জাপানে বাবাকে নির্দোষ প্রমাণে সন্তানের ৪২ বছরের লড়াই
প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক পরিবারের ন্যায়বিচারের সংগ্রাম নতুন মোড় নিয়েছে জাপানে। হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা হিরোমু সাকাহারার মৃত্যুর ১৫ বছর পর তার মামলার পুনর্বিচারের অনুমতি দিয়েছে দেশটির আদালত। এই সিদ্ধান্তকে যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় মরণোত্তর পুনর্বিচারের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আদালতের এই রায় আসার আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন সাকাহারা। ২০১১ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। ফলে নিজের নির্দোষ প্রমাণের সম্ভাবনা সামনে এসেও তা দেখে যেতে পারেননি তিনি।
জাপানের গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৪ সালে জাপানের শিগা প্রিফেকচারের হিনো শহরের একটি মদের দোকানের ব্যবস্থাপককে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় হিরোমু সাকাহারাকে। তদন্তের সময় পুলিশ তাকে শারীরিক নির্যাতন এবং পরিবারের ক্ষতির হুমকি দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে তার পরিবার।
সাকাহারার ছেলে কোজি সাকাহারা, বর্তমানে যার বয়স ৬৪ বছর, জানান, তার বাবা শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এরপর জীবনের শেষ ২৪ বছর কারাগারেই কাটাতে হয় তাকে।
মামলার রায় ঘোষণার বহু বছর পরও সাকাহারার পরিবার সামাজিকভাবে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। পরিবারের সদস্যদের অনেকেই ‘খুনির পরিবার’ পরিচয়ে অপমানের শিকার হন। কোজি সাকাহারার ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাকেও দীর্ঘদিন ফোন করে কটূক্তি করা হতো। সমাজের চোখে অপরাধীর পরিবারের তকমা বহন করতে হয়েছে তাদের।
তবে বাবার মৃত্যুর পরও হাল ছাড়েননি কোজি। আইনজীবীদের সহায়তায় তিনি মামলাটি পুনরায় খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে পুলিশের সংরক্ষিত একটি পুরোনো নেগেটিভ ফিল্ম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে আসে।
আইনজীবীরা দাবি করেন, ওই আলোকচিত্রের প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তদন্তের সময় পুলিশই সাকাহারাকে মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে নির্দেশনা দিয়েছিল। অর্থাৎ তদন্তে ব্যবহৃত কিছু তথ্যকে স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারোক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে সেগুলো পুলিশি প্রভাবের ফল ছিল বলে সন্দেহের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।
এই নতুন প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত মামলাটির পুনর্বিচারের নির্দেশ দিয়েছে। যদিও পুনর্বিচারের চূড়ান্ত ফলাফল এখনো আসেনি, তবুও আদালতের এই সিদ্ধান্তকে সাকাহারা পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি আবারও জাপানের বিচারব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে। দেশটিতে ৯৯ শতাংশেরও বেশি ফৌজদারি মামলায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মানবাধিকার সংগঠন ও আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, জাপানে সন্দেহভাজনদের অনেক সময় আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সমালোচকেরা এই পদ্ধতিকে ‘জিম্মি বিচার’ বা ‘হোস্টেজ জাস্টিস’ বলে আখ্যায়িত করেন।
সাকাহারার মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন জাপানে ভুল রায় সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। দেশটির পার্লামেন্টে বর্তমানে একটি সংস্কার বিল নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পুনর্বিচারের অনুমতি পাওয়ার পর প্রসিকিউটরদের ধারাবাহিক আপিল করে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার সুযোগ সীমিত করা হতে পারে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সংস্কার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ভুল রায়ের কারণে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দ্রুত ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
তবে বিচার মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, আপিলের সুযোগ সীমিত করা হলে কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণ যাচাই ও বিচারিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
টোকিওর মেইজি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানে ভুল রায় সংশোধনের জন্য প্রায়ই কয়েক দশক অপেক্ষা করতে হয়। এতে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তি নন, তার পুরো পরিবার সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের মতে, বিচার ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সত্য উদ্ঘাটন, শুধুমাত্র মামলায় জয়লাভ নয়।
আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কোজি সাকাহারা। তিনি বলেন, “এই রায় যদি বাবা জীবিত অবস্থায় পেতেন, তাহলে হয়তো তার জীবনের শেষ সময়টা অন্যরকম হতো। আমি চাই না ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো এত দীর্ঘ সময় ধরে ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করতে হোক।”
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াই এখন শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়; এটি জাপানের বিচারব্যবস্থার জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং ভুল রায় সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের তথ্য সংগ্রহ এবং কথিত জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম)–সংশ্লিষ্ট একটি গুপ্তচর চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সোমবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম মণ্ডল ও তার সহযোগী অর্পিতা সরকারের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এ নিয়ে এই মামলায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যর পরিচয় হয়। পরে তাকে কথিত গুপ্তচর নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে মূল হোতাদের কাছে পৌঁছে দিতেন। পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রধান অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের রুট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গতিবিধির তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারী সংস্থা। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য সরকার তার জন্য একটি বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়ির ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত জইশ-ই-মোহাম্মদ, আইএসআই কিংবা গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতি আলোচনার ইঙ্গিতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো ইরান
রাশিয়া এখনো শান্তি চায় না, যুদ্ধ দীর্ঘায়িতের পথেই পুতিন
পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতার অবসান ও শান্তি সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত অন্তত ১৪
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার আগে শিক্ষার্থীদের জন্য অভিনব ধরনের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে চীনের কিছু বেসরকারি সামার ক্যাম্প। সেখানে সম্ভাব্য অপহরণ, ঘৃণাজনিত হামলা, অনলাইন প্রতারণার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর আকস্মিক অভিযানের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়াও করানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় এসব প্রশিক্ষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণের সময় শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতির মতো পরিবেশে বিভিন্ন জরুরি অবস্থার মুখোমুখি করা হয়। কোথাও ‘অপহরণ’ পরিস্থিতির অভিনয়, কোথাও আবার আইসিই কর্মকর্তাদের অভিযানের অনুকরণে মহড়া দেওয়া হয়। প্রশিক্ষকদের দাবি, এসব অনুশীলনের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করা নয়; বরং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কীভাবে শান্ত থাকতে হবে, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা শেখানো। দক্ষিণ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে বেইজিংয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার আগে তিনি এমন একটি ক্যাম্পে অংশ নেন। সেখানে তাকে অপহরণের কৃত্রিম পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হয় এবং পরে প্রশিক্ষকরা ব্যাখ্যা করেন, সংকটময় মুহূর্তে কীভাবে আচরণ করলে ঝুঁকি কমানো যায়। ক্যাম্প পরিচালকদের ভাষ্য, তাদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এতে ক্যাম্পাসে হয়রানি, প্রতারণা, বর্ণবিদ্বেষমূলক হামলা এবং আকস্মিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মতো পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতামূলক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত কিছু ঝুঁকির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে অপহরণের ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ মনে করছেন, কিছু মহড়া সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনায় অতিরঞ্জিত হতে পারে। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা নীতি, অবস্থানের মেয়াদ এবং অভিবাসন প্রয়োগে কঠোরতার কারণে চীনা পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদেশে পাঠানোর আগে অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতির ওপর জোর দিচ্ছেন
অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতনের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশি বহিষ্কৃত
‘না’ শুনেই থেমে যাননি, বিশ্বের প্রথম ডাউন সিনড্রোম-সম্পন্ন আইনজীবী আনা ভিক্টোরিয়া
দুই ‘মোসাদ’ গুপ্তচরের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় প্রথম স্ত্রীকে গোপনে পুনরায় বিয়ে করে বিদেশে চলে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বসতবাড়ি ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকালে উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের খেজুরতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বাড়ি ভাঙার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে খেজুরতলা গ্রামের সোনিয়া খাতুনের সঙ্গে একই গ্রামের মালয়েশিয়াপ্রবাসী রফিকুল ইসলামের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর রফিকুল মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। পরে সোনিয়ার বিরুদ্ধে অন্য এক প্রবাসীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায়ে থানায়ও অভিযোগ হয়। পরবর্তীতে রফিকুল সোনিয়াকে তালাক দিয়ে একই এলাকার মুকুল হোসেনের মেয়েকে বিয়ে করেন। ওই সংসার প্রায় এক বছর স্থায়ী হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ দিন আগে রফিকুল গোপনে তার প্রথম স্ত্রী সোনিয়াকে আবার বিয়ে করেন। এরপর তাকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকালে ভেকু দিয়ে রফিকুলের বসতবাড়ি ভেঙে ফেলেন। বাড়ি ভাঙার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে। ভিডিওতে একটি বসতবাড়ি ভারী যন্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলতে দেখা যায়। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বোরহান উদ্দীন বলেন, সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন ভেকু দিয়ে বাড়ি ভাঙা হচ্ছে। পরে জানতে পারেন, প্রথম স্ত্রীকে গোপনে বিয়ে করে বিদেশে চলে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের লোকজন এ কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যদি রফিকুল প্রতারণা করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কারও বসতবাড়ি ভাঙচুর করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে রফিকুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মুকুল হোসেন দাবি করেন, রফিকুল তার মেয়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তার মেয়েকে বিয়ে করার পর আবার গোপনে আগের স্ত্রীকে বিয়ে করে বিদেশে নিয়ে গেছেন। এতে তার মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। রফিকুল ইসলাম বর্তমানে মালয়েশিয়ায় থাকায় তার বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, পারিবারিক বিরোধ বা প্রতারণার অভিযোগ থাকলেও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে বসতবাড়ি ভাঙচুর করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এখন অভিযোগ দায়ের হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করবে পুলিশ।
ভারতের ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের ঢেউ এবার ব্রিটেনে, পার্লামেন্টের সামনে শিক্ষার্থীদের শক্ত অবস্থান
৫ই আগস্ট দুই বছর পর প্রকাশ্যে আসছেন শেখ হাসিনা!