যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি, টার্গেটে ২ লাখ বিদেশি
যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাইছেন এমন বিদেশিদের সর্বোচ্চ ২ লাখ ব্যবসায়িক ও পর্যটন ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একসঙ্গে সবচেয়ে বড় পরিসরে ভিসা বাতিলের ঘটনা।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথি অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা B1 ও B2 ভিসাধারীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন অথবা বর্তমানে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে প্রক্রিয়ায় রয়েছেন, তাদের ভিসা পর্যালোচনা করে বাতিল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা DHS-এর সঙ্গে সমন্বয় করছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, যারা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা শনাক্ত ও বাতিলের বিষয়ে DHS-এর সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতটি ভিসা বাতিল হবে, সে সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত নয়। প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে চলবে এবং সংখ্যাটি পরিবর্তিত হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে এর আগে সিদ্ধান্তটি পরিবর্তন বা সংশোধন হতে পারে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ আদালতে চ্যালেঞ্জ হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
B1 ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফরের জন্য দেওয়া হয়। আর B2 ভিসা পর্যটন, পরিবারের সঙ্গে দেখা করা বা চিকিৎসার মতো স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রস্তাবিত পদক্ষেপের আওতায় কতজন B1 বা B2 ভিসাধারী পড়বেন, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিসা বাতিল হলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হবে, এমন নয়। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যাদের আশ্রয়ের মামলা বর্তমানে চলমান, তাদের ক্ষেত্রে ভিসার ধরন পরিবর্তিত হতে পারে এবং তারা ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে বৈধ ভিসাধারী হিসেবে তাদের আগের অবস্থান হারাতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও ইমিগ্রেশন নীতিতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া ইতিহাস যাচাই, নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ইস্যু সীমিত করা এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের মতো অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, কিছু বিদেশি পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছেন। ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছেন, আশ্রয়ব্যবস্থা ইমিগ্রেশন আইন এড়িয়ে যাওয়ার পথ হওয়া উচিত নয়।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ মাসে বিভিন্ন কারণে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত বা অপরাধের অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রকাশ্য সমালোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বা আশ্রয়প্রক্রিয়ায় থাকা B1 ও B2 ভিসাধারীদের ঘিরে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের নথি থেকে জানা যায়, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস থেকে আশ্রয় আবেদনের তথ্য পাওয়ার পর বর্তমান B1 ও B2 ভিসাধারীদের বিষয়ে যাচাই শুরু করা হয়।
তবে সর্বোচ্চ ২ লাখ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। সিদ্ধান্তটি ঘোষণা ও বাস্তবায়নের পর প্রকৃত সংখ্যা কত হবে এবং এর বিরুদ্ধে আদালতে কী ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জ আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়ায় থাকা দুটোই সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় নিজের একটি দোতলা বা ছিমছাম বাড়ি আমেরিকান স্বপ্নের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। কিন্তু এখন শুধু বাড়ি কেনাই নয়, পরিবারের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া পাওয়াও বেশ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রিয়েলটর ডটকম একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে একটি নতুন বা প্রাথমিক বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তবে যারা ভাড়ায় থাকতে চান, তাদের জন্যও একক পরিবারের বাড়ির বা সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। রিয়েলটর ডটকমের জুলাই ২০২৬ এর রেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের সম্পত্তির জন্য জাতীয় গড় ভাড়া ছিল ১,৬৯৫ ডলার। এটি এক বছর আগের তুলনায় ২৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কম। তবে একই এলাকায় এ ধরনের একটি প্রাথমিক বা স্টার্টার হোম কেনার মাসিক খরচ গত মাসে ছিল ২,৫৫৩ ডলার, যা ভাড়ার চেয়ে ৮৫৮ ডলার বেশি। এই মাসিক খরচের হিসাবটি করা হয়েছে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের বাড়ির তালিকাভুক্ত গড় দাম, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, ৩০ বছর মেয়াদি নির্ধারিত বন্ধকি বা মর্টগেজ রেট, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি, কর এবং মেট্রো স্তরের গড় হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ওপর ভিত্তি করে। স্টার্টার হোমের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত রেডফিনের একটি বিশ্লেষণে সেনসাস ডেটা বা আদমশুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ১৩.৭ শতাংশ বা ১ কোটি ১৩ লাখ সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছিলেন। এটি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড। এর বিপরীতে একই বছরে বড় বহুতল বা মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ভাড়ায় বসবাসকারী ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২১ লাখ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া ছোট মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ১ কোটি এবং টাউনহোমে ৩১ লাখ ভাড়াটিয়া ইউনিট ছিল। এটি এখন আমেরিকার জন্য এক নতুন বাস্তবতা। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০২১ সালেও দেশটির ভাড়ার বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম। অন্যদিকে ২০১৯ সালের আগে এবং মহামারির সময় যখন বাড়ি কেনার হিড়িক পড়েছিল, তখন বড় মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো ছিল পছন্দের তালিকার তৃতীয় স্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে বহুকাল ধরেই নিজের একটি সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করা আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, যারা এখনও নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হতে পারেননি, তাদের জন্য আমেরিকান স্বপ্নের সংজ্ঞা কতটা বদলে গেছে। এখন বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের স্বপ্নের সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করছেন না, বরং বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই তাদের থাকতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩.১ শতাংশ নাগরিকের প্রধান বাসস্থান হয়ে উঠেছে এসব বড় অ্যাপার্টমেন্ট। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে এবং বিশেষ করে মহামারির সময় সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের চেয়ে ২০ বা তার বেশি ইউনিটের মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো বেশি দ্রুত গতিতে নির্মিত হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো মহামারির সময় এসব ভবনের বেশিরভাগই ভাড়াটিয়াদের বদলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের গড় ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। চড়া সুদের হারের কারণে অনেক বাড়ির মালিক এখন তাদের বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এর ফলে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভাড়ার জন্য বহুতল ভবনগুলোই এখন মানুষের কাছে বেশি সাশ্রয়ী বিকল্প। অন্যদিকে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমগুলো কেবল মুষ্টিমেয় বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর জোনিং আইন, জমির ন্যূনতম আয়তন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আবাসন শিল্পের পরিবর্তনের কারণে সারা দেশেই এখন স্টার্টার হোম নির্মাণের হার কমে গেছে। হোমবায়িং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে নতুন নির্মাণের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল স্টার্টার হোম, কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৭ শতাংশে। ২০২৬ সালে এসে এগুলো পাওয়া আগের দশকগুলোর চেয়ে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সামর্থ্যের চাপের কারণে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম নির্মাণও সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় লাখো মানুষ এখন আবাসন বাজারের বাইরে ছিটকে পড়ছেন, যার গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমেরিকান সমাজে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্স এর মতে, ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২১ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবার ক্রেতারা। ঐতিহাসিকভাবে এই হার সাধারণত ৪০ শতাংশ থাকে। এছাড়া প্রথমবার বাড়ি কেনার গড় বয়সও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বছরে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। তবে যারা এখনও বাড়ির মালিক হননি তাদের জন্য কিছুটা আশার আলোও রয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, একটি স্টার্টার হোম ভাড়া নেওয়া এবং কেনার খরচের ব্যবধান কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে স্টার্টার হোমের মাসিক খরচ ২,৬৪২ ডলার থেকে কমে ২,৫৫৩ ডলারে নেমেছে। এর মধ্যে ৫৭ ডলার কমেছে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমার কারণে এবং ৩৩ ডলার কমেছে মর্টগেজ রেট কমার কারণে। গত এক বছরে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ রেট ৬.৭২ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাড়ায় থাকা এখনও সস্তা হলেও এমন অনেক বাজার তৈরি হচ্ছে যেখানে ভাড়ার চেয়ে স্টার্টার হোমের দাম দ্রুত কমছে এবং মানুষের সাপ্তাহিক গড় আয় জাতীয় হার ৩.৮ শতাংশের বেশি বা সমান গতিতে বাড়ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, সিয়াটল, মিয়ামি, ফ্লোরিডার টাম্পা, লাস ভেগাস এবং ন্যাশভিল। শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে জুলাই মাসে স্টার্টার হোমের তালিকাভুক্ত গড় দাম বার্ষিক ২.৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে ভাড়ার হার কমেছে ১.৪ শতাংশ।
পেনসিলভেনিয়ায় হামে ২ জনের মৃ ত্যু, ৩৫ বছর পর প্রথম প্রাণহানি; টিকাবিহীন ছিলেন উভয়েই
ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের
মিনিয়াপলিসে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চার্চে গোপন অভিযান, অভিযুক্ত মার্কিন প্রশাসন
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কর্মী মোহাম্মদ ইউসুফ, পরিচিতজনদের কাছে তিনি রাজু নামে পরিচিত, তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে স্ত্রী, মা ও দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে পরিবারটি। একই সঙ্গে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে দাফনের খরচ জোগাড় করাও পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৩ আগস্ট রাতে ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত অবস্থায় গুলিতে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী রাজু। ঘটনাটি ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তাই তার মৃত্যুর ঘটনার বিস্তারিতের চেয়ে এখন পরিবারের জরুরি প্রয়োজনই সামনে এসেছে। পরিবারের স্বজনরা জানিয়েছেন, রাজুই ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়ের ওপরই স্ত্রী, মা এবং ১২ ও ৩ বছর বয়সী দুই মেয়ে নির্ভরশীল ছিলেন। হঠাৎ করে তাকে হারানোর পর পরিবারের নিয়মিত খরচ চালানোর মতো কোনো আয় এখন নেই। এমন পরিস্থিতির জন্য পরিবারটি আগে থেকে প্রস্তুতও ছিল না। সবচেয়ে জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে রাজুর মরদেহ দেশে পাঠানো ও দাফনের ব্যবস্থা করা। এর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের আগামী কয়েক মাসের মৌলিক জীবনযাত্রার খরচ চালানোর জন্যও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে রাজুর পরিবারকে সহায়তা করতে গোফান্ডমি এর মাধ্যমে একটি তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে প্রথমে রাজুর মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো ও দাফন-সংক্রান্ত খরচ মেটানো হবে। এরপর তার স্ত্রী, মা ও দুই মেয়ের জরুরি জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অর্থ ব্যবহার করা হবে। স্বজনরা বলছেন, রাজুর মৃত্যুতে পরিবারটি শুধু একজন প্রিয় মানুষকেই হারায়নি, হারিয়েছে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসও। বিশেষ করে দুই ছোট মেয়েকে নিয়ে সামনে কীভাবে সংসার চলবে, সেটিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা। এই কঠিন সময়ে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে রাজুর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার পাশাপাশি যারা সরাসরি সহযোগিতা করতে পারবেন না, তারা তহবিল সংগ্রহের আবেদনটি অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। পরিবারের স্বজনদের মতে, এই অর্থ রাজুকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তবে তার মরদেহ শেষবারের মতো পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে এবং স্বামী, বাবা ও একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারানো পরিবারটিকে অন্তত সামনের কঠিন কয়েকটি মাস পার হতে সহায়তা করতে পারে। রাজুর পরিবারের জন্য শুরু করা গোফান্ডমি তহবিলে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। সহায়তার জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://gofund.me/e97a3bd4b
ফ্লোরিডায় নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার ১৬৩ নিখোঁজ শিশু, গ্রেপ্তার ৩ সন্দেহভাজন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের বেশি ফি বসানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
মিনেসোটায় অভিবাসীকে গুলি, আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলার প্রস্তুতি
যুক্তরাষ্ট্রের কান্ট্রি মিউজিক ইতিহাসের অন্যতম সফল ও যুগান্তকারী সংগীতশিল্পী ডলি পার্টন ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। মঙ্গলবার তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এই শোকাবহ সংবাদ নিশ্চিত করা হয়। ডলি পার্টনের ভাতিজা এবং তাঁর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ব্রায়ান সিভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা একটি পূর্বরেকর্ড করা ভিডিওতে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। আবেগঘন ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এই বিদায় চরম বিষাদ ও পরম গর্বের মিশ্রণ। ডলি সারা জীবন আলো ছড়িয়েছেন এবং এখন তিনি যিশুর আশ্রয়ে শান্তিতে আছেন। সিভারের ভিডিওতে পার্টনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে গত বছরের অক্টোবরে তাঁর বোন ফ্রেইডা পার্টন সামাজিক মাধ্যমে ডলির জন্য প্রার্থনা চাইলে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে গত মে মাসে ডলি নিজেই একটি ভিডিও বার্তায় জানিয়েছিলেন যে, গত কয়েক বছর ধরে তিনি কিডনিতে পাথর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পরিপাকতন্ত্রের নানা জটিলতায় ভুগছেন এবং চিকিৎসায় ভালো সাড়াও পাচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই সে সময় লাস ভেগাসের বেশ কয়েকটি নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিলেন এই প্রবীণ তারকা। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মৃত্যুকে ‘লাখো মানুষের জন্য এক সত্যিকারের ক্ষতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর প্রতি সম্মান জানিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সারা দেশে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বর্ষীয়ান গায়িকা লিন্ডা রনস্ট্যাড এবং হলিউড অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টসসহ অসংখ্য তারকা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। হলিউড চেম্বার অব কমার্স তাকে ‘যুগে একবার জন্ম নেওয়া প্রতিভা’ হিসেবে স্মরণ করে হলিউড ওয়াক অব ফেমে তাঁর তারকায় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণা দিয়েছে। ১৯৬৭ সালে ‘হ্যালো, আই অ্যাম ডলি’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে পা রাখার পর থেকে তাকে আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছয় দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় ৫০টি স্টুডিও অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন এবং বিশ্বজুড়ে তাঁর ১০ কোটির বেশি রেকর্ড বিক্রি হয়েছে। অসাধারণ প্রতিভাধর এই গীতিকার তাঁর ক্যারিয়ারে ১০টি গ্র্যামি পুরস্কার জেতার পাশাপাশি ৫৫ বার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে ‘জোলিন’ এবং ১৯৭৪ সালে ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’-এর মতো কালজয়ী গানগুলো তাকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দেয়, যা পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠেও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সংগীতাঙ্গনের গণ্ডি পেরিয়ে হলিউডে ‘নাইন টু ফাইভ’ এবং ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও তিনি অসামান্য সাফল্য ও অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির এক দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করা ডলি পার্টন তাঁর পরোপকারী সত্তার জন্যও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ছিলেন। ১৯৮৮ সালে ডলিউড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি নিজ এলাকার শিক্ষায় ব্যাপক অবদান রাখেন। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে মডার্নার টিকা গবেষণায় তিনি ১ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন, যা লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছিল। ২০২২ সালে তাঁর এই দাতব্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস তাকে ১০০ মিলিয়ন ডলারের ‘কারেজ অ্যান্ড সিভিলিটি’ পুরস্কার প্রদান করেন। উল্লেখ্য, প্রায় ৬০ বছরের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের পর ২০২৫ সালের মার্চে ডলি পার্টনের স্বামী কার্ল ডিন ৮২ বছর বয়সে মারা যান। নিজেদের পছন্দে নিঃসন্তান থাকা এই দম্পতির ভালোবাসার গল্প ভক্তদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে শিশুসহ নি হত ৮, বাড়িতে আ গুন
ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ি কেনার সেরা ঠিকানা ইরভাইন, পিছিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস-সান ফ্রান্সিসকো