যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরের মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ এখন মাঠ ছাড়িয়ে বাইরের সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। টুর্নামেন্ট দেখতে আসা হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ফুটবল ভক্ত ও পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে এক বিশাল জোয়ার এসেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে দূর-দূরান্ত থেকে আসা এই বিপুল সংখ্যক বিদেশি দর্শনার্থী এবং সেই সাথে প্রশাসনের জোরদার পুলিশি নিরাপত্তার চমৎকার সমন্বয়ে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই জমজমাট পরিবেশের কারণে তাদের বেচাবিক্রি আগের তুলনায় অনেক গুণ বেড়ে গেছে। বিশ্বকাপের এই বিশাল আসরকে কেন্দ্র করে শহরের মারিয়েটা স্ট্রিটের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলোর মালিকেরা অত্যন্ত আনন্দের সাথে তাদের ব্যবসায়িক সাফল্যের কথা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মো জানান যে বিশ্বকাপের কারণে তাদের দৈনিক বিক্রি সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে তারা ব্যবসার আর্থিক লাভের যে প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা বা প্রক্ষেপণ নির্ধারণ করেছিলেন, বর্তমান আয় তার চেয়েও প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার ডলার বেশি হয়েছে, যা তাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। আমেরিকায় এই ধরনের বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে সাধারণত তীব্র যানজট, নিরাপত্তা এবং পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। তবে সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কের আশেপাশের দোকানিরা জানিয়েছেন যে আটলান্টা শহর কর্তৃপক্ষ এবার আগে থেকেই অত্যন্ত চমৎকার প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। টেড টার্নার ড্রাইভ এলাকার বার্গার ও চিজস্টেক ফুড জয়েন্টের মালিক কার্লটন নেলসন বলেন যে শহরজুড়ে পুলিশের ব্যাপক ও দৃশ্যমান উপস্থিতির কারণে সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি কমে গেছে, যা ব্যবসা সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। ব্যবসায়ীরা মূলত মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামের চারপাশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আটলান্টা পুলিশ বিভাগের বা এপিডির সক্রিয় ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, খেলা দেখতে আসা হাজার হাজার মানুষের ভিড় ও ট্রাফিকের কারণে অনেক সময় শহরের কেন্দ্রস্থলে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে এবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক সতর্ক নজরদারির কারণে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে দূরদেশ থেকে আসা ফুটবলপ্রেমীরা কোনো ধরনের ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই পুরো শহর ঘুরে বেড়াতে পারছেন। খেলার নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই আন্তর্জাতিক দর্শকদের ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় অর্থনীতিতে দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকছে। আটলান্টার ব্যবসায়ীরা গর্বের সাথে জানান যে মরক্কো ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ফুটবল ভক্তরা প্রথমবারের মতো আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় আতিথেয়তার চমৎকার অভিজ্ঞতা লাভ করছেন। অনেক বিদেশি পর্যটক তো একই দোকানে বারবার খেতে আসছেন এবং ভালো সেবার কারণে স্থানীয় খাবারের প্রশংসাও করছেন। ব্যস্ততার মাঝেও ব্যবসায়ীরা এই বৈশ্বিক অতিথিদের বাড়তি যত্ন ও উন্নত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের এই ফুটবল উন্মাদনার কারণে আটলান্টার গণপরিবহন ব্যবস্থা বা মার্টার রেল ট্রিপের চাহিদাও সাধারণ দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী বুধবার সন্ধ্যায় এই মাঠেই মরক্কো এবং হাইতির মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। অন্যদিকে সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কে ফুটবল ভক্তদের জন্য চলমান ফিফা ফ্যান ফেস্টের সময়সীমা আরও বাড়িয়ে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করা হয়েছে। ওই দিন ফুটবলপ্রেমীরা সেখানে সমবেত হয়ে তুরস্কের বিরুদ্ধে মাঠে নামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের খেলাটি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে চলমান ফিফা পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর এই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই হিসেবে দেখা দেওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে আটলান্টায় বসবাসরত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যে এই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। ‘ইউএসএ-তে সাউথ আফ্রিকান চেম্বার অব কমার্স’-এর সভাপতি ও সদস্যরা দলবেঁধে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। স্যান্ডি স্প্রিংসের বাসিন্দা সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী ভান্দা সাইতোভিটস বলেন, "আসুন জয়ের জন্য খেলি, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাই। প্রবাসী হিসেবে এই মঞ্চে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।" আটলান্টার আরেক সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী নীল ডায়মন্ড বলেন, "এই ম্যাচটি আমাদের নিজ দেশের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত জাতীয় ঐক্য ও গর্বের অনুভূতি এনে দিয়েছে, যেন মনে হচ্ছে আমাদের নিজের বাড়িটাই আটলান্টার দোরগোড়ায় চলে এসেছে।" নীল ডায়মন্ড খেলা দেখার জন্য তার ঐতিহ্যবাহী রঙিন ‘মোকোরোতলো’ হ্যাট এবং স্টেডিয়াম কাঁপানোর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘ভুবুজেলা’ নিয়ে মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রতীক। অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও তাদের জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে সমভাবে প্রস্তুত। ম্যাচটিকে সামনে রেখে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে চেক প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে আগত আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সেখানে চেক সমর্থকদের স্বাগত জানানো হয়। আটলান্টায় বসবাসরত চেক প্রবাসী মিলাদা বোহাকোভা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "আমরাই জিতব, এটা নিশ্চিত। ঠিক ৩০ বছর আগে এখানে (আটলান্টায়) অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেবার আমরা অনেক পদক জিতে সফল হয়েছিলাম। আমি আশা করি এবার আমরা বিশ্বকাপেও জয়ী হব।" উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে হেরে (০-১ ব্যবধানে) কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত বাঁচা-মরার লড়াই।
আটলান্টা: ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাস বাড়ছে। আয়োজক ১৬টি শহরের অন্যতম আটলান্টায় চলছে জোর প্রস্তুতি। তবে এই উন্মাদনাকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন প্রতারক চক্র। তাই বিশ্বকাপের টিকিট কেনা বা বিভিন্ন অফারের প্রলোভনে সাড়া দেওয়ার আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে গ্রেটার আটলান্টার বেটার বিজনেস ব্যুরো (বিবিবি)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আটলান্টা নিউজ ফার্স্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ হেয়ার্স বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ফ্রি বিশ্বকাপ টিকিট’, ‘বিশেষ উপহার’ কিংবা ‘সীমিত সময়ের অফার’ ধরনের পোস্টগুলোর ব্যাপারে মানুষের সচেতন থাকা জরুরি। তাঁর মতে, বড় কোনো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করে থাকে। জশ হেয়ার্স বলেন, প্রতারণার সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণগুলোর একটি হলো তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে চাপ সৃষ্টি করা। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অফার গ্রহণ না করলে সুযোগ হাতছাড়া হবে। এ ধরনের চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ না দিয়েই প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বিশ্বকাপের টিকিট বা পুরস্কারের নামে পরিচালিত অনেক প্রতারণায় সরাসরি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহও একটি বড় লক্ষ্য। প্রতারকরা কখনও দাবি করে, পুরস্কার পেতে হলে কর, প্রসেসিং ফি বা ডেলিভারি চার্জ দিতে হবে। আবার কখনও ব্যাংকিং তথ্য, ক্রেডিট কার্ড নম্বর কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরবর্তীতে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে কিউআর কোডভিত্তিক প্রতারণার ঘটনাও বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে বিবিবি। বিশ্বকাপের টিকিট ডাউনলোড, বিশেষ অফার গ্রহণ বা নিবন্ধনের কথা বলে অনেককে কিউআর কোড স্ক্যান করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ধরনের প্রতারণাকে “কুইশিং” নামে চিহ্নিত করেন। কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অজান্তেই এমন একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারেন, যেখানে তাদের লগইন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা আর্থিক তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। জশ হেয়ার্স আরও জানান, অনেক সময় প্রতারকরা পরিচিত ব্যক্তি বা বন্ধুর পরিচয় ব্যবহার করেও প্রতারণার চেষ্টা করে। ই-মেইল, টেক্সট মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে বলা হয় যে কোনো কারণে তারা বিশ্বকাপের টিকিট ব্যবহার করতে পারছেন না এবং কম দামে বিক্রি করতে চান। এ ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার পর সরাসরি ফোন বা অন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড বা নীল চিহ্নযুক্ত অ্যাকাউন্ট নিয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। জশ হেয়ার্স বলেন, শুধুমাত্র নীল চিহ্ন দেখেই কোনো অ্যাকাউন্টকে শতভাগ নির্ভরযোগ্য মনে করা উচিত নয়। প্রতারকরা অনেক সময় অফিসিয়াল প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের অফার বা বিজ্ঞাপন যাচাই করতে হলে প্রথমে তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে তথ্য নিশ্চিত করা উচিত। টিকিট কেনার ক্ষেত্রে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছে বিবিবি। সংস্থাটির মতে, ক্রেডিট কার্ড বা ক্রেতা সুরক্ষা সুবিধা রয়েছে এমন পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ। অন্যদিকে ওয়্যার ট্রান্সফার, সরাসরি নগদ অর্থ পাঠানো বা সীমিত সুরক্ষাযুক্ত অর্থ স্থানান্তর সেবার মাধ্যমে লেনদেন করলে প্রতারণার শিকার হলে অর্থ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিবিবি আরও জানিয়েছে, তাদের ‘স্ক্যাম ট্র্যাকার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভোক্তারা বিভিন্ন প্রতারণার তথ্য অনুসন্ধান করতে এবং সন্দেহজনক ঘটনার অভিযোগ জানাতে পারেন। সংস্থাটির মতে, অনেক প্রতারণার ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট না হওয়ায় অন্যদের সতর্ক করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই প্রতারণার শিকার হলে বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের মুখোমুখি হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আয়োজনকে ঘিরে লাখো দর্শনার্থীর আগমন ঘটবে আটলান্টায়। সেই বাস্তবতায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ধীরস্থির থাকার, তথ্য যাচাই করার এবং অপরিচিত লিংক, কিউআর কোড কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া বার্তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে বেটার বিজনেস ব্যুরো। তাদের মতে, সামান্য সচেতনতাই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি বা পরিচয় চুরির ঝুঁকি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।
আটলান্টা: যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাবিলাহ পার্কস। জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়ার পর এবার তিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে লড়ছেন। আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ডেমোক্র্যাটিক রানঅফ নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর প্রচারণা ইতোমধ্যেই অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। নাবিলাহ পার্কস ২০২২ সালে জর্জিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে এই আইনসভায় প্রবেশ করেন। একই সঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গর্বের বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জর্জিয়ার সপ্তম সিনেট জেলার প্রতিনিধিত্বকারী নাবিলাহ পার্কস চলতি বছর তাঁর সিনেট আসন থেকে পদত্যাগ করে লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি চার লাখেরও বেশি ভোট পেয়ে রানঅফে জায়গা করে নেন। আগামী ১৬ জুনের রানঅফে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আরেক প্রার্থী ও স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন। নির্বাচনী প্রচারণায় নাবিলাহ পার্কস জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, মেডিকেইড কর্মসূচির বিস্তার, ভোটাধিকার সুরক্ষা এবং নারীদের প্রজনন অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা বিপুল বাজেট উদ্বৃত্ত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত। বিশেষ করে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, শিশুযত্নের ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থবির মজুরি কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি মনে করেন। প্রচারণার অংশ হিসেবে নাবিলাহ নিজেকে একজন দৃঢ় ও আপসহীন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন। তিনি দাবি করছেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনে রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর কিছু আইন প্রণয়নসংক্রান্ত অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন। যদিও এসব সমালোচনার বিষয়ে জশ ম্যাকলরিনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। নাবিলাহর প্রচারণা ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতার সমর্থন পেয়েছে। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেসম্যান হ্যাঙ্ক জনসন, আটলান্টার সাবেক মেয়র শার্লি ফ্র্যাঙ্কলিন, ফুলটন কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি ফানি উইলিস এবং ডিকাল্ব কাউন্টির কমিশনার টেড টেরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জর্জিয়ার লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদটি অঙ্গরাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। এই পদে নির্বাচিত ব্যক্তি স্টেট সিনেটের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখেন। ফলে আসন্ন রানঅফ নির্বাচন শুধু একটি দলীয় মনোনয়ন নির্ধারণের লড়াই নয়, বরং জর্জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এই পদে ডেমোক্র্যাটরা আবারও জয় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এমন বাস্তবতায় নাবিলাহ পার্কসের প্রার্থিতা শুধু একটি রাজনৈতিক প্রচারণা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে। আগামী ১৬ জুনের রানঅফ নির্বাচনে বিজয়ী হলে নাবিলাহ পার্কস নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর সেখানে জয় পেলে তিনি জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন নারীর এমন সম্ভাব্য অর্জন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় গ্রীষ্মকালীন যুব কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো কিশোর-কিশোরী প্রথমবারের মতো চাকরির সুযোগ পাচ্ছেন। কর্মসূচিটি তরুণদের আয়ের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জনের পথও খুলে দিচ্ছে। দেশজুড়ে কিশোরদের জন্য গ্রীষ্মকালীন চাকরির সুযোগ কমে আসার আশঙ্কার মধ্যেই এই উদ্যোগ গুরুত্ব পাচ্ছে। এই সপ্তাহে কর্মসূচিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ ও ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম শুরু করেছে। এরপর তারা শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ শুরু করবে। অংশগ্রহণকারীদের একজন ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী কেডেন ম্যালোন, যিনি জীবনের প্রথম চাকরিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে এবং মায়ের পাশে দাঁড়াতেই তিনি কাজ করতে চান। কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আটলান্টার সল্টবক্সে অবস্থিত স্লাশি বক্স এটিএল। প্রতিষ্ঠানটির মালিক স্যান্ডি মুর জানান, তরুণদের বাস্তব কর্মপরিবেশে কাজ শেখার সুযোগ করে দিতেই তিনি এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছেন। এখানে শিক্ষার্থীরা গ্রাহকসেবা, দলগত কাজ, যোগাযোগ দক্ষতা এবং বিক্রয় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। আটলান্টা সিটির ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার তরুণ চাকরির সুযোগ পেয়েছিল। নিবন্ধন ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেলেও ১ হাজার ৬০০-এর বেশি যোগ্য আবেদনকারীর জন্য চাকরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। স্লাশি বক্স এটিএলে কর্মরত শিক্ষার্থীরা চার সপ্তাহের কর্মসূচিতে সপ্তাহে প্রায় ২০ ঘণ্টা কাজ করে ঘণ্টাপ্রতি ১৫ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারবে। স্যান্ডি মুর জানান, কর্মদক্ষতা ভালো হলে ভবিষ্যতে তাদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। কেডেন ম্যালোনের মতো অনেক তরুণের কাছে এই কর্মসূচি শুধু আয়ের সুযোগ নয়, বরং কর্মজীবনে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তাদের আশা, এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের কর্মজীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ যানজটপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায় আবারও উঠে এসেছে জর্জিয়ার মেট্রো আটলান্টার নাম। ভোক্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্সের নতুন এক সমীক্ষায় দেশটির সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিক পরিস্থিতির মহানগর এলাকার মধ্যে আটলান্টার অবস্থান হয়েছে অষ্টম। তবে শহরটির বাসিন্দাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবরও রয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় যেখানে আটলান্টার অবস্থান ছিল পঞ্চম, এবার তা কিছুটা উন্নতি করে অষ্টম স্থানে নেমে এসেছে। যদিও যানজটের ভোগান্তি এখনো শহরটির অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে। কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকলে গাড়ির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ফলে দ্রুত যন্ত্রাংশ ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত যানজট সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অপর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ যাতায়াতের সংস্কৃতি—এসব কারণে আটলান্টাসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে ট্রাফিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তালিকায় সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিকের শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে লস এঞ্জেলস। এরপর রয়েছে ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক সিটি, সান ফ্রান্সিসকো, হিউস্টন, সিয়াটল এবং মিয়ামি। আটলান্টার পর তালিকায় রয়েছে সান জোসে ও রিভারসাইড। অন্যদিকে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ট্রাফিক পরিস্থিতির শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রচেস্টের, নিউইয়র্ক। এছাড়া সেন্ট লুইস, ওকলাহোমা সিটি, গ্র্যান্ড রেপিডস ও সল্ট লেক সিটির মতো শহরগুলো তুলনামূলকভাবে কম যানজটপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে যানজট সমস্যা কমানো কঠিন হয়ে পড়বে। আটলান্টার ক্ষেত্রেও একই চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।
জর্জিয়ার আটলান্টায় পৃথক সহিংস হামলার ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর এক কর্মীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের একজন লোরেন বুলিস , যিনি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি -এর অফিস অফ ইন্সপেক্টর জেনারেল -এ কর্মরত ছিলেন। তিনি সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হলে হামলার শিকার হন। আরেক নারী পৃথক স্থানে নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, আহত এক পুরুষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের নাম ওলাওলুকিতান এডন আবেল। তদন্তকারীরা জানান, হামলাগুলো এলোমেলোভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে হামলার কারণ ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বাংলাদেশ সরকারের নতুন কনস্যুলেট অফিস স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জর্জিয়ার আটলান্টায় বসবাসরত প্রবাসীরা প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে প্রায় ৪০ হাজার বাংলাদেশির বসবাস, সেই শহরকে বাদ দিয়ে কেন ফ্লোরিডার মায়ামীতে কনস্যুলেট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। কমিউনিটির বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠকদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং জনসংখ্যার দিক থেকে আটলান্টা দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর একটি। এখান থেকে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, টেনেসি, আলাবামা, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনা—এই ছয়টি অঙ্গরাজ্যের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সহজেই যাতায়াত করতে পারেন। ফলে কনস্যুলেট অফিস আটলান্টায় হলে বৃহত্তর সংখ্যক মানুষ সরাসরি সেবা নিতে পারতেন বলে মনে করছেন প্রবাসীরা। অন্যদিকে মায়ামী যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় পাশের অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রবাসীদের জন্য সেখানে গিয়ে কনস্যুলার সেবা নেওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, একটি কনস্যুলেট যদি একটি শহরেই স্থাপন করতে হয়, তাহলে অধিক সংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনা করে আটলান্টাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল। প্রবাসী নেতারা আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে সোনালী ব্যাংকের অর্থ প্রেরণ সেবা “সোনালী একচেঞ্জ” আটলান্টা থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শাখার তুলনায় এখান থেকে বেশি রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও আটলান্টায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি ছিল বলে দাবি করা হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে এবং বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, যদি ভবিষ্যতে একাধিক কনস্যুলেট স্থাপনের পরিকল্পনা থাকে, তাহলে ফ্লোরিডার পাশাপাশি জর্জিয়ার আটলান্টাতেও কনস্যুলেট স্থাপন করা উচিত। প্রবাসীদের আশা, অধিক সংখ্যক বাংলাদেশির সুবিধা বিবেচনা করে সরকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কনস্যুলেট স্থাপনের বিষয়ে আবারও পর্যালোচনা করবে এবং বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।