সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#আমেরিকারখবর

কুকুরের নামে ভোট, শেষে বিলবোর্ডে উঠল তারই ছবি
কুকুরকে ভোটার বানিয়ে দুইবার ব্যালট পাঠালেন নারী, শেষ পর্যন্ত শাস্তি হিসেবে কুকুরের ছবিই উঠল বিলবোর্ডে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের পোষা কুকুরকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে পরপর দুই নির্বাচনে তার নামে ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়েছিলেন এক নারী। কুকুরটির নামে পাঠানো প্রথম ব্যালটটি গণনা করা হলেও দ্বিতীয়টি বাতিল হয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের পর ওই নারীর বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি কম গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং শাস্তির অংশ হিসেবে নিজের কুকুরের ছবি ব্যবহার করা ভোট জালিয়াতিবিরোধী চারটি বিলবোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার দেন। শর্ত পূরণের পর তাঁর মামলাটিও খারিজ হয়েছে।   নারীর নাম লরা লি ইউরেক্স। ৬৪ বছর বয়সী এই নারী ক্যালিফোর্নিয়ার কোস্টা মেসা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পোষা কুকুরটির নাম ছিল মায়া জিন ইউরেক্স। ২০২০ সালের ৭ মে তিনি কুকুরটিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন। পরে ২০২১ সালের গভর্নর প্রত্যাহার নির্বাচন এবং ২০২২ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালট জমা দেন। তবে কুকুরটি আসলে কাকে ভোট দিয়েছিল, তা জানা যায়নি। প্রকাশিত নির্বাচনী তথ্যেও মায়ার ভোটের পছন্দ উল্লেখ নেই। কুকুরটির নামে নিবন্ধনের সময় রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে ‘কোনো দল পছন্দ নয়’—এমন অবস্থান নথিভুক্ত ছিল। ইউরেক্স নিজে ২০২০ সালে নিবন্ধিত রিপাবলিকান ভোটার ছিলেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় থেকে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালটের ভোট কাকে দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ২০২১ সালের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার তৎকালীন গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ভোট হয়েছিল। মায়ার নামে পাঠানো ব্যালটটি গণনা করা হয়। ওই নির্বাচনে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার নিউসমকে প্রত্যাহারের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। কিন্তু এই ফলাফল থেকে মায়ার ব্যালটে কোন বিকল্প বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পরের বছর ২০২২ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালটটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং বাতিল হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী নিয়মে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে পরিচয়পত্র বা বসবাসের প্রমাণ দেখানোর শর্ত না থাকলেও নির্দিষ্ট ফেডারেল নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেওয়া ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হতে পারে। মায়ার নামে পাঠানো ব্যালটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় সেটি গ্রহণ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তকারীদের নজরে আসে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। অরেঞ্জ কাউন্টির নির্বাচনী নিবন্ধকের কার্যালয় বিষয়টি জেলা অ্যাটর্নির দপ্তরকে জানায়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, ইউরেক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুকুরটির নামে ব্যালট পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি মায়ার গায়ে ‘আই ভোটেড’ লেখা স্টিকার লাগানো এবং সামনে ব্যালট রাখা একটি ছবি পোস্ট করেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আরেকটি পোস্টে কুকুরটির পরিচয়পত্রের ট্যাগ ও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালটের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘মায়া এখনো তার ব্যালট পাচ্ছে।’ তখন কুকুরটি আগেই মারা গিয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরেক্সের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ছিল মিথ্যা শপথ, জাল বা মিথ্যা নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ব্যালট জমা দেওয়া এবং অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা। সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ছয় বছর কারাদণ্ড হতে পারত। তবে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সমঝোতার অংশ হিসেবে ইউরেক্স অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে জেনেশুনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের একটি কম গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। বাকি চারটি গুরুতর অভিযোগ বাদ দেওয়া হয় এবং একটি অভিযোগ গুরুতর অপরাধ থেকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধে রূপান্তর করা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, ইউরেক্সকে অরেঞ্জ কাউন্টির ৫৫ ও ২২ নম্বর ফ্রিওয়ের পাশে চারটি ভোট জালিয়াতিবিরোধী বিলবোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার দিতে হয়। বিলবোর্ডগুলোতে তাঁর পোষা কুকুর মায়ার সেই ছবিই ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে কুকুরটির গায়ে ‘আই ভোটেড’ স্টিকার এবং সামনে ব্যালট দেখা যায়। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘কুকুরের মতো আচরণ করবেন না। ভোট জালিয়াতি অপরাধ। আইনগতভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার না থাকলে ভোট দেবেন না। অরেঞ্জ কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ বিলবোর্ডগুলো ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত প্রদর্শিত হওয়ার কথা। ইউরেক্স সমঝোতার সব শর্ত পূরণ করার পর ১৩ অক্টোবর তাঁর মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ হয়। ফলে ঘটনাটি শুধু পোষা প্রাণীর নামে ভোট দেওয়ার অস্বাভাবিক কাহিনি নয়, বরং ভোটার নিবন্ধন ও নির্বাচনী যাচাইব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে ঘুম কমছে বলে মনে করছেন অনেক মার্কিন
স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটিয়ে সবচেয়ে বেশি যে সমস্যায় পড়ছেন মার্কিনরা

স্মার্টফোন এখন যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় অবিচ্ছেদ্য অংশ। খবর জানা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, কাজের সমন্বয় কিংবা নানা প্রয়োজনীয় কাজ—সবকিছুতেই স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এর পাশাপাশি স্মার্টফোন ব্যবহারের একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে তারা যতটা ঘুম পেতেন, তার চেয়ে কম ঘুম পাচ্ছেন। বিপরীতে মাত্র ৫ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। আর ৪৬ শতাংশের মতে, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের ওপর তেমন কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেনি।   পিউ রিসার্চ সেন্টারের আমেরিকান ট্রেন্ডস প্যানেল-এর মাধ্যমে ২০২৬ সালের ২৬ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত এই জরিপ চালানো হয়। এতে অংশ নেন ৯ হাজার ৭৫০ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক।   বয়সভেদে স্মার্টফোনের প্রভাবের পার্থক্য বেশ স্পষ্ট। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৬২ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৫২ শতাংশ। ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৬ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ একই কথা বলেছেন।   শুধু ঘুম নয়, স্মার্টফোন কাজের উৎপাদনশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়েছে। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৪৩ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ২৮ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ১৫ শতাংশ।   মানসিক অবস্থার ক্ষেত্রে অবশ্য চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। জরিপে ২২ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিপরীতে ১৮ শতাংশ বলেছেন, এটি তাদের মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় অংশ, ৫১ শতাংশ, বলেছেন স্মার্টফোন তাদের মেজাজে ইতিবাচক বা নেতিবাচক কোনো প্রভাবই ফেলে না।   স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় নিয়েও অনেক মার্কিনের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। জরিপে ৫৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, তারা স্মার্টফোনে যতটা সময় কাটান, তা তাদের কাছে অতিরিক্ত মনে হয়। ৩৬ শতাংশ বলেছেন, তারা যে পরিমাণ সময় ফোন ব্যবহার করেন তা মোটামুটি ঠিক আছে। মাত্র ৩ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে খুব কম সময় কাটান।   এ ক্ষেত্রেও তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহারের অনুভূতি সবচেয়ে বেশি। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৭০ শতাংশ মনে করেন, তারা স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছেন। ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ৬৪ শতাংশ, ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ২৫ শতাংশ।   তবে স্মার্টফোনকে মার্কিনরা শুধু নেতিবাচকভাবেই দেখছেন না। বরং এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথাও উঠে এসেছে জরিপে।   প্রায় ৭৩ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন ও তথ্যসমৃদ্ধ থাকতে সাহায্য করে। আর ৫১ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোন তাদের অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়তা করে।   অন্যদিকে মাত্র ৩ শতাংশ বলেছেন, স্মার্টফোনের কারণে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য থেকে দূরে থাকেন। ১২ শতাংশ মনে করেন, ফোনের কারণে অন্য মানুষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   অর্থাৎ, স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ করার পাশাপাশি কিছু সমস্যাও তৈরি করছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে অতিরিক্ত ব্যবহার, ঘুমের ঘাটতি এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ তুলনামূলক বেশি। জরিপের ফলাফল বলছে, স্মার্টফোনের সুবিধা মানুষ স্বীকার করলেও এর ব্যবহারের পরিমাণ নিয়ে অনেকেই এখন নতুন করে ভাবছেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে রাজ্যভেদে বড় পার্থক্য, শীর্ষে ভার্মন্ট
যে রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি, নতুন প্রতিবেদনে চমকপ্রদ তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচ শুধু কলেজে পড়ার সময়ই নয়, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পরও বহু মানুষের ওপর দীর্ঘদিন আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নতুন এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তিতে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। কোথাও ঋণগ্রহীতাদের মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৫৮ ডলার, আবার কোথাও তা ১৬০ ডলারের কাছাকাছি।   ওয়ালেটহাবের ১ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভার্মন্টে শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি—২৫৮ ডলার। এরপর রয়েছে ম্যাসাচুসেটস ২৫০ ডলার, মেরিল্যান্ড ২৪৯ ডলার, নিউ হ্যাম্পশায়ার ২৪৯ ডলার এবং কানেকটিকাট ২৪৭ ডলার।   তালিকার শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে নিউ জার্সি ২৪৬ ডলার, নিউইয়র্ক ২৪২ ডলার, ইলিনয় ২৩৮ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়া ২৩৭ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়া এ তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে।   অন্যদিকে, সবচেয়ে কম মধ্যম মাসিক কিস্তি দেখা গেছে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে—দুই রাজ্যেই ১৬০ ডলার। নর্থ ডাকোটায় ১৬১ ডলার, কেনটাকিতে ১৬২ ডলার এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ১৬৫ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন রাজ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তির ব্যবধান প্রায় ৯৮ ডলার।   ওয়ালেটহাব এই তালিকা তৈরি করতে ৫০টি রাজ্যের ভোক্তা-আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি রাজ্যে ঋণগ্রহীতাপ্রতি শিক্ষাঋণের মধ্যম মাসিক পরিশোধের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। এখানে ‘মধ্যম’ অর্থ হলো তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানের পরিমাণ; এটি প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার প্রকৃত গড় কিস্তি বোঝায় না।   দেশজুড়ে শিক্ষাঋণের পরিমাণও বিশাল। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৪ কোটি ২৩ লাখ ঋণগ্রহীতার নামে ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ফেডারেল শিক্ষাঋণ বকেয়া ছিল। এর মধ্যে শিক্ষা বিভাগের সরাসরি ব্যবস্থাপনায় থাকা ঋণের পরিমাণ ১.৬৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।   ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের তথ্য আরও বলছে, জুন ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৩ লাখ ঋণগ্রহীতা খেলাপির পর্যায়ে ছিলেন। তাদের বকেয়া ফেডারেল শিক্ষাঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে ১ কোটি ৭৪ লাখের বেশি ঋণগ্রহীতার অন্তত একটি ঋণ পরিশোধ বা বকেয়া অবস্থায় ছিল।   ঋণের সুদের হারও পরিশোধের সময়কে প্রভাবিত করে। ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে বিতরণ করা স্নাতক পর্যায়ের ফেডারেল ডাইরেক্ট সাবসিডাইজড ও আনসাবসিডাইজড ঋণের নির্ধারিত সুদের হার ৬.৫২ শতাংশ। একই সময়ে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ডাইরেক্ট আনসাবসিডাইজড ঋণের হার ৮.০৭ শতাংশ এবং ডাইরেক্ট প্লাস ঋণের হার ৯.০৭ শতাংশ।   ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপোর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার ৫০০ ডলারের ঋণ এবং ৬.৫২ শতাংশ স্থির সুদের হার ধরে ২০ বছরের মধ্যে ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে মাসে প্রায় ৩০২ ডলার দিতে হবে। অর্থাৎ অনেক ঋণগ্রহীতা বর্তমানে যে মধ্যম কিস্তি দিচ্ছেন, সেই হারে ঋণ শোধ করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।   রাজ্যভেদে কিস্তির এই পার্থক্য শিক্ষাঋণের আর্থিক চাপ যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমান নয়, সেটিই তুলে ধরছে। বিশেষ করে ভার্মন্ট, ম্যাসাচুসেটস, মেরিল্যান্ড ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের মতো রাজ্যে মধ্যম মাসিক কিস্তি ২৪৯ থেকে ২৫৮ ডলারের মধ্যে। বিপরীতে ওয়াইওমিং ও আরকানসাসে তা ১৬০ ডলার।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের সুদ প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদ বাড়ল এক লাফে, বাড়তে পারে মাসিক কিস্তিও

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ঋণের খরচ আরও বেড়েছে। দেশটির বহুল ব্যবহৃত ৩০ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের গড় হার এবার ৭.২৮ শতাংশে উঠেছে, যা প্রায় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।   মর্টগেজ ঋণের ক্রেতা ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.০৩ শতাংশ। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তা বেড়েছে ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর এক সপ্তাহে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। এক বছর আগে একই ধরনের ঋণের গড় সুদ ছিল ৬.৩৪ শতাংশ।   এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজের সুদের হার বেড়েছে।   বর্তমান ৭.২৮ শতাংশ হারটি ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। সেদিন ৩০ বছরের মর্টগেজের গড় সুদ ছিল ৭.২৯ শতাংশ।   শুধু ৩০ বছরের ঋণ নয়, ১৫ বছরের স্থির সুদের মর্টগেজের হারও বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৬.৪২ শতাংশ থেকে এবার তা বেড়ে হয়েছে ৬.৬০ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ৫.৫৫ শতাংশ।   কেন এত বাড়ছে মর্টগেজ সুদ?   গত মাসেই ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশ অতিক্রম করেছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এটি নেমে এসেছিল ৫.৯৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালের শেষের পর সর্বনিম্ন পর্যায় ছিল।   এরপর থেকে সুদের হার দ্রুত বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে পৌঁছানোয় প্রায় ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে হার।   এই বৃদ্ধির পেছনে মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং অর্থনীতি নিয়ে বন্ডবাজারের বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয় কাজ করে। সাধারণত ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের গতিপথের সঙ্গেও মর্টগেজের সুদের হার ওঠানামা করে।   তেলের দাম বৃদ্ধিও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে। এর প্রভাব আবাসন বাজারেও পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।   বাড়ি ক্রেতাদের ওপর প্রভাব   মর্টগেজের সুদ বাড়লে একই পরিমাণ ঋণের জন্য মাসিক কিস্তি বেড়ে যায়। ফলে অনেক ক্রেতার বাড়ি কেনার সক্ষমতা কমে যেতে পারে। কেউ কেউ বেশি সুদের কারণে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়েও দিতে পারেন।   ফেব্রুয়ারির শেষের ৫.৯৮ শতাংশ থেকে বর্তমান ৭.২৮ শতাংশে সুদ বৃদ্ধির ফলে ৪ লাখ ডলারের মর্টগেজে মাসিক কিস্তি আনুমানিক ২৭৬ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারেও কিছুটা চাপ দেখা যাচ্ছে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে আগের মাসের তুলনায় বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি ২ শতাংশ কমে যায়। মৌসুমভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক বিক্রির হার নেমে আসে ৩৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিটে, যা এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ধীর গতি।   তবে ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটারের মতে, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রেতারা নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন।   মর্টগেজের সুদের হার ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে, তা মূল্যস্ফীতি, ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত এবং বন্ডবাজারের গতিপথের ওপর অনেকটাই নির্ভর করবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
সন্তানের জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়েছে কি না দেখে নিন
৬ কোটির বেশি শিশুর নামে খুলছে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট, জানুন ১,০০০ ডলার পাওয়ার নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরির নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে অভিভাবক বা অনুমোদিত ব্যক্তিকে নিজে থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার উদ্যোগ নিতে হতো। এখন সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৬ কোটির বেশি অতিরিক্ত যোগ্য শিশুর নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হয়েছে। ফলে দেশজুড়ে ১৮ বছরের কম বয়সী যোগ্য শিশুদের জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই অভিভাবক সেটি ব্যবহার করতে পারবেন—এমন নয়।   অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবককে অ্যাকাউন্টটি দাবি বা ক্লেইম করতে হবে। পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাইয়ের পর অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করা যাবে। ক্লেইম না করা পর্যন্ত পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগও চালু হবে না। ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি ১,০০০ ডলারের অর্থ পেতেও অ্যাকাউন্টটি ক্লেইম করা প্রয়োজন।   কারা পাবেন ১,০০০ ডলার?   সব ট্রাম্প অ্যাকাউন্টধারী শিশু ১,০০০ ডলারের সরকারি অর্থ পাবেন না।   ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৮-এর মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশু, যাদের বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর রয়েছে, তারা ট্রেজারি বিভাগের এককালীন ১,০০০ ডলারের পাইলট প্রোগ্রাম অবদানের জন্য যোগ্য। এই অর্থ শিশুর ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করা হবে।   অন্যদিকে, ২০২৫ সালের আগে জন্ম নেওয়া কিছু শিশু সরকারি ১,০০০ ডলারের জন্য যোগ্য না হলেও বেসরকারি অনুদান পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে। মাইকেল ও সুসান ডেলের উদ্যোগে যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এটি মূল সরকারি ১,০০০ ডলারের আলাদা কর্মসূচি।   বছরে কত টাকা জমা দেওয়া যাবে?   ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে পরিবার, বন্ধু, নিয়োগকর্তা ও নির্দিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান অর্থ দিতে পারে। সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা ৫,০০০ ডলার, যা ২০২৭ সালের পর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় হতে পারে। তবে সরকারি ১,০০০ ডলারের পাইলট অবদান এই ৫,০০০ ডলারের সীমার মধ্যে ধরা হয় না।   নিয়োগকর্তাও নির্দিষ্ট শর্তে বছরে সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত অবদান রাখতে পারেন, যা ৫,০০০ ডলারের সামগ্রিক সীমার অংশ হিসেবে গণ্য হয়।   টাকা কখন ব্যবহার করা যাবে?   ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য তৈরি। শিশুর বয়স ১৮ হওয়ার আগের নির্দিষ্ট গ্রোথ পিরিয়ডে সাধারণভাবে টাকা তুলে নেওয়া যায় না। গ্রোথ পিরিয়ড শেষ হলে প্রচলিত আইআরএ-সংক্রান্ত নিয়ম প্রযোজ্য হয়।   অর্থাৎ, এটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো প্রতিদিনের খরচের জন্য ব্যবহার করার ব্যবস্থা নয়। মূল লক্ষ্য হলো শিশুর নামে দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ গড়ে তোলা।   অভিভাবকদের এখন কী করতে হবে?   ১. যোগ্যতা যাচাই করুন: ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা শিশু ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের জন্য যোগ্য হতে পারে।   ২. অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করুন: স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি হলেও অভিভাবককে সেটি দাবি করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, অফিসিয়াল ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই করে অ্যাকাউন্ট ক্লেইম করা যায়।   ৩. ১,০০০ ডলারের যোগ্যতা দেখুন: শিশু ২০২৫–২০২৮ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে সরকারি এককালীন অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারে।   ৪. চাইলে অতিরিক্ত অর্থ জমা দিন: পরিবার, বন্ধু বা নিয়োগকর্তা অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারেন, বার্ষিক নির্ধারিত সীমার মধ্যে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া আর অ্যাকাউন্ট দাবি করা এক বিষয় নয়। আপনার সন্তানের নামে অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে গেলেও সেটি ব্যবহার ও সরকারি অর্থ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী ধাপটি অভিভাবককেই সম্পন্ন করতে হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
তিন দিনের ক্রুজে যাওয়ার সময় বাসায় একা পড়ে ছিল দুই মাসের শিশুসহ চার সন্তান
তিন দিনের ভ্রমণে মা, বাসায় একা পড়ে ছিল ২ মাসের শিশুসহ ৪ সন্তান

ফ্লোরিডার এক মা তিন দিনের বাহামাস ক্রুজে যাওয়ার সময় দুই মাস বয়সী শিশুসহ নিজের চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিন দিনের ভ্রমণ শেষে সোমবার ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পরই তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   আদালতের নথি অনুযায়ী, নর্থ মায়ামি বিচের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাথালি বেলিজেয়ারকে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা কার্নিভাল কনকোয়েস্ট ক্রুজ জাহাজ থেকে নামার পর আটক করেন। পরে তাকে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করা হলে তার বিরুদ্ধে শিশুদের অবহেলার চারটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।   পুলিশ জানতে পারে, চার সন্তানকে বাসায় একা রেখে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে। দুই মাস বয়সী শিশুটির বাবা পুলিশকে জানান, বৃহস্পতিবার তিনি বেলিজেয়ারের একটি হোয়াটসঅ্যাপ স্টোরি দেখেন, যেখানে ক্রুজের টিকিট দেখা যাচ্ছিল। ওই মা তাকে জানিয়েছিলেন, তিনি শিশুদের তাদের প্রপিতামহীর কাছে রেখে যাবেন।   কিন্তু দুই দিন পর ওই ব্যক্তি বেলিজেয়ারের বাসায় গিয়ে দেখতে পান, টেলিভিশন চালু রয়েছে এবং ভেতর থেকে শিশুদের শব্দ শোনা যাচ্ছে। পরে পুলিশ ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখন চার শিশুকে একসঙ্গে বাথরুমে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়।   আদালতের অভিযোগপত্রে চার শিশুর সবার বয়স উল্লেখ করা হয়নি। তবে এতে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের বয়স দুই বছর এবং আরেকজন দুই মাস বয়সী শিশু।   তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, শিশুদের দেখাশোনার কথা ছিল তাদের প্রপিতামহীর। তিনি পুলিশকে জানান, বেলিজেয়ার তাকে বলেছিলেন যে তিনি বাইরে যাচ্ছেন এবং শিশুদের তার কাছে দিয়ে যাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি শিশুদের নিয়ে যাননি।   বেলিজেয়ারের ভাইও পুলিশকে জানান, তাকে শিশুদের খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছিল।   তদন্তের সময় পুলিশ আরও জানতে পারে, বেলিজেয়ার শুক্রবার যাত্রা শুরু হওয়া তিন দিনের একটি ক্রুজের টিকিট কিনেছিলেন। জাহাজটি তিন দিন পর ফিরে আসার সময় স্থানীয় ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।   গ্রেপ্তারের পর বেলিজেয়ারকে ২ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ নভেম্বর তাকে আবার আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে অংশ নিতে হবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
বিয়েকে এড়িয়ে নয়, বরং স্থায়ী সম্পর্কের দিকেই বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে জেন জি
জেন জি-ই বিয়েতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, বলছে নতুন গবেষণা

বিয়ে ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক থেকে তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে—এমন ধারণা অনেকদিন ধরেই প্রচলিত। তবে নতুন এক গবেষণায় সেই ধারণার সঙ্গে মিলছে না জেন জির বাস্তব ভাবনা। বরং অন্য যেকোনো প্রজন্মের তুলনায় জেন জির মধ্যেই বিয়ের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে।   ম্যাচ গ্রুপের ২০২৬ সালের Singles in America গবেষণায় অংশ নেওয়া জেন জির ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যতে বিয়ে করতে চান। গবেষণাটি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির কিনসে ইনস্টিটিউটের গবেষকদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। এতে মার্চ ও এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ৫ হাজার অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।   গবেষণায় দেখা গেছে, সব বয়সী অংশগ্রহণকারীর ৭৬ শতাংশ বিশ্বাস করেন, রোমান্টিক ভালোবাসা আজীবন স্থায়ী হতে পারে। ৭৪ শতাংশ মনে করেন, কিছু সম্পর্ক যেন ‘হওয়ারই কথা’ এবং ৬১ শতাংশ বিশ্বাস করেন, প্রত্যেক মানুষের জন্য একজন আদর্শ সঙ্গী বা ‘সোলমেট’ রয়েছে।   দীর্ঘদিন ধরে তরুণ আমেরিকানদের মধ্যে বিয়ের আগ্রহ কমে যাওয়ার পেছনে আর্থিক চাপ, বাড়ির উচ্চমূল্য এবং সম্পর্কের পরিবর্তিত ধারণাকে দায়ী করা হয়েছে। কিন্তু নতুন গবেষণার ফল বলছে, বিয়ের প্রতি আগ্রহ কমার চেয়ে বরং বিয়েতে পৌঁছানোর পথটিই জেন জির কাছে বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।   ডেটিং অ্যাপ ফ্লেজের প্রতিষ্ঠাতা ভ্যাল ক্লিমভের মতে, জেন জি আসলে গুরুতর সম্পর্ক চায়। তবে বর্তমান ডেটিং সংস্কৃতি তাদের সেই সম্পর্কে পৌঁছে দেবে কি না, তা নিয়ে তাদের আস্থা কম।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন জি আগের প্রজন্মের তুলনায় কম ডেট করেছে। ফলে সম্পর্কের প্রতি তাদের আগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে আরও সচেতন ও বাছাই করা। একই সঙ্গে ডেটিং অ্যাপ, ‘সোয়াইপ কালচার’ এবং অনিশ্চিত সম্পর্ক বা ‘সিচুয়েশনশিপ’-এর প্রতি একধরনের ক্লান্তিও তৈরি হয়েছে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে শুধু উত্তেজনা বা আকর্ষণের চেয়ে মানসিক স্থিরতা ও সামঞ্জস্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেক অবিবাহিত মানুষ। প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৯ শতাংশ জানিয়েছেন, এমন কারও প্রেমে পড়েছেন যাকে শুরুতে তারা আকর্ষণীয় মনে করেননি। ভালো কথোপকথন, অভিন্ন আগ্রহ ও একই ধরনের মূল্যবোধ পরে আকর্ষণ তৈরি করেছে বলে জানিয়েছেন তারা।   অন্যদিকে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘শান্তি ও মানসিক নিরাপত্তা’কে ‘আবেগ ও উত্তেজনা’র চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন অবিবাহিতরা।   অর্থনৈতিক বিষয়ও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় ৭১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, অর্থ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস বাড়ায়। ৭০ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা বিয়ের আগে প্রিনাপচুয়াল এগ্রিমেন্ট বা সম্পত্তি ও আর্থিক বিষয় নিয়ে আগাম চুক্তি করতেও রাজি।   কাউন্সেলর আলেক্সান্দ্রা ক্রোমারের মতে, বর্তমান উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ও জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর একটি কারণ হতে পারে। বাড়ি কেনা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন খরচ—সবকিছুর চাপের মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, দুইজনের আয় থাকলে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য অর্জন তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।   তবে বিয়ের প্রতি আগ্রহ বেশি হলেও এর অর্থ এই নয় যে জেন জি দ্রুত বিয়ে করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা হয়তো আগের প্রজন্মের তুলনায় দেরিতে বিয়ে করবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে পারে।   গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, ২৪ বছর বয়সে বিয়ে করতে চাওয়া আর ৩০ বছর বয়সের মধ্যে সত্যিই বিয়ে করা—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই জেন জির বিয়ের প্রতি আগ্রহ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের হার বাড়াবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
জেট ফুয়েলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন আনছে বড় মার্কিন এয়ারলাইনগুলো
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ফ্লাইট কমাচ্ছে বড় এয়ারলাইনগুলো, বাড়তে পারে ভাড়া

জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইটের সংখ্যা ও সক্ষমতা কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়তি জ্বালানি খরচ সামাল দিতে তারা ফ্লাইট সূচি নিয়মিত পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনছেন।   ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৮১ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি করছে।   আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডেভন মে জানিয়েছেন, চতুর্থ প্রান্তিকে জেট ফুয়েলের দাম জুলাইয়ে করা পূর্বাভাসের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেশি হতে পারে। এতে শুধু আমেরিকান এয়ারলাইনসের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাড়তে পারে বলে তিনি জানান।   মে বলেন, বাড়তি জ্বালানি খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বছরের শেষ প্রান্তিকে এয়ারলাইনটির ফ্লাইট সক্ষমতায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তবে তিনি জানান, চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে তারা সন্তুষ্ট।   আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবার্ট আইসমের মতে, জ্বালানির বাড়তি খরচের একটি বড় অংশ যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া বাড়তি আয় দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এয়ারলাইনটির আয় ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন।   এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মাইকেল লেস্কিনেন জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বেশি থাকায় ডিসেম্বরে নির্ধারিত কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক এবং পরবর্তী সময়েও ফ্লাইট সূচিতে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে।   তবে ইউনাইটেডের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়লেও তাদের ফ্লাইট বুকিংয়ে এখনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। প্রিমিয়াম যাত্রী, করপোরেট ভ্রমণ এবং সাধারণ শ্রেণির বুকিং—সব ক্ষেত্রেই চাহিদা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে।   সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও জ্বালানি খরচের চাপ সামাল দিতে ফ্লাইট সক্ষমতা নিয়ে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা টম ডক্সি বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে যে পরিমাণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে।   ডক্সি বলেন, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সক্ষমতা কমানো স্বাভাবিক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সাউথওয়েস্টের এক মুখপাত্র পরে জানান, এখন পর্যন্ত সূচিতে যে পরিবর্তন করা হয়েছে তা খুবই সীমিত। ডক্সির বক্তব্যটি মূলত পরিস্থিতি বোঝানোর উদাহরণ ছিল, ইতোমধ্যে নেওয়া কোনো বড় পদক্ষেপের ঘোষণা নয়।   সাউথওয়েস্ট জানিয়েছে, শরৎকালের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো বুকিং বাড়তি জ্বালানি খরচের প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে সাহায্য করছে। এ কারণে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকের আয়সংক্রান্ত পূর্বাভাসও তারা বজায় রেখেছে।   এয়ারলাইনগুলো বলছে, যাত্রী চাহিদা এখনো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও জেট ফুয়েলের দাম কতদিন উচ্চ থাকবে, তার ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে। জ্বালানি খরচ দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের টিকিটের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে আইসিই ও ডিএইচএসের অবস্থান ঘিরে নতুন করে আলোচনা
অপরাধে অভিযুক্ত নন এমন অভিবাসীদেরও আইনি হেফাজতে নেবে আইসিই, জানাল ডিএইচএস

যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আইনি হেফাজতে নেওয়া বন্ধ বা সীমিত করার বিষয়ে আইসিইকে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—এমন খবর অস্বীকার করেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএইচএস। সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা কাউকেই আইনি ব্যবস্থার আওতার বাইরে রাখা হয়নি।   সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইসিইর কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আপাতত আইনি হেফাজতে না নিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নির্দেশনা আইসিইর অভ্যন্তরে মৌখিকভাবে দেওয়া হয়েছিল এবং এটি সাময়িকও হতে পারে।   তবে ডিএইচএস এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিতভাবে অবস্থান করা যেকোনো ব্যক্তি আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের আওতায় থাকতে পারেন। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কেউই তালিকার বাইরে নয়।’   এদিকে আইসিইর কৌশল পরিবর্তনের দাবি করা প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে অভিযান থেকে বিরত থাকতে বলা হতে পারে। তবে এই নির্দেশনা লিখিত নাকি মৌখিক, কিংবা এটি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য কি না—তা নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   ডিএইচএসের অস্বীকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকায় আইসিইর অভ্যন্তরে কোনো সাময়িক বা সীমিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে এমন কোনো নথি পাওয়া যায়নি, যা দেশজুড়ে আইসিইর অভিবাসন আইন প্রয়োগের নীতিতে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নিশ্চিত করে।   ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংস্থার নীতিতে এমন কোনো পরিবর্তন হয়নি, যার মাধ্যমে অপরাধে জড়িত নন এমন অনিবন্ধিত অভিবাসীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইনি হেফাজত থেকে অব্যাহতি পাবেন।   অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা ও না থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আইসিই কীভাবে অভিযান পরিচালনা করবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও দাবি সামনে এসেছে। তবে নতুন কোনো জাতীয় নীতিগত পরিবর্তন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ডিএইচএসের প্রকাশ্য অবস্থান হলো—আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা ব্যক্তিরা আইনি ব্যবস্থার আওতায় থাকতে পারেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্যারামাউন্টের কার্যক্রম ও সম্ভাব্য স্থানান্তরকে ঘিরে প্রতীকী চিত্র
ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার হুমকি প্যারামাউন্টের, বড় ধাক্কার শঙ্কা অর্থনীতিতে

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্যারামাউন্ট তাদের প্রধান কার্যালয় ও কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটির অর্থনীতিতে বছরে ২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় ৫৮ হাজার কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির (ডব্লিউবিডি) সঙ্গে প্যারামাউন্টের সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে চলমান অ্যান্টিট্রাস্ট বিতর্কের মধ্যে ফাঁস হওয়া একটি প্রাথমিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে এমন সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাপ্লাইড ইকোনমিকস প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রথম হাতে পায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। ডব্লিউবিডির সঙ্গে প্যারামাউন্টের একীভূতকরণ নিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার নেতৃত্বে ১২টি ডেমোক্র্যাট অঙ্গরাজ্যের আইনি পদক্ষেপের পর। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, এই একীভূতকরণ হলে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন খাতে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। চুক্তিটি বাস্তবায়িত না হলে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্যারামাউন্টকে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে তাদের প্রধান কার্যালয় ও হাজার হাজার কর্মসংস্থান সরিয়ে নিতে হতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি ইঙ্গিত দিয়েছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে জর্জিয়া, টেনেসি ও টেক্সাসের নামও আলোচনায় এসেছে। প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় প্রভাব হিসেবে কর্মসংস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্যারামাউন্ট ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকা তাদের সব কার্যক্রম সরিয়ে নিলে অঙ্গরাজ্যটিতে স্থায়ীভাবে ২৮ হাজার ৯৯০ থেকে সর্বোচ্চ ৫৭ হাজার ৯৮০টি পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান কমে যেতে পারে। এর মধ্যে প্যারামাউন্টের সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং কর্মীদের ব্যয়ের মাধ্যমে সৃষ্ট কর্মসংস্থানও অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বছরে ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে ২১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের কর রাজস্ব বছরে প্রায় ৫৮৫ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব হিসাব মূলত সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য প্রভাবের একটি চিত্র। এর কারণ, প্যারামাউন্ট অঙ্গরাজ্যভিত্তিক পরিচালন ব্যয় ও কর্মসংস্থানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে না। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির মোট পরিচালন ব্যয় ছিল প্রায় ১৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষণে ধারণা করা হয়েছে, প্যারামাউন্টের মোট পরিচালন ব্যয়ের ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্যালিফোর্নিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। অর্থের হিসাবে এর পরিমাণ বছরে প্রায় ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন থেকে ১১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এদিকে একীভূতকরণসংক্রান্ত প্রায় ১ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ফি ও অর্থায়ন ব্যয় সামাল দিতে প্যারামাউন্ট যদি ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যয় কমায়, সেক্ষেত্রেও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে। পাঁচ বছরে সমান হারে ব্যয় কমানো হলে প্রতিবছর ৫৫০ থেকে ১ হাজার ১১০টি পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ২০২ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ৪০৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমতে পারে। প্যারামাউন্ট ও ডব্লিউবিডির সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে আইনি বিরোধের সূত্রপাত হয় গত ১৩ জুলাই। সেদিন ১২টি অঙ্গরাজ্য চুক্তিটি রোধ করতে আইনি পদক্ষেপ নেয়। তাদের দাবি, একীভূতকরণ হলে বড় পরিসরের সিনেমা, সম্ভাব্য ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র এবং বেসিক কেবল চ্যানেলের স্বত্ব বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ গত জুনে নিজস্ব পর্যালোচনা শেষ করলেও একীভূতকরণ ঠেকাতে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। বিভাগের মূল্যায়ন ছিল, এই চুক্তির ফলে স্ট্রিমিং, প্রচলিত টেলিভিশন কিংবা চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা ও বিতরণ খাতে প্রতিযোগিতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। এদিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের পর চুক্তি সম্পন্ন হলে ডব্লিউবির শেয়ারহোল্ডারদের অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার শর্ত রয়েছে। এলএইডিইসির প্রতিবেদনের হিসাবে, ১ অক্টোবর থেকে এই অতিরিক্ত অর্থ বা ‘টিকিং ফি’ বাবদ প্যারামাউন্টকে প্রতিদিন প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হতে পারে। বিরোধ নিরসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্যারামাউন্ট একীভূত প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে অন্তত ৩০টি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে পাঁচ বছরে ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ হাজার ২০ থেকে ২ হাজার ৭৬০টি চাকরির সমপরিমাণ কর্মসংস্থান এবং ৩৭৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে। .ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় বলেছে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ব্যবসার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান। তাদের মতে, শক্তিশালী অ্যান্টিট্রাস্ট আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতা ও ভোক্তাদের সুবিধা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। .তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্যারামাউন্টের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিলেই ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকির পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের
কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিল থেকে ঘরে থাকা অভিভাবকদের ভর্তুকি দিতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করা বিবাহিত দম্পতিদেরও সরকারি শিশু যত্ন ভর্তুকির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এ জন্য নতুন অর্থ বরাদ্দের বদলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের শিশু যত্নে ব্যবহৃত একটি ফেডারেল তহবিল থেকেই অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।  দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অন্যতম অগ্রাধিকার। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত দম্পতির একজন সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করলে এবং অন্যজন বাড়িতে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে তারা এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। প্রস্তাবিত অর্থ আসবে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের চাইল্ড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে। ১৯৯০-এর দশকে চালু হওয়া এই তহবিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী বাবা-মাকে শিশু যত্নের খরচে সহায়তা করা, যাতে তারা কাজ, পড়াশোনা বা কর্মপ্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেন। বর্তমানে এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলারের সহায়তা দেওয়া হয়।  নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালনকারী অভিভাবকদের জন্য এটিই হবে ফেডারেল পর্যায়ে সরাসরি শিশু যত্ন সহায়তা পাওয়ার একটি নতুন পথ। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সঙ্গে ঘরে থেকে সন্তান পালনের সুযোগকে উৎসাহিত করার রক্ষণশীল পারিবারিক ধারণারও মিল রয়েছে। মে মাসে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, প্রশাসন ঘরে থাকা বাবা-মায়ের জন্য শিশু যত্ন ব্যবস্থায় আরও সুযোগ তৈরি করতে চায়।  তবে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, একই তহবিলের অর্থ ঘরে থাকা অভিভাবকদের জন্য ব্যবহার করা হলে কর্মজীবী বাবা-মায়ের জন্য বরাদ্দ সহায়তা কমে যেতে পারে। এতে শিশু যত্ন কেন্দ্রগুলোও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে এবং কিছু প্রতিষ্ঠান সেবার মূল্য বাড়ানো বা কার্যক্রম কমিয়ে দিতে বাধ্য হতে পারে।  সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই শিশু যত্ন ভর্তুকি পাওয়া প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবারের প্রায় ৮০ শতাংশই একক কর্মজীবী অভিভাবকের পরিবার। তাদের বেশিরভাগই নারী। ফলে নতুন শ্রেণির পরিবারকে একই তহবিলের আওতায় আনা হলে বিদ্যমান সুবিধাভোগীদের ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সমালোচকরা। খসড়া প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসের অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে এটি জনসাধারণের মতামতের জন্য প্রকাশিত হতে পারে। চূড়ান্ত হলে আগামী বছর থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন অভিযানের সময় গুলি চালানোর ঘটনায় আইসিই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ
ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি, তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা আটক

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানের সময় এক ভেনেজুয়েলীয় নাগরিককে গুলি করার ঘটনায় তদন্তকারীদের মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইসিই কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। জানুয়ারিতে জুলিও সেসার সোসা-সেলিস নামে ওই ব্যক্তির পায়ে গুলি লাগার ঘটনায় কাস্ত্রোকে অভিযুক্ত করা হয়।  অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো সিলগালা রয়েছে। একই ঘটনায় মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে হামলা এবং অপরাধের মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগও করেছে।  ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল এলাকায় চালানো ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানের সময়। ওই অভিযানে হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছিল, যা তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সবচেয়ে বড় অভিবাসন অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হয়।  মিনেসোটা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কাস্ত্রো এবং আরেক কর্মকর্তা এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ডুপ্লেক্সে যান। সেখানে কাস্ত্রো বাড়িটির সামনের দরজা দিয়ে গুলি চালিয়ে সোসা-সেলিসের উরুতে আঘাত করেন। পরে তিনি দাবি করেন, সোসা-সেলিস ও আরেক ব্যক্তি ঝাড়ুর হাতল ও তুষার সরানোর কোদাল দিয়ে এক আইসিই কর্মকর্তার ওপর হামলা করেছিলেন।  তবে পরে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে ওই ঘটনার বিষয়ে কর্মকর্তাদের দেওয়া বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ফেডারেল প্রসিকিউটররা সোসা-সেলিস ও অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করেন এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।  কাস্ত্রো ফেব্রুয়ারি থেকে বেতন ছাড়া আইসিই থেকে সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পরে মে মাসে তাকে মিনেসোটার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং টেক্সাসের ব্রাউনসভিলের একটি জেলে রাখা হয়। মিনেসোটায় হস্তান্তরের জন্য টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। তবে অ্যাবট তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যর্পণ অনুমোদন না করায় কাস্ত্রোকে গত সপ্তাহে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির পর ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন কাস্ত্রো। এই ঘটনায় তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’-এর কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা হিসেবে ফৌজদারি অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন। এদিকে সোসা-সেলিসের আইনজীবী অভিযোগ করেছেন, কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা ফেডারেল অভিযোগ যথেষ্ট নয় এবং গুলি চালানোর ঘটনাটি আড়াল করতেই তিনি তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। তার পক্ষ থেকে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চাওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গুলি চালানোর ঘটনায় আরও গুরুতর নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হবে কি না, সে বিষয়ে ফেডারেল  তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
পেন্সিল ব্যবহার করে জেলের সেলের দরজা খুলে পালিয়ে যান ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী
পেন্সিল দিয়েই কারাগারের সেল খুলে পালালেন বন্দী, ৩০ মিনিটেই ফের আটক

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার একটি কাউন্টি জেল থেকে মাত্র একটি পেন্সিল ব্যবহার করে সেলের দরজা খুলে পালিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী। তবে তার পালিয়ে থাকার সময় বেশি দীর্ঘ হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই তাকে জেল থেকে কিছু দূরে আটক করেন ডেপুটিরা। পুরো ঘটনার কিছু অংশ নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজেও ধরা পড়ে।  ঘটনাটি ঘটে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে। বন্দীর নাম চার্লস আলেকজান্ডার ডিটারিখ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেলের দরজাটি সামান্য ওপরে তুলে লকিং মেকানিজমের ভেতর পেন্সিল ঢুকিয়ে সেটি নাড়াচাড়া করেন। এরপর দরজাটি সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।  সেল থেকে বের হওয়ার পর ডিটারিখ জেলের রান্নাঘর দিয়ে এগিয়ে একটি আনলকড দরজা দিয়ে বাইরে চলে যান। দরজাটি জেলের রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের ময়লা বাইরে নেওয়া এবং বড় একটি রেফ্রিজারেটরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। এরপরও তিনি পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। জেলের বাইরের একটি সুরক্ষিত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ছিল। ডিটারিখ সেই বেড়া টপকে পালানোর চেষ্টা করেন এবং এতে শরীরে কেটে যায়। পরে তিনি জেল এলাকা থেকে দূরে চলে যান।  প্রায় ২০ মিনিট পর নিয়মিত তল্লাশির সময় জেলকর্মীরা সেলের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। অন্য বন্দীরা ডিটারিখ পালিয়ে যাওয়ার কথা জানালে দ্রুত ডেপুটিদের খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডেপুটিরা তাকে জেল থেকে কিছু দূরে জোন্স রোড এলাকায় শনাক্ত করেন। তাকে আটক করার সময় তিনি এক ডেপুটিকে হামলা করেন বলে শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে। পরে কাঁটাতারের কারণে হওয়া আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর তাকে আবার চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।  ডিটারিখ এর আগে চুরি করা গাড়ি সংক্রান্ত অভিযোগ, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের সংকেত অমান্য করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৩ আগস্ট এসব মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং সময়ের সাজা পান। তবে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হোল্ড থাকায় তাকে হেফাজতেই রাখা হয়েছিল।  পালানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এখন বেআইনিভাবে পালানো, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া, পুলিশ অফিসারের ওপর হামলা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসহ নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর চেস্টারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সেল ও লকিং মেকানিজম ব্যবহার করে ডিটারিখ বেরিয়ে যান, সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। শেরিফ ক্যাম্বো স্ট্রিটার বলেছেন, ঘটনাটি জেলের নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি দুর্বলতা সামনে এনেছে। জেলের পুরোনো অংশের কিছু স্থাপনা ১৯৭২ সালের বলে জানিয়েছেন তিনি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ইমার্জেন্সি স্নো শভলার পদে ঘণ্টায় ৩০ ডলার পারিশ্রমিক পাবেন কর্মীরা

নিউইয়র্কে তুষার সরানোর কাজে ঘণ্টায় ৩০ ডলার, আজ রেজিস্ট্রেশন

অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০