সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

উইসকনসিন

৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মাদক সেবনের অভিযোগে অভিযুক্ত উইসকনসিনের তরুণী মা। ছবি: সংগৃহীত
মাদক সেবনের পর নবজাতককে বুকের দুধ, ৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যু; যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

বুকের দুধ খাওয়ানোর কয়েকদিন আগে মেথামফেটামিন (মেথ) সেবনের কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের এক তরুণী মা। পরে মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সী তার শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই মা ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।   মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে এবং পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জেসি লি কিটেলসন (২৩) গত ১৪ মার্চ উইসকনসিনের ট্রিমবেল এলাকার নিজ বাড়িতে জরুরি সেবার জন্য ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দেখতে পান, তিন সপ্তাহ বয়সী শিশুটির নাড়ির স্পন্দন নেই, সে শ্বাস নিচ্ছে না এবং তার শরীর নীলচে হয়ে গেছে।   জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে কিটেলসন পুলিশকে জানান, তিনি গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে মেথ সেবন করেছিলেন। এছাড়া সন্তানের মৃত্যুর তিন দিন আগেও তিনি এই মাদক গ্রহণ করেন।   আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিটেলসন তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতেন। তিনি দাবি করেন, মাদক সেবনের পর কয়েকদিন দুধ বের করে ফেলে দিয়েছিলেন (পাম্প অ্যান্ড ডাম্প), এরপর আবার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করেন। তদন্তকারীরা আরও জানান, কিটেলসন গুগলে খোঁজ করেছিলেন, মেথামফেটামিন কতদিন পর্যন্ত বুকের দুধে থাকতে পারে। তবে পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার সন্তান কীভাবে মাদকের সংস্পর্শে এসেছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।   এদিকে, কিটেলসনের সঙ্গী টেইলর জে ওলসন (২৬) পুলিশকে জানান, তিনিই দুজনের জন্য মেথামফেটামিন সংগ্রহ করেছিলেন। পিয়ার্স কাউন্টি কর্তৃপক্ষ কিটেলসন ও ওলসনের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড এবং শিশুর প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অবহেলার অভিযোগ এনেছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   আদালতের নথিতে তাদের কোনো আইনজীবীর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১০, ২০২৬ ১৪:০
শনিবার দুপুরে ইলিনয়ের ম্যাকহেনরি থেকে নিখোঁজ হন টড সাবাতিনি ও তাঁর শিশুপুত্র থিও। ছবি: সংগৃহীত
হাঁটতে বেরিয়ে রহস্যজনকভাবে উধাও বাবা ও শিশুপুত্র, হন্যে হয়ে খুঁজছে দুই অঙ্গরাজ্যের পুলিশ

শনিবার দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ম্যাকহেনরি শহরে ২২ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে নিয়ে স্বাভাবিক হাঁটার উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তাঁরা আর বাড়ি ফেরেননি। এরপর থেকেই এই বাবা ও ছেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ এই দুজনকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যজুড়ে বিশাল তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।   ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ এবং পিপল ম্যাগাজিনের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিখোঁজ ওই বাবার নাম টড সাবাতিনি (৩৬) এবং তাঁর ছেলের নাম থিও। গত শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি ইলিনয়ের ম্যাকহেনরির নিজ বাড়ি থেকে ছেলেকে নিয়ে হাঁটতে বের হন।   পরিবার জানিয়েছে, বাবা ও ছেলের এভাবে হাঁটতে বের হওয়াটা ছিল নিত্যদিনের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও তাঁরা ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ পিপল ম্যাগাজিনকে জানায়, টডের এমন আচরণ একেবারেই অস্বাভাবিক। তাছাড়া থিওকে নিয়ে লম্বা সময় বাইরে থাকার মতো কোনো প্রস্তুতি বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও টডের সঙ্গে ছিল না, যা পরিবার ও পুলিশকে আরও বেশি ভাবিয়ে তুলেছে।   তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। একটি স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে থিওর স্ট্রলারটি (শিশুদের গাড়ি) পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সুপারমার্কেটের কাছে জিওন লুথেরান চার্চের ভেতর কারও সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন সাবাতিনি। এছাড়া স্থানীয় একটি টাকো বেল রেস্তোরাঁতেও তিনি একজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।   এরপরের ঘটনাটি আরও রহস্যজনক। পুলিশ জানায়, বাবা ও ছেলে একটি রাইডশেয়ারিং গাড়ি ভাড়া করে প্রায় এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের গ্রিনফিল্ড পুলিশ বিভাগে পৌঁছান। সেখানে সাবাতিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু শনিবার দুপুর ২টার দিকে তিনি থিওকে নিয়ে পায়ে হেঁটেই ওই থানা থেকে বেরিয়ে যান। ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট করেনি কর্তৃপক্ষ।   শনিবার গভীর রাতে দেওয়া এক আপডেটে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে টড ও থিও বর্তমানে উইসকনসিনের মিলওয়াকিতে অবস্থান করছেন। তাঁদের সন্ধানে ইলিনয় ও উইসকনসিনের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   নিখোঁজ হওয়ার সময় শিশু থিওর পরনে ছিল নীল শার্ট ও গাঢ় রঙের শর্টস। অন্যদিকে টড সাবাতিনির পরনে ছিল নীল-কালো রঙের ফ্লানেল শার্ট, ধূসর ট্যাংক টপ, জিন্স এবং কনভার্স জুতো। আগের ছবিগুলোতে তাঁর মুখে ঘন দাড়ি দেখা গেলেও, পুলিশ জানিয়েছে বর্তমানে তিনি ক্লিন-শেভড।   এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে নিউইয়র্ক পোস্টের পক্ষ থেকে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে টড এবং থিওর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে ম্যাকহেনরি পুলিশ বিভাগের নির্দিষ্ট নম্বরে (৮১৫-৩৬৩-২১৩০) যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
উইসকনসিনে বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিচ্ছেদ শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবা ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে বিবাহবিচ্ছেদের শুনানির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক বাবা ও তার দুই কিশোরী কন্যার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটির পর নিহত শিশুদের মা অভিযোগ করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এলেও তার কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এদিকে পুলিশ এখনো মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএলইউকে (WLUK) ও এনবিসি ২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার উইসকনসিনের উইনেকনি (Winneconne) শহরের একটি বাড়িতে কল্যাণ নিশ্চিত করতে (ওয়েলফেয়ার চেক) গিয়ে পুলিশ ৫৭ বছর বয়সী জেফ্রি ম্যানকে (Jeffrey Manke) এবং তার দুই মেয়ে ১৬ বছর বয়সী জেইলি (Jaely) ও ১১ বছর বয়সী লেনোরা (Lenora)-র মরদেহ উদ্ধার করে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জেফ্রি ম্যানকে ও তার স্ত্রী লিন্ডসি লিউয়ান্ডোস্কির (Lindsey Lewandowski) মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ-সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে তাদের মধ্যে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই চলছিল। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া এগোচ্ছিল। তবে সন্তানদের হেফাজতের বিষয়ে আদালত শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষকেই যৌথ আইনগত অভিভাবকত্বের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করে। যদিও লিন্ডসি একক হেফাজতের আবেদন করেছিলেন, তা মঞ্জুর হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে জেফ্রি ম্যানকের বিরুদ্ধে একটি নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ (Restraining Order) জারি হয়েছিল। সেই নথিতে উল্লেখ ছিল, তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশাধিকার রয়েছে। এছাড়া সন্তানদের সঙ্গে থাকার সময় তাকে মাদক বা অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকার নির্দেশও ছিল।   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্টে লিন্ডসি অভিযোগ করেন, তার দুই মেয়ে বাবার কাছে নিজেদের নিরাপদ মনে করত না। তিনি লেখেন, "আমি তাদের নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাকে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের এমন জায়গায় পাঠাতে, যেখানে তারা যেতে চাইত না এবং নিজেদের নিরাপদ মনে করত না।"   তিনি আরও দাবি করেন, পরিবারের কাউন্সেলর শিশুদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি। শিশু সুরক্ষা সংস্থা (CPS)-তে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। কিন্তু তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সতর্কবার্তার কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি।   লিন্ডসি বলেন, "গত দুই বছর ধরে যদি কেউ তাদের সাহায্যের আবেদন শুনত, তাহলে তারা আজ বেঁচে থাকত। আমার সন্তানদের রক্ষা করতে ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে।" তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে উইনেবাগো কাউন্টি সার্কিট কোর্ট কিংবা কাউন্টি মানবসেবা বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।   এদিকে উইনেবাগো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। এটি হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা কি না, সে বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসা পরীক্ষার ফল এবং তদন্তের অগ্রগতির অপেক্ষা করা হচ্ছে।   ঘটনাটি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শিশু হেফাজত, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এবং আদালতের সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৪, ২০২৬ ১৪:০
অনলাইন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার পর ওই নারীর কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণে নেয় প্রতারক চক্র। ছবি: সংগৃহীত
প্রতারকের ফাঁদে পড়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ডলার হারালেন মার্কিন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের এক নারী প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে ৪ লাখ ৩৩ হাজার ডলার হারিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ৩০ হাজার ডলারের ঋণের বোঝাও কাঁধে নিয়েছেন। পরিচয় চোরদের হাত থেকে নিজের অর্থ সুরক্ষিত করছেন, এমন বিশ্বাসেই তিনি প্রতারকদের নির্দেশনা অনুসরণ করেছিলেন।   ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, সবকিছুর শুরু হয় একটি অনলাইন বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার মাধ্যমে, যা তার আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বলে মনে হয়েছিল। এরপর তার কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এক ব্যক্তি নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে জানান, তিনি হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন।   পরবর্তী তিন মাস ধরে প্রতারকরা নিজেদের কখনো সরকারি কর্মকর্তা, কখনো বেটার বিজনেস ব্যুরোর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা ভুয়া নথিপত্র দেখায়, একটি ভুয়া ব্যাংক হিসাব তৈরি করে এবং তার অর্থ নিরাপদ রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বলেন।   প্রতারকদের কথামতো তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ডলার মূল্যের স্বর্ণের মুদ্রা কিনে একটি খামে ভরে এক কুরিয়ারের হাতে তুলে দেন। পরে তাকে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ উত্তোলন, শত শত উপহার কার্ড কেনা এবং ডিজিটাল মুদ্রা কেনার জন্যও প্ররোচিত করা হয়। এসব অর্থ শেষ পর্যন্ত প্রতারকদের কাছেই চলে যায়।   ভুক্তভোগী জানান, প্রতারকরা তাকে একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করিয়েছিল। ফলে তিনি সন্তান, বন্ধু কিংবা পুলিশ—কারও কাছে বিষয়টি জানাতে পারেননি। প্রতারকরা তাকে আরও জানায়, তার ফোন ও কম্পিউটার নজরদারিতে রয়েছে। পাশাপাশি তাকে অস্ত্র পাচার ও অর্থপাচারের একটি মামলার সন্দেহভাজন বলেও দাবি করা হয়।   ভুক্তভোগী জানান, প্রতারকরা শেষবার যোগাযোগ করবে—এমন অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু নির্ধারিত সেই ফোন আর আসেনি। পরে তিনি নিজেই ফোন করলে নম্বরটি বিচ্ছিন্ন পাওয়া যায়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।   উইসকনসিনে বেটার বিজনেস ব্যুরো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণ কেনার নামে প্রতারণার শিকার হওয়া তিনজনের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ ডলার। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কেউ যদি স্বর্ণ কিনতে, অর্থ স্থানান্তর করতে বা কোনো কুরিয়ারের হাতে মূল্যবান জিনিস তুলে দিতে বলে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।   এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী তার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটি অনলাইন সহায়তা তহবিলও খুলেছেন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণায় হারানো অর্থ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
নৌকা ডুবে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিন শিশুর I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে প্রচণ্ড ঝড়ে নৌকা ডুবে প্রাণ গেল একই পরিবারের তিন শিশুর

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের একটি হ্রদে আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সম্প্রতি নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তারা হলো ৬ বছর বয়সী কালেব অসওয়াল্ড, ৭ বছর বয়সী অ্যাবিগেইল অসওয়াল্ড এবং তাদের ১০ বছর বয়সী কাজিন ক্যাথরিন "কেট" শ্মিট। পরিবার জানিয়েছে, কালেব এবং অ্যাবিগেইল আপন ভাই-বোন। গত ৩ জুলাই ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   জেনেভা লেক ল এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি জানায়, ৩ জুলাই প্রচণ্ড ঝড়ের সময় হ্রদে নৌকাডুবি এবং পানিতে মানুষ পড়ে যাওয়ার বিষয়ে তাদের কাছে একাধিক জরুরি কল আসে। সে সময় ওই এলাকায় ঘণ্টায় ১০০ মাইল বেগে প্রলয়ংকরী ঝড় বইছিল। নৌকাটিতে চার শিশুসহ মোট ১০ জন আরোহী ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় নৌকায় থাকা সকল শিশুই লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ছিল।   উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছয়জন প্রাপ্তবয়স্ক ও এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে বাকি তিন শিশু তখনো নিখোঁজ ছিল। পরে ডুবুরিরা ৩২ ফুট পানির নিচে ডুবে যাওয়া নৌকাটির সন্ধান পান এবং এর ভেতর থেকেই ওই তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   এই ‘অকল্পনীয়’ ট্র্যাজেডিতে শোকে স্তব্ধ নিহতদের পরিবার। কেটের স্মরণে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজে জানানো হয়েছে, সে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও দয়ালু স্বভাবের এক মেয়ে ছিল। খেলাধুলা, ছবি আঁকা ও প্রাণীদের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ছিল। সংগৃহীত অর্থ দিয়ে সেসব শিশুদের সাহায্য করা হবে, যারা খেলাধুলার খরচ চালাতে পারে না বা প্রাণী দত্তক নিতে চায়।   অন্যদিকে, কালেব ও অ্যাবিগেইলের জন্য খোলা আরেকটি পেজে তাদের পরিবার জানিয়েছে, তারা শুধু ভাই-বোনই ছিল না, বরং একে অপরের সেরা বন্ধু ছিল। তাদের হাসিগানে পুরো বাড়ি মুখরিত থাকত। তাদের স্মরণে সংগৃহীত অর্থ শিশুদের একটি দাতব্য সংস্থায় দান করা হবে, যাতে তাদের এই অকাল প্রস্থান অন্য শিশুদের জীবনে আশা জাগাতে পারে এবং বাবা-মা হিসেবে তারা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজে পান।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ১৪, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অপহৃত নার্স এমিলিয়ানে তামারা নুনেস কারভালহো

সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে, সাবেক স্বামীর হাতে পাঁচ দিন শেকলবন্দি তরুণী নার্স

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০