সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ বহিষ্কৃত অভিবাসী নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৭:২৮
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ বহিষ্কৃত অভিবাসী নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ বহিষ্কৃত অভিবাসী নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এমন অভিবাসীদের গ্রহণ করতে শুরু করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া, যারা দেশটির নাগরিক নন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির আওতায় করা চুক্তির প্রথম ধাপে গত ২০ আগস্ট প্রায় ২০ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হয়েছে। 

 

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ জনকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হতে পারে। এসব ব্যক্তির মধ্যে আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। 

 

লাইবেরিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিরা দেশটির নাগরিক নন এবং তাদের ‘তৃতীয় দেশের নাগরিক’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তাদের মধ্যে যারা চাইবেন, তারা লাইবেরিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন। 

 

প্রথম দলটি লুইজিয়ানা থেকে একটি বিমানে করে লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়ার বাইরে রবার্টস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তবে বিমানটি অবতরণের পর কয়েকজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের গন্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলেন। 

 

পরে জানা যায়, প্রথম দফায় পাঠানো ছয়জন—চারজন কিউবার নাগরিক, একজন ব্রাজিলের নাগরিক এবং একজন ক্যামেরুনের নারী—বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের দাবি ছিল, লাইবেরিয়া তাদের নিজ দেশ নয় এবং সেখানে গেলে তারা নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন। 

 

লাইবেরিয়ার সরকার বলেছে, এই ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের কূটনৈতিক নোট বিনিময়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এটিকে মানবিক ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ব্যক্তিদের অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে। 

 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটি এমন একটি নীতির অংশ, যার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগতভাবে সম্ভব নয় বা যাদের নিজ দেশে ফেরত গেলে নির্যাতন কিংবা অন্য গুরুতর ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা করেছে। 

 

তবে এই নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নিজ দেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন জায়গায় বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের পাঠানো হলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তী সময়ে তারা আবার অন্য দেশে পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। 

 

লাইবেরিয়ার জন্য বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বড় একটি অংশ এমন জনগোষ্ঠীর বংশধর, যাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাস রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত মানুষদের গ্রহণের এই নতুন ভূমিকা দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্কের সঙ্গেও নতুন এক বৈপরীত্য তৈরি করেছে। 

 

সব মিলিয়ে, লাইবেরিয়ায় প্রথম ২০ জনকে পাঠানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘তৃতীয় দেশে বহিষ্কার’ নীতির নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরে আরও ১ হাজার ১৮০ জন পর্যন্ত মানুষকে সেখানে পাঠানো হলে এ ব্যবস্থা অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার ও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন অভিযানের কারণে এক সেনা সার্জেন্টের স্ত্রীকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
সেনা সার্জেন্টের স্ত্রীকে ডিপোর্ট, ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় দায়িত্বে থাকা এক সেনা সার্জেন্টের স্ত্রী ক্রিস্টি মেরিওরি ভিলাফ্রাঙ্কা ত্রেহোকে সোমবার হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তার স্বামী সার্জেন্ট হেদার লিওনেল তুরসিওস হুয়ারেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছয় বছরের এক কন্যাসন্তানের মা ভিলাফ্রাঙ্কার এই বহিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন অভিযানে সামরিক সদস্যদের পরিবারের ওপর পড়া প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগও ভিলাফ্রাঙ্কাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিভাগের এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়। সরকারের দাবি, তার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও অভিবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে।   গত ১১ জুলাই টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিসের কাছে একটি দোকানের বাইরে ভিলাফ্রাঙ্কাকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা আটক করেন। সে সময় তার ছয় বছরের মেয়ে গাড়িতে ছিল বলে তার স্বামী জানিয়েছেন। ভিলাফ্রাঙ্কা ২০১৬ সালে হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার স্বামীর দাবি, নিজ দেশের সহিংস পরিস্থিতির কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছিলেন।   সার্জেন্ট তুরসিওস হুয়ারেজও হন্ডুরাসে জন্মগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান। এর আগে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে নয় মাস সামরিক দায়িত্ব পালন করেন। স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় অভিবাসন প্রক্রিয়াও তিনি শুরু করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভিলাফ্রাঙ্কার কোনো পরিচিত অপরাধের রেকর্ড নেই। তবে ২০১৭ সালে একটি অভিবাসন আদালতের শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ জারি হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই শুনানির বিষয়ে ভিলাফ্রাঙ্কা যথাযথভাবে অবহিত হয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   পরিবারটি তার অভিবাসন মামলা পুনরায় খোলার চেষ্টা করছিল। একই সঙ্গে সামরিক সদস্যদের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইনি সুবিধার আওতায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাখার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।   এর আগে ভিলাফ্রাঙ্কাকে হন্ডুরাসে পাঠানোর একটি প্রচেষ্টা আইনি জটিলতার কারণে আটকে যায়। পরে ২৪ আগস্ট তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে হন্ডুরাসে পাঠানো হয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অভিবাসন অভিযানের মধ্যে ভিলাফ্রাঙ্কা অন্তত সপ্তম এমন স্ত্রী বা অভিভাবক, যিনি সক্রিয় দায়িত্বে থাকা কোনো মার্কিন সামরিক সদস্যের পরিবারের সদস্য হয়েও দেশ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। একই সময়ে ৫০টির বেশি ঘটনায় মার্কিন সামরিক সদস্যদের নিকট পরিবারের সদস্যদের ফেডারেল অভিবাসন হেফাজতে নেওয়ার তথ্যও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।   স্ত্রীকে হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানোর পর সার্জেন্ট তুরসিওস হুয়ারেজকে সামরিক দায়িত্বের পাশাপাশি ছয় বছরের মেয়ের দেখাশোনার দায়িত্বও নিতে হচ্ছে। পরিবারকে একসঙ্গে রাখার চেষ্টা এবং একই সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালন করা তার জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১১:৩০
গবেষণাগারে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা ডার্টমাউথ কলেজের রসায়ন অধ্যাপক কারেন ই. ওয়েটারহান। ছবি: সংগৃহীত

ল্যাটেক্স গ্লাভস পরেও রক্ষা মেলেনি, কয়েক ফোঁটা রাসায়নিক পড়ে অধ্যাপকের মৃত্যু

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে কিশোরী ধর্ষণের মামলায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ছবি: আইটিভি নিউজ

ম্যানচেস্টারে ১৭ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে আফগান যুবকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার জেরে লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব, ‘লেক অন্টারিও’র নাম হবে ‘লেক আমেরিকা’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক নথিতে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স কোম্পানিতে বিনিয়োগের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত
স্পেসএক্সে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ ট্রাম্পের, প্রকাশ পেল আর্থিক নথিতে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছেন। ২২ আগস্ট প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের আর্থিক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বড় একটি কন্ট্রাক্টর কোম্পানিতে ট্রাম্পের সরাসরি আর্থিক অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে।    নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন ট্রাম্প ১৫ হাজার ১ ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছেন। ১২ আগস্ট তিনি নথিতে স্বাক্ষর করেন। জুন মাসে করা এক হাজারের বেশি স্টক লেনদেনের মধ্যে এই বিনিয়োগও ছিল।    ট্রাম্পের এই বিনিয়োগের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাত্র ১১ দিন আগে, ১২ জুন স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং রেকর্ড গড়ে। ওই আইপিওতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন করা হয়েছিল প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার।    হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তৃতীয় পক্ষের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে। তাদের দাবি, ট্রাম্প বা তার পরিবারের কেউ কোন শেয়ার কেনা বা বিক্রির সিদ্ধান্তে নির্দেশনা, প্রভাব বা মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখেন না।    ইলন মাস্ক একসময় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রাক্টর এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত অনুমোদন ও চুক্তি পেয়ে থাকে। ফলে ট্রাম্পের স্পেসএক্সে বিনিয়োগ তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে কোম্পানিটির আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।   এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তাঁর প্রশাসনকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই খাতে স্পেসএক্স অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কোম্পানিটির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে ফেডারেল আর্থিক নথিতে সম্পদের সঠিক মূল্য প্রকাশ না করে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মূল্য দেখানো হয়। তাই ট্রাম্প স্পেসএক্সে ঠিক কত ডলার বিনিয়োগ করেছেন এবং কত শেয়ার কিনেছেন, তা প্রকাশিত নথি থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৯:৩২
৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা, নাকি ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনা

৩ শতাংশ মর্টগেজ রেটের অপেক্ষা, নাকি ৩ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে বাড়ি কেনা, কোনটি লাভজনক? জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটনের কাছে বাড়ি

নার্সিং হোম থেকে ৮৫ বছর বয়সী স্ত্রীকে বাড়িতে এনে হত্যা, পরে নিজের মাথায় গুলি ৮৭ বছর বয়সী স্বামীর

mature-businessman-walking

যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে কঠোর পরিশ্রমী মানুষের বসবাস যেসব অঙ্গরাজ্যে, তালিকা প্রকাশ ওয়ালেটহাবের

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বর্জনে ফের সরব কানাডীয়রা
শুল্কযুদ্ধের উত্তাপ বাড়তেই যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বর্জনে ফের সরব কানাডীয়রা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর মার্কিন পণ্য ও সেবা বর্জনের আন্দোলন নতুন করে জোরদার হচ্ছে কানাডায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক আরোপের পর অনেক কানাডীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও মার্কিন পণ্য না কেনার আহ্বান জানাচ্ছেন।   দুই দেশের কয়েক দফা আলোচনার পর গত শুক্রবার বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যায়। এর পরদিন যুক্তরাষ্ট্র কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে। এর আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য পড়েছে। জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।   নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘটনায় কানাডীয়দের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভ্যাঙ্কুভারের শিশুমনোরোগ বিশেষজ্ঞ টাইলার ব্ল্যাক বলেন, তাঁর এলাকায় হাঁটতে বের হলে শুল্ক, ট্রাম্প ও কার্নির বাণিজ্যনীতি নিয়ে আলোচনা শুনতে পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অনেক কানাডীয় মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর আক্রমণাত্মক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ‘বয়কট ইউএসএ’ প্রচারণা আবার সক্রিয় হয়েছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কানাডীয় পণ্য কেনার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট, তালিকা ও প্রচারমূলক বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ বন্ধ রাখার কথাও বলছেন। এমনকি ইউরোপের কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীও এই বর্জন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন।   কানাডায় মার্কিন পণ্য বর্জনের প্রবণতা অবশ্য নতুন নয়। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনেক কানাডীয় মার্কিন পণ্য কেনা কমিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ থেকেও বিরত থেকেছেন। টরন্টোর লেখক টিনা গ্যারেট বলেন, সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপের কারণে যারা আগে বর্জন শুরু করেছিলেন, তাঁদের অনেকেই আবার নতুন করে এতে সক্রিয় হতে পারেন।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও শুল্কসংঘাতকে জাতীয় ঐক্যের সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কানাডার নিজস্ব সম্পদ ও সক্ষমতা রয়েছে এবং কোনো দেশকে কানাডার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দেওয়া হবে না। তাঁর সরকার আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু পণ্যে ডলারের বিপরীতে ডলার হিসেবে পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে।   এরই মধ্যে কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ বিভিন্ন রপ্তানি নিয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ২০২৫ সালে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিদ্যুৎ রপ্তানি করেছিল।    নতুন মার্কিন শুল্কের প্রভাব পড়ছে কানাডার বিভিন্ন পণ্যে। মধু, প্রসাধনী, ক্রিসমাসের সাজসজ্জার সামগ্রী, হকি সরঞ্জাম, পোশাক, আসবাব, দুগ্ধজাত পণ্যসহ ৫৫০টির বেশি কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এসব পণ্যের মোট মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট পণ্য রপ্তানির তুলনায় একটি সীমিত অংশ।   তবে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব শুধু দুই দেশের সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। কানাডীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘদিন শুল্ক বহাল থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কানাডীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। একইভাবে মার্কিন আমদানিকারকরাও বাড়তি খরচের একটি অংশ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন।   অর্থনৈতিক বর্জনের বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোক্তাদের বড় পরিসরের বর্জন কোনো কোনো কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব নির্ভর করবে বর্জনের ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্বের ওপর। তবে রাজনৈতিকভাবে এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে কানাডীয়দের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মনোভাব আরও জোরালো হচ্ছে।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য আলোচনার ব্যর্থতার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক বাড়ানোর হুমকি, অন্যদিকে কানাডার পাল্টা শুল্ক ও মার্কিন পণ্য বর্জনের আহ্বান—সব মিলিয়ে উত্তর আমেরিকার দুই ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে অর্থনৈতিক সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৬:৫৩
গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত

মার্কিন নাগরিক স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর গ্রিন কার্ড পেতে পূরণ করতে হবে বিশেষ ৬ শর্ত

মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের আদেশ কার্যকরের পথ খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট

মিডটার্ম নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের ডাকযোগে ভোটের আদেশ কার্যকরের পথ খুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি

ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভিতে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে হত্যার হুমকি, ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের ঘোষণা

0 Comments