ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ২৫ অথবা ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে পারে বলে সংসদ সচিবালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়, যা তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শক্রমে করে থাকেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যেই নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন।
পূর্ববর্তী কয়েকটি নির্বাচনে দেখা গেছে, আগের সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে। তবে এবার সংসদ শূন্য থাকায় অধিবেশন শুরু করতে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ২৫ বা ২৬ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন শুরুর বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। যদিও সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেননি।
সংবিধান অনুসারে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ প্রদান করেন। তার আগে ভাষণের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। প্রথম অধিবেশনের বেশির ভাগ সময়ই রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এবার অধিবেশন পরিচালনা নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন এবং তার আগে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন। তাদের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ায় এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন, সে বিষয়ে কার্যপ্রণালি বিধিতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। অতীতে ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদে জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার নজির রয়েছে। এবারও তেমন কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
সম্ভাব্য কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে জ্যেষ্ঠ কোনো সদস্যের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এরপর সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন ও শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন এবং তার ভাষণের মাধ্যমে দিনের অধিবেশন মুলতবি করা হতে পারে।
নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয় এবং ২৯৭টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করেছে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, তাদের জোটসঙ্গী দল, ইসলামী আন্দোলন ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচিত হয়েছেন।
ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নির্বাচিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে শফিকুর রহমানকে বিরোধীদলীয় নেতা মনোনীত করা হয়েছে। নতুন সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর সাড়ে পাঁচ বছর ধরে এমন কোনো কর্মসূচি হয়নি, যদিও নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছর পরপর এটি আয়োজনের কথা। সোমবার সংসদে এনসিপির এমপি আখতার হোসেন-এর নোটিশের জবাবে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় দেশে হামের বিস্তার ও তা মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। আখতার হোসেন তার বক্তব্যে জানান, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫ ছাড়িয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে মারা গেছেন অন্তত ২০ জন। হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন সুবিধা ও আইসিইউ সংকটের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টিকা সংগ্রহে অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে শুধু হাম নয়, আরও কয়েক ধরনের টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে টিকাদান কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি শিশুদের জন্য ভিটামিন-এ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে অতিরিক্ত ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুতের কাজ চলছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি-এর উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের অক্সিজেন সরবরাহ প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহে ইউনিসেফ-এর সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক আজ সাভারের বিকেএসপি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের এক পর্যায়ে তিনি ষাটের দশকের প্রবীণ অ্যাথলেট ও সাবেক কোচ সুফিয়া খাতুনকে দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। প্রতিমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, খেলোয়াড়ি জীবনে প্রশিক্ষণের সময় তিনি সুফিয়া খাতুনকে বিকেএসপিতে দেখেছেন, যিনি ইভেন্ট নির্বিশেষে সকল খেলোয়াড়কে স্নেহ করতেন। ক্রীড়াঙ্গনের এই গুণী মানুষদের যথাযথ সম্মান ও কদর নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বিকেএসপিতে এটিই ছিল প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রথম সফর। সেখানে তাকে স্বাগত জানান প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জিমন্যাসিয়ামে প্রশিক্ষণার্থীদের শারীরিক কসরত এবং ২১টি ক্রীড়া বিভাগের বিশেষ ডিসপ্লে উপভোগ করেন। তিনি বিভিন্ন ভেন্যু ঘুরে দেখার পাশাপাশি সরাসরি প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কথা বলে তাদের সুযোগ-সুবিধা ও সমস্যার খোঁজখবর নেন। দেশের ফুটবল ও ক্রিকেট দলের বর্তমান ক্যাম্পগুলো পাঁচ তারকা হোটেলে হলেও, প্রতিমন্ত্রী তার নিজের বিকেএসপিতে কাটানো দিনগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে বিকেএসপিকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রতিমন্ত্রীর মতে, বিকেএসপির মতো প্রতিষ্ঠানে গুণীদের মূল্যায়ন করলে ভবিষ্যতে আরও দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরি হবে। সবশেষে প্রতিমন্ত্রী বিকেএসপির অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের মানোন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে সঠিক প্রতিভা অন্বেষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমেই দেশের ক্রীড়াঙ্গন বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে। বিকেএসপির এই সফরটি প্রতিমন্ত্রীর জন্য কেবল দাপ্তরিক কাজ নয়, বরং পুরনো স্মৃতি ও আবেগের এক মেলবন্ধন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনাইটেড নেশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি)-এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুলিশ সংস্কার ও নিরাপত্তা ইস্যুতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে মন্ত্রীর বেইলি রোডস্থ সরকারি বাংলোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পুলিশ সংস্কার, স্বাধীন পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার রাতারাতি পরিবর্তনের চেয়ে পুলিশের ধারাবাহিক ও পর্যায়ক্রমিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেশি বিশ্বাসী। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, পুলিশের পুনর্গঠন ও সামর্থ্য বৃদ্ধিতে ইউএনডিপি বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা করতে পারে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর সাথে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে। ইউএনডিপি প্রতিনিধি দলও পুলিশ সংস্কার এবং মানবাধিকার কমিশন গঠনে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে যাবতীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ সম্পর্কে আবাসিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমান অধ্যাদেশের কিছু সংজ্ঞায় জটিলতা রয়েছে যা গুমের প্রকৃত নির্দেশদাতা শনাক্ত করা কঠিন করে তোলে। নিজের গুমকালীন অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের পর এটি সংসদে তোলা হবে যাতে আইনি কোনো ফাঁক না থাকে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা হলে মন্ত্রী জানান, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয়, তবে ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার বিষয়ে তিনি প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন। সাক্ষাৎকালে নতুন পোর্টফোলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান স্টেফান লিলার। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং ইউএনডিপি-বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।