আন্তর্জাতিক

‘আমরা অধৈর্য’, পরিবর্তনের দাবিতে ভয়কে জয় করে ভারতের রাজপথে নারীদের নতুন লড়াই

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৪:৪৮
পরিবর্তনের দাবিতে ভয়কে জয় করে ভারতের রাজপথে নারীদের নতুন লড়াই
পরিবর্তনের দাবিতে ভয়কে জয় করে ভারতের রাজপথে নারীদের নতুন লড়াই

ভারতের সাধারণ নারীরা কীভাবে নিজেদের অসাধারণ জীবন দিয়ে দেশকে রূপ দিয়েছেন, তা নিয়ে অনেক কিছুই বলার আছে। প্রথাগত রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি যতটা, জনজীবনে তাদের প্রভাব তার চেয়ে অনেক বেশি। সম্প্রতি ভারত যখন তার ৭৯তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করেছে, তখন দেশের ছোট-বড় নানা আন্দোলন এবং তাতে নারীদের অবদানের কথা নতুন করে ভাবাচ্ছে।

 

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে বিদেশি পণ্য বর্জন থেকে শুরু করে লবণ তৈরি বা পুলিশের মুখোমুখি হওয়া—সবখানে নারীরা এমন ভূমিকা নিয়েছিলেন, যা সাধারণত পুরুষদের একচেটিয়া বলে মনে করা হতো। সত্তরের দশকে বন উজাড়ের বিরুদ্ধে ‘চিপকো’ আন্দোলনে নারীরা গাছ জড়িয়ে ধরে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন। আর সাম্প্রতিক সময়ে শাহিনবাগের দাদিরা বৈষম্যমূলক হিসেবে সমালোচিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে টানা অবস্থান নিয়ে প্রমাণ করেছেন, প্রতিবাদের জায়গা সবসময়ই তৈরি করা যায়, এমনকি যখন মনে হয় কোনো আশাই অবশিষ্ট নেই।

 

বর্তমানে নারীদের জনজীবনে প্রবেশের পথ অনেক বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে কোনো রাজনৈতিক পটভূমি ছাড়াই অনেকে সাধারণ মানুষের নজরে আসছেন। তবে সব বাধা এখনো দূর হয়নি। বিশেষ করে নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীদের প্রবেশ করা আজও বেশ কঠিন।

 

অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মসের ২০২৫ সালের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নারী সংসদ সদস্য ও বিধায়কদের প্রায় অর্ধেকই রাজনৈতিক পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ১৮ শতাংশ। সাধারণ জীবনযাপন করা একজন নারী কেন হঠাৎ চারপাশের সবকিছু বদলে দেওয়ার তাগিদে পথে নামেন?

 

সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া কয়েকজন নারীর গল্প থেকেই এর উত্তর মেলে।তারা কখনো পুলিশের ভ্যানের সামনে দাঁড়িয়েছেন, কখনো অনাহারে থেকেছেন, আবার কখনো চরম অপমানের শিকার হয়েছেন।

 

বামপন্থী অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বোরা ‘ককরোচ প্রোটেস্ট’ বা তেলাপোকা বিক্ষোভের সময় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের জবাবদিহি এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ২৩ দিন অনশন করেছিলেন। জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজের এই পিএইচডি গবেষক এখন শিক্ষাসংস্কারের দাবিতে ‘জেন জি রাইজিং’ প্রচারণার অংশ হিসেবে দেশজুড়ে ঘুরছেন।

 

বোরার মতে, তার পরিবারের রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে তার নিজের চিন্তার আকাশ-পাতাল তফাত। তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন কারণ এটিই চারপাশের সময়কে বোঝার একমাত্র উপায়। নিজের জন্য কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে অসহায় বোধ না করে সেখানে নিজের মতামত তুলে ধরাই তার লক্ষ্য।

 

থিয়েটার তাকে শিখিয়েছে রাজনীতি শুধু স্লোগান বা প্রতিবাদ নয়, এটি মানুষের চিন্তাভাবনা ও সম্পর্কের ভাষাও। তার কাছে স্বাধীনতার অর্থ হলো এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা, যা কেবল মুনাফার হাতিয়ার নয়, বরং সমাজকে গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা থেকে মুক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।

 

মুম্বাইয়ের মডেল, অভিনেতা এবং থিয়েটার শিল্পী আহির এক অভাবনীয় সাহসের পরিচয় দিয়ে আটক শিক্ষার্থীদের বহনকারী একটি পুলিশের ভ্যান শারীরিকভাবে আটকে দেন। এই সাহসিকতার কারণে তাকে একটি সংঘবদ্ধ সাইবার হামলার শিকার হতে হয়। সাঁতারের পোশাক পরা একটি ছবির কারণে তাকে তীব্র ট্রল করা হয়।

 

তবে আহির মনে করেন, তার পোশাক কোনোভাবেই তার চরিত্র নির্ধারণ করে না এবং ওই দিন ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করার ঘটনাকে ম্লান করতে পারে না। তিনি জানান, চার বছর বয়স থেকে থিয়েটার তাকে মানুষের কষ্ট বুঝতে এবং সহমর্মিতা শিখিয়েছে।

 

তার কাছে স্বাধীনতা মানে হলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের কথা বলা এবং লজ্জিত না হওয়া। শুরুতে অনলাইন আক্রমণ তাকে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত করলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, এই বিদ্বেষ তার বাস্তবতাকে বদলে দিতে পারে না এবং তাকে কারও কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে না।

 

দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনরত ছাত্রকর্মীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন আলি। জেএনইউ ছাত্র সংসদের এই সদস্য ক্যাম্পাসের লাইব্রেরিতে ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম ভেঙে ফেলার অভিযোগে এক বছরের জন্য বরখাস্ত হয়েছেন। মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট গ্রাম থেকে আসা আলির পরিবারের কেউ এর আগে শহরে আসেননি।

 

আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার পর পুলিশ তার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে খোঁজখবর নেয় এবং বাবাকে ফোন করে তাকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলে। তবে আলির কাছে স্বাধীনতা অত্যন্ত ব্যক্তিগত এবং একজন মুসলিম নারী হিসেবে তার পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি বলেন, ছাত্রকর্মী হিসেবে স্বাধীনতার অর্থ হলো প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার এবং নিজের ব্যক্তিসত্তার প্রকাশ।

 

দেশের একজন সমান নাগরিক হিসেবে তাকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করার বা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশে বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার কারও নেই বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

 

অন্যদিকে, আইন ও সাংবাদিকতার সফল পেশা ছেড়ে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-এর আইনি প্রধান হিসেবে যোগ দিয়েছেন আরেক নারী। ছাত্রদের জবাবদিহির দাবির সঙ্গে নিজের চিন্তার মিল পেয়ে তিনি এই বিক্ষোভে আকৃষ্ট হন। শুরুতে জনসমক্ষে আসতে দ্বিধা বোধ করলেও, নারীদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার প্রয়োজনে তিনি মুখপাত্র হিসেবে এগিয়ে আসেন।

 

তিনি জানান, তার প্রজন্মের বিরুদ্ধে প্রায়ই অধৈর্য হওয়ার অভিযোগ আনা হয়। এর জবাবে তিনি বলেন, "আমরা অধৈর্য কারণ আমরা পরিবর্তন দেখতে চাই। প্রতিবাদ করে সরকারের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে আমরা চুপ থাকতে পারি না।" ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের রাজনীতিরও অবসান চান তিনি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হওয়া নতুন নতুন প্রতিবাদ এবং তরুণদের নির্ভয়ে কথা বলার এই প্রবণতা তাকে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী করে তুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আন্তর্জাতিক

View more
এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় ভারতীয় মেজর সিং, ‘‘জাগ্গু ভগবানপুরিয়া’ অপরাধী চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ
এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় ভারতীয় মেজর সিং, ‘‘জাগ্গু ভগবানপুরিয়া’ অপরাধী চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)-এর ওয়ান্টেড বা পলাতক আসামির তালিকায় নাম উঠেছে মেজর সিং নামের এক ব্যক্তির।   ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবসা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।   এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কুখ্যাত 'জাগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ' নামক একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী সিন্ডিকেটের সাথে মেজর সিংয়ের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।   এই গ্যাংটি মূলত ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট এলাকায় তাদের গোপন আস্তানা গড়ে তুলেছিল এবং সেখান থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, মেজর সিং এবং তার এই চক্রটি ওই অঞ্চলে ব্যাপকভাবে র‍্যাকেটিয়ারিং (সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি, ভীতি প্রদর্শন ও প্রতারণা) এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাচার সংক্রান্ত ভয়ংকর সব অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত।   যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য এই ধরনের আন্তর্জাতিক অপরাধী গ্যাংটিকে বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে মার্কিন প্রশাসন। এই চক্রের মূলোৎপাটন করতে এফবিআই ইতোমধ্যেই মেজর সিংকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে।   তাকে ধরিয়ে দিতে বা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা এফবিআইয়ের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৫:৩৫
পরিবর্তনের দাবিতে ভয়কে জয় করে ভারতের রাজপথে নারীদের নতুন লড়াই

‘আমরা অধৈর্য’, পরিবর্তনের দাবিতে ভয়কে জয় করে ভারতের রাজপথে নারীদের নতুন লড়াই

ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র, শীর্ষ কমান্ডারের স্বীকারোক্তি

ইরানের ড্রোন মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্র, শীর্ষ কমান্ডারের স্বীকারোক্তি

শরীর নুয়ে পড়েছে, কণ্ঠে এখনো নামাজের আহ্বান; ৭০ বছর ধরে আজান দিচ্ছেন আফ্রিকার শতবর্ষী মুয়াজ্জিন

শরীর নুয়ে পড়েছে, কণ্ঠে এখনো নামাজের আহ্বান; ৭০ বছর ধরে আজান দিচ্ছেন আফ্রিকার শতবর্ষী মুয়াজ্জিন

গ্রিসে হানিমুনে গিয়েই ম র্মান্তিক মৃত্যু, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল ব্রিটিশ নবদম্পতির
গ্রিসে হানিমুনে গিয়েই ম র্মান্তিক মৃত্যু, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণ গেল ব্রিটিশ নবদম্পতির

স্বপ্নের হানিমুনে গিয়ে মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হলেন এক ব্রিটিশ নবদম্পতি। গ্রিসের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিফনস দ্বীপে একটি প্রাইভেট হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে আলেকজান্ডার ক্রোমি এবং মেরি এবার্ট নামের ওই দম্পতি নিহত হয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় তাদের বহনকারী এয়ার ট্যাক্সির পাইলট ৫৫ বছর বয়সী জিওর্গোস রাইকোসও প্রাণ হারিয়েছেন, যিনি তিন সন্তানের জনক ছিলেন।   এথেন্সের নিকটবর্তী মার্কোপোলো থেকে উড্ডয়নের পর অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটি আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই সেটিতে আগুন ধরে যায়।   নিহত আলেকজান্ডার ক্রোমি লন্ডনের ব্ল্যাকস্টোন নামের একটি সুপরিচিত অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী মেরি এবার্ট যুক্ত ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কনসাল্টিং ফার্ম বেইন অ্যান্ড কোম্পানিতে। তাদের এই অকাল মৃত্যুতে উভয় প্রতিষ্ঠানই গভীর শোক প্রকাশ করেছে।   ব্ল্যাকস্টোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলেকজান্ডার তার সহকর্মীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। বেইন অ্যান্ড কোম্পানিও মেরিকে তাদের টিমের একজন অত্যন্ত মেধাবী ও সম্মানিত সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।   দুর্ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অবতরণের ঠিক আগে আকাশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘুরতে ঘুরতে বেল-২০৬ মডেলের হেলিকপ্টারটি মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন, বিধ্বস্ত হওয়ার আগে হেলিকপ্টারটি থেকে বিকট ও অস্বাভাবিক শব্দ শোনা গিয়েছিল।   নিহত পাইলট রাইকোস গ্রিক বিমানবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছিলেন এবং সামরিক চিনুক (Chinook) হেলিকপ্টার চালানোর মতো তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ছিল। তবুও শেষ মুহূর্তে তিনি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হেলিকপ্টারটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেননি।   স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে ধ্বংসস্তূপ এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে, সেখান থেকে কেবল তিনটি দগ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। সিফনসের ডেপুটি মেয়র মানোলিস ফৌনতুলাকিস জানান, দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারটির কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।   গ্রিসের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং নিহতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই গ্রিসে দাবানল নেভানোর সময় অন্য আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৩:১১
ইরানে পরমাণু হা মলা করবে ট্রাম্প প্রশাসন! মার্জোরি টেইলরের বিস্ফোরক দাবি I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

ইরানে পরমাণু হা মলা করবে ট্রাম্প প্রশাসন! মার্জোরি টেইলরের বিস্ফোরক দাবি

জাপানে একই পরিবারের চারজনকে হ ত্যা, অসংখ্য আলামত থাকলেও ২৫ বছরেও অধরা খু নি

জাপানে একই পরিবারের চারজনকে হ ত্যা, অসংখ্য আলামত থাকলেও ২৫ বছরেও অধরা খু নি

কিশোর ড্যানিয়েল মুসার অঙ্গদানের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছেন তিনজন গুরুতর অসুস্থ রোগী। ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে চোখের সামনে নীল হয়ে যাচ্ছিল দুই দিনের ভাই, কিশোরের বুদ্ধিমত্তায় বাঁচল প্রাণ

ভালোবাসার টানে ১৯৭৭ সালে ভারতের দিল্লি থেকে সাইকেল চালিয়ে সুইডেনে থাকা শার্লটের কাছে পাড়ি জমিয়েছিলেন শিল্পী পি কে মহানন্দিয়া। ছবি: সংগৃহীত
বিমানের টিকিটের টাকা ছিল না, ভালোবাসার মানুষটির জন্য সাইকেলেই গেলেন ভারত থেকে সুইডেন

ভালোবাসার মানুষটি ফিরে গেছেন হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ সুইডেনে। বিমানের টিকিট কেনার সামর্থ্য নেই। তাই ১৯৭৭ সালে ভারতীয় শিল্পী পি কে মহানন্দিয়া এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা কয়েক দশক পরও বিশ্বের আলোচিত প্রেমকাহিনিগুলোর একটি হয়ে আছে। নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে একটি পুরোনো সাইকেল কিনে তিনি রওনা দিয়েছিলেন সুইডেনে থাকা শার্লট ফন শেডভিনের কাছে।   তাদের পরিচয় অবশ্য আরও আগে। ১৯৭৫ সালে সুইডেন থেকে ভারতে ঘুরতে এসেছিলেন শার্লট। দিল্লির কনট প্লেসে তখন মানুষের প্রতিকৃতি এঁকে পরিচিতি পাচ্ছিলেন মহানন্দিয়া। সেখানেই শার্লটের সঙ্গে তার পরিচয়। মহানন্দিয়ার কাছে নিজের প্রতিকৃতি আঁকাতে এসেছিলেন তিনি। সেই পরিচয়ই অল্প সময়ের মধ্যে ভালোবাসায় রূপ নেয়।   সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু একসময় শার্লটকে সুইডেনে ফিরে যেতে হয়। মহানন্দিয়া তখন ভারতে থেকে যান। দূরত্ব তৈরি হলেও তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। চিঠির মাধ্যমে সম্পর্ক ধরে রেখেছিলেন দুজন।   একপর্যায়ে আর অপেক্ষা করতে চাননি মহানন্দিয়া। কিন্তু সুইডেনে যাওয়ার বিমানের টিকিট কেনার মতো অর্থ তার ছিল না। শার্লটের কাছ থেকে ভ্রমণের টাকা নেওয়ার প্রস্তাবও তিনি গ্রহণ করেননি বলে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।   শেষ পর্যন্ত নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড সাইকেল কেনেন তিনি। ১৯৭৭ সালের ২২ জানুয়ারি দিল্লি থেকে শুরু হয় তার দীর্ঘ যাত্রা।   প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতেন মহানন্দিয়া। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান ও তুরস্ক হয়ে ইউরোপের দিকে এগিয়ে যান তিনি। পুরো যাত্রায় সব পথ অবশ্য সাইকেলে পাড়ি দেওয়া হয়নি। সুযোগ পেলে অন্য যানবাহনেও কিছু পথ অতিক্রম করেছিলেন এবং ইউরোপে পৌঁছানোর পর ভিয়েনা থেকে ট্রেনে সুইডেনের গোথেনবার্গে যান।   পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল অর্থ। সঙ্গে খুব বেশি টাকা ছিল না। তখন কাজে আসে তার ছবি আঁকার দক্ষতা। বিভিন্ন জায়গায় মানুষের প্রতিকৃতি এঁকে অর্থ উপার্জন করতেন। কেউ টাকা দিতেন, আবার কেউ খাবার কিংবা রাতে থাকার জায়গা করে দিতেন।   চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা সেই যাত্রা শেষে ১৯৭৭ সালের মে মাসে তিনি ইউরোপে পৌঁছান। এরপর সুইডেনে গিয়ে আবার দেখা হয় শার্লটের সঙ্গে।   মহানন্দিয়া পরে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, দীর্ঘ যাত্রায় তার পায়ে ব্যথা হতো, ক্লান্তিও আসত। কিন্তু শার্লটের সঙ্গে আবার দেখা হবে, এই ভাবনাই তাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেত।   সুইডেনে পৌঁছানোর পরও তাদের সামনে বাধা ছিল। ভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও সামাজিক পটভূমির এই সম্পর্ক সহজভাবে গ্রহণ করা হয়নি শুরুতে। তবে শেষ পর্যন্ত তারা একসঙ্গে জীবন শুরু করেন এবং সুইডেনেই সংসার গড়েন।   তাদের দুই সন্তান রয়েছে। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও মহানন্দিয়া ও শার্লট একসঙ্গেই আছেন। মহানন্দিয়া সুইডেনে শিল্পী হিসেবেও নিজের কাজ চালিয়ে গেছেন।   বছরের পর বছর ধরে তাদের গল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হয়েছে, বইও লেখা হয়েছে। কিন্তু নিজের সেই দীর্ঘ সাইকেলযাত্রাকে মহানন্দিয়া কখনো বীরত্বের ঘটনা হিসেবে দেখেননি। তার কাছে কারণটি ছিল অনেক সহজ - তিনি সাইকেল ভালোবেসে এত দূর যাননি, গিয়েছিলেন ভালোবাসার মানুষটির কাছে পৌঁছাতে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১০:৩৪
মেয়েদের শিক্ষিত করার স্বপ্নে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া ও বাইরে অপেক্ষা করা আফগান বাবা মিয়া খান। ছবি: সংগৃহীত

মেয়েদের পড়াতে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ, স্কুলের বাইরে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা আফগান বাবার

জিয়াদ মোহাম্মদ। ছবি:সংগৃহীত

ছয়জনকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে শেষবার আর ফিরতে পারলেন না ১৮ বছরের জিয়াদ মোহাম্মদ

গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা

গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা

0 Comments