সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

বাড়ির কিস্তি ভেবে বাবা-মাকে দিলেন ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার, ১১ বছর পর জানলেন তিনি নাকি শুধু ভাড়াটিয়া

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২২:২৬
নিজের বাড়ি ভেবে ১১ বছর ধরে বাবা-মাকে কিস্তির টাকা দিয়ে আসছিলেন মেয়ে ব্রায়ানা লেন। ছবি: সংগৃহীত
নিজের বাড়ি ভেবে ১১ বছর ধরে বাবা-মাকে কিস্তির টাকা দিয়ে আসছিলেন মেয়ে ব্রায়ানা লেন। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার পার্থে নিজের বাবা-মায়ের কেনা বাড়ির মালিক হওয়ার আশায় ১১ বছরে তাদের ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি দিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় পর বাবা-মা জানালেন, তিনি বাড়িটির মালিক নন, কেবল ভাড়াটিয়া। শেষ পর্যন্ত বাড়িটি বিক্রি ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হলেও পুরোপুরি সফল হননি ওই নারী। তবে বিক্রির পর পাওয়া অর্থের একটি অংশের ওপর তার দাবি থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আদালত।

 

ব্রিয়ানা লেন নামের ওই নারী পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টে বাবা অ্যালান ব্রিগস ও মা ওয়েন্ডি ব্রিগসের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। তার দাবি, ২০১৪ সালে বাবা-মায়ের সঙ্গে একটি মৌখিক সমঝোতা হয়েছিল। সেই অনুযায়ী, বাবা-মা তাদের নামে বাড়ি কিনবেন এবং তিনি ও তার স্বামী প্রতি মাসে অর্থ পরিশোধ করবেন। একসময় বাড়িটির মালিকানা তাদের কাছে চলে যাওয়ার কথা ছিল।

 

বাবা-মায়ের বক্তব্য অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, তারা মেয়েকে বাড়িতে থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন ভাড়াটিয়া হিসেবে। বাড়িটি কখনো তার নামে দেওয়ার কোনো লিখিত বা মৌখিক চুক্তি তারা করেননি। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি লারিসা স্ট্রকের সাম্প্রতিক রায়ে দুই পক্ষের এই ভিন্ন বক্তব্য উঠে এসেছে।

ঘটনার শুরু ২০১৪ সালে। তখন ব্রিয়ানা ও তার স্বামী বেন লেন আর্থিক সংকটে ছিলেন এবং পার্থের ক্ল্যারমন্ট এলাকায় যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, সেটি হারানোর আশঙ্কায় ছিলেন বলে আদালতকে জানান ব্রিয়ানা।

 

তার দাবি, ওই সময় তিনি বাবা-মায়ের কাছে নিজেদের জন্য একটি বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সহায়তা চান। বাবা তাদের ঋণের জামিনদার হতে রাজি না হয়ে নিজের নামে বাড়ি কেনার প্রস্তাব দেন। ব্রিয়ানার ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িটির ঋণের মাসিক কিস্তি তারা পরিশোধ করবেন এবং ভবিষ্যতে বাড়িটির মালিকানা তাদের হবে।

এরপর ২০১৪ সালের নভেম্বরে অ্যালান ও ওয়েন্ডি ব্রিগস পার্থের সোয়ানবোর্ন এলাকায় তিন শয়নকক্ষের একটি বাড়ি কেনেন। বাড়িটির দাম ছিল প্রায় ১১ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার। বাড়িটি কটেসলো বিচের কাছাকাছি একটি অভিজাত এলাকায় অবস্থিত। পরের মাস থেকেই ব্রিয়ানা ও তার স্বামী সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং অর্থ পরিশোধ করতে থাকেন।

 

ব্রিয়ানার হিসাব অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের আগস্ট পর্যন্ত তিনি ৬৯টি মাসিক কিস্তিতে মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০ ডলার দেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কিস্তি চালিয়ে যেতে তিনি নিজের অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে আরও ১০ হাজার ডলার তোলেন।

 

এরপর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্তও তিনি নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। ব্যাংক লেনদেনের বিবরণে অনেক ক্ষেত্রে এসব অর্থের পাশে ‘মর্টগেজ’ বা বাড়ির ঋণের কিস্তি লেখা ছিল। ওই সময় তিনি মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪৬২ ডলার দিয়েছেন বলে আদালতকে জানান। বাড়িতে অগ্নিকুণ্ড স্থাপন, বৈদ্যুতিক কাজ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন কাজে ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আরও ১৯ হাজার ৮০ ডলার খরচ করার দাবিও করেন তিনি।

 

তবে বাবা-মায়ের দাবি, ওই অর্থ বাড়ির মালিকানা পাওয়ার জন্য দেওয়া হয়নি। তারা বলছেন, মেয়ে কখনো কখনো ভাড়া হিসেবে অর্থ পাঠাতেন, আবার কোনো কোনো মাসে কিছুই দিতেন না। কিছু সময়ে মাসিক ভাড়া মাত্র ৩৩৪ ডলার পর্যন্ত নেমে এসেছিল এবং একপর্যায়ে প্রায় ৫ হাজার ৩০০ ডলার ভাড়া বকেয়াও হয়েছিল।

ব্রিগস দম্পতির দাবি, বাড়িটি তারা ১২ বছরের সুদভিত্তিক ঋণে কিনেছিলেন। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তারা মূল ঋণ কমানোর পরিবর্তে মূলত সুদ পরিশোধ করছিলেন। তাদের মাসিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ডলার।

 

বিরোধটি প্রকাশ্যে আসে ২০২৪ সালে। তখন অ্যালান ব্রিগস তার মেয়েকে জানান, বাড়িটি তারই মালিকানাধীন এবং ব্রিয়ানা সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকছেন। তিনি একটি আনুষ্ঠানিক ভাড়ার চুক্তি করার কথাও বলেন। পরের বছর অ্যালান জানান, তারা বাড়িটি বিক্রি করতে চান।

ব্রিয়ানা তখন বাড়ি দেখতে সম্ভাব্য ক্রেতাদের প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বাবা-মায়ের সঙ্গে তার বিরোধ আরও তীব্র হয়।

 

মামলায় ব্রিয়ানার পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বাবার পাঠানো কিছু খুদে বার্তাও। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অ্যালান তাকে একটি বার্তায় জানান, বাড়ি বিক্রির পর বিনিয়োগ করার বা কোনো ঘাটতি পূরণের জন্য তার হাতে অর্থ থাকবে। কয়েক সপ্তাহ পর আরেক বার্তায় তিনি বাড়ি বিক্রির পর মেয়েকে অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানান।

২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও বাড়ি বিক্রি ও সেই অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি ব্রিয়ানাকে একটি প্রস্তাব দেন। আদালতে এসব বার্তা দুই পক্ষের সম্পর্ক ও বাড়ির অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার প্রমাণ হিসেবে উঠে আসে।

 

২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ব্রিগস দম্পতি বাড়িটির জন্য একজন ক্রেতার প্রস্তাব গ্রহণ করেন। রায়ে বিক্রয়মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে সম্পত্তির বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে বলে বিভিন্ন সম্পত্তি-তথ্যভিত্তিক সূত্রে ধারণা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০১৪ সালে কেনার সময়ের তুলনায় বাড়িটির মূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

এরপর ৯ জুলাই ব্রিয়ানা অর্থ পরিশোধ বন্ধ করেন। একই মাসে তিনি বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং বাড়ি বিক্রি ঠেকাতে সম্পত্তির ওপর বিশেষ আইনি নিষেধাজ্ঞা আরোপের আবেদন জানান।

 

বিচারপতি স্ট্রক বলেন, ব্রিয়ানার দাবি এমন একটি গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে, যা বিচার করার মতো। তবে এই পর্যায়ে তার দাবিকে খুব শক্তিশালী বলা যাচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে বাড়িটির মালিকানা নিয়ে কে সঠিক, তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণের জন্য আলাদা আইনি কার্যক্রম প্রয়োজন হবে।

আদালত শেষ পর্যন্ত বাড়ি বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন। বিচারপতির মতে, বাড়িটি বিক্রি করা এবং বিক্রির অর্থের মধ্যে যেকোনো বিতর্কিত অধিকার সংরক্ষণ করাই দুই পক্ষের স্বার্থের জন্য বেশি উপযোগী।

 

এর একটি বড় কারণ ছিল বাবা-মায়ের বাড়ির ঋণের চাপ। আদালতকে জানানো হয়, বাড়িটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিক্রি না হলে ঋণের মাসিক পরিশোধের পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তাদের মাসিক পরিশোধের চাপ ১৩ হাজার ৫১৩ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আদালতে তুলে ধরা হয়।

ব্রিগস দম্পতির বক্তব্য ছিল, তারা যদি বাড়িটি বিক্রি করতে না পারেন এবং ঋণের পুরো দায় বহন করতে হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারেন।

 

তবে আদালত ব্রিয়ানার দাবি পুরোপুরি বাতিল করেনি। বিচারপতি স্ট্রক বলেছেন, বাড়ি বিক্রির পর ঋণ, বিক্রয়সংক্রান্ত খরচ এবং মূলধন লাভ কর পরিশোধের পর আনুমানিক ৮ লাখ ডলার অবশিষ্ট থাকতে পারে। ওই অর্থের ওপর ব্রিয়ানার কোনো আইনগত দাবি আছে কি না, তা পরবর্তী মামলায় নির্ধারণ করা হবে।

এ জন্য ব্রিয়ানাকে ২১ দিনের মধ্যে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি বিক্রির পর অবশিষ্ট অর্থ আদালতের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে।

 

অর্থাৎ, আপাতত বাড়ি বিক্রির পথ খুলে গেলেও ১১ বছর ধরে দেওয়া ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি অর্থের পুরো বিষয়টি এখানেই শেষ হচ্ছে না। বাড়িটির মালিকানা নিয়ে বাবা-মেয়ের বিরোধ এবং ব্রিয়ানার অর্থ ফেরত বা বিক্রয়লব্ধ অর্থের অংশ পাওয়ার দাবি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

 

সূত্র: ডেইলি মেইল ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্টের রায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
এল সালভাদরে পুরোহিতের ছদ্মবেশে চলাফেরা করার অভিযোগ ওঠা ব্যক্তির শরীরে এমএস-১৩ সংশ্লিষ্ট ট্যাটু পাওয়া যায়। ছবি: সংগৃহীত
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে যাজক সাজলেন গ্যাং সদস্য, তবে শেষ রক্ষা হলো না ট্যাটুর কারণে

এল সালভাদরের সোন্সোনাতে ওস্তে এলাকায় এক অভিনব প্রতারণার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে কুখ্যাত অপরাধী চক্র এমএস থার্টিন এর এক সদস্য ক্যাথলিক যাজকের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন। তিনি নিয়মিত যাজকের পোশাক পরে গির্জার প্রার্থনায় অংশ নিতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার শরীরের ট্যাটুই তাকে ধরিয়ে দিয়েছে।   এল সালভাদরের কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাথলিক চার্চের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। যাজকের লম্বা আলখাল্লার নিচে তিনি তার আসল পরিচয় সযত্নে লুকিয়ে রেখেছিলেন। পুলিশের সন্দেহ এড়াতে এবং অপরাধী চক্রের সদস্য হিসেবে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে এটি ছিল তার জন্য এক নিখুঁত আবরণ। কেউ ঘুণাক্ষরেও সন্দেহ করেনি যে, ওই পবিত্র পোশাকের নিচে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর গ্যাং এমএস থার্টিনের ট্যাটু।   এই ঘটনার একটি কৌতূহলোদ্দীপক দিক হলো, এর আগে এল সালভাদরে ইভানজেলিকাল যাজকদের ধর্মীয় সমাবেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যেত। কিন্তু এই প্রথম ক্যাথলিক যাজক সেজে প্রতারণার কোনো ঘটনা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হলো।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যখন তাকে আটক করেন, তখন তার যাজকীয় পোশাকের ভেতরের আসল সত্য বেরিয়ে আসে। তার চামড়ায় আঁকা ট্যাটুই বলে দেয় গ্যাংয়ের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কথা। গ্যাং সদস্যরা সাধারণত নিজেদের শরীরে নির্দিষ্ট ট্যাটু ব্যবহার করে থাকে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের পরিচয়ের বড় প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।   বর্তমানে এই গ্যাং সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে, গির্জায় কাটানো তার প্রতিটি মুহূর্ত এবং কার্যক্রম গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, এল সালভাদরে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অভিযানের কারণে গ্যাং সদস্যরা এখন নিজেদের বাঁচাতে এ ধরনের অভিনব ও বেপরোয়া কৌশল বেছে নিচ্ছেন। তবে যাজক সেজে আত্মগোপনের এই কৌশল ব্যর্থ হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।   তথ্যসূত্র: রদ্রিগো মার্তিনেজ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২২:৪৮
নিজের বাড়ি ভেবে ১১ বছর ধরে বাবা-মাকে কিস্তির টাকা দিয়ে আসছিলেন মেয়ে ব্রায়ানা লেন। ছবি: সংগৃহীত

বাড়ির কিস্তি ভেবে বাবা-মাকে দিলেন ৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার, ১১ বছর পর জানলেন তিনি নাকি শুধু ভাড়াটিয়া

জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত সমাধানে ‘একমাত্র পথ’ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান: জর্ডান-চীন

ন্যাশনাল চিপ ফ্লাইট ডে

সস্তায় ফ্লাইট টিকিট কিনতে চান? কখন বুক করলে খরচ কম হতে পারে জেনে নিন

রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস
সন্তান থাকলে দম্পতিদের বিয়ে করা উচিত, বললেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার

যুক্তরাজ্যে সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতিদের সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস। নতুন আবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, সন্তানদের বিবাহিত বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা আদর্শ পরিস্থিতি এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা উচিত।    রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সী ব্রিটিশ নাগরিকদের সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতি, কর্মরত ব্যক্তি ও সাবেক সেনাসদস্যদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।    টাইসকে জিজ্ঞেস করা হলে, সন্তানসহ বিবাহিত ব্রিটিশ দম্পতি একক ব্রিটিশ নাগরিকের চেয়ে সামাজিক আবাসনে অগ্রাধিকার পাবেন কি না, তিনি বলেন, হ্যাঁ। তাঁর যুক্তি, পরিবার সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন।   একক অভিভাবকদের প্রসঙ্গে টাইস বলেন, বাস্তব জীবনে অনেক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে তাঁর মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে সন্তানদের বিবাহিত দম্পতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা বেশি কাম্য এবং এ বিষয়টি উৎসাহিত করা উচিত।    রিফর্ম ইউকের এই পরিকল্পনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের আবাসনের তালিকায় এগিয়ে রাখার পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগের একটি প্রস্তাবও রয়েছে। দলটির দাবি, বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার বাড়ি খালি হতে পারে।    তবে প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করেছে গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা শেল্টার। সংস্থাটির মতে, এমন নীতি বাস্তবায়ন হলে অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় অস্থায়ী আবাসনে আটকে থাকতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, সামাজিক আবাসনের সুযোগ নির্ধারণে আবাসনের প্রয়োজনের পরিবর্তে জাতীয়তা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিলে আরও বেশি পরিবার গৃহহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   এর আগে জুন মাসে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে সামাজিক আবাসনে থাকা বিদেশি নাগরিকদের বেসরকারি ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে। তা না হলে তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়ার কথা বলা হয়েছিল।

সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৮:৩০
মোজতবা হোসেইনি খামেনি ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা

ইরানে ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান, মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি

জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, চার শ্রেণির বিদেশিদের জন্য সহজ শর্তে সেটেলমেন্ট পারমিট

জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ, চার শ্রেণির বিদেশিদের জন্য সহজ শর্তে সেটেলমেন্ট পারমিট

কানাডার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধে বড় ইস্যু চীন

কানাডার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধে বড় ইস্যু চীন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী কানাডা

কানাডার ভিসা আবেদনে প্রতারণা বাড়ছে
কানাডার ভিসা আবেদনে প্রতারণা বাড়ছে, ভুয়া ওয়েবসাইট ও দালাল থেকে সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ

কানাডার ভিসা ও অভিবাসন আবেদনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ভুয়া ওয়েবসাইট, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং অনুমোদনহীন প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারকেরা অনেক সময় সরকারি ওয়েবসাইট বা কর্মকর্তার পরিচয় নকল করে আবেদনকারীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। দ্রুত ভিসা করিয়ে দেওয়া, নিশ্চিতভাবে কানাডায় প্রবেশের সুযোগ বা উচ্চ বেতনের চাকরির নিশ্চয়তার মতো প্রলোভনও প্রতারণার অন্যতম লক্ষণ।    বিশেষ করে কোনো ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম বা গাইড পেতে টাকা চাওয়া হলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম ও নির্দেশিকা তাদের সরকারি ওয়েবসাইটেই বিনামূল্যে পাওয়া যায়।    আবেদনকারীদের আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই করতে। সরকারি কানাডীয় ওয়েবসাইট সাধারণত canada.ca অথবা .gc.ca ডোমেইন ব্যবহার করে। তবে শুধু ওয়েবসাইটে তালা চিহ্ন বা নিরাপদ সংযোগ দেখেই সেটিকে বৈধ ধরে নেওয়া উচিত নয়।    কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের দায় আবেদনকারীরই। তাই অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া কাউকে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।    এ ছাড়া কেউ যদি ভিসা দ্রুত করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা, অস্বাভাবিক কম খরচে অভিবাসনের সুযোগ কিংবা আবেদন অনুমোদনের গ্যারান্টি দেয়, সেটিকে সম্ভাব্য প্রতারণার সংকেত হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কানাডার কর্তৃপক্ষ।    বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কানাডাগামী আবেদনকারীদের জন্য মূল বার্তা হলো—ভিসার নামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটকে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি সূত্রে তথ্য যাচাই করা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৪:২০
সাইকেলে চাপা দেওয়া প্রতিবেশীর মুরগির ছানাকে  বাঁচাতে নিজের সব টাকা নিয়ে  হাসপাতালে শিশু

সাইকেলে চাপা দেওয়া প্রতিবেশীর মুরগির ছানাকে বাঁচাতে নিজের সব টাকা নিয়ে হাসপাতালে শিশু

শিশুর ফোসকায় ওষুধ লাগানো নিয়ে ঝগড়া

শিশুর ফোসকায় ওষুধ লাগানো নিয়ে ঝগড়া, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হামলায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিহত

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন করল ওয়েলস

মিথ্যা বললে নেতাদের বরখাস্তের নিয়ম, বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আইন করল ওয়েলস

0 Comments