমতার বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেন। রেজাই সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্বার্থের ওপর আরও শক্তিশালীভাবে আঘাত হানবে। তার বক্তব্যে যুদ্ধ চলতে থাকলে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাই উঠে এসেছে। এদিকে ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান নয়, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যকার যুদ্ধও শেষ করার পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে। রেজাই বলেন, তেহরান ওই সংঘাতের অবসান চায়। রেজাইয়ের দাবি, হুথিরাও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ফলে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর বিষয়টিও ইরানের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে রেজাই বলেন, আলোচনার জন্য ইরানের অবস্থান ও শর্ত তাদের জানানো হয়েছে। এসব শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এখন তেহরানের দৃষ্টি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার দিকে। ইরানের দেওয়া শর্তগুলো যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। ফলে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান যোগাযোগের পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের জবাবের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা
ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে মসজিদে হামলা চালিয়ে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজ হামলার প্রায় এক বছর আগেই পুলিশের নজরে এসেছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, নাৎসি ও আগের বন্দুকধারীদের প্রতি তার আগ্রহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ২০২৫ সালে তার পরিবারের ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করার জন্য আদালতের আদেশ নেওয়া হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আইনের আওতায় ওই অস্ত্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি পায় পুলিশ। এর আগে ভাসকেজের বাড়িতে ওয়েলফেয়ার চেক করতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা তার আচরণকে সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। আদালতের নথিতে বলা হয়, সে নাৎসি ও গণগুলির সঙ্গে জড়িত হামলাকারীদের আদর্শ হিসেবে দেখছিল। পুলিশের নজরে আসার পর ভাসকেজের বাবা-মা নিজেরাই বাড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সরিয়ে একটি নিরাপদ স্টোরেজে রাখেন। আদালতে দেওয়া এক হলফনামায় তার বাবা মার্কো ভাসকেজ জানান, পরিবার ছেলের আচরণ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল এবং অস্ত্রের পাশাপাশি বাড়ির ধারালো ছুরিগুলোও নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ১৮ মে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ হামলার আগে অন্য এক কিশোরের পরিবারের অস্ত্র নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে আসে। পুলিশ জানায়, ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্কের মা ওই দিন সকালে ফোন করে জানান, তার ছেলে আত্মহত্যাপ্রবণ অবস্থায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে, সঙ্গে অস্ত্র ও পরিবারের গাড়িও নিয়ে গেছে। পুলিশ তখন থেকেই দুই কিশোরকে খুঁজছিল। পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহলের তথ্য অনুযায়ী, ক্লার্ক সামরিক ধাঁচের পোশাক পরেছিল এবং তার সঙ্গে আরেকজন কিশোর ছিল। পুলিশ স্বয়ংক্রিয় লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের খোঁজ শুরু করে এবং আশপাশের স্কুল ও অন্যান্য এলাকায় সতর্কতা জারি করে। কিন্তু পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করার আগেই সান দিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটি ইসলামিক সেন্টার অব সান দিয়েগোতে গুলির ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের একজন ছিলেন মসজিদের নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের ঠেকাতে এবং ভেতরে থাকা মানুষদের নিরাপদ রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হামলার সময় ইসলামিক সেন্টারের আল-রশিদ স্কুলে শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিল। পুলিশ ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়নি। পরে ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক ও ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজকে কাছাকাছি একটি গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মৃত্যু গুলিবিদ্ধ হয়ে হয়েছে এবং ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। মসজিদে হামলার ঘটনাটিও সম্ভাব্য হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। আদালতের নথিতে আরও উঠে এসেছে, ভাসকেজকে এর আগেও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে তাকে কেন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই। তার পরিবার জানিয়েছে, তারা ছেলেকে সহায়তা করার চেষ্টা করেছিল, তার অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করত এবং সে সপ্তাহে দুইবার থেরাপি নিত। ভাসকেজের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের ছেলে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক বক্তব্য, চরমপন্থী কনটেন্ট ও প্রচারণার প্রভাবে ক্রমে উগ্র মতাদর্শের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল বলে তারা মনে করে। পরিবারে অভিবাসী ও মুসলিম সদস্যও রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ভাসকেজ ও ক্লার্কের লেখা কিছু নথিতে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শ এবং বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষের প্রমাণ পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুই কিশোরের মধ্যে অনলাইনে পরিচয় হয়েছিল এবং সেখান থেকেই তাদের উগ্রপন্থী মতাদর্শে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তদন্তে এসেছে। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরদের অনলাইন উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়া এবং পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আগাম সতর্কতা কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায়, সে প্রশ্নও সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে চরমপন্থী কনটেন্টের ধরন দ্রুত বদলে যাওয়ায় পরিবার বা অভিভাবকদের পক্ষে সব সময় এর লক্ষণ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার একদিন পর শনিবার হোয়াইট হাউসে ঢুকতে পারেননি সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা। শুক্রবার ট্রাম্প এই তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার সকালে তাদের সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম, রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সিবিএস নিউজের প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টার দিকে এমএস নাউয়ের সংবাদদাতা আকায়লা গার্ডনার ও একজন ক্যামেরাকর্মী হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের প্রবেশের অনুমতিপত্র অকার্যকর করে দেওয়া হয় এবং তারা প্রবেশ করতে পারেননি। গার্ডনার জানান, অনুমতিপত্র দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটি অকার্যকর দেখায়। কারণ জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মী তাকে বলেন, বিষয়টি তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পর্যায়ের। সিএনএনের জ্যেষ্ঠ হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক বেটসি ক্লেইনের প্রবেশের অনুমতিপত্রও অকার্যকর করে দেওয়া হয়। তিনি শনিবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের চেষ্টা করেও ঢুকতে পারেননি। সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, তাদের সাংবাদিক ও ক্যামেরাকর্মীকে হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখা যায় এবং পরে তারা অনুমতিপত্র ছাড়া সেখান থেকে চলে যান। পলিটিকোর হোয়াইট হাউস প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেটকেও শনিবার সকালে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পলিটোর তথ্য অনুযায়ী, গোপন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা তাকে থামিয়ে দেন এবং তার প্রবেশের অনুমতিপত্র নিয়ে নেন। ফলে তিনটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের আগের দিনের ঘোষণার পর বাস্তবে প্রবেশাধিকার বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটোকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তিনি এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনকে মিথ্যা সংবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অভিযোগ করেন, তারা তার প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে এ সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে তিনি ক্লান্ত। তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ না করে গত কয়েক বছরের সামগ্রিক সংবাদ কাভারেজের কথা বলেন। ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি অসৎ সংবাদমাধ্যম পছন্দ করেন না। ট্রাম্পের ঘোষণার পর সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকো তাদের সাংবাদিকতার অধিকার রক্ষার কথা জানিয়েছে। সিএনএন বলেছে, হোয়াইট হাউস ও মার্কিন সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন করার দায়িত্ব তারা অব্যাহত রাখবে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের হোয়াইট হাউস দলের প্রতি সমর্থনও জানিয়েছে। এমএস নাউ জানিয়েছে, তাদের সাংবিধানিক অধিকার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পলিটোর প্রধান সম্পাদক জোনাথন গ্রিনবার্গারও প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেট এবং হোয়াইট হাউস কাভার করা অন্য সাংবাদিকদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সমিতিও তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি ও ফক্স নিউজের প্রতিবেদক জ্যাকুই হাইনরিশ বলেছেন, সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটোর সহকর্মীদের পক্ষে সংগঠনটি অবস্থান করছে। এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আইনি প্রশ্নও সামনে এসেছে। সিবিএস নিউজের আইনবিষয়ক সহযোগী জেসিকা লেভিনসন ট্রাম্পের সর্বশেষ পদক্ষেপকে সংবাদবিষয়ক মতের ভিত্তিতে বৈষম্যের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এটি তার আইনি বিশ্লেষণ, আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসেরও হোয়াইট হাউস প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। ২০২৫ সালে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ট্রাম্পের নির্ধারিত নাম ব্যবহার না করায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে সংবাদমাধ্যমটি সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে একটি ফেডারেল আদালত হোয়াইট হাউসকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন স্থানে প্রবেশাধিকার পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়। পরে আপিল আদালতের মাধ্যমে কিছু সীমিত স্থানে প্রবেশাধিকার নিয়ে বিরোধ চলতে থাকে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও সিএনএনের তৎকালীন প্রতিবেদক জিম অ্যাকোস্টার প্রেস অনুমতিপত্র নিয়ে বিরোধ হয়েছিল। সিএনএন মামলা করার পর একজন ফেডারেল বিচারক তার অনুমতিপত্র পুনর্বহালের নির্দেশ দেন। সর্বশেষ ঘটনায় সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বন্ধ হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবিধানিক অধিকার এবং হোয়াইট হাউসের সংবাদ কভারেজ নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সূত্র: সিবিএস নিউজ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করা হয়। নিহত অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় সে। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। দীর্ঘ সময় তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশের সানন্দা এলাকার জঙ্গলে অপ্রতিমের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে। ফুটেজের সূত্র ধরে প্রথমে তুহিন নামে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে আনাস ও ফাহিমকেও আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং কারা এতে জড়িত তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত অন্য কেউ আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক তিনজনের সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
রাজধানীর সূত্রাপুরের শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একই পরিবারের পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে এবং সবার চিকিৎসা চলছে। দগ্ধরা হলেন—সিদ্দিক বেপারী (৬০), তার ছেলে সৌদি আরবপ্রবাসী মো. ইমন (২৬), ভাতিজা রাজিব (৩৮), ভাগনে আরিফুর রহমান ধলু (৩৫) এবং ভাগ্নি তানিয়া আক্তার (২০)। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, তারা শ্যামবাজার চামারটুলি এলাকার পৈতৃক সম্পত্তিতে পাশাপাশি বসবাস করেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখা নিয়ে। পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমনের বোন সুলতানা বাসার সামনে ময়লা পানি জমিয়ে রাখেন। বিষয়টি দেখে তানিয়া পানি পরিষ্কার করতে বললে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে সুলতানা বিষয়টি তার ভাই ইমনকে জানান। ইমন সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর শনিবার বিকেলে এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন বলে স্বজনদের দাবি। স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইমন সবাইকে হুমকি দিয়ে নিজের গায়ে পেট্রোল ঢালেন। পরে সেখানে থাকা অন্যদের শরীরেও পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে পাঁচজনই আগুনে দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান। ঘটনাটির এই বিবরণ মূলত স্বজনদের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদের বরাত দিয়ে একাধিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইমনের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ, তানিয়ার ৬০ শতাংশ, সিদ্দিকের ৩৫ শতাংশ, রাজিবের ১৫ শতাংশ এবং আরিফুর রহমানের ৮ শতাংশ পুড়ে গেছে। দগ্ধ পাঁচজনকেই হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ কীভাবে এত বড় অগ্নিকাণ্ডে রূপ নিল, আগুন দেওয়ার আগে ও পরে ঠিক কী ঘটেছিল এবং এতে কার কী ভূমিকা ছিল—এসব বিষয় এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে, পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে পেট্রোল ব্যবহার করে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে বিক্রির তালিকায় উঠেছে বিরল একটি ভাসমান বাড়ি। শহরের মিশন ক্রিক এলাকায় ওরাকল পার্কের কাছে থাকা মাত্র ২০টি হাউসবোটের একটি এটি। এসব ভাসমান বাড়ি সাধারণত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে স্থানীয় পরিবারগুলোর মধ্যে হস্তান্তর হয়ে থাকে। ফলে প্রকাশ্য বাজারে এমন বাড়ির বিক্রি অত্যন্ত বিরল। বিক্রির জন্য তোলা বাড়িটির মালিক টাইসন গ্রাহাম। তিনি ২০০২ সালে হাউসবোটটি কিনেছিলেন ২ লাখ ২৫ হাজার ডলারে। তখন এটি ছিল মাত্র ৪০ ফুটের একটি নৌযান এবং ৪০ ফুটের নোঙর করার জায়গা। সামনে ও পেছনে দুটি ডেক থাকলেও বাড়িটির আয়তন ছিল ৩০০ বর্গফুটেরও কম। শিকাগোর বাসিন্দা গ্রাহাম পরে নিজের শ্রম ও পরিকল্পনায় হাউসবোটটির ব্যাপক পরিবর্তন করেন। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে তিনি ছোট নৌযানটিকে প্রায় ১ হাজার ৯০০ বর্গফুটের একটি আবাসিক বাড়িতে রূপ দেন। বর্তমানে এতে রয়েছে তিনটি শয়নকক্ষ ও তিনটি বাথরুম। হাউসবোটটি নির্মাণের সময় গ্রাহামের পরিকল্পনায় দুটি আলাদা আবাসিক ইউনিট রাখার বিষয়টি ছিল। ওপরের তলাটি তিনি আলাদা একটি ভাড়ার ইউনিট হিসেবে তৈরি করেছিলেন। আর নিচের তলাটি নিজের বসবাসের জন্য রাখার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে বাড়িটির ওপরের তলার সেই আলাদা ইউনিটটি পরিবর্তন করে একটি বড় মূল শয়নকক্ষে পরিণত করা হয়। সেখানে রয়েছে একটি বাথরুম এবং বড় আকারের পোশাক রাখার কক্ষ। এ পরিবর্তনের ফলে পুরো বাড়িটি এখন একটি বড় আবাসিক ইউনিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মিশন ক্রিক এলাকায় থাকা হাউসবোটগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির ঘটনা খুবই কম। গ্রাহামের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি হাউসবোট প্রকাশ্য বাজারে বিক্রির জন্য উঠেছে। সেই তালিকায় থাকা তার বাড়িটির বর্তমান মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বিক্রয়মূল্যের বাইরে বাড়িটির মালিককে প্রতি মাসে নোঙর করার জায়গার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হবে। তবে গ্রাহামের দাবি, এই মাসিক খরচ সান ফ্রান্সিসকো শহরের অধিকাংশ আবাসন মালিক সমিতির ফি থেকে কম। পানিতে ভাসমান হলেও এই বাড়ির জীবনযাপন স্থলভাগের বাড়ির মতোই বলে জানিয়েছেন গ্রাহাম। তার মতে, পানির ওপর অবস্থানের কারণে বাড়িটিতে অতিরিক্ত কোনো বিশেষ ধরনের ব্যবস্থা বা নিয়মের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রবল বাতাসে বাড়িটি দুলতে শুরু করলে তখনই বোঝা যায় এটি পানির ওপর ভাসমান একটি বাড়ি। এই হাউসবোটের সঙ্গে গ্রাহামের দীর্ঘদিনের বসবাসের স্মৃতিও জড়িয়ে আছে। তিনি জানিয়েছেন, ফেরি ভবনের কৃষকের বাজারে নৌকায় করে যাওয়া এবং চ্যানেল স্ট্রিটের এই এলাকার মানুষের সঙ্গে কাটানো সময় তিনি মিস করবেন। গ্রাহাম প্রায় ২৫ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করেছেন। বর্তমানে তার বাড়ি সানোমা কাউন্টিতে। শহরের জীবন থেকে দূরে গিয়ে অবসর জীবনের পরবর্তী সময় উপভোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে গ্রাহাম জানিয়েছেন, তিনি কখনো বিয়ে করেননি এবং তার কোনো সন্তানও নেই, যে ভবিষ্যতে বাড়িটির দায়িত্ব নিতে পারে। কয়েক বছর আগে অবসর নেওয়ার পর এখন জীবনের পরবর্তী অধ্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে হাউসবোটটি বিক্রি করছেন তিনি। সূত্র: সিবিএস
ফ্রান্সের প্যারিসের উপকণ্ঠ অবারভিলিয়েতে গ্যাস বিস্ফোরণের পর একটি আবাসিক ভবনের অংশ ধসে বাংলাদেশি পরিবারের শিশু নাহিল নিহত হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সেইন-সাঁ-দেনি বিভাগের রু পল-ভেরলেন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আরও সাতজন আহত হন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে নিহত শিশুটির বয়স তিন বছর এবং তার নাম নাহিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক রাসেল আহমেদের ছেলে নাহিল। তার পরিবারের শিকড় বাংলাদেশের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার কাটখাল গ্রামে। নাহিলের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৯টার দিকে রু পল-ভেরলেনের একটি প্যাভিলিয়ন ধরনের আবাসিক বাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। আশপাশের এলাকাতেও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস লিক থেকেই বিস্ফোরণটি হয়ে থাকতে পারে। তবে গ্যাস লিকের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১০ জন দমকলকর্মী এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকারী কুকুরের দল এতে অংশ নেয়। উদ্ধারকর্মীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্থায়ী থাকার ব্যবস্থাও করা হয়। ঘটনার পর ফ্রান্সের ববিনি প্রসিকিউটর অফিসের অধীনে বিচারিক তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং গ্যাস লিকের উৎস কী ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফলে প্রাথমিকভাবে গ্যাস লিককে বিস্ফোরণের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। নিহত শিশুটির বয়স নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য দেখা গেছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরসহ কয়েকটি বাংলাদেশি প্রতিবেদনে নাহিলের বয়স তিন বছর বলা হয়েছে, অন্যদিকে ফরাসি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে বয়স দুই বছর উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাহিল বাংলাদেশি পরিবারের সন্তান এবং বিস্ফোরণে তার মৃত্যু হয়েছে, এ বিষয়ে প্রতিবেদনগুলোতে মিল রয়েছে। অবারভিলিয়ের এই দুর্ঘটনা ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও শোকের সৃষ্টি করেছে। পরিবারের স্বজনরা নাহিলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন। এদিকে আহতদের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে। সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ভারতে বিয়ের জন্য ৫০ লাখ রুপি খরচের পরিকল্পনা নিয়ে পরিবারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে পড়েছেন এক যুবক। তার বাবা-মা বিয়ের আয়োজনের জন্য প্রায় ৪৫ লাখ রুপি ঋণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুবকের পরিবার বিয়েতে প্রায় ৫০ লাখ রুপি খরচ করতে চায়। সেই খরচ মেটাতে তাকে বড় অঙ্কের ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়। এর মধ্যে ৪৫ লাখ রুপি ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি বিয়ের আয়োজনের পরিমাণ এবং এত বড় আর্থিক দায় নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। বিয়ের মতো একটি অনুষ্ঠানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা নেওয়ার বিষয়টি নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৪৫ লাখ রুপি ঋণ নিলে শুধু মূল অর্থ নয়, ঋণের সুদও পরিশোধ করতে হবে। ফলে বিয়ের পর দীর্ঘ সময় ধরে ওই ঋণের কিস্তি বহন করতে হতে পারে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ব্যবহারকারী যুবকটিকে এত বড় ঋণ নেওয়ার আগে আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেলেও ঋণের দায় থেকে যায় দীর্ঘদিন। তবে বিয়েতে কত টাকা খরচ করা উচিত, তা পরিবার, আয় এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ওপর নির্ভর করে। একই সঙ্গে বড় আয়োজনের জন্য ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে মাসিক কিস্তি, সুদের হার, আয় এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারতে বিয়েকে ঘিরে বড় অঙ্কের ব্যয় নতুন কোনো বিষয় নয়। ভেন্যু, খাবার, পোশাক, গয়না, সাজসজ্জা ও অতিথি আপ্যায়নসহ নানা খাতে খরচ বাড়তে পারে। এর সঙ্গে পারিবারিক প্রত্যাশা যুক্ত হলে অনেকের জন্য বিয়ের বাজেট আরও বড় হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে ঘিরে অনলাইন আলোচনায় তাই শুধু ৫০ লাখ রুপির বিয়ের বাজেট নয়, পারিবারিক প্রত্যাশা, সামাজিক চাপ এবং বিয়ের পরের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ওই যুবক বিয়ের পরিকল্পনা কীভাবে এগিয়ে নেবেন বা ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন কি না, তা জানা যায়নি।