- প্রচ্ছদ
- Topic
আবাসন বাজার
করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তা সত্ত্বেও এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমানো মার্কিনিদের কাছে বসবাসের জন্য এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য ফ্লোরিডা ও টেক্সাস। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন এক সমীক্ষার তথ্যে এমনটাই উঠে এসেছে। অনলাইন মুভিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুভিংপ্লেস’ (MovingPlace) চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের স্থানান্তরের ডেটা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মাথাপিছু স্থানান্তরের হিসাব এবং সামগ্রিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে ফ্লোরিডার ইনলেট বিচ। ফ্লোরিডার এমারেল্ড কোস্টে অবস্থিত ইনলেট বিচে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মাথাপিছু ১০৬.১ জন স্থানান্তরের রেকর্ড পাওয়া গেছে। শীর্ষ ১০টি জনপ্রিয় এলাকার তালিকায় ইনলেট বিচ ছাড়াও ফ্লোরিডার আরও তিনটি এলাকা জায়গা করে নিয়েছে; এগুলো হলো পোর্ট সেন্ট লুসি, ব্র্যাডেন্টন এবং সান আন্তোনিও (ফ্লোরিডা)। এছাড়া টেক্সাসের তিনটি শহর ক্র্যান্ডল, ল্যাভন এবং ম্যাক্সওয়েলও এই তালিকায় রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের যেসব এলাকা এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে, সেগুলো কোনো বড় বা পরিচিত মেট্রো শহর নয়। মহামারির সময়ে অস্টিন, কেপ কোরাল, টাম্পা বা মিয়ামির মতো শহরগুলোতে নতুন বাসিন্দাদের ঢল নেমেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এসব শহরে বাড়ির দাম দুই অঙ্কের ঘরে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন বড় শহরের বদলে তুলনামূলক ছোট ও সাশ্রয়ী এলাকা খুঁজছেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ১০টি এলাকা: মুভিংপ্লেসের ডেটা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে মাথাপিছু স্থানান্তরের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি এলাকা হলো: ১. ইনলেট বিচ, ফ্লোরিডা ২. ক্র্যান্ডল, টেক্সাস ৩. অরোরা, কলোরাডো ৪. ল্যাভন, টেক্সাস ৫. ন্যাশভিল, টেনেসি ৬. সারপ্রাইজ, অ্যারিজোনা ৭. পোর্ট সেন্ট লুসি, ফ্লোরিডা ৮. ব্র্যাডেন্টন, ফ্লোরিডা ৯. সান আন্তোনিও, ফ্লোরিডা ১০. ম্যাক্সওয়েল, টেক্সাস কেন এই শহরগুলোর এত জনপ্রিয়তা? গবেষকদের মতে, বিলাসবহুল উপকূলীয় জীবনযাপন এবং বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সৈকতের সান্নিধ্যের কারণে ইনলেট বিচ এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং যারা দ্বিতীয় বাড়ি কিনতে চান, তারাই এখানকার মূল ক্রেতা। আবাসন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর তথ্যমতে, গত জুনে ইনলেট বিচ হাইটসে একটি সাধারণ বাড়ির গড় দাম ছিল ৭ লাখ ডলার, যা রাজ্যব্যাপী গড় দামের চেয়ে প্রায় ৩ লাখ ডলার বেশি। তবে তালিকার অন্যান্য ফ্লোরিডা শহরগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রেডফিনের ডেটা বলছে, পোর্ট সেন্ট লুসিতে বাড়ির গড় দাম এখনো ৪ লাখ ডলারের নিচে। অন্যদিকে, পরিবার নিয়ে থাকার জন্য বা পেশাজীবীদের কাছে ব্র্যাডেন্টন বেশ আকর্ষণীয়, যেখানে বাড়ির দাম ৩ লাখ ১৯ হাজার ডলারের কিছুটা বেশি। ফ্লোরিডার সান আন্তোনিও শহরটিও বেশ সাশ্রয়ী; গত জুনে এখানে বাড়ির গড় দাম ছিল ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯৬ ডলার। একই চিত্র দেখা গেছে টেক্সাসের ক্ষেত্রেও। ডেনভার বা ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের মতো ব্যয়বহুল শহরের সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে টেক্সাসের ক্র্যান্ডল। গত জুনে এখানে একটি বাড়ির গড় দাম ছিল ২ লাখ ৮৮ হাজার ১০৩ ডলার, যেখানে ডালাসে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একইভাবে, ল্যাভন ও ম্যাক্সওয়েল শহর দুটিও উত্তর টেক্সাস এবং অস্টিনের তুলনায় অনেক সস্তা। অস্টিনে যেখানে বাড়ির গড় দাম ৫ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি, সেখানে ম্যাক্সওয়েলে আড়াই লাখ ডলারের নিচেই বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। মুভিংপ্লেসের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ড্যানিয়েল কোব এক বিবৃতিতে বলেন, "মহামারির সময়ের মতো শহর ছাড়ার হিড়িক এখন হয়তো কিছুটা কমেছে। কিন্তু মানুষের আবাসন চাহিদা এখনো ঐতিহ্যবাহী বড় শহরগুলোর চেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শহরতলি এবং সাশ্রয়ী এলাকাগুলোর দিকেই বেশি। উষ্ণ আবহাওয়া, কম কর এবং তুলনামূলক সস্তা আবাসনের কারণে মানুষ সান বেল্ট অঞ্চলে, বিশেষ করে ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসে বসবাস করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।"
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগ বাড়ছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির বড় বড় হাউজিং মার্কেটের অনেকগুলোতেই বাড়ি মালিকেরা চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি শহরে চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হওয়া বাড়ির হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। রিয়েল এস্টেট তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেডফিনের ৫০টি বড় আবাসন বাজার নিয়ে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বাড়ির ৫৫ শতাংশই মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সালের পর মে মাসের হিসাবে এটি সবচেয়ে কম প্রতিযোগিতামূলক আবাসন বাজারগুলোর একটি। ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি দেখা গেছে টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে মে মাসে বিক্রি হওয়া ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ। সেখানে ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। মায়ামিতে এই হার ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে ৮৪ শতাংশ। এই তালিকায় আরও রয়েছে হিউস্টন, ডালাস, টাম্পা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো ও ফোর্ট ওর্থ। হিউস্টনে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ডালাসে ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ, টাম্পায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ, ফিনিক্সে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ, অরল্যান্ডোতে ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফোর্ট ওর্থে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। রেডফিনের বিশ্লেষণ বলছে, এসব বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রবৃদ্ধি, বেশি হোম ইন্স্যুরেন্স খরচ, বাড়ির মালিক সমিতির বাৎসরিক ফি এবং কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ির চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব আবাসন বাজারে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের আশপাশের কিছু এলাকা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এখনো বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। মে মাসে নিউআর্ক, নিউ জার্সিতে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে এই হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সান হোসেতে ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। বাজারের এই পার্থক্যের পেছনে বাড়ির সরবরাহ ও ক্রেতার চাহিদার ভারসাম্য বড় ভূমিকা রাখছে। যেসব এলাকায় বিক্রির জন্য বাড়ি বেশি কিন্তু ক্রেতা তুলনামূলক কম, সেখানে বিক্রেতাদের দাম কমানো অথবা ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ির বিক্রেতা ক্রেতাদের কোনো না কোনো বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত খরচের অর্থ পরিশোধ, মেরামতের খরচ বহন কিংবা ঋণের সুদের হার কমানোর মতো সুবিধাও রয়েছে। অন্যদিকে, বেশি মর্টগেজ সুদের হার এবং বাড়ির তুলনামূলক বেশি দাম অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে বাজারের বাইরে রাখছে। ফলে যারা এখন বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখছেন, তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প রয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছে চাওয়া দাম কমানোর জন্য দর-কষাকষির সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তবে চাওয়া দামের নিচে বাড়ি বিক্রি হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন শুরু হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো এলাকায় কতটা দর-কষাকষি করা সম্ভব, তা নির্ভর করে স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা, বাড়ির অবস্থা, একই এলাকার সাম্প্রতিক বিক্রয়মূল্য এবং বিক্রেতার পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, মহামারির পরের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি বড় হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সময় মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে চুক্তি করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এখনো এক কঠিন বাস্তবতা হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের ধারাবাহিক পতনের পর দেশটির আবাসন খাতের সামর্থ্যের সূচক কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, একটি বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ৬ অঙ্কের বা কমপক্ষে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি উপার্জনের প্রয়োজন পড়ছে। আবাসন খাতের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির উপাত্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি গড়পরতার বাড়ি কেনা এবং তার বিপরীতে আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের মধ্যে মাসিক ঋণের কিস্তি (মর্গেজ) সীমাবদ্ধ রাখার জন্য একটি পরিবারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ ডলার। যদিও এক বছর আগে রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ ডলারের তুলনায় এই অঙ্ক মাত্র ০.৫ শতাংশ কমেছে, তবুও তা বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকের আয়ের সাধ্যের বাইরে। বাস্তবতার সঙ্গে এই প্রয়োজনীয় আয়ের বড় ফারাক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাধারণ পরিবারের গড় বার্ষিক আয় বর্তমানে ৮৭ হাজার ৫৯৯ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বাড়লেও বাড়ি কেনার জন্য দরকারি অঙ্কের চেয়ে অনেক কম। হিসাব অনুযায়ী, একজন গড় আয়ের আমেরিকান পরিবার যদি একটি মাঝারি দামের বাড়ি কিনতে যায়, তবে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশই চলে যাবে কেবল বাড়ির কিস্তি মেটাতে। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে রেডফিনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইয়িংকি সু জানান, কয়েক বছর টানা অবস্থা খারাপ হওয়ার পর বাড়ি কেনার প্রয়োজনীয় আয়ের অঙ্কটি কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে বা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বাড়ি কেনা সহজ বা সাশ্রয়ী হয়ে গেছে। এখনো একজন সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি কেনার খরচের মধ্যে দুই অঙ্কের শতাংশের এক বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে। ফলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া বহু প্রাক-ক্রেতা বাজারের বাইরে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এই সংকটের মধ্যেও অর্থনীতির খাতায় সামান্য কিছু স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আয় ও প্রকৃত আয়ের মধ্যবর্তী ঘাটতি গত দুই বছরের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। দুই বছর আগে যেখানে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৮৩৪ ডলার এবং গত বছর ছিল ২৬ হাজার ১২৫ ডলার, তা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ ডলারে। পাশাপাশি বাজারে সক্রিয় বিক্রির জন্য থাকা মোট বাড়ির ৩৪.২ শতাংশ এখন সাধারণের কেনার সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩০.৫ শতাংশ। অন্যদিকে যারা জীবনে প্রথমবারের মতো প্রারম্ভিক স্তরের (এন্ট্রি-লেভেল) বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে খরচ সামান্য কমেছে। এ ধরনের বাড়ি কেনার জন্য বর্তমানে বার্ষিক ৭০ হাজার ৬৯৩ ডলার আয়ের প্রয়োজন, যা এক বছর আগের চেয়ে ১.৫ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এবং সান হোসে-এর মতো প্রধান প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে আবাসন সাশ্রয়ের সূচকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে কেবল সেন্ট লুইস, ইন্ডিয়ানাপলিস এবং পিটসবার্গ এই তিনটি শহরেই সাধারণ পরিবারের বর্তমান গড় আয় দিয়ে একটি মাঝারি মানের বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ির দাম বাড়া শহরগুলোর একটি ছিল টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ন্যাশভিল। সে সময় ক্রেতাদের তীব্র প্রতিযোগিতা, একের পর এক উচ্চমূল্যের প্রস্তাব এবং দ্রুত বিক্রি হওয়া বাড়ি ছিল নিয়মিত দৃশ্য। তবে কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি বিক্রির জন্য সবচেয়ে কঠিন বাজারগুলোর মধ্যে ন্যাশভিল দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ তালিকায় প্রথমে রয়েছে ফ্লোরিডার মিয়ামি। ন্যাশভিলের পর রয়েছে টেক্সাসের কয়েকটি বড় মহানগর এলাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ন্যাশভিলে ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যা ১২৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ এত বেশি যে ক্রেতাদের হাতে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি বিকল্প রয়েছে। ফলে তারা ধীরে-সুস্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, দরদাম করছেন এবং কম দামে বাড়ি কেনার চেষ্টা করছেন। রেডফিনের ন্যাশভিলভিত্তিক প্রধান এজেন্ট অ্যারন গ্লিকেন বলেন, এখনকার ক্রেতারা কোনো তাড়াহুড়া করছেন না। বাজারে পর্যাপ্ত বাড়ি থাকায় তারা অপেক্ষা করে নিজেদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বাড়ি বেছে নিচ্ছেন। এমনকি বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নির্ধারণ করা বাড়িতেও অনেক ক্রেতা প্রত্যাশার চেয়ে কম দামের প্রস্তাব দিচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, অনেক বিক্রেতা শুরুতে কম দামের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও পরে বুঝতে পারছেন, একই ধরনের কম প্রস্তাবই বারবার আসছে। শেষ পর্যন্ত অনেককেই দাম কমাতে বাধ্য হতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশভিল মহানগর এলাকায় নতুন বাড়ির তালিকা গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অথচ একই সময়ে সারা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তালিকা বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ১ শতাংশ। একই সঙ্গে বাড়ি বিক্রির সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে ন্যাশভিলে একটি বাড়ি বিক্রি হতে গড়ে ৭৮ দিন সময় লাগছে। যেখানে জাতীয় গড় মাত্র ৪৯ দিন। গত জুন মাসে সারা যুক্তরাষ্ট্রেই বিক্রেতার সংখ্যা ক্রেতার তুলনায় প্রায় ৪৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি ছিল। তবে ন্যাশভিলে এই ব্যবধান জাতীয় গড়ের প্রায় তিন গুণ। রেডফিনের আরেক এজেন্ট ক্রিস্টিন সানচেজ বলেন, কয়েক বছর ধরে অত্যন্ত কম সুদের হার থাকায় অনেক বাড়ির মালিক নতুন বাড়ি কেনা বা স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছিলেন। এখন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা কারণে তারা আর অপেক্ষা করছেন না। উচ্চ মর্টগেজ সুদের হার থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তার ভাষ্য, অনেক বিক্রেতাই বুঝতে পারছেন ২০২১ ও ২০২২ সালের মতো অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময় শেষ হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে বাজার আরও অনিশ্চিত হওয়ার আগেই বর্তমান তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন। মহামারির সময় ন্যাশভিলে বাড়ির দাম বছরে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। তখন শহরের একটি সাধারণ বাড়ির দাম ছিল চার লাখ ডলারেরও কম। কিন্তু বর্তমানে সেই দাম বেড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালেও গত জুন পর্যন্ত এক বছরে মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৮ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ নতুন আবাসন নির্মাণ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। অন্যদিকে বাড়ির উচ্চ মূল্য ও মর্টগেজ ঋণের সুদের হার বৃদ্ধির কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাজার থেকে সরে গেছেন। এতে দরকষাকষির ক্ষমতা এখন পুরোপুরি ক্রেতাদের দিকে চলে গেছে। সানচেজ জানান, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া ও শিকাগো থেকে এখনো কিছু মানুষ ন্যাশভিলে বসবাসের জন্য আসছেন। তবে মহামারির সময় নিউইয়র্ক থেকে যে বড় ঢল নেমেছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। শুধু দাম কমানো নয়, এখন ক্রেতারা বিক্রেতাদের কাছ থেকে ক্লোজিং খরচ বহন, বাড়ি মেরামতের ব্যয় এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও আদায় করে নিচ্ছেন। নতুন নির্মিত বাড়ির ক্ষেত্রে অনেক নির্মাতা ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ স্থির সুদের বিশেষ মর্টগেজ সুবিধা ও ক্লোজিং খরচে সহায়তা দিচ্ছেন। সম্প্রতি সানচেজ প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া এক দম্পতিকে মূল্যায়িত দামের চেয়ে ১৫ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কিনতে সহায়তা করেছেন। শুধু তাই নয়, ওই লেনদেনে বিক্রেতা পুরো ক্লোজিং খরচ বহন করেছেন এবং বিক্রির আগে প্রয়োজনীয় মেরামতও সম্পন্ন করতে সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার আরেকজন ক্রেতা তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে ৬০ হাজার ডলার কম দামে একটি বাড়ি কেনার চুক্তি করেছেন। কয়েক বছর আগে একই ধরনের ক্রেতাদের একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রস্তাবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতো, যেখানে দরকষাকষির সুযোগ প্রায় থাকত না। অ্যারন গ্লিকেনের মতে, বর্তমানে যেসব বিক্রেতা বাড়ি রং করা, ছোটখাটো সংস্কার ও প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পন্ন করে বাজারে আনছেন, তাদের বাড়ি তুলনামূলক দ্রুত বিক্রি হচ্ছে। কারণ এখনকার ক্রেতারা এমন বাড়িই বেশি পছন্দ করছেন, যেখানে কেনার পর অতিরিক্ত কোনো কাজ করতে হবে না। রেডফিনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে ন্যাশভিলের আবাসন বাজারে যে বড় ধরনের মূল্যসংশোধন শুরু হয়েছে, তা এখনো চলমান। ফলে আগের মতো চাহিদার জোয়ারে বাড়ি বিক্রির দিন আপাতত শেষ, আর বর্তমান বাজারে সঠিক মূল্য নির্ধারণই বিক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠেছে।
উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, চলতি বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গত সাত বছরের মধ্যে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৯টি মেট্রো এলাকা প্রকৃত 'বায়ারস মার্কেট' বা ক্রেতাদের বাজারে পরিণত হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ৯টি শহর। আগামী গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ আটলান্টা, বেকারসফিল্ড, বার্মিংহাম, হনুলুলু, হিউস্টন, মেমফিস, রিভারসাইড, সান আন্তোনিও এবং সিরাকিউজ—এই ৯টি মেট্রো এলাকা পুরোপুরি ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘রিয়েল্টর ডটকম (Realtor.com) ২০২৬ কিউ২ মার্কেট ক্লক’ (Q2 Market Clock) রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাজারে বাড়ির সরবরাহ, বিক্রির জন্য অপেক্ষমাণ সময়, দামের ওঠানামা এবং তালিকা-থেকে-বিক্রির অনুপাতের মতো মূল সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এবারের রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০টি মেট্রো এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। ১২ ঘণ্টার একটি কাল্পনিক ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তুলনা করে এই 'মার্কেট ক্লক' তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ১২টা মানে 'পিক সেলারস মার্কেট' (বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ) এবং ৬টা মানে 'পিক বায়ারস মার্কেট' (ক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ)। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে এই ঘড়ির কাঁটা ৩টায় অবস্থান করছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজার নির্দেশ করে। তবে রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল জানিয়েছেন, জাতীয় গড়ের আড়ালে স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। রিপোর্টের তথ্যমতে, বর্তমানে নজরদারিতে থাকা আবাসন বাজারগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই ক্রেতাদের পক্ষে বা সেই দিকে এগোচ্ছে, যা গত বছর ছিল মাত্র অর্ধেক। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বাজারগুলোতে ক্রেতারা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। জেক ক্রিমেল জানান, বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির মজুত বেড়ে যাওয়াই মূলত এই ৯টি মেট্রো এলাকাকে ক্রেতাদের বাজারে পরিণত করছে। নতুন তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, বিক্রির হার তার চেয়ে অনেক ধীর। এর ফলে বাজারে বাড়িগুলো বেশিদিন পড়ে থাকছে এবং বিক্রেতারা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি স্পষ্টভাবে বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ক্রেতাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। সান আন্তোনিও-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ট্র্যাভিস আমারো জানান, কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের পর বর্তমানে সান আন্তোনিওতে হাউজিং ইনভেন্টরি বা অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ক্রেতারা বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বেশি বিকল্প পাচ্ছেন এবং দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, বিক্রেতাদের গত বছরের বাজার পরিস্থিতির কথা ভুলে গিয়ে বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী যৌক্তিক দাম হাঁকানো উচিত। অন্যদিকে, দেশের ২৫টি মেট্রো এলাকা এখনো বিক্রেতাদের বাজারে (সেলারস মার্কেট) রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড। বিক্রেতাদের এই বাজারগুলোর বেশিরভাগই মধ্যপশ্চিম, উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিলাসবহুল উপকূলীয় এলাকা হাম্পটনস-এ বাড়ির দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। সীমিত সংখ্যক বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে থাকা, ধনীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়াল স্ট্রিটের উচ্চ বোনাসের প্রভাবে অঞ্চলটিতে আবাসন বাজারের মূল্য আরও বেড়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কভিত্তিক আবাসন মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাম্পটনসে একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য এখন প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো গড় মূল্য ৪০ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারের উচ্চমূল্যের আবাসন খাতে ক্রেতাদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বিলাসবহুল বাড়ির সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম আরও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনটির প্রস্তুতকারী জনাথন মিলার বলেন, বাজারে কিছু নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য এলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র রয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে বিক্রেতার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে। তার ভাষায়, "বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ধারা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।" হাম্পটনসকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে ধরা হয়। এই এলাকায় এখন ১৫ লাখ ডলারের কম দামে কার্যত কোনো বাড়িই পাওয়া যাচ্ছে না। সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন অবস্থান, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং নিউইয়র্ক শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় বহু বছর ধরেই ধনী ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও হলিউড তারকাদের পছন্দের ঠিকানা এটি। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, চলতি প্রান্তিকে হাম্পটনসের মধ্যম বাড়ির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। গত পাঁচ প্রান্তিকের মধ্যে এটি তৃতীয়বারের মতো নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে হাম্পটনসের বাইরে লং আইল্যান্ডের বাকি অংশেও বাড়ির দাম বাড়ছে, যদিও সেই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীর। সেখানে মধ্যম বাড়ির মূল্য গত বছরের ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গড় বিক্রয়মূল্যও ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ লাখ ২২ হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা নতুন রেকর্ড। বিশ্লেষকদের মতে, হাম্পটনসের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে ওয়াল স্ট্রিটের রেকর্ড পরিমাণ বোনাস। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওয়াল স্ট্রিট প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৬৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে কর্মীদের গড় বার্ষিক বোনাস বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। ফলে উচ্চ আয়ের ক্রেতারা এখন প্রচলিত গৃহঋণের ওপর নির্ভর না করে শেয়ারবাজারে অর্জিত সম্পদ এবং বোনাসের অর্থ ব্যবহার করে বাড়ি কিনছেন। এতে বিলাসবহুল আবাসনের বাজার আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাম্পটনসে গত প্রান্তিকে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বাড়ি বিক্রির হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে লং আইল্যান্ডজুড়ে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটির মধ্যে একটিরও বেশি বাড়ি বিক্রেতার চাওয়া মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে, যা বাজারে শক্তিশালী চাহিদারই প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের চাহিদা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন আবাসনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়বে, ততদিন হাম্পটনসের আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়ি ভাড়ার বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। শহরটিতে এক শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক গড় ভাড়া প্রথমবারের মতো ৪ হাজার মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে বার্ষিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভাড়া বৃদ্ধির রেকর্ডও এখন সান ফ্রান্সিসকোর দখলে। অনলাইন ভাড়া বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান জাম্পার (Zumper)-এর জুলাই ২০২৬ সালের জাতীয় ভাড়া প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের একটি বাসার গড় মাসিক ভাড়া দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৭০০ ডলার, যা শহরটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এক বছর আগের তুলনায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া বেড়েছে ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। জাম্পারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো বড় শহরে এত দ্রুত ভাড়া বাড়েনি। তুলনামূলকভাবে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫২৬ ডলারে পৌঁছেছে। দুই শয়নকক্ষের বাসার জাতীয় গড় ভাড়া সামান্য কমে ১ হাজার ৯০৫ ডলারে নেমেছে। সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় এক শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ার ক্ষেত্রে নিউইয়র্ক এখনো প্রথম অবস্থানে রয়েছে। সেখানে গড় মাসিক ভাড়া ৪ হাজার ৬৬০ ডলার। তবে দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়ায় সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরে পরিণত হয়েছে। জাম্পারের আবাসন বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টাল চেন জানান, চলতি বছরের মে মাসে প্রথমবারের মতো এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ৪ হাজার ডলার অতিক্রম করেছিল। তবে জুনে সেই ভাড়া ৪ হাজার ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেছে, যা নতুন একটি মাইলফলক। পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনে সান ফ্রান্সিসকোতে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া ছিল ২ হাজার ৭৯০ ডলার। দুই শয়নকক্ষের বাসার ভাড়া ছিল ৩ হাজার ৬৯০ ডলার। এরপর কয়েক বছর ভাড়া তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও গত বছর থেকে আবার দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দ্রুত কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ বাড়ানোয় উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা আবারও সান ফ্রান্সিসকোতে বসবাস শুরু করেছেন। এছাড়া করোনা মহামারির পর অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের আবার অফিসে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়ায় শহরের কেন্দ্রস্থলে আবাসনের চাহিদা আরও বেড়েছে। অন্যদিকে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি অনেক কমে যাওয়ায় সরবরাহ বাড়ছে না। জাম্পারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সান ফ্রান্সিসকোতে আবাসিক ভাড়া ইউনিটের শূন্যতার হার ৪ শতাংশেরও কম। অর্থাৎ বাজারে খালি বাসার সংখ্যা খুবই সীমিত। ফলে বাড়তি চাহিদা এবং নতুন আবাসনের ঘাটতি মিলিয়ে ভাড়ার ওপর তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। এই প্রভাব শুধু সান ফ্রান্সিসকোতেই সীমাবদ্ধ নয়। পাশের ওকল্যান্ডে এক শয়নকক্ষের বাসার গড় ভাড়া বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৭০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে সান হোসেতে এক শয়নকক্ষের গড় ভাড়া বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৭৬০ ডলার। বিশ্লেষকদের ধারণা, এআই শিল্পের সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে এবং নতুন আবাসন নির্মাণ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়লে আগামী মাসগুলোতেও সান ফ্রান্সিসকোর ভাড়া আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।