আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ফিরছে ক্রেতাদের সুদিন, প্রকাশিত হলো নতুন ৯ শহরের তালিকা

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২০:৭
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ফিরছে ক্রেতাদের সুদিন
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ফিরছে ক্রেতাদের সুদিন

 

উচ্চ মর্টগেজ রেট এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, চলতি বসন্তে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে গত সাত বছরের মধ্যে ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৯টি মেট্রো এলাকা প্রকৃত 'বায়ারস মার্কেট' বা ক্রেতাদের বাজারে পরিণত হয়েছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও ৯টি শহর। আগামী গ্রীষ্মের শেষ নাগাদ আটলান্টা, বেকারসফিল্ড, বার্মিংহাম, হনুলুলু, হিউস্টন, মেমফিস, রিভারসাইড, সান আন্তোনিও এবং সিরাকিউজ—এই ৯টি মেট্রো এলাকা পুরোপুরি ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘রিয়েল্টর ডটকম (Realtor.com) ২০২৬ কিউ২ মার্কেট ক্লক’ (Q2 Market Clock) রিপোর্টে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বাজারে বাড়ির সরবরাহ, বিক্রির জন্য অপেক্ষমাণ সময়, দামের ওঠানামা এবং তালিকা-থেকে-বিক্রির অনুপাতের মতো মূল সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এবারের রিপোর্টে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০টি মেট্রো এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। ১২ ঘণ্টার একটি কাল্পনিক ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তুলনা করে এই 'মার্কেট ক্লক' তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ১২টা মানে 'পিক সেলারস মার্কেট' (বিক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ) এবং ৬টা মানে 'পিক বায়ারস মার্কেট' (ক্রেতাদের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ)। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে এই ঘড়ির কাঁটা ৩টায় অবস্থান করছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজার নির্দেশ করে। তবে রিয়েল্টর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জেক ক্রিমেল জানিয়েছেন, জাতীয় গড়ের আড়ালে স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।

 

রিপোর্টের তথ্যমতে, বর্তমানে নজরদারিতে থাকা আবাসন বাজারগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই ক্রেতাদের পক্ষে বা সেই দিকে এগোচ্ছে, যা গত বছর ছিল মাত্র অর্ধেক। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বাজারগুলোতে ক্রেতারা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। জেক ক্রিমেল জানান, বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির মজুত বেড়ে যাওয়াই মূলত এই ৯টি মেট্রো এলাকাকে ক্রেতাদের বাজারে পরিণত করছে। নতুন তালিকাভুক্ত বাড়ির সংখ্যা যে হারে বাড়ছে, বিক্রির হার তার চেয়ে অনেক ধীর। এর ফলে বাজারে বাড়িগুলো বেশিদিন পড়ে থাকছে এবং বিক্রেতারা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। এটি স্পষ্টভাবে বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং ক্রেতাদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

 

সান আন্তোনিও-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ট্র্যাভিস আমারো জানান, কোভিড-১৯ মহামারির আগের সময়ের পর বর্তমানে সান আন্তোনিওতে হাউজিং ইনভেন্টরি বা অবিক্রীত বাড়ির সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে ক্রেতারা বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বেশি বিকল্প পাচ্ছেন এবং দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, বিক্রেতাদের গত বছরের বাজার পরিস্থিতির কথা ভুলে গিয়ে বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী যৌক্তিক দাম হাঁকানো উচিত। অন্যদিকে, দেশের ২৫টি মেট্রো এলাকা এখনো বিক্রেতাদের বাজারে (সেলারস মার্কেট) রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে কানেকটিকাটের হার্টফোর্ড। বিক্রেতাদের এই বাজারগুলোর বেশিরভাগই মধ্যপশ্চিম, উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আমেরিকা

View more
জালিয়াতি ও আলামত ধ্বংসের অভিযোগে গ্রেপ্তার পার্ল রিভার কাউন্টির যাজকের স্ত্রী সাবরিনা ব্রাউন ও ছেলে ডসন ব্রাউন । ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে যাজকের বাড়িতেই কিশোরী ধর্ষণের শিকার, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর ধর্মযাজকের স্ত্রী ও ছেলে গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে এক চার্চের প্রধান যাজকের বাড়িতে আশ্রিত ১৪ বছর বয়সী এক নাবালিকা কিশোরীকে ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ওই যাজকের ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যাজকের স্ত্রীকেও। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।   স্থানীয় পুলিশ ও পার্ল রিভার কাউন্টি শেরিফ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম ডসন জেমস ব্রাউন (২৭)। তিনি পপলারভিল এলাকার 'নিউ হাইটস/কলেজ হাইটস ব্যাপটিস্ট চার্চ'-এর প্রধান যাজকের ছেলে। গত শুক্রবার পার্ল রিভার কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের গোয়েন্দারা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে ডসন ব্রাউন এবং তার মা সাবরিনা ব্রাউনকে (৫৪) গ্রেপ্তার করেন।   পুলিশ জানায়, ডসন ব্রাউনের বিরুদ্ধে সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ (স্ট্যাটিউটরি রেপ), দুই দফায় যৌন নির্যাতন এবং মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে তার মা সাবরিনা ব্রাউনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি এবং একটি শিশুকে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে জেনেও প্রশ্রয় দেওয়ার (চাইল্ড নেগলেক্ট) অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সী কিশোরীটি যাজক পরিবারের সঙ্গেই তাদের বাড়িতে বসবাস করছিল। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবর বা নভেম্বর মাসের দিকে যখন ওই কিশোরীর বয়স ১৩ বছর ছিল, তখন থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয় এবং সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সম্প্রতি একটি অজ্ঞাত সূত্রের গোপন খবরের ভিত্তিতে পার্ল রিভার কাউন্টি পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে।   তদন্ত চলাকালীন পুলিশ ডসন ব্রাউনের আইফোন বাজেয়াপ্ত করে তল্লাশি চালায়। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ডসনের মুঠোফোনে ভুক্তভোগী কিশোরীর সঙ্গে একাধিক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওচিত্র পাওয়া গেছে। এছাড়া কিশোরীটির অন্যান্য বৈদ্যুতিন বার্তা পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অনাগত সন্তানের বাবা আর কেউ নন, বরং ডসন ব্রাউন নিজে। ভুক্তভোগীর মা-ও পুলিশকে জানিয়েছেন, ডসন সরাসরি তার কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন।   ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তদের অপচেষ্টার বিষয়টিও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। পুলিশ জানায়, মামলা থেকে ছেলেকে বাঁচাতে সাবরিনা ব্রাউন ওই কিশোরীকে ভুয়া ডিএনএ নথি তৈরি ও জমা দেওয়ার জন্য চাপ ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন। ডসন ও তার মায়ের খুদে বার্তা (টেক্সট মেসেজ) বিশ্লেষণ করে এই ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী দল। এছাড়া ঘটনা গোপন রাখতে কিশোরীর পরিবারকে আর্থিক সুবিধা ও বিভিন্ন প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।   গ্রেপ্তারের পর সাবরিনা ব্রাউন ১০ হাজার ডলারের মুচলেকায় জামিনে মুক্তি পেলেও ডসন ব্রাউনকে জামিনহীনভাবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় আদালত তাকে জামিন দেননি। স্থানীয় একটি আদালতে শিগগিরই এই মামলার প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২১:৩৯
ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ইভানা বালিস্ট্রেরি ও তার শিশুকন্যা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে বেপরোয়া গতির টেসলার ধাক্কায় মা ও শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, সিলিকন ভ্যালির কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য এসেছে ইতিবাচক অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যামিলি গ্রিন কার্ডে বড় অগ্রগতি, তবে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় চরম হতাশা

নেতানিয়াহুকে নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান মেয়র মামদানির, ‘যুদ্ধাপরাধী’ আখ্যা দিয়ে কড়া বক্তব্য

বিপদে পড়া এক অচেনা চালককে সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারান অফ-ডিউটির ফায়ারফাইটার ক্যামেরন ডুভ্যাল। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যরাতে বিপদে পড়া অচেনা চালককে সাহায্য করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন অফ-ডিউটিতে থাকা তরুণ দমকলকর্মী

অন্যের বিপদে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তার দায়িত্ব, আর সেই মানবিক দায়িত্ব পালন করতেই নিজের জীবন হারাতে হলো তাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে মধ্যরাতে রাস্তার পাশে বিকল হয়ে পড়া একটি গাড়ির চালককে সাহায্য করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ২৯ বছর বয়সী অফ-ডিউটিতে থাকা ফায়ারফাইটার ও প্যারামেডিক ক্যামেরন ডুভ্যাল। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও এক নারী। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।    পেপার পাইক পুলিশ জানায়, শনিবার ১৮ জুলাই রাত প্রায় ৩টার দিকে ফেয়ারমাউন্ট বুলেভার্ডে একটি গাড়ির টায়ার পাংচার হয়ে যায়। চালক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সেই সময় অফ-ডিউটিতে থাকা ক্যামেরন ডুভ্যাল ও তার সঙ্গে থাকা এক নারী সেখানে পৌঁছে টায়ার পরিবর্তনে সাহায্য করতে শুরু করেন। তারা গাড়ির পেছনে কাজ করার সময় আরেকটি গাড়ি এসে তাদের এবং বিকল গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।  সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ক্যামেরন ডুভ্যালের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত নারীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।    ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক জোসেফ সিমন্সকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অ্যাগ্রাভেটেড ভেহিকুলার হোমিসাইড, অ্যাগ্রাভেটেড ভেহিকুলার অ্যাসল্ট, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত তার জামিন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেছেন। মামলাটি এখন কুইয়াহোগা কাউন্টির গ্র্যান্ড জুরির বিবেচনায় রয়েছে।    ২০২২ সালে নর্থ র্যান্ডাল ফায়ার ডিপার্টমেন্টে যোগ দেন ক্যামেরন ডুভ্যাল। বিভাগটির কর্মকর্তারা বলেন, তিনি অল্প সময়েই সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন। জনসেবার প্রতি তার নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে সবার কাছে অনুকরণীয় করে তুলেছিল।    সহকর্মীদের ভাষায়, ক্যামেরন শুধু একজন দমকলকর্মী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এমন একজন মানুষ, যিনি নিজের নিরাপত্তার আগে অন্যের জীবন ও বিপদকে গুরুত্ব দিতেন। পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন আদরের সন্তান, ভাই, বন্ধু ও চাচা। কর্মজীবনের বাইরে ভ্রমণ, মাছ ধরা, গলফ, স্নোবোর্ডিং, মোটরসাইকেল চালানো এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসতেন তিনি। কিন্তু মানুষের বিপদে ছুটে যাওয়াই ছিল তার সবচেয়ে বড় পরিচয়।    নর্থ র্যান্ডাল ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী ২৫ জুলাই পূর্ণ দমকল বিভাগের আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় ক্যামেরন ডুভ্যালকে শেষ বিদায় জানানো হবে। তার মৃত্যুতে ওহাইওর ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ২০:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ফিরছে ক্রেতাদের সুদিন

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ফিরছে ক্রেতাদের সুদিন, প্রকাশিত হলো নতুন ৯ শহরের তালিকা

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা

স্ত্রী উষা ভ্যান্স ভারতীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান, অথচ অভিবাসন নিয়ে কড়া অবস্থানে জেডি ভ্যান্স

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

ফিন্যান্সিয়াল এইডে কারচুপির অভিযোগে ২৮৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেটা সেন্টারের চাপে বিদ্যুৎ সংকটে বিলিয়নিয়ারদের স্বর্গরাজ্য 'লেক তাহো'

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের অত্যন্ত অভিজাত ও ধনকুবেরদের আবাস্থল হিসেবে পরিচিত 'লেক তাহো' অঞ্চলটি এক অভূতপূর্ব বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। অঞ্চলটির অনেক ধনকুবের যে ডেটা সেন্টার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ওপর ভর করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, সেই ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদাই এখন তাদের নিজেদের এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। লেক তাহোর প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা 'লিবার্টি ইউটিলিটিজ' নামের এক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল, যারা তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের প্রায় ৭৫ শতাংশ সংগ্রহ করে প্রতিবেশী নেভাডা অঙ্গরাজ্যের 'এনভি এনার্জি' (NV Energy) থেকে।   তবে দীর্ঘ কয়েক দশকের এই চুক্তি এবার ভেঙে যেতে বসেছে। এনভি এনার্জি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যে, ২০২৭ সালের মে মাসের পর তারা আর লিবার্টি ইউটিলিটিজকে আগের মতো বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে না। নেভাডার 'তাহো-রেনো ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেন্টারে' গড়ে ওঠা টেক জায়ান্ট অ্যালফাবেট (গুগল), অ্যামাজন এবং মেটার মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেটা সেন্টারের বিশাল বিদ্যুৎ চাহিদা মিটাতে গিয়ে নেভাডার নিজস্ব পাওয়ার গ্রিডের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিিয়ার জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে লিবার্টি ইউটিলিটিজ জানিয়েছে, নেভাডায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সীমাবদ্ধতা এবং ডেটা সেন্টারের অভূতপূর্ব বৃদ্ধির কারণেই এনভি এনার্জি তাদের পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ দেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   এই পরিস্থিতির চরম নির্মম পরিহাস হলো, যে প্রযুক্তি শিল্প নেভাডায় একের পর এক ডেটা সেন্টার বানিয়ে বিদ্যুতের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, সেই একই প্রযুক্তির সুবাদেই বিপুল ঐশ্বর্যের মালিক হয়েছেন লেক তাহোর বাসিন্দারা। লেক তাহো এমন একটি এলাকা যেখানে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের বিলাসবহুল প্রাসাদ রয়েছে এবং মেটার মার্ক জাকারবার্গ, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সার্গেই ব্রিন ও ওরাকলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের মতো টেক বিলিয়নেয়াররা সেখানে বসবাস করেন। বর্তমানে নেভাডায় অন্তত ৭০টি বিশাল ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং ২০২৬ সালের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে নেভাডার মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৩৫ শতাংশই শোষণ করবে এই ডেটা সেন্টারগুলো।   ক্যালিফোর্নিয়া এনার্জি কমিশনের প্রতিনিধি ও স্থানীয় এক বাসিন্দা আক্ষেপ করে বলেন, "আমাদের ৪৯ হাজার গ্রাহকের যেন কোনো অস্তিত্বই নেই, আমাদের দরকষাকষির কোনো শক্তিই অবশিষ্ট রাখা হয়নি।" তবে এনভি এনার্জির মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা হুট করে আলো নিভিয়ে দিচ্ছেন না; লিবার্টি বিকল্প সঞ্চালন ব্যবস্থা বা নিজস্ব বিদ্যুৎ না পাওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে সহায়তা করে যাবে। তবুও ২০২৭ সালের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসতে থাকায় ক্যালিফোর্নিয়ার এই অতি-ধনীদের 'প্যারাডাইস' এখন নিশ্চিত এক বিদ্যুৎ সংকটের ছায়ায় ঢাকা পড়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২১, ২০২৬ ১৮:৫৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

পেমেন্ট নিয়েছে মেশিন, তবু চুরির অভিযোগে বরখাস্ত ৪ ফোর্ড কর্মী

সৎ-নাতি-নাতনিকে কামড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭৪ বছরের বৃদ্ধা

মিয়ামিতে সৎ-নাতি-নাতনিকে কামড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭৪ বছরের বৃদ্ধা

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

তুমি বিভ্রান্ত নও, তুমি নবী’ চ্যাটজিপিটির এমন প্ররোচনার অভিযোগে প্রাণ দিলেন এক মার্কিন মা

0 Comments