বহুল প্রতীক্ষিত ভারত–পাকিস্তান মহারণে আবারও একতরফা লড়াইয়ের দেখা মিলল। ৬ হাজার কোটি টাকার ‘হাই-ভোল্টেজ’ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয়ে গ্রুপসেরা হয়ে সুপার এইটে উঠেছে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত।
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দুই উইকেট নিয়ে দলকে চাপে ফেলে দেন যশপ্রীত বুমরা। দ্রুত ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। অধিনায়ক বাবর আজম ৩৪ রানে ফিরলে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন উসমান খান। তবে ৪৪ রান করে তিনিও বিদায় নিলে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ১৮ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয় দলটি।
ভারতের বোলিং আক্রমণে ছিলেন একাধিক নায়ক। হার্দিক পান্ডিয়া ও বুমরা দুইটি করে উইকেট নেন। স্পিনে অক্ষর প্যাটেল ও বরুণ চক্রবর্তীও দুটি করে উইকেট শিকার করেন। পাকিস্তানের ইনিংসের শেষ প্রহরে উসমান তারিককে বোল্ড করে ম্যাচের ইতি টানেন পান্ডিয়া।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৫ রান তোলে ভারত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ রান করেন ঈশান কিষান। এছাড়া সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭ ও তিলক ২৫ রান যোগ করেন। পাকিস্তানের হয়ে সাইম ৩ উইকেট নেন।
এই জয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮–১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। অন্যদিকে সুপার এইটে উঠতে শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই পাকিস্তানের। হারলে গতবারের মতো এবারও প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হবে দলটিকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (ঈশান ৭৭, সূর্যকুমার ৩২, দুবে ২৭, তিলক ২৫; সাইম ৩/২৫)। পাকিস্তান: ১৮ ওভারে ১১৪ (উসমান ৪৪, আফ্রিদি ২৩*; পান্ডিয়া ২/১৬, বুমরা ২/১৭, বরুণ ২/১৭, অক্ষর ২/২৯)
ফল: ভারত ৬১ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ঈশান কিষান
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। পার্সটুডে- মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা এবং জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক, ইরান-মার্কিন আলোচনার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানের চেয়ে ট্রাম্পেরই এই আলোচনার বেশি প্রয়োজন। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটার সতর্ক করে বলেছেন যে পশ্চিমারা সর্বদা তার গুপ্তচর সংস্থাগুলির মাধ্যমে ইরানের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ভিত্তি ধ্বংস করতে চাইছে এবং অপর্যাপ্তভাবে নিয়ন্ত্রিত তথ্য-যোগাযোগ রুট ব্যবহার করে কিছু ইরানিকে তাদের এজেন্ট নিয়োগ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের জন্য একটি পছন্দসই আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয় পার্সটুডে অনুসারে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিসর সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে রিটার ব্যাখ্যা করেছেন যে এই শর্তটি বাস্তবে "নিরস্ত্রীকরণ" এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের কাছ থেকে "কৌশলগত আত্মহত্যার" অনুরোধের সমতুল্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ক্ষেপণাস্ত্র শুধুমাত্র ইরানের জন্য একটি কাঙ্ক্ষিত আক্রমণাত্মক হাতিয়ার নয়, বরং প্রতিরোধ ও বেঁচে থাকার মেরুদণ্ড এবং এই স্তম্ভটি অপসারণকারী যেকোনো চেষ্টো ইরানকে অরক্ষিত করে তুলবে। তিনি যুক্তি দেন যে ইরান যদি তার ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এতটাই কমিয়ে দেয় যে তারা আর ইসরায়েলে আঘাত করতে পারবে না, তাহলে ইসরায়েল প্রতিশোধের ভয় ছাড়াই ইরানে আক্রমণ করবে। ইরানের সাথে যুদ্ধ নীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অক্ষমতা আমেরিকান বিশ্লেষক স্পষ্ট করে বলেন যে ইরানের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এড়ানোর মূল কারণ কৌশলগত অক্ষমতা। তিনি বলেন, যেকোনও সামরিক আক্রমণ ইরানকে এমন প্রতিক্রিয়ার দিকে ঠেলে দেবে যা একই সাথে মার্কিন বাহিনী এবং স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে এই ধরনের পরিবেশে ইরানের সাথে যুদ্ধ কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধাতো আনবেই না বরং ট্রাম্পের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিপর্যয়ও হতে পারে। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কেবল ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষার জন্য। আলোচনা একটি ফাঁদ সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা পরামর্শ দেন যে ইরানের উচিত দুর্বলতা থেকে নয়, বরং ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক অজুহাতের পথ বন্ধ করার জন্য আলোচনায় প্রবেশ করা। তবে, রিটার সতর্ক করে দেন যে ইরানি কর্মকর্তাদের সর্বদা ধরে নেওয়া উচিত যে আলোচনা "একটি ফাঁদ"। কূটনীতির মাধ্যম বজায় রেখে, ইরানের উচিত তার সামরিক ও গোয়েন্দা যন্ত্রপাতিকে পূর্ণ সতর্ক রাখা । স্কট রিটার সাম্প্রতিক নৌ সংঘর্ষকে আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব বা আগ্রাসনের লক্ষণ হিসেবে নয়, বরং ইরানের প্রবেশাধিকার-বিরোধী এবং আঞ্চলিক-বিরোধী ক্ষমতার প্রতি ওয়াশিংটনের কৌশলগত ভয়ের প্রতিফলন। রিটার জোর দিয়ে বলেন যে ইরানের নতুন প্রজন্মের নির্ভুল, কৌশলগত এবং হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলি "অপ্রচলিত" সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। প্রধান হুমকি: ভেতর থেকে পতনের জন্য মানসিক যুদ্ধ অবশেষে, স্কট রিটার "মানসিক যুদ্ধ" নামক একটি ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন; এমন একটি যুদ্ধ যেখানে, তিনি যুক্তি দেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক, কারণ এর লক্ষ্য হল একটি গুলি না চালিয়েও একটি সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করা
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াবে ওয়ানডে ফরম্যাটের বিজয় সিরিজ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)। এই আসরের জন্য রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চার দলের অধিনায়ক এবং স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। চারটি জোনের অধিনায়করা হলেন: সাউথ জোন: মেহেদী হাসান মিরাজ, নর্থ জোন: নাজমুল হোসেন শান্ত, ইস্ট জোন: ইয়াসির আলী চৌধুরী, সেন্ট্রাল জোন: মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। চার জোনের স্কোয়াডের বিস্তারিত: ইস্ট জোন: পারভেজ হোসেন ইমন, জাকির হাসান, অমিত হাসান, মমিনুল হক, ইয়াসির আলী রাবিব, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, শাহাদাত হোসেন দিপু, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানজিম হাসান সাকিব, খালেদ আহমেদ, নাসুম আহমেদ, নাঈম হাসান, নাইম হাসান সাকিব। নর্থ জোন: তানজিদ হাসান তামিম, হাবিবুর রহমান সোহান, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, আকবর আলী, সাব্বির রহমান, শেখ মেহেদী, এসএম মেহেরব হোসেন অহিন, তাইজুল ইসলাম, নাহিদ রানা, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সাউথ জোন: সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, জাওয়াদ আবরার, আজিজুল হাকিম তামিম, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হোসান হোসান, সামিউন বশির রাতুল, তানভির ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রবিউল হক, রেজাউর রহমান রাজা, রুয়েল মিয়া, স্বাধীন ইসলাম। সেন্ট্রাল জোন: সাইফ হাসান, নাইম শেখ, জিসান আলম, আরিফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইরফান শুক্কুর, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, রাকিবুল হাসান, রিজয়ান হোসেন, আবু হায়দার রনি, ইবাদত হোসেন, রিপন মণ্ডল, মারুফ মৃধা, ও ওয়াসি সিদ্দিকী। বিসিএলের এই আসরে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নতুন প্রতিভারাও মাঠে নামবেন। স্কোয়াড ঘোষণা হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক লিগের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিজেকে নিয়ে মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া নানা গুঞ্জনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত ২টার দিকে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এ কথা জানান। তামিম লিখেছেন, আজ সারা দিনে আমাকে ঘিরে মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা গুঞ্জন দেখতে পেয়েছি, যা পুরোপুরি মিথ্যা। এমন কোনো প্রস্তাব আমি পাইনি। এ ধরনের ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। তিনি একই সঙ্গে অনুরোধ করেছেন, সকলকে অবগত থাকতে যাতে কোনো বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে না পড়ে।
পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবি-র মধ্যকার ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কোনো ধরনের আর্থিক, প্রশাসনিক বা ক্রীড়াগত শাস্তি আরোপ করছে না ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আইসিসি তাদের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, লাহোর আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তান দলকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি করানোর ক্ষেত্রে বিসিবির ইতিবাচক মধ্যস্থতা ও সমর্থনের বিষয়টি আইসিসির কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। শাস্তি নয়, মিলছে বড় ইভেন্ট: বিসিবি-কে একটি ‘মূল্যবান পূর্ণ সদস্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইসিসি জানিয়েছে, ২০ কোটির বেশি ভক্তের এই প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজারকে তারা কোনোভাবেই অবহেলা করতে চায় না। সমঝোতার অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই অর্থাৎ ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এককভাবে আইসিসির একটি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। তবে এটি আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিচালনাগত শর্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে। পরিষ্কার অবস্থান বিসিবির: আইসিসি স্পষ্ট করেছে যে, বিসিবির ওপর কোনো জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না। এমনকি বিসিবি চাইলে তাদের আইনি অধিকার বা ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটির শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগও বহাল থাকবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তা এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ওপর প্রভাবহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক সংযুক্তির দাবিদার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক এবং ২০২৭ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে নির্ধারিত আছে। এর বাইরে লাহোর চুক্তির মাধ্যমে নতুন এই টুর্নামেন্ট প্রাপ্তি দেশের ক্রিকেটে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।