প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক পরিবারের ন্যায়বিচারের সংগ্রাম নতুন মোড় নিয়েছে জাপানে। হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা হিরোমু সাকাহারার মৃত্যুর ১৫ বছর পর তার মামলার পুনর্বিচারের অনুমতি দিয়েছে দেশটির আদালত। এই সিদ্ধান্তকে যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় মরণোত্তর পুনর্বিচারের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আদালতের এই রায় আসার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন সাকাহারা। ২০১১ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। ফলে নিজের নির্দোষ প্রমাণের সম্ভাবনা সামনে এসেও তা দেখে যেতে পারেননি তিনি।
জাপানের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালে জাপানের শিগা প্রিফেকচারের হিনো শহরের একটি মদের দোকানের ব্যবস্থাপককে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় হিরোমু সাকাহারাকে। তদন্তের সময় পুলিশ তাকে শারীরিক নির্যাতন এবং পরিবারের ক্ষতির হুমকি দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে তার পরিবার।
সাকাহারার ছেলে কোজি সাকাহারা, বর্তমানে যার বয়স ৬৪ বছর, জানান, তার বাবা শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এরপর জীবনের শেষ ২৪ বছর কারাগারেই কাটাতে হয় তাকে।
মামলার রায় ঘোষণার বহু বছর পরও সাকাহারার পরিবার সামাজিকভাবে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের অনেকেই ‘খুনির পরিবার’ পরিচয়ে অপমানের শিকার হন। কোজি সাকাহারার ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাকেও দীর্ঘদিন ফোন করে কটূক্তি করা হতো। সমাজের চোখে অপরাধীর পরিবারের তকমা বহন করতে হয়েছে তাদের।
তবে বাবার মৃত্যুর পরও হাল ছাড়েননি কোজি। আইনজীবীদের সহায়তায় তিনি মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে পুলিশের সংরক্ষিত একটি পুরোনো নেগেটিভ ফিল্ম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে আসে।
আইনজীবীরা দাবি করেন, ওই আলোকচিত্রের প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তদন্তের সময় পুলিশই সাকাহারাকে মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছিল। অর্থাৎ তদন্তে ব্যবহৃত কিছু তথ্যকে স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারোক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে সেগুলো পুলিশি প্রভাবের ফল ছিল বলে সন্দেহের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।
এই নতুন প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত মামলাটির পুনর্বিচারের নির্দেশ দিয়েছে। যদিও পুনর্বিচারের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো আসেনি, তবুও আদালতের এই সিদ্ধান্তকে সাকাহারা পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি আবারও জাপানের বিচারব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশটিতে ৯৯ শতাংশেরও বেশি ফৌজদারি মামলায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, জাপানে সন্দেহভাজনদের অনেক সময় আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সমালোচকেরা এই পদ্ধতিকে ‘জিম্মি বিচার’ বা ‘হোস্টেজ জাস্টিস’ বলে আখ্যায়িত করেন।
সাকাহারার মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন জাপানে ভুল রায় সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। দেশটির পার্লামেন্টে বর্তমানে একটি সংস্কার বিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পুনর্বিচারের অনুমতি পাওয়ার পর প্রসিকিউটরদের ধারাবাহিক আপিল করে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার সুযোগ সীমিত করা হতে পারে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সংস্কার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভুল রায়ের কারণে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তবে বিচার মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, আপিলের সুযোগ সীমিত করা হলে কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণ যাচাই ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
টোকিওর মেইজি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানে ভুল রায় সংশোধনের জন্য প্রায়ই কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হয়। এতে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তি নন, তার পুরো পরিবার সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মতে, বিচার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য উদ্ঘাটন, শুধুমাত্র মামলায় জয়লাভ নয়।
আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কোজি সাকাহারা। তিনি বলেন, “এই রায় যদি বাবা জীবিত অবস্থায় পেতেন, তাহলে হয়তো তার জীবনের শেষ সময়টা অন্যরকম হতো। আমি চাই না ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো এত দীর্ঘ সময় ধরে ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করতে হোক।”
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াই এখন শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি জাপানের বিচারব্যবস্থার জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং ভুল রায় সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সোমবার (১৫ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ওয়েবসাইটে লাইভস্ট্রিমিং সুবিধা সীমিত করা এবং অনলাইন গেমের ভেতরে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সরকারি সূত্রগুলো এই পরিকল্পনাকে “অস্ট্রেলিয়া-প্লাস” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা প্রথম দেশ হিসেবে এই ধরনের পদক্ষেপ নেয়। যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত নীতিটি সেই ব্যবস্থার চেয়েও বেশি কঠোর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষিত রাখা আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। একজন বাবা হিসেবে আমি জানি, প্রতিটি অভিভাবকই চান তাঁদের সন্তান নিরাপদ পরিবেশে বড় হোক।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান ডিজিটাল কাঠামো শিশুদের যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। দ্য সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা মোট ১০টি বড় প্ল্যাটফর্মে কার্যকর হতে পারে। এর মধ্যে টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি ইউটিউব, রেডিট, টুইচ, এক্স, থ্রেডস, ফেসবুক ও কিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সময়সীমা নির্ধারণ, রাতের কারফিউ ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। সরকারের তিন মাসব্যাপী এক গণপরামর্শে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবক ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন। তবে এই প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনাও রয়েছে। অনলাইনে ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ১৪ বছর বয়সে আত্মহত্যা করা কিশোরী মলি রাসেলের বাবা ইয়ান রাসেল এই উদ্যোগকে “অত্যন্ত দুঃখজনক” এবং “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা শিশুদের মধ্যে ভুয়া নিরাপত্তাবোধ তৈরি করতে পারে এবং তারা অনলাইন জগতের আরও ঝুঁকিপূর্ণ অংশে প্রবেশ করতে পারে। অন্যদিকে ব্রিটেনের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী জানিয়েছেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য। এখন শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতার পর ইউরোপের চার প্রভাবশালী দেশ ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ কী হয়—তা পর্যবেক্ষণ করে তারা নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বিবৃতিতে দেশগুলোর নেতারা বলেন, “ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে—এ লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।” এর আগে স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তার কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘোষণা দেন, তাঁর দেশের মধ্যস্থতায় সোমবার ভোরে এই সমঝোতা হয়েছে। জানা গেছে, সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, এই সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয়ও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকেই লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি জানিয়েছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় একটি বিস্তৃত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলবে। সেখানে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও পরবর্তী আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আগে থেকেই রয়টার্সকে জানিয়েছিল সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এই ঘোষণার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেশটি আগেই জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অংশ তারা নয়। এদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি আগামী শুক্রবার থেকে আবারও খুলে দেওয়া হবে। কয়েক মাস ধরে ইরান এই জলপথ কার্যত বন্ধ করে রেখেছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি। তিনি আরও জানান, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করো—তেল প্রবাহিত হতে দাও।” এই ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। সোমবার দিনের শুরুতে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমে যায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়। পাশাপাশি এশিয়ার বিভিন্ন শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে। তবে চুক্তির শর্তগুলো কীভাবে কার্যকর করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কতটা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।
মাসের পর মাস ধরে চলা সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে শান্তিচুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধ এবং সামরিক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে এই চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে। রোববার দিবাগত রাতে দেওয়া এক ঘোষণায় শেহবাজ শরিফ বলেন, দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। চুক্তির আওতায় সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ করা, উত্তেজনা কমানো এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাকিস্তান গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার দায়িত্ব পালন করে আসছিল। চুক্তির খবর প্রকাশের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ট্রাম্প তার বার্তায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশাও প্রকাশ করেন। ইরানের পক্ষ থেকেও সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধের পাশাপাশি পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এসব বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সেগুলো আগামী ৬০ দিনের আলোচনায় নির্ধারিত হতে পারে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা। বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় অংশ পরিবহন করা হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল এবং তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। শান্তিচুক্তির ঘোষণার আগে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওই হামলার সমালোচনা করে বলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে, তখন এমন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারাও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং চলমান আলোচনার ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যদিও চুক্তি সইয়ের আগে এবং পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় এখনও বেশ কিছু জটিল ইস্যু রয়ে গেছে, তবুও উভয় পক্ষের প্রকাশ্য সমর্থন এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অর্জিত এই সমঝোতা অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।