যুক্তরাষ্ট্রে বৈধতা হারিয়ে পায়ে জিপিএস ট্র্যাকার, অপমান ও নির্বাসনের আতঙ্কে হাইতিয়ান তরুণের মর্মান্তিক আ/ত্মহত্যা
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংফিল্ডে টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) বাতিল হওয়ার পর পিয়েরে দামাস বেল নামের ২০ বছর বয়সী এক হাইতিয়ান তরুণ আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গত সোমবার ইন্টারস্টেট ৭০ মহাসড়কে নিজের টয়োটা গাড়ি থামিয়ে চলন্ত গাড়ির সামনে হেঁটে গিয়ে আত্মাহুতি দেন সদ্য হাইস্কুলের গণ্ডি পার হওয়া এই মেধাবী শিক্ষার্থী। ওহাইও স্টেট হাইওয়ে প্যাট্রোল বর্তমানে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত করছে।
গত জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে টিপিএস কর্মসূচি বাতিলের অনুমতি দেওয়ার পর যে সাড়ে তিন লাখের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসী তাদের আইনি সুরক্ষা হারিয়েছেন, বেল ছিলেন তাদেরই একজন। সশস্ত্র সংঘাত বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিজ দেশ থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের কাজের অনুমতি ও নির্বাসনের হাত থেকে সুরক্ষা দিত এই কর্মসূচি।
সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সাবেক টিপিএস হোল্ডারদের ওপর নজরদারির অংশ হিসেবে বেলের পায়ে একটি জিপিএস অ্যাঙ্কেল মনিটর পরিয়ে দেয়। গত জুলাই মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেল লিখেছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে এসেছেন, কোনো অপরাধ করতে নয়; অথচ পায়ে জিপিএস ট্র্যাকার নিয়ে তাকে এমন এক লজ্জা ও অপমানের বোঝা নিয়ে রাস্তায় চলতে হচ্ছে, যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
২০২৪ সালে হাইতি থেকে পালিয়ে আসা বাবা-মায়ের সঙ্গে মিলিত হতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন বেল। স্প্রিংফিল্ড হাইস্কুলের ভার্সিটি সকার টিমের সদস্য বেল জুনিয়র রিজার্ভ অফিসার্স ট্রেনিং কর্পসে (JROTC) লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদাও অর্জন করেছিলেন এবং এই শরতেই ওহাইওর রাইট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আশায় লড়তে থাকা বেলের অভিবাসন মামলার বিচারকের কাছে লেখা শিক্ষক ও নিয়োগকর্তাদের প্রশংসাপত্র থেকে জানা যায়, অত্যন্ত অল্প সময়ে অপরিচিত এক পরিবেশে নিজেকে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তার জেআরওটিসি সামরিক প্রশিক্ষক তাকে মার্কিন সমাজের জন্য একজন অমূল্য সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
হাইতিয়ান অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংস্থা 'হাইতিয়ান ব্রিজ অ্যালায়েন্স'-এর নির্বাহী পরিচালক গুয়েরলিন জোসেফ জানান, বেলকে হাইতিতে ফেরত পাঠানোর আশঙ্কায় তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন।
আত্মহত্যার দিন সকালে বাবাকে ফোন করে বেল জানিয়েছিলেন যে, নির্বাসিত হওয়ার ভয় তার কাছে ‘অসহনীয়’ হয়ে উঠেছে এবং অ্যাঙ্কেল মনিটর পরানোর পর থেকে তিনি মানসিকভাবে মারাত্মক বিপর্যস্ত।
বাবা তাকে স্কুল থেকে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার আশ্বাস দিলেও তার ঠিক পরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জোসেফ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই তরুণের মৃত্যুর জন্য মার্কিন সরকার, অভিবাসন ব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি দায়ী।
ট্রাম্প প্রশাসন টিপিএস বাতিলের পর অভিবাসনবিরোধী ক্র্যাকডাউনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে হাইতিতে দুটি নির্বাসন ফ্লাইট পাঠিয়েছে, যেখানে খোদ যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুরাও ছিল বলে জানিয়েছেন জোসেফ।
চরম গ্যাং সহিংসতার কারণে মানবাধিকার কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে হাইতিতে নির্বাসন বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছেন। গত সপ্তাহেও হাইতির রাজধানীর কাছে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং ৫০ জনের বেশি অপহৃত হয়েছেন।
এদিকে, বেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তদন্তাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ডিএইচএস।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ও টানাপোড়েনের জেরে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন মার্কিন সেনাসচিব (আর্মি সেক্রেটারি) ড্যান ডিসক্রল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তিনি তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ডিসক্রলের প্রশংসা করে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে এবং ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানগুলোতে তিনি অত্যন্ত দক্ষ নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে বিবৃতিতে পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে ডিসক্রলের সম্পর্ক বেশ কিছুদিন ধরেই বৈরী ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সদ্য সাবেক এই সেনাসচিব বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। হোয়াইট হাউসে ডিসক্রলের এই সরাসরি প্রবেশাধিকার ও প্রভাবকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একধরনের বাইপাস বা হুমকি হিসেবে দেখছিলেন। এই দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করে যখন চলতি বছরের এপ্রিলে হেগসেথ আকস্মিকভাবে আর্মি চিফ অব স্টাফ জেনারেল রেন্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেন। জেনারেল জর্জের সঙ্গে ডিসক্রলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কাজের সম্পর্ক ছিল এবং এই বরখাস্তের ঘটনা তাদের মধ্যকার চাপা উত্তেজনাকে সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। ডিসক্রলের এই পদত্যাগ এমন এক স্পর্শকাতর সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক সংঘাত ষষ্ঠ মাসে গড়িয়েছে। সংঘাত শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে দেওয়া এক গোপন মূল্যায়নে (সেক্রেটারি অব ডিফেন্স অর্ডার্স বুক) শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ইউরোপ, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অনেক যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ায় অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর নিয়মিত কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে নৌবাহিনীর ওপর এই যুদ্ধের চাপ সবচেয়ে বেশি। নৌবাহিনীর প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমান মাত্রায় এই অভিযান দীর্ঘায়িত করা কোনোভাবেই টেকসই নয়। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং সামরিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সীমানা ও অন্যান্য বৈশ্বিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। ঠিক এই রকম একটি জটিল ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ড্যান ডিসক্রলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্তার বিদায়ে পেন্টাগনের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হলো, যা মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ কৌশল ও স্থিতিশীলতাকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধতা হারিয়ে পায়ে জিপিএস ট্র্যাকার, অপমান ও নির্বাসনের আতঙ্কে হাইতিয়ান তরুণের মর্মান্তিক আ/ত্মহত্যা
নিউইয়র্কে আইসিইর অভিযানে ২,১৯৭ জন গ্রেপ্তার, তালিকায় খু নি-ধ র্ষকসহ বহু অপরাধী
ফ্লোরিডায় ট্রাকের কেবিনে ৬ বছর বন্দি চার শিশু, দুই নারীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ যৌ/ন নির্যা/তনের অভিযোগ
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে চলা স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় রয়েছেন তারা, যারা ইতোমধ্যে ভিসা ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিন্তু এখনো ভিসা হাতে পাননি। ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে অভিবাসী ভিসা আটকে রাখার আগের বাধাটি এখন আর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইন্টারভিউ দেওয়া প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পেয়ে যাবেন। যারা ইন্টারভিউ দিয়েছেন এবং ইন্টারভিউয়ের পর ভিসা ইস্যু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হলো তাদের কেসের বর্তমান অবস্থা। কোনো আবেদনকারীর কেস যদি শুধু ৭৫ দেশের ওপর আরোপ করা আগের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকে, তাহলে সেই বাধা এখন আর নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অপেক্ষমাণ কেস আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিবাসন আইনজীবীরাও বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকা কেসগুলো আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আইনজীবী রিচার্ড টি. হারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ সবার ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন হয়ে যাওয়া নয়। আবেদনকারীর অন্য কোনো যাচাই বা আইনগত শর্ত বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে। তবে কোনো আবেদনকারীর কেস যদি প্রশাসনিক যাচাই, নিরাপত্তা যাচাই, অতিরিক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা বা অন্য কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিসা ইস্যু নাও হতে পারে। তাই ইন্টারভিউ পাস করলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য প্রতিটি কেসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি। এখন বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাদের কতদিন অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে এখনো সবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। তাই ৭ দিন, ১৫ দিন বা ৩০ দিনের মধ্যে সব অপেক্ষমাণ কেস শেষ হয়ে যাবে, এমন দাবি করার মতো কোনো সরকারি তথ্য নেই। অন্যদিকে যারা এখনো ইন্টারভিউ দেননি, তাদের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ৭৫ দেশের ওপর আগের ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও বর্তমানে অভিবাসী ভিসার ইন্টারভিউ নির্ধারণ নিয়ে আলাদা সাময়িক পরিবর্তন চলছে। ফলে পুরোনো স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই নতুন ইন্টারভিউয়ের তারিখ পেয়ে যাবেন, এমন নিশ্চয়তাও এখনো নেই। যারা ইতোমধ্যে ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তাদের নতুন করে পুরো ভিসা আবেদন শুরু করার প্রয়োজন আছে, এমন কোনো সাধারণ নির্দেশনা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাদের উচিত নিজেদের সিইএসি কেসের অবস্থা নিয়মিত দেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে কোনো নতুন ইমেইল বা নির্দেশনা এলে তা অনুসরণ করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর ভিসা ইন্টারভিউ হয়ে থাকলে এবং শুধুমাত্র ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে তার ভিসা আটকে থাকলে, সেই নির্দিষ্ট বাধা এখন আর কার্যকর নেই। তবে ভিসা ইস্যুর আগে অন্য কোনো যাচাই বা প্রক্রিয়া বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে। অর্থাৎ, ইন্টারভিউ দিয়ে যারা ভিসার অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আগের চেয়ে ইতিবাচক। এখন অপেক্ষা হচ্ছে তাদের অপেক্ষমাণ কেস কত দ্রুত আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে এগিয়ে যায়।
টাইমস স্কয়ারে নিজ কর্মস্থলের কাছেই ছু/রিকাঘাতে প্রাণ গেল ব্যাংক অব আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্টের
পুরনো পেনি ফেলে দেওয়ার আগে সাবধান, একটি কয়েনের দাম হতে পারে ৬ লাখ ডলার
ক্যালিফোর্নিয়ায় ‘শক গ্লাভস’ নিষিদ্ধে বিল পাস, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন সংঘাতে রাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোসেস রাস নামের ২৪ বছর বয়সী এক পুলিশ রিক্রুট নিহত হয়েছেন। আটলান্টা পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এপিডি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল সোয়া সাতটার দিকে মোরল্যান্ড অ্যাভিনিউ ও ম্যাকডোনাহ বুলেভার্ডের সংযোগস্থলে একটি গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হলে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে গ্রেডি মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়, তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আটলান্টা পুলিশ একাডেমির ৩০২তম ব্যাচের সদস্য হিসেবে মোসেস রাস তার ১৬তম সপ্তাহের প্রশিক্ষণে ছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালীন আটলান্টার ডাউনটাউনে দায়িত্ব পালনেও তাকে নিয়োজিত করা হয়েছিল। এপিডিতে যোগদানের আগে তিনি দুই বছর আটলান্টা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসে কর্মরত ছিলেন এবং এর আগে মার্কিন কোস্ট গার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আটলান্টার মেয়র আন্দ্রে ডিকেন্স এবং পুলিশ প্রধান ডারিন শিয়ারবাম গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, মোসেস ছিলেন জনসেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকা একজন আদর্শ ব্যক্তি। সহকর্মীর এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে শোক পালনের সুযোগ দিতে অন্য পুলিশ রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে একাডেমি কর্তৃপক্ষ। পুলিশ প্রধান ডারিন শিয়ারবাম এই পরিস্থিতিকে সবার জন্য এক "কঠিন সময়" বলে উল্লেখ করেছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত অপর গাড়ির চালক সামান্য আহত হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটনে এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ইহুদিবি/দ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে তদন্ত চলাকালে পদত্যাগ করেছিলেন সাবেক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার বোভিনো
একসঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিন বন্ধু, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের বন্যা কেড়ে নিল দুজনকে, নিখোঁজ আরও একজন