যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ইস্ট উইন্ডসরে একটি স্ট্রবেরি খামারে মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটেছে। পিকআপ ট্রাকের ভেতর এক বছর বয়সী সন্তানকে ফেলে যাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা কেভিন পেলের বিরুদ্ধে নাবালকের জীবনের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কেভিন তার ছেলেকে ট্রাকের ভেতর রেখে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন শিশুটির শরীর নীল হয়ে গেছে এবং সে নিশ্বাস নিচ্ছে না। জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছানোর আগে তিনি নিজেই সন্তানকে সিপিআর দিচ্ছিলেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত বাবার আইনজীবী জানিয়েছেন, মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। তারা এই কঠিন সময়ে সবার কাছে গোপনীয়তা ও সহানুভূতি কামনা করেছেন। এছাড়া, আদালত কেভিনকে তার বাড়িতে থাকা অপর সন্তানের ক্ষেত্রে শিশু সুরক্ষা দপ্তরের নিরাপত্তা শর্তগুলো মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন।
আপাতত কেভিনের বিরুদ্ধে নাবালকের ক্ষতি করার ঝুঁকি তৈরির একটিমাত্র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে, পুলিশি তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত এই বাবার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার বা ‘ডিপোর্ট’ করার দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলেছেন সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেস লিখেছেন, "ইলহান ওমরকে বিতাড়িত করার জন্য আজ একটি ভালো দিন হতে পারে।" মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত সহকর্মী ওমরের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে মেসের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য অবশ্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ন্যান্সি মেস বলেছিলেন, সোমালিয়া চাইলে ওমরকে "ফিরিয়ে নিতে পারে"। সেসময় ওমরের কংগ্রেসের আসন ও নাগরিকত্ব বাতিলেরও দাবি জানান তিনি। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাউস ওভারসাইট কমিটিতে ওমরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘বিয়ে জালিয়াতি’র অভিযোগ তুলে তাঁর অভিবাসন রেকর্ড তলবের চেষ্টাও করেছিলেন মেস, যদিও কমিটি সেই অনুরোধ অনুমোদন করেনি। তবে আইনি ও বাস্তব চিত্র হলো, ইলহান ওমর ২০০০ সাল থেকে একজন বৈধ মার্কিন নাগরিক। সোমালিয়ার গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে ১৯৯৫ সালে শিশু বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের নাগরিকত্ব আইনি প্রক্রিয়ায় বা ‘ডিন্যাচুরালাইজেশন’-এর মাধ্যমে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব নয়। আর এই বাতিলের জন্য ফেডারেল আদালতে জালিয়াতি বা তথ্য গোপনের অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়। ওমরের বিরুদ্ধে যে বিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলা হয়, তা বছরের পর বছর ধরে চর্চিত হলেও কখনোই তা প্রমাণিত হয়নি। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ ও বিতাড়নের ডাককে বরাবরই উড়িয়ে দিয়েছেন ইলহান ওমর। ২০১৯ সাল থেকে মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করা এই ডেমোক্র্যাট নেত্রীর মতে, এসব আক্রমণ তাঁর দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজ বা কংগ্রেসের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারবে না।
অনলাইনে পাতা হতো ফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রে আইসের গোপন অভিযানে ৫ শিশু যৌ ন নিপীড়ক গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা
ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার
উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখেন বহু ভারতীয় তরুণ। তবে সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে সুহাস ও প্রিয়াঙ্কা নামের এক প্রবাসী দম্পতি তরুণদের আমেরিকায় না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর দর্শনার ওই ভিডিওতে সুহাস তরুণদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বলেন, "এখানে আসবেন না।" সুহাস জানান, তারা যখন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তখন ভারতের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল এবং সেখানে ভালো চাকরি পাওয়া অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভারতেও যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সব সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রিয়াঙ্কাও জানান, এখন অনেক বিনিয়োগকারীও ভারতের বাজারে ব্যবসার জন্য ঝুঁকছেন। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সুহাস জানান, পরিবার ও বন্ধুদের ছেড়ে ভিনদেশে নতুন করে সবকিছু শুরু করার মানসিক মূল্য অনেক চড়া। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পরও তারা সেখানে আপন হওয়ার অনুভূতি পান না। সুযোগ থাকলে তিনি এখনই নিজ দেশ ভারতে ফিরে যেতেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের একটি তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরেন এই দম্পতি। তারা জানান, চীনারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জ্ঞান অর্জন শেষে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখেন। ভারতীয় তরুণদের মধ্যেও এই ফিরে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
সেনাসদস্যের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় নিবন্ধন করতে গিয়ে সেনাঘাঁটিতেই আইসিইর হাতে আটক নববধূ
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সামরিক মিশনে যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৮ জনের
পেনসিলভানিয়ায় ‘শয়তানের আদেশে’ প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ গুমে ছেলেকে সাহায্য করলেন খোদ মা
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী হিসেবে আসার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহ শুধু চাকরি খোঁজা বা বাসা গোছানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, ড্রাইভার লাইসেন্স থেকে শুরু করে ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি, চাকরির প্রস্তুতি ও স্থানীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মতো বেশ কিছু কাজ শুরুতেই গুছিয়ে নেওয়া জরুরি। তবে কোন কাজটি কখন করতে হবে, তা ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রথম ৩০ দিনে অগ্রাধিকার দিয়ে যে ১০টি কাজ করা যেতে পারে, সেগুলো হলো: ১. সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের ব্যবস্থা করুন: চাকরি, কর প্রদান, ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন কাজে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এসএসএন প্রয়োজন হতে পারে। অভিবাসী ভিসার আবেদন করার সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের জন্য আবেদন করলে আলাদাভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসে যেতে নাও হতে পারে। সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে আবেদন করলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কার্ড ডাকযোগে পাঠানো হয়। যারা ভিসা আবেদনের সময় সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের জন্য আবেদন করেননি, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সোশ্যাল সিকিউরিটি অফিসে আবেদন করতে হতে পারে। তাই প্রথম মাসেই নিজের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের আবেদন ও কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ২. একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন: দৈনন্দিন খরচ, বেতন জমা, বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের জন্য একটি চেকিং অ্যাকাউন্ট কাজে লাগে। তাই সম্ভব হলে প্রথম দিকেই নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো ব্যাংক বা ক্রেডিট ইউনিয়নে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রস্তুতি নিন। অ্যাকাউন্ট খোলার আগে ব্যাংক কী ধরনের পরিচয়পত্র, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য কাগজপত্র গ্রহণ করে এবং ঠিকানার কী প্রমাণ প্রয়োজন, তা জেনে নেওয়া ভালো। নতুনদের ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। ৩. একটি মোবাইল নম্বর নিন: যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর দ্রুত একটি কার্যকর মোবাইল নম্বর নেওয়া জরুরি। ব্যাংক, চাকরির আবেদন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, স্কুলসহ নানা কাজে এই নম্বর ব্যবহার করতে হবে। শুরুতে প্রিপেইড সিম বা কম খরচের মোবাইল প্ল্যান নেওয়া যেতে পারে। পরে প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী প্ল্যান পরিবর্তন করা সম্ভব। ৪. ঠিকানার কাগজপত্র গুছিয়ে রাখুন: যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সেবায় বর্তমান ঠিকানা যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে। বাসার লিজ, ইউটিলিটি বিল, ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা গ্রহণযোগ্য অন্য কোনো কাগজপত্র সংরক্ষণ করুন। নতুন ঠিকানায় আসার পর প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক বিভাগের মাধ্যমে চিঠিপত্র অন্য ঠিকানায় পাঠানোর ব্যবস্থাও করা ভালো। ভবিষ্যতে ব্যাংক, ড্রাইভার লাইসেন্স, স্কুল বা অন্যান্য সেবায় ঠিকানা আপডেট করতে এসব কাগজ কাজে লাগতে পারে। ৫. স্টেট আইডি বা ড্রাইভার লাইসেন্সের প্রস্তুতি নিন: যুক্তরাষ্ট্রে ছবি সংবলিত পরিচয়পত্র হিসেবে স্টেট আইডি বা ড্রাইভার লাইসেন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোন কাগজপত্র লাগবে এবং আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, তা অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। যারা গাড়ি চালাবেন, তারা নিজের অঙ্গরাজ্যের মোটরযান বিভাগ বা ডিএমভির নিয়ম দেখে ড্রাইভার লাইসেন্সের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। আর গাড়ি চালানোর প্রয়োজন না থাকলে স্টেট আইডি নেওয়া যেতে পারে। ৬. হেলথ ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করুন: যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি হতে পারে। তাই নতুন দেশে আসার পর হেলথ ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো। আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী অনেক অভিবাসী স্বাস্থ্যবিমা মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে কভারেজ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। আয় অনুযায়ী প্রিমিয়ামে ছাড় বা অন্যান্য আর্থিক সহায়তাও পাওয়া যেতে পারে। তবে যোগ্যতার নিয়ম ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস ও আয়ের ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বসবাস শুরু করাও কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে স্বাস্থ্যবিমায় নাম লেখানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি যোগ্য ব্যক্তিরা সারা বছর মেডিকেইড বা শিশুদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারেন। ৭. আমেরিকান ফরম্যাটে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করুন: বাংলাদেশে ব্যবহৃত দীর্ঘ সিভি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে ব্যবহার না করে পদের সঙ্গে মিল রেখে একটি সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার ও চাকরির আবেদন বাছাইয়ের সফটওয়্যার উপযোগী জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করা ভালো। নিজের আগের কাজের অভিজ্ঞতাকে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে প্রচলিত দায়িত্ব ও দক্ষতার ভাষায় উপস্থাপন করুন। পাশাপাশি পেশাগত যোগাযোগের অনলাইন প্রোফাইলও হালনাগাদ করে রাখা যেতে পারে। ৮. চাকরি খোঁজা শুরু করুন: পছন্দের চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে সময় লাগলেও শুরুতেই চাকরির বাজার সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে সাময়িক কাজের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। চাকরির ওয়েবসাইট ও পেশাগত যোগাযোগের প্ল্যাটফর্মে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল থাকা চাকরি খুঁজুন। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক ও পরিচিতদের মাধ্যমেও চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে কাজের অনুমতি ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করে। তাই বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি আছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে কোনো চাকরিতে যোগ দেওয়া উচিত নয়। ৯. ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির দিকে নজর দিন: যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি করা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্রেডিট হিস্ট্রি ও ক্রেডিট স্কোর পরবর্তীতে ক্রেডিট কার্ড, গাড়ির ঋণ, বাসা ভাড়া বা অন্যান্য আর্থিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। যারা যোগ্য, তারা ব্যাংক বা কার্ড কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী জামানতভিত্তিক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করতে পারেন। কার্ড ব্যবহার করলে সময়মতো বিল পরিশোধ করা এবং নিজের সামর্থ্যের মধ্যে খরচ করা গুরুত্বপূর্ণ। ১০. স্থানীয় কমিউনিটি ও প্রয়োজনীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত হন: নতুন দেশে পরিচিত মানুষ ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের নেটওয়ার্ক তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, কমিউনিটি সেন্টার বা পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন। তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর না করে ইমিগ্রেশন, ট্যাক্স, হেলথ ইন্স্যুরেন্স বা সরকারি সুবিধার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই করা উচিত। প্রথম মাসে এসব কাজ গুছিয়ে নিতে পারলে নতুন পরিবেশে দৈনন্দিন জীবন, চাকরি, ব্যাংকিং ও সরকারি সেবার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হতে পারে। তবে সব অভিবাসীর পরিস্থিতি এক নয়। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস, অঙ্গরাজ্য, আয় ও পারিবারিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও আলাদা হতে পারে।
ডিপোর্টের পর ফের যুক্তরাষ্ট্রে, টেক্সাসে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইসিই
ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা: ‘আর কখনো আমার গান ব্যবহার করবেন না’