অর্থনীতি

গ্রিস সীমান্তে সাগরে তেলের ট্যাংকার। ফাইল ছবি: রয়টার্স
১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল সরবরাহ হারিয়েছে বিশ্ববাজার, ঘাটতি পূরণে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ থেকে ১০০ কোটি ব্যারেলের বেশি বঞ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ঘাটতি পূরণে অন্তত এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সুখবর হিসেবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের পরও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।   বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের সময় বিশ্ববাজারে প্রায় ১১৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগত তেলের মজুত ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুত গত ৪৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পর্যায়ে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক মজুতেও চাপ তৈরি হয়েছে।   বাজার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জি-৭ সম্মেলনে সতর্ক করে বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   এদিকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুললেও তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবহন অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং ট্যাংকার চলাচল পুনরায় সক্রিয় করতে সময় লাগবে।   বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কমে ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত পূর্ববর্তী অতিরিক্ত সরবরাহের ফল, যা এখন দ্রুত কমে যাচ্ছে।   গত কয়েক মাসে বিশ্বজুড়ে তেল মজুত প্রায় ১৯ কোটি ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তেল হাব ওকলাহোমার কাশিং এলাকাতেও মজুত ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রায় সীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে যাওয়ার পরও পুরো সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এই সময়ে বাজারকে বিদ্যমান মজুতের ওপর নির্ভর করতে হবে।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দৈনিক চাহিদার তুলনায় পাঁচ মিলিয়ন ব্যারেল অতিরিক্ত উৎপাদন থাকলেও হারানো বিপুল সরবরাহ পুনরুদ্ধারে প্রায় এক বছর সময় প্রয়োজন হতে পারে।   অন্যদিকে কিছু বাজার বিশ্লেষক মনে করছেন, উৎপাদনকারী দেশগুলোর বাড়তি উৎপাদন প্রবণতা এবং ওপেকভুক্ত দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তের কারণে বাজার দ্রুত ভারসাম্যে ফিরতে পারে।   তবে অন্যদিকে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি আগের তুলনায় দুর্বল অবস্থানে থাকায় ভবিষ্যতে দাম আবারও বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন সরবরাহ পুনর্গঠন ও মজুত পুনরায় পূরণের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাজেটের প্রতি ১০০ টাকায় কোন খাতে কত ব্যয়, এক নজরে দেখুন বরাদ্দের হিসাব

দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি ১০০ টাকা ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে। এর পরেই রয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত। বাজেটে সরকারের ব্যয় পরিকল্পনার খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ টাকা।   তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাত। কৃষি, রপ্তানি এবং অন্যান্য প্রণোদনামূলক কর্মসূচির জন্য প্রতি ১০০ টাকায় ১১ টাকা ৩০ পয়সা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ টাকা ১০ পয়সা। এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে ৮ টাকা ৮০ পয়সা।   বিভিন্ন ছোট-বড় খাতের সমন্বয়ে গঠিত অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা। স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে ৫ টাকা ৩০ পয়সা। সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে প্রতি ১০০ টাকায় ৪ টাকা ৭০ পয়সা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন সুবিধার জন্য ৪ টাকা ৫০ পয়সা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।   প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হবে ৪ টাকা ৩০ পয়সা এবং জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ টাকা ১০ পয়সা। কৃষি খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা। অন্যদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও পরিচালনায় ব্যয় হবে ২ টাকা ৯০ পয়সা।   প্রতি ১০০ টাকায় খাতভিত্তিক ব্যয় খাত বরাদ্দ ঋণের সুদ পরিশোধ ১৫.৫০ টাকা শিক্ষা ও প্রযুক্তি ১৪.০০ টাকা ভর্তুকি ও প্রণোদনা ১১.৩০ টাকা জনপ্রশাসন ৯.১০ টাকা পরিবহন ও যোগাযোগ ৮.৮০ টাকা অন্যান্য খাত ৬.১০ টাকা স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ৫.৭০ টাকা স্বাস্থ্য ৫.৩০ টাকা সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ ৪.৭০ টাকা পেনশন ৪.৫০ টাকা প্রতিরক্ষা ৪.৩০ টাকা জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ৪.১০ টাকা কৃষি ৩.৭০ টাকা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ২.৯০ টাকা   প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ ঋণের সুদ, শিক্ষা, ভর্তুকি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যয় হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন অর্থনীতি গঠনে সরকারের ১০টি অগ্রাধিকার ঘোষণা

দেশে সবার অংশগ্রহণ ও অংশীদারত্ব নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, বিনিয়োগ, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশসহ মোট ১০টি অগ্রাধিকার খাত চিহ্নিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে দেওয়া বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই অগ্রাধিকার খাতগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।   সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, উন্নয়নের সুফল দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সব অঞ্চলে সমভাবে পৌঁছে দিতে সুষম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবমুখী, দক্ষতানির্ভর ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   স্বাস্থ্য খাতে সবার জন্য মানসম্মত ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে জীবনচক্রভিত্তিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলা হয়। এতে শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত সব বয়সী নাগরিককে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় এনে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তি শক্তিশালী করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   অর্থনৈতিক কাঠামোতে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। কৃষিকে উৎপাদন, জীবিকা ও জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তার কৌশলগত খাত হিসেবে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ সহজ করতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ বা ডিরেগুলেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি সেবায় বিলম্ব ও অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া কমিয়ে স্বচ্ছ, সহজ ও সাশ্রয়ী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি আমানতকারীদের আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার সংস্কারের মাধ্যমে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।   জ্বালানি খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলা হয়েছে, উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানিব্যবস্থার মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল জ্বালানি নিরাপত্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান আইসিটি রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রযুক্তিগত অন্তর্ভুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা হবে।   পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জনগণের অংশগ্রহণে বনায়ন কর্মসূচিকে সবুজ বিপ্লবে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নদ-নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর কথাও বলা হয়েছে। এ ছাড়া টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে মেধাভিত্তিক, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হবে। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বাজেট প্রস্তাব পেশ করবেন। এটি বর্তমান সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট।   প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। সরকারের প্রধান রাজস্ব সংগ্রহকারী সংস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া এনবিআর বহির্ভূত কর রাজস্ব থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত রাজস্ব খাত থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রস্তাবিত বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ একটি বড় ব্যয় খাত হিসেবে থাকছে। এ খাতে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।   অন্যদিকে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধানের কারণে বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকার বিদেশি উৎস থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামো উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বাজেট উপস্থাপনের পর সংসদে এর ওপর আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে তা পাস করা হবে।   আগামীকাল বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনের মাধ্যমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের আয়-ব্যয়, রাজস্ব সংগ্রহ এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ছবি
যে স্বপ্নের টানে মানুষ ছুটে যায় আমেরিকায়, কতটা পূরণ হয় সেই স্বপ্ন?

আমেরিকান ড্রিম- শব্দ দুটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা ছবি। কারও কল্পনায় আসে স্ট্যাচু অব লিবার্টির উঁচু মশাল, কারও মনে জায়গা করে নেয় ফুলের বাগানঘেরা একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। আবার কেউ হয়তো কল্পনা করেন লাস ভেগাসের ঝলমলে আলো কিংবা ক্যাসিনোর ঘূর্ণায়মান রুলেট। কিন্তু আসলে কী এই আমেরিকান ড্রিম, যার টানে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ নিজের দেশ, পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবনের সন্ধানে পাড়ি জমায়?   এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সমাজের নানা স্তরে চোখ রাখতে হয়।   আমেরিকান ড্রিম নিয়ে রচিত সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কিন নাট্যকার আর্থার মিলারের কালজয়ী নাটক ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’। নাটকটিতে একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত আমেরিকান পরিবারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যারা বছরের পর বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সংগ্রামের পরও তাদের জীবনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে না।   নাটকের প্রতিটি চরিত্রের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ ভিন্ন। কেউ অর্থনৈতিক সফলতাকে গুরুত্ব দেয়, কেউ সামাজিক স্বীকৃতিকে। সময়ের সঙ্গে প্রতিকূলতা বাড়ে, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় স্বপ্নের সংজ্ঞাও।   বাস্তব জীবনেও চিত্রটি অনেকটা একই। একজন মানুষের কাছে একসময় বাড়ির সামনে দুটি গাড়ি থাকাই ছিল আমেরিকান ড্রিম। আজ হয়তো একটি গাড়ি ধরে রাখতে পারাটাই বড় সাফল্য। যে ব্যক্তি একসময় নিজের বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তার কাছে এখন ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় অর্জন।   আমেরিকান ড্রিমের উৎপত্তি ১৯৩১ সালে মার্কিন লেখক জেমস ট্রুসলো অ্যাডামস তার ‘দ্য এপিক অব আমেরিকা’ গ্রন্থে প্রথম ‘দ্য আমেরিকান ড্রিম’ শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় করেন। তবে তার ব্যাখ্যায় বস্তুগত সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল সুযোগের সমতা এবং ব্যক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে উন্নতির সম্ভাবনা। তার ভাষায়, আমেরিকা এমন একটি ভূমি, যেখানে সবার জন্য জীবন হবে আরও ভালো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও পরিপূর্ণ; যেখানে মানুষের সুযোগ নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা ও অর্জনের ভিত্তিতে।   যদিও এই ব্যাখ্যা ছিল বেশ সরল, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন লেখক ও গবেষক এ ধারণাকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। ফলে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে আলোচনা যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি নতুন প্রশ্নও সামনে এসেছে।   অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্যাপক অভিবাসনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইউরোপের মতো বংশ, গোত্র বা জাতিগত ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং একটি অভিন্ন আদর্শকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকান ড্রিমের ধারণা আরও শক্ত ভিত্তি পায়।   এ প্রসঙ্গে ১৯১৬ সালে প্রবন্ধকার অ্যাগনেস রিপলাইয়ারের ‘আমেরিকানিজম’ প্রবন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে অভিন্ন জাতীয় চেতনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   আমেরিকান ড্রিম কী? অনেক গবেষকের মতে, আমেরিকান ড্রিমের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সব মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী এবং প্রত্যেকের জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার রয়েছে।   সাধারণ মানুষের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ আরও সহজ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থার উন্নয়ন, সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া এবং ধর্ম, বর্ণ কিংবা সামাজিক পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ে তোলার সুযোগই এর মূল ভিত্তি।   সমাজতাত্ত্বিক এমিলি রোজেনবার্গ আমেরিকান ড্রিমের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো- বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আমেরিকাকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে দেখা, মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতি আস্থা রাখা, মুক্ত বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, তথ্য ও সংস্কৃতির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা, বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি সহায়তাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা।   এতক্ষণ পর্যন্ত আলোচনায় আমেরিকান ড্রিমকে একটি আদর্শিক ধারণা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণার সঙ্গে বাড়ি, গাড়ি ও আর্থিক সমৃদ্ধির সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো?   প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট বলেছিলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব নয়। ক্ষুধা ও বেকারত্ব একটি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।   পরবর্তী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার, সহজ ঋণ সুবিধা, বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাকেন্দ্রিক অর্থনীতির বিকাশের ফলে আমেরিকান ড্রিমের সঙ্গে বস্তুগত সফলতার সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে অনেকের কাছে আমেরিকান ড্রিম বলতে বোঝায় নিজের বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানের উন্নত শিক্ষা, পোষা প্রাণী, সফল ক্যারিয়ার কিংবা নিজের ব্যবসার মালিক হওয়া।   তবে সময়ের সঙ্গে এই স্বপ্ন অর্জন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, ঋণের বোঝা এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা আমেরিকান ড্রিমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় বাড়ির মালিক হওয়া ছিল এই স্বপ্নের প্রধান প্রতীক। কিন্তু বর্তমানে আবাসন খাতে মূল্যবৃদ্ধি ও কঠোর ঋণনীতির কারণে অনেকের কাছে সাশ্রয়ী ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত করাই বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।   ক্রেডিট ডটকমের এক জরিপ অনুযায়ী, ২৮ শতাংশ আমেরিকান পর্যাপ্ত সঞ্চয় নিয়ে অবসর জীবন কাটাতে চান। ২৩ শতাংশের কাছে ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তরুণদের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর অনেকের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিক্ষাঋণের চাপ থাকে। কর্মসংস্থানের বাজারও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ফলে অর্থনৈতিক সফলতা ও সামাজিক অগ্রগতির যে প্রতিশ্রুতি একসময় আমেরিকান ড্রিমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তা অনেকের কাছেই ক্রমশ অধরা হয়ে উঠছে।   তবুও আমেরিকান ড্রিমের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে এর সংজ্ঞা বদলেছে, অগ্রাধিকার বদলেছে, কিন্তু উন্নত জীবনের প্রত্যাশা ও সুযোগের সন্ধান এখনো লাখো মানুষের কাছে এই স্বপ্নকে জীবন্ত করে রেখেছে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
মে মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিএস । ছবি: সংগৃহীত
মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৪২ শতাংশ, বাড়ছে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম

দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ অব্যাহত রয়েছে। মে মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ বা পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে, যা আগের মাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নির্দেশ করে।   রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে মে মাসে ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে।   প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.০৫ শতাংশ। সে তুলনায় চলতি বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার আরও বেশি।   খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৬ শতাংশে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮.৩৯ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এই খাতেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮.৫৯ শতাংশ।   বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে।   অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে এই খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.৭১ শতাংশে। এপ্রিল মাসে এ হার ছিল ৯.৫৭ শতাংশ। গত বছরের মে মাসে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪২ শতাংশ।   খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে তুলছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান দেশ ছাড়ার পথে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার উপায় জানতে খরচ করছেন শত শত ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।   গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ।   বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।   জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান।   অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।   ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান।   ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।   ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন।   তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।

শাহারিয়া নয়ন মে ৩০, ২০২৬ ১৪:০ 0
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শারলে | ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় দেশ: ফরাসি রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিশাল ভোক্তা বাজারের কারণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলে তিনি জানান।   বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে ফরাসি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান। উভয় পক্ষ বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। রাষ্ট্রদূত মনে করেন, বর্তমান সংস্কার কার্যক্রমগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।   বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, বর্তমান সরকার একটি বিনিয়োগবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রশাসনিক জটিলতা কমানো এবং অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মূলত ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ বা সহজ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য।   ব্যবসায়িক নিবন্ধন ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও সময়োপযোগী করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ মে ৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: এআই
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে

তারেক রহমানের সরকারকে ক্ষমতায় আনা যে বিপ্লব, তা কোনোভাবেই একটি স্বৈরাচারের পরিবর্তে আরেকটি করপোরেট-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ছিল না যেখানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ওয়াশিংটনে। ইতিহাসে এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যায় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই দুর্বল রাষ্ট্রগুলোকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, তারা নিজেরাই নিজেদের অধীনস্থতার অংশীদার হয়ে যায়।   বাংলাদেশ, যা এখনো একটি ক্ষয়িষ্ণু শাসনের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে, তাড়াহুড়ো করে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আরেকটি শক্তির প্রভাবের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, নির্বাচিত নন এমন এক তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যিনি এই বিপ্লবের নেতৃত্ব দেননি দেশকে এমন এক ব্যবস্থার দিকে নিয়ে গেছেন, যা জাতীয় সক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করতে পারে।   ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত Agreement on Reciprocal Trade (ART) এই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ উদাহরণ। প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তিকে সরকার “সমঝোতা” হিসেবে তুলে ধরলেও সমালোচকদের মতে এটি এক ধরনের আনুগত্যের প্রকাশ।   অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক প্রশ্ন   বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৫এ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বলে যে, একটি অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘমেয়াদি আন্তর্জাতিক চুক্তি করতে পারে না, বিশেষ করে যেগুলো দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণকে প্রভাবিত করে।   তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু এই চুক্তির মাধ্যমে ১৫ বছরের জ্বালানি নির্ভরতা এবং বড় অঙ্কের আমদানি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   এই সিদ্ধান্তকে ন্যায্যতা দিতে “ডকট্রিন অব নেসেসিটি” বা ‘প্রয়োজনীয়তার তত্ত্ব’ ব্যবহার করা হয়েছে- যার মাধ্যমে বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুক্তি দেওয়া হয়। তবে ইতিহাস বলছে, এই তত্ত্ব প্রায়ই সাময়িক ব্যবস্থাকে স্থায়ী করে তোলে।   এই চুক্তির পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক চাপ। বাংলাদেশকে জানানো হয়, এই চুক্তির মাধ্যমে সেই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।   কিন্তু চুক্তির মাত্র ১১ দিনের মাথায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট সেই শুল্ক আরোপকে আইনি সীমালঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে। অর্থাৎ, যে কারণে বাংলাদেশ বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে, সেই কারণই এখন প্রশ্নবিদ্ধ।   ফলে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এমন এক সমস্যার সমাধানে বড় মূল্য দিয়েছে, যা হয়তো আইনগতভাবে টেকসইই ছিল না।   গোপন শর্ত    চুক্তির গোপন বা সূক্ষ্ম শর্তগুলো আরও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে “নন-মার্কেট ইকোনমি” দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করার ধারা বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্দিষ্ট পণ্য যেমন LNG, সয়াবিন ও বিমান ক্রয়ের বাধ্যবাধকতা স্থানীয় বাজার ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।   সমালোচকরা বলছেন, এ ধরনের চুক্তি আধুনিক বিশ্বে সরাসরি দখলদারিত্ব নয়, বরং অর্থনৈতিক ও নীতিগত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি।   সংসদের ভূমিকা    এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আগামী সংসদ এই চুক্তি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে। অনেকের মতে, এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং একটি সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রশ্ন।   বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের উচিত এই চুক্তি পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে তা সংশোধন বা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া।   বাংলাদেশের জনগণ যে পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করেছে, তা কোনোভাবেই আরেক ধরনের নিয়ন্ত্রণ বা নির্ভরতার জন্য ছিল না। যদি এখনই সচেতন সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে দেশকে এমন এক অবস্থায় পড়তে হতে পারে যেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু স্বাধীনতা থাকবে না।   আব্দুল্লাহ রুবাইয়াত চৌধুরী একজন সমাজবিজ্ঞানী এবং বর্তমানে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা গ্লোবাল নলেজ ইনিশিয়েটিভ-এর উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোক্টর। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে: robin.chw@gmail.com। এখানে প্রকাশিত মতামত সম্পূর্ণই লেখকের নিজস্ব। 

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি: বিশ্বজুড়ে কোথায় কত সম্পদ আটকে আছে ইরানের?

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা স্নায়ুযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান। সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার আগে তেহরান শুধু তাদের আটকে থাকা অর্থই ফেরত চায়নি, বরং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এবং সরকারের মুখপাত্র ফাতিমা মাহাজিরানি জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় সৃষ্ট আর্থিক লোকসান মিলিয়ে এই অংক করা হয়েছে, যা সময়ের সাথে আরও বাড়তে পারে। কোথায় এবং কীভাবে জব্দ আছে ইরানের সম্পদ? ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে আছে। এর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:   সময়কাল/উৎস সম্পদের পরিমাণ (আনুমানিক) বর্তমান অবস্থা ১৯৭৯ (জিমি কার্টার আমল) ৮ - ১১ বিলিয়ন ডলার মার্কিন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জব্দ। ২০১৫ (পারমাণবিক চুক্তি) ১০০ বিলিয়ন ডলার (ওবামা) চুক্তির পর আংশিক (২৯-৬০ বিলিয়ন) ব্যবহারের সুযোগ পায়। ২০১৮ (ট্রাম্প আমল) অনির্দিষ্ট চুক্তি থেকে সরে আসায় পুনরায় সম্পদ জব্দ করা হয়। ২০২৩ (কাতার মধ্যস্থতা) ৬ বিলিয়ন ডলার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, তবে বর্তমানে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। ইরানি সংবাদ সংস্থা প্রেস টিভির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশের ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে রয়েছে: সিটি ব্যাংক ও ব্যাংক অফ আমেরিকা, এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, বিএনপি পারিবাস ও ডয়েচে ব্যাংক। এছাড়াও শেল, টোটাল, সিমেন্স এবং বোয়িং-এর মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের প্রকল্প মাঝপথে ছেড়ে চলে যাওয়ায় ইরানের বিশাল পুঁজি আটকা পড়ে আছে। আস্থার সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৩ সালে কাতার ৫ ইরানি বন্দির বিনিময়ে যে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের ব্যবস্থা করেছিল, ২০২৪ সালে ইসরায়েল-ইরান উত্তজনা বৃদ্ধির পর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সেই অর্থ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া কোনো আলোচনার বিষয় হতে পারে না (Non-negotiable)। এটি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির আশা করা বৃথা। তেহরানের মতে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে ওয়াশিংটনকে তাদের 'আন্তরিকতার পরীক্ষা' দিতে হবে এই অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইস্টার্ন রিফাইনারি
বিপাকে ইস্টার্ন রিফাইনারি, তেল নিয়ে দুশ্চিন্তা কতটুকু?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম বড় তেল সংকটের মুখোমুখি। অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ ও এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের চালানগুলো যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে থাকা জরুরি মজুত বা 'ডেড স্টক' ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিটকে রক্ষণাবেক্ষণের (মেইনটেনেন্স) কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ চালানের পর থেকে আর কোনো তেল আসেনি। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট জটিলতায় মার্চ মাসের প্রায় দুই লাখ টন তেলের চালান আটকে আছে। তবে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন একটি চালান আসার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। রিফাইনারির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসলেও দেশে তেলের সংকট হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন সরাসরি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের মতে, এ মাসে আসার কথা থাকা ১৭টি কার্গোর মধ্যে ১৪টি নিয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। ১৯৬৮ সালে নির্মিত এই পুরনো শোধনাগারটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চমানের ক্রুড পরিশোধন করতে পারে। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করতে ৩১ হাজার কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ যে কোনো দেশের সস্তা ক্রুড অয়েল পরিশোধন করতে পারবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ড. ইজাজ হোসেন ও অধ্যাপক ম তামিমের মতে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও ডলার সংকটের সময়ে এত ব্যয়বহুল প্রকল্প কতটা লাভজনক হবে তা দেখার বিষয়। এছাড়া অতিরিক্ত পেট্রোল উৎপাদনের ফলে তা রপ্তানির প্রয়োজন হতে পারে, যার বাজার ধরা চ্যালেঞ্জিং। অন্যদিকে সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ফসিল ফুয়েলে এত বড় বিনিয়োগ না করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সব বাধা পেরিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিপিসি। মহেশখালীতে এসপিএম টার্মিনাল ও পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় তেল খালাসের অবকাঠামো এখন প্রস্তুত।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রুপির পতন: বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধাপ নামল ভারত

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় রদবদল। পঞ্চম স্থান থেকে এক ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ভারত। মূলত ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার (রুপি) ক্রমাগত দরপতন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জিডিপি সংশোধনের প্রভাবেই এই অবনমন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডার (আইএমএফ)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই তালিকায় ভারতের সামনে রয়েছে আমেরিকা, চীন, জার্মানি, ব্রিটেন এবং জাপান। তালিকার শীর্ষে থাকা আমেরিকার অর্থনীতির আকার ৩০.৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের ১৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে ব্রিটেনকে টপকে ভারত পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছিল। তখন ভারতের অর্থনীতির আকার ছিল ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, ২০২৭ সালের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তবে সাম্প্রতিক এই পতন সেই লক্ষ্যমাত্রায় সাময়িক ধাক্কা দিল বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারত এই ষষ্ঠ অবস্থানেই থাকতে পারে। তবে আশার কথা হলো, ২০২৭ সালে পুনরায় ব্রিটেনকে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। আইএমএফের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, র‍্যাঙ্কিংয়ে সামান্য পিছিয়ে গেলেও ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধিষ্ণু প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এমনকি মাঝারি মেয়াদেও ভারত ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতির আকার ৬.১৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা দেশটিকে জার্মানির খুব কাছাকাছি নিয়ে আসবে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শীর্ষ তিনে পৌঁছানোর দৌড়ে ভারত এখনও টিকে থাকলেও, ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থনীতি নিয়ে আমেরিকা নিজের শীর্ষস্থান ধরে রাখবে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ধনী জিনা রাইনহার্ট। ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর রায়: খনির রয়্যালটির ভাগ দিতে হবে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনী রাইনহার্টকে

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ধনী জিনা রাইনহার্টকে খনির রয়্যালটির অংশ ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।   রায়ে বলা হয়েছে, প্রয়াত খনি উদ্যোক্তা পিটার রাইটের উত্তরাধিকারীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘রাইট প্রসপেক্টিং’ পিলবারা অঞ্চলের হোপ ডাউনস খনি থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির একটি অংশ পাওয়ার অধিকারী। এই খনি পরিচালনায় রাইনহার্টের প্রতিষ্ঠান ‘হ্যানকক প্রসপেক্টিং’ আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিনটোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।   মামলার সূত্রপাত কয়েক দশক আগে করা একটি অংশীদারত্ব চুক্তিকে ঘিরে। রাইনহার্টের বাবা ল্যাং হ্যানকক এবং পিটার রাইট যৌথভাবে ‘হ্যানরাইট’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তুলে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় লৌহ আকরিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই রাইট পরিবারের পক্ষ থেকে রয়্যালটির দাবি করা হয়।   আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, হোপ ডাউনস প্রকল্প থেকে ‘হ্যানকক প্রসপেক্টিং’ যে ২ দশমিক ৫ শতাংশ রয়্যালটি পায়, তার অর্ধেক ‘রাইট প্রসপেক্টিং’-এর প্রাপ্য। গত বছর এই খনি থেকে রাইনহার্টের প্রতিষ্ঠানের আয় ছিল প্রায় ৮৩ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার।   তবে খনির মালিকানা নিয়ে রাইট পরিবারের দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে খনিগুলোর পূর্ণ মালিকানা রাইনহার্টের কাছেই বহাল থাকছে। বিচারক বলেন, মামলার বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষই আংশিকভাবে জয়ী ও পরাজিত হয়েছে। এ ছাড়া খনি অনুসন্ধানকারী ডন রোডসের উত্তরাধিকারীদের একটি প্রতিষ্ঠানের আংশিক রয়্যালটি দাবিও আদালত মঞ্জুর করেছেন।   অন্যদিকে, রাইনহার্টের দুই সন্তান জন হ্যানকক ও বিয়ানকা রাইনহার্ট পারিবারিক ট্রাস্ট সংক্রান্ত অভিযোগ তুললেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। ৭১ বছর বয়সী রাইনহার্ট তাঁর বাবার মৃত্যুর পর ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধার করে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনীদের কাতারে উঠে আসেন।   বিশেষ করে চীনে শিল্পায়নের ফলে লৌহ আকরিকের চাহিদা বৃদ্ধির সময় তাঁর সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বলে জানা গেছে। দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি লড়াইয়ে বিপুল পরিমাণ নথি উপস্থাপন করা হয়। রায়ের পর উভয় পক্ষই আংশিক সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ: ইরানের অর্থনীতিতে কতটা বড় ধাক্কা?

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই অবরোধ আরোপ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য ইরানের বন্দরগুলোতে জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এই পদক্ষেপে ইরান কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তেহরানের সামনে পাল্টা কোনো বিকল্প পথ খোলা আছে কি? অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ইরান বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নৌ-অবরোধের ফলে ইরান প্রতিদিন প্রায় ২৭৬ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের রপ্তানি আয় হারাতে পারে। এছাড়া আমদানি খাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে ইরানের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের তেল নির্ভর অর্থনীতি এই ধাক্কা কতদিন সামলাতে পারবে, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় দেখা দিয়েছে। তেহরানের হাতে কি কোনো ‘এস্কেপ রুট’ আছে? আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান এই অবরোধকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিলেও তারা বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। ওমান উপসাগর এবং পাকিস্তানের সীমান্ত ব্যবহার করে স্থলপথে বাণিজ্য চালিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান। এছাড়া চীন ও রাশিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় অবরোধ পাশ কাটিয়ে সীমিত আকারে তেল সরবরাহের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালীর মতো বিশাল করিডোর বন্ধ হয়ে গেলে সেই ঘাটতি অন্য কোনো পথে পূরণ করা ইরানের জন্য প্রায় অসম্ভব। বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বের অনেক দেশই যুক্তরাষ্ট্রের এই একক অবরোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, অবরোধ চলাকালীন কোনো ইরানি জাহাজ মার্কিন নৌবহরের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করলে সেটিকে তাৎক্ষণিক ধ্বংস করা হবে। তবে তিনি এখনো আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন বলে দাবি করেছেন। নসব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীতে দুই শক্তির এই ‘ইঁদুর-বেড়াল’ খেলা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।  

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ফাইল ফটো।
বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ, ভয়াবহ মন্দার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এই সংঘাতের জেরে চলতি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফ-এর সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.১ শতাংশ। যা গত জানুয়ারি মাসের পূর্বাভাসের চেয়ে ০.২ শতাংশ কম। আইএমএফ এই পূর্বাভাস দিয়েছে যুদ্ধ ‘স্বল্পকাল’ স্থায়ী হবে—এমন ধারণা থেকে। তবে সংস্থাটি দুটি নেতিবাচক পরিস্থিতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং এর ফলে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম গত জানুয়ারির তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, তবে প্রবৃদ্ধির হার নেমে আসতে পারে মাত্র ২ শতাংশে। আইএমএফ-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গৌরিঞ্চাস রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ হঠাৎ করেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এমন এক ‘জ্বালানি সংকট’ তৈরি করতে পারে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে মাত্র চারবার ২ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যে পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক মন্দা হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বিশ্ব আবারও সেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে কমছে জ্বালানি তেলের দাম, তবে অনিশ্চয়তা কাটেনি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিয়মিত গ্রেডের প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের (পেট্রোল) দাম প্রায় ১ সেন্ট কমে ৪.১২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইরানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই তেলের দাম সর্বোচ্চ ৪.১৭ ডলারে পৌঁছেছিল। সেই হিসেবে গত কয়েক দিনে গ্যালন প্রতি দাম কমেছে মোট ৫ সেন্ট। তবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি পরিবহনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট 'হরমুজ প্রণালী' এখনও ট্যাঙ্কার চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে। মঙ্গলবার ভোরে তেলের ফিউচার মার্কেটে দাম কিছুটা কমলেও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় কোনো সুখবর এখনই নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম কমতে থাকলেও আগামী এক বা দুই সপ্তাহের আগে গ্যালন প্রতি গড় মূল্য ৪ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ছিল গ্যালন প্রতি ৩ ডলারের নিচে। সেই আগের অবস্থায় ফিরতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতীক: শুভেচ্ছা বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তা, ইতিহাস ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।   বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নববর্ষ নতুনের আহ্বান নিয়ে আসে এবং পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়। তিনি উল্লেখ করেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।   তিনি আরও বলেন, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন বাঙালির সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য তুলে ধরে এবং জাতীয় ঐক্যকে দৃঢ় করে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।   কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন আজ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন আজ ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির প্রি-পাইলট কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সকাল সাড়ে ১০টায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের সন্তোষে পৌঁছে তিনি প্রথমে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে কৃষক কার্ড উদ্বোধন শেষে পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করবেন এবং বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন।   জানা গেছে, দেশের ১১টি উপজেলায় একযোগে এ কর্মসূচির যাত্রা শুরু হবে। এর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজারের জুড়ী।   ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক এর আগে দেশের বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন খাতের ১৫ জন শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিন ধাপে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকগুলোতে খাদ্য, কৃষি, শিল্প ও করপোরেট খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা অংশ নেন। এতে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং শিল্পোন্নয়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
জ্বালানির দামে স্বস্তি দিতে দুই মাস কর কমাবে জার্মানি

যুদ্ধের প্রভাবে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দামের চাপ কমাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানোর ঘোষণা দিয়েছে জার্মানি। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আগামী দুই মাসের জন্য কার্যকর থাকবে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ের জন্য প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট (প্রায় ০.২০ ডলার) কর কমানো হবে।   সিডিইউ দল ও জোটসঙ্গীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জার্মান চ্যান্সেলর। তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা যে চাপের মুখে পড়েছেন, তা কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এর প্রভাব ইউরোপের দেশগুলোতেও পড়েছে, যার ফলে সরকারগুলোকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লা নোট বদলে দিতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের; অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা

বাজারে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোটের আধিক্য দূর করতে এবং লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১২ এপ্রিল ২০২৬ (রোববার) জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে এই ধরণের নোট গ্রহণ এবং তার বিপরীতে বিনিময় মূল্য প্রদানে কোনো ব্যাংক অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট শাখার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘পরিচ্ছন্ন নোট নীতিমালা’ (Clean Note Policy) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোটগুলো বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে গ্রহণ করে গ্রাহককে ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদান করতে বলা হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে এ বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো ত্রুটিপূর্ণ নোটের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে।   ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারিকৃত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কে এম ইব্রাহিম। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে এই বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল শুরু, স্বস্তিতে বিশ্ববাজার

দীর্ঘ উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সুযোগে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে পুনরায় জ্বালানি তেলবাহী বিশালাকার ট্যাংকার চলাচল শুরু হয়েছে। শিপিং ডেটা বা জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে রোববার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম এই ‘চোক পয়েন্ট’ বা সংকীর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। তবে বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন স্থবির হয়ে পড়া কয়েকশ ট্যাংকারের মধ্যে অন্তত তিনটি সুপারট্যাংকার ইতোমধ্যে এই এলাকা অতিক্রম করেছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (LSEG) তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ও চীনের পতাকাবাহী তিনটি ‘ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার’ (VLCC) শনিবার হরমুজ প্রণালীর ট্রায়াল অ্যাঙ্করেজ এলাকা পার হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘সেরিফস’ এবং চীনের ‘কসপিয়ার্ল লেক’ ও ‘হে রং হাই’। এর প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম। বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে ইরাকি তেল নিয়ে ‘ওশান থান্ডার’ নামক আরেকটি ট্যাংকার সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করার পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরতে শুরু করেছে। বর্তমানে অন্তত তিনটি খালি জাহাজ তেল লোড করার জন্য পারস্য উপসাগরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এদিকে ইসলামাবাদে পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স কোনো রফাসূত্র ছাড়াই ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইরান এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর টোল আদায়ের প্রস্তাব দিলেও আন্তর্জাতিক মেরিটাইম সংস্থা (IMO) এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও এলএনজি (LNG) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই প্রবাহ অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিরসনে হরমুজ প্রণালী নিয়ে একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক চুক্তিতে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
দুই দশকে ৭ লাখ কম জন্ম: যুক্তরাষ্ট্রে জনসংখ্যা সংকটের নীরব সতর্কবার্তা

যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি ও অভিবাসন সংকটের আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্রে ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে আরেকটি বড় সংকট—জন্মহার কমে যাওয়া। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অর্থনীতি ও জনসংখ্যা কাঠামোর ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে ৩৬ লাখ ৬ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। অথচ ২০০৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ লাখের বেশি। অর্থাৎ দুই দশকেরও কম সময়ে জন্মের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭ লাখ ১০ হাজার। একই সময়ে দেশের মোট জনসংখ্যা বেড়েছে, যা এই প্রবণতাকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।   তথ্যে দেখা গেছে, ২০০৭ সালের পর থেকে জন্মহার ধারাবাহিকভাবে কমছে। বর্তমানে তা প্রায় ২৩ শতাংশ কমে গেছে। সাম্প্রতিক এক বছরেই জন্মহার আরও ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা এই প্রবণতার ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।   জন্মহার কমার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অর্থনৈতিক চাপ, যেমন—বাসস্থান ব্যয় বৃদ্ধি, সন্তান লালনপালনের উচ্চ খরচ ও পেশাগত অনিশ্চয়তা একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেরিতে নিচ্ছেন বা এড়িয়ে যাচ্ছেন।   তথ্য অনুযায়ী, কম বয়সী নারীদের মধ্যে জন্মহার দ্রুত কমছে। যদিও ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে জন্ম কিছুটা বাড়ছে, তবে তা সামগ্রিক পতন পূরণ করার মতো নয়।   এই প্রবণতা শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মহার হ্রাস এবং অভিবাসন কমে যাওয়ার ফলে আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হতে পারে। তরুণ জনগোষ্ঠী কমে গেলে শ্রমবাজারে চাপ বাড়বে এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর বোঝা বহন করা কঠিন হয়ে উঠবে।   অভিবাসন নীতির কড়াকড়িও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগে জন্মহার কমলেও অভিবাসনের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ হতো। এখন সেই সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলাচ্ছে। তবে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। কিশোরী মায়েদের সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে, যা জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সামগ্রিক জন্মহার পতনের প্রেক্ষাপটে এই অর্জন বড় সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়।   পরিবার গঠন সহজ করতে নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা থাকলেও, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে ধীরে ধীরে পরিবর্তিত জনসংখ্যা কাঠামো ভবিষ্যতের অর্থনীতি ও সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0