বিশ্ববাজারে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের তীব্র সংকট এবং উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে নিজেদের মূল পণ্যগুলোর দাম শত শত ডলার বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এবং মাইক্রোসফট। গত বৃহস্পতিবার অ্যাপল তাদের নির্দিষ্ট কিছু ম্যাকবুক এবং আইপ্যাডের দাম সর্বোচ্চ ৩০০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর কথা জানায়। এর কিছু সময় পরেই মাইক্রোসফট ঘোষণা করে, আগামী ১ আগস্ট থেকে তাদের জনপ্রিয় এক্সবক্স (Xbox) গেমিং কনসোলের দামও বৃদ্ধি পাবে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ডেটা সেন্টারের ব্যাপক বিস্তারের কারণে চিপের এই তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। অ্যাপল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিপ ও যন্ত্রাংশের দাম এত কম সময়ে এতটা বাড়তে তারা আগে কখনো দেখেনি। এতদিন গ্রাহকদের ওপর বাড়তি খরচের চাপ না দিলেও পরিস্থিতি এখন আর নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট 'দ্য ভার্জ'-এর তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপলের বাজেট-বান্ধব ল্যাপটপ 'ম্যাকবুক নিও'র দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৯৯ ডলার করা হয়েছে। এছাড়া ৫১২ জিবি ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১,০৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ১,২৯৯ ডলার এবং ১ টেরাবাইট ম্যাকবুক প্রোর দাম ১,৬৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১,৯৯৯ ডলার করা হয়েছে। তবে এই দফায় আইফোনের দাম বাড়ানো না হলেও বাজার বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, খুব শীঘ্রই আইফোনের দাম বাড়ার ঘোষণাও আসবে। দাম বাড়ার এই খবরের পর অ্যাপলের শেয়ারের দর প্রায় ৫.৬ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে ব্যবহৃত মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম ইতিমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে আরও দ্বিগুণ হতে পারে। এই সংকটের কারণে আগামী ১ আগস্ট থেকে ৫১২ জিবি স্টোরেজের এক্সবক্স কনসোলের দাম ১০০ ডলার বাড়িয়ে প্রায় ৫০০ ডলার করা হচ্ছে। এছাড়া ১ টেরাবাইট স্টোরেজের এক্সবক্সের দাম বাড়ছে ১৫০ ডলার। গত বছরও মাইক্রোসফট তাদের এক্সবক্সের দাম ২০ থেকে ৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা কর্পোরেশন (IDC) জানিয়েছে, চিপের এই বিশ্বব্যাপী সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। করোনা মহামারীর সময় কারখানা বন্ধ থাকায় চিপের যে সংকট শুরু হয়েছিল, তা এখন এআই প্রযুক্তির বৈপ্লবিক চাহিদার কারণে চরম আকার ধারণ করেছে। গত ১৭ জুন ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী (CEO) টিম কুক বলেন, "আমি গত ৪০ বছরে প্রযুক্তির বাজারে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর কখনো দেখিনি।"
প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ ডিজাইন ও তৈরির জন্য ইনটেল কর্পোরেশনের সাথে যৌথভাবে কাজ করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিশ্ব শেয়ার বাজারে ইনটেল কর্পোরেশনের শেয়ারের দাম হু হু করে রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে শেয়ার বাজার খোলার পরপরই ইনটেলের প্রতিটি শেয়ারের দাম ১২ দশমিক ৭২ ডলার বা ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩৩ দশমিক ৮২ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। এই চুক্তি বা অংশীদারিত্বের বিষয়ে অ্যাপল তাৎক্ষণিকভাবে গণমাধ্যমের কাছে কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ইনটেল কর্পোরেশন জানিয়েছে যে তারা অ্যাপলের সাথে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি নিয়ে এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট কোনো মন্তব্য করবে না। ইনটেলকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পোস্টটি এমন এক সময়ে এলো যার ঠিক ৯ মাস আগে গত বছরের আগস্টে তিনি একটি চুক্তি করিয়েছিলেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইনটেলের ১০ শতাংশ মালিকানা বা শেয়ার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সে সময় সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল এবং নিরপেক্ষ থিংক ট্যাংক সংস্থা ক্যাটো ইনস্টিটিউট বিষয়টিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নজিরবিহীন মালিকানা প্রতিষ্ঠা হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তবে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারের সেই বিনিয়োগের বিশাল সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ইনটেলের বাজারমূল্য গত আগস্টের ১০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, মাত্র ৯ মাসে কোম্পানিটির মূল্য প্রায় আধা ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি বেড়েছে এবং এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ১০ শতাংশ শেয়ারের মূল্য এখন ৬০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। শেয়ার বাজারের তথ্য অনুযায়ী, এই ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্র সরকারই এখন ইনটেলের একক বৃহত্তম অংশীদার। এর পরেই রয়েছে ভ্যানগার্ড এবং ব্ল্যাকরকের মতো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যাদের প্রত্যেকের কাছে ইনটেলের প্রায় ৬ শতাংশ করে শেয়ার রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইনটেলের সাথে এই চুক্তি অ্যাপলকে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা আরও বহুমুখী করতে সাহায্য করবে। এর ফলে চিপ সরবরাহের জন্য অ্যাপলকে তাদের প্রধান বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি' বা টিএসএমসি-র ওপর আগের চেয়ে অনেক কম নির্ভর করতে হবে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে অ্যাপলের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনবে।
প্রযুক্তি বিশ্বের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল এবং গুগল ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সর্বোচ্চ আদালতে বড় ধরনের আইনি পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। কয়েক বছর ধরে চলা ট্যাক্স ফাঁকি এবং একচেটিয়া বাজার দখলের অভিযোগে ইউরোপীয় আদালত অ্যাপলকে ১৩ বিলিয়ন ইউরো এবং গুগলকে ২.৪ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়টি সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্টদের ওপর ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকদের কঠোর অবস্থানের একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, অ্যাপল আয়ারল্যান্ডে ব্যবসা করার সময় অবৈধভাবে কর সুবিধা গ্রহণ করেছে, যা ইইউ-এর প্রতিযোগিতামূলক বাজারের নীতিমালার পরিপন্থী। অন্যদিকে, গুগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে তারা তাদের নিজস্ব শপিং সার্ভিসকে সার্চ ইঞ্জিনে অন্যায্যভাবে প্রাধান্য দিয়ে অন্যান্য ছোট প্রতিযোগীদের ব্যবসায়িক ক্ষতি করেছে। যদিও উভয় কোম্পানিই এই রায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই চালিয়েছিল, তবে ইউরোপীয় আদালতের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় ধরণের আর্থিক ও ভাবমূর্তি সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় বিশ্বজুড়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে একটি নজির হয়ে থাকবে। আয়ারল্যান্ড সরকার ইতিমধ্যে অ্যাপলের কাছ থেকে এই বিশাল অংকের কর আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, গুগল এই রায় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও ইইউ-এর আইন মেনে চলার অঙ্গীকার করেছে। এই ঘটনার পর ধারণা করা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ইউরোপ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কর ফাঁকি ও প্রতিযোগিবিরোধী আচরণের জন্য নজরদারি এবং শাস্তির মাত্রা আরও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।