সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

Today latest news

20 News
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী
ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আগুন, দগ্ধ ৪ যাত্রী

আটলান্টা থেকে ডালাসগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময় যাত্রীর ল্যাপটপে আগুন ধরে কেবিন ধোঁয়ায় ভরে যায়। শুক্রবারের এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী পুড়ে যেতে পারেন বলে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান। পরে বিমানটি নিরাপদে ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করে।    ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ২৩৯৮-এ। বিমানটিতে ১৩৩ জন যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। অবতরণের সময় পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে বিমানের পেছনের দিকে কেবিন ফায়ারের কথা জানান এবং যাত্রীদের মধ্যে চার থেকে পাঁচজন পুড়ে থাকতে পারেন বলে উল্লেখ করেন।    ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জ্বলন্ত ডিভাইসটি একটি থার্মাল কনটেইনমেন্ট ব্যাগে নিরাপদে রাখেন। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, আগুনটি ল্যাপটপের ব্যাটারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল।    ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবতরণের পর একজন যাত্রীকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইন্সও জানিয়েছে, ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে এবং জরুরি কর্মীরা বিমানটিকে গেটে পৌঁছানোর পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।    বিমানটি শুক্রবার সন্ধ্যায় আটলান্টার হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে ডালাসের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অবতরণের সময় কেবিনে ধোঁয়া দেখা দেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা নেন ফ্লাইট ক্রুরা।    লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন বা ধোঁয়া তৈরি করতে পারে। ব্যাটারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, অতিরিক্ত গরম, পানির সংস্পর্শ, অতিরিক্ত চার্জ বা উৎপাদনগত ত্রুটির মতো বিভিন্ন কারণে এ ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে FAA সতর্ক করেছে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১:১২
সত্যি প্রমাণ করতে পরদিন স্কুলে হাজির হেনরি ক্যাভিল!
সুপারম্যান চাচা বলায় শাস্তি, সত্যি প্রমাণ করতে পরদিন স্কুলে হাজির হেনরি ক্যাভিল!

হলিউড তারকা হেনরি ক্যাভিলের ভাতিজা থমাস ছোটবেলায় স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের বলেছিল, তার চাচাই সুপারম্যান। কিন্তু বিষয়টি বিশ্বাস করেনি শিক্ষক ও সহপাঠীরা। বরং শিক্ষক তাকে মিথ্যা বলার জন্য বকাঝকা করেন। পরে থমাসের মা বিষয়টি নিশ্চিত করলে পুরো ঘটনা অন্য রূপ নেয়। ক্যাভিল নিজেই বিভিন্ন টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ঘটনাটি জানিয়েছেন।    ঘটনাটি ঘটে ক্যাভিল সুপারম্যান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর। পরিবার নিয়ে স্কুলের একটি আলোচনায় থমাস গর্ব করে জানায়, তার চাচা সুপারম্যান। তবে স্কুলে গল্প বানিয়ে বলার জন্য থমাসের সুনাম থাকায় শিক্ষক তার কথা বিশ্বাস করেননি। তাকে মিথ্যা না বলার জন্য সতর্ক করা হয় এবং বিষয়টি তার মাকে জানানো হয়।    স্কুল থেকে ছেলেকে নিতে গিয়ে থমাসের মা শিক্ষককে জানান, সে আসলে মিথ্যা বলছে না। তার চাচা সত্যিই হেনরি ক্যাভিল, যিনি পর্দায় সুপারম্যান চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ক্যাভিলের বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর থমাস আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বুঝিয়ে দেয় যে সে শুরু থেকেই সত্য কথাই বলছিল।    ঘটনাটি পরে বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে ঘিরে বিভ্রান্তিও রয়েছে। ছবিটি ক্যাভিলের ভাতিজাকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হলেও, ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিটি ২০১৩ সালের পারিবারিক একটি ছবি এবং সেটিকে পরে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ছড়ানো হয়েছে।    হেনরি ক্যাভিল ২০১৩ সালে জে লেনোর অনুষ্ঠানেও ঘটনাটি বলেছিলেন এবং ২০১৮ সালে ‘লাইভ উইথ কেলি অ্যান্ড রায়ান’ অনুষ্ঠানে আবারও বিষয়টি তুলে ধরেন। ফলে গল্পটি নতুন কোনো ঘটনা নয়, বরং ক্যাভিলের নিজের বলা একটি পুরোনো পারিবারিক ঘটনা, যা সময়ের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার ভাইরাল হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১:৫
১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি
১৮ মাসে পড়তে শেখা, ১১ বছরেই কলেজ গ্র্যাজুয়েট আর ১৩ বছরেই পদার্থবিজ্ঞানে ডিগ্রি

মাত্র ১১ বছর বয়সে কলেজের ডিগ্রি অর্জন করে চমক সৃষ্টি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এলিয়ট ট্যানার। ১৩ বছর বয়সেই তিনি পদার্থবিজ্ঞানে চার বছরের স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে ১৮ বছর বয়সে তিনি ডার্ক ম্যাটার নিয়ে পিএইচডি গবেষণার শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।   এলিয়ট মাত্র ৯ বছর বয়সে কলেজে ভর্তি হন। এর দুই বছর পর, ১১ বছর বয়সে নরম্যান্ডেল কমিউনিটি কলেজ থেকে গণিতে অ্যাসোসিয়েট অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটায় ভর্তি হয়ে ১৩ বছর বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন, সঙ্গে গণিতে মাইনর করেন।   এরপর একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হন এলিয়ট। মাত্র ১৫ বছর বয়সে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি পিএইচডি ক্যান্ডিডেট হিসেবে উন্নীত হন। বর্তমানে পরীক্ষামূলক কণাপদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। তার গবেষণার অন্যতম বিষয় ডার্ক ম্যাটার।   এলিয়টের অসাধারণ মেধার পরিচয় অবশ্য আরও ছোট বয়সেই পাওয়া যায়। মাত্র ১৮ মাস বয়সে নিজে নিজে পড়তে শেখেন তিনি। তিন বছর বয়সে যোগ-বিয়োগ করতে পারতেন এবং পাঁচ বছর বয়সেই ‘হ্যারি পটার’ সিরিজ পড়তেন। তিন বছর বয়সে চতুর্থ শ্রেণির পর্যায়ের পড়াশোনাও করছিলেন।   প্রথমদিকে তাকে সাধারণ স্কুলে ভর্তি করা হলেও দ্রুতই সেই শিক্ষাব্যবস্থা তার জন্য যথেষ্ট না হওয়ায় বাবা-মা তাকে হোমস্কুলিং করান। সেখানে তার শেখার গতি অনুযায়ী পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করা হয়।   শুধু বইয়ের পড়াশোনার মধ্যেই তাকে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। মহাকাশের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে তাকে কেনেডি স্পেস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। গণিত, বিজ্ঞান ও কোডিং শেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।   এলিয়টের বাবা-মা জানিয়েছেন, এত দ্রুত পড়াশোনা করলেও তার শৈশব যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকেও তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা ও বয়সসুলভ কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজের আগ্রহ অনুযায়ী পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।   বর্তমানে পিএইচডির পাশাপাশি এলিয়ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং শিক্ষক সহকারী হিসেবেও কাজ করছেন। ভবিষ্যতে পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার।   তার মা বলেন, এলিয়টকে তারা কখনো জোর করে দ্রুত পড়াশোনা করাননি; বরং তার শেখার আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করেছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ০:৫৯
শিক্ষক পড়েছিলেন ছাদে, স্ত্রী-মেয়ে সিঁড়িতে আর ছেলে খাটের নিচে
শিক্ষক পড়েছিলেন ছাদে, স্ত্রী-মেয়ে সিঁড়িতে আর ছেলে খাটের নিচে

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে বাড়িটির তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।    নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটি বেশ কিছুদিন ধরে তালাবদ্ধ ছিল। পরিবারের কাউকে বাইরে বের হতে না দেখে এবং বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।   রংপুর মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার করা হয়। তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ পাওয়া যায় ছাদে ওঠার সিঁড়িতে। আর ছেলে প্রীয়মের মরদেহ একটি কক্ষের খাটের নিচে পাওয়া যায়।    মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার কারণ নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলো ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।    ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শেষ না করা পর্যন্ত মৃত্যুগুলোকে হত্যা বা অন্য কোনো কারণ হিসেবে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ০:৫১
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা
বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপ করছে কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শনিবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব কানাডার জন্য অর্থনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হওয়ায় আলোচনা থেকে সরে এসেছে তার সরকার।   এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর কার্যকর হয়েছে। এই পণ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এর মধ্যে হকি স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্টসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।   কানাডাও এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করবে। বিশেষ করে মার্কিন ইস্পাত ও দুগ্ধ শিল্পের পণ্য এই পাল্টা শুল্কের আওতায় আসবে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এসব শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বিস্তারিত তালিকা আগামী সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে।   প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে দুই দেশ একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক চুক্তির দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্ত দেয়, যা কানাডার জন্য অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক ও অন্যায্য।   কার্নির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বেশি দাবি করেছে, কিন্তু বিনিময়ে কম প্রস্তাব দিয়েছে। তাই ওয়াশিংটনের প্রস্তাব গ্রহণ করবে না কানাডা।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর উল্লেখযোগ্য শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। এর বিনিময়ে কানাডার কাছ থেকে কিছু ছাড় চাওয়া হয়েছিল।   তবে আলোচনার পর দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। গ্রিয়ার আরও জানিয়েছেন, কানাডার পাল্টা শুল্কের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে।   কানাডা দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের শুল্ক থেকে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা করছে। এসব শুল্ক দেশটির অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করেছে, কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দুই দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়িয়েছে।   এদিকে দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের পাশাপাশি ইউএসএমসিএ—ইউনাইটেড স্টেটস-মেক্সিকো-কানাডা অ্যাগ্রিমেন্ট নিয়েও নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন। উত্তর আমেরিকার এই বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।   কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আগের মতো নেই এবং তার দেশকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।   কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। ফলে নতুন করে শুরু হওয়া এই বাণিজ্য সংঘাত দুই দেশের পাশাপাশি কানাডার ব্যবসা, কৃষক ও ভোক্তাদের ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২৩, ২০২৬ ০:২৮
নিজের ছেলের জন্য কৃত্রিম হাত বানানোর পর কিয়েরার জন্যও ৩ডি প্রিন্টারে হাত তৈরি করেন ক্যালাম মিলার। ছবি: সংগৃহীত
ছেলের হাত বানানোর পর এবার অন্য শিশুর পাশে বাবা, ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি করলেন কৃত্রিম হাত

নিজের ছেলের জন্য ৩ডি প্রিন্টারে কৃত্রিম হাত বানিয়ে আলোচনায় আসা এক বাবা এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা আরেক শিশুর গল্পে সাড়া দিয়ে তার জন্যও একই ধরনের হাত তৈরি করেছেন। ছয় বছর বয়সী কিয়েরা ক্যাম্পবেল জন্ম থেকেই বাঁ হাতের নিচের অংশ ছাড়া জন্মেছিল। চিকিৎসকেরা তখন জানিয়েছিলেন, বয়স কম হওয়ায় এখনই তার জন্য কৃত্রিম অঙ্গ দেওয়ার উপযুক্ত সময় হয়নি।   কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প জানার পর সাহায্যের সিদ্ধান্ত নেন ক্যালাম মিলার। কারণ তার নিজের ছেলে জেমিও জন্ম থেকেই একটি হাত ছাড়াই বেড়ে উঠছিল। ছেলের জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শের বাইরে গিয়ে ৩ডি প্রিন্টার কিনে নিজেই একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনে গেজেট লাইভ জানিয়েছিল, মিলার এবার কিয়েরার জন্যও একই ধরনের কৃত্রিম হাত তৈরি করেছেন। কিয়েরার মা নিকি জানান, নতুন হাতটি পাওয়ার পর মেয়ের দৈনন্দিন জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যে জিনিসগুলো ঠিকভাবে ধরতে পারত না, এখন সেগুলো ধরতে পারছে। এতে তার আত্মনির্ভরশীলতাও বাড়ছে।   নিকির ভাষ্য অনুযায়ী, কিয়েরা প্রতিদিন একটু একটু করে কৃত্রিম হাতটি ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। এমনকি এখন সে নিজেই সেটি পরতে পারে। একবার মিল্কশেক পান করার সময়ও সে নতুন হাতটি ব্যবহার করেছে। মেয়ের এই পরিবর্তনে উচ্ছ্বসিত নিকি বলেন, কিয়েরাকে এতটা আনন্দিত আগে খুব কমই দেখেছেন। নতুন হাত পাওয়ার পর স্কুলে ফিরে যাওয়ার জন্যও সে আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।   শুধু দৈনন্দিন কাজ নয়, কিয়েরা এখন নিজের খেলনা ও পুতুল নিয়েও আগের চেয়ে সহজে খেলতে পারছে। একটি শিশুর জন্য হাতের স্বাভাবিক ব্যবহার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, নিজের মতো করে বিভিন্ন কাজ করতে পারার সুযোগও তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে কিয়েরার পরিবারের অভিজ্ঞতায় সেটিই ফুটে উঠেছে। মিলারের নিজের ছেলে জেমির ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রয়োজন থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। চিকিৎসকেরা অপেক্ষা করার পরামর্শ দিলেও তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজেই সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেন। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে কম খরচে কৃত্রিম হাত তৈরি করার উদ্যোগ নেন তিনি।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিয়েরার গল্প দেখে নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তার জন্যও একটি কৃত্রিম হাত তৈরি করেন মিলার। এর ফলে একই ধরনের শারীরিক পার্থক্য নিয়ে বেড়ে ওঠা দুই শিশুর জীবনে প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যায়। ৩ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির অন্যতম সুবিধা হলো প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলকভাবে কম খরচে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম অঙ্গের নকশা তৈরি ও পরিবর্তন করা যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শরীরের আকার ও প্রয়োজন বদলে যায়। প্রচলিত কৃত্রিম অঙ্গের তুলনায় সহজে পরিবর্তনযোগ্য নকশা অনেক পরিবারের জন্য বিকল্প তৈরি করতে পারে।   তবে ৩ডি প্রিন্টারে তৈরি এ ধরনের কৃত্রিম হাত সবসময় চিকিৎসাগতভাবে তৈরি বায়োনিক অঙ্গের সমতুল্য নয়। এগুলোর কার্যকারিতা নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে। তারপরও দৈনন্দিন জীবনের কিছু সাধারণ কাজ করতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে এগুলো শিশুদের জন্য কার্যকর হতে পারে। কিয়েরার ক্ষেত্রে এর প্রভাব শুধু কোনো জিনিস ধরতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। নিজের হাতে পুতুল নিয়ে খেলা, পানীয় ধরা কিংবা নিজে কৃত্রিম হাতটি পরতে পারার মতো ছোট ছোট কাজও তার আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন তার মা।   একই সঙ্গে ঘটনাটি দেখিয়েছে, প্রযুক্তি কীভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারও জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। নিজের সন্তানের জন্য তৈরি করা একটি সমাধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্য একটি পরিবারের কাছে পৌঁছে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আরেক শিশুর জন্যও সহায়ক হয়ে উঠেছে।   কিয়েরা ও জেমির অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি ভিডিওতেও তাদের নতুন কৃত্রিম হাতের ব্যবহার এবং এর প্রভাব তুলে ধরা হয়েছিল। দুই শিশুর জন্যই এটি শুধু একটি যন্ত্র নয়; বরং নিজেদের দৈনন্দিন কাজ আরও স্বাধীনভাবে করার একটি নতুন সুযোগ হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২৩:৫৪
চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই বিপুল আয়ের প্রয়োজন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে কত আয় প্রয়োজন? কোন অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে কম

ক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়তে থাকায় শুধু ছয় অঙ্কের বেতন পেলেই যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করা যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাড়িভাড়া, খাবার, পরিবহন, জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে থাকতে প্রয়োজনীয় আয়ের পরিমাণও বেড়েছে।   আর্থিক তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্মার্টঅ্যাসেটের নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানহীন একক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অঙ্গরাজ্যেই প্রয়োজনীয় আয় ১ লাখ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তান ৪০টি অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে অন্তত ২ লাখ ডলার আয় প্রয়োজন।   গবেষণায় ‘স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন’ হিসাব করতে ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে আয়ের ৫০ শতাংশ মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে, ৩০ শতাংশ ইচ্ছাধীন খরচে এবং বাকি ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধে রাখার হিসাব করা হয়। মৌলিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের তথ্য নেওয়া হয়েছে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) ‘লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর’ থেকে।   গবেষণার হিসাবে, একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সবচেয়ে বেশি আয় প্রয়োজন হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে। সেখানে স্বচ্ছন্দে থাকতে বছরে প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার আয় প্রয়োজন। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস, যেখানে প্রয়োজন ১ লাখ ২৭ হাজার ২১৩ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়ায় এই পরিমাণ ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৭ ডলার, আর নিউইয়র্কে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের হিসাব অবশ্য আরও বেশি। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটস। সেখানে দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য বছরে প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার আয় প্রয়োজন। হাওয়াইয়ে একই পরিবারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার ১৬৫ ডলার।   এই তালিকায় ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কও ওপরের দিকে রয়েছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের বড় ও ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়ি, খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ সামলানোর পাশাপাশি সঞ্চয় এবং ইচ্ছাধীন খরচের জন্য অর্থ রাখতে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি আয় প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম আয়েও স্বচ্ছন্দে থাকা সম্ভব এমন অঙ্গরাজ্যের তালিকায় রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও মিসিসিপি। একক প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় প্রয়োজনীয় আয় সবচেয়ে কম বছরে ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম আয় প্রয়োজন মিসিসিপিতে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার।   ২০২৫ সালের তুলনায়ও অনেক অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় বেড়েছে। একক প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি দেখা গেছে মন্টানায়। সেখানে প্রয়োজনীয় আয় ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৭৯৭ ডলারে পৌঁছেছে। এরপর নিউইয়র্কে বেড়েছে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং মেইনে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। ক্যালিফোর্নিয়ায় বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ।   তবে সব অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি একই নয়। ২০২৫ সালের তুলনায় ছয়টি অঙ্গরাজ্যে একক প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় সামান্য কমেছে। এগুলো হলো টেনেসি, মেরিল্যান্ড, লুইজিয়ানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিসিসিপি ও টেক্সাস। এর মধ্যে টেনেসিতে সবচেয়ে বেশি কমেছে, প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখানে প্রয়োজনীয় আয় নেমে হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৯৮ ডলার।   স্মার্টঅ্যাসেটের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যেই একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য স্বচ্ছন্দ জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় আয় ৮০ হাজার ডলারের নিচে নেই। এমনকি তুলনামূলক কম ব্যয়ের অঙ্গরাজ্যগুলোতেও বাড়তি সঞ্চয়, ঋণ পরিশোধ এবং ইচ্ছাধীন খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে প্রয়োজনীয় আয় যথেষ্ট বেশি। গবেষণাটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলো আবাসন, মুদি পণ্য, পরিবহন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয়ের চাপ সামলাচ্ছে। স্মার্টঅ্যাসেটের বিশ্লেষণে তাই শুধু ‘কত টাকা আয় করলে বেঁচে থাকা সম্ভব’ তা নয়, বরং প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পাশাপাশি কিছু অর্থ সঞ্চয় এবং জীবনযাত্রার অন্যান্য ব্যয় চালানোর সক্ষমতাকেও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে।   তবে গবেষণাটি ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থার চূড়ান্ত হিসাব নয়। একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যেও শহর, উপশহর ও গ্রামীণ এলাকার জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটা ভিন্ন হতে পারে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, বাসস্থানের ধরন, পরিবহনব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত খরচের অভ্যাসের ওপরও প্রকৃত প্রয়োজনীয় আয় নির্ভর করে। স্মার্টঅ্যাসেটের এই গবেষণায় এমআইটির ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে বছরওয়ারি পরিবর্তন হিসাব করতে।   সব মিলিয়ে গবেষণার চিত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘স্বচ্ছন্দ জীবন’ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আয়ের সীমা অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যাপকভাবে বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্যগুলোতে বাড়তি আয় ছাড়া সঞ্চয়, ঋণ পরিশোধ ও ব্যক্তিগত খরচের মধ্যে ভারসাম্য রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২৩:৩৫
ক্যালিফোর্নিয়ার জাকুম্বা পর্বতমালার দুর্গম এলাকায় দুই দিন পর ২৫ বছরের এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে পথ হারিয়ে ২ দিন নিখোঁজ, উদ্ধার যুবক

মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার দুর্গম মরুভূমি এলাকায় হারিয়ে যাওয়া ২৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে দুই দিন পর উদ্ধার করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোলের এল সেন্ট্রো সেক্টর জানিয়েছে, দুর্গম পাথুরে এলাকায় আটকে পড়ার পর ওই ব্যক্তি বিপদসংকেত পাঠালে তাকে উদ্ধারে জরুরি অভিযান শুরু করা হয়।   বর্ডার প্যাট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সান দিয়েগো কাউন্টির কাছাকাছি জাকুম্বা পর্বতমালার পাথুরে এলাকায়। মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ওই ব্যক্তি মরুভূমির দুর্গম অংশে পথ হারিয়ে ফেলেন। এরপর প্রায় দুই দিন সেখানে আটকে ছিলেন। উদ্ধারের ছবি প্রকাশ করেছে বর্ডার প্যাট্রোল। ছবিতে দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বড় একটি পাথরের আংশিক ছায়ায় বসে বা শুয়ে ছিলেন ওই ব্যক্তি। উদ্ধারকারীরা তার কাছে পৌঁছানোর পর শরীর ঠান্ডা রাখতে বরফ ব্যবহার করেন।   বর্ডার প্যাট্রোল জানায়, বিপদসংকেত পাওয়ার পর কর্মকর্তারা দ্রুত তার অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। জিপিএস প্রযুক্তির সাহায্যে তার অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর একাধিক সরকারি সংস্থার সহযোগিতায় আকাশপথে তল্লাশি চালানো হয়। তবে জাকুম্বা পর্বতমালার দুর্গম ও পাথুরে ভূখণ্ডের কারণে আকাশপথে সরাসরি সেখানে পৌঁছানোও সহজ ছিল না। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, কঠিন ভূপ্রকৃতি উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা তৈরি করলেও তাকে খুঁজে বের করতে সব ধরনের উপলব্ধ সম্পদ কাজে লাগানো হয়।   অবশেষে কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির সন্ধান পান। ঘটনাস্থলেই চিকিৎসাকর্মীরা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে কি না, তা দেখেন। প্রচণ্ড গরম ও দীর্ঘ সময় মরুভূমিতে অবস্থানের কারণে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। বর্ডার প্যাট্রোল এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের প্রতিটি উদ্ধার অভিযানে দ্রুত সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় এবং নিরলস প্রচেষ্টা প্রয়োজন হয়। এই ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তাকে উদ্ধারের পর কোথায় নেওয়া হয়েছে বা তার বিরুদ্ধে পরবর্তী কী ধরনের অভিবাসন-সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। জাকুম্বা এলাকার সীমান্ত অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম ও পাথুরে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছাকাছি এই অঞ্চলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ঘটনাও আগে দেখা গেছে। ২০২৪ সালে জাকুম্বা হট স্প্রিংসের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় মেক্সিকো, চীনসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সীমান্ত পেরিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছে আশ্রয় চাওয়ার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল।   তবে সীমান্ত পেরিয়ে দুর্গম মরুভূমিতে প্রবেশ করলে পথ হারানো, অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পাথুরে পাহাড়ি এলাকায় যানবাহন বা উদ্ধারকারী দলের সরাসরি পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় সামান্য বিপদও দ্রুত গুরুতর পরিস্থিতিতে পরিণত হতে পারে। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্ধার কার্যক্রমের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২২:৪৬
১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ার দিকে যাত্রা করেছিলেন স্যান্ডি আরভাইন। ছবি: সংগৃহীত
১০০ বছর পর এভারেস্টে মিলল নিখোঁজ পর্বতারোহীর দেহাবশেষ, বদলে যেতে পারে প্রথম এভারেস্ট জয়ীর ইতিহাস

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম বড় পর্বতারোহণ রহস্য হয়ে থাকা স্যান্ডি আরভাইনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন সূত্র মিলেছে। ১৯২৪ সালে জর্জ ম্যালরির সঙ্গে এভারেস্টের চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ব্রিটিশ পর্বতারোহী অ্যান্ড্রু কমিন ‘স্যান্ডি’ আরভাইনের বলে ধারণা করা হচ্ছে এমন একটি জুতা ও পায়ের অংশ ২০২৪ সালে এভারেস্টে পাওয়া যায়। জুতার ভেতরের মোজায় লাল অক্ষরে ‘A.C. IRVINE’ লেখা নামের ফিতা ছিল।   ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে লেখক জুলি সামার্স ও পর্বতারোহণ ইতিহাসবিদ ইয়োখেন হেমলেবের নতুন বই ‘দ্য এভারেস্ট মিস্ট্রি: স্যান্ডি আরভাইন, জর্জ ম্যালরি অ্যান্ড দ্য ট্রুথ স্টিল বারিড অন এভারেস্ট’ প্রকাশের আগে। বইটিতে আরভাইনের জীবন, ১৯২৪ সালের সেই অভিযানের শেষ মুহূর্ত এবং ম্যালরি-আরভাইন আদৌ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন কি না এসব প্রশ্ন নতুন করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বইটি ২৫ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশের কথা রয়েছে।   স্যান্ডি আরভাইন ছিলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। অভিজ্ঞ পর্বতারোহী হিসেবে ম্যালরির তুলনায় তিনি অনেকটাই নবীন ছিলেন। কিন্তু শারীরিক সক্ষমতা ও যন্ত্রপাতি নিয়ে দক্ষতার কারণে ম্যালরি তাকে শেষ অভিযানের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেন বলে গবেষকেরা মনে করেন। আরভাইন অক্সফোর্ডের নৌকাবাইচ দলেরও দক্ষ খেলোয়াড় ছিলেন। একই সঙ্গে ১৯২৪ সালের অভিযানে ব্যবহৃত অক্সিজেন সরঞ্জামকে হালকা ও কার্যকর করার কাজেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।   ১৯২৪ সালের ৮ জুন ম্যালরি ও আরভাইন এভারেস্টের চূড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযানের আরেক সদস্য নোয়েল ওডেল দূর থেকে দুজনকে শেষবারের মতো দেখতে পান। কুয়াশা নেমে আসার আগে তারা পাহাড়ের ওপরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর তারা আর ফিরে আসেননি।   তখন থেকেই প্রশ্ন ছিল ঠিক কী ঘটেছিল তাদের সঙ্গে? ১৯৯৯ সালে ম্যালরির দেহ এভারেস্টের প্রায় ২৭ হাজার ফুট উচ্চতায় খুঁজে পাওয়া যায়। তার দেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং দড়ির দাগ ছিল। এসব আলামত থেকে গবেষকদের ধারণা, ম্যালরি ও আরভাইন সম্ভবত দড়ি দিয়ে পরস্পরের সঙ্গে বাঁধা ছিলেন এবং কোনো এক সময় দুর্ঘটনায় পড়ে যান। তবে আরভাইনের কোনো চিহ্ন তখনও পাওয়া যায়নি।   আরভাইনকে খুঁজে পাওয়ার গুরুত্ব শুধু তার নিখোঁজ হওয়ার রহস্য সমাধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার কাছে একটি ছোট কোডাক ভেস্ট পকেট ক্যামেরা থাকার কথা ছিল। যদি সেই ক্যামেরাটি উদ্ধার করা যায় এবং তাতে কোনো ছবি বা ফিল্ম পাওয়া যায়, তাহলে ১৯২৪ সালের ওই অভিযানের সবচেয়ে বড় প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ম্যালরি ও আরভাইন কি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছিলেন? কারণ ১৯৫৩ সালে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে প্রথমবারের মতো এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছানোর স্বীকৃতি পাওয়ার প্রায় তিন দশক আগে ম্যালরি ও আরভাইন সেখানে পৌঁছে থাকলে পর্বতারোহণের ইতিহাসই বদলে যাবে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি দল এভারেস্টের উত্তর দিকের সেন্ট্রাল রংবুক হিমবাহ এলাকায় অনুসন্ধান চালানোর সময় পুরোনো একটি জুতা দেখতে পায়। জুতাটি বরফ থেকে বেরিয়ে ছিল। পরে সেটির ভেতরে মানুষের পায়ের অংশ এবং নাম লেখা মোজা পাওয়া যায়। নামটি ছিল ‘A.C. IRVINE’।   দলটির নেতৃত্বে ছিলেন পর্বতারোহী, আলোকচিত্রী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জিমি চিন। পরে চীনের তিব্বত পর্বতারোহণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি জুতা ও পায়ের অংশটি এভারেস্ট থেকে সরিয়ে নেন। আরও শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয় এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সেটি নিয়ে কাজ করা হয়। আরভাইনের নাম লেখা মোজাটি আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্রগুলোর একটি। গবেষকদের মতে, এটি শত বছর পর তার দেহাবশেষ যে এখনো এভারেস্টে রয়েছে, সে বিষয়ে শক্ত প্রমাণ দেয়। তবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা শেষ মুহূর্তে তিনি ও ম্যালরি কোথায় ছিলেন—তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।   আরভাইনের পায়ের অংশ যেখানে পাওয়া গেছে, সেটি ম্যালরির দেহ পাওয়ার স্থান থেকে অনেক নিচে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে তার দেহাবশেষ এতটা নিচে চলে গেল। এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, দুর্ঘটনার সময় ম্যালরি ও আরভাইনকে যুক্ত করা দড়ি ছিঁড়ে গেলে আরভাইন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে গিয়ে হিমবাহে পৌঁছাতে পারেন। এরপর শত বছর ধরে বরফের ধীর গতির প্রবাহ তার দেহাবশেষ আরও নিচের দিকে সরিয়ে নিতে পারে।   তবে বিষয়টি নিয়ে আরও কিছু পুরোনো রহস্যও রয়েছে। ১৯৬০ ও ১৯৭৫ সালের চীনা এভারেস্ট অভিযানে পুরোনো পোশাক পরা একজন ইউরোপীয় ব্যক্তির দেহ দেখতে পাওয়ার দাবি উঠেছিল। এসব বিবরণ নিয়ে পরবর্তীতে নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে সেগুলোর কোনোটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ১৯৩৩ সালের একটি ব্রিটিশ অভিযানে আরভাইনের ব্যবহৃত বরফকুঠারও এভারেস্টের উত্তর-পূর্ব শৈলশিরায় পাওয়া গিয়েছিল। ফলে তার দেহ কোথায় থাকতে পারে, সে বিষয়ে পরবর্তী অনুসন্ধানকারীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।   নতুন আবিষ্কার সেই অনুসন্ধানের পরিধিও সংকুচিত করেছে। গবেষকদের ধারণা, আরভাইনের অন্যান্য সরঞ্জাম বিশেষ করে সেই হারিয়ে যাওয়া ক্যামেরা এখনো আশপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্যামেরাটি উদ্ধার হয়নি। ফলে ম্যালরি ও আরভাইন ১৯২৪ সালেই বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পৌঁছেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো অমীমাংসিত। এক শতাব্দী পর আরভাইনের জুতা ও পায়ের অংশের সন্ধান তাই শুধু একজন নিখোঁজ পর্বতারোহীর পরিচয় নিশ্চিত করার ঘটনা নয়; এটি এভারেস্টের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রহস্যের নতুন একটি অধ্যায় খুলে দিয়েছে।   তবে আরভাইনের নাতনি জুলি সামার্সের কাছে গল্পটির গুরুত্ব শুধু মৃত্যুর রহস্যে নয়। তার মতে, ১৯২৪ সালের প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ম্যালরি ও আরভাইন এভারেস্টে যে উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, সেটিই ছিল অসাধারণ অর্জন। এক শতাব্দী পরও তাদের সেই সাহসিকতা ও অভিযানের গল্পই মানুষের আগ্রহ ধরে রেখেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২২:৩২
মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে দূরে রেখে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করাচ্ছে চীনের বিশেষ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জীবনের মূল্য শেখাতে সন্তানদের ‘কঠোর জীবনযাপনের ক্যাম্পে’ পাঠাচ্ছেন চীনা বাবা-মা

শহুরে জীবনের আরাম-আয়েশ থেকে সন্তানদের দূরে রেখে জীবনের কঠিন বাস্তবতা শেখাতে চীনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যতিক্রমী ধরনের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। এসব ক্যাম্পে সন্তানদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে গ্রামের পরিবেশে কৃষিকাজ, কাঠ কাটা, পশুপাখির দেখাশোনা ও আলু খোঁড়ার মতো শারীরিক শ্রম করতে দেওয়া হচ্ছে।   চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান, গুইঝো ও ইউনান প্রদেশে এ ধরনের ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ছে। শহরের শিশুদের গ্রামীণ জীবন ও কৃষিকাজের সঙ্গে পরিচিত করানো এবং পরিবার যে আরাম-সুবিধা দিয়ে তাদের বড় করছে, তার মূল্য বোঝানোই এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে আয়োজকেরা দাবি করছেন।   সাধারণ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের তুলনায় এসব কর্মসূচির ধরন বেশ কঠোর। শিশুদের ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর কৃষকদের দৈনন্দিন কাজের আদলে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে জমি থেকে আলু তোলা, সেই আলু বিক্রি করা, গাছের ছাল ছাড়ানো, কাঠ কাটা এবং গবাদিপশুকে খাবার দেওয়া।   কিছু ক্যাম্পে শিশুদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও থাকে না। কাজের মাধ্যমে পয়েন্ট অর্জনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিছু কর্মসূচিতে। এসব পয়েন্ট দিয়ে প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন সামগ্রী সংগ্রহ করা যায়। তবে নির্ধারিত কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে শাস্তি হিসেবে শুধু সেদ্ধ আলু খেতে দেওয়া হয় এমন নিয়মের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   এই অভিজ্ঞতার জন্য বাবা-মাকেই উল্টো অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। কিছু ক্যাম্পে ১০ দিনের কর্মসূচির জন্য ৪ হাজার ইউয়ানের বেশি নেওয়া হয়। এক মাস পর্যন্ত চলা দীর্ঘ কর্মসূচির খরচ ১০ হাজার ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ সন্তানকে কৃষিকাজ ও কঠোর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা দিতে পরিবারগুলোকে কয়েক হাজার থেকে ১০ হাজারেরও বেশি ইউয়ান খরচ করতে হচ্ছে।   আয়োজকদের বক্তব্য, শহরের অনেক শিশু অর্থ উপার্জন কতটা কঠিন এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে কতটা শ্রম রয়েছে, তা বাস্তবে উপলব্ধি করতে পারে না। তাই তাদের সাময়িকভাবে এমন পরিবেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে খাবার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস পেতেও শ্রম দিতে হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে অবশ্য এসব ক্যাম্প নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কিছু ভিডিওতে শিশুদের কান্না করতে এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ কৃষিকাজের পরিবর্তে স্কুলের পড়াশোনায় ফিরে যেতে চাওয়ার কথাও বলেছে। কিছু কর্মসূচিতে সন্তানদের বাবা-মায়ের উদ্দেশে চিঠি লিখতেও বলা হয়। ক্যাম্প পরিচালনাকারীদের দাবি, এসব চিঠি ও ভিডিও দেখে অনেক বাবা-মা আবেগাপ্লুত হন এবং অন্যদেরও সন্তানদের এমন অভিজ্ঞতার জন্য পাঠাতে উৎসাহিত করেন।   তবে অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিভাবকদের মত এক নয়। সিচুয়ানের গাও পদবির এক বাবা তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া মেয়েকে এমন একটি ক্যাম্পে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জানান, মেয়ে কৃষিকাজ নিয়ে বারবার অভিযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত কাজটি উপভোগ করতে শুরু করে বলে তিনি অবাক হয়েছেন।   অন্যদিকে, সাংহাইয়ের এক মা তার সাত বছর বয়সী মেয়েকে ১০ দিনের কর্মসূচিতে পাঠিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ক্যাম্প শেষে মেয়ের অলসতা ও খাবার নিয়ে বাছবিচারের মতো পুরোনো অভ্যাস পুরোপুরি বদলায়নি। তবে মেয়েটি নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডির বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের জীবন দেখার সুযোগ পেয়েছে এ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন তিনি।   অন্য কিছু অভিভাবক দাবি করেছেন, আগে যারা সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকত, ক্যাম্প থেকে ফিরে তাদের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেছে। আবার কেউ বলেছেন, ঘুম ও খাবারের পুরোনো অনিয়ম খুব দ্রুতই ফিরে এসেছে। ফলে এসব কর্মসূচি শিশুদের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।   এ নিয়েই এখন চীনে শিক্ষা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, শিশুদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কঠোর শারীরিক শ্রম করানো আসলেই কি তাদের দায়িত্বশীল ও আত্মনির্ভর করে তুলতে পারে? শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অল্প সময়ের জন্য কঠোর পরিবেশে রেখে শিশুদের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। চাপের মধ্যে শিশুরা সাময়িকভাবে অনুগত বা অনুতপ্ত আচরণ করতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনকে স্থায়ী মানসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   বিশেষজ্ঞদের আরও আশঙ্কা, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে অতিরিক্ত শ্রমে যুক্ত করলে উল্টো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একটি শিশুকে জীবনের বাস্তবতা শেখানোর জন্য শ্রমের সঙ্গে পরিচয় করানো যেতে পারে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার মাত্রা, নিরাপত্তা এবং শিশুর সম্মতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   এই প্রবণতার পেছনে চীনের প্রজন্মগত পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। কয়েক দশক আগে চীনের অনেক পরিবার দারিদ্র্য ও কঠিন জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে। তাদের একটি অংশ মনে করে, সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই তাদের পরিশ্রমী ও দৃঢ় করে তুলেছিল। এখন তাদের সন্তানরা তুলনামূলক স্বচ্ছল পরিবেশে বড় হওয়ায় একই ধরনের দৃঢ়তা তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে না—এমন উদ্বেগ থেকেই অনেক বাবা-মা সন্তানদের ‘কষ্টের অভিজ্ঞতা’ দিতে চাইছেন। তবে সমালোচকেরা বলছেন, সন্তানকে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত করার দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে কোনো ক্যাম্পের হাতে তুলে দিলেই শেষ হয় না। পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, পরিশ্রমের মূল্য বোঝানো এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও শিশুর মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ফলে চীনের এই নতুন ধরনের ‘কষ্টের ক্যাম্প’ একদিকে যেমন সন্তানদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে পরিচিত করানোর একটি অভিনব উদ্যোগ হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, অন্যদিকে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত ও মানসিক প্রভাব নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে। আপাতত এ নিয়ে অভিভাবক, আয়োজক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২২:১৫
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে টাম্পার রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তিতে টাম্পায় ২৫০ টি গাছ লাগাল ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে আতশবাজি কিংবা শোভাযাত্রার বদলে পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে ফ্লোরিডার টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়। শহরের রওলেট পার্কে ২৫০টি গাছ লাগিয়ে ‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ প্রতিষ্ঠা করেছে তারা।   শনিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে টাম্পার মেয়র জেন ক্যাস্টরও অংশ নেন। প্রায় ৫০ জন কমিউনিটি সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন। টাম্পা শহরের তথ্য ও ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ নিউজ এ খবর জানিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে ৪ জুলাই বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আতশবাজি ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে টাম্পার ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায় সেই উদযাপনকে একটু ভিন্নভাবে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এমন একটি উদ্যোগ নেওয়া, যার সুফল শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যতের টাম্পাবাসীরাও ভোগ করতে পারবেন। রওলেট পার্কে নতুন করে লাগানো ২৫০টি গাছকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে এই স্মারক বৃক্ষবাগান। পার্কটি বুশ গার্ডেনসের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত।   ইসমাইলি কাউন্সিল ফর ফ্লোরিডার যোগাযোগ ও জনসম্পৃক্ততা বিভাগের প্রতিনিধি ফাহিম হেমানি বলেন, তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সেবা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। একই সঙ্গে পরিবেশের যত্ন নেওয়াকেও তারা গুরুত্ব দেন। তাদের বিশ্বাস, মানুষ যে পৃথিবী পেয়েছে, তার চেয়ে আরও ভালো অবস্থায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেটি রেখে যাওয়া উচিত।   তিনি বলেন, টাম্পায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি স্থানীয় সম্প্রদায়ের ভবিষ্যতের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের প্রতীক। অনুষ্ঠানে স্মারক ফলক উন্মোচন করা হয়। সেখানে উপস্থিত কমিউনিটির সদস্যরা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিই উদযাপন করেননি, বরং স্থানীয় পরিবেশ ও নগর জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজেদের অঙ্গীকার তুলে ধরেন। আয়োজকদের মতে, এখন গাছগুলোর অনেকগুলোই ছোট। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন চোখে পড়বে না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হলে পার্কের পরিবেশে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।   হেমানি বলেন, ভবিষ্যতে এসব গাছ স্থানীয় বাসিন্দাদের ছায়া দেবে, পরিবেশকে আরও পরিচ্ছন্ন রাখতে সহায়তা করবে এবং পানির মান উন্নত রাখতেও ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিশুদের জন্য খেলাধুলা ও সময় কাটানোর আরও সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। ইসমাইলি মুসলিম সম্প্রদায়ের এই উদ্যোগে জাতীয় দিবস উদযাপনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণ ও নাগরিক দায়িত্বের বিষয়টিও সামনে এসেছে। একটি জাতীয় মাইলফলককে কেন্দ্র করে এমন দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তারা টাম্পা শহরের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছে।   টাম্পা শহরে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। শহরটির সরকারি নথিতেও মুসলিম সম্প্রদায়ের অবদান ও বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২৫ সালে টাম্পা সিটি কাউন্সিল মুসলিম হেরিটেজ মাস পালনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল, যেখানে শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনে মুসলিম-আমেরিকানদের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।   ‘আমেরিকা ২৫০ স্মারক বৃক্ষবাগান’ সেই বৃহত্তর স্থানীয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আতশবাজি বা একদিনের আয়োজনের পরিবর্তে এমন একটি সম্পদ তৈরি করা হয়েছে, যা বছরের পর বছর ধরে টাম্পার বাসিন্দাদের কাজে আসবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২১:৫৭
চীনের তৈরি মানবাকৃতির রোবট ‘লাইটনিং’ ১০০ মিটার দৌড়েছে ৯.৩২ সেকেন্ডে। ছবি: সংগৃহীত
উসাইন বোল্টকে হারাল চীনের রোবট 'লাইটনিং', ১০০ মিটার দৌড়াল মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে

উসাইন বোল্টের ১০০ মিটার দৌড়ের বিশ্বরেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে চীনের তৈরি মানবাকৃতির রোবট ‘লাইটনিং’। প্রস্তুতিমূলক এক পরীক্ষায় রোবটটি মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।   চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অনারের তৈরি লাইটনিংয়ের এই সময় ২০০৯ সালে বার্লিনে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে উসাইন বোল্টের করা ৯.৫৮ সেকেন্ডের মানব বিশ্বরেকর্ডের চেয়ে ০.২৬ সেকেন্ড কম। ওই রেকর্ডই এখন পর্যন্ত মানুষের ১০০ মিটার দৌড়ের স্বীকৃত বিশ্বরেকর্ড।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, লাইটনিংয়ের ৯.৩২ সেকেন্ডের দৌড়টি ছিল একটি প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষায়। এটি মানব অ্যাথলেটিকসের কোনো স্বীকৃত বিশ্বরেকর্ড নয়। ফলে বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের রেকর্ড এখনো বিশ্ব অ্যাথলেটিকসের স্বীকৃত মানব বিশ্বরেকর্ড হিসেবেই বহাল রয়েছে।   বেইজিংয়ে শুরু হওয়া দ্বিতীয় বিশ্ব মানবাকৃতির রোবট গেমসকে সামনে রেখে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। দৌড়ের সময় লাইটনিংয়ের সর্বোচ্চ গতি উঠেছিল প্রতি সেকেন্ডে ১৪.৫ মিটার, অর্থাৎ ঘণ্টায় প্রায় ৫২.২ কিলোমিটার।   এটাই অবশ্য লাইটনিংয়ের প্রথম চমক নয়। চলতি বছরের এপ্রিলে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ২১ কিলোমিটারের মানবাকৃতির রোবট হাফ ম্যারাথনেও এটি প্রথম হয়েছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে দৌড়ানো লাইটনিং ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে, যা সে সময়ের মানব হাফ ম্যারাথন বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুত। তখন লাইটনিংয়ের উচ্চতা ছিল ১৬৯ সেন্টিমিটার এবং পায়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৫ সেন্টিমিটার। বিশ্ব রোবট গেমসের আগে গবেষকেরা এর পায়ের দৈর্ঘ্য আরও ১০ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে ১.০৫ মিটার করেছেন বলে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে।   এ বছরের বিশ্ব মানবাকৃতির রোবট গেমসেও লাইটনিংসহ বিভিন্ন রোবট অ্যাথলেটিকস, ফুটবল, ভারোত্তোলন, মার্শাল আর্টসহ নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। ২২ থেকে ২৬ আগস্ট বেইজিংয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারের বেশি রোবট অংশ নিচ্ছে। রোবটের দৌড়ের এই সাফল্য চীনের মানবাকৃতির রোবট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ ও অগ্রগতির বিষয়টিও সামনে এনেছে। দেশটির নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং রোবটের হার্ডওয়্যারের উন্নয়নকে উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও ভোক্তা পর্যায়ের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে দেখছে।   তবে মানুষের সঙ্গে রোবটের এমন রেকর্ড তুলনার ক্ষেত্রে কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। রোবটের শরীর, শক্তির উৎস, তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং নকশা মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতার মতো নয়। এ কারণে রোবটের ৯.৩২ সেকেন্ডকে বোল্টের মানব রেকর্ডের সঙ্গে তুলনা করা গেলেও এটিকে মানব অ্যাথলেটিকসের নতুন বিশ্বরেকর্ড বলা যাবে না।   তবু প্রযুক্তির দিক থেকে ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র কয়েক বছর আগেও মানবাকৃতির রোবটের জন্য দ্রুত ও স্থিরভাবে দৌড়ানোই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এখন সেই রোবটই মানুষের দ্রুততম দৌড়ের সময়কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখাচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে রোবট কতটা দ্রুত, ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারবে তা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২১:৪০
২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে জন্মের চেয়ে মৃত্যুর হার বেশি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস। ছবি: সংগৃহীত
২০৩০ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের চেয়ে মৃত্যু বেশি হবে, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ভরসা হবে অভিবাসন

যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে দেশটির কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও)। সংস্থাটির সর্বশেষ জনসংখ্যা পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হয়ে যাবে। এরপর দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রধান উৎস হয়ে উঠবে অভিবাসন।   ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ‘দ্য ডেমোগ্রাফিক আউটলুক: ২০২৬ টু ২০৫৬’ প্রতিবেদনে সিবিও যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩০ বছরের জনসংখ্যাগত পরিস্থিতির পূর্বাভাস দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, জন্মহার কমে যাওয়া এবং জনসংখ্যার গড় বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দশকে স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি ক্রমেই দুর্বল হবে।   সিবিওর হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রায় ৩৪৯ মিলিয়ন বা ৩৪ কোটি ৯০ লাখ। ২০৫৬ সালে তা বেড়ে প্রায় ৩৬৪ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। তবে এই বৃদ্ধি হবে অত্যন্ত ধীরগতির। ২০২৬ থেকে পরবর্তী এক দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় হার বছরে প্রায় ০.৩ শতাংশ হতে পারে। ২০৩৭ থেকে ২০৫৬ সালের মধ্যে তা আরও কমে গড়ে ০.১ শতাংশে নেমে আসবে। ২০৫৬ সালে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কার্যত শূন্যে নেমে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে জনসংখ্যা কমতে শুরু করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনটি ঘটবে জন্ম ও মৃত্যুর হিসাবের ক্ষেত্রে। সিবিও বলছে, ২০২৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর মৃত্যুর তুলনায় জন্মের সংখ্যা বেশি থাকবে। কিন্তু ২০৩০ সাল থেকে জন্মের সংখ্যা মৃত্যুর চেয়ে কমে যাবে। অভিবাসন না থাকলে ওই সময় থেকেই দেশটির মোট জনসংখ্যা কমতে শুরু করত।   এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের কমে যাওয়া জন্মহার। সিবিওর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে দেশটির মোট প্রজনন হার ছিল ২.১২ সন্তান প্রতি নারী যা পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২০ সালে এই হার ১.৬৪ এবং ২০২৪ সালে ১.৬০-এ নেমে আসে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে তা আরও কমে ১.৫৮ হবে এবং ২০৩৬ সালে ১.৫৩-এ নেমে গিয়ে এরপর প্রায় একই পর্যায়ে থাকবে।   জনসংখ্যাকে দীর্ঘমেয়াদে একই আকারে ধরে রাখতে সাধারণভাবে প্রায় ২.১ সন্তান প্রতি নারীর প্রজনন হার প্রয়োজন হয়, যদি অভিবাসনকে হিসাবের বাইরে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও পূর্বাভাসকৃত হার সেই মাত্রার অনেক নিচে। শুধু জন্মহার কমছে তা নয়, সন্তান নেওয়ার সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩০ বছরের কম বয়সী নারীদের প্রজনন হার আগামী কয়েক দশকে আরও কমবে। বিপরীতে, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের প্রজনন হার কিছুটা বাড়তে পারে। সংস্থাটি এর অন্যতম কারণ হিসেবে অপেক্ষাকৃত বেশি বয়সে সন্তান নেওয়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করেছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা দ্রুত বয়স্ক হয়ে উঠছে। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা আগামী কয়েক দশকে তরুণ বয়সী জনগোষ্ঠীর তুলনায় দ্রুত বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সিবিও। একই সময়ে ২৪ বছর বা তার কম বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা আগামী ৩০ বছর ধরে কমতে পারে।   এই পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশটির কর্মবাজার ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। সিবিও বলছে, বর্তমানে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রতি একজনের বিপরীতে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অনুপাত তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু আগামী তিন দশকে এই অনুপাত আরও সংকুচিত হবে। ২০২৬ সালে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন মানুষের বিপরীতে ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রায় ২.৭ জন থাকলেও ২০৫৬ সালে তা কমে প্রায় ২.২ জনে দাঁড়াতে পারে।   এর অর্থ হলো, অবসরপ্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের চাপও বাড়তে পারে। অন্যদিকে এসব কর্মসূচিতে অর্থ জোগান দেওয়া কর্মক্ষম মানুষের তুলনামূলক অংশ কমে যেতে পারে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, শ্রমবাজার এবং সরকারি বাজেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ অবস্থায় অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সিবিওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল থেকে জন্ম ও মৃত্যুর পার্থক্য জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সেই ঘাটতি পূরণ করবে মূলত নিট অভিবাসন অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে যত মানুষ প্রবেশ করবে, তার তুলনায় যত মানুষ দেশ ছাড়বে, সেই পার্থক্য।   তবে অভিবাসনের ক্ষেত্রেও পূর্বাভাস আগের তুলনায় কমেছে। সিবিও জানিয়েছে, ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালের জন্য তাদের নিট অভিবাসনের পূর্বাভাস কমানোর পেছনে বর্তমান প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ, ২০২৫ সালের একটি ব্যয়সংক্রান্ত আইনের অভিবাসন-সম্পর্কিত বিধান এবং আগের জনসংখ্যার তথ্যের সংশোধন ভূমিকা রেখেছে।   সিবিওর হিসাবে, অভিবাসন অব্যাহত থাকায় ২০৫৬ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি এতটাই কমে যাবে যে ওই বছর তা প্রায় স্থির হয়ে যাবে। এরপর জনসংখ্যা কমার পথে যেতে পারে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এগুলো নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নয়; বরং বর্তমান আইন, নীতি ও জনসংখ্যাগত প্রবণতার ভিত্তিতে তৈরি পূর্বাভাস। জন্মহার, মৃত্যুহার বা অভিবাসনের প্রকৃত হার পূর্বাভাসের চেয়ে সামান্য ভিন্ন হলেও দীর্ঘ সময়ে তার প্রভাব অনেক বড় হতে পারে। বিশেষ করে ২০৫৬ সালের কাছাকাছি সময়ের হিসাবগুলোতে অনিশ্চয়তা বেশি।   তারপরও ২০৩০ সালের সম্ভাব্য পরিবর্তনটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসংখ্যাগত মাইলফলক। কারণ ওই সময় থেকে দেশের জনসংখ্যা আর স্বাভাবিকভাবে অর্থাৎ জন্ম ও মৃত্যুর ব্যবধানের মাধ্যমে বাড়বে না। বরং জনসংখ্যার আকার ধরে রাখা ও অর্থনীতিতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অভিবাসন নীতির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২১:২২
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে নাগরিকত্ব লাভের পথ বন্ধ করতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা, প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ বা তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এ অভিযানের অংশ হিসেবে গত আগস্টের শুরুতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৯০০টি ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।   ২০ আগস্ট এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জন্ম পর্যটন এখন শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন নেটওয়ার্ক বিদেশিদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কার্যত মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ‘বিক্রি’ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।   জন্ম পর্যটন বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝায়, যখন কোনো বিদেশি নাগরিক মূলত যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে প্রবেশ করেন, যাতে সন্তান জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শিশুর মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ ভিত্তি নয়।   পিগটের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু নেটওয়ার্ক নিজেদের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসাসংক্রান্ত সেবা হিসেবে উপস্থাপন করে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনে ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করতে আবেদনকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে এসব নেটওয়ার্ক শুধু ভিসা পাওয়ার জন্য মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরও কীভাবে প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন রাখতে হবে, সে বিষয়ে আবেদনকারীদের পরামর্শ দেয়। এর ফলে চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ওপর পড়তে পারে বলেও অভিযোগ করেছেন পিগট।   আগস্টের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ‘বার্থ ট্যুরিজম প্রিভেনশন টাস্কফোর্স’ নামে বিশেষ একটি দল গঠনের ঘোষণা দেয়। দপ্তরটি জানিয়েছে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও আইনি কাঠামো সুরক্ষিত রাখা, অ-অভিবাসী ভিসা কেবল বৈধ ও ঘোষিত উদ্দেশ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং জন্ম পর্যটনের মাধ্যমে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকানো।   টাস্কফোর্স গঠনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছিলেন, তখন পর্যন্ত ৬০০টির বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৯০০ হয়েছে বলে পিগট জানান। পররাষ্ট্র দপ্তর এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনার উদাহরণও প্রকাশ করেছে। দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দম্পতি দুটি আলাদা ভিসা আবেদনে সম্মেলন ও অবকাশযাত্রাকে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের কারণ হিসেবে দেখিয়েছিলেন। তবে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া। দ্বিতীয়বার আবেদনের সময় তারা আগে জন্ম নেওয়া একটি সন্তানের তথ্যও গোপন করেছিলেন। ওই দম্পতির ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   আরেক ঘটনায়, একটি বিদেশি সরকারের একজন কর্মকর্তা সরকারি কাজে এক সপ্তাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা নিয়েছিলেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রায় তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর দেশ ছাড়েন। অন্য একটি ঘটনায়, এক নারী ভিসা আবেদনে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবকাশযাপনের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসে যান এবং সেখানে সন্তান জন্ম দেন বলে পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   জন্ম পর্যটন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পেছনে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক বিধানও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী সব শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের দীর্ঘদিনের নীতিতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিলেন। সেই আদেশে অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।   তবে বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়। পরে ২০২৬ সালের ৩০ জুন Trump v. Barbara মামলায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশকে সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয় বলে রায় দেয়। আদালত স্পষ্ট করে যে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এখতিয়ারের আওতাধীন শিশুরা চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার অধীনে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। রায়টি ৬-৩ ভোটে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সাংবিধানিক নীতি বহাল থাকলেও সেই নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য গোপন করার বিষয়টি আলাদা আইনি প্রশ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   মার্কিন বিচার বিভাগও জন্ম পর্যটন-সংক্রান্ত পরিকল্পনা ও প্রতারণার বিরুদ্ধে তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সময়ে পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা আবেদন যাচাই এবং বাতিলের মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ জোরদার করেছে। তবে প্রায় ৯০০ ভিসা বাতিলের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কোনো বিদেশি নাগরিকের ভ্রমণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে। মূল বিষয় হলো ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ভিসা আবেদনে দেওয়া তথ্য। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করাই যদি যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের প্রধান উদ্দেশ্য হয়, সেটি পর্যটন ভিসা পাওয়ার বৈধ কারণ নয়।   মার্কিন সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে মূলত এমন ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে ভিসার উদ্দেশ্য গোপন করা, ভুল তথ্য দেওয়া বা জন্ম পর্যটনকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের জন্য আবেদনকারী বিদেশিদের ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং ভিসা আবেদনে সত্য তথ্য দেওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২১:০
লস অ্যাঞ্জেলেসের ইস্ট হলিউড এলাকায় বসবাস করছেন টিম রোলার। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিষ্ঠিত ৪ সন্তান থাকা সত্ত্বেও ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় বসবাস, গুগল ম্যাপে উঠে এল গণিত শিক্ষক বাবার জীবন

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় দুই দশক ধরে একই জায়গায় বসবাস করছেন সাবেক গণিত শিক্ষক টিম রোলার। প্রচলিত অর্থে কোনো বাড়ি না থাকলেও বছরের পর বছর একই জায়গায় থাকার কারণে গুগল স্ট্রিট ভিউয়ের ক্যামেরায় বারবার ধরা পড়েছে তার জীবনের বিভিন্ন সময়ের ছবি।   ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোলার প্রায় ১৯ বছর ধরে হলিউড ফ্রিওয়ের কাছে ইস্ট হলিউডের একটি সড়কের শেষ প্রান্তের এলাকায় অবস্থান করছেন। কয়েক বছর পরপর গুগলের স্ট্রিট ভিউ গাড়ি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তার অস্থায়ী আশ্রয়স্থল ও সেখানে থাকা অবস্থার ছবি ধারণ করেছে। ২০০৯, ২০১১, ২০১৫ এবং ২০২৫ সালের স্ট্রিট ভিউ ছবিতেও তাকে একই এলাকার আশপাশে দেখা যায়।   রোলারের ভাষ্য, রাস্তায় বসবাসের অভিজ্ঞতা অনেকটা ‘রোলার-কোস্টার’ যাত্রার মতো। দীর্ঘ সময়ে ওই এলাকায় মাদকাসক্তি, সহিংসতা এবং নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা তিনি দেখেছেন। একসময় তার আশপাশে বড় একটি গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছিল। সেখানে রাতের বেলায় কিছু মানুষ মাটিতে গর্ত করত। বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত হয়ে রোলার তাদের রাতে গর্ত না করার নিয়ম করেছিলেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই গর্তগুলোতে মাদক লুকিয়ে রাখা হতো বলে মানুষজন সেগুলো খুঁড়ত।   রোলার জানান, তিনি নিজে মাদক বা অ্যালকোহল ব্যবহার করেন না। তবে তার নিজের জীবনেও এমন কিছু অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা তাকে রাস্তায় এসে থাকতে বাধ্য করেছে। একসময় তিনি গণিত পড়াতেন এবং তার চারজন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান রয়েছে। তার দাবি, সন্তানরা সবাই কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত এবং নিয়মিত তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। রোলারের মতে, তার জীবনে জুয়ার প্রতি আসক্তিও বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, উত্তেজনা ও নতুন অভিজ্ঞতার প্রতি তার প্রবল আকর্ষণ ছিল। সহজেই একঘেয়ে হয়ে পড়তেন এবং জুয়া তাকে সেই উত্তেজনা দিত।   এখন তার কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন টিকিয়ে রাখার অন্যতম হাতিয়ার। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি অনলাইনে দাবা খেলছিলেন। মজা করে জানান, প্রতিবেদক আসার ঠিক আগেই তিনি একটি খেলায় হেরে গেছেন। সস্তায় খাবার কেনা কিংবা বিভিন্ন ধরনের ছাড় খুঁজে বের করতেও ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করেন রোলার। তিনি জানান, ইউসিএলএর কাছ থেকে নিয়মিত প্রশ্নপত্রের উত্তর দেওয়ার বিনিময়ে উপহার কার্ডও পান।   তবে প্রায় ২০ বছর ধরে রাস্তায় থাকার পরও গৃহহীন মানুষদের জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন—এ প্রশ্নে রোলারের ভাবনা প্রচলিত আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণার চেয়ে কিছুটা আলাদা। তার মতে, গৃহহীন মানুষদের জন্য আলাদা বড় ঘর, ব্যক্তিগত রান্নাঘর কিংবা ব্যক্তিগত গোসলখানা থাকা জরুরি নয়। বরং একটি ভবনের মধ্যে ছোট ছোট ব্যক্তিগত কক্ষ তৈরি করে সেখানে প্রত্যেকের জন্য একটি দরজা ও একটি বিছানা থাকলেই অনেক মানুষ রাস্তায় না থেকে ঘরের ভেতর থাকতে পারবেন।   রোলারের ভাষায়, প্রত্যেকের নিজের একটি ছোট কক্ষ থাকলেই যথেষ্ট। সেখানে আলাদা রান্নাঘর, টেলিভিশন কিংবা গোসলখানা না থাকলেও চলবে। তার কাছে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস হলো একটি বিছানা। তার অভিজ্ঞতায়, রাস্তায় থাকার সবচেয়ে কঠিন দিকগুলোর একটি হলো আবহাওয়া। বিশেষ করে মাঝে মাঝে বৃষ্টি ও ঠান্ডা তার জন্য বড় সমস্যা তৈরি করে। তবে অন্যান্য পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।   রাস্তায় দীর্ঘদিন থাকার অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রোলার বলেন, গৃহহীন জীবন তার কাছে অনেকটা প্রকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো। এ ক্ষেত্রে কাঠবিড়ালি, র‍্যাকুন ও স্কাঙ্কের মতো প্রাণীদের কাছ থেকেও তিনি শেখার কথা বলেন। দীর্ঘ সময়ে গৃহহীনদের জন্য স্থানীয় নিয়মকানুনেও পরিবর্তন দেখেছেন রোলার। তার দাবি, রাস্তায় থাকার শুরুর দিকে তাদের ভোরের আগেই উঠে পড়তে হতো এবং রাত ৯টার পর ঘুমাতে যেতে হতো। বছরের পর বছর তিনি এসব নিয়ম মেনে চলেছেন।   তবে কোভিড-১৯ মহামারির সময় পরিস্থিতি বদলে যায়। রোলারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় গৃহহীনদের জন্য অনেক বিধিনিষেধ শিথিল হয়ে যায় এবং বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী বসতি বড় হতে থাকে। পরে কিছু নিয়ম আবার কার্যকর করার চেষ্টা হলেও আগের মতো পরিস্থিতি আর ফিরে আসেনি বলে তিনি মনে করেন।   ইস্ট হলিউডের ওই এলাকাটিও গত প্রায় দুই দশকে অনেক বদলে গেছে। রোলার যেখানে থাকেন, তার ওপরে এখন একটি বড় বেড়া রয়েছে। তার দাবি, আগে সেখানে বড় একটি গৃহহীন মানুষের অস্থায়ী বসতি ছিল। বেড়া দেওয়ার পর পরিস্থিতি অনেকটা শান্ত হয়েছে এবং এখন সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মানুষ থাকেন।   এলাকাটিতে এ সময়ে নতুন নতুন ভবন তৈরি হয়েছে, অস্থায়ী বসতি গড়ে উঠেছে এবং আবার সেগুলো সরেও গেছে। পুলিশকে লোকজনকে ধাওয়া করতে দেখেছেন রোলার; কখনো কখনো ওপর দিয়ে হেলিকপ্টারও উড়তে দেখেছেন। কিন্তু এসব পরিবর্তনের মধ্যেও তিনি একই এলাকায় থেকে গেছেন। প্রায় ১৯ বছর ধরে রাস্তায় থাকার পরও নিজের জীবন সম্পর্কে রোলারের দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত ধারণার চেয়ে ভিন্ন। তিনি মনে করেন, এ জীবন তার পছন্দের একটি জীবনধারা হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ২০:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বড় আপডেট
যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ, গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বড় আপডেট

ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছরের শেষ মাস হওয়ায়, পরিবারভিত্তিক ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বর দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   বিশেষ করে ইবি-১ ইন্ডিয়া, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের চরম সতর্কতার সঙ্গে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত নিয়মিত আপডেট নজরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দুটি চার্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে 'ফাইনাল অ্যাকশন ডেটস'-এর ভিত্তিতে ভিসা নম্বর ইস্যু ও গ্রিন কার্ড চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। অন্যদিকে, ইউএসসিআইএস (USCIS) যদি 'ডেটস ফর ফাইলিং' চার্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে আবেদনকারীরা আগেভাগেই তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পান।   যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য ইউএসসিআইএস সেপ্টেম্বরে কোন চার্টটি অনুসরণ করতে বলবে, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। তবে ২২ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।   পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে এফ-২এ ক্যাটাগরি বর্তমানে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এই ক্যাটাগরিতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের 'ফাইনাল অ্যাকশন ডেট' ২২ আগস্ট ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে মেক্সিকোর নাগরিকদের জন্য এই তারিখ ২২ আগস্ট ২০২৫। ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে এফ-২এ ক্যাটাগরি বিশ্বব্যাপী 'কারেন্ট' বা উন্মুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ, ইউএসসিআইএস অনুমতি দিলে যোগ্য আবেদনকারীরা খুব দ্রুতই তাদের আবেদন জমা দিতে পারবেন।   কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ইবি-১ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্য 'কারেন্ট' থাকলেও, ভারতের ক্ষেত্রে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১৫ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত পিছিয়ে আছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট সতর্ক করেছে যে, উচ্চ চাহিদার কারণে সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার আগেই ইবি-১ ইন্ডিয়া ক্যাটাগরি সাময়িকভাবে 'আনঅ্যাভেইলেবল' বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।   এদিকে, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ক্যাটাগরিতে ভারতের জন্য ভিসা নম্বর এরই মধ্যে আনঅ্যাভেইলেবল হয়ে গেছে। তবে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্বের এলাকা ও অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের ইবি-৫ সেট অ্যাসাইড ক্যাটাগরিগুলো এখনো সব দেশের জন্যই উন্মুক্ত রয়েছে।   এছাড়া, ইবি-৩ ক্যাটাগরিতে অধিকাংশ দেশ ও মেক্সিকোর জন্য তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, চীনের জন্য ১ জানুয়ারি ২০২২, ভারতের জন্য ১ জানুয়ারি ২০১৪ এবং ফিলিপাইনের জন্য ১ আগস্ট ২০২৩ নির্ধারণ করা হয়েছে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আবেদনকারীদের ভিসা বুলেটিনের কাটঅফ ডেটের সঙ্গে নিজেদের প্রাইওরিটি ডেট মিলিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর সেপ্টেম্বর মাসের চার্ট প্রকাশের পরপরই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন জমা দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।   বিশেষ করে ইবি-১ ইন্ডিয়া, ইবি-২ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫ ক্যাটাগরির আবেদনকারীদের সব ধরনের কাগজপত্র, মেডিকেল রিপোর্ট ও আইনি প্রস্তুতি আগে থেকেই সম্পন্ন রাখতে হবে। মাসের মাঝামাঝি বা শেষভাগে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার বা সাময়িকভাবে ক্যাটাগরি বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।   বিশ্লেষকদের মতে, সেপ্টেম্বরের এই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হলে আবেদনকারীদের নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার পর অক্টোবরে নতুন ভিসা নম্বর বরাদ্দের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৯:৪৮
ক্যালিফোর্নিয়ায় সৈকতে হাঁটতে গিয়ে দানবীয় ঢেউয়ের কবলে নারী, প্রাণে বাঁচালেন লাইফগার্ডরা
ক্যালিফোর্নিয়ায় সৈকতে হাঁটতে গিয়ে দানবীয় ঢেউয়ের কবলে নারী, প্রাণে বাঁচালেন লাইফগার্ডরা

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার আলিসো বিচে বন্ধুদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে হাঁটার সময় হঠাৎ এক দানবীয় ঢেউয়ের কবলে পড়ে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন টেরেসা ট্রান নামের এক নারী।   সমুদ্রের শান্ত তীরে মুহূর্তের মধ্যেই শুরু হওয়া এই ভয়ংকর ঢেউ তাকে টেনে নিয়ে যায় গভীর সমুদরে, যার ফলে তিনি পানিতে ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় তাদের আনন্দঘন মুহূর্তকে এক ভয়ংকর জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে পরিণত করেছিল।   টেরেসার মেয়ে আমান্ডা ট্রিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস এলএ-কে জানান, পরপর তিনটি শক্তিশালী ঢেউ তাদের ওপর আছড়ে পড়ে। প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কায় তারা পড়ে যাওয়ার পর কোনোমতে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেই কোথা থেকে হঠাৎ আরও একটি বিশাল ঢেউ এসে তাদের আবার ফেলে দেয়।   টেরেসার দুই বন্ধু কোনোমতে তীরে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও তিনি ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের চিৎকারে লাইফগার্ডরা দ্রুত পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যখন তাকে উদ্ধার করে তীরে আনা হয়, তখন তিনি অচেতন ছিলেন এবং তার পালস প্রায় পাওয়া যাচ্ছিল না। লাইফগার্ডরা তাকে উল্টো করে শুইয়ে দিলে তিনি প্রচুর পানি বমি করেন এবং তার জ্ঞান ফেরে। এরপর জীবন বাঁচাতে তাকে হেলিকপ্টারে করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।   হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর টেরেসা তার শেষ মুহূর্তের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি মেয়েকে বলেন, অনবরত পানি গিলতে গিলতে একপর্যায়ে তিনি বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং লড়াই করার সব শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।   এই অপ্রত্যাশিত ও ভয়ংকর ঘটনার পর বিপুল চিকিৎসা ব্যয়ের (হেলিকপ্টার ভাড়া ও হাসপাতাল বিল) জন্য আমান্ডা 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে একটি তহবিল গঠন করেছেন। গত ২০ আগস্ট হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে টেরেসা বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।   উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ওই একই এলাকায় শক্তিশালী ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছিল। আমান্ডা জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর চরম আতঙ্কিত টেরেসা হয়তো আর কখনোই সমুদ্র বা কোনো জলাশয়ের ধারেকাছে যাবেন না।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৯:৩৩
নিউইয়র্কে ভিড় জমিয়ে বিশাল নিষিদ্ধ অজগর প্রদর্শন, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
নিউইয়র্কে ভিড় জমিয়ে বিশাল নিষিদ্ধ অজগর প্রদর্শন, মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে কোনি আইল্যান্ডে জনসমক্ষে একটি বিশাল আকারের বার্মিজ অজগর প্রদর্শনের দায়ে এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।   নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশনের (DEC) তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই রিগেলম্যান বোর্ডওয়াকের কাছে এই ঘটনা ঘটে।   প্রকাশ্যে এমন বিপজ্জনক প্রাণী প্রদর্শনের কারণে সেখানে দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।   পরিবেশ সংরক্ষণ বিভাগের এক কর্মকর্তা টহল দেওয়ার সময় দেখতে পান, ছোট শিশুসহ প্রায় ডজনখানেক মানুষের একটি ভিড় বিশাল একটি সাপকে ঘিরে আছে।   এ সময় ওই ব্যক্তির গলায় আরও একটি ছোট আকৃতির 'বল পাইথন' প্যাঁচানো ছিল এবং তিনি অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে বড় বার্মিজ অজগরটি উপস্থিত দর্শনার্থীদের দেখাচ্ছিলেন।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, তিনি সাপটিকে 'বার্মিজ অজগর' বলে নিশ্চিত করেন এবং নিজেকে এর মালিক হিসেবে দাবি করেন।   নিউইয়র্ক স্টেটের আইন অনুযায়ী, বার্মিজ অজগরকে 'বিপজ্জনক প্রাণী' হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং অঙ্গরাজ্যটিতে ব্যক্তিগতভাবে এটি পালন করা সম্পূর্ণ বেআইনি।   কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের সাপ সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে এবং খোলা পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হলে এটি স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।   বেআইনিভাবে বিপজ্জনক প্রাণী পালনের দায়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তিকে একটি জরিমানার টিকিট (Ticket) দেওয়া হয়েছে এবং বার্মিজ অজগরটিকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।   পরবর্তীতে সাপটিকে উদ্ধার করে নাসাউ কাউন্টি সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস-এর (SPCA) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৯:৬
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন
নিউ জার্সির অ্যালায়না দুবার ক্যানসারকে হারিয়ে এবার ক্যানসার রোগীদের সেবায় নার্স হচ্ছেন

হাইস্কুলের শেষ বছরটি সাধারণত পড়ালেখা, আড্ডা আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কাটে। কিন্তু নিউজার্সির ১৭ বছর বয়সী কিশোরী অ্যালায়না রিওজি-বোডিনের গল্পটি ছিল একেবারেই ভিন্ন।   ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তার শরীরে স্টেজ টু 'হজকিনস লিম্ফোমা' বা এক ধরনের ব্লাড ক্যানসার ধরা পড়ে। সাঁতার ও ট্রায়াথলনের মতো কঠোর অ্যাথলেটিক অনুশীলনে থাকা একজন প্রাণবন্ত কিশোরীর জন্য এই খবরটি ছিল চরম হতাশাজনক।   রোগ নির্ণয়ের পর জীবন বাঁচবে কি না, আর কেমোথেরাপির কারণে নিজের প্রিয় চুলগুলো ঝরে যাবে কি না—এই দুই ভয় তাকে সবচেয়ে বেশি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। তবে ভেঙে না পড়ে চিকিৎসকদের পরামর্শে চুল পড়া রোধে 'কোল্ড ক্যাপ' ব্যবহার এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজের ডিম্বাণু সংরক্ষণের মতো সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন তিনি।   টানা আটটি কেমোথেরাপি সেশন শেষে অ্যালায়না প্রথমবার ক্যানসারমুক্ত হওয়ার সুখবর পান। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ক্যানসার আবারও ফিরে আসে, এবং এবার তা ছিল আরও আক্রমণাত্মক।   দ্বিতীয়বারের এই লড়াইয়ে কোল্ড ক্যাপ ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই তাকে মাথার চুল ফেলে দিতে হয়। নতুন করে ইমিউনোথেরাপি ও কেমোথেরাপির পাশাপাশি তাকে একটি জটিল 'স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট' প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।   কঠিন এই সময়ে হাসপাতালের নার্সরা তার চিকিৎসা কক্ষটিকে টেলর সুইফটের থিমে সাজিয়ে ট্রান্সপ্লান্টের দিনটিকে রীতিমতো উৎসবমুখর করে তুলেছিলেন। নার্সদের এই অভাবনীয় মানসিক সমর্থন অ্যালায়নার যন্ত্রণাদায়ক সময়কে অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল।   কঠিন এই লড়াই শেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে অ্যালায়না চূড়ান্তভাবে তার চিকিৎসা সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। নিজের অসুস্থতা ও হাসপাতালে কাটানো দিনগুলো তার জীবনের লক্ষ্যকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।   গত মে মাসে নার্সিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি এখন পেডিয়াট্রিক অনকোলজি নার্স (শিশুদের ক্যানসার চিকিৎসায় নিয়োজিত নার্স) হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি চান যে নার্সরা তাকে কঠিন সময়ে ভালোবেসে সুস্থ করে তুলেছেন, ঠিক সেভাবেই তিনি অন্যান্য ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের পাশে দাঁড়াবেন।   পাশাপাশি, বয়ঃসন্ধিকালীন ক্যানসার রোগীদের সহায়তা ও অনুপ্রেরণা জোগাতে তিনি 'অ্যালায়না জেইন ফাউন্ডেশন' নামে একটি সংস্থাও পরিচালনা করছেন। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসে অ্যালায়না এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং তার ভাষায়—তিনি এখন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত দারুণভাবে উপভোগ করছেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৮:৪৮
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সাবেক সিনেটর এবং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ন্যান্সি কাসেবাম
যুক্তরাষ্ট্রে নারী নেতৃত্বের পথপ্রদর্শক, প্রভাবশালী সিনেটর ন্যান্সি কাসেবাম আর নেই

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের সাবেক সিনেটর এবং মার্কিন রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ ন্যান্সি কাসেবাম বেকার ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। গত শুক্রবার তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে শনিবার সিবিএস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে বিল কাসেবাম। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে স্বামীর উত্তরাধিকার বা কোনো রাজনৈতিক ছায়া ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজ যোগ্যতায় সরাসরি সিনেটে নির্বাচিত হওয়া প্রথম নারী ছিলেন তিনি।   ১৯৭৮ সালে প্রথমবারের মতো মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত হয়ে টানা তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন ন্যান্সি। তিনি ছিলেন কানসাসের সাবেক গভর্নর এবং ১৯৩৬ সালে রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী আলফ ল্যান্ডনের মেয়ে। বাবার মতোই তিনি ছিলেন একজন মডারেট বা মধ্যপন্থি রিপাবলিকান।   নিজ দলের কট্টরপন্থিদের মতের বাইরে গিয়েও তিনি কানসাস এবং পুরো দেশের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কখনোই পিছপা হননি। নব্বইয়ের দশকে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে 'অ্যাসল্ট ওয়েপন' বা প্রাণঘাতী অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ভোট দিয়ে তিনি ব্যাপক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন, যদিও এর জন্য তাকে কট্টরপন্থিদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।   এছাড়া ১৯৯৬ সালে ম্যাসাচুসেটসের উদারপন্থি ডেমোক্র্যাট সিনেটর টেড কেনেডির সঙ্গে যৌথভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিমা আইনও প্রণয়ন করেছিলেন তিনি।   ১৯৯৬ সালে সিনেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি টেনেসি অঙ্গরাজ্যের সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর হাওয়ার্ড বেকারকে বিয়ে করেন। মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে দুজন সাবেক সিনেটরের মধ্যে বিয়ের ঘটনা সেটাই ছিল প্রথম। ২০০১ সালে স্বামী হাওয়ার্ড বেকার জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেলে ন্যান্সিও তার সঙ্গে চার বছর টোকিওতে কাটান।   রাজনৈতিক জীবনের শেষ দিকে এসে রিপাবলিকান দল ধীরে ধীরে অতি-রক্ষণশীল হয়ে উঠলে তিনি দলের অনেক নীতির সঙ্গে প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করেন। নিজের নীতিতে অটল থেকে তিনি কানসাসের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের সমর্থন দেন।   এমনকি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি মার্কিন ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার পর তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসন করারও জোর দাবি জানিয়েছিলেন। ক্ষমতা বা আড়ম্বরের পেছনে না ছুটে সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ন্যান্সি কাসেবাম যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

প্রকাশ : আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৮:২৩