মার্কিন গ্রিন কার্ডের আশায় ভারতীয়দের দীর্ঘ অপেক্ষা, নতুন আবেদনকারীদের জন্য সময় লাগতে পারে ১৭৯ বছর
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা ও দীর্ঘ অপেক্ষার চিত্র উঠে এসেছে এক গবেষণা প্রতিবেদনে। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর আমেরিকান পলিসির (এনএফএপি) তথ্যমতে, চলতি বছরে কোনো ভারতীয় পেশাজীবী গ্রিন কার্ডের আবেদন করলে ক্যাটাগরিভেদে তাকে সর্বোচ্চ ১৭৯ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের (ইউএসসিআইএস) সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, একই প্রক্রিয়ায় চীনা নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই অপেক্ষার সময় সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
মার্কিন ইমিগ্রেশন আইনের কঠোর কোটাব্যবস্থা ও ব্যাকলগের কারণেই এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটিতে প্রতি বছর চাকরিভিত্তিক ক্যাটাগরিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়, যেখানে কোনো একক দেশকে মোট সংখ্যার ৭ শতাংশের বেশি দেওয়ার সুযোগ নেই।
বিজ্ঞান ও প্রকৌশল খাতে ভারতীয় মেধার বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এই সীমাবদ্ধতার কারণে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় এই দীর্ঘ জটে আটকে রয়েছেন।
গত পাঁচ বছরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অগ্রাধিকার ক্যাটাগরিতে (ইবি-১, ইবি-২ ও ইবি-৩) আবেদন জট ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে মোট ১২ লাখ ৬০ হাজারে পৌঁছেছে। ফলে নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ইবি-২ ক্যাটাগরিতে ১৭৯ বছর, ইবি-৩ ক্যাটাগরিতে ৩৮ বছর এবং ইবি-১ ক্যাটাগরিতে ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার এই সংকট সাময়িক এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসায় থাকা দক্ষ কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবনে মারাত্মক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, পাশাপাশি মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক প্রতিভা ধরে রাখার সুযোগও সংকুচিত করছে। এর ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী নানা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
যার মধ্যে রাজনৈতিক অবস্থানসহ বিভিন্ন কারণে ভিসা বাতিল এবং নতুন আবেদন ফির মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত। দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৩২ লাখ ভারতীয় জনগোষ্ঠীর ওপর এই কঠোর নীতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে মানবাধিকার ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আন্তর্জাতিক
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২১ অগাস্ট থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা এই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর থাকছে না। এর আগে গত ২১ অগাস্ট নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত এক যুগান্তকারী রায়ে এই স্থগিতাদেশ বাতিল করে দেয়। ‘ক্লিনিক বনাম রুবিও’ নামে পরিচিত এই মামলায় আদালত জানায়, এ ধরনের নীতি প্রণয়নে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি এখতিয়ারের সীমা লঙ্ঘন করেছেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপালসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি স্থগিত করা হয়েছিল। তৎকালীন প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে সরকারি সহায়তা বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ‘উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে। তবে গত ২৮ অগাস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করে যে, আদালতের নির্দেশে এই স্থগিতাদেশ এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন কোনোভাবেই রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হয়ে না দাঁড়ান, তা নিশ্চিত করতে যাচাইকরণ নীতিমালাগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়া বন্ধ থাকলেও আবেদন জমা দেওয়া বা সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ চালু ছিল। বর্তমানে এই স্থগিতাদেশ পুরোপুরি উঠে যাওয়ায় আটকে থাকা ভিসা ইস্যুর চূড়ান্ত ধাপটি আবারও উন্মুক্ত হলো। এর ফলে বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশের নাগরিকরা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো বাধা ছাড়াই তাদের গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়াটি পুনরায় এগিয়ে নিতে পারবেন।
মার্কিন গ্রিন কার্ডের আশায় ভারতীয়দের দীর্ঘ অপেক্ষা, নতুন আবেদনকারীদের জন্য সময় লাগতে পারে ১৭৯ বছর
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃ/তের সংখ্যা হাজার ছাড়াল, এক বাড়িতেই মিলল ২৪ ম/রদেহ
প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলারের বারের বিল ফাঁকি! তরুণীকে ধরে চুল কেটে দিল বারকর্মী
ইরানে বিভিন্ন আদালতে দণ্ডিত ২ হাজার ৫৭৭ জনের সাজা মওকুফ বা কমিয়ে দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সেয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। দেশটির বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেইর সুপারিশের পর এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও শিয়া মুসলিমদের ষষ্ঠ ইমাম ইমাম জাফর সাদিকের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই দণ্ড মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চান্দ্র হিজরি বর্ষপঞ্জির রবিউল আউয়াল মাসের ১৭ তারিখে তাদের জন্মবার্ষিকী পালিত হয়। এ বছর দিনটি ৩০ আগস্ট ছিল। বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেইর অনুরোধের পর সর্বোচ্চ নেতা এই প্রস্তাব অনুমোদন করেন। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন আদালতে দণ্ডিত মোট ২ হাজার ৫৭৭ জনের সাজা মওকুফ অথবা কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইরানের সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার বিভাগের প্রধানের সুপারিশের ভিত্তিতে দণ্ডিত ব্যক্তিদের সাজা মওকুফ বা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা দেশটির সর্বোচ্চ নেতার রয়েছে। এবারের সিদ্ধান্তও সেই সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় নেওয়া হয়েছে। তবে এই দণ্ড মওকুফ বা সাজা কমানোর সুবিধা সব ধরনের দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য হবে না। দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেওয়া, সশস্ত্র বা সংঘবদ্ধ মাদক পাচার এবং সশস্ত্র ডাকাতির মতো অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্র চোরাচালান, অপহরণ, ঘুষ এবং অর্থ আত্মসাতের মতো অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিরাও এই দণ্ড মওকুফের আওতায় পড়বেন না। ফলে ২ হাজার ৫৭৭ জনের সাজা মওকুফ বা কমানোর সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ব্যক্তির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইরানে দণ্ড মওকুফের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিউল আউয়াল মাসের ১৭ তারিখে নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইমাম জাফর সাদিকের জন্মবার্ষিকী পালিত হয়। এ বছর সেই দিনটি ৩০ আগস্ট পড়েছিল। সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের ফলে বিভিন্ন আদালতে দণ্ডিত ২ হাজার ৫৭৭ জনের ক্ষেত্রে সাজা মওকুফ অথবা কমানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। সূত্র: তাসনিম নিউজ
বিমানসেবিকা মেয়েকে হঠাৎ দেখে আবেগে কেঁদে ফেললেন বাবা, জড়িয়ে ধরলেন বিমানে
ম্যানচেস্টার হামলাকারীকে অনুকরণ, ভুয়া বোমা ভেস্ট পরায় মোহাম্মদ খালিলের কারাদণ্ড
রাহুল নাকি বিজয়? প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে কংগ্রেস টিভিকে জোটে টানাপোড়েন
মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে শাড়ি পরে খালি পায়ে ম্যারাথনে দৌড়ে তরুণ প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে প্রথম হয়েছেন ভারতের মহারাষ্ট্রের ৪৭ বছর বয়সী রমাবাই রণবীর। মহারাষ্ট্রের বিড জেলার আম্বাজোগাইয়ে ভারতীয় শিক্ষা প্রসারক সংস্থার অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে ‘অমৃত দৌড়’ নামে এই ম্যারাথনের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় অনেক তরুণ-তরুণী অংশ নেন। সবার মতো রমাবাইও শাড়ি ও চপ্পল পরে দৌড়ে অংশ নেন। তবে অসমান রাস্তায় বারবার চপ্পল খুলে যাওয়ায় দৌড়ের গতি কমে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে চপ্পল হাতে তুলে নিয়ে খালি পায়েই দৌড় শুরু করেন তিনি। পাথুরে ও রুক্ষ রাস্তার ব্যথা উপেক্ষা করে একের পর এক তরুণ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সবার আগে ফিনিশিং লাইনে পৌঁছান রমাবাই। তার এই অসাধারণ জয় উপস্থিত দর্শক ও আয়োজকদের আবেগাপ্লুত করে। পুরস্কার হিসেবে পাওয়া ৩ হাজার রুপি নিজের জন্য না রেখে মেয়ের পড়াশোনার খরচে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এই সংগ্রামী মা।
বন্যার আগে ৪৫ কোটি রুপির সম্পদের মালিক, আজ ধার করা শার্টে দিন কাটছে তার
শত্রুর যেকোনো হামলা মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৩৮০০ প্রতিরক্ষা ইউনিট মোতায়েন করেছে ইরান