আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে, একটি বাড়ি কিনতে এখনো দরকার লাখ ডলারের বেশি আয়

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২১:৫৯
রেডফিনের নতুন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের সামর্থ্য নিয়ে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। ছবি: সংগৃহীত
রেডফিনের নতুন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের সামর্থ্য নিয়ে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এখনো এক কঠিন বাস্তবতা হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের ধারাবাহিক পতনের পর দেশটির আবাসন খাতের সামর্থ্যের সূচক কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, একটি বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ৬ অঙ্কের বা কমপক্ষে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি উপার্জনের প্রয়োজন পড়ছে।

 

আবাসন খাতের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির উপাত্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি গড়পরতার বাড়ি কেনা এবং তার বিপরীতে আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের মধ্যে মাসিক ঋণের কিস্তি (মর্গেজ) সীমাবদ্ধ রাখার জন্য একটি পরিবারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ ডলার। যদিও এক বছর আগে রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ ডলারের তুলনায় এই অঙ্ক মাত্র ০.৫ শতাংশ কমেছে, তবুও তা বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকের আয়ের সাধ্যের বাইরে।

 

বাস্তবতার সঙ্গে এই প্রয়োজনীয় আয়ের বড় ফারাক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাধারণ পরিবারের গড় বার্ষিক আয় বর্তমানে ৮৭ হাজার ৫৯৯ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বাড়লেও বাড়ি কেনার জন্য দরকারি অঙ্কের চেয়ে অনেক কম। হিসাব অনুযায়ী, একজন গড় আয়ের আমেরিকান পরিবার যদি একটি মাঝারি দামের বাড়ি কিনতে যায়, তবে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশই চলে যাবে কেবল বাড়ির কিস্তি মেটাতে।

 

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে রেডফিনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইয়িংকি সু জানান, কয়েক বছর টানা অবস্থা খারাপ হওয়ার পর বাড়ি কেনার প্রয়োজনীয় আয়ের অঙ্কটি কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে বা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বাড়ি কেনা সহজ বা সাশ্রয়ী হয়ে গেছে। এখনো একজন সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি কেনার খরচের মধ্যে দুই অঙ্কের শতাংশের এক বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে। ফলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া বহু প্রাক-ক্রেতা বাজারের বাইরে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

 

তবে এই সংকটের মধ্যেও অর্থনীতির খাতায় সামান্য কিছু স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আয় ও প্রকৃত আয়ের মধ্যবর্তী ঘাটতি গত দুই বছরের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। দুই বছর আগে যেখানে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৮৩৪ ডলার এবং গত বছর ছিল ২৬ হাজার ১২৫ ডলার, তা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ ডলারে। পাশাপাশি বাজারে সক্রিয় বিক্রির জন্য থাকা মোট বাড়ির ৩৪.২ শতাংশ এখন সাধারণের কেনার সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩০.৫ শতাংশ।

 

অন্যদিকে যারা জীবনে প্রথমবারের মতো প্রারম্ভিক স্তরের (এন্ট্রি-লেভেল) বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে খরচ সামান্য কমেছে। এ ধরনের বাড়ি কেনার জন্য বর্তমানে বার্ষিক ৭০ হাজার ৬৯৩ ডলার আয়ের প্রয়োজন, যা এক বছর আগের চেয়ে ১.৫ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এবং সান হোসে-এর মতো প্রধান প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে আবাসন সাশ্রয়ের সূচকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে কেবল সেন্ট লুইস, ইন্ডিয়ানাপলিস এবং পিটসবার্গ এই তিনটি শহরেই সাধারণ পরিবারের বর্তমান গড় আয় দিয়ে একটি মাঝারি মানের বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
আসমা আলী, মিসিসিপির একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন আসমা আলী, মিসিসিপিতে প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী আসমা আলী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে এখনো মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।    আসমা আলীর নিয়োগের খবরটি প্রথম দিকের প্রকাশ্য অভিনন্দন বার্তাগুলোর একটি হিসেবে লিংকডইনে শেয়ার করেন নিউইয়র্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা এবং ব্রিজিং কালচারস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ডেবি আলমন্টাসার। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আসমা আলীকে চেনেন এবং শুরু থেকেই বিশ্বাস করতেন যে তিনি একদিন বড় অর্জনের স্বাক্ষর রাখবেন। তিনি আরও লেখেন, এই নিয়োগ ইয়েমেনি-আমেরিকান, মুসলিম ও হিজাবি নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক।   ড. আলমন্টাসারের পোস্ট অনুযায়ী, আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা-মা ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরে তিনি নিজস্ব অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের আইনি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁর পেশাগত কাজের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন।   মিসিসিপিতে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে এবং অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেতে নির্ধারিত আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।    এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আসমা আলীর নিয়োগ নিয়ে মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট আদালত, পৌর কর্তৃপক্ষ বা অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী মিউনিসিপাল কোর্ট বিচারক এই দাবিটি বর্তমানে ড. ডেবি আলমন্টাসারের লিংকডইন পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২২:৪২
লেক মিশিগানে ডুবে মারা যাওয়া শিক্ষিকা হান্নাহ জভেইগ ও তার ছোট ভাই ইয়োসেফ জভেইগ। ছবি: সংগৃহীত

লেকে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না, ডুবে মারা গেলেন তরুণ শিক্ষিকা ও তার ভাই

রেডফিনের নতুন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের সামর্থ্য নিয়ে উঠে এসেছে নতুন তথ্য। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে, একটি বাড়ি কিনতে এখনো দরকার লাখ ডলারের বেশি আয়

আশ্রয় আবেদন বিচারাধীন থাকলেও আইসিইর হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ছবি: সংগৃহীত

বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে বাগদত্তা আটক, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত সমর্থক

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কর্মসংস্থানের বড় অংশ পেয়েছেন নারী কর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্ট নতুন চাকরির প্রায় ৯০ শতাংশই পেয়েছেন নারীরা, কারণ জানালেন অর্থনীতিবিদ

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্টি হওয়া নতুন চাকরির বড় অংশই নারীদের দখলে গেছে। নতুন এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার নতুন নন-ফার্ম বেতনভুক্ত চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ লাখ ৩ হাজার চাকরি পেয়েছেন নারী কর্মীরা। পুরুষদের ভাগে এসেছে মাত্র ৬৫ হাজার চাকরি।   অর্থনীতিবিদ জাস্টিন উলফার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মূল কারণ কর্মসংস্থানের ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে যেখানে ঐতিহাসিকভাবেই নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুবিধাও তুলনামূলকভাবে নারীরাই বেশি পেয়েছেন।   বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম খাতে কর্মরত নারীর সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে সামান্য বেশি। দেশটির ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বারের মতো ঘটল। ১৯৭০ সালে একই খাতে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে গত পাঁচ দশকে ধীরে ধীরে সেই ব্যবধান কমে এসে এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নন-ফার্ম কর্মসংস্থানের হিসাবের বাইরে কৃষি খাতের চাকরি রাখা হয়।   উলফার্সের মতে, এটি নারীদের প্রতি নিয়োগদাতাদের বিশেষ পক্ষপাতের ফল নয়। বরং অর্থনীতির যে খাতগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেগুলোতেই আগে থেকেই নারী কর্মীর আধিক্য ছিল। তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী-প্রধান শিল্পখাতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। বিপরীতে পুরুষ-প্রধান খাতে ২ লাখ ১৮ হাজার এবং তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ খাতে ১ লাখ ৪২ হাজার চাকরি কমেছে।   বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান দ্রুত বেড়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই খাতে কর্মরতদের ৭৫ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। ফলে নতুন নিয়োগের বড় অংশও স্বাভাবিকভাবেই নারীদের ঝুলিতে গেছে।   অর্থনীতিবিদ উলফার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন ক্রমেই সেবাভিত্তিক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং বয়স্কদের সেবার মতো খাতে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একটি দেশ যখন আরও সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ হয়, তখন অর্থনীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক।   তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশের মানুষ কৃষি ও উৎপাদনশিল্পে কাজ করলেও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এখন অনেক কম শ্রমিক দিয়েই একই বা তার চেয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে শ্রমশক্তি ধীরে ধীরে সেবা খাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। আধুনিক কারখানা ও খামারে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের ধরণও বদলে যাচ্ছে।   উলফার্সের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যে খাতগুলো সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, সেগুলোকে অনেক সময় "পিঙ্ক-কলার অর্থনীতি" বলা হয়। এসব পেশায় ঐতিহাসিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি এবং এখনও পুরুষদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে পুরুষদের কর্মসংস্থানও বাড়াতে হলে দ্রুত সম্প্রসারিত এসব খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২০:৫২
মিসৌরির হাউস স্প্রিংসে গুলির ঘটনায় নিহত জেসিকা ল্যাশলি ও তার মেয়ে জার্সি গ্রিয়ার। ছবি: সংগৃহীত

শব্দদূষণ নিয়ে তুচ্ছ তর্ক: যুক্তরাষ্ট্রে মা ও ১৭ বছরের কিশোরীকে গুলি করে হত্যা প্রতিবেশীর

টেক্সাসে ১১২ মাইল গতির বিএমডব্লিউর ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত প্রবীণ দম্পতি

টেক্সাসে ১১২ মাইল গতির বিএমডব্লিউর ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত প্রবীণ দম্পতি

নিউইয়র্কে কম খরচে থাকার সুযোগ, আবাসন লটারিতে ভাড়া মাত্র ৫০০ ডলার

নিউইয়র্কে কম খরচে থাকার সুযোগ, আবাসন লটারিতে ভাড়া মাত্র ৫০০ ডলার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ারবলে ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জ্যাকপট, প্রকাশিত হলো লাকি নম্বর
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়ারবলে ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জ্যাকপট, প্রকাশিত হলো লাকি নম্বর

আগামী ৫ আগস্টের ড্রয়ের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় লটারি পাওয়ারবল জ্যাকপটের পুরস্কারের অঙ্ক বেড়ে ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারে (নগদ মূল্য ৩৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার) পৌঁছেছে। বুধবার রাতের এই পুরস্কারটি পাওয়ারবলের ইতিহাসে নবম বৃহত্তম জ্যাকপট হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। গত ২ মে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার দুজন বিজয়ীর মধ্যে ২ কোটি ডলারের জ্যাকপট ভাগাভাগি হওয়ার পর থেকে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে এই লটারির শীর্ষ পুরস্কার কেউ জিততে পারেননি। ফলে এই দীর্ঘ সময়ে পুরস্কারের অর্থ জমতে জমতে একটি সাধারণ জ্যাকপট থেকে এটি বছরের অন্যতম বৃহৎ লটারিতে পরিণত হয়েছে।   ৫ আগস্টের বহুল কাঙ্ক্ষিত পাওয়ারবল ড্রয়ের বিজয়ী নম্বরগুলো হলো: ১৪, ২০, ৫৯, ৬০, ৬১ এবং পাওয়ারবল নম্বর হলো ২৫। আগামী ড্রটি ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে, যা পাওয়ারবলের ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। উল্লেখ্য, এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাজ্যেও পাওয়ারবল লটারির টিকিট বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা এই খেলায় কয়েক লাখ নতুন প্রতিযোগীকে যুক্ত করবে। যুক্তরাষ্ট্রে টিকিটের দাম ২ ডলার হলেও যুক্তরাজ্যে এর দাম ধরা হয়েছে ৪ পাউন্ড বা প্রায় ৫.৩২ ডলার। জ্যাকপট জেতার পর পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রেও থাকছে পার্থক্য; মার্কিন বিজয়ীরা এককালীন নগদ অর্থ বা ৩০ বছরের বার্ষিক কিস্তির যেকোনো একটি বেছে নিতে পারলেও যুক্তরাজ্যের বিজয়ীদের শুধুমাত্র যুক্তরাজ্যের জাতীয় লটারির মাধ্যমে ৩০ বছরের বার্ষিক কিস্তিতেই অর্থ প্রদান করা হবে।   লটারির নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৪৫টি অঙ্গরাজ্যসহ ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া, পুয়ের্তো রিকো এবং ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসে ২ ডলারের বিনিময়ে পাওয়ারবল টিকিট কেনা যায়। এতে ১ থেকে ৬৯ নম্বরের পাঁচটি সাদা বল এবং ১ থেকে ২৬ নম্বরের একটি লাল পাওয়ারবল বেছে নিতে হয়। কেউ চাইলে ১ ডলার অতিরিক্ত খরচ করে 'পাওয়ার প্লে' সুবিধা যোগ করতে পারেন, যা জ্যাকপট ছাড়া অন্যান্য পুরস্কারের অঙ্ক বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একটি মজার বিষয় হলো, এই জ্যাকপট জেতার জন্য মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। দেশটিতে ভ্রমণরত যেকোনো বিদেশি নাগরিক বয়সসীমা (সাধারণত ১৮ বছর) মেনে বৈধ বিক্রেতার কাছ থেকে টিকিট কিনে এই লটারিতে অংশ নিতে পারেন।   এই ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের জ্যাকপটটি লটারির ইতিহাসের অন্যতম বিশাল একটি পুরস্কার। পাওয়ারবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জ্যাকপট জয়ের রেকর্ডটি হয়েছিল ২০২২ সালের ৭ নভেম্বর, যেখানে ক্যালিফোর্নিয়ায় এক ব্যক্তি ২০৪ কোটি বা ২.০৪০ বিলিয়ন ডলার জিতেছিলেন। এরপর ২০২৫ সালে আরকানসাসে ১.৮১৭ বিলিয়ন ডলার এবং একই বছর মিসৌরি ও টেক্সাসে ১.৭৮৭ বিলিয়ন ডলারের জ্যাকপট জেতার ঘটনা ঘটে। এবারের জ্যাকপটের বিজয়ী কে হবেন বা আদৌ কেউ এই বিপুল অর্থ জিততে পারবেন কি না, সেদিকেই এখন নজর সবার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৯:১০
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলছাত্র হ ত্যার পেছনে যৌন হেনস্থার অভিযোগ

ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলছাত্র হ ত্যার পেছনে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, আদালতে প্রসিকিউশনের দাবি

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বাতিলে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ও ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বাতিলে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

কসকোর সামনে নারী সহকর্মীকে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে ধরতে দেখে ক্ষেপে যান তরুণ, গাড়িচাপায় হত্যা সহকর্মীকে

কসকোর সামনে নারী সহকর্মীকে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে ধরতে দেখে ক্ষেপে যান তরুণ, গাড়িচাপায় হত্যা সহকর্মীকে

0 Comments