তিস্তা মহাপ্রকল্পের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ
চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য তিস্তা মহাপ্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক জে-১০সিই (J-10CE) যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মে মাসে সংঘটিত স্বল্পস্থায়ী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানের বিপরীতে চীনা জে-১০সিই-এর অভাবনীয় যুদ্ধসাফল্যের কারণেই বাংলাদেশ এই ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটির প্রতি বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছে বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (এসসিএমপি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হুমায়ুন কবির চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করে ‘এক চীন নীতি’র প্রতি ঢাকার অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের পর দুদেশের সম্পর্ককে ‘ভবিষ্যতে চীন–বাংলাদেশ অভিন্ন সম্প্রদায়’ পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়েও তারা একমত হন। এছাড়া, প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠা, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও ইপিজেড নির্মাণ, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ নানা দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সিইআইজেড-এ প্রায় ৩০টি চীনা কোম্পানি বিনিয়োগ করতে পারে, যা স্থানীয়দের জন্য প্রায় এক লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামরিক চুক্তির বিষয়ে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, জে-১০সিই যুদ্ধবিমান এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার জন্য সরকার গঠিত একটি প্যানেল ইতোমধ্যে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত করছে।
বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এমআরসিএ), অ্যাটাক ও ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি (UAV) সিস্টেম নিয়ে চীনের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চলছে। ইউরোপীয় রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুনের তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলক কম হওয়া এবং সরাসরি যুদ্ধে এর চমৎকার পারফরম্যান্সের কারণে বাংলাদেশ এটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেট সহায়তা পেলে দ্রুতই এই সামরিক চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে বলে সরকারি পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হামলা চলাকালে নিজস্ব অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে শত্রু বাহিনীর ২০০টিরও বেশি সামরিক বিমান ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে ইরান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের ‘বিমান প্রতিরক্ষা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ সেনা কমান্ডাররা এই সামরিক সাফল্যের তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব অস্ত্রের ক্ষমতা এতটাই গোপন ও আধুনিক ছিল যে, হামলাকারী মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী বুঝতেই পারেনি ঠিক কোথা থেকে তাদের বিমানে আঘাত হানা হচ্ছে। দেশের আকাশসীমাকে সুরক্ষিত রাখতে মরুভূমি, সমুদ্র উপকূল, পাহাড়ি অঞ্চল ও দ্বীপসহ প্রায় ৩ হাজার ৮০০টির বেশি দুর্গম স্থানে ইরানের প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, আকাশপথে যেকোনো শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন বা উড়োজাহাজ শনাক্ত হওয়ামাত্রই তা ধ্বংস করার পূর্ণ সক্ষমতা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার রয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এক দৃঢ়বার্তায় জানান, মাতৃভূমি রক্ষায় প্রয়োজনে আগামী ২০ প্রজন্ম ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইরানের জনগণ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরে বিমান হামলা চালায়। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তা প্রাণ হারান। এই ঘটনার পর ইরান তীব্র প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যা পুরো অঞ্চলে এক ভয়াবহ সংঘাতের জন্ম দিয়েছে।
তিস্তা মহাপ্রকল্পের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন গ্রিন কার্ডের আশায় ভারতীয়দের দীর্ঘ অপেক্ষা, নতুন আবেদনকারীদের জন্য সময় লাগতে পারে ১৭৯ বছর
নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিমবাহ ধস ও ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট শুরু হওয়া এই প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত এক হাজার তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ৯১৬ জন। উচ্চভূমি থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, বরফশীতল পানি, পাথর ও কাদার স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে ভেসে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও জনপদ। চারদিকে শুধু স্বজনহারা মানুষের কান্না আর ধ্বংসস্তূপের চিত্র, যা পুরো এলাকাকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতদেহ শনাক্ত করা এবং ধর্মীয় রীতি মেনে পৃথকভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর গণকবরের মাধ্যমে দাফন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। চিতওয়ান জেলায় এরই মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের চিরায়ত দাহ ও প্রার্থনার রীতির বদলে এই গণকবরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগের ভয়াবহতার সবচেয়ে মর্মান্তিক চিত্রটি দেখা গেছে নুয়াকোট জেলায়। সেখানে দুর্গম এলাকায় ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ একটি মাত্র বাড়ির ভেতর থেকেই ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। হিমালয়ঘেঁষা এই বিপর্যয়ের ভয়াবহ প্রভাব কেবল নেপালের সীমানাতেই আটকে নেই; নদীর ভাটির স্রোতে ভেসে যাওয়া অন্তত ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ এই ভয়াবহ দুর্যোগকে ‘অকল্পনীয় ও হৃদয়বিদারক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজ চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে এবং উদ্ধার তৎপরতায় আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলারের বারের বিল ফাঁকি! তরুণীকে ধরে চুল কেটে দিল বারকর্মী
ইরানে ২ হাজার ৫৭৭ বন্দির সাজা মওকুফ করলেন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি
বিমানসেবিকা মেয়েকে হঠাৎ দেখে আবেগে কেঁদে ফেললেন বাবা, জড়িয়ে ধরলেন বিমানে
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সিনাগগে হামলাকারীর ব্যবহৃত ভুয়া বিস্ফোরক ভেস্ট নিয়ে গবেষণা করে একই ধরনের একটি ভেস্ট বানিয়ে ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ খালিল নাদিরকে সাড়ে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার লিডস ক্রাউন কোর্টে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়। নাদির ইংল্যান্ডের মিডলসব্রোর ক্লফ ক্লোজের বাসিন্দা। আদালতে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যে সামগ্রী রাখার এবং সন্ত্রাসবাদী প্রকাশনা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। জুনে অনুষ্ঠিত বিচারে জুরি তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি মুক্তির পর তাকে আরও তিন বছর বর্ধিত লাইসেন্সের আওতায় থাকতে হবে। কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং নর্থ ইস্ট জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার পর নাদির হামলাকারী জিহাদ আল-শামির পরা ভুয়া বিস্ফোরক ভেস্ট নিয়ে অনলাইনে গবেষণা শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি একই ধরনের একটি ভেস্ট অর্ডার করেন। ভেস্টটি হাতে পাওয়ার দিন নাদির অনলাইনে ৫০০টি স্টিল বল বিয়ারিং কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেও আদালতে জানানো হয়। পরে তিনি ভেস্টটিতে নকল তার ও ট্রিগার যুক্ত করে সেটি পরা অবস্থায় একটি ভিডিও ধারণ করেন। ভিডিওতে বিস্ফোরণের শব্দ যোগ করে সেটি টেলিগ্রামে ছড়িয়ে দেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাদিরকে গ্রেপ্তারের পর তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওই ভারী ভেস্টটি উদ্ধার করে পুলিশ। তার ডিভাইসগুলো থেকেও বিপুল পরিমাণ সন্ত্রাসবাদী উপকরণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে শহীদ হওয়ার নামে সহিংসতা উসকে দেওয়া হাতে লেখা নথি, দায়েশের প্রচারণামূলক ভিডিও এবং হত্যাকাণ্ডে উৎসাহিত করে এমন লেখা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং নর্থ ইস্টের প্রধান ডিটেকটিভ চিফ সুপারিনটেনডেন্ট জেমস ডানকারলি বলেন, তদন্তে নাদিরের উগ্রবাদী বিশ্বাস গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ওঠার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি শুধু সন্ত্রাসবাদী প্রচারণা নিজের কাছে রাখেননি, অনলাইনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা ও প্রচারণামূলক উপকরণও ছড়িয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন চ্যাট ও ভয়েস নোটে নাদিরের সহিংসতার প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এবং ভয় সৃষ্টি করতে সহিংসতা ব্যবহারের মানসিকতারও প্রমাণ পাওয়া যায়। নাদিরের মামলাটি ২০২৫ সালের ম্যানচেস্টার সিনাগগ হামলার পর অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণা ও হামলার অনুকরণ নিয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই হামলায় ৩৫ বছর বয়সী জিহাদ আল-শামি গাড়ি দিয়ে সিনাগগের গেটে ধাক্কা দেওয়ার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালান। তিনি শরীরে একটি ভুয়া আত্মঘাতী ভেস্ট পরেছিলেন। হামলায় মেলভিন ক্রাভিটজ, ৬৬, এবং অ্যাড্রিয়ান ডলবি, ৫৩, নিহত হন। পরে সশস্ত্র পুলিশ আল-শামিকে গুলি করে হত্যা করে।
রাহুল নাকি বিজয়? প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেস টিভিকে জোটে টানাপোড়েন
মেয়ের পড়ার খরচ জোগাতে খালি পায়ে দৌড়ে ম্যারাথনে প্রথম ৪৭ বছরের মা