ইন্টেরিম সরকারকে ‘বিনাভোটের সরকার’ বলে সমালোচনা করা বিএনপি এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিনাভোটে মেয়র দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন।
পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শহরগুলোতে ভোটের অঙ্ক দেখে নির্বাচন দিতে সাহস পাচ্ছে না সরকারি দল। ইন্টেরিমকে সকাল-বিকেল বিনাভোটের সরকার বলে গালি দেওয়া দলটি এখন বিনাভোটের মেয়র দিচ্ছে সব জায়গায়।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আপকামিং: বিনাভোটের উপজেলা চেয়ারম্যান, বিনাভোটের ইউপি চেয়ারম্যান, বিনাভোটের মেম্বার, বিনাভোটের ওয়ার্ড কাউন্সিলর।’
সম্প্রতি ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থানীয় সরকার প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা বলে জানা গেছে।
রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-এর সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক মেয়রদের সরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। পরে বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর আবার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এসব পদে বসানো হলো।
দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘যত দ্রুত সম্ভব’ নির্বাচন দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, তার আগেই এসব প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে। কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী— • রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন • জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী • প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান • স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি) • পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির • অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী) • শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান • আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান • তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন • পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান • বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির • শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু • নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান • পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান • সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান • সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি • স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন • যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি • ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু • কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু • গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস • ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর • রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় • জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ • সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী • পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
ইন্টেরিম সরকারকে ‘বিনাভোটের সরকার’ বলে সমালোচনা করা বিএনপি এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিনাভোটে মেয়র দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শহরগুলোতে ভোটের অঙ্ক দেখে নির্বাচন দিতে সাহস পাচ্ছে না সরকারি দল। ইন্টেরিমকে সকাল-বিকেল বিনাভোটের সরকার বলে গালি দেওয়া দলটি এখন বিনাভোটের মেয়র দিচ্ছে সব জায়গায়।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আপকামিং: বিনাভোটের উপজেলা চেয়ারম্যান, বিনাভোটের ইউপি চেয়ারম্যান, বিনাভোটের মেম্বার, বিনাভোটের ওয়ার্ড কাউন্সিলর।’ সম্প্রতি ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থানীয় সরকার প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা বলে জানা গেছে। রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-এর সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক মেয়রদের সরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। পরে বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর আবার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এসব পদে বসানো হলো। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘যত দ্রুত সম্ভব’ নির্বাচন দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, তার আগেই এসব প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চাকধ বাজার এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় (বিএনপি ক্লাব) লক্ষ্য করে হাতবোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এই অতর্কিত হামলায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুই দুর্বৃত্ত দ্রুতগতির সাথে ক্লাবের সামনে পৌঁছায় এবং লক্ষ্যবস্তু করে বেশ কয়েকটি হাতবোমা ছুড়ে মারে। বিকট শব্দে বোমাগুলো বিস্ফোরিত হওয়ার পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। খবর পাওয়ার পরপরই নড়িয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্তের স্বার্থে বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকে একটি অবিস্ফোরিত হাতবোমা উদ্ধার করা হয়, যা বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই হামলাকে ‘সুপরিকল্পিত’ আখ্যা দিয়ে ভূমখাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল পেদা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। উদ্ধারকৃত অবিস্ফোরিত বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ দল মাঠে কাজ করছে।
ঢাকার রাজপথে এখন থেকেই বইছে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের হাওয়া। আসন্ন এই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নিজেদের প্রাথমিক মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের একাধিক সিনিয়র নেতার সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ডিএনসিসি: অভিজ্ঞতায় আস্থা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির তুরুপের তাস জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। সদ্যসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসন থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট পেয়ে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় তাকেই উত্তরের নগরপিতা হিসেবে দেখতে চায় দলটি। ডিএসসিসি:গণ অভ্যুত্থানের বীরের ওপর ভরসা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বড় চমক নিয়ে আসছে এনসিপি। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে মেয়র প্রার্থী করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। বর্তমানে তিনি এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। পাশাপাশি ঢাকা-৮ আসনের পরিচিত মুখ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নামও আলোচনায় রয়েছে। জোটবদ্ধ লড়াই ও কৌশল রমজানের পরেই সিটি নির্বাচন হতে পারে—এমন সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে এনসিপি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সঙ্গেই তারা এই নির্বাচনে অংশ নেবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ সেরেছেন দলটির নেতারা। কাউন্সিলর প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করে খুব শীঘ্রই জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে তারা। তারুণ্যের জয়গান এনসিপি নেতারা মনে করছেন, সদ্যসমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগরীতে তাদের ভোটব্যাংক বেশ মজবুত হয়েছে। মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট এবং তরুণ নেতৃত্বকে সামনে এনে নগরবাসীর সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চায় দলটি।