ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার আজকের শিরোনামগুলোতে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা, ইরান যুদ্ধ, কূটনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। পাশাপাশি প্রশাসনিক অনিয়ম, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও গুরুত্ব পেয়েছে। নিচে আজকের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি পত্রিকার প্রধান সংবাদ তুলে ধরা হলো-
বণিক বার্তা: নিষিদ্ধের পরও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা আওয়ামী লীগের
রাজনৈতিক পালাবদলের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম স্থগিত থাকলেও নেতৃত্বে এখনো শেখ পরিবারের প্রভাব বজায় রয়েছে।
দলটির নেতাকর্মীরা দেশ ও বিদেশে অবস্থান করে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা নিয়মিত বিবৃতি ও অডিও বার্তার মাধ্যমে দলের অবস্থান জানাচ্ছেন। তবে এখনো তাকে প্রকাশ্যে বা ভিডিও বার্তায় দেখা যায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি দল পুনর্গঠনের একটি প্রাথমিক পর্যায়ের কৌশল হতে পারে।
প্রথম আলো: টিকা সংকটে উদ্বেগ, হামে বাড়ছে শিশুমৃত্যু
দেশে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমে আসায় স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
চলতি মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা সংগ্রহে প্রশাসনিক জটিলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ে জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত টিকাদান ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক শিশু প্রথম ডোজ নেওয়ার পর দ্বিতীয় ডোজ থেকে বাদ পড়ছে, যা ‘ড্রপ-আউট’ হিসেবে পরিচিত। কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতা বেড়েছে। ফলে টিকার আওতার বাইরে থাকা শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
একসময় পোলিও ও ধনুষ্টংকার নির্মূলে সাফল্য পাওয়া বাংলাদেশে হাম নির্মূলের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
দ্য ডেইলি স্টার: হামের প্রাদুর্ভাবে বেড়েছে শিশুমৃত্যু, উদ্বেগজনক পরিস্থিতি
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় চলতি বছর অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে এই সংখ্যা ৪৬ পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু চলতি মাসেই ৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে। এছাড়া বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে এবং মার্চ মাসে তা দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ঢাকার পাশাপাশি ময়মনসিংহ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।
কালের কণ্ঠ: সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে সংসদে উত্তেজনা
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নোটিশ উত্থাপন করলে তাৎক্ষণিক আলোচনা নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
কার্যসূচি আগে না নোটিশ আগে এই প্রশ্নে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে সংসদ কক্ষে। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
অন্যদিকে সরকারি পক্ষ জানায়, নির্ধারিত কার্যসূচি শেষ না করে এ বিষয়ে আলোচনা সম্ভব নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলের অবস্থানকে অপরিণত পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন।
যুগান্তর: ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: নিহত ১৮ বাংলাদেশি, শোকে স্বজনরা
লিবিয়া থেকে ইউরোপগামী পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ জন সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয়ভাবে দিরাই উপজেলার ৬ জন, জগন্নাথপুরের ৫ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্বজনদের অভিযোগ, দালালরা বড় নৌকায় ইতালি বা গ্রিসে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে ঝুঁকিপূর্ণ ছোট নৌকায় যাত্রীদের তুলে দেয়। যাত্রাপথে ভুল রুটে গিয়ে দীর্ঘ সময় সাগরে অবস্থান করতে হওয়ায় খাবার ও পানির অভাবে তাদের মৃত্যু হয়।
আজকের পত্রিকা: গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে না তোলায় মতবিরোধ
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ সংসদে না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পক্ষ বলছে, অধ্যাদেশটির উদ্দেশ্য ইতোমধ্যে পূরণ হয়েছে, তাই এটি নতুন করে আইনে পরিণত করার প্রয়োজন নেই। তবে বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে।
এছাড়া মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে বিরোধী সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।
নয়া দিগন্ত: নেপালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, বড় সংস্কার
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ শিক্ষা খাতে বড় ধরনের সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, দুই মাসের মধ্যে এসব সংগঠন অপসারণ করা হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে অরাজনৈতিক ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিল’ গঠন করা হবে।
এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভর্তিতে নাগরিকত্ব সনদের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রান্তিক শিক্ষার্থীরা সুযোগ পায়। শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নিউ এইজ: দুর্নীতি মামলার জট বেড়ে ৮ হাজারের বেশি
দেশে দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলার জট বেড়ে বর্তমানে ৮ হাজার ৩৩০টিতে দাঁড়িয়েছে। ২০০৪ সালে কমিশন গঠনের পর থেকে জমে থাকা মামলার সঙ্গে নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
গত পাঁচ বছরে প্রতি বছর গড়ে প্রায় দুই হাজার নতুন মামলা যুক্ত হলেও নিষ্পত্তির হার কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাক্ষীর অনুপস্থিতি, আইনি জটিলতা এবং উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতির হচ্ছে।
দেশ রূপান্তর: ‘ওয়ান ইলেভেন’ সংশ্লিষ্ট ১১৩ জনের তালিকা প্রস্তুত
২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেন-এর সময় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ১১৩ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দেশ-বিদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। তালিকায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা, আমলা, ব্যবসায়ী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। বিদেশে অবস্থানরতদের বিষয়ে তথ্য পেতে ইন্টারপোলের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।
টাইমস অব বাংলাদেশ: গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে জরুরি আলোচনা প্রয়োজন
গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী নয় মাসের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। তবে এখনো নতুন করে আলোচনার সূচনা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে পানির বণ্টন নির্ধারণে পুরনো গড় হিসাব ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে বাংলাদেশ প্রত্যাশিত পানি পাচ্ছে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল ‘বেগম জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক’-এ ভূষিত হতে যাচ্ছেন। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিশেষ অবদান এবং সফল নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। শনিবার (৯ মে) সকালে পদকের জন্য মনোনীত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক সংগঠন 'বাংলাদেশ প্রবাসী নাগরিক কমিটি (ইনক)' প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এই বিশেষ স্বর্ণপদক প্রবর্তন করেছে। ২০২৬ সালের জন্য মোট ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদানের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। ক্রীড়াঙ্গন থেকে তামিম ইকবালের পাশাপাশি সাফজয়ী সাবেক গোলরক্ষক ও বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকও এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও রয়েছেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও ইসমাইল জবিউল্লাহ এই সম্মাননা পাচ্ছেন। তালিকায় অন্যান্যদের মধ্যে সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাহিত্যিক ড. মাহবুব হাসান এবং খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ফাতেমা বেগমের নাম রয়েছে। মাঠের ক্রিকেটে সফল ওপেনার হিসেবে দীর্ঘ সময় দাপট দেখানোর পর বর্তমানে বিসিবি প্রধান হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্বেও প্রশংসা কুড়াচ্ছেন চট্টগ্রামের এই তারকা ক্রিকেটার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ এর তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি ৫ অনুযায়ী তাকে শপথ পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নুসরাত তাবাসসুম নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সচিবের কার্যালয়ে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের প্রধান হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দেন নুসরাত তাবাসসুম। বিলম্বের কারণে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্কের ওপর তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন শামা ওবায়েদ। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বাংলাদেশ সর্বদা নিজেদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে। পানি বণ্টন ও অভিবাসন ইস্যু নিয়ে শামা ওবায়েদ জানান, গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশা করছে। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।