সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল। মালদ্বীপের মালে জাতীয় স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে শিরোপা ধরে রাখে লাল-সবুজের যুবরা।
রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে শেষ পর্যন্ত পঞ্চম শটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভান।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোল করতে পারেনি দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে ভারত বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ছিল সংগঠিত। গোলরক্ষক মাহিনের দৃঢ়তায় একাধিক আক্রমণ ব্যর্থ হয় ভারতের।
বাংলাদেশও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে। দ্বিতীয়ার্ধে ডেকলান সুলিভান মাঠে নামার পর ডান প্রান্ত দিয়ে গতি বাড়ে আক্রমণে। শেষ দিকে রোনানের সামনে একটি ভালো সুযোগ এলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি তিনি।
পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলই সমানতালে লড়াই করলেও নির্ধারিত সময়ে গোল না হওয়ায় ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুচাপ সামলে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জোরালো সমর্থন খেলোয়াড়দের বাড়তি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। একই গ্রুপে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় দুই দল একে অপরকে ভালোভাবে চিনলেও শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে জয়ের হাসি হাসে বাংলাদেশ।
এই জয়ের মাধ্যমে বয়সভিত্তিক ফুটবলে বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা আরও একবার প্রমাণিত হলো। ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয়ের পর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল-কে আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আমিনুল হক। শুক্রবার রাতে এক বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দলের খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আমাদের যুব ফুটবলাররা যে অদম্য স্পৃহা ও নৈপুণ্য দেখিয়েছে, তা পুরো জাতির জন্য গর্বের। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের বিপক্ষে জয় শুধু একটি শিরোপা অর্জন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। মাঠে দলের লড়াকু মানসিকতা ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের আশা জাগায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। খেলোয়াড়দের এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা তরুণ ফুটবলারদের আরও ভালো পারফরম্যান্সে অনুপ্রাণিত করবে। এ ছাড়া দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গত বছরের মার্চে হামজা চৌধুরী প্রথমবার বাংলাদেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামেন। দেখতে দেখতে এক বছর পূর্ণ করলেন এই লেস্টার সিটি তারকা। জাতীয় দলের জার্সিতে এক বছর উদযাপন করতে গিয়ে ২৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার বলেন, “এটি আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত।” ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামজা বলেন, “অসাধারণ অভিজ্ঞতা! সত্যিই এটি আমার করা সেরা কাজ। এর চেয়ে ভালো কিছু চাইতাম না।” তিনি যদিও এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করতে না পারায় কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন, তবে হাল ছাড়ার কোনো মানসিকতা নেই। তার মতে, “এই কঠিন অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের শক্তিশালী করবে। সবাই হতাশ ছিল, কিন্তু আমরা যখন আমাদের খেলার ভিডিওগুলো দেখবো, বুঝতে পারবো দল হিসেবে কতটা উন্নতি করেছি।” অভিষেকের পর বাংলাদেশের জার্সিতে হামজা ১০ ম্যাচের মধ্যে ৯টিতে খেলেছেন। কেবল নেপালের বিপক্ষে ইনজুরির কারণে ছিলেন না। প্রতিটি ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিট খেলে ৪টি গোল করেছেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। যদিও বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি হাতে আসেনি, ২০০০ সালের এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের পর এই যাত্রায় দলটি তলানিতে না থেকে শেষ করেছে। এছাড়া ২২ বছর পর ভারতকে হারানোও হামজা-সামিতদের জন্য বড় সাফল্য। হামজা বলেন, “এটি দলের জন্য একটি বড় ধাপ। গত এক বছরে আমরা দল হিসেবে অনেক দূর এগিয়েছি। সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে আমাদের খেলা নিয়ে আমরা গর্বিত এবং আশা করি সামনের ক্যাম্পেইনে এটি কাজে লাগবে।” গত মঙ্গলবার এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। প্রায় ৬ হাজার সমর্থক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। হামজা বলেন, “তাদের সমর্থন অসাধারণ। তারা বিশ্বের সেরা সমর্থক, এবং আমরা এর ঋণ শোধ করতে পারব না।” এবার তিনি দৃষ্টি রাখতে চান সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। হামজা জানান, “গ্রীষ্মে কিছু প্রীতি ম্যাচ হতে পারে, তারপর সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, যেখানে শিরোপার জন্য লড়াই করবো। আমাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আমাদের ওপর প্রত্যাশার চাপ তৈরি করেছে। এরপর চোখ থাকবে ২০২৭ সালের ক্যাম্পেইনের দিকে, ইনশাআল্লাহ আমরা পরের এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ করবো।”
দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে একটি নির্ভরযোগ্য ও মার্জিত অধ্যায়ের অবসান ঘটল। সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন প্রোটিয়া ব্যাটিং স্তম্ভ রাসি ফন ডার ডাসেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে ৩৭ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন। সম্প্রতি ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার (সিএসএ) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা না পাওয়ার পরপরই এই অভিজ্ঞ ব্যাটার নিজের প্যাডজোড়া তুলে রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে দেশের জার্সি তুলে রাখলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে লায়ন্সের হয়ে নিজের খেলা চালিয়ে যাবেন এবং ভবিষ্যতে কোচিং পেশায় যুক্ত হওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের অবসরের বার্তায় ডাসেন বলেন, "অত্যন্ত গর্ব এবং কৃতজ্ঞতা নিয়ে আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। প্রোটিয়া জার্সি গায়ে দেওয়াটা ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। এই জার্সির মর্যাদা ধরে রাখতে যে ত্যাগ ও নিবেদনের প্রয়োজন হয়, তা আমাকে মানুষ হিসেবে অনেক কিছু শিখিয়েছে।" ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক আঙিনায় পা রেখেছিলেন ডাসেন। ২৯ বছর বয়সে অনেকটা দেরিতে অভিষেক হলেও নিজের মেধা ও একাগ্রতায় দ্রুতই দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইনআপের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠেন তিনি। বিশেষ করে ওয়ানডে ফরম্যাটে তার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা তাকে বিশ্বমানের ব্যাটারদের তালিকায় স্থান করে দেয়। একনজরে ডাসেনের বর্ণিল ক্যারিয়ার: ওয়ানডে: ৭১ ম্যাচে ৫০.১৩ গড়ে করেছেন ২,৬৫৭ রান। ৬টি সেঞ্চুরি ও ১৭টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ তার এই গড় দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে এবি ডি ভিলিয়ার্সের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। টি-টোয়েন্টি: ৫৭ ম্যাচে ১০টি হাফ-সেঞ্চুরিসহ সংগ্রহ করেছেন ১,৪০৬ রান। টেস্ট: ১৮ ম্যাচে ৩০.১৬ গড়ে করেছেন ৯০৫ রান। ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডারের অন্যতম ভরসা ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত ১৩৩ রানের ইনিংসটি ক্রিকেট ভক্তদের হৃদয়ে আজীবন অম্লান হয়ে থাকবে। কেবল ব্যাটার হিসেবেই নয়, দলের ক্রান্তিলগ্নে নেতৃত্বের গুরুভারও সামলেছেন তিনি। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর এবং ২০২৫ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের সফলভাবে নেতৃত্ব দেন ডাসেন। বিদায়বেলায় পরিবার, সতীর্থ এবং অগণিত সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "আমার যাত্রা এখনই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। লায়ন্সের হয়ে মাঠ মাতানোর পাশাপাশি আমি দক্ষিণ আফ্রিকার পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মেন্টর হিসেবে কাজ করতে চাই।" ডাসেনের এই আকস্মিক বিদায়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট মহলে বইছে বিষাদের ছায়া। ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ডাসেনের মতো একজন অভিজ্ঞ ও স্থিতধী ব্যাটারের শূন্যতা প্রোটিয়াদের জন্য পূরণ করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।