সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৫:১১
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সেরা অঙ্গরাজ্যের তালিকায় ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে শীর্ষে আইডাহো, ৫৯.৪১ নিয়ে দ্বিতীয় নিউজার্সি

বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে আর্থিক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাব। ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ওপর ৫১টি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড বিবেচনা করে তৈরি করা এই তালিকায় সবাইকে চমকে দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে একসময়ের নেতিবাচক পরিচিতি পাওয়া অঙ্গরাজ্য নিউজার্সি। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দুর্দান্ত স্কোর করে এই অঙ্গরাজ্যটি প্রমাণ করেছে কেন একে 'গার্ডেন স্টেট' বা বাগানের অঙ্গরাজ্য বলা হয়ে থাকে।

 

ওয়ালেটহাবের সমীক্ষায় মোট ৫৯.৪১ স্কোর পেয়েছে নিউজার্সি। জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সম্পত্তির ওপর উচ্চ কর থাকা সত্ত্বেও দেশের সর্বনিম্ন অপরাধের হার একে বসবাসের জন্য আদর্শ করে তুলেছে। পাশাপাশি, এখানকার উচ্চ গড় আয়, শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং নিউইয়র্ক সিটি ও ফিলাডেলফিয়ার মতো বড় শহরের কাছাকাছি অবস্থান একে মানুষের কাছে ভীষণ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ডগলাস এলিম্যান-এর নিউজার্সি বিভাগের প্রধান লিসা পোগি জানান, মূলত শিল্পাঞ্চল ও তেল শোধনাগারের কারণে এই অঙ্গরাজ্যটি সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রসৈকত, পাহাড় ও ব্রডওয়ে থিয়েটারের অসাধারণ মেলবন্ধন এই অঙ্গরাজ্যটিকে অনন্য এক ভৌগোলিক সুবিধা এনে দিয়েছে।

 

তবে নিউজার্সিকে পেছনে ফেলে ৬০.১৫ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষস্থানটি দখল করে নিয়েছে আইডাহো। রিয়েল এস্টেট করের নিম্নহার, বাড়ির মালিকানার উচ্চহার এবং দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ গড় আয় বৃদ্ধির কারণে অঙ্গরাজ্যটি এক নম্বরে উঠে এসেছে। এছাড়া, ওয়াইওমিংয়ের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় নিরাপদ অঙ্গরাজ্য। শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য অঙ্গরাজ্যগুলো হলো যথাক্রমে উইসকনসিন, ম্যাসাচুসেটস এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার। অন্যদিকে, মাত্র ৪১.৪২ স্কোর নিয়ে তালিকার একেবারে তলানিতে রয়েছে নিউ মেক্সিকো। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় চরম পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অনিরাপদ অঙ্গরাজ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিড়াল নি র্যাতন করে ৪ লাখ ডলারের প্রতারণা, যুবকের ১৫ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২০টি বিড়ালকে নির্মমভাবে নির্যাতন এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও ব্যবহার করে ক্যানসারের চিকিৎসার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   গত বুধবার ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে অবস্থিত হেনরিকো কাউন্টি সার্কিট কোর্টে ২৭ বছর বয়সী রডনি ট্র্যাভিস জুনিয়র নামের ওই ব্যক্তি প্রাণী নিষ্ঠুরতা এবং কম্পিউটার জালিয়াতির অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করেন। বিচারক লিন্ডা ল্যাম্বার্ট প্রসিকিউটরদের প্রস্তাবিত একটি ‘প্লি এগ্রিমেন্ট’ বা চুক্তি গ্রহণ করেন, যার অধীনে রডনিকে ১৫ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।   শুধু তাই নয়, জীবনে আর কখনোই কোনো প্রাণী পালন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের সংস্পর্শে আসার ওপরও তার ক্ষেত্রে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রডনি ট্র্যাভিস বিড়ালগুলোকে পিটিয়ে এবং মারাত্মক জখম করে টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ভিডিও আপলোড করত। ভিডিওতে বিড়ালগুলোর মিথ্যা ক্যানসারের গল্প সাজিয়ে চিকিৎসার নামে সে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে চার লাখ (৪ লাখ) ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিল।   হেনরিকো কমনওয়েলথের অ্যাটর্নি শ্যানন টেলর জানিয়েছেন, ভার্জিনিয়ার ইতিহাসে প্রাণী নির্যাতনের দায়ে এটিই সর্বোচ্চ মেয়াদের কারাদণ্ড। তিনি বলেন, এই শাস্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির নিরীহ বিড়ালগুলোর ওপর চালানো ভয়াবহ অপরাধের মাত্রাটিই পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে।   দোষ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে রডনিকে ২৫ হাজার ডলার জরিমানার পাশাপাশি মুক্তির পর আরও পাঁচ বছর আইনি নজরদারিতে বা প্রবেশনে থাকতে হবে।   গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভার্জিনিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং চেস্টারফিল্ড কাউন্টি অ্যানিমেল কন্ট্রোল কর্মকর্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যথায় কাতর বিড়ালের ভিডিওগুলো দেখে হেনরিকো পুলিশকে সতর্ক করলে এই তদন্তের শুরু হয়। পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত সেই জায়গাটি শনাক্ত করে, যেখান থেকে ভিডিওগুলো তৈরি করা হচ্ছিল।   পরদিনই চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে রডনির নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সেখান থেকে উদ্ধার করা বিড়ালগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে পশুচিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। মামলার একটি নথিতে ‘হেডেন’ নামের একটি বিড়ালের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছিল। রডনি ভিডিওতে হেডেনের ক্যানসারের কথা বলে সাহায্য চাইলেও, পরে ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা যায় যে বিড়ালটির মাথার খুলি, পাঁজরের হাড় এবং মেরুদণ্ড নির্মমভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৯:২৩
ফ্লোরিডায় গ্যারেজে টেসলা গাড়ির ব্যাটারি বি স্ফোরণ, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি

ফ্লোরিডায় গ্যারেজে টেসলা গাড়ির ব্যাটারি বি স্ফোরণ, পুড়ে ছাই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়ি

নিউইয়র্কে ই হুদি ধর্মযাজককে পিটিয়ে আ হত, বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত

নিউইয়র্কে ই হুদি ধর্মযাজককে পিটিয়ে আ হত, বিচারকের আদেশে জামিনে মুক্ত অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকডোনাল্ডসে চাকরি দিয়ে শুরু, এখন ১৭ রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকডোনাল্ডসে চাকরি দিয়ে শুরু, এখন ১৭ রেস্টুরেন্টের মালিক বাংলাদেশি বাবা-মেয়ে

নিউইয়র্কে ডিজেল বাসের বদলে রাস্তায় বৈদ্যুতিক স্কুল বাস, ৯ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ
নিউইয়র্কে ডিজেল বাসের বদলে রাস্তায় বৈদ্যুতিক স্কুল বাস, ৯ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যখন স্কুল ডিস্ট্রিক্টগুলো ডিজেলের রেকর্ড দাম নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখনই নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় নামল অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের নতুন এক বহর। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্ক এলাকার একটি ডিপোতে স্কুল পরিবহন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'ফার্স্ট স্টুডেন্ট' এবং ইউটিলিটি কোম্পানি 'কন এডিসন' তাদের ৯ মিলিয়ন ডলারের পাইলট প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করেছে।   এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দূষণকারী ডিজেল বাসের পরিবর্তে হাজার হাজার পরিচ্ছন্ন মডেলের বাস চালু করা এবং শহুরে বৈদ্যুতিক গ্রিডের ওপর চাপ না বাড়িয়ে বরং এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। ফার্স্ট স্টুডেন্টের বিদ্যুতায়ন বিভাগের প্রধান কেভিন ম্যাথিউস জানিয়েছেন, তারা পুরো প্রকল্পটিকে এমনভাবে সাশ্রয়ী করতে চাইছেন যাতে নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কার্বন নির্গমনমুক্ত যাতায়াতের সুবিধা উপভোগ করতে পারে।   এই বৈদ্যুতিক বাসগুলোর চার্জিং ব্যবস্থাটি অন্যান্য ইভি চার্জিং স্টেশনের চেয়ে একেবারেই আলাদা। সাধারণত ভূগর্ভস্থ তার ও যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য মাটি খুঁড়তে হলেও ইস্ট নিউইয়র্কের এই সিস্টেমে সবকিছু মাটির ওপরে স্থাপন করা হয়েছে। কারণ, ওই এলাকার নিচ দিয়েই জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান জেট ফুয়েল লাইন গেছে, তাই খোঁড়াখুঁড়ির কোনো সুযোগ ছিল না।   তবে এই বিকল্প পদ্ধতিটি আর্থিকভাবে বেশ লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে। মাটির ওপরের এই অবকাঠামো প্রকল্পটির ব্যয় প্রায় ২০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি এক মাস আগেই কাজ শেষ করতে সাহায্য করেছে। ফার্স্ট স্টুডেন্ট জানিয়েছে, আগামী জুনের মধ্যে ইস্ট নিউইয়র্কে আরও ৪০টি ব্যাটারিচালিত বাস সরবরাহ করা হবে।   একইসঙ্গে কন এডিসনের সাথে তাদের প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপও চলমান রয়েছে, যার মাধ্যমে বাসগুলোর 'ভিহিকল-টু-গ্রিড' (V2G) সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরাসরি গ্রিডে সরবরাহ করে বিদ্যুতের খরচ কমানো এবং নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।   কন এডিসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক বাস ও অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনগুলো ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি করবে। গ্রীষ্মকালে যখন অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে এসি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে, তখন বাসগুলোর অব্যবহৃত ব্যাটারির শক্তি গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।   এদিকে, ইস্ট নিউইয়র্ক ও সাউথ ব্রঙ্কসের মতো এলাকাগুলোতে যানবাহনের ধোঁয়ার কারণে বাসিন্দাদের মধ্যে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি। তাই এসব এলাকায় বৈদ্যুতিক বাসের প্রচলন জনস্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ফার্স্ট স্টুডেন্টের ডিপোতে ইতোমধ্যে দুটি বাসের ছাদে ৩ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে, যা বাসের ব্যাটারির পাশাপাশি ডিপোর বড় ব্যাটারিকেও চার্জ করতে পারে। পরিবেশ দূষণ রোধ ও দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমানোর এসব সুবিধার পাশাপাশি সরকারি তহবিলের সহজলভ্যতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বৈদ্যুতিক স্কুল বাসের ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৭:১৮
নিউইয়র্কে অর্ধেক ভাড়ায় বাস-সাবওয়েতে যাতায়াত, আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পাবেন সুবিধা

নিউইয়র্কে অর্ধেক ভাড়ায় বাস-সাবওয়েতে যাতায়াত, আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পাবেন সুবিধা

আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব

আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র‍্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আইনজীবী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আইনজীবী গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন এলাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে ইমিগ্রেশন আবেদনের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং যথাযথভাবে সেই আবেদন জমা না দেওয়ার অভিযোগে এক ইমিগ্রেশন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪৪ বছর বয়সী আল্লা নোভোউইজস্কি নামের ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে মেইল জালিয়াতি এবং ইমিগ্রেশন আইনজীবী হিসেবে কাজের ক্ষেত্রে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস।   ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতির স্ট্যাটাস পরিবর্তন এবং ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার আশায় ক্লায়েন্টরা ওই আইনজীবীকে অর্থ প্রদান করেছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি কিছু আবেদন একেবারেই জমা দেননি, আর কিছু আবেদন জমা দিলেও সেগুলো ছিল অসম্পূর্ণ।   শুধু অসম্পূর্ণ আবেদনই নয়, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে তিনি ক্লায়েন্টদের এমন কিছু নথিপত্র এবং কেস নম্বর সরবরাহ করতেন, যেগুলো মূলত অন্য ব্যক্তিদের সক্রিয় ইমিগ্রেশন মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওই ভুয়া নথিপত্রগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো, যেন ক্লায়েন্টরা বিশ্বাস করেন যে তাদের নিজেদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আবেদনগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।   এই জালিয়াতির তদন্তে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল, ইউএস পোস্টাল সার্ভিস অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং হ্যারিস কাউন্টি কনস্টেবল অফিসের পাশাপাশি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসও সহায়তা করেছে। যদি আল্লা নোভোউইজস্কি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।   তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ (২ লাখ ৫০ হাজার) ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলো এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৫:১৮
যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই সার্ভার হ্যাক, ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের

যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই সার্ভার হ্যাক, ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের ফি, ট্রাম্পের প্রস্তাবে আপত্তি টেক জায়ান্টদের

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের ফি, ট্রাম্পের প্রস্তাবে আপত্তি টেক জায়ান্টদের

যুক্তরাষ্ট্রে ডিটেনশন সেন্টার সম্প্রসারণে পরিকল্পনাহীন ব্যয়, আইসিইর কোটি কোটি ডলার অপচয়

যুক্তরাষ্ট্রে ডিটেনশন সেন্টার সম্প্রসারণে পরিকল্পনাহীন ব্যয়, আইসিইর কোটি কোটি ডলার অপচয়

0 Comments