সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৬:১২
ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার
ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয়ের চাপ নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। 

 

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের মার্চেই ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই আরও ১ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে। 

 

দেশটির মোট জনসংখ্যা দিয়ে এই ঋণের অঙ্ক ভাগ করলে মাথাপিছু বোঝা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। আর একটি পরিবারের হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার ডলার।

 

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। করোনা মহামারির সময় ট্রাম্প ও বাইডেন দুই প্রশাসনের ব্যাপক সরকারি ব্যয় এই ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। পরে অবকাঠামো বিনিয়োগ, জ্বালানি ও শিল্পখাতে ভর্তুকি, সামাজিক কর্মসূচি এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও সরকারি অর্থের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। 

 

তবে ঋণ বৃদ্ধির দায় শুধু একটি প্রশাসনের ওপর দেওয়া যায় না। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও জাতীয় ঋণ বেড়েছিল। তাঁর ২০১৭ সালের কর কমানোর নীতিও দীর্ঘমেয়াদে ফেডারেল ঘাটতি বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

 

আর ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তখনকার প্রায় ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণ তিনি আট বছরের মধ্যে পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারবেন। পরে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ২০২০ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষদিকে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জাতীয় ঋণ আরও বেড়েছে। 

 

এরপর বাইডেন প্রশাসনের সময়ও জাতীয় ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অবকাঠামো বিনিয়োগ, কোভিড-পরবর্তী সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পাশাপাশি আগের ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও ঋণ বৃদ্ধির ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। 

 

বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু ঋণের মোট পরিমাণ নয়, এর সুদ পরিশোধের খরচ। ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সরকারকে প্রতিবছর বিপুল অর্থ শুধু সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ঋণের সুদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের চেয়েও বেশি হয়ে উঠেছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। 

 

অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ঋণ যদি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে সরকারি ব্যয়, বন্ডের সুদের হার এবং সাধারণ মানুষের মর্টগেজ ও অন্যান্য ঋণের খরচেও।

 

৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই মাইলফলক তাই শুধু একটি বিশাল সংখ্যা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের দীর্ঘদিনের ব্যয়, করনীতি ও বাজেট ঘাটতির রাজনীতির সামনে নতুন করে বড় একটি আর্থিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
অনলাইনে পাতা হতো ফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রে আইসের গোপন অভিযানে ৫ শিশু যৌ ন নিপীড়ক গ্রেপ্তার
অনলাইনে পাতা হতো ফাঁদ! যুক্তরাষ্ট্রে আইসের গোপন অভিযানে ৫ শিশু যৌ ন নিপীড়ক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের ওমাহায় শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়ন ও পাচারের বিরুদ্ধে একটি বড়সড় আন্ডারকভার অভিযান চালিয়েছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস (এইচএসআই) বিভাগের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে পাঁচজন সন্দেহভাজন শিশু নিপীড়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   শিশুদের যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে যারা অনলাইনে ও বাস্তবে তৎপর, মূলত তাদের হাতেনাতে ধরতেই ১২ থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ অভিযানটি চালানো হয়।   গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের মধ্যে জোকসান আপারিসিও সান্তোস নামের ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মেক্সিকান নাগরিক, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা।   বাকি চারজন হলেন ব্রায়ান ড্যাডি, লোগান ট্রিগ, টিলিয়ান হাটন এবং মিয়ানমার বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ল এহ—যাঁরা সকলেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।   এইচএসআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তিনজনেরই আগে থেকে শিশুদের ওপর যৌন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাঁরা পুলিশের ‘সেক্স অফেন্ডার’ রেজিস্ট্রিতেও তালিকাভুক্ত ছিলেন।   স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানটি প্রমাণ করে যে, সমাজে শিশুদের ওপর যৌন শোষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের গভীর ও বাস্তব ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।   এইচএসআই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যারা অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, তাদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।   শিশু নিপীড়কদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে এবং কমিউনিটির শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এমন কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৭:১১
যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা

যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা

ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার

ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার

সুহাস ও প্রিয়াঙ্কা ভারতীয় প্রবাসী দম্পতি I ছবি: সংগৃহীত

‘আমেরিকায় আসবেন না’, ভারতীয় তরুণদের নিজ দেশেই ক্যারিয়ার গড়ার পরামর্শ প্রবাসী দম্পতির

মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তার স্ত্রী অ্যানি রামোস
সেনাসদস্যের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় নিবন্ধন করতে গিয়ে সেনাঘাঁটিতেই আইসিইর হাতে আটক নববধূ

মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট ম্যাথিউ ব্ল্যাঙ্ক এবং তার স্ত্রী অ্যানি রামোসের বিয়ের বয়স তখন মাত্র দুই দিন। নববধূর সামরিক আইডি সংগ্রহ ও সেনা পরিবারের সুবিধাগুলো চালুর উদ্দেশ্যে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোল্ক সেনাঘাঁটিতে গিয়েছিলেন তারা। অ্যানি পেশায় একজন শিক্ষিকা, যিনি শিশু বয়স থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।   ভিজিটর সেন্টারে ম্যাথিউয়ের সামরিক আইডি, বিয়ের সনদ ও অ্যানির হন্ডুরাসের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার পর তারা পরবর্তী ধাপের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু এর বদলে সেখানে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তারা হাজির হন। এরপর পরিবারের চোখের সামনেই অ্যানিকে হাতকড়া পরিয়ে ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়।   জানা যায়, অ্যানির বয়স যখন মাত্র ২০ মাস, তখন তার পরিবার একটি ইমিগ্রেশন শুনানিতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হয়। মূলত সেই কারণেই তখন শিশু অ্যানির বিরুদ্ধে দেশত্যাগের নির্দেশ বা রিমুভাল অর্ডার জারি হয়েছিল। যদিও তার কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এবং আইনি বৈধতা পেতে তারা আইনজীবীর মাধ্যমেও চেষ্টা করছিলেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামরিক পরিবারের সদস্যদের প্রতি নমনীয়তা দেখানোর বিশেষ নীতি বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাদের এই বিপদে পড়তে হয়। আটকের পাঁচ দিন পর আইসিই অ্যানিকে মুক্তি দিলেও, তাকে পায়ে একটি জিপিএস মনিটর পরিয়ে পাঠানো হয়েছে। শিশু বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের দেশ ভাবা অ্যানি এখন কেবল একটু মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার আকুতি জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৫:২৯
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সামরিক মিশনে যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৮ জনের

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সামরিক মিশনে যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৮ জনের

পেনসিলভানিয়ায় ‘শয়তানের আদেশে’ প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ গুমে ছেলেকে সাহায্য করলেন খোদ মা

পেনসিলভানিয়ায় ‘শয়তানের আদেশে’ প্রেমিকাকে কুপিয়ে হত্যা, লাশ গুমে ছেলেকে সাহায্য করলেন খোদ মা

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী? প্রথম ৩০ দিনে এই ১০ কাজ না করলে পরে বাড়তে পারে ভোগান্তি

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসী? প্রথম ৩০ দিনে এই ১০ কাজ না করলে পরে বাড়তে পারে ভোগান্তি

ডিপোর্টের পর ফের যুক্তরাষ্ট্রে, টেক্সাসে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইসিই
ডিপোর্টের পর ফের যুক্তরাষ্ট্রে, টেক্সাসে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইসিই

টেক্সাসের একটি স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আটজনকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছিল। ১৪ আগস্ট এল পাসো এলাকায় এই অভিযান চালানো হয় বলে আইসিই জানিয়েছে।   আইসিই এল পাসোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার এনফোর্সমেন্ট সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ওই স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মেক্সিকোর, দুজন ব্রাজিলের, একজন গুয়াতেমালার এবং একজন হন্ডুরাসের নাগরিক।   আইসিই জানিয়েছে, আটজন আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট হওয়ার পর আবারও দেশে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি অনুযায়ী অবৈধভাবে পুনঃপ্রবেশের ফেডারেল অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আরও দুজনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন জজের দেওয়া চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ বা ফাইনাল অর্ডার অব রিমুভাল রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।   অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া একজন মেক্সিকান নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে বলে আইসিই জানিয়েছে।   ডিপোর্টের পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি ফেডারেল আইনে গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আগেও ডিপোর্ট হওয়া কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি ফেডারেল ক্রিমিনাল মামলাও হতে পারে। মামলার পরিস্থিতি ও ব্যক্তির আগের রেকর্ডের ওপর সম্ভাব্য শাস্তি নির্ভর করে।   একই সময়ে টেক্সাসের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগে বড় ধরনের ফেডারেল কার্যক্রমের তথ্যও প্রকাশ করেছে ইউএস অ্যাটর্নির অফিস। ৭ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে সেখানে ইমিগ্রেশন ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত অপরাধে ২৯২টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ১৪ আগস্টের সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব মামলার মধ্যে আগে ডিপোর্ট হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে।   ওই সরকারি প্রতিবেদনে ব্রাজিলের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, যাকে এর আগে তিনবার ডিপোর্ট করা হয়েছিল। মেক্সিকোর আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও তিনবার পূর্ববর্তী ডিপোর্টেশনের পর পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের আওতায় ৬৮টি কাউন্টি রয়েছে। প্রায় ৯৩ হাজার বর্গমাইলের এই অঞ্চলে এল পাসো, সান অ্যান্টোনিও ও অস্টিনের মতো বড় শহর রয়েছে এবং মেক্সিকোর সঙ্গে প্রায় ৬৬০ মাইল সীমান্ত রয়েছে।   আইসিইর এই অভিযান এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৩:১৮
ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা

ট্রাম্পের ভিডিওতে আরিয়ানা গ্রান্ডের গান, ক্ষুব্ধ গায়িকা: ‘আর কখনো আমার গান ব্যবহার করবেন না’

ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আয়েশা ওয়াহাব

ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আয়েশা ওয়াহাব

ভারী বৃষ্টিতে নিউইয়র্কের রাস্তায় বন্যা, পানিতে আটকে পড়ে যানবাহন ও যাত্রী

ভারী বৃষ্টিতে নিউইয়র্কের রাস্তায় বন্যা, পানিতে আটকে পড়ে যানবাহন ও যাত্রী

0 Comments